The Secret Soldier

The Secret Soldier

Share

Science Teller....বিজ্ঞানের গল্পকথক

05/10/2025

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে,
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করি না
এক কে করি দুই৷

হেমের মাঝে শুই না যবে,
প্রেমের মাঝে শুই
তুই কেমন করে যাবি?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া
আমাকেই তুই পাবি৷

তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই৷

তখন আমি একটু ছোঁব,
হাত বাড়িয়ে জাড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে,
আমার বৈতরনী নায়ে৷

নায়ের মাঝে বসব বটে,
না-এর মাঝে শোব৷
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ,
দু:খ দিয়ে ছোঁব৷

তুই কেমন করে যাবি?

26/03/2025

আজ আমাদের জনম দু:খী মায়ের জন্মদিন। 🇧🇩❤️

22/03/2025

আমাদের দেশে একটা অদ্ভুত ঘটনা দেখা যায়। ছোট ক্লাসে সবচেয়ে ভালো ছাত্ররা থাকে লিডার, একটু অনিয়ম হলেই টিচারের কাছে নাম চলে যাবে এই ভয়ে তটস্থ থাকতে হয়। কিন্তু কলেজ ভার্সিটিতে যাওয়ার পর ক্লাসের পিছনের সারির ছাত্ররা কিংবা লোয়ার র‍্যাংক ডিপার্টমেন্টের ছাত্ররা কিংবা বখে যাওয়া কলেজ টুডেন্টরা হয় লিডার। তাদের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ক্লাস হবে কিনা! শিক্ষকরা কি ধরনের দলীয় আচরণ করবে... সত্যিকার অর্থে এদেশের ছাত্রসমাজ সবচেয়ে দূর্ভাগা ; যে কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের মেধাবী ছাত্রদের আশানুরূপ ভূমিকা কখনোই প্রতিফলিত হয় না।

19/09/2024

ছাত্রলীগ/দল/.... তো আগেই পচে গিয়েছিল, এবার শুধু 'ছাত্র' তেই পচন ধরেছে।

05/09/2024

মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।।
মরি হায়, হায় রে—
তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি॥

16/06/2023

Purono Sei diner kotha| পুরনো সেই দিনের কথা| বুয়েট ক্যাম্পাস। Shironamhin| Tuhin | Avash | Buet
Rag day Live program

25/10/2022

১৯৯৫ সাল, আজ থেকে ২৭ বছর আগে হাবল টেলিস্কোপ প্রথমবারের মত মহাজাগতিক তিনটি পিলার বা স্তম্ভকে উন্মোচন করে পৃথিবীর মানুষকে চমকে দিয়েছিলো। প্রায় ৬৫০০ আলোক বর্ষ দূরে ঈগল নেবুলার প্রাণকেন্দ্রে আবিষ্কৃত মহাজাগতিক গ্যাস ও ধূলিকণার এই পিলারগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল ‘পিলার্স অব ক্রিয়েশন’ বা ‘সৃষ্টির স্তম্ভ’ নামে।
নেবুলা- বাংলায় আমরা যাকে নীহারিকা বলে থাকি সেটা হচ্ছে মহাশূন্যের এমন একটি স্থান যেখান থেকে নতুন নক্ষত্রের জন্ম হয়। মহাশূন্যের সকল জায়গা কিন্তু শূন্য নয়। কিছু কিছু জায়গায় আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস, মহাজাগতিক ধূলিকণার পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে, অনেক সময় এগুলোকে মহাজাগতিক বা আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘমালা বলা হয়। এই মেঘমালা গঠিত হয় গ্যাস, আয়ন কিংবা ধুলিকণার সমন্বয়ে। সাধারণত সিংহভাগ গ্যাস হচ্ছে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম আর কসমিক ডাস্ট বা ধুলিকণার প্রধাণ উপাদান হচ্ছে কার্বন, অক্সিজেন, সালফার, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি। মহাকর্ষীয় চাপে নেবুলার এই গ্যাস, আয়ন, ধূলিকণাগুলো ক্রমান্বয়ে কাছাকাছি আসার ফলে একসময় সৃষ্টি হয় নতুন নতুন নক্ষত্রের। এজন্য নেবুলাকে বলা হয় নক্ষত্র সৃষ্টির ফ্যাক্টরি। এমন একটি নেবুলা হচ্ছে ঈগল নেবুলা যা মেসিয়ার-১৬ নামেও পরিচিত। মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির অন্তর্গত এই নেবুলাতেই হাবল আবিষ্কার করেছিল গ্যাস, আয়ন এবং ধূলিকণার অত্যন্ত ঘন অঞ্চল যা পিলার বা স্তম্ভের রূপ ধারণ করে আছে। গ্যাস, আয়ন কিংবা মহাজাগতিক ধূলিকণা থেকেই যেহেতু নক্ষত্রের সৃষ্টি সেকারণেই এই পিলারগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ‘পিলারস অব ক্রিয়েশন’ অর্থাৎ ‘সৃষ্টির স্তম্ভ’।
১৯৯৫ সালের পর ২০১৪ সালে হাবল তার অধিকতর উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করে পিলারস অব ক্রিয়েশনের আরও ডিটেইল্ড, আরও নিখুঁত ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিল। সর্বশেষ পিলারস অব ক্রিয়েশনের আরও নিখুঁত ছবি তোলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় সর্বাধুনিক টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নেয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা। ছবিটির নীলাভ অংশ অক্সিজেন গ্যাসের অস্তিত্ব প্রকাশ করে, লালচে রঙ সালফার আর সবুজাভ রঙের মাধ্যমে বুঝা যায় নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেন উভয়ের অস্তিত্ব। ছবিতে পিলার বা স্তম্ভগুলো হচ্ছে নক্ষত্র সৃষ্টির সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল যা কিনা নব্য সৃষ্ট নক্ষত্রগুলোকে ধারণ করে আছে।

13/10/2022

১।
এরিস্টটলকে একবার এক লোক জিজ্ঞেস করল, ‘ বস্তু সবসময় ভূপৃষ্ঠের দিকে পড়তে দেখা যায় কেন?’ খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলেন তিনি, ‘ মহাবিশ্বের কেন্দ্রে হল পৃথিবী। সবকিছুই চায় কেন্দ্রে আসতে। তাই এ প্রবণতা।’ পাল্টা প্রশ্ন করলো লোকটি,
- তাহলে গ্রহগুলো পৃথিবীর উপর পতিত হচ্ছে না কেন?
- ওহে, গ্রহগুলো যে একটা ক্রিস্টাল গোলকে আটকানো আছে, সেই গোলক গ্রহসমেত পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে।
এরিস্টটলের তখন সর্বজনবিদিত সুনাম, যেন জ্ঞানের দেবতা। কে রোধে তার বজ্রকন্ঠ বাণী! তবে টলেমী অবশ্য তার বিরুদ্ধাচারণ করেছিলেন। আর কোপার্নিকাস তো পৃথিবীকে অন্যান্য সাধারণ গ্রহের মত সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপরেও প্রশ্ন থেকে যায়, পড়ন্ত বস্তুর অভিমুখ পৃথিবীর দিকে কেন? এরপর অনেক জল গড়িয়েছে। ব্রুণোকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, গ্যালিলিওকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে কিন্তু বস্তু পৃথিবীপৃষ্ঠে পতিত হয় কেন এই প্রশ্নের সঠিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি।

২।
১৬৬৬ সালে প্লেগ মহামারী আকারে দেখা দিলে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আইজাক নিউটন ফিরে আসেন তার গ্রামের বাড়িতে উলসথ্রোপে। সারাদিন মাথাভর্তি চিন্তা-ভাবনা খেলা করে তার সাথে। গ্রহ-নক্ষত্র, চাঁদ -পৃথিবী কেন একটি আরেকটিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেনা। কি এমন দৈবশক্তি আছে যে পৃথিবীকে ছেড়ে চাঁদ চলে যেতে পারছেনা! এসব ভাবতে ভাবতেই হয়ত কোন এক উদাস বিকেলে বাসার সামনের আপেল গাছটির নীচে বসে ছিলেন নিউটন। একটা আপেল গাছ থেকে পড়লো তার সামনে। এবার আরও তাজ্জব হয়ে গেলেন নিউটন। আপেলটিকে নীচেই পড়তে হবে কেন? কেন উপরে, ডানে, বামে চলে গেলনা! আপেল খাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে প্রশ্ন করতে লাগলেন একটার পর একটা আর ভাবতে লাগলেন এর সমাধান। একসময় সমাধান করেও ফেললেন। খাতায় লিপিবদ্ধ করলেন ভরযুক্ত বস্তুর এই আকর্ষণ বলের প্রকৃতি ও ধরন। এরপর কোন এক অদ্ভূত কারণে খাতাটি বাক্সবন্দী করে রাখলেন দীর্ঘদিনের জন্য।

৩।
ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ এডমন্ড হ্যালি পুরাতন নথিপত্র ঘেটে দেখলেন একটা ধুমকেতু প্রতি ৭৫-৭৬ বছর পর পৃথিবী থেকে দেখা যায়। কিন্তু এই ধুমকেতুর রহস্য কি সেটা বের করতে পারলেন না। কৌতুহল দমন করতে না পেরে একদিন কেমব্রিজে এসে হাজির হলেন হ্যালি। উদ্দেশ্য আইজ্যাক নিউটিন, ফেলো অফ রয়েল সোসাইটি। স্বল্প পরিচয় হলেও উত্তেজিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন হ্যালি, ‘তুমি কি জান একটা ধুমকেতু ৭৬ বছর পর পৃথিবী থেকে দেখা যাচ্ছে। কি এর গতিপথ, কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিনা’। নিউটন শান্ত স্বরে উত্তর দিলেন, ‘ প্রতিটি গ্রহ, উপগ্রহ, ধুমকেতু মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের ব্যস্তবর্গীয় নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে’। হ্যালির মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পড়লো এমন ভাব করে বললো, ‘ তুমি কিভাবে জান’? স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে নিউটন উত্তর দিল, ‘ আমি গত বিশ বছর ধরে এইসব ধুমকেতু, গ্রহ-উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করছি। এরা সবাই মহাকর্ষ বলের সূত্র অনুযায়ী তাদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করছে’।
নিউটনের কাছে মহাকর্ষ, ক্যালকুলাস, গতির সমীকরণের কথা শুনে হ্যালি অবাক হয়েছিল। আরও অবাক হয়েছিলো এগুলো প্রকাশ না করার কারণ শুনে। পরবর্তীতে হ্যালির প্রচেষ্টা ও সহযোগীতায় ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত হয় নিউটনের অমর গ্রন্থ ‘ফিলোসফিয়া নেচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা’ । এই বইয়ের মাধ্যমে নিউটন জনসম্মুখে উন্মোচন করেন কিভাবে তিনি মহাবিশ্বকে এক সূতোয় গেঁথেছেন। পর্যবেক্ষণ ও কার্যকারণের পাশাপাশি গণিতের ছোয়ায় প্রমাণ করছেন মহাবিশ্বের গতিবিধি। এই বইয়ের মাধ্যমেই তিনি আরও জানিয়েছেন পৃথিবী, অন্যান্য গ্রহ, সূর্যের আপেক্ষিক ভর নির্ণয় সম্পর্কে, চাঁদের প্রভাবে জোয়ার-ভাটা সম্পর্কে, ধুমকেতু, বেরিসেন্টার ইত্যাদি সম্পর্কে। এভাবে পৃথিবীর মানুষের কাছে বদলে গেল মহাবিশ্বের ধারণা।

02/06/2022

সূর্যের সৃষ্টিঃ
-------------
বিগ ব্যাং এর পর প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর পেরিয়ে গেছে। ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রনরা এতদিনে আর একা একা না থেকে পরমানু গঠন করেছে। বেশিরভাগই হাইড্রোজেন, হিলিয়াম গ্যাস পরমানু। কার্বন, সিলিকনের কিছু ধুলিকণারও জন্ম দিয়েছে মৌলিক কণিকা গুলো। মহাবিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এসকল গ্যাস ও ধুলিমেঘের ঘন অঞ্চল তৈরি হয়েছে, এদেরকে বলা হয় নীহারিকা। এমনি একটি নীহারিকা ছিল যার নাম সৌর নীহারিকা (সোলার নেবুলা) যার ব্যাস ছিল প্রায় ৭০০০ থেকে ২০০০০ এইউ। হয়ত সময়ের প্রয়োজনেই সৌর নীহারিকা গ্যাস ও ধুলিমেঘগুলো মহাকর্ষীয় চাপে পুঞ্জিভুত হতে শুরু করে, নীহারিকাও প্রচন্ড বেগে ঘূর্ণন আরম্ভ করে। একসময় নীহারিকার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, গ্যাসগুলো কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করে। ফলে কেন্দ্রের তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। এভাবেই সৌর নীহারিকার কেন্দ্রে আজ থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে জন্ম নেয় আমাদের নক্ষত্র সূর্যের।

টেরেস্ট্রিয়াল প্লানেটঃ
----------------------
সূর্য হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ফিউশনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে পরিপক্কতা বা ম্যাচুউরিটি লাভ করতে থাকে। এর মহাকর্ষীয় আকর্ষণে কাছের হালকা গ্যাসগুলোকে কেন্দ্রে টেনে নেয়। আর একটু দূরের ধুলির মেঘমালাকে কেন্দ্রে টেনে নিয়ে আসতে পারেনা। সেইসব জায়গায় ধুলিমেঘগুলো পুঞ্জিভূত হয়ে তৈরি করে পাথুরে গ্রহ যাকে টেরেষ্ট্রিয়াল প্ল্যানেট বলে।সূর্যের নিকটবর্তী চারটি গ্রহ- বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল হচ্ছে পাথুরে গ্রহ।

জোভিয়ান প্লানেটঃ
--------------------
পাথুরে গ্রহগুলো থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে হালকা গ্যাসীয় মেঘমালার আধিক্য থাকলেও তারা সূর্যের কেন্দ্রে চলে যায়নি কারন দুরত্বের সাথে মহাকর্ষীয় বল কমে যায়। আবার সেখানে সূর্যের তাপমাত্রার প্রভাবও অনেক কম। এই জায়গায় গ্যাসীয় মেঘগুলো জমাট বেধে আরও ৪ টি গ্রহ সৃষ্টি করে যাদেরকে জোভিয়ান প্ল্যানেট বা গ্যাসীয় গ্রহ বলে। বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন হচ্ছে গ্যাসীয় গ্রহের উদাহরণ। এদের মধ্যে বৃহস্পতি ও শনি প্রায় পুরোপুরি গ্যাসীয় গ্রহ অর্থাৎ গ্যাস জায়ান্ট আর ইউরেনাস ও নেপচুনে প্রচুর পরিমান গ্যাস বরফ হয়ে আছে।

চাঁদঃ
-------
সৌরজগতের গ্রহগুলোর চাঁদের সৃষ্টি নিয়ে একাধিক ধারণা রয়েছে। গ্রহগুলোর মহাকর্ষের আকর্ষণে ঘূর্ণায়মান গ্যাসীয় ও ধুলিমেঘের চাকতি থেকে তাদের উপগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে আবার অন্য জায়গা থেকে এগুলো সৃষ্টি হয়ে গ্রহের মহাকর্ষের জালে বন্দী হতেও পারে। কিছু উপগ্রহ আবার বড় কোন সংঘর্ষের কারণে মাতৃগ্রহ থেকেও উৎপন্ন হতে পারে। যেমন ধারণা করা হয় পৃথিবীর চাঁদ উৎপন্ন হয়েছে থিয়া নামক কোন এক গ্রহের সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষের ফলে।

গ্রহাণু ও কুইপার বেল্টঃ
-------------------------
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝখানে ধুলিকণা ও গ্যাসের অস্তিত্ব থাকলেও সেগুলো গ্রহ সৃষ্টি করার মত পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিলনা। তাই সেখানে ছোট ছোট বিভিন্ন আকারের প্রস্তরখন্ড দেখা যায়। এগুলোর বেশিরভাগই গ্রহাণু নামে পরিচিত। আবার এটাও ধারনা করা হয় সেখানে কোন এক গ্রহ সংঘর্ষে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পাথর খন্ডে পরিণত হয়েছে। এরাও সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করছে। পাথুরে ও গ্যাসীয় গ্রহগুলোকে আলাদা করেছে গ্রহাণুর এই বেষ্টনী যাকে বলা হয় অ্যাস্টরয়েড বেল্ট।

এরকম আরো একটা বেল্ট রয়েছে নেপচুন ও বামন গ্রহ প্লুটোর মাঝে। নেপচুনকে ছাড়িয়ে এই বেষ্টনীতে বরফ খন্ড ও বামন গ্রহের উপস্থিতি পাওয়া যায়। একে বলা হয় কুইপার বেল্ট বা বেষ্টনী।

ওর্ট ক্লাউডঃ
------------
কুইপার বেল্ট পেরিয়ে বিশাল এলাকা জুরে রয়েছে ঠান্ডায় জমে যাওয়া বরফের পিন্ড। এগুলোর কোনটার আয়তন পাহাড়ের সমান। সূর্যকে আবর্তন করা বরফ পিন্ডের এই মেঘমালাকে বলা হয় ওর্ট মেঘমালা বা ক্লাউড। এর অস্তিত্ত্ব এখনো দৃশ্যমান না হলেও গাণিতিকভাবে মডেল দ্বারা এর অস্তিত্ব ধারণা করা যায়। এছাড়াও কিছু ধুমকেতু পর্যবেক্ষন করেও বুঝা গেছে সেগুলো এরকম কোন বরফের মেঘ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
----
সৌরজগতের রাজাধিরাজ সূর্য। সৌরজগতের মোট গ্রহ ৮ টি, বামন গ্রহ ৫ টি, উপগ্রহ ২০০+, গ্রহাণু ৯৫৮৯৬৭ টি, ধুমকেতু ৩৬৪৮ টি।

19/06/2021

#পৃথিবীর_ঘূর্ণন_কি_থেমে_যেতে_পারে
আমরা এমন এক গ্রহে বসবাস করি যা কিনা ঘন্টায় প্রায় ১৬৭৪ কিমি কৌনিক বেগে ঘোরে। এরকম ঘূর্ণায়মান বৈশিষ্ট্যের কারনেই আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে দিন রাতের সৌন্দর্য্য দেখতে পাই। তাই মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে আমাদের এই #পৃথিবী ঠিক কি কারণে নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তন করে? এই আবর্তনের কি বন্ধ হয়ে যেতে পারে না?

এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দিতে চাইলে বলা যায় যে পৃথিবী বা অন্যান্য গ্রহ #নক্ষত্র গুলো তৈরি হয় ঘূর্ণায়মান গ্যাসীয় মেঘ ও ধুলিকণা থেকে তাই কৌনিক ভরবেগের সংরক্ষণশীলতা বজায় রাখতে এরাও ঘুরতে থাকে।

তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেতে হলে আমাদেরকে যেতে হবে কয়েক বিলিয়ন বছর পূর্বের ইতিহাসে। #বিগ_ব্যাং এর কয়েক বিলিয়ন বছর পরে মহাবিশ্বে সৃষ্টি হয়েছিল হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং ক্রমান্বয়ে কার্বন, সিলিকনের মত পরমানু। কিছু কিছু জায়গায় এসব গ্যাসের ঘন অঞ্চল তৈরি হয়েছিল যাকে নীহারিকা বা নেবুলা বলে। এই নীহারিকা থেকেই মহাকর্ষ বলের প্রভাবে গ্যাস ও ধুলিকণা পুঞ্জিভূত হয়ে তৈরি হয় নক্ষত্র। নীহারিকার গাসীয় মেঘ ও ধুলিকণা গুলো ক্রমবর্ধমান মহাকর্ষীয় চাপে একে অপরকে আঘাত করে এবং ঘূর্ণন শুরু করে। একটা হাইড্রোজেন পরমানুকে একটা মার্বেল কল্পনা করে ব্যাপারটা চিন্তা করা যায়। একটা মার্বেল সোজা যেতে যেতে অন্য মার্বেলের সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হলে দুটি মার্বেলই ঘূর্ণন শুরু করে। একইভাবে নীহারিকার গ্যাস ও ধুলিকণাগুলোও সংঘর্ষের কারণে কৌনিক ভরবেগপ্রাপ্ত হয়ে ঘূর্ণন শুরু করে এবং মহাশুন্য বলে এগুলো ঘুরতেই থাকে (নিউটনের প্রথম সূত্র অনুযায়ী)।

সূর্য কিংবা পৃথিবী সবকিছুই যেহেতু এরকম ঘূর্ণায়মান গ্যাসীয় মেঘ ও ধূলিকণা দিয়ে তৈরি তাই এদের কৌনিক ভরবেগ রয়েছে, তাই এরাও ঘুরতেই থাকে। আর এই আবর্তন থেমে যাচ্ছেনা কৌনিক ভরবেগের সংরক্ষনশীল নীতির কারনে।

একটু বেসিক লেভেলের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান এর মাধ্যমে এই ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। পৃথিবীর আবর্তন বন্ধ হবে কিনা সেটা নির্ভর করবে বলের ভ্রামক বা টর্ক (টর্ক একধরনের বল যা সাধারনত ঘূর্ণন প্রবণতা প্রকাশ করে) এর মানের উপর। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী টর্ক কিসের উপর নির্ভর করে সেটা দেখে নেয়া যেতে পারে।
Torque= R x F (এখানে R হচ্ছে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ যার মান ধ্রুবক আর F হচ্ছে বাহ্যিক বল)

উপরের সমীকরণ থেকে দেখা যাচ্ছে বাইরে থেকে কোন বল প্রযুক্ত না হলে টর্ক বা ঘূর্ণন প্রবণতার কোন পরিবর্তন হবেনা। যেহেতু পৃথিবীর উপর বাইরের কোন বল প্রযুক্ত হচ্ছে না সেজন্য পৃথিবীর আবর্তন থেমে যাওয়া বা পরিবর্তন হওয়ার ঘটনা ঘটছে না। (হয়ত কোন গ্রহাণু সদৃশ বস্তু কখনো আঘাত হানলে তার বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনে পরিবর্তন আসতে পারে)

তবে আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে হিসেব করলে দেখা যায় পৃথিবীর উপর বাইরে থেকে প্রযুক্ত বল একেবারেই শূন্য নয়। পৃথিবীর উপর চাঁদের মহাকর্ষ বলের প্রভাব রয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে চাঁদের আকর্ষণ বলের প্রভাবে প্রতি ১ বছরে পৃথিবীর গতি হ্রাসের পরিমান প্রায় ১ মিলিসেকেন্ড।

16/05/2021

আন্তর্জাতিক আলোক দিবসঃ ১৬ মে ২০২১। আলোর দ্বৈত চরিত্র
--------------------------------
ফেলুদা যেদিন আমাদের বাড়িতে এসেছিল আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। আরও অবাক হয়েছিলাম যখন শুনলাম তিনি আমার খোজেই এসেছেন। উনি কোন ভণিতা না করেই আমাকে বললেন যে আমাকে নিয়ে উনি একটা তদন্ত করবেন। আমি কোন প্রকার দ্বিধান্বিত না হয়ে রাজী হয়ে যাই। বেশ কয়েকদিন গোপন তদন্ত, নজরদারী শেষে আমি ব্যার্থ ফেলুদার দিকে তাকিয়ে আমি এতটাও অবাক হলাম না। বরং যে কারণে অসীম পরিমাণ অবাক হয়েছি সে গল্পই করছি।

সুমন ভাই প্রতিদিন এই নদী দিয়ে নৌকা বেয়ে নীতু আপুর কাছে যায়। নদীটি কিছুদূর এগিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে, মাঝখানে জংগল, জংগল পেরিয়ে আবার এক হয়ে মিশে গেছে। এই মোহনার তীরে নীতু আপু দাঁড়িয়ে থাকে সুমন ভাইয়ের জন্য। যেদিক দিয়েই যাক না কেন নীতু আপুর কাছে যেতে ২০ মিনিট সময় লাগবে। সুমন ভাই খুব সময়ানুবর্তী মানুষ। প্রতিদিন ৯ টায় রওনা দিয়ে ৯ টা ২০ মিনিটে পৌছান। জঙ্গলের একদিকের নদীতে ফুটে আছে শাপলা ফুল আর একদিকে লাল পদ্ম। সুমন ভাই যেদিন শাপলা নদী দিয়ে যান সেদিন নিয়ে যান ৫০ টি শাপলা ফুল আর যেদিন পদ্ম নদী দিয়ে যান সেদিন নিয়ে যান ৫০ টি লাল পদ্ম। নীতু আপু গভীর ভালবাসায় সেগুলো গ্রহণ করে। আমি আর ফেলুদা দুইজন দুই পথে লুকিয়ে অনুসরণ করি সুমন ভাইকে। যেদিন আমি সুমন ভাইকে দেখি সেদিন নীতু আপু পায় ৫০ টি লাল পদ্ম, আর যেদিন ফেলুদা দেখেন সেদিন নীতু আপু পায় ৫০ টি শাপলা। কিন্তু আমরা কেউ কখনো একদিনে সুমন ভাইকে দুই পথে দেখিনি। কিন্তু অবাক করা বিষয়, যেদিন আমরা কেউ অনুসরণ করিনা সেদিন নীতু আপু পায় ২৫ টি শাপলা, ২৫ টি লাল পদ্ম। অথচ সুমন ভাই ঠিক ৯ টায় রওনা দিয়ে ৯ টা ২০ এই নীতু আপুর কাছে পৌছেছেন। ২০ মিনিটে কোনভাবেই দুই পথে গিয়ে ২৫ টি করে শাপলা ও পদ্ম ফুল তোলা সম্ভব নয়।

আমরা অনুসরণ করছি কিনা সেটা সুমন ভাই জানে না। আবার তার চলার সময় ২০ মিনিট, এর হেরফেরও কখনই হয় না। তবুও আমরা দেখলে তিনি যেকোন একপথ দিয়ে যান এবং ঐ পথে থাকা ফুল সংগ্রহ করেন। আবার আমরা না দেখলে তিনি দুই পথের ফুলই সংগ্রহ করেন ২০ মিনিটের মধ্যেই যদিও সময়ের হিসেবে কখনোই তিনি ২০ মিনিটের মধ্যে একপথ শেষ করে অন্য পথ থেকে ২৫ টি ফুল সংগ্রহ করতে পারবেন না। তাহলে রহস্য কোথায় ?

ব্যর্থ ফেলুদার চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে আমি বললাম, ‘ এটা তখনি সম্ভব যদি সুমন ভাই একই সাথে দুই পথেই চলে’। এরপর মাথা খুললো ফেলুদার। সুমন ভাই তাহলে মানুষ নাকি নদীর ঢেউ! একমাত্র ঢেউয়ের মত চললেই দুই শাখা দিয়ে ভাগ হয়ে যাওয়া সম্ভব। সুমন ভাই তাহলে নদীর ঢেউ যে কিনা জংগলের কাছে গিয়ে বিভক্ত হয়ে দুই শাখা দিয়েই যায় আর যেতে যেতে ফুল কুড়াতে থাকে নীতু আপুর জন্য। জঙ্গল পেরিয়ে আবার বিভক্ত দুইটি ঢেউ আবার একত্রিত হয়ে একটি ঢেউয়ে পরিণত হয়। সুমন ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে শুধু একটা কথাই বলল, ‘কোয়ান্টাম কণিকা’।
আলোকে যখনি কেউ দেখতে গেছে, আলো তখনই সুবোধ কণার রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে। তাকে কেউ কখনো তরঙ্গ আকারে দেখেনি। কিন্তু যখন তাকে পর্যবেক্ষণ করা হয়না তখন সে সুমন ভাইয়ের মত তরঙ্গের মত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। এ যেন রূপকথার সোনার কাঠি রূপার কাঠির মত। এক কাঠির স্পর্শেই পাথর, আর একটা দিয়ে মানুষ। তেমনি সুমন ভাইকে দেখলেই সে মানুষ, না দেখলেই নদীর ঢেউ। কোয়ান্টাম জগতের বাসিন্দারা মানে ক্ষুদ্র কণিকা যেমন ফোটন, ইলেকট্রন ইত্যাদি দেখলেই কণা না দেখলেই তরঙ্গ। এদেরকে কেউ কখনো তরঙ্গ হিসেবে দেখেনি তবুও এরা তরঙ্গ। এরা চরিত্রে তরঙ্গ, কর্মে তরঙ্গ, আচরণে তরঙ্গ (কণা ধর্ম যে নেই তা কিন্তু নয়)। এরা দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী। এজন্যই বলা হয়, আলো একই সাথে কণা আবার তরঙ্গও।
লেখাটি খন্দকার রেজাউল করিম স্যারের ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’ এর অনুসরণে এবং অনুকরণে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Dhaka