21/05/2026
আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য এই প্রোগ্রামে আইইসি আমন্ত্রিত।
শিক্ষা শুধু পাঠ্যক্রমের সীমায় আবদ্ধ নয়; শিক্ষা হলো সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে নির্মাণের এক অবিরাম যাত্রা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে “Inclusion of Skills-based Education in National University Curriculum” শীর্ষক এই জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই যাত্রারই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জ্ঞান, দক্ষতা ও বাস্তবতার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সক্ষম, মানবিক ও প্রতিযোগিতামুখী করে গড়ে তোলার যে প্রয়াস—এই আয়োজন তারই প্রতিধ্বনি।
এই আমন্ত্রণ শুধু একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান নয়; এটি শিক্ষা-চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এক সম্মিলিত অঙ্গীকার। শিক্ষার আলো তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে জীবনের প্রয়োগে, কর্মের উৎকর্ষে এবং সমাজের পরিবর্তনে প্রতিফলিত হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আমাদের উচ্চশিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও সময়োপযোগী করে তোলার পথে এক আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ।
অশেষ কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা—এই মহতী আয়োজনের জন্য।
#জাতীয়_বিশ্ববিদ্যালয়
19/05/2026
প্রিয় প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ,
আপনাদের দীর্ঘ অপেক্ষার একটি অধ্যায় এবার পরিণতি পাচ্ছে। অক্লান্ত পরিশ্রম আর প্রশিক্ষণের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা সেই সময়ের সাক্ষ্য হিসেবে বহুল কাঙ্ক্ষিত বিএড সার্টিফিকেট আগামী শুক্রবার সকাল ১০:০০টা থেকে বিতরণ করা হবে।
শিক্ষার এই অর্জন শুধু একটি কাগজ নয়, বরং আপনাদের অধ্যবসায়, ধৈর্য ও পরিশ্রমের নীরব স্বীকৃতি।
অধ্যক্ষ
আইইসি, ধানমণ্ডি, ঢাকা।
18/05/2026
শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষ গড়ার এক গভীর শিল্প।
একজন আদর্শ শিক্ষক কখনও কেবল বইয়ের পাঠ শেখান না; তিনি শেখান চিন্তা করতে, স্বপ্ন দেখতে, মানুষ হতে। আর সেই শিক্ষক হয়ে ওঠার পথ শুরু হয় শ্রেণিকক্ষের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে— যেখানে একজন প্রশিক্ষণার্থী প্রথমবার বুঝতে শেখেন, একটি পাঠ কেবল শব্দে নয়, উপস্থাপনায়ও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়-এ আজ বিএড প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রাকটিস টিচিং প্রদর্শন করেন আইইসি’র ১৮তম ব্যাচের মেধাবী প্রশিক্ষণার্থী মো. আলমগীর হোসেন। এটি ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনা নয়; বরং একজন ভবিষ্যৎ শিক্ষকের আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতি ও দায়বদ্ধতার প্রতিচ্ছবি।
প্রাকটিস টিচিং একজন শিক্ষককে শেখায়— কীভাবে একটি শ্রেণিকক্ষকে প্রাণবন্ত করতে হয়, কীভাবে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, কীভাবে জ্ঞানের সঙ্গে মানবিকতার সেতুবন্ধন তৈরি করতে হয়। বইয়ের তত্ত্ব তখন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায়, আর সেখানেই একজন প্রশিক্ষণার্থী ধীরে ধীরে পরিণত হন সত্যিকারের শিক্ষকে।
যারা এখনো এই গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনকে হালকাভাবে দেখছেন, তাদের জন্য এটি একটি নীরব বার্তা— একজন দক্ষ শিক্ষক হঠাৎ তৈরি হন না। প্রতিটি সফল উপস্থাপনা, প্রতিটি সংশোধন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা মিলিয়েই গড়ে ওঠে আগামী দিনের আলোকিত শিক্ষক।
কারণ একজন ভালো শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন।
© প্রফেসর ড নজরুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ, আইইসি, ধানমন্ডি, ঢাকা।
12/05/2026
Benjamin Bloom প্রবর্তিত ব্লুমস ট্যাক্সোনমি (Bloom’s Taxonomy) হলো শিক্ষার লক্ষ্য ও শেখার স্তরগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করার একটি পদ্ধতি।
সহজভাবে বললে, একজন শিক্ষার্থী কীভাবে ধাপে ধাপে জ্ঞান অর্জন করে, বুঝে, প্রয়োগ করে এবং সৃজনশীল চিন্তায় পৌঁছায়—তার একটি মানচিত্র।
১৯৫৬ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে ২০০১ সালে এর একটি আধুনিক সংস্করণ তৈরি করা হয়, যা বর্তমানে বেশি ব্যবহৃত হয়।
ব্লুমস ট্যাক্সোনমির ৬টি ধাপসমূহ :
১. Remember (মনে রাখা)
তথ্য, সংজ্ঞা বা সূত্র মনে রাখতে পারা।
উদাহরণ: কবিতার লাইন মুখস্থ বলা।
২. Understand (বোঝা)
কোনো বিষয় নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারা।
উদাহরণ: গল্পের মূলভাব বলা।
৩. Apply (প্রয়োগ করা)
শেখা জ্ঞান বাস্তব কাজে ব্যবহার করা।
উদাহরণ: ব্যাকরণের নিয়ম ব্যবহার করে বাক্য লেখা।
৪. Analyze (বিশ্লেষণ করা)
কোনো বিষয় ভেঙে তার অংশ ও সম্পর্ক বোঝা।
উদাহরণ: একটি কবিতার প্রতীক বিশ্লেষণ।
৫. Evaluate (মূল্যায়ন করা)
যুক্তি ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিচার করা।
উদাহরণ: কোন উপন্যাসটি বেশি শক্তিশালী এবং কেন—তা ব্যাখ্যা করা।
৬. Create (সৃষ্টি করা)
নতুন কিছু তৈরি করা বা উদ্ভাবন করা।
উদাহরণ: নিজে কবিতা বা গল্প লেখা।
এটি সাধারণত একটি পিরামিড আকারে কল্পনা করা হয়—নিচে মৌলিক জ্ঞান, উপরে সৃজনশীলতা।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব :
১। পাঠ পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করে;
২। প্রশ্নপত্র প্রণয়নে কার্যকর;
৩। শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তির স্তর নির্ধারণে সহায়ক;
৪। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বিশ্লেষণধর্মী শিক্ষায় নিয়ে যায়।
মনে রাখবেন, শিক্ষাবিদদের কাছে এটি শুধু একটি তত্ত্ব নয়; বরং শেখানো ও শেখার গভীর দর্শন।
/ \
/ সৃষ্টি \
/ Create \
/-----------\
/ মূল্যায়ন \
/ Evaluate \
/---------------\
/ বিশ্লেষণ \
/ Analyze \
/-------------------\
/ প্রয়োগ \
/ Apply \
/-----------------------\
/ বোঝা \
/ Understand \
/---------------------------\
/ মনে রাখা \
/ Remember \
/_______________________________\
ব্লুমস ট্যাক্সোনমি পিরামিড
(নিচে মৌলিক জ্ঞান,
উপরে সৃজনশীলতা)
11/05/2026
কিছু বই শুধু পড়া হয় না, কিছু বই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নীরবে বহন করা হয়— ঠিক যেমন কেউ বুকের ভেতর এক টুকরো আলো লুকিয়ে রাখে।
আজকের এই তরুণ কবিদের চোখে যখন দেখলাম ‘নিভৃতে উচ্চারণ’, মনে হলো শব্দেরা এখনও বেঁচে আছে, এখনও কিছু তরুণ হৃদয় কোলাহলের ভিড় ছেড়ে নিভৃত অনুভূতির কাছে ফিরে যেতে জানে।
একজন লেখকের কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে— যখন নিজের লেখা বই কয়েকটি উদীয়মান স্বপ্নের হাতে গিয়ে দাঁড়ায়, আর তারা ছবির ভেতরেও শব্দের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখে।
সময় বদলায়, মুখ বদলায়, কিন্তু সাহিত্যের প্রতি মায়া বদলায় না কখনও। এই তরুণদের চোখেই হয়তো আগামী দিনের কবিতার ভোর লুকিয়ে আছে।
© ডক্টর নজরুল ইসলাম খান
10/05/2026
জীবনের দীর্ঘ পথচলায় কিছু মুহূর্ত আসে, যা কেবল আয়োজন নয়—আত্মার ভেতরে আলো জ্বালিয়ে দেয়। শব্দের সঙ্গে যে মানুষের বসবাস, কবিতার সঙ্গে যার নিত্য আলাপন, তাকে ঘিরে ভালোবাসার মানুষদের এই সমবেত হওয়া আসলে এক ধরনের হৃদয়ের উৎসব।
জন্মদিন তো কেবল বয়সের হিসাব নয়; এটি ফিরে তাকানোর দিন, কৃতজ্ঞতার দিন, আর নতুন স্বপ্নের দিগন্তে দাঁড়িয়ে আবারও শব্দকে আলিঙ্গন করার দিন। কবিতা মানুষকে যেমন একা হতে শেখায়, তেমনি মানুষকেও মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনে।
এই “জন্মোৎসব ও কবিতা সন্ধ্যা” তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এ যেন অনুভূতির এক নীরব নদী, যেখানে স্মৃতি, ভালোবাসা, সাহিত্য আর মানুষের আন্তরিকতা একসঙ্গে প্রবাহিত হবে।
প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যাটি হয়ে উঠুক আরও উজ্জ্বল, আরও মায়াময়।