15/08/2021
কৃষ্ণ রাজার একটি বিড়ালের ফার্ম ছিল। একদিন দেখতে পেলেন সেখান থেকে অনেকগুলো বিড়াল চুরি হয়ে গেছে। রাজা তখন বিড়াল ধরার জন্য গোপালের কাছে পরামর্শ নিলেন। গোপাল রাজ সভা ডাকলেন। সেখানে ঘোষনা করা হলো, কাল রাজসভায় যারা আসবেন শুধু তাদের বাদে বাকি সকলের তল্লাসী চালানো হবে। অন্য সকলে তল্লাসী দেখতে উৎসুক হয়ে যার যার বাড়িতে থাকলেন। আর বাকি সকলে রাজসভায় উপস্থিত হলেন। রাজসভায় একটি বিড়াল এনে ছেড়ে দিলেন। বিড়ালটি ম্যাও ম্যাও করে ডাক দেওয়ার সাথে সাথে ক্ষিন স্বরে ম্যাও ডাক শোনা গেল। গোপাল কান পেতে শুনলেন। তারপর বললেন বিড়ালের ডাক কোথা থেকে আসছে? উপস্থিত কিছু সংখ্যক বলছে, হ্যা তাই তো, বিড়ালের ডাক মনে হলো। বাকি সংখ্যক নিজেরাই ম্যাও ম্যাও করে ডাকা শুরু করছে। বিচক্ষন গোপাল বললেন ঘটনা কি এরা নিজেরাই ম্যাও ম্যাও ডাকছে কেন? তারা উত্তর দিলেন, দেখুন এ ভারী অন্যায় এই যে বেচারা বিড়াল। তার সঙ্গী-সাথী হারা। তাকে একাকে এখানে ছেড়ে দিয়েছেন। সে একা একা ডাকছে, তার জন্য ভারী মায়া লাগছে। তাই তার সঙ্গে গলা মিলাতে আমরা ম্যাও ম্যাও করে ডাকছি। উপস্থিত বাকী অংশ না বুঝে তাদের কথায় সায় দিয়ে বলছে, একদম ঠিক কথা । এতিম বিড়ালটাকে তার খাচা ছেড়ে এখানে নিয়ে আসেছেন। তার কষ্ট হচ্ছে।আমরা মানুষ হলেও পশুর প্রতি তো অন্যায় দেখতে পারি না। কৃষ্ণ রাজা গোপালের প্রতি ক্ষেপে গিয়ে বললেন, গোপাল এ তোমার ভারী অন্যায়। তুমি এক্ষুনি বিড়ালটাকে জায়গামতো রেখে আসো। বিচক্ষন গোপাল বলল, আমার অন্যায় হয়েছে মহারাজ। আমি এক্ষুনি বিড়ালটাকে রেখে আসছি। তবে আপনার বিড়াল খোজা কি বন্ধ করে দেবো? রাজা বললেন না, তা কেন? বিচক্ষন গোপাল বললেণ ঠিক আছে মহারাজ রাজ সভার সবাইকে শান্ত হতে বলেন। সকলে শান্ত হয়ে বসে রইলেণ। গোপাল বিড়ালটাকে ধরেছেন নিয়ে যাবার জন্য। তখন বিড়ালটা ম্যাও ম্যাও করে ডেকে উঠছে। সেই সাথে গলা মিলিয়ে আরো অনেকগুলো বিড়াল ডেকে উঠলো। গোপাল বললেন, মহারাজ এই এতিম বিড়ালটাতো যেতে চাইছে না, তার সঙ্গীসাথি ছাড়া। রাজসভায় উপস্থিত বিড়াল চোরদের থলে থেকে বেরিয়ে এলো হারিয়ে যাওয়া বিড়াল। সারবস্তুু : নিজের অপরাধ বেরিয়ে যাওয়ার ভয়ে. অপরাধ সমর্থন করা।
@ ইরানী বিশ্বাস