18/07/2026
হলিউড সিনেমা মানেই কল্পনা—এই ধারণাকে একেবারে বদলে দিয়েছিল Interstellar। এই সিনেমার কেন্দ্রে থাকা বিশাল ব্ল্যাক হোল Gargantua শুধু ভিজ্যুয়াল সৌন্দর্যের জন্য তৈরি কোনো CGI নয়, এটি ছিল বাস্তব পদার্থবিজ্ঞানের সমীকরণের ওপর দাঁড়ানো এক বৈজ্ঞানিক নির্মাণ। এই কাজের নেতৃত্ব দেন নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী Kip Thorne।
Gargantua-র ভিজ্যুয়াল তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল একটি বিশেষ সফটওয়্যার—DNGR (Double Negative Gravitational Renderer), যা General Relativity-এর সমীকরণ ব্যবহার করে আলোর পথ গণনা করে। সাধারণ কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মতো এখানে কেবল ছবি আঁকা হয়নি, বরং প্রতিটি আলোর রশ্মি ব্ল্যাক হোলের মহাকর্ষীয় প্রভাবে কীভাবে বাঁকবে, তা নির্ভুলভাবে হিসাব করা হয়েছে। এর ফলেই আমরা সিনেমায় যে অদ্ভুত দৃশ্য দেখি যেখানে ব্ল্যাক হোলের চারপাশে আলোর ডিস্ক উপরে-নিচে বেঁকে যায়—তা আসলে বাস্তব ঘটনারই প্রতিফলন।
এই প্রভাবকে বলা হয় gravitational lensing, যেখানে ব্ল্যাক হোলের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ আলোকে এমনভাবে বাঁকিয়ে দেয় যে পিছনের অংশও সামনে দৃশ্যমান হয়। Gargantua-কে একটি দ্রুত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যার ভর সূর্যের তুলনায় কোটি গুণ বেশি। এই ঘূর্ণনের কারণেই এর আশেপাশে সময় ধীরগতিতে চলে—যা সিনেমার বিখ্যাত time dilation দৃশ্যকে বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব করে তোলে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভিজ্যুয়াল তৈরি করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুনভাবে ব্ল্যাক হোলের আশেপাশে আলোর আচরণ নিয়ে গবেষণার সুযোগ পান। ফলে সিনেমার জন্য তৈরি প্রযুক্তি পরবর্তীতে বাস্তব জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণায়ও ব্যবহৃত হয়েছে।.