17/12/2025
আজকে অনুষ্ঠিত ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সংস্কৃত বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র।
Sanskrit is the primary liturgical and religious language of Hinduism, Jainism and buddhism.
সংস্কৃত ভারতবর্ষের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা। প্রায় পাঁচ হাজার বছর যাবৎ এ ভাষার চর্চা অব্যাহত রয়েছে। ঋগ্বেদে এ ভাষার প্রাচীন রূপটি পরিদৃষ্ট হয়। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দ ঋগ্বেদের রচনাকাল বলে ধরা হয়। ঋগ্বেদ থেকে উপনিষদের কাল পর্যন্ত এ ভাষা বৈদিক ভাষা নামে পরিচিত। প্রাচীনকালে সাধারণ্যে যে ভাষা প্রচলিত ছিল তাকে কেবল ‘ভাষা’ বলা হতো। পরে সংস্কারের মাধ্যমে গৃহীত হওয়ায় এর নাম হয় ‘সংস্কৃত’ (সম
17/12/2025
আজকে অনুষ্ঠিত ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সংস্কৃত বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র।
14/12/2025
৪৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সংস্কৃত বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন।
12/11/2025
আয়ুর্বেদ-পরিভাষা
পাঠোদ্ধার, অনুবাদ ও সম্পাদনা
ড. সঞ্চিতা গুহ
রথীন্দ্র সরকার
সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
“সত্যমেব জয়তে নানৃতম্”
—মুণ্ডক উপনিষদ (তৃতীয় মুণ্ডক, ষষ্ঠ খণ্ড, শ্লোক ৩)
👉সন্ধি বিচ্ছেদ ও ব্যাখ্যা:
সত্যম্ - সত্য
এব - ই
জয়তে- জয়লাভ করে
না- নয়
অনৃতম্- মিথ্যা/ অধর্ম
🔹 বাংলা অর্থ:
“শুধুমাত্র সত্যই জয়লাভ করে, অসত্য নয়।”
🔹 ইংরেজি অনুবাদ:
“Truth alone triumphs, not falsehood.”
🔹 অর্থব্যাখ্যা:
এই উপনিষদীয় বাণী আমাদের শেখায় যে, সাময়িকভাবে অসত্য জয়ী মনে হলেও, চূড়ান্তভাবে সর্বদা সত্যেরই বিজয় ঘটে। সত্য ন্যায়, ধর্ম ও শাশ্বত নীতির প্রতীক।
24/09/2025
প্রধান প্রধান গীতিকবি ও তাদের কাব্যগ্রন্থ (সংক্ষেপে):
কালিদাস – মেঘদূত : বিরহী যক্ষ মেঘকে দূত করে প্রিয়ার কাছে বার্তা পাঠায়।
জয়দেব – গীতগোবিন্দ : রাধা-কৃষ্ণ প্রেমলীলা, ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণ।
ভরবি – কিরাতার্জনীয়ম্ : মহাকাব্য হলেও গীতিকাব্যের সৌন্দর্য বিদ্যমান।
আমরু – আমরুশতক : শৃঙ্গারিক পদ্যসংকলন, প্রেম ও বিরহের সূক্ষ্ম চিত্রণ।
ভিল্লিভঙ্ক – চৌরপঞ্চাশিকা : মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় প্রেমস্মৃতি প্রকাশ।
ভানুভট্ট – ভানুভক্ত কাব্য : ভক্তিমূলক গীতিকাব্যধর্মী রচনা।
অন্য গুরুত্বপূর্ণ গীতিকবি ও কাব্যগ্রন্থ:
বিল্বমঙ্গল – কৃষ্ণকর্ণামৃত : কৃষ্ণভক্তিমূলক গীতিকাব্য।
কেশবদাস – রাসিকপ্রিয়া : প্রেম ও রসতত্ত্বের গীতিময় ব্যাখ্যা।
ভরতিহরী – শতকত্রয়ী (নীতিশতক, বৈরাগ্যশ
24/09/2025
পঞ্চতন্ত্র – বিষ্ণুশর্মা; পশুদের মাধ্যমে নীতিশিক্ষা; বহু ভাষায় অনূদিত।
হিতোপদেশ – নরায়ণ; সহজ নীতিগল্প; শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী।
বৃহৎ কথামঞ্জরি – ক্ষেমেন্দ্র; বৃহৎকথা অবলম্বনে; রোমাঞ্চকর কাহিনি।
কথাসরিৎসাগর – সোমদেব; ভারতের বৃহত্তম কাহিনিসমগ্র; প্রায় ২২,০০০ শ্লোক।
বেতালপঞ্চবিংশতি – অজ্ঞাত; বিক্রমাদিত্য ও বেতালের ২৫টি রহস্যগল্প।
শুকসপ্ততি – অজ্ঞাত; টিয়া পাখির মুখে ৭০ গল্প; গৃহস্থলী নীতি ও কৌতুক।
বৃহৎকথা – গুণাড্য; প্রাকৃত ভাষায় রচিত; পরবর্তীতে সংস্কৃত রূপান্তরিত।
24/09/2025
সংস্কৃত সাহিত্যের প্রধান ঐতিহাসিক কাব্য
বাণভট্ট — হর্ষচরিতম্ — ৭ম শতক
কালিদাস — রঘুবংশ, কুমারসম্ভব — ৪র্থ–৫ম শতক
কৈয়ট — কৈয়টচরিত — ১১শ শতক
বিলহণ — বিলহণচরিত, বিক্রমাঙ্কদেবচরিত — ১১শ শতক
রত্নাকর — হারবিজয়ম্ — ৮ম শতক (কাশ্মীরের রাজা ললিতাদিত্য মুখতপীড়-এর জয়কীর্তি)
জয়দেব — প্রসন্নরাঘবম্ — ১২শ শতক (রাজা লক্ষ্মণসেনের জয়োল্লাস)
কালহন — রাজতারঙ্গিণী — ১২শ শতক (কাশ্মীরের রাজাদের ধারাবাহিক ইতিহাস; প্রথম ঐতিহাসিক গ্রন্থরূপ কাব্য)
শ্রীহর্ষ — নৈষধচরিতম্ — ১২শ শতক (যদিও কাহিনি-প্রধান, তবে সমসাময়িক ঐতিহাসিক উপাদানও আছে)
জয়সিংহ সিধান্তবাগীশ — জয়পুর-মহাকাব্য — ১৮শ শতক (রাজপুত শাসক জয়সিংহ-এর কীর্তি)
(সংস্কৃত নাটক ও চম্পুকাব্য)
সংস্কৃত নাটকের জনক – ভরত (নাট্যশাস্ত্র রচয়িতা)।
নাট্যশাস্ত্র – নাট্যকলার প্রাচীনতম গ্রন্থ।
নয়টি রস – শৃঙ্গার (প্রেম), হাস্য (রসিকতা), করুণ (বেদনা), রৌদ্র (ক্রোধ), বীর (বীরত্ব), ভয়নক (ভয়), বিভৎস (ঘৃণা), অদ্ভুত (বিস্ময়), শান্ত (শান্তি)।
সংস্কৃত নাটকের তিন প্রধান নাট্যকার –
কালিদাস → অভিজ্ঞানশকুন্তলম, বিক্রমোর্বশীয়ম, মালবিকাগ্নিমিত্রম
ভাস → স্বপ্নবাসবদত্তম, প্রতিজ্ঞানযৌগন্ধরায়ণম
শূদ্রক → মৃচ্ছকটিকম
কালিদাসকে "ভারতীয় শেক্সপিয়ার" বলা হয়।
অভিজ্ঞানশকুন্তলম প্রথম ইউরোপে অনূদিত সংস্কৃত নাটক (স্যার উইলিয়াম জোন্স দ্বারা, ১৮ শতকে)।
চম্পুকাব্য = গদ্য + পদ্যের সমন্বয়।
প্রধান চম্পুকাব্য – শ্রীহর্ষের নৈষধচরিত, আনন্দবর্ধনের গদ্যপদ্যচম্পু।
চম্পুকাব্য মূলত কাহিনিকে অলঙ্কৃতভাবে উপস্থাপন করার জন্য ব্যবহৃত।
নাটক শুধু বিনোদনের জন্য নয়; তা ধর্ম, নীতি ও সমাজশিক্ষা প্রচারের প্রধান মাধ্যম ছিল।
📚 আলোচনা
দৃশ্যকাব্য (নাটক)
সংস্কৃত সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো দৃশ্যকাব্য বা নাটক। নাটকের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল বিনোদন নয়, বরং নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা প্রদান।
প্রধান নাট্যকারগণ
কালিদাস – অভিজ্ঞানশকুন্তলম (বিশ্ববিখ্যাত নাটক), বিক্রমোর্বশীয়ম, মালবিকাগ্নিমিত্রম।
ভাস – স্বপ্নবাসবদত্তম, প্রতিজ্ঞানযৌগন্ধরায়ণম।
শূদ্রক – মৃচ্ছকটিকম (সামাজিক জীবন ও সাধারণ মানুষের চিত্র)।
নয়টি রস (নবরস)
১. শৃঙ্গার (প্রেম)
২. হাস্য (হাস্যরস)
৩. করুণ (বেদনা)
৪. রৌদ্র (ক্রোধ)
৫. বীর (বীরত্ব)
৬. ভয়নক (ভয়)
৭. বিভৎস (ঘৃণা)
৮. অদ্ভুত (বিস্ময়)
৯. শান্ত (শান্তি)
রসতত্ত্বের ভূমিকা
রসতত্ত্ব সংস্কৃত সাহিত্যের এক মৌলিক ধারণা। এটি দর্শকদের মধ্যে প্রেম, করুণা, ভয়, বিস্ময় ইত্যাদি অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। ফলে নাটক কেবল বিনোদন নয়, মানসিক শুদ্ধি ও শিক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
চম্পুকাব্য
চম্পুকাব্য হলো সংস্কৃত সাহিত্যের একটি অনন্য ধারা, যেখানে গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে কাহিনি বলা হয়।
গঠন বৈশিষ্ট্য
গদ্যে বর্ণনা, পদ্যে আবেগ ও কাব্যমাধুর্য।
কাহিনি পরিবেশনে আরও স্বাধীনতা পাওয়া যায়।
সাহিত্য অলঙ্কার ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
প্রসিদ্ধ চম্পুকাব্য
শ্রীহর্ষের নৈষধচরিত ও গদ্যপদ্যচম্পু।
23/09/2025
📌 মহাভারতের ১০টি জনপ্রিয় উক্তি
"যথা কর্ম তথাঃ ফলঃ" — যেমন কর্ম, তেমন ফল।
"অহিংসা পরমো ধর্মঃ" — অহিংসাই সর্বোচ্চ ধর্ম।
"সত্যমেব জয়তে" — সত্যেরই জয় হয়।
"ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ" — ধর্মকে যে রক্ষা করে, ধর্মও তাকে রক্ষা করে।
"মাতৃ দেবো ভব, পিতৃ দেবো ভব" — মা-বাবাকে দেবতা জ্ঞান কর।
"কর্মণ্যেবাধিকারের্তে মা ফলেষু কদাচন" — তোমার অধিকার শুধু কর্মে, ফলে নয়।
"যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত" — যখনই ধর্মের অধঃপতন হয়, তখনই আমি আবির্ভূত হই।
"লোকে সংগ্রহমেবাপি সংপশ্যন্ কর্তুমর্হসি" — সমাজের কল্যাণ ভেবে কর্তব্য কর।
"আত্মানং বিদ্ধি" — নিজের আত্মাকে চিনো।
"ধর্মস্য তত্ত্বং ন নিহিতং গুহায়াম" — ধর্মের সত্য নিহিত থাকে হৃদয়ের গভীরে।
মহাভারতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সাধারণ পরিচিতি
মহাভারত বিশ্বের দীর্ঘতম মহাকাব্য (প্রায় ১,০০,০০০ শ্লোক, ১৮ পর্ব/পার্ব)।
রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস।
কেন্দ্রীয় বিষয়: কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ।
এতে ধর্ম, রাজনীতি, ন্যায়নীতি, জীবনের দর্শন ইত্যাদি প্রতিফলিত।
মহাভারতকে "পঞ্চম বেদ" বলা হয়।
"ইতি হাস" বা ইতিহাস সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।
মহাভারত রচনার সময় বলা হয়, গণেশজি বেদব্যাসের শ্লোক লিখে দিয়েছিলেন।
ভগবদ্গীতা মহাভারতের ভীষ্মপর্বে অন্তর্ভুক্ত।
মহাভারতের মূল বর্ণনাকারী উগ্রশ্রবাঃ সৌতি।
মহাভারতের আদি নাম ছিল "জয়সংহিতা", পরে "ভারত", শেষে "মহাভারত"।
প্রধান পর্বসমূহ
মহাভারতের ১৮ পর্ব রয়েছে।
আদি পর্ব – বংশ ইতিহাস।
সভা পর্ব – যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞ।
বন পর্ব – পাণ্ডবদের ১২ বছর বনবাস।
বিরাট পর্ব – অজ্ঞাতবাস।
উদ্যোগ পর্ব – যুদ্ধের প্রস্তুতি।
ভীষ্ম পর্ব – ভগবদ্গীতা সহ ভীষ্মের যুদ্ধ।
দ্রোণ পর্ব – দ্রোণাচার্যের মৃত্যু।
কর্ণ পর্ব – কর্ণ-অর্জুন যুদ্ধ।
শল্য, সৌপ্তিক, স্ত্রী, শান্তি প্রভৃতি পর্বে যুদ্ধোত্তর কাহিনি।
ভগবদ্গীতা
ভগবদ্গীতা মোট ১৮ অধ্যায় ও ৭০০ শ্লোক।
এটি মহাভারতের ভীষ্মপর্বে।
অর্জুনের মানসিক দ্বন্দ্ব ও কৃষ্ণের ধর্মোপদেশ।
প্রধান শিক্ষাঃ কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ।
"নিজ কর্তব্য পালনই ধর্ম" – গীতার মূল শিক্ষা।
ভগবদ্গীতার শ্রোতা – অর্জুন, বক্তা – কৃষ্ণ।
প্রধান চরিত্রসমূহ
কৃষ্ণ – দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক।
অর্জুন – কুরুক্ষেত্রের প্রধান বীর।
ভীষ্ম – আজীবন ব্রহ্মচর্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কুরুপিতামহ।
যুধিষ্ঠির – ধর্মরাজ, সত্যব্রতী।
ভীম – মহাশক্তিধর, দানববধকারী।
সহদেব – জ্যোতিষশাস্ত্রে পারদর্শী।
নকুল – অশ্বশিক্ষায় দক্ষ।
দ্রৌপদী – পাণ্ডবদের পত্নী।
দুর্যোধন – কৌরবদের জ্যেষ্ঠ, অহংকারী।
কর্ণ – সূর্যপুত্র, দানশীল, করুণ চরিত্র।
বিশেষ তথ্য
মহাভারতে ১৮ দিনব্যাপী যুদ্ধ হয়েছে।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধকে "ধর্মযুদ্ধ" বলা হয়।
মোট ১৮টি অক্ষৌহিণী সেনা অংশ নেয়।
ভগবান কৃষ্ণ পাণ্ডবদের পক্ষ সমর্থন করলেও অস্ত্র ধারণ করেননি।
মহাভারতের এক বিশেষ শিক্ষা – "ধর্ম ও অধর্মের সংঘাত"।
মহাভারতের নারীচরিত্র দ্রৌপদী, কুন্তী, গান্ধারী, সুভদ্রা – নৈতিক শক্তির প্রতীক।
বেদাঙ্গ, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ, রামায়ণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-
✨ প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য সংক্ষিপ্তসার
১. বেদাঙ্গ (বেদের সহায়ক শাস্ত্র)
বেদ অধ্যয়ন ও অনুশীলনের জন্য ছয়টি সহায়ক শাস্ত্র অপরিহার্য, যেগুলোকে সম্মিলিতভাবে বেদাঙ্গ বলা হয়।
শিক্ষা (উচ্চারণবিদ্যা): মন্ত্রপাঠে শুদ্ধ উচ্চারণ, স্বর ও মাত্রা রক্ষা।
ব্যাকরণ: পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী সংস্কৃত ব্যাকরণের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
ছন্দ: বৈদিক মন্ত্রের ছন্দ ও মাত্রা বিন্যাস।
নিরুক্ত: শব্দার্থবিদ্যা; বৈদিক শব্দের ব্যুৎপত্তি।
কল্প: যজ্ঞপদ্ধতি, আচার-অনুষ্ঠানের বিধান।
জ্যোতিষ: শুভ সময় নির্ধারণ, জ্যোতির্বিজ্ঞান।
২. ব্রাহ্মণ
বিষয়বস্তু: যজ্ঞ, আচার ও ধর্মীয় অনুশাসন নিয়ে গদ্য গ্রন্থ।
কার্য: বৈদিক মন্ত্রের অর্থ ব্যাখ্যা ও প্রয়োগবিধি।
ধর্মীয় গুরুত্ব: যজ্ঞ ও পূজার ফলাফল বিশ্লেষণ।
৩. আরণ্যক
অর্থ: "অরণ্যের জন্য পাঠযোগ্য"।
কার্য: গৃহত্যাগী সাধুদের জন্য দার্শনিক আলোচনাপূর্ণ গ্রন্থ।
সংযোগ: ব্রাহ্মণ ও উপনিষদের মধ্যে সেতুবন্ধন।
বিষয়বস্তু: প্রতীকী ব্যাখ্যা, ধ্যান, আত্মচিন্তা ও প্রকৃতির দর্শন।
৪. উপনিষদ
অর্থ: "গুরুর নিকটে বসা"।
সংখ্যা: প্রধান ১১–১৩টি উপনিষদ গুরুত্বপূর্ণ।
মূল দর্শন: ব্রহ্ম (পরম সত্তা) ও আত্মার সম্পর্ক।
উদ্দেশ্য: মোক্ষ প্রাপ্তি, জ্ঞানচর্চা।
প্রধান উপনিষদ: ঈশ, কেন, ছান্দোগ্য, বৃহদারণ্যক, মাণ্ডুক্য, মুণ্ডক।
৫. পুরাণ সাহিত্য
অর্থ: প্রাচীন কাহিনী বা ইতিহাস।
সংখ্যা: ১৮টি মহাপুরাণ ও ১৮টি উপপুরাণ।
বিষয়: দেবতা, সৃষ্টি, রাজবংশ, ধর্মনীতি, পৌরাণিক কাহিনী।
জনপ্রিয় পুরাণ: ভাগবত, বিষ্ণু, শিব, দেবী ভাগবত, ব্রহ্ম পুরাণ।
ধারা: গদ্য ও পদ্যের সংমিশ্রণ।
৬. রামায়ণ (আদিকাব্য)
রচয়িতা – মহর্ষি বাল্মীকি (আদিকবি)।
রামায়ণ – প্রথম মহাকাব্য।
শ্লোক সংখ্যা – প্রায় ২৪,০০০।
কাণ্ড সংখ্যা – ৭টি কাণ্ড: (i) বালকাণ্ড, (ii) অযোধ্যাকাণ্ড, (iii) অরণ্যকাণ্ড, (iv) কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড, (v) সুন্দরকাণ্ড, (vi) যুদ্ধকাণ্ড, (vii) উত্তরকাণ্ড।
মূল চরিত্র – রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন, হনুমান, রাবণ, সুগ্রীব, বিভীষণ।
ভাষা – প্রাচীন সংস্কৃত।
রাম – মর্যাদা পুরুষোত্তম (আদর্শ রাজা)।
সীতা – সতীত্ব, সহিষ্ণুতা ও ধর্মনীতির প্রতীক।
হনুমান – ভক্তি, শক্তি ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
📖 বেদের উৎপত্তি ও শ্রেণিবিভাগ
বিসিএস পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
✅ অর্থ: "বেদ" শব্দের অর্থ জ্ঞান।
✅ সংখ্যা: মোট ৪টি বেদ, ১,০০০ এর বেশি সূক্ত।
✅ ভাষা: বৈদিক সংস্কৃত।
✅ উপনিষদ সংখ্যা: প্রায় ১০৮ (প্রধান ১১টি যেমন—ঈশ, কেন, কঠ, মুণ্ডক, ছান্দোগ্য ইত্যাদি)।
✅ বেদাঙ্গ: ছয়টি (শিক্ষা, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ,জ্যোতিষ, কাল্প)।
✅ দর্শন: বেদান্ত বা উপনিষদ হলো ভারতীয় দর্শনেরমূল উৎস।
✅ বেদকে বলা হয়: "মানব সভ্যতার প্রাচীনতম গ্রন্থসমূহ"।
✅ ঋগ্বেদ: "মানবজাতির প্রাচীনতম সাহিত্য" হিসেবেও খ্যাত।
✅ অথর্ববেদ: চিকিৎসা বিজ্ঞান (Ayurveda)-এর প্রাথমিক ধারণা বহন করে।
ঐশ্বরিক উৎস
ঐতিহ্য অনুযায়ী বেদ ব্রহ্মার মুখ থেকে নিঃসৃত।
প্রাচীন ঋষিদের মাধ্যমে মুখে মুখে (শ্রুতি) প্রচারিত হয়েছে।
শ্রুতি সাহিত্য
বেদকে "শ্রুতি" বলা হয়, কারণ এটি শুনে শুনে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সংরক্ষিত হয়েছিল।
শ্রুতি সাহিত্য মানে—যা শ্রবণ করে অর্জন করা হয়।
📖 বেদের উৎপত্তি ও শ্রেণিবিভাগ
চারটি প্রধান বেদ
১. ঋগ্বেদ
প্রাচীনতম বেদ (প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০–১২০০ অব্দ)।
বিভক্ত: ১০টি মণ্ডল, ১,০২৮টি সূক্ত।
প্রধান দেবতা: ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ।
বৈশিষ্ট্য: কাব্যিক উৎকর্ষ, দার্শনিক চিন্তাধারা।ঐতিহাসিক গুরুত্ব: আর্যদের সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের ছবি।
২. সামবেদ
ঋগ্বেদের স্তোত্রকে সুরারোপ করে যজ্ঞে গান গাওয়ার জন্য ব্যবহৃত।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মূল ভিত্তি।
৩. যজুর্বেদ
যজ্ঞের নিয়মকানুন, মন্ত্র ও আচার-বিধি।
দুই ভাগ: শুক্ল যজুর্বেদ ও কৃষ্ণ যজুর্বেদ।
৪. অথর্ববেদ
গৃহস্থ জীবন, চিকিৎসা, জাদুবিদ্যা, তান্ত্রিক আচার।সমাজজীবনের বাস্তব দিককে প্রতিফলিত করে।
বেদের রচনাকাল (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট)
পূর্ব বৈদিক যুগ (১৫০০–১২০০ খ্রিস্টপূর্ব) → ঋগ্বেদ রচনা।
পরবর্তী বৈদিক যুগ (১২০০–৫০০ খ্রিস্টপূর্ব) → সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ + ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ।
বেদের উপাংশ (Parts of Vedas)
সংহিতা → মন্ত্র ও স্তোত্রসংগ্রহ (দেবতাদের স্তব)।
ব্রাহ্মণ → সংহিতার ব্যাখ্যা, যজ্ঞবিধি ও তাৎপর্য।
আরণ্যক → বনে বসে দার্শনিক আলোচনা ও প্রতীকী যজ্ঞতত্ত্ব।
উপনিষদ → আত্মা, ব্রহ্ম, পরম সত্যের দার্শনিক তত্ত্ব (বেদান্ত)।