30/05/2026
এলাকার ডাক্তার হিসেবে আগে বাড়িতে গেলে মানুষজন সিজনাল শাক-সবজি, ফলমূল নিয়ে আসতো।
অনেকে আবার রান্না করা তরকারি ও নিয়ে আসতো।
তবে এখন দিন পাল্টেছে।
এখন শাক-সবজি, ফলমূলের সাথে ঈদ গিফট ও পাচ্ছি। 🥰🥰
DOCTOR II DMCan ll Founder, ROAD to DMC.
30/05/2026
এলাকার ডাক্তার হিসেবে আগে বাড়িতে গেলে মানুষজন সিজনাল শাক-সবজি, ফলমূল নিয়ে আসতো।
অনেকে আবার রান্না করা তরকারি ও নিয়ে আসতো।
তবে এখন দিন পাল্টেছে।
এখন শাক-সবজি, ফলমূলের সাথে ঈদ গিফট ও পাচ্ছি। 🥰🥰
এলাকার এক দোকানে হালকা বাজার করতে গেলাম।
দোকানদার চাচা জিজ্ঞেস করলেন :- " বাবা তোমার MBBS ডাক্তারি পড়া শেষ না?? "
আমি জানালাম :-" জ্বি কাকা, MBBS শেষ হয়েছে। "
এরপর চাচা :- " তাইলে এবার সবাইরে ফ্রি চিকিৎসা দিও কিন্তু। সবাই তো এলাকার মানুষ ই কারো কাছ থেকে টাকা নিও না। "
আমি জ্বি আচ্ছা বলে বাজার নিয়ে চলে আসছিলাম। পিছন থেকে কাকা ডাক দিলেন :- " ভাতিজা আমার টাকা টা, ২৩০ টাকা হইছে। "
🤷♂️🤷♂️
26/05/2026
এটা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক্স ওয়ার্ড -২১০ এর ছবি।
গত পরশুদিন পর্যন্ত আমার নিজের খালাতো বোনের বাচ্চা এখানে ভর্তি ছিল।
রাতে যখন দেখতে গেলাম আমার আপার প্রথম কথা ছিল - "কিরে সিট ম্যানেজ করে দে না একটা। "
ওয়ার্ডের প্রতিটা বেডে কমপক্ষে ৩ টা করে বাচ্চা অলরেডি ভর্তি। ফ্লোরেও পা ফেলার জায়গা নাই।
সিট ম্যানেজ করবো কিভাবে?
বাচ্চাটাকে অনেকক্ষণ দেখার পর আপার পরবর্তী অভিযোগ - " "নার্সদের ডাকলে সাথে সাথে আসে না, অনেক দেরি করে। "
আমি আপাকে আবারো জিজ্ঞেস করলাম - "এই ওয়ার্ডে বেড কতটা যেন?? "
একটু চোখ বুলিয়ে জানালো - "১৫ টার মত "
এরপর জিজ্ঞেস করলাম - " রোগী আছে কতটা? "
উনি বুঝতে পারলেন এবং গলার স্বর নিচু করে বললো - "৪০-৫০ তো হইবোই। "
আপাকে এবার বুঝালাম - "দেখো এখানে রোগী থাকার কথা ১৫ টা, রোগী আছে ৪০ এর ও বেশি। সরকার কিন্তু ডাক্তার - নার্স নিয়োগ দেয় ওই ১৫ জনের হিসাবেই।
আর এই ডাক্তার -নার্সরা কষ্ট করে হলেও বাকি সবার চিকিৎসা দিচ্ছে, দেখভাল টা করতেছে।
বুঝি তুমি সন্তানের মা, কষ্ট হয়। যে নার্সের কথা বললা উনি ও তো কোনো মায়ের সন্তান আবার কোনো সন্তানের মা। উনাদের কষ্ট টা দেখবা না? "
26/05/2026
৬২০ খ্রীস্টাব্দ :- "ও খাদিজা! আমাকে কে বিশ্বাস করবে? "- মহানবী (সাঃ)
২০২৬ :-
কিছুদিন পর আমরা যখন পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দে মেতে উঠবো,আয়েস করে গরুর মাংস খাবো,পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে যাবো,তখনও হাসপাতালের বিছানা থেকে করিডোর-সবকিছুই রোগী আর তাদের অসহায় স্বজনদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে।হাসপাতালে না থাকলে হয়তো তারাও আমাদের মতোই ঈদ উদযাপন করতো!
ভাগ্য সহায় হয়নি শুধু!
কিন্তু আপনি চাইলেই তাদের এই অসহায়ত্বের মাঝেও তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন।আপনার উছিলায় কোনো এক অচেনা-অজানা পরিবার হাসপাতালে থেকেও সামান্য হলেও ঈদের আনন্দের ছোয়া পেতে পারে!হয়তো,আপনার একটু কন্ট্রিবিউশানই আপনার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হয়ে যেতে পারে!কে জানে!
আসুন,ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি।একবার ভেবে দেখবেন,হাসপাতালের এই রোগীদের জায়গায় আপনি,আমি,আমরাও থাকতে পারতাম।
2nd Timer QnA Session ll RTDS
হাসপাতালে রোগী মারা গেলেই ' ভুল চিকিৎসার ' তকমা দিয়ে ডাক্তারকে আক্রমণ করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারকেই মুমূর্ষু রোগী বানানো হয়।
এ ক্ষেত্রে কোনো মামলা হওয়া লাগে না, তদন্ত হওয়া লাগে না, ভুল চিকিৎসা প্রমাণ ও হওয়া লাগে না কিন্তু বিচার হয়ে যায় ঠিকই।
তাও সেটা আমজনতার হাতেই। 🤷♂
এমনকি এ নিয়ে রাষ্ট্র তেমন কোনো সহানুভূতি পর্যন্ত প্রকাশ করে না।
অন্যদিকে ধর্ষক দোষ স্বীকার করলো, জবানবন্দি দিলো কিন্তু তাও এত দ্রুত বিচার করা যাবে না।
তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে, তদন্ত করতে হবে।
কারণ - কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পেয়ে যায়। 😶😶🤷♂️
ব্যাপারটা কেমন উঙ্গাবুঙ্গা হয়ে গেলো না??
বাংলাদেশেই মনে হয় এরকম উদ্ভট ঘটনাগুলো ঘটে। কেউ এসে বাচ্চা না থাকলেও বাচ্চা চায় আবার কেউ বাচ্চা আছে সেটা মানতে চায় না।
গতকালকে দেখলাম চট্রগ্রামে Ectopic pregnancy ( যেখানে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর বাইরে ইমপ্ল্যান্ট হয় ) এর অপারেশনের পর বাচ্চা দেওয়ার জন্য চিল্লাচিল্লি শুরু করেছেন।
আবার এর উল্টা ও ঘটে। কেউ আবার বাচ্চা থাকলেও সেটা স্বীকার করতে চান না।
ঢাকা মেডিকেলে গাইনিতে ইন্টার্নশিপের সময় হুট করে একদিন রাতে একজন মহিলা উনার মেয়েকে নিয়ে আসলেন। আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্টে জানা গেলো মেয়ে প্রেগন্যান্ট। কিন্তু সমস্যা হলো সে অবিবাহিত।
আর এজন্য মেয়ের অভিভাবকের দাবী এটা "খারাপ বাতাসের" কারণে হইছে, অন্য কিছু না।🤷♂️
উনাকে কোনোভাবেই বুঝানো যাচ্ছিলো না যে মানুষের বায়ু পরাগায়ন হয় না।
বাতাসের মাধ্যমে ফুল, ফলের পরাগায়ন হলেও মানুষের শুক্রাণু- ডিম্বাণু বাতাসের মাধ্যমে উড়ে গিয়ে বাচ্চা তৈরি করে না। 😶🤷♂️
20/05/2026
নাহ্, একটুও রাগ করি নাই। 😐
প্রতিবারই ডাক্তার পিটানোর নিউজের কমেন্ট সেকশন টা থাকে এরকম - "ভালো হইছে, কসাইদের শিক্ষা হইছে। "
কিন্তু সমস্যা হলো এতকিছুর পরও আসলে কসাইদের শিক্ষা হয় না।
এরা প্রচন্ডরকম বেহায়া।
দেশের মানুষজন মনে করে ডাক্তারকে পিটাইলেই পরেরবার মরা রোগীকেও ফুঁ দিয়ে বাঁচাইয়া ফেলবে, অথবা চেষ্টা করতে করতে ডাক্তার নিজে মইরা যাবে।
কিন্তু হওয়া উচিত ছিল তো এরকম - "মাইর খাওয়ার ভয়ে ইমার্জেন্সি রোগী আসলেই কাউন্সেলিং করে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া, বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া। রোগী বাঁচুক মরুক আমার বাপের কি?? "
কিন্তু ঐ যে কসাইদের তো শিক্ষা আসলে হয় না।
তারা তাও চেষ্টা করতে যায়, একটু চিকিৎসা দিতে যায়, শেষ চেষ্টা টা করতে যায়। আর তখনি নিউজ হয়ে যায় - "হাসপাতালে বেড়াতে আসা সম্পূর্ণ সুস্থ রোগীটারে হুদাই একটা ইনজেকশন দিয়া মাইরা ফালাইছে। "