Basic Skill Valley

Basic Skill Valley

Share

Dream, Learn & Win

15/04/2025

টুনটুনি আর নাপিতের কথা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

টুনটুনি গিয়েছিল বেগুন পাতায় বসে নাচতে। নাচতে-নাচতে খেল বেগুন কাঁটার খোঁচা। তাই থেকে তার হল মস্ত বড় ফোড়া। ও মা, কী হবে? এত বড় ফোড়া কী করে সারবে?

টুনটুনি একে জিগগেস করে, তাকে জিগগেস করে। সবাই বললে, ওটা নাপিত দিয়ে কাটিয়ে ফেল।'

তাই টুনটুনি নাপিতের কাছে গিয়ে বললে, 'নাপিতদাদা, নাপিতদাদা, আমার ফোড়াটা কেটে দাও না।'

নাপিত তার কথা শুনে ঘাড় বেঁকিয়ে নাক সিটকিয়ে বললে, 'ঈস! আমি রাজাকে কামাই, আমি তোর ফোড়া কাটতে গেলুম আর কি!'

টুনটুনি বললে, 'আচ্ছা দেখতে পাবে এখন, ফোড়া কাটতে যাও কি না।' বলে সে রাজার কাছে গিয়ে নালিশ করলে, 'রাজামশাই, আপনার নাপিত কেন আমার ফোড়া কেটে দিচ্ছে না? ওকে সাজা দিতে হবে।'

শুনে রাজামশাই হো-হো করে হাসলেন, বিছানায় গড়াগড়ি দিলেন, নাপিতকে কিছু বললেন না। তাতে, টুনটুনির ভারি রাগ হল। সে ইঁদুরের কাছে গিয়ে বললে, 'ইঁদুরভাই, ইঁদুরভাই, বাড়ি আছ?'

ইঁদুর বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই। এস ভাই। বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি খাবে ভাই?'

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি এক কাজ কর।'

ইঁদুর বললে, 'রাজামশাই যখন ঘুমিয়ে থাকবেন, তখন গিয়ে তাঁর ভুঁড়িটা কেটে ফুটো করে দিতে হবে।'

তা শুনে ইঁদুর জিভ কেটে কানে হাত দিয়ে বললে, 'ওরে বাপরে! আমি তা পারব না।'

তাতে টুনটুনি রাগ করে বিড়ালের কাছে গিয়ে বললে, 'বিড়ালভাই, বিড়ালভাই, বাড়ি আছ?'

বিড়াল বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি ইঁদুর মার।'

বিড়াল বললে, 'এখন আমি ইঁদুর-টিদুর মারতে যেতে পারব না, আমার বড্ড ঘুম পেয়েছে।'

শুনে টুনটুনি রাগের ভরে লাঠির কাছে গিয়ে বললে, 'লাঠি ভাই, লাঠি ভাই, বাড়ি আছ?'

লাঠি বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি বিড়ালকে ঠেঙাও।'

লাঠি বললে, 'বিড়াল আমার কী করেছে যে আমি তাকে ঠেঙাতে যাব? আমি তা পারব না।'

তখন টুনটুনি আগুনের কাছে গিয়ে বললে, 'আগুনভাই, আগুনভাই, বাড়ি আছ?'

আগুন বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি তুমি লাঠি পোড়াও।'

আগুন বললে, 'আজ ঢের জিনিস পুড়িয়েছি, আজ আর কিছু পোড়াতে পারব না।'

তাতে টুনটুনি তাকে খুব করে বকে, সাগরের কাছে গিয়ে বললে, 'সাগরভাই, সাগরভাই, বাড়ি আছ?'

সাগর বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি তুমি আগুন নিভাও।'

সাগর বললে, 'আমি তা পারব না।'

তখন টুনটুনি হাতির কাছে গিয়ে বললে, 'হাতিভাই, হাতিভাই, বাড়ি আছ?'

হাতি বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি সাগরের জল সব খেয়ে ফেল।'
হাতি বললে, 'অত জল খেতে পারব না, আমার পেট ফেটে যাবে।'

কেউ তার কথা শুনল না দেখে টুনটুনি শেষে মশার কাছে গেল। মশা দূর থেকে তাকে দেখেই বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি হাতিকে কামড়াও।'

মশা বললে, 'সে আবার একটা কথা! এখুনি যাচ্ছি! দেখব হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া!' বলে, সে সকল দেশের সকল মশাকে ডেকে বললে, 'তোরা আয় তো রে ভাই, দেখি হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া।' অমনি পিন্-পিন্ পিন্-পিন্ করে যত রাজ্যের মশা, বাপ-বেটা ভাই-বন্ধু মিলে হাতিকে কামড়াতে চলল। মশায় আকাশ ছেয়ে গেল, সূর্য ঢেকে গেল। তাদের পাখার হাওয়ায় ঝড় বইতে লাগল। পিন্-পিন্ পিন-পিন্ ভয়ানক শব্দ শুনে সকলের প্রাণ কেঁপে উঠল। তখন—

হাতি বলে, সাগর শুষি।
সাগর বলে, আগুন নেবাই!
আগুন বলে, লাঠি পোড়াই!
লাঠি বলে, বিড়াল ঠেঙাই!
বিড়াল বলে, ইঁদুর মারি।
ইঁদুর বলে, রাজার ভুঁড়ি কাটি!
রাজা বলে, নাপতে বেটার মাথা কাটি!

নাপিত হাত জোড় করে তোমার ফোড়া কাটি।' কাঁপতে-কাঁপতে বললে, 'রক্ষে কর, টুনিদাদা! এস তোমার ফোঁড়া কাটি। তারপর টুনটুনির ফোড়া সেরে গেল, আর সে ভারি খুশি হয়ে আবার গিয়ে নাচতে আর গাইতে লাগল— টুনটুনা টুন টুন টুন! ধেই ধেই!

15/04/2025

দুষ্ট বাঘ
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

রাজার বাড়ির সিংহ-দরজার পাশে, লোহার খাঁচায় একটা মস্ত বাঘ ছিল। রাজার বাড়ির সামনে দিয়ে যত লোক যাওয়া-আসা করত, বাঘ হাত জোড় করে তাদের সকলকেই বলত, 'একটিবার খাঁচার দরজাটা খুলে দাও না দাদা।' শুনে তারা বলত, 'তা বইকি। দরজাটা খুলে দি, আর তুমি আমাদের ঘাড় ভাঙো।'

এর মধ্যে রাজার বাড়িতে খুব নিমন্ত্রণের ধুম লেগেছে। বড়-বড় পণ্ডিত মশাইয়েরা দলে-দলে নিমন্ত্রণ খেতে আসছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ঠাকুর দেখতে ভারি ভালো মানুষের মতো ছিলেন। বাঘ এই ঠাকুরমশাইকে বারবার প্রণাম করতে লাগল।

তা দেখে ঠাকুরমশাই বললেন, 'আহা, বাঘটি তো বড় লক্ষ্মী। তুমি কি চাও বাপু।'

বাঘ হাত জোড় কর বললে, 'আজ্ঞে, একটি বার যদি এই খাঁচার দরজাটা খুলে দেন। আপনার দুটি পায়ে পড়ি।'

ঠাকুরমশাই কিনা বড্ড ভালোমানুষ ছিলেন, তাই তিনি বাঘের কথায় তাড়াতাড়ি খাঁচার দরজা খুলে দিলেন।

তখন হতভাগা বাঘ হাসতে-হাসতে বাইরে এসেই বললে, 'ঠাকুর, তোমাকে তো খাব।'

আর কেউ হলে হয়তো ছুটে পালাত। কিন্তু এই ঠাকুরটি ছুটতে জানতেন না। তিনি ভারি ব্যস্ত হয়ে বললেন, 'এমন কথা তো কখনো শুনিনি। আমি তোমার এত উপকার করলাম আর তুমি বলছ কিনা আমাকে খাবে। এমন কাজটি কি কেউ কখনো করে?'

বাঘ বললে, 'করে বইকি ঠাকুর, সকলেই তা করে থাকে।'

ঠাকুরমশাই বললেন, 'তা কখনোই নয়। চল দেখি তিনজন সাক্ষীকে জিগগেস করি, তারা কি বলে।'

বাঘ বললে, 'আচ্ছা চলুন। আপনি যা বলছেন, সাক্ষীরা যদি তাই বলে, আমি আপনাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যাব। আর যদি তারা আমার কথা ঠিক বলে, তবে আপনাকে ধরে খাব।'

সাক্ষী খুঁজতে দুজনে মাঠে গেলেন। দুই ক্ষেতের মাঝখানে খানিকটা মাটি উঁচু রেখে, চাষীরা একটি ছোট পথের মতন করে দেয় তাকে বলে আল। ঠাকুরমশাই সেই আল দেখিয়ে বললেন, 'এই আমার একজন সাক্ষী।'

বাঘ বললে, 'আচ্ছা, ওকে জিগগেস করুন, ও কি বলে।'

ঠাকুরমশাই তখন জিগগেস করলেন, 'ওহে বাপু আল, তুমি বল দেখি আমি যদি কারো ভালো করি, সে কি উল্টে আমার মন্দ করে?'

আল বললে, 'করে বইকি ঠাকুর। এই আমাকে দিয়ে দেখুন না। দুই চাষার ক্ষেতের মাঝখানে আমি থাকি, তাতে তাদের কত উপকার হয়। একজনের জমি আর একজন নিয়ে যেতে পারে না, একজনের ক্ষেতের জল আর একজনের ক্ষেতে চলে যায় না। আমি তাদের এত উপকার করি, তবু হতভাগারা লাঙ্গল দিয়ে আমাকেই কেটে তাদের ক্ষেত বাড়িয়ে নেয়।'

বাঘ বললে, 'শুনলেন তো ঠাকুরমশাই, ভালো করলে তার মন্দ কেউ করে কি না।'

ঠাকুরমশাই বললেন, 'রোসো, আমার আরো দুজন সাক্ষী আছে।'

বাম বললে, 'আচ্ছা চলুন।'

মাঠের মাঝখানে একটা বটগাছ ছিল। ঠাকুরমশাই তাকে দেখিয়ে বললেন, 'ঐ আমার আর একজন সাক্ষী।'

বাঘ বললে, 'আচ্ছা, ওকে জিগগেস করুন। দেখি, ও কি বলে।'

ঠাকুরমশাই বললেন, 'বাপু বটগাছ, তোমার তো অনেক বয়েস হয়েছে, অনেক দেখেছ শুনেছ। বল দেখি, উপকার যে করে তার অপকার কি কেউ করে?'

বটগাছ বললে, 'তাই তো লোক আগে করে। ঐ লোকগুলো আমার ছায়ায় বসে ঠান্ডা হয়েছে, আর আমাকেই খুঁচিয়ে আমার আঠা বার করেছে। আবার সেই আঠা রাখার জন্যে আমারই পাতা ছিঁড়েছে। তারপর ঐ দেখুন, আমার ডালটা ভেঙে নিয়ে চলেছে।'

বাঘ বললে, 'কি ঠাকুরমশাই, ও কি বলছে।'

তখন ঠাকুরমশাই তো মুশকিলে পড়লেন। আর কি বলবেন, ভেবে ঠিক করতে পারলেন না। এমন সময় সেখান দিয়ে একটা শিয়াল যাচ্ছিল। ঠাকুরমশাই সেই শিয়ালকে দেখিয়ে বললেন, 'ঐ আমার আর একজন সাক্ষী। দেখি, ও কি বলে।'

তারপর তিনি শিয়ালকে ডেকে বললেন, 'শিয়ালপণ্ডিত, একটু দাঁড়াও, তুমি আমার সাক্ষী।'

শিয়াল দাঁড়াল, কিন্তু কাছে আসতে রাজী হল না। সে দূর থেকেই জিগগেস করল, 'সে কি কথা।

আমি কি করে আপনার সাক্ষী হলুম?'

ঠাকুরমশাই বললেন, 'বল দেখি বাপু, যে ভালো করে তার মন্দ কে কেউ করে?'

শিয়াল বললে, 'কার কি ভালো কে করেছিল, আর কার কি মন্দ করে করেছে, শুনলে তবে বলতে শারি।'

ঠাকুরমশাই বললেন, 'বাঘ খাঁচার ভিতরে ছিল, আর আমি ব্রাহ্মণ পথ দিয়ে যাচ্ছিলুম-'

এই কথা শুনেই শিয়াল বললে, 'এটা বড় শক্ত কথা হলো। সেই খাঁচা আর সেই পথ না দেখলে, আমি কিছুই বলতে পারব না।'

কাজেই সকলকে আবার সেই খাঁচার কাছে আসতে হলো। শিয়াল অনেকক্ষণ সেই খাঁচার চারধারে

পায়চারি করে বললে, 'আচ্ছা, খাঁচা আর পথ বুঝতে পেরেছি। এখন কি হয়েছে বলুন।' ঠাকুরমশাই বললন, 'বাঘ খাঁচার ভিতরে ছিল, আর আমি ব্রাহ্মণ পথ দিয়ে যাচ্ছিলুম।'

অমনি শিয়াল তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললে, 'দাঁড়ান, অত তাড়াতাড়ি করবেন না, আগে ঐটুকু বেশ করে বুঝে নিই। কি বললেন? বাঘ আপনার বামুন ছিল, আর পথটা খাঁচার ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল?'

এই কথা শুনে বাঘ হো-হো করে হেসে বললে, 'দূর গাধা। বাঘ খাঁচার ভিতর ছিল, আর বামুন পথ দিয়ে যাচ্ছিল।'

শিয়াল বললে, 'রোসো দেখি-বামুন খাঁচার ভিতর ছিল, আর বাঘ পথ দিয়ে যাচ্ছিল?'

বাথ বললে, 'আরে বোকা, তা নয়। বাঘ খাঁচার ভিতরে ছিল, বামুন পথ দিয়ে যাচ্ছিল?'

শিয়াল বললে, 'এ তো ভারি গোলমালের কথা হলো দেখছি। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কি

? বাঘ বামুনের ভিতরে ছিল, আর খাঁচা পথ দিয়ে যাচ্ছিল?' বললে

বাঘ বললে, 'এমন বোকা তো আর কোথাও দেখিনি। আরে বাঘ ছিল খাঁচার ভিতরে, আর বামুন

যাচ্ছিল পথ দিয়ে।'

তখন শিয়াল মাথা চুলকাতে-চুলকাতে বললে, 'না। অত শক্ত কথা আমি বুঝতে পারব না।'

ততক্ষণে বাঘ রেগে গিয়েছে।

সে শিয়ালকে এক ধমক দিয়ে বললে, 'ও কথা তোকে বুঝতেই হবে। দেখ, আমি এই খাঁচার ভিতরে ছিলুম-দেখ-এই এমনি করে-

বলতে বলতে বাঘ খাঁচার ভিতরে গিয়ে ঢুকল, আর শিয়ালও অমনি খাঁচার দরজা বন্ধ করে হুড়কো এঁটে দিল। তারপর শিয়াল ঠাকুরমশাইকে বলল, 'ঠাকুরমশাই, এখন আমি সব বুঝতে পেরেছি। আমার সাক্ষী যদি শুনতে চান, তবে তা হচ্ছে এই যে, দুষ্ট লোকের উপকার করতে নেই। কাজেই বাঘ মামার জিত। এখন আপনি শিগগির যান, এখনো ফলার ফুরোয়নি।' বলে শিয়াল বনে চরতে গেল, আর ঠাকুরমশাই ফলার খেতে গেলেন।

Photos from Basic Skill Valley's post 29/09/2024

Basic Cricket Tournament-2024

25/08/2024

Basic Skill Valley Presents Basic Cricket Tournament - 2024 এর ফাইনালে অপেক্ষা করছে রাব্বি ও তার দল। তার সাথে আছে হার্ড হিটার রান।
ফাইনালে কে হবে Rising Super Stars এর প্রতিপক্ষ। কে সামলাবে রাব্বি রানাদের??

25/08/2024
Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Basic Education Center
Dhaka
1214

Opening Hours

Monday 08:30 - 23:00
Tuesday 08:30 - 23:00
Wednesday 08:30 - 22:30
Thursday 08:30 - 23:00
Friday 15:00 - 21:00
Saturday 08:30 - 23:15
Sunday 08:30 - 23:00