31/08/2026
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা বেগমের ঘোষণা অনুযায়ী আসামী গ্রেফতার করার কথা ছিলো ৪৮ ঘন্টার ভেতর ।
আসামী গ্রেফতার হয় নি । এমনকি কে আসামী সেটাও জানা যায় নি ।
সাগর - রুনি*কে হ*ত্যার সময় ৪ বছরের মেঘ বাসায় ছিলো । তাকে খু**ন করা হয় নি ।
বাসার স্বর্ণালংকার লুট হয় নি। টাকা গায়েব হয় নি।
কেবল গায়েব হয়েছে ২ টা জীবন । ২ টা ল্যাপটপ, ২ টা ফোন ।
এই থেকেই মানুষের মনে জিজ্ঞাসা , সেই ল্যাপটপে কি ছিলো ?
সেই হ**ত্যা কান্ডের তদন্ত প্রতিবেদন ১২৯ বার পেছানোর পর এই কেসের নতুন মোড পেলো তদন্তকারীরা।
একজন জিয়াউল আহসান , একজন সার্জেন্ট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে রোকেয়া প্রাচীর নাম উঠে এসেছে সেই তদন্তে ।
মূলত অন্য একটা গু**মের কেইস তদন্ত করতে গিয়ে একটি কল রেকর্ড ডিটেইলস ( CRD) এনালাইসিস করা হয় ।
সেই কল রেকর্ডের সূত্র ধরেই একজন সার্জেন্টকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় ।
সেই সার্জেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হইলে নতুন কিছু তথ্য উঠে আসে ।
"২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ সাগর–রুনি হ**ত্যা কাণ্ডের ঠিক দুই দিন আগে (১১ ফেব্রুয়ারি), তৎকালীন মেজর জিয়াউল আহসান ওই সার্জেন্টকে ডেকে পাঠান।
জিয়াউল আহসান তাকে সতর্ক করেন —
" BE READY ! আগামী দুইদিনের ভেতর বড় কিছু ঘটতে পারে । "
একই সাথে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় রোকেয়া প্রাচী থেকে ২ টা ডিস্ক নিয়ে আসতে ।
তার নির্দেশ অনুযায়ী রোকেয়া প্রাচী থেকে ডিস্ক দুটো নিয়ে আসেন সেই সার্জেন্ট ।
অর্থাৎ এই ডিস্ক আনার ৪৮ ঘন্টার ভেতর সাগর রুনিকে হ*ত্যা করা হয় ।
এই সার্জেন্ট বলছে, শুধু ডিস্ক আনা নেওয়া না বরং রোকেয়া প্রাচীর সাথে এই সার্জেন্টের নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো ।
সেই ডিস্কে কি ছিলো, সেটা তদন্ত ও সময়ের সাথে বের হয়ে আসবে ।
যদি রোকেয়া প্রাচীকে গ্রেফতার করা যায়....
এবার প্রশ্ন উঠতে পারে , রোকেয়া প্রাচী কে?
রোকেয়া প্রাচীকে আমি চিনি মূলত মাটির ময়না মুভির পর থেকে । তিনি একজন অভিনেত্রী , আবৃত্তিকারও সম্ভবত...
তিনি সার্জেন্ট আহাদের প্রথম স্ত্রী ।
কিন্তু মূলত তিনি লাইমলাইটে আসেন সার্জেন্ট আহাদ খু**ন হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আসিফ নজরুল ইসলামকে বিয়ে করে ।
এই আসিফ নজরুল অন্তর্বতীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন ।
কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় ২০১৩ সালে তাদের ডিভোর্স হয় ।
অর্থাৎ যে সময়ে তিনি আসিফ নজরুল ইসলামের স্ত্রী , ঐ একই সময়ে তিনি ' সাগর-রুনি ' হ*ত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত ।
রোকেয়া প্রাচী আওয়ামিলীগের রাজনীতির সাথে তিনি জড়িত অনেক পুরনো সময় থেকে ।
তার বাবা থেকে অনুপ্রাণিত , যে ৮০ এর দশকে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ও একই সাথে মুক্তিযোদ্ধা ছিলো ।
একটা পডকাস্ট ও সমকালের সাক্ষাৎকার দেখলাম,
হাসিনা যে বছর পালাইছে , ঐ বছর ও রোকেয়া প্রাচী ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন করেছেন জনসম্মুখে ।
সাহসের সাথে বলেছিলেন ,
' সবাই পালাচ্ছে । আমি পালাবো না। আমি কেনো পালাবো ? আমি তো কোনো অন্যায় করি নি...
এই মহিলা এখন পলাতক না দেশে আছে তা জানি না।
আশা করি , যেহেতু তিনি কোনো অন্যায় করেন নি , সাহসের সাথেই তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হবেন । এই কেস নিয়ে নতুন তথ্য দিবেন ।
আমরাও দেখতে চাই —
ঠিক কোন কারণে একটা হ*ত্যাকান্ডের ১৪ বছরে ও আসামীকে চেনা যায় নি , ১২৯ বার তদন্ত প্রতিবেদন পেছানো হয়েছে —
আসলে কার স্বার্থ ছিলো এতে....
সংযুক্তি :
যেসব কারণে সাগর রুনীকে হ*ত্যা করা হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়....
১। মেহেরুন রুনি হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড পরিদর্শন করে সেখানকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছিলো ।
সে সব তথ্য এটিএন নিউজে জমা দিলেও তা পাবলিশ করা হয় নি । উল্টো রুনিকে গালমন্দ করা হয় ।
পরে শোনা যায় এই ডাটাগুলো এটিএন নিউজের সার্ভার থেকে গায়েব হয়ে যায় ।
কিন্তু সেসব তখনো রুনির ল্যাপটপে ছিলো ।
কিন্তু সেটাও গায়েব করে দেওয়া হয় রুনিকে হ*ত্যা করে ।
২। বিমানমন্ত্রী ফারুক খানের সঙ্গে সামিট গ্রুপের কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে মেহেরুন রুনী একটি প্রতিবেদন তৈরী করে ।
যেখানে অনেক সংবেদনশীল তথ্য ছিলো । অনেক কিছুই ফাঁস হওয়ার ছিলো ।
এটিএন বাংলা সেই প্রতিবেদন প্রচার করেনি বলে দাবি করা হয় ।
পরে প্রতিবেদনটি মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারের জন্য রুনী তার স্বামীর কাছে সেটি দেয় ।
ওই প্রতিবেদন প্রচারিত হলে ফারুক খান, সামিট গ্রুপ এবং তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসতে পারতো ।
এমনকি এটিএনের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বিষয়টি শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং এতে ফারুক খান ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ।
তার জের ধরেই এই হ*ত্যাকান্ড ঘটে বলে ধারণা করা হয়।
তথ্যসূত্র:
১। আজকের আপডেট গুলা Daily Waada থেকে নেওয়া।
২। সংযুক্তি: তৎকালীন ব্লগ থেকে।