24/11/2021
মধ্যবিত্ত বা স্বল্প আয়ের যারা, তাদের আল্লাহর উপর ভরসা একটু বেশিই। তারা বাছ-বিচার করে জীবন চালায়, হালাল-হারাম দেখেশুনে চলে। তাদের কষ্টটাও অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই!
এরা কাউকে মুখ ফুটে নিজ প্রয়োজনের কথা বলতে পারে না, বলতে চায় না। কারো কাছে হাত পাততে পারে না।
কারো সামনে নিজ অবস্থানের কথা আলোচনা করতে পারে না, করতে চায়ও না।
খাদ্যের অভাব থাকলেও কোনমতে দিন পার করে দেয়, কোন মতে চালিয়ে নেয়।
একই জামাকাপড় পড়তে এরা দ্বিধাবোধ করে না।
এদের পায়ের জুতা বা স্যান্ডেল ছিড়ে গেলেও তা ফেলে দেয় না, বরং তা সেলাই করে ব্যবহার করতেই থাকে।
এতদসত্ত্বেও, এসকল মানুষের আমল-ইবাদাত বন্ধ হয় না। তাদের পকেটে ৫টাকা থাকলে সেখান থেকেও তারা দান করার ইচ্ছে রাখে।
হ্যাঁ, এরকম মানুষও বর্তমান পৃথিবীতে আছে। এরা স্বপ্ন দেখে আগামীকালের। এরা বিশ্বাস করে, আগামীকাল আল্লাহ তা'য়ালা এদের এমন কিছু দিবেন যাতে তারা গতকাল ভুলে যাবে। এরা আল্লাহর উপর এতটাই দৃঢ় বিশ্বাস রেখে চলে যে, আগামীকাল যদিও কোন কারনে কিছু না পায় তবুও তারা এরপরের দিনের স্বপ্ন দেখে, এরপরের দিনের আশা করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,
আত্মসম্মানবোধে না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে, তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে; তারা লোকেদের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে প্রার্থনা করে না। (সূরা বাকারাহ:২৭৩)
নিশ্চয় তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকারের। সুতরাং যে দান করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আর উত্তমকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, আমি তার জন্য সহজ পথে চলা সুগম করে দেব। পক্ষান্তরে যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে আর উত্তমকে মিথ্যা বলে মনে করেছে, আমি তার জন্য কঠিন পথে চলা সুগম করে দেব। (সূরা আল-লাইল:৪-১০)
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি কঠিন অভাবে জর্জরিত, সে মানুষের সামনে প্রয়োজন পূরণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে এ অভাব দূর হবে না। আর যে ব্যক্তি তার অভাবের কথা শুধু আল্লাহর কাছে বলে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। হয় তাকে তাড়াতাড়ি মৃত্যু দিয়ে অভাব থেকে মুক্তি দিবেন অথবা তাকে কিছু দিনের মধ্যে ধনী বানিয়ে দেবেন।
(আবূ দাঊদ ১৬৪৫, আত্ তিরমিযী ২৩২৬)
© মাহমুদ হাসান