26/03/2026
তার নিথর শরীরটা পড়ে রইল
কোটি টাকার আলোকসজ্জা—
যেন একঝাঁক বৈদ্যুতিক জোনাকিকে জোর করে বন্দি রাখা হয়েছে লোহার খাঁচায়;
মল চত্বরের বুক জুড়ে অনুমতি ছাড়া কোনো ঘাস বেড়ে ওঠে না,
শুধু গড়ে ওঠে কংক্রিটের এক একটা উদ্ধত জ্যামিতিক নকশা।
মাটি এখন সেখানে অপ্রতুল লুপ্তপ্রায় এক প্রত্নতত্ত্ব,
যাকে ঢেকে রাখা হয়েছে আধুনিকতার মেকি মেকআপের আস্তরণে।
প্রকৃতিকেও আমরা প্লাস্টিক সার্জারি করে নতুন রূপে সাজিয়েছি।
সেই অবুঝ কুকুরটি—
সে শুধু চেয়েছিল এক আঁজলা বৃষ্টির আদিম স্বাদ;
কিন্তু বৃষ্টির জলে এখন আর মেঘের ঘ্রাণ নেই,
সেখানে মিশে ছিল মানুষের তৈরি উচ্চ ভোল্টের এক নির্মম মরণফাঁদ।
তার নিথর শরীরটা পড়ে রইল—
মরে গিয়ে সে মানব সন্তানদের আশীর্বাদ করে বলে গেল: “সতর্ক হও, তোমাদের এই আধুনিকায়নের মেকি উজ্জ্বলতা আসলে অন্ধকার।”
মানুষগুলো এখন আর মানুষ নেই,
তারা একেকটা আপডেটেড সফটওয়্যার।
চোখে পিক্সেলের ছানি, হৃদয় তাদের এক টুকরো সিলিকন চিপ;
সহমর্মিতা সেখানে এক ‘ত্রুটি’ যা সিস্টেম থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
তাদের আঙুলগুলো ঘাসের স্পর্শ ভুলে গেছে,
তারা এখন কেবল মসৃণ কাঁচের স্ক্রিনে সুখ খুঁজে।
প্রকৃতি এখন এক রিফিউজি ক্যাম্প—
শহরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে;
মানুষ আর মাটির মাঝে এখন কোনো সেতুবন্ধন নেই,
আছে কেবল অপটিক্যাল ফাইবারের ক্যাবল আর হাই-স্পিড অন্তর্জালের নিঃস্বঙ্গতা।
আমরা হাসি, কিন্তু সেই হাসিতে আনন্দ উথলে ওঠে না,
আমরা কাঁদি, কিন্তু সেই কান্নায় হৃদয় ভিজে না,
আমাদের চারপাশের এই আধুনিকায়ন—
আসলে এক জল্লাদের কসাইখানা,
যেখানে ঝকঝকে নিয়ন আলোর নিচে প্রতিদিন জবাই হয়—
একটি অনুভূতি,
একটি নিরীহ প্রাণ,
একটি বিবেক।
তবুও—
কোথাও হয়তো জন্ম নিচ্ছে
একটি বুনো ঘাস কংক্রিটের ফাটল ধরে।
লেখা: Imran Shaeer