শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও প্রতিকার।
Mumin e Jibon
ইসলামিক লেখা পড়ুন প্রতিদিন।কোরআন-হাদিসের আলোকে জীবন গড়ুন।
মধ্যবিত্ত বা স্বল্প আয়ের যারা, তাদের আল্লাহর উপর ভরসা একটু বেশিই। তারা বাছ-বিচার করে জীবন চালায়, হালাল-হারাম দেখেশুনে চলে। তাদের কষ্টটাও অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই!
এরা কাউকে মুখ ফুটে নিজ প্রয়োজনের কথা বলতে পারে না, বলতে চায় না। কারো কাছে হাত পাততে পারে না।
কারো সামনে নিজ অবস্থানের কথা আলোচনা করতে পারে না, করতে চায়ও না।
খাদ্যের অভাব থাকলেও কোনমতে দিন পার করে দেয়, কোন মতে চালিয়ে নেয়।
একই জামাকাপড় পড়তে এরা দ্বিধাবোধ করে না।
এদের পায়ের জুতা বা স্যান্ডেল ছিড়ে গেলেও তা ফেলে দেয় না, বরং তা সেলাই করে ব্যবহার করতেই থাকে।
এতদসত্ত্বেও, এসকল মানুষের আমল-ইবাদাত বন্ধ হয় না। তাদের পকেটে ৫টাকা থাকলে সেখান থেকেও তারা দান করার ইচ্ছে রাখে।
হ্যাঁ, এরকম মানুষও বর্তমান পৃথিবীতে আছে। এরা স্বপ্ন দেখে আগামীকালের। এরা বিশ্বাস করে, আগামীকাল আল্লাহ তা'য়ালা এদের এমন কিছু দিবেন যাতে তারা গতকাল ভুলে যাবে। এরা আল্লাহর উপর এতটাই দৃঢ় বিশ্বাস রেখে চলে যে, আগামীকাল যদিও কোন কারনে কিছু না পায় তবুও তারা এরপরের দিনের স্বপ্ন দেখে, এরপরের দিনের আশা করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,
আত্মসম্মানবোধে না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে, তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে; তারা লোকেদের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে প্রার্থনা করে না। (সূরা বাকারাহ:২৭৩)
নিশ্চয় তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকারের। সুতরাং যে দান করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আর উত্তমকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, আমি তার জন্য সহজ পথে চলা সুগম করে দেব। পক্ষান্তরে যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে আর উত্তমকে মিথ্যা বলে মনে করেছে, আমি তার জন্য কঠিন পথে চলা সুগম করে দেব। (সূরা আল-লাইল:৪-১০)
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি কঠিন অভাবে জর্জরিত, সে মানুষের সামনে প্রয়োজন পূরণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে এ অভাব দূর হবে না। আর যে ব্যক্তি তার অভাবের কথা শুধু আল্লাহর কাছে বলে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। হয় তাকে তাড়াতাড়ি মৃত্যু দিয়ে অভাব থেকে মুক্তি দিবেন অথবা তাকে কিছু দিনের মধ্যে ধনী বানিয়ে দেবেন।
(আবূ দাঊদ ১৬৪৫, আত্ তিরমিযী ২৩২৬)
© মাহমুদ হাসান
আবূ মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কিয়ামতের দিন হবে আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলিমের নিকট একজন ইহুদি অথবা খৃস্টান দিবেন, অতঃপর বলবেন: এ হচ্ছে তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিনিময়[1]”। [মুসলিম ও আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
[1] কারণ প্রতিটি মানুষের জন্য জাহান্নামে একটি স্থান রয়েছে। যখন মুসলিম জাহান্নামে গেল না, আর খৃষ্টান ও ইয়াহূদী জাহান্নামে গেল, তখন সে যেন মুসলিমের স্থান দখল করে নিল। আর মুসলিম যেন কাফেরকে তার স্থলাভিষিক্ত করল। [সম্পাদক]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
গ্রন্থঃ সহিহ হাদিসে কুদসি
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ হাদিসসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৮৭
যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণ ও নষ্ট হবে না।
(সূরাঃ আন নিসা, আয়াতঃ ১২৪)
নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়।
(সূরাঃ আন নিসা, আয়াতঃ ১১৬)
মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।
(সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ২৮)
তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর।
(সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ২৭)
বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
(সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ২৬)
যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে এবং পয়গম্বরগণকে হত্যা করে অন্যায়ভাবে, আর সেসব লোককে হত্যা করে যারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।
(সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ২১)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka