Computer Science and Engineering at Dhaka City College

Computer Science and Engineering at Dhaka City College

Share

This page all about the CSE department of Dhaka City College.

Study in Poland for international students in English - Poland Universities | STUDY IN POLAND - GO POLAND! 17/04/2025

প্ল্যান বি!

হাতে কিছু অপশন রাখা সবসময়ই ভালো। কারণ আপনি জানেন না আপনি যে দেশটাকে টার্গেট করে আগাচ্ছেন সেই দেশে হবে কি না।

ফিনল্যান্ডঃ এই দেশটা সব দিক দিয়ে ভালো। বিশেষ করে PR নিয়ে আপনার প্যারা নেওয়া লাগবে না। ফিনল্যান্ডে অনেক গুলো ভার্সিটি আছে। জয়েন্ট এপ্লিকেশন করতে ১০০ ইউরো লাগবে। সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারির ৫ তারিখ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। কিছু ভার্সিটি যেমন Aalto University, University of Helsinki আবেদন প্রক্রিয়া আগে থেকেই শুরু হয়। এখানে দেখার বিষয় হলো ফিনল্যান্ডের টিউশন ফি অনেক। কিন্তু রেজাল্ট ভালো থাকলে ও ইন্টারভিউ ভালো হলে ৫০-১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাবেন। একটা বিষয় বলে রাখি ফিনল্যান্ডে এখন জব পাওয়া কঠিন। মিনিমাম ৮-১২ মাসের ব্যাকআপ নিয়ে যাওয়া উচিৎ।

Website: https://www.studyinfinland.fi/

ডেনমার্কঃ ডেনমার্কে পৃথিবীর সেরা কিছু ভার্সিটি আছে। তবে টিউশন ফি বিশেষ করে সাইন্সের সাবজেক্ট গুলোতে অনেক বেশি। যদি স্পাউস নিয়ে যেতে পারেন তবে টিউশন ফি নিয়ে প্যারা খেতে হবে না। দুইজন মিলে যা ইনকাম করবেন খুব সুন্দর করে চলতে পারবেন। তবে ফিনল্যান্ডের মত ডেনমার্ক ও এখন জব পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।

Website: https://studyindenmark.dk/

বেলজিয়ামঃ অনেকেই হয়তো বেলজিয়াম নিয়ে খুব বেশি কিছু জানে না, বা শুনে নি। কিন্তু ইউরোপীয় দেশ গুলোর মধ্যে বেলজিয়াম ও ভালো অপশন। ভার্সিটি ভেদে টিউশন ফি ৯০০-৫০০০ ইউরো। ডকুমেন্টস সব ঠিক থাকলে এমবাসি ভিসা নিয়ে প্যারা দেয় না। Ghent University, UHasselt, VUB দেখতে পারেন।

Website: https://www.studyinbelgium.be/en

ইতালিঃ এক সময় ইতালি বেশ জনপ্রিয় ছিলো এবং অনেক বাংলাদেশি ব্যাচেলর, মাস্টার্স লেভেলে লেখাপড়া করার জন্য যেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ভিসা রেশিও খুব খারাপ ছিলো। কিন্তু এবছর দেখলাম ভালোই ভিসা দিয়েছে। ইতালির অনেক ভার্সিটির টিউশন ফি কম এবং খুব কম খরচে ভালো সাবজেক্টে পড়তে পারবেন। রেজাল্ট ভালো থাকলে স্কলারশিপও পেয়ে যেতে পারেন। ইতালির ভার্সিটি গুলো ভালোই স্কলারশিপ দিয়ে থাকে।

Website: https://studyinitaly.esteri.it/en/home_borse

চেক রিপাবলিকঃ জার্মানির পাশের এই দেশে বেশ কিছু ভালো ভার্সিটি আছে। আপনার যদি IT, Computer Science রিলেটেড সাবজেক্টে পড়ার ইচ্ছে থাকে দেখতে পারেন। খুব কম খরচে মাস্টার্স শেষ করতে পারবেন এবং পড়া শেষে জব নিয়ে প্যারা খাওয়া লাগবে না। Masaryk University, Brno University of Technology, Czech University of Life Sciences দেখতে পারেন।

Website: https://www.studyin.cz/

জার্মানিঃ এবার নরওয়েতে ২৫০+ স্টুডেন্ট যাচ্ছে। জার্মান এমবাসির ইন্টারভিউ কলের জন্য যদি এক বছর অপেক্ষা করতে না হতো তাহলে এই ২৫০ জনের মধ্যে হয়তো ১০০+ জার্মানি দৌড় দিতো। যদি এক বছর অপেক্ষা করতে পারবেন জার্মানি দেখতে পারেন।

Website: https://www2.daad.de/deutschland/studienangebote/international-programmes/en/result/

নেদারল্যান্ডসঃ টাকা-পয়সা থাকলে নেদারল্যান্ডস দেখতে পারেন। দেশ, পড়ালেখার মান সবকিছুই ভালো কিন্তু টিউশন ফি আমার কাছে অনেক মনে হয়েছে।

Website: https://www.studyinholland.nl/

আইসলেন্ডঃ এই দেশে খুব অল্প কয়েকজন বাংলাদেশি আছেন যারা মাস্টার্স লেভেলে লেখাপড়া করছেন। একাডেমিক রেজাল্ট ভালো হলে ও IELTS এ ৬.৫ থাকলে University of Iceland দেখতে পারেন। এই ভার্সিটিতে কোন টিউশন ফি নেই।

Website: https://study.iceland.is/

ফ্রান্সঃ ফ্রান্স এমবাসি ভিসা নিয়ে ভালোই প্যারা দেয়। কিন্তু ফ্রান্সের অনেক ভার্সিটিতে টিউশন ফি খুব কম, সেইসাথে স্কলারশিপও অফার করে। যদি স্কলারশিপ পেয়ে যান তাহলে ভিসা নিয়ে খুব একটা ঝামেলা হবে না। University of Paris-Saclay, Saint-Aubin, Université de Paris দেখতে পারেন।

Website: https://www.campusfrance.org/en

সুইডেনঃ খুব সুন্দর এবং পরিপাটি একটা দেশ। সুইডেনের কিছু ভার্সিটি ওয়ার্ডের বেস্ট। একাডেমিক রেজাল্ট, IELTS স্কোর ভালো হলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। সাবজেক্ট রিলেটেড দুই বছরের জব এক্সপেরিয়েন্স থাকলে SI স্কলারশিপের জন্য ট্রাই করা যেতে পারে। এছাড়াও ভার্সিটি বা ডিপার্টমেন্টের বেশ কিছু স্কলারশিপ আছে। ভার্সিটির ওয়েবসাইটে গেলেই দেখতে পাবেন।

Website: https://studyinsweden.se/

পোল্যান্ডঃ পোল্যান্ডে অনেক বাংলাদশি আছে। আগে অনেক বাংলাদেশি ব্যাচেলর, মাস্টার্স লেভেলে পোল্যান্ড যেতো। কারণ পোল্যান্ডের ভার্সিটি গুলোর টিউশন ফি অনেক কম। সেই সাথে জীবনযাপনের ব্যায় ও কম। পোল্যান্ডের জন্য University of Warsaw, Warsaw University of Technology দেখত পারেন।

Website: https://study.gov.pl/

** অপশন রাখা ভালো। তবে বেশি অপশন থাকলে আবার সমস্য

Sss Migration

Study in Poland for international students in English - Poland Universities | STUDY IN POLAND - GO POLAND! Study in Poland - Universities, information about how to apply, application deadlines, scholarships, grades, entry requirements, tuition fees, structure of studies in Poland.

02/08/2021

সামনে সুযোগ পেলেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোভিডের ভ্যাক্সিন নিয়ে নেন। অন্তত বড় ধাক্কা সামলাতে কাজে লাগবে, কিছু না নেয়া থাকলে সামলাবেন কি করে?

লস এন্জেলেসে পাঁচ সন্তানের পিতা ৩৯ বছরের মাইকেল ফ্রিডি এবং তার বাগদত্তা জেসিকা ডুপ্রিজ একসাথে আছেন অনেক বছর। বড় সন্তানের বয়স ১৭ বছর, ছোট সন্তানের ১৭ মাস। তারা নিজেদের “আনভ্যাক্সিনেটেড” দাবী করতেন। সান দিয়েগোতে দুইদিন ছুটিতে যান আসার পর ফ্রিডি একাই অসুস্থ হয়ে পরেন। সিম্পটমের মধ্যে চামড়ায় রাশ, হঠাৎ শীতে কেপে ওঠা, ঘুম আর খিদা নস্ট, অস্বস্তি লাগা চলছিলো। উনার ধারনা এটা সান-পয়জনিং।

উনি ভ্যাক্সিন নেবেন না, ডাক্তার দেখাতে গেলে তাকে বাসায় আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়। রাতে নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়ায় আবার হাসপাতালে নিলে দেখা যায় নিউমেনিয়ার দুই ফুসফুসই আক্রান্ত। পরদিন হাসপাতাল থেকে তার ৫ সন্তানের মাকে শেষ টেক্সট মেসেজ পাঠান “I should have gotten the damn vaccine”.

ফ্রিডি মারা গেছেন স্রেফ জেদের জন্য, ভ্যাক্সিন নেবেনই না। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন ভ্যাক্সিন নিতে চান না। কারন জানা নাই, তবে কিছু শুনি, হালাল না হারাম, যৌনশক্তি হ্রাস, লিঙ্গান্তর ঘটে যাওয়া, কুমীর হয়ে যাওয়া, উপাসনালয়ে গেলে কোন ক্ষতি হয় না, ভ্যাক্সিনের দুইবছর পর মারা যাবেনই, এমন অদ্ভুত বিশ্বাস তাদের।

আমাদের একটাই জীবন, ভ্যাক্সিন নিয়ে বাঁচানোর চেস্টা করে দেখেন। ফ্রিডির মতো শেষ মেসেজটা আপনার যেনো না লেখা লাগে।

30/07/2021

কানাডায় স্কলারশিপ পেতে যা করবেন

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চতর শিক্ষা নেয়ার জন্য বেশ আগ্রহী। সাফল্যে অবদানও রাখছে তারা। স্কলারশিপ নিয়ে বাইরের দেশে পড়তে যাওয়ার জন্য কানাডা আছে প্রথম সারিতে। এইচএসসি ও অনার্স পাস করেই অনেক শিক্ষার্থী কানাডার বিভিন্ন কলেজগুলোতে আবেদন করে থাকেন। গত আট থেকে ১০ বছর ধরে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরা কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে পাড়ি জমাচ্ছে।

তবে অনেকেই জানেন না, কীভাবে আবেদন করতে হয় কিংবা কীভাবে একটি ভালো স্কলারশিপ পাওয়া যায়। আজ জেনে নিন কীভাবে সহজে আপনি কানাডায় স্কলারশিপ পেতে পারেন। কীভাবে আবেদন করবেন তাও জেনে নিন-

কানাডার নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ডিগ্রিসমূহ বিশ্বমানের তো বটেই, আমেরিকা এবং কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিরও সমতুল্য। তাছাড়া পড়াশোনা চলাকালীন কানাডার নাগরিকত্বও পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কানাডায় একজন শিক্ষার্থী ইচ্ছা করলে দুইভাবে পড়ালেখা করতে পারে।

ফুলটাইম অথবা পার্টটাইম পড়াশোনায় এখানে রয়েছে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ডক্টরাল, পিএইচডি কোর্স। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরো রয়েছে কো-অপারেটিভ এডুকেশন, ডিসট্যান্ট লার্নিং, কন্টিনিউয়িং এডুকেশন এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মতো আরো অনেক কোর্স ও পদ্ধতি। এখানে শিক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্কশপ ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা রয়েছে এবং আর্থিক সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ দেয়া হয়ে থাকে।

কানাডার একাডেমিক বছর সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে মে মাসে শেষ হয়। বছরে দুটি সেমিস্টার থাকে। সেপ্টেম্বর অথবা জানুয়ারি। তবে সেমিস্টারে ভর্তির জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আট মাস আগে শুরু করা ভালো। সব বিশ্ববিদ্যালয়েরই ওয়েব সাইড রয়েছে। সেখানে গিয়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন। স্কলারশিপ আবেদনের সময়সূচি ও যোগ্যতাসমূহ জানতে আপনাকে তাদের ওয়েবসাইটসমূহ ভিজিট করতে হবে। প্রতি বছর ১৭৭ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আপনি অনেক ধরনের বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী ১৬ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত বৃত্তি পেতে পারেন। সঙ্গে ফ্রি রিচার্সের সুবিধা।

এই বৃত্তির আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে আপনাকে অবশ্যই একটি কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। তিন বছরের অধ্যয়নের জন্য এই বৃত্তির মূল্য প্রতি বছর ৫০ হাজার ডলার হয়। প্রতি বছর ছয়জন নতুন ছাত্রকে পুরষ্কার দেয়া হয়। প্রাপকদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে। যাদের বৈধ কানাডিয়ান স্টাড পারমিট রয়েছে এবং পিএইচডি পর্যায়ে পূর্ণকালীন স্নাতক পড়াশোনা করার ইচ্ছা পোষণ করতে হবে।

কানাডায় আপনি যে বিষয়গুলোতে পড়তে পারবেন-

কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ফুড সায়েন্স, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড রিসোর্সেস, ইলেকট্রনিক্স, মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সার্ভিসেস, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, এগ্রিকালচার, ইকোনোমিক্স, অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাসট্রোনমি, অ্যাপ্লায়েড জিওগ্রাফি, আর্কিটেকচারাল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এডুকেশন, হোম ইকোনোমিক্স, মিউজিক, ফিলোসফি, হিস্ট্রি অ্যান্ড রিলিজিওন, ইংলিশ, ল, থিয়েটারসহ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার বিষয় এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিষয় পড়তে পারবেন।

স্কলারশিপের জন্য আপনার যোগ্যতা

> একাডেমিক এক্সিলেন্স (৮০% মার্কস) থাকতে হবে।

> রিসার্চ এবিলিটি (জার্নাল পাবলিকেশন) থাকতে হবে।

> ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি (স্কোর সাত দশমিক পাঁচ) থাকতে হবে। আইএলটিএস করতে হবে আপনাকে।

> কমিউনিকেশন ও লিডারশিপ দক্ষতা থাকতে হবে।

> গবেষণা ও প্রকৌশল দক্ষতা, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, মানবিকতা, সামাজিক বিজ্ঞান বা স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ধারণা থাকতে হবে।

কানাডায় স্কলারশিপসমূহ

গভর্নমেন্ট অব কানাডা ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ প্রোগ্রাম: এই স্কলারশিপ মূলত গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা প্রদান করে থাকে। যা কানাডা সরকার কর্তৃক প্রদান করা হয়ে থাকে।

ভ্যানিয়ার কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম: স্কলারশিপটি মূলত পিএইচডি স্টুডেন্টদের জন্য। প্রোগ্রামটি ৩ বছরের জন্য। প্রতি বছরের জন্য ৫০ হাজার ডলার প্রদান করা হয়ে থাকে।

কুইবেক গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ অ্যান্ড গ্রান্টস: এটি প্রধানত পোস্ট ডক্টোরিয়াল ফলোশিদের জন্য। এটি অনেক সময় শর্টটাম রিসার্চ ও প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য প্রদান করা হয়।

পিয়ারি এলিয়ট ট্রুডো ফাউন্ডেশন ডক্টোরিয়াল স্কলারশিপ: প্রতি বছর ১৫ জন আউস্টান্ডিং ডক্টরাল প্রার্থীকে দেয়া হয়। প্রতি বছর ৬০ হাজার ডলার প্রদান করা হয়। এই প্রোগ্রামটি ৪ বছরের জন্য হয়ে থাকে।

কানাডিয়ান কুইন এলিজাবেথ-২ ডায়মন্ড জুবিলী স্কলারশিপ: স্কলারশিপটি মূলত ইনোভেশন লিডার ও কমিউনিটি বিল্ডারদের দেয়া হয়। যারা কমনওয়েলথভুক্ত দেশ; তারাই শুধু মাস্টার্স ও ডক্টোরিয়াল প্রসূনের জন্য আবেদন করতে পারবে।

এগুলো ছাড়াও রয়েছে

> অন্টারিও গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ

> অন্টারিও ট্রিলিয়াম স্কলারশিপ

> ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটার লু ইন্টান্যাশনাল মাস্টার্স অ্যান্ড ডক্টোরিয়াল অ্যাওয়ার্ডস

> ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা গ্রাজুয়েট ফেলোশিপস

> ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগ্যারি গ্রাজুয়েট অ্যাওয়ার্ডস

> ইউবিসি গ্রাজুয়েট গ্লোবাল লিডারশিপ ফেলোশিপস

> বান্টিং পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপস

> কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ মাস্টার্স প্রোগ্রাম

> কার্লিটোন ইউনিভার্সিটি অ্যাওয়ার্ডস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস

> ডালহাউস ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ

> ফেয়ারলেগ ড্যাকিন্সন স্কলারশিপ ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস

> ম্যাকগেইল ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ

> কুইন ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ

> ইউনিভার্সিটি অব সাচকাচুয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ডস

> সাইমন ফ্রেসার ইউনিভার্সিটি ফিন্যান্সিয়াল এইড অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস

> ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডমিশন স্কলারশিপ

29/07/2021

GRE/GMAT ছাড়াই আমেরিকার যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন নেয়ার সুযোগ থাকছে।
IELTS দিয়েই খেলা যাবে। 💖🔥

Stevens Institute of Technology
Mississippi State University
Illinois Institute of Technology
San Jose State University
Duquesne University
California State University Long Beach
Baylor University
Rutgers University
The State University of New Jersey
University of Texas Rio Grande Valley
Boston University
University of Illinois at Urbana-Champaign
Brandis University (Master of Public Policy program)
University of North Alabama
Johns Hopkins University
University of Memphis School of Public Health
University of Minnesota
University of Mississippi
University of North Carolina, Charlotte
Southern Methodist University
Austin Peay State University
University of Wisconsin-Milwaukee
Drew University
Rochester Institute of Technology
Loyola University School of business
University of Arizona (Master of Public Health)
University of Louisville
Penn State College of Engineering
Florida State University
Texas Technology University
Jackson State University
Auburn University
Indiana University, Bloomington
University of California, San Diego
New York Institute of Technology
Rice University
SUNY Buffalo
Johns Hopkins University
University of Colorado, Boulder
University of Florida
Cornell University
Oregon State University
South Dakota State University
Bowling Green State University
Clayton State University
Texas A&M University-Commerce (with the exception of a few programs)
University of Texas at San Antonio
Texas Tech University
University of Alabama
University of Southern Mississippi
William Carey University
Lipscomb University
Duke University
Middle Tennessee State University
University of Pittsburgh
University of Nebraska-Lincoln
Some graduate programs at the University of Illinois
George Mason University
Washington State University
Park University
University of Cincinnati
University of North Texas
University of Massachusetts Amherst
UC Davis Graduate
University of Rochester
University of Oklahoma
Northeastern University
Florida International University
Oklahoma State University
Kansas State University
University of Idaho
New Mexico State University
California State University, Sacramento
Pace University, New York City
University of Dayton
Villanova University
Sonoma State University
Rowan University
Wichita State University
DeVry University
University of the Pacific
Fairleigh Dickinson University
Johnson & Wales University
University of New Haven
West Texas A&M University
Southeast Missouri State University
Harrisburg University of Science and Technology
California State University, Channel Islands
Northeastern Illinois University
Colorado Technical University
University of Bridgeport
Lewis University
Jacksonville State University
University of Central Missouri
National Louis University
Alliant International University
Point Park University
Missouri Western State University
City University of Seattle
Concordia University Texas
Rivier University
Monroe College
Notre Dame de Namur University
Adler University, Chicago Campus
Trine University
Fisher College
Marymount California University
Westcliff University
Virginia International University
International Technological University
Montclair University
Stratford University
IGlobal University
Stevens Henager College

❤️

15/05/2021

১৯৭১ –এ ফিলিস্তিনের পত্রিকা, বাংলাদেশ নিয়ে তাদের আকুতি।

ইউরোপ থেকে বিতাড়িত হয়ে আরবে আশ্রয় নেয়া ইসরায়েল তখন ফিলিস্তিনের বিশাল অংশ জবরদখল করে ফিলিস্তিনিদেরই তাড়িয়ে দিল। হত্যা, জুলুম, নির্যাতন চলছে নজিরবিহীনভাবে৷ হিটলারের গণহত্যার শিকার হওয়া জাতি নিজেই গণহত্যাকারীর রূপ নিল।

তখন মজলুম ফিলিস্তিনিরা বুঝতে পেরেছিল, একটা স্বাধীন ভূখণ্ডের কী জরুরত৷ সেই তাড়না থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের প্রতি সমর্থন জানায় তারা। পাকিস্তানি হানাদারদের চালানো গণহত্যাকে ইহুদি আগ্রাসনের সাথে তুলনা করে বলে, 'বাংলাদেশ- এ সেকেন্ড প্যালেস্টাইন।'

পাকিস্তানিদের মুসলিম পরিচয় নয়, মজলুমের আর্তনাদই গুরুত্ব পেয়েছিল তখন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, সেই স্বাধীনতাকে আরবের অনেকের আগে স্বীকৃতি দিল ফিলিস্তিন। তখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে পাকিস্তানের চাপ ছিল আরব দেশগুলোর ওপর, সেখানে তৎপর ছিল পাকিস্তানপন্থী স্বাধীনতা বিরোধীরাও।

দুর্ভাগ্য, আজও স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য লড়তে হচ্ছে তাদের।

-রাফসান গালিব

15/05/2021

যুদ্ধে কোন পক্ষ জেতে না, দুইপক্ষই হারে। কেউ বেশী, কেউ কম। অর্থে এবং জনগনের লাশে।

ইসরাইল ফিলিস্তিন বর্তমান যুদ্ধকে আভ্যন্তরীন গোলযোগ বলা ঠিক হবে নাকি যুদ্ধ বলতে হবে, এটা নিশ্চিত না। অফিশিয়াল হিসাবে যদি যাই, এটা ইসরাইলের বাহিনীর সাথে হামাসের একধরনের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।

ইসরাইলের জনসংখ্যা বাংলাদেশের ১৮ ভাগের একভাগ।একটা তুলনামূলক হিসাব করি, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন এবং বাংলাদেশের সৈন্য সংখ্যায়।
দেশ, সামরিক বাহিনী, রিজার্ভ সামরিক
ইসরায়েল- ১ লাখ ৭০ হাজার, ৪ লাখ ৫০ হাজার
ফিলিস্তিন- শূন্য এবং শূন্য
বাংলাদেশ- ১ লাখ ৬৩ হাজার, শূন্য
টাকার অংক বলার কিছু নাই, আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার, ইসরায়েলের বার্ষিক সেনাবাহিনীর পিছনে খরচ ২১ বিলিয়ন ডলার।

তাহলে ফিলিস্তিন যুদ্ধ করছে কিভাবে। যুদ্ধে একটা অত্যাধুনিক রেগুলার ফোর্সের সাথে ইট-পাথর আর চাকু নিয়ে হয়না, ফলাফল মানুষ মরছে। যুদ্ধ করছে হামাস, তাদের আর্থিক আর কারিগরি সাহায্য যে ইরান থেকে আসে সেটা সবাই জানে, আমি কোন গোপনীয় তথ্য দিচ্ছি না বা গুজব ছড়াচ্ছি না।

ইসরায়েলের এগিয়ে থাকার কারন “আয়রন ডোম” টেকনোলজি। এটা সারা দেশ জুড়ে এক ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক তৈরী করা, যে কোন সময় ইসরাইলের আকাশে যে কোন মুভমেন্ট ধরতে সক্ষম। এর রেডার অত্যন্ত শক্তিশালী, পুরো দুনিয়ার অনেক দেশই ইসরাইলের এই টেকনোলজি কিনতে চায়, এখনো বিক্রি করছে না। আয়রনডোমের পিছনে যে প্রোপাইটারী সফ্টওয়ার কাজ করে তা মূহুর্তেই হিসাব করে আকাশের কোথায় আছে কোথায় আঘাত পরবে। এদিকে দশটা ব্যাটারী নিয়োজিত আছে যেখান থেকে সারফেস টু এয়ার মিসাইল গিয়ে ধ্বংস করতে পারে। সাকসেস রেট প্রায় ৯৭%।

এ পর্যন্ত হামাসরা ১৫০০ রকেট ছুঁড়েছে, ইসরাইলও সেটার বেশীরভাগ আয়রন ডোমের সাহায্যে ঠেকিয়েছে। ক্ষতি এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, ইসরাইলের ৭ জন মারা গেছে, ফিলিস্তিনের এই লেখা পর্যন্ত ১২২ জন। শুক্রবার গেলো, রবিবার জাতিসংঘে এই নিয়ে আলোচনা হবে।

আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে অনেক হাসাহাসি করি, কিন্তু তার চার বছরে আমেরিকা কোন যুদ্ধে জড়ায়নি। জো বাইডেনকে নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করি, উনি বল্লেন ইসরায়েলের নিজেদের আত্মরক্ষার সকল অধিকার আছে। আছে, কিন্তু কথার শুরুতে যাননাই, কেনো এই দূর্ঘটনা কেনো এই আক্রমন এবং দায়ী কে। সেই কথায় আসছি, তার আগে একটা ক্ষতির হিসাব দেই।

হামাসের একেকটা রকেটে খরচ ৮০০ ডলারের মতো, ইরান থেকে সাহায্য পায়। ১৫০০ রকেটে খরচ ১.৫ মিলিয়ন ডলার। এই রকেটগুলোকে আয়রন ডোম দিয়ে গতিপথ বের করে ধংস করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পিছনে খরচ কতো? ১০ টা ব্যাটারী ছড়ানো আছে, পুরো টেকনোলজির খরচ আছে, রাফায়েল এবং ইসরাইল এভিয়েশন দেখাশোনা করে, মিসাইল ছুঁড়তে হয়। প্রতিটা মিসাইলের খরচ ৪০ হাজার ডলার। যদি ধরি এখন পর্যন্ত ১০০০ মিসাইল ছোড়া হয়েছে, তাহলে আয়রন ডোমের খরচ এবং পরবর্তী এয়ার স্ট্রাইকের খরচ বাদ দিলেও এই কয়দিনে ব্যাটারি ডেপলয়মেন্ট বাবদ ৫০০ মিলিয়ন ডলার এবং মিসাইল বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। ১.৫ মিলিয়ন বনাম ৫৪০ মিলিয়ন, এটা কি জয় বলবেন।

যুদ্ধ মানুষের সাথে মানুষের হয় না। হয় দুইপক্ষের ইগোর মধ্যে। ক্ষতিটা জনগনের হয়। এই আঘাতের শুরু না জেনে বা বলে জো বাইডেন যে কথা বলেছে, তা অত্যন্ত অপরিপক্ক মনে হয়েছে। শুরুটা আপনাদের বলি।

ইসরায়েলে ২০% আরব আছে, এর মধ্যে ১৮% আরব মুসলমান, ২% আরব খৃস্টান। জেরুজালেমে যে তিন ধর্মের তীর্থস্থান তা জানেন। এখানে খৃস্টানদের যেই অংশ, তার কাছে ৪ টা পরিবার হাজার বছর ধরে আছে। তাদের অনেক অর্থের লোভ অনেক সুযোগ সুবিধার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এই চার পরিবার তাদের বাস্তভিটা ছাড়তে রাজী না, কোন মূল্যেই না। তারা ঐ এলাকায় এক বিখ্যাত ব্যাক্তি যিনি সুলতান সালাদীন তার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন তার মাজারের খাদেম। ইসরায়েল আমিরাত বন্ধুত্বের আগেও চেস্টা করা হয়েছে, আমিরাত বিশাল অংক দিতে চেয়েছে, তারা নেবে না, বরং খাদেম হিসাবেই থাকবে।

আপনারা চিন্তা করেন ভারতে খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর বা খাজাবাবার দরগাহের খাদেমদের যদি মুম্বাইয়ে মুকেশ আম্বানী তার বাসার চারটা ফ্লোর দিয়ে দেন, তারা কি চলে যাবে না কি থাকবে?

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তার হাতের বিচারবিভাগীয় কার্ড খেললেন যেনো এরা জমি ছাড়তে বাধ্য হন, এবং বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রনালয়ের মতো গাছ কেটে স্মৃতি স্তম্ভ বানানোর মতো সেখানে একটা বাগান করে। এই মামলার রায়ের আগেই ফিলিস্তীনিরা প্রতিবাদ করে, তাদের অংশে। ইসরাইলের পুলিশ একটা নিয়ম মানে, তারা জনগনের বুকে পিঠে বাঁশখালীর মতো গুলি করে না, বরং চেস্টা করে হাটু টার্গেট করে রাবার বুলেট ছুঁড়তে। একদিকে কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার ছোড়া শুরু, অন্যদিকে ইটপাথরের আক্রমন, সেটা ঠেকাতে শুরু হয় রাবার বুলেট। প্রথম দিন সম্ভবত ১১ জন মারা যায়। এই হলো শুরু। আর এরপরপরই গাজা থেকে হামাসের রকেট নিক্ষেপ। এবার বলেন জো বাইডেনের আত্মরক্ষার সাথে কি একমত আপনারা?

আপনাদের মনে প্রশ্ন আসবে কেন আমি বাংলাদেশের তুলনা দিলাম। এর কারন, ইসরাইলের ইমসি টেকনোলজি হাঙ্গেরির নামে কিনে জনগনের ফোনকল রেকর্ড করতে সরকারের পয়সা খরচ করে ইসরায়েলকে ধনী হতে আমরা সাহায্য করি। সেই কল আবার একাত্তর টিভিকে দেয়া হয় বাজাবার জন্য। আর এখন ইসরাইলের অযাচিত আক্রমনের বিরুদ্ধে আমরা ফিলিস্তীন প্রেসিডেন্টের সাথে একাত্ম হয়ে চিঠি দেই। যখন আবার ইমসি যন্ত্র লাগবে, সেই ইসরাইল থেকে কিনে আবার ব্যবহারও করবো, আবার একাত্তর টিভি তা প্রচারও করবে। এমন ডবল স্ট্যান্ডার্ড পররাস্ট্রনীতি আমাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরো নাজুক বলবো নাকি হাস্যকর বলবো, পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

যেখানে শুরু সেখানে শেষ, যুদ্ধে কেউ যেতে না, দুই পক্ষই হারে। ইসরাইল হিসাব করতে বসলেই বুঝবে এরমধ্যে কতো টাকা গচ্চা গেছে। শুধুমাত্র তাদের অর্থের জোর আর ইগো ধরে রাখতে।

Gagan Mein Thaal (Video) | Nanak Shah Fakir | Bhai Nirmal Singh 10/05/2021

রবি ঠাকুরের অনেক ফেমাস গানই নকল।

এই মামুলি সত্য কথাটা গতকাল বলার পর থেকে ইটের মতো মেধাবী (Dumb as a Brick) ঠাকুর ভক্ত জনতা আমার কাছে প্রচুর প্রমান চাচ্ছেন।

অথচ ইউটিউবে "রবীন্দ্রনাথের ভাঙ্গা গান" লিখে সার্চ দিলেই অনেক উদাহরন পাওয়া যায়।

নিচে রোর বাংলার তথ্য উপাত্ত আর আমার নিজের কিছু ইউটিউব সার্চ মিলিয়ে একটা লিস্ট দিলাম।

ঠাকুর ভক্তকূল এই সব চোরাই গান গুলোকে আদর করে নাম দিয়েছেন "ভাঙ্গা গান"।

১) ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে’ গানটি রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রথম গান। আর ঠাকুরের এই প্রথম গানটিই নকল। এই গানটি শিখ ধর্মের প্রবক্তা গুরু নানক দেব রচিত ‘গগন মে থাল রবি চন্দ্র দীপক বনে’ ভজনটির বেশ কিছু অংশের হবহু অনুবাদ / নকল। ২০১৮ সালের একটা সিনেমা থেকে এই ভজনটি শুনতে পারেন নিচের লিঙ্কে।

আসল গানঃ https://youtu.be/jNeQY2lnjko
ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=r3hxV7nQ3Us

২) স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত গান Auld Lang Syne থেকে মেরে বানিয়েছেন 'পুরনো সে দিনের কথা'

আসল গানঃ https://youtu.be/acxnmaVTlZA

৩) স্কটিশ কবি বার্নসের রচিত 'Ye Banks and Braes' এর গান মেরে বানিয়েছেন "ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে"

আসল গানঃ https://youtu.be/7mPy494IheQ

৪) ইংরেজী ‘Song: to Celia’ কবিতা অবলম্বনে রচিত ‘Drink to me only with thine eyes’ গানটির সুর ও ভাব মেরে বানিয়েছেন "কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া"

আসল গান শুনুন তিন মিনিট থেকেঃ https://youtu.be/Mk4JVZcneDo

৫) আইরিশ কবি থমাস মূরের “Go Where Glory Waits Thee" (১৮০৭) অনুকরণে রচিত হয়েছে ‘আহা আজি এ বসন্তে’। এই গানের সুর মারা হয়েছে আইরিশ গান "মেইড অফ দ্যা ভ্যালি"

আসল সুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=iX9Gs_s4UzE

সব চাইতে চাঞ্ছল্যকর ব্যাপার হচ্ছে এই একই সুর মেরে ঠাকুর বানিয়েছেন তিন তিনটি গান। বাকি দুইটা হচ্ছে ‘ওহে দয়াময়’ এবং ‘মানা না মানিলে’

৬) “For He's a Jolly Good Fellow” এর টিউন, কর্ড প্রগ্রেশন কিছু কিছু জায়গায় মেরে জগা খিচুরি বানিয়েছেন "এনেছি মোরা এনেছি মোরা"

আসল সুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=4_HpcfLyLz4
ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=ISh_J3z3fJE

৭) "ও দেখবি রে ভাই আয় রে ছুটে" গানের লিরিক্স মেরেছেন আইরিশ গান ‘The Vicar of Bray' থেকে।

আসল গানঃ https://www.youtube.com/watch?v=viw5JXopin0
ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://youtu.be/ixFSq6LIErU

৮) 'কালী কালী বলো রে আজ' গানের লিরিক্স মারা হয়েছে ব্রিটিশ গান 'Nancy Lee' থেকে

আসল গান"ঃ https://www.youtube.com/watch?v=5CzNHG1OJRQ
ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=D2kIQ6k4QcU

৯) ‘সকলি ফুরালো স্বপনপ্রায়’ গানটি মারা হয়েছে "Robin Adair" গান থেকে

আসল গানঃ https://youtu.be/51cI0_exnLU
ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=oVjVreyapvM

১০) ইংরেজ কবি জন পীলের 'The English Hunting Song" মেরে বানানো হয়েছে "তবে আয় সবে আয়"

আসল গানঃ https://youtu.be/PVqMybMluBM
ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=ebMMhct5Bl4&t=60s

১১) ইংরেজি গান "ন্যান্সি লি" থেকে মারা হয়েছে ঠাকুর সঙ্গীত "কালি কালি বলো হো"
আসল গান এবং ভাঙ্গা ঠাকুর একই সাথে শুনুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=5CzNHG1OJRQ

১২) কানাডা এবং ব্রিটিশ সেনা বাহীনির "The British Grenadiers" গানটির কড়া সামরিক ভাব এবং মান-ইজ্জত ভুলুন্ঠিত করে বানানো হয়েছে
এক্কে বারে বাল-ছাল বাংলা ভারসন "ও ভাই দেখে যা" (সরি ফর মাই ফ্রেঞ্চ)

আসল গানঃ https://youtu.be/XsW4FoRzhQw
ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=XzMcdZSd68Q

এছাড়া ভারতের লোকাল অন্যান্য অঞ্চলের গান মেরে বানানো হয়েছেঃ

১৩) কানাড়ি গান 'সখী বা বা' নকল করে ঠাকুর বানান ‘বড়ো আশা করে এসেছি গো, কাছে ডেকে লও’।

১৪) মাদ্রাজি গান ‘নিতু চরণমূল’ মেরে বানান 'বাসন্তী হে ভূবন মোহিনী'

১৫) তামিল সুর মেরে বানালেন ‘বাজে করুণ সুরে’

১৬) ভারতের দক্ষিণী গান ‘বৃন্দাবন লোলা’ অবলম্বনে ‘নীলাঞ্জন ছায়া'

১৭) মারাঠী গান ‘নাদবিদ্যা পরব্রহ্মা’ থেকে ‘বিশ্ববীণা রবে’

১৮) মাদ্রাজি সুরে ‘এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’

১৯) মহীশূরী গান থেকে লিখা প্রার্থনা সঙ্গীত ‘আনন্দলোকে মঙ্গলোলোকে’

২০) তারানা সুরে ‘দারাদিম দারাদিম’ ও ‘তোম তানা নানা’ থেকে বানালেন ‘সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে’ ও ‘ওই পোহাইল তিমিররাতি’

আসল গান এবং ভাঙ্গা ঠাকুরঃ https://www.youtube.com/watch?v=85B9km9fRy4

২১) হিন্দি গান ‘রিমিঝিমি রিমিঝিমি’ থেকে বানানো 'রিমঝিম ঘন ঘন রে বরষে'

এর বাইরে ‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা’, ‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু’, ‘প্রাণ চায় চক্ষু না চায়’ এই গান গুলোর সুর, কর্ড প্রগ্রেশন তৎকালীন ইউরোপিয়ান গান থেকে নেওয়া। যদিও এগুলোর সুর বা লিরিক্স হুবহু মারা কিনা বলা মূশকিল।

ইউটিউবের কল্যানে দেশ বিদেশ থেকে মেরে দেওয়া গান গুলো তাও সহজে ধরা যায়। তবে ঠাকুর দেবতা তার গল্প-কবিতা-উপন্যাস কোন এলাকা থেকে ধরে কারটা কবে মেরেছেন এটা ধরা মুশকিল।

এগুলো নিয়া গবেষনা করার টাইম বা ইচ্ছা কারও হাতে থাকলে করতে পারেন। আমাদের জানাবেন।

উপরের লেখার অধিকাংশ উদাহরন আরও ডিটেইলে বর্ননা করা আছে রোর বাংলার এই লিঙ্কেঃ

https://roar.media/bangla/main/art-culture/tagoresforeingmusic

বিদেশী গান মেরে বানানো ঠাকুর সঙ্গীত এবং মূল ইংরেজী গান গুলো পাশাপাশি গেয়ে একটা এ্যালবামও বানানো হয়েছে। এ্যালবামটি শুনুনঃ

https://www.youtube.com/playlist?list=OLAK5uy_my63HtXuUXI33QCnJolcnFzyhVVYRdPVc

রবীন্দ্রনাথের ভাঙ্গা গানের সংকলন পাবেন নিচের ইউটিউব সার্চ রেজাল্টেঃ

https://www.youtube.com/results?search_query=%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE+%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8

প্রাচীন কবি কামাক্ষা এক বিশেষ প্রাচীন কাজ করতে করতে একবার বলেছিলেনঃ

"ছোট লোক কারো কিছু মেরে দিলে হয় ছেঁচরা চোর।
আর বড়লোক অন্যেরটা মেরে হয় লেজেন্ড। "

Gagan Mein Thaal (Video) | Nanak Shah Fakir | Bhai Nirmal Singh T-Series presents "Gagan Mein Thaal" third video song. Nanak Shah Fakir is a 2018 film on the life and teachings of the first Sikh guru, Guru Nanak Dev Ji.Th...

07/05/2021

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ একদিন মক্কার বাজারে গিয়েছিলেন কিছু কেনাকাটা করার জন্য।

এক জায়গায় তিনি দেখলেন একজন লোক কিছু দাসদাসী নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে। আব্দুল্লাহ দেখলেন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছোট নয় বছরের কালো আফ্রিকান আবিসিনিয়ার মেয়ে। মেয়েটাকে দেখে আব্দুল্লাহর অনেক মায়া হলো, একটু রুগ্ন হালকা-পাতলা কিন্তু কেমন মায়াবী ও অসহায় দৃষ্টি দিয়ে তাঁকিয়ে আছে। তিনি ভাবলেন ঘরে আমেনা একা থাকেন, মেয়েটা পাশে থাকলে তার একজন সঙ্গী হবে, এই ভেবে তিনি মেয়েটাকে কিনে নিলেন।

মেয়েটিকে আব্দুল্লাহ ও আমেনা অনেক ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন এবং তাঁরা লক্ষ্য করলেন যে, তাঁদের সংসারে আগের চেয়েও বেশি রহমত ও বরকত চলে এসেছে। এই কারণে আব্দুল্লাহ ও আমেনা মেয়েটিকে আদর করে নাম দিলেন 'বারাকাহ'।

এই গল্প বারাকার গল্প।
একদিন আব্দুল্লাহ ব্যবসার কারণে সিরিয়া রওয়ানা দিলেন। আমেনার সাথে সেটাই ছিল উনার শেষ বিদায়।
উনার যাত্রার দু'এক দিন পর আমেনা একরাতে স্বপ্নে দেখলেন আকাশের একটা তারা যেন খুব আলো করে তাঁর কোলে এসে পড়লো। পরদিন ভোরে তিনি বারাকাকে এই স্বপ্নের কথা বললেন। উত্তরে বারাকা মৃদু হেসে বললেন, "আমার মন বলছে আপনার একটা সুন্দর সন্তানের জন্ম হবে"।

আমেনা তখনও জানতেন না তিনি গর্ভধারণ করেছেন কিন্তু কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন বারাকার ধারণাই সত্য।

আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেননি, সিরিয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেছেন! আমেনার সেই বিরহ ও কষ্টের সময়ে বারাকা ছিলেন একমাত্র সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।
একসময় আমেনার অপেক্ষার শেষ হয় এবং তিনি জন্ম দিলেন আমাদের প্রিয় নবীকে।

শেখ ওমর সুলাইমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বপ্রথম আমাদের নবীকে দেখার ও স্পর্শ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে মানুষটির সে হলো এই আফ্রিকান ক্রিতদাসী ছোট কালো মেয়েটি। আমাদের নবীকে নিজ হাতে আমেনার কোলে তুলে দিয়েছিলেন, আনন্দে ও খুশিতে বলেছিলেন, "আমি কল্পনায় ভেবেছিলাম সে হবে চাঁদের মত কিন্তু এখন দেখছি, সে যে চাঁদের চেয়েও সুন্দর"।

এই সেই বারাকা। নবীজির জন্মের সময় উনার বয়স ছিল তেরো বছর। ছোটবেলায় শিশু নবীকে আমেনার সাথে যত্ন নিয়েছেন, গোসল দিয়েছেন, খাওয়াতে সাহায্য করেছেন এবং আদর করে ঘুম পাড়িয়েছেন। মৃত্যুর সময় আমেনা বারাকার হাত ধরে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন তাঁর সন্তানকে দেখে শুনে রাখেন। বারাকা তাই করেছিলেন। বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে ইয়াতিম নবী চলে আসলেন দাদা আবদুল মোত্তালিবের ঘরে। উত্তরাধিকার সূত্রে নবী হলেন বারাকার নতুন মনিব। কিন্তু তিনি একদিন বারাকাকে মুক্ত করে দিলেন, বললেন, "আপনি যেখানে ইচ্ছে চলে যেতে পারেন, আপনি স্বাধীন ও মুক্ত।" সেই শিশুকাল থেকেই নবী এই ক্রীতদাস প্রথাকে দূর করতে চেয়েছিলেন। বারাকা নবীকে ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না, রয়ে গেলেন। মায়ের ছায়া হয়ে পাশে থেকে গেলেন। এমনকি নবীজির দাদা উনাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না। উনার একই কথা, "আমি আমেনাকে কথা দিয়েছি, আমি কোথাও যাবো না।"

তারপর একদিন খাদিজা (রাঃ) এর সাথে নবীজির বিয়ে হলো। বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বারাকাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, "উনি হলেন আমার মায়ের পর আরেক মা।" বিয়ের পর রাসূল (সাঃ) একদিন বারাকাকে ডেকে বললেন, "উম্মি, আমাকে দেখাশোনা করার জন্য এখন খাদিজা আছেন, আপনাকে এখন বিয়ে করতেই হবে" (নবীজি উনাকে উম্মি ডাকতেন, নাম ধরে ডাকতেন না)। তারপর রাসূল (সাঃ) ও খাদিজা মিলে উনাকে উবাইদ ইবনে জায়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। কিছুদিন পর বারাকার নিজের একটা ছেলে হলো, নাম আইমান। এরপর থেকে বারাকার নতুন নাম হয়ে গেলো "উম্মে আইমান" একদিন বারাকার স্বামী উবাইদ মৃত্যু বরণ করেন, নবীজি গিয়ে আইমান ও বারাকাকে সাথে করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন এবং সেখানেই থাকতে দিলেন।

কিছুদিন যাওয়ার পর নবীজি একদিন বেশ কয়েকজন সাহাবীকে ডেকে বললেন, "আমি একজন নারীকে জানি, যার কোন সম্পদ নেই, বয়স্ক এবং সাথে একটা ইয়াতিম সন্তান আছে কিন্তু তিনি জান্নাতি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি একজন জান্নাতি নারীকে বিয়ে করতে চাও?" এইকথা শোনে জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ) নবীজির কাছে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। নবীজি উম্মে আইমানের সাথে কথা বলে বিয়ের আয়োজন করলেন।
বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) জায়েদকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে ও ভালোবাসায়, ভেজা চোখে, কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, "তুমি কাকে বিয়ে করেছো, জানো জায়েদ?"

-হ্যাঁ, উম্মে আইমানকে, জায়েদের উত্তর। নবীজি বললেন, "না, তুমি বিয়ে করেছো, আমার মা কে"।
সাহাবীরা বলতেন, রাসূল (সাঃ) কে খাওয়া নিয়ে কখনো জোর করা যেত না। উনি সেটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু উম্মে আইমান একমাত্র নারী, যিনি রাসূল (সাঃ) কে খাবার দিয়ে "খাও".." খাও".. বলে তাড়া দিতেন, আর খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে বসে থাকতেন। নবীজি মৃদু হেসে, চুপ চাপ খেয়ে নিতেন।
রাসূল (সাঃ) উনার দুধ মাতা হালিমাকে দেখলে যেমন করে নিজের গায়ের চাদর খুলে বিছিয়ে তার উপর হালিমাকে বসতে দিতেন ঠিক তেমনি মদিনায় হিজরতের পর দীর্ঘ যাত্রা শেষে উম্মে আইমান যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন নবীজি উনার গায়ের চাদরের একটা অংশ পানিতে ভিজিয়ে, উম্মে আইমানের মুখের ঘাম ও ধুলোবালি নিজ হাতে মুছে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "উম্মি, জান্নাতে আপনার এইরকম কোন কষ্ট হবে না"।

নবীজি মৃত্যুর আগে সাহাবীদের অনেক কিছুই বলে গিয়েছিলেন। সেইসব কথার মধ্যে একটা ছিল, উম্মে আইমানের কথা। বলেছেন, "তোমরা উম্মে আইমানের যত্ন নিবে, তিনি আমার মায়ের মতো। তিনিই একমাত্র নারী, যিনি আমাকে জন্ম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন, আমার পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি সারাজীবন আমার পাশে ছিলেন।"

সাহাবীরা সেই কথা রেখেছিলেন। গায়ের রং নয়, একসময়ের কোন ক্রিতদাসী নয়, তাঁর পরিচয় তিনি নবীর আরেক মা। মায়ের মতোই তাঁরা এই বৃদ্ধা নারীকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিলেন।

সূত্র: ইবনে হিশাম ও শেখ ওমর সুলাইমান। "Woman who cared forever."
&সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া।

02/05/2021

বিন লাদেন কি আসলেই মার্কিন অভিযানে মারা গিয়েছিলেন? - একটি যৌক্তিক বিশ্লেষণ


২০১১ সালের ২রা মে। বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমগুলো তখনও লিবিয়ার যুদ্ধ নিয়েই ব্যস্ত। মাত্র দুইদিন আগেই ন্যাটোর বিমান হামলায় নিহত হয়েছিল মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফীর তিন দৌহিত্র এবং কনিষ্ঠ পুত্র সাইফ আল-আরব। লিবিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল গাদ্দাফী অক্ষত আছেন, কিন্তু তার নতুন কোনো ছবি বা অডিও বার্তা প্রকাশিত না হওয়ায় সন্দেহে ছিল অনেকেই।

তাই সেদিন টিভি চ্যানেলগুলো যখন পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করেই নিয়মিত অনুষ্ঠান বন্ধ করে হোয়াইট হাউজ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বক্তব্য প্রচার করতে শুরু করেছিল, তখন প্রথমে অনেকেই ভেবেছিল ওবামা হয়তো লিবিয়া বিষয়ক কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ দিবেন।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে ওবামা এমন একটি সংবাদ দেন, যার জন্য বিশ্ববাসী প্রস্তুত ছিল না। তিনি জানান, দীর্ঘ এক দশকের অভিযান শেষে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন-লাদেনকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তার বক্তব্য থেকে এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে জানা যায়, ওসামা বিন লাদেনের এক বার্তা বাহকের উপর নজরদারি করার মাধ্যমে সিআইএর গোয়েন্দারা পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের অনুমতি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে মার্কিন নেভি সীলের একটি বিশেষ টিমের সদস্যরা বাড়িটিতে অভিযান চালায় এবং বিন লাদেনসহ পাঁচজনকে হত্যা করে।

বিন লাদেনের মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে দশটি বছর। কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক আজও শেষ হয়নি। অনেক সাংবাদিকই বিন লাদেনকে খুঁজে বের করা এবং হত্যা করার ঘটনাপ্রবাহের সরকারী ভাষ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তান সরকারের ভূমিকা নিয়েও।

কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা, বিন লাদেনকে যে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়টি নিয়েই বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সন্দেহ প্রকাশ করে। কারো দাবি বিন লাদেন আসলে আগেই মারা গিয়েছিলেন, আবার কারো দাবি বিন লাদেন এখনও বেঁচে আছেন। কিন্তু কতটুকু সত্যতা আছে এই দাবিগুলোর? সেটি নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।


# কেন মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করা হয়নি?

ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, ঘটনার পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মৃতদেহের কোনো ছবি প্রকাশ করেনি। এমনকি, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও এখনও পর্যন্ত সেই ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি।

এসব লুকোচুরির কারণেই অনেকের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। যেখানে আইন ভঙ্গ করে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদন্ডের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে ওসামা বিন লাদেনের মৃতদেহের ছবি প্রকাশে আইনগত কোনো বাধা না থাকলেও তা প্রকাশ না করায় অনেকেই সন্দেহ করেন, তাকে হত্যা করার দাবিটি আসলে মিথ্যা।

মৃতদেহের ছবি কেন প্রকাশ করা হয়নি, তা নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। রিপাবলিকান দলের সিনেটর এবং সিনেট আর্মড সার্ভিস কমিটির সদস্য জিম আইনহোফ জানান, তিনি বিন লাদেনের মৃতদেহের ১৫টি ছবি দেখেছেন, কিন্তু সেগুলো এতই বীভৎস যে, প্রকাশ করার যোগ্য না।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, একটি বুলেট বিন লাদেনের চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে প্রবেশ করে এরপর বিস্ফোরিত হয়ে মাথার অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। ফলে তার চোখ এবং মাথার মগজ বেরিয়ে পড়েছিল। এরকম বীভৎস ছবি প্রকাশ করা হলে আল-কায়েদা সেগুলোকে নতুন সদস্য নিয়োগ এবং তাদেরকে প্রতিশোধ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই মৃতদেহের কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

ছবি প্রকাশ না করার আরেকটি কারণও থাকতে পারে। অভিযানে অংশ নেওয়া নেভি সীল সদস্য ম্যাট বিসোনেট তার ‘নো ইজি ডে‘ বইয়ে বর্ণনা দেন, তিনি এবং আরেকজন সৈন্য বিন লাদেনের বুক লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার শরীর সম্পূর্ণ নিথর হয়ে যায়।

তবে বিজনেস ইনসাইডারের সামরিক বিষয়ক প্রতিবেদক জ্যাক মার্ফি অভিযানে জড়িত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জন সদস্যের বরাত দিয়ে জানান, বাস্তবে শুধু ম্যাট বিসোনেট না, বিন লাদেনের মৃত্যুর পরেও নেভি সীল টিমের একাধিক সদস্য তার মৃতদেহের উপর কয়েক রাউন্ড করে গুলি চালায়। তার বর্ণনা অনুযায়ী, শেষপর্যন্ত বিন লাদেনের শরীরে শতাধিক বুলেটের ছিদ্র ছিল।

মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীর আইন অনুযায়ী অপারশেন পরিচালনার সময় কারো উপর কত রাউন্ড গুলি চালানো যাবে, সে ব্যাপারে কোনো বিধি নিষেধ নেই। কিন্তু তারপরেও অভিযানে অংশ নেওয়া সৈন্যদের ক্ষোভ এবং প্রতিশোধ থেকে চালানো এতগুলো গুলি কোনো আদর্শ অনুযায়ীই স্বাভাবিক না।

এরকম একটি ছবি প্রকাশ করা হলে আল-কায়েদা সদস্যদের ক্ষোভের সম্ভাবনা ছাড়াও বিশ্বব্যাপী অভিযানটি প্রচন্ড নিন্দা এবং সমালোচনার শিকার হতে পারত। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও হয়তো বিভিন্ন আইনী জটিলতা সৃষ্টি এবং তদন্ত শুরু হতে পারত। এসব কারণেই ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


# ছবি প্রকাশ না করা থেকে কী প্রমাণিত হয়?

মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করা হয়নি বলেই অধিকাংশ মানুষ বিন লাদেনের মৃত্যু সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাস্তবে ছবি প্রকাশ না করার কারণে বিন লাদেনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হলেও, এ থেকে তিনি যে আগেই মারা গিয়েছিলেন, সেটাও প্রমাণিত হয় না।

বিন লাদেন কেন বর্তমানে বেঁচে নেই, তার পক্ষে নিচে অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র ছবি না থাকার কারণেই যে দাবি করা হয় বিন লাদেন আগেই (অনেক দাবি অনুযায়ী ২০০২ সালে) মারা গিয়েছিলেন, সেই যুক্তিটি খুবই দুর্বল।

বিন লাদেন আগেই (২০০২ সালে) মারা গিয়ে থাকলে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তার যতগুলো ভিডিও এবং ২০১১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যতগুলো অডিও প্রকাশিত হয়েছে, সবগুলোই নকল, কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু যে গোয়েন্দাসংস্থা নিখুঁতভাবে কয়েকশো ঘন্টার অডিও-ভিডিও তৈরি করে বছরের পর বছর ধরে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দিতে পারে, তারা তো খুব সহজেই বিন লাদেনের মৃতদেহের ফটোশপ করা ছবি প্রকাশ করে এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারত! কিন্তু এক্ষেত্রে সেটি ঘটেনি।


# স্নোডেন কি বিন লাদেনের বেঁচে থাকার দাবি করেছেন?

ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু সম্পর্কে আরেকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হচ্ছে, তিনি যে এখনও জীবিত আছেন, শুধু তা-ই না, তিনি সিআইএর তত্ত্বাবধানে বাহামা দ্বীপপুঞ্জে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছেন এবং মার্কিন সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত মাসে ১ লাখ ডলার বেতনও নিচ্ছেন।

বলা হয়ে থাকে, বিন লাদেন সম্পর্কে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এ তথ্যটি জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন এনএসএ (ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি) কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন, যিনি এনএসএ’র বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করে আলোচিত হয়েছেন। এই সংবাদটিতে দাবি করা হয়, স্নোডেন নাকি বলেছেন, বিন লাদেন আসলে সিআইএর একজন গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ট। তাই তাকে হত্যা করার মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে বাস্তবে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তত্ত্বটি বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নয়াদিগন্ত, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর সহ বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণেও। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া একটি সংবাদ। সংবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি রিপোর্ট নামের একটি স্যাটায়ারমূলক ওয়েবসাইটে, যাদের কাজই হচ্ছে মজা করার উদ্দেশ্যে সত্যিকার চরিত্রদেরকে নিয়ে বিভিন্ন বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা।

ওয়েবসাইটটির Disclaimer পেজেই পরিষ্কারভাবে তাদের এ ভূমিকার বর্ণনা দেওয়া আছে এবং বলা আছে, বাস্তবের কোনো ব্যক্তির সাথে মিলে গেলেও এই সাইটে প্রকাশিত সবগুলো চরিত্র আসলে কাল্পনিক।


# আসলে কী আছে স্নোডেনের ফাঁস করা ডকুমেন্টে?

ওয়ার্ল্ড ডেইলি নিউজ রিপোর্টের সংবাদটি এডওয়ার্ড স্নোডেনের বরাত দিয়ে প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে এরকম কোনো দাবি স্নোডেন কখনোই করেননি। স্নোডেনের কোনো সাক্ষাৎকার, কোনো টুইট, বা স্নোডেনের লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয় যে পত্রিকাগুলোতে, তার কোথাও এ জাতীয় কোনো দাবি নেই।

বরং যা আছে, তা সম্পূর্ণ বিপরীত। অন্যান্য কিছু অনুসন্ধানী সাংবাদিক যেখানে সরকারী ভাষ্যের বিবরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, সেখানে স্নোডেনের প্রকাশিত নথিপত্রের মধ্যে সরকারী ভাষ্যের কিছু কিছু উপাদানের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়।

উদাহরণস্বরূপ, পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক সাইমুর হের্শ দাবি করেন, বিন লাদেনের বার্তাবাহক আবু আহমেদ আল-কুয়েতির উপর নজরদারি করে বিন লাদেনের সন্ধান পাওয়ার বিবরণটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং এক পাকিস্তানী গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় পুরস্কারের লোভে সিআইএর কাছে এসে বিন লাদেনের বাসস্থানের কথা জানিয়ে দিয়ে যায়।

কিন্তু স্নোডেনের ফাঁস করা ডকুমেন্ট থেকে যদিও আল-কুয়েতির মাধ্যমেই বিন লাদেনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল কিনা, তা জানা যায় না, কিন্তু এরকম একজন বার্তাবাহকের উপর যে সিআইএ দীর্ঘদিন যাবৎ নজরদারি করছিল এবং তার গন্তব্যস্থানগুলোতে বিন লাদেনের অস্তিত্ব খোঁজার চেষ্টা করেছিল, তার প্রমাণ ঠিকই পাওয়া যায়।

স্নোডেনের ফাইলগুলো থেকে আরো জানা যায়, সিআইএ ২০০৭ সালে ইরাকে আল-কায়েদার প্রধান আবু আইয়ুব আল-মাসরির কাছে বিন লাদেনের লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করতে পেরেছিল। এছাড়াও বিন লাদেনকে হত্যার পর তার বাসভবন থেকে উদ্ধার করা ফাইলগুলো নিয়ে ব্যাপক গবেষণার সংবাদও উঠে আসে স্নোডেনের ফাঁস করা নথিপত্রগুলোতে।

কিন্তু ঐসব ফাইলে ঠিক কী ছিল, কিংবা সেগুলো বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ কোনো গোয়েন্দা তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল কিনা, তা জানা যায় না। তবে স্নোডেনের ফাইল থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যটি উঠে আসে, তা হলো মার্কিন সরকার আসলেই বিন লাদেনের ডিএনএ পরীক্ষা করেছিল এবং তার ফলাফলও মিলে গিয়েছিল।


# কেউ কি বিন লাদেনের বেঁচে থাকার দাবি করছে?

অ্যাবোটাবাদের অভিযানে (অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার) বিন লাদেন নিহত হয়েছিলেন কিনা, সে বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়, যখন ঘটনার কয়েকদিন পরেই এক বিবৃতির মাধ্যমে আল-কায়েদা নেতৃত্ব ব্যাপারটি স্বীকার করে নেয়। প্রধান নেতার মৃত্যু কোনো সংগঠনের জন্যই সুসংবাদ না, তা প্রচারিত হলে সংগঠনের সদস্যদের মনোবল ভেঙ্গে পড়তে পারে। কিন্তু তারপরেও তারা সেটি স্বীকার করে নিয়েছিল।

বিন লাদেনের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী আইমান আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। গত সাত বছর ধরে জাওয়াহিরি অনেকগুলো অডিও এবং ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যার কোনোটিতেই বিন লাদেন বেঁচে আছেন, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

জাওয়াহিরি একা না, মৃত্যুর কয়েকমাস আগেও বিন লাদেনের সাথে পত্র মারফত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ ছিল, এরকম অনেক আল-কায়েদা নেতাই এখনও বেঁচে আছেন, সিরিয়াতে বিভিন্ন বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করছেন এবং নিয়মিত বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন।

উদাহরণস্বরূপ, আবু মুহাম্মদ আল-জুলানী, যিনি সে সময় আল-কায়েদার ইরাক শাখার গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং পরবর্তীতে আল-নুসরা ফ্রন্টের প্রধান হয়েছিলেন, তিনি ২০১৫ সালেও আল-জাজিরার সাথে টিভি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই নেতাদের কেউই কখনো মার্কিন অভিযানে বিন লাদেনের মৃত্যুর বিষয়টি নাকচ করেননি।


# অ্যাবোটাবাদ কমিশনের রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?

ওসামা বিন লাদেন যে আগে বা পরে মারা যাননি, বরং অ্যাবোটাবাদ অভিযানের সময়ই মারা গিয়েছিলেন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় তার স্ত্রী এবং সন্তানদের স্বীকারোক্তিতে। অ্যাবোটাবাদের ঐ বাড়িতে বিন লাদেন একা ছিলেন না। সেখানে তার তিন স্ত্রী, আট সন্তান এবং পাঁচ নাতি-নাতনিসহ মোট ২৮ জনের বসবাস ছিল।

মার্কিন অভিযানে নিহত হয় পাঁচজন, এর মধ্যে তারা শুধু বিন লাদেনের মৃতদেহ এবং তার কম্পিউটারগুলো নিয়ে চলে যায়, কিন্তু পেছনে রয়ে যায় বিন লাদেনের পরিবারের সদস্যরা, যাদেরকে আটক করে পাকিস্তানি গোয়েন্দাবাহিনী।

অভিযানের পরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়ে আসছিল। তাছাড়া অনুমতি ছাড়াই কীভাবে ভিন্ন একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে প্রবেশ করে এত বড় অভিযান পরিচালনা করে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে, এ নিয়েও পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রচন্ড সমালোচনার ঝড় উঠে। ফলে বিষয়গুলোর তদন্ত করার জন্য পাকিস্তান একটি শক্তিশালী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে, যা অ্যাবোটাবাদ কমিশন নামে পরিচিতি পায়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। ৩০০ জন সাক্ষীর জবানবন্দী এবং প্রায় ৩,০০০ নথিপত্র পর্যালোচনা করার পর তৈরি করা হয় ৭০০ পৃষ্ঠার এ বিশাল রিপোর্ট। পাকিস্তান সরকার রিপোর্টটি প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও আল-জাজিরার অনুসন্ধানী টিম এর একটি কপি পেয়ে যায় এবং তা ফাঁস করে দেয়।

ঐ রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, কমিশন বিন লাদেনের স্ত্রীদেরকে এবং পরিবারের সদস্যদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। বিশেষ করে বিন লাদেনের সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী অ্যামালের দেওয়া স্বীকারোক্তি থেকে নিশ্চিতভাবেই জানা যায়, সে রাতে মার্কিন অভিযানেই বিন লাদেন নিহত হয়েছিলেন। এমনকি তাকে বাঁচাতে গিয়ে অ্যামাল নিজেও গুলি খেয়েছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার বিন লাদেনের স্ত্রী ও পরিবারদেরকে সৌদি আরবের হাতে হস্তান্তর করে। অ্যামাল, যিনি ইয়েমেনের নাগরিক, তিনি সৌদি আরব থেকে পরবর্তীতে ইয়েমেনে চলে যান। তাদের কেউ এখন পর্যন্ত কোথাও বিন লাদেনের পরিণতি সম্পর্কে ভিন্ন কিছু দাবি করেনি।

উপরের সবগুলো আলোচনা থেকে মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ছবি অথবা অন্য কোনো শক্ত প্রমাণ হাজির করেনি, কিন্তু বিভিন্ন সাক্ষ্য এবং অন্যান্য পারিপর্শ্বিক প্রমাণ এটাই নির্দেশ করে যে, বিন লাদেন ২০১১ সালের ২রা মে, মার্কিন অভিযানেই নিহত হয়েছিলেন।


লেখক: মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল রোর বাংলায়।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


House No: 88, 5 Road No. 2, Dhanmondi R/A, Dhaka 1205
Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00