সখা তোমারে পাবো কোথায়?
যেথায় দেবীর রক্তরাঙা চরণে বাসি ফুলে পূজা দেওয়া হয়,
ঘুঙ্গুরের তালে শত দেবতার হৃদ্য দুলুনিতে নেচে উঠে,
এলোকেশের সুবাসে যে তুচ্ছ মানবও নিজেকে রাজকীয় মাতাল ভেবে তুলপার শুরু করে।।
সখা তোমারে পাবো কোথায়?
যেথায় পথিক উল্টো পথে হেটে পাপিষ্ঠ গত্র গঙ্গাস্নানে পাপ মুক্ত করে হয়ে যায় সাধু সন্যাসী।।
সখা এ বেলাও কি হারায়ে যাবা?তবে লিখে যেও ঠিকানা?
সেই তো কেবল গৃহবাস, সেথায় আমার স্বর্গলোক যেইখানে সব অষ্টাদশী লাবণ্যতায় ছায়াবাস,
তুমি বড়ই নিতান্ত,ওসব তুমি বুঝবেনা।
আচ্ছা সখা ফিরবার সময় পুষ্প এনো? খোঁপায় বরং পরিয়ে দিও?
এই যে তুমি তাও জানোনা,
ঐখানে পুষ্প কলিতেই যায় শুকিয়ে,
আহা!ঐ ফুলেতেই যে দেবতার পূজো দেওয়ার নিয়ম;
ঐ পুষ্প কেবলই শিশু কন্যার মতো পবিত্র আর কোমল;
তাইতো দেবতাদের ঐ পুষ্প বড্ড প্রিয়।
কি জানি! আমি কি আর এতো শত বুঝি?
আহা! লক্ষীটি সেজন্যই তো আমার মতো সখারা তোমার মতোই সখী খুঁজি।।
(নাজনীন দীপা)
কবিতা কালেকশন আমাদের কবিতা আমরাই লিখি
Poem & other যারা নিজ মেধায় কবিতা লিখতে পারে ...... তারা admin হওয়ার জন্ন আমন্ত্রিত
বিষয় _ কবিতা
নাম _ সুসময়ের বন্ধু
লেখিকা _ লিপিকা দত্ত সরকার
তারিখ _ 1. 4. 2020
প্রিয় বন্ধুরা বেশিরভাগ বলে,
বিপদ এসেছে এবার ঘরে,
এখন মোরা সরে থাকি দূরে,
সুসময় এলে আসবো ফিরে।
তোমরা কেমন বন্ধু ভাই,
বিপদের দিনে দেখা নাই!
সুন্দর দিনগুলো যখন থাকে,
তখন বলো তোমাকে চাই।
দুঃখের দিনে সবচেয়ে বেশি,
মানসিক দৃঢ় সহযোগিতা দরকার,
এখন দেখি সব প্যান্ট গুটিয়ে,
হয়েছ তোমরা একেবারে পগারপার।
মহাপুরুষেরা সবাই বলে গেছেন,
বিপদের বন্ধু প্রকৃত আপনজন,
সুখের দিনে আর স্বার্থপরদের,
নেই জীবনে কোনই প্রয়োজন।
জন্ম মৃত্যু ঘটছে দেখি,
এই জগতে মোরা সর্বক্ষণ,
আমি কিন্তু খুবই আশাবাদী,
আনন্দময় হবে আবার ভুবন।
ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ অামাদের গাঁ..
কবিতার লেখক কে?
বি:দ্র: ২ মিনিট এর বেশি ভাবা যাবেনা
নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা
করছি।
বাসে উঠেই বরাবরের মত একটা আশা।
না,অন্য সবার মত আমার কোন রমণী পাবার
বাসনা নাই। ছিল ও না। জার্নি টাকে আমি খুব
উপভোগ করি। কারণ আমি আমার
সহযাত্রী কে জ্বালিয়ে ভীষণ মজা পাই।
সহযাত্রীকে বিরক্ত করার
মাঝে যে আনন্দ,এটা তারাই বুঝবেন
যারা কাজটা করেছেন।
বিড়ি খাইয়া বাসে উঠছিলাম। একটা সেন্টার
ফ্রেশ চিবুচ্ছি বাসের জানালার পাশের
সিটে বসে। আর মনে মনে একটা বাসনা, আল্লাহ
যেন একটা আবাল কে আমার ছয় ঘন্টা জার্নির
সাথী করে দেন।
বজ্রপাত। আমার মাথায় বজ্রপাত। নিশ্চয় এই
কথাটা শুনে আপনি থুতনিতে হাত রেখেছেন?
আর
না দিলে এক্ষুণি দিয়ে বসুন। পরের কথা গুলো
শুনুন।
খোলা চুল,লং স্কার্ট আর হাত ভরা চুড়ি নিয়ে ঠন
ঠন করে এক মেয়ে আসলো আমার সামনে।
হাতে মিকি মাউসের একটা পার্স। আহাহা।
তবে আমি কেয়ার করছিলাম না অত। কারণ ওসব
মেয়ে টেয়ে আমি চাই না। আমি চাই একটা আবাল
ছেলে। যাকে জ্বালিয়ে আমি মজা পাবো।
কিন্তু একি?মেয়েটা আমার পাশে বসে গেল। তার
পিংকি পংকি ঠোট টা বাকা করে রেখেছে।
মনে হয় রেগে আছে। যাক, আমি তার রাগের
কারণ
টা অনুমান করতে পারছিলাম না।
মেয়েরা তিনটা জিনিস জীবনে খুব করে চায়।
টাকা ওয়ালা বয় ফ্রেন্ড
কেয়ারিং এবং পারসোনালিটি সম্পন্ন
স্বামী আর
বাসে জানালার পাশে সিট।
কারণ গুলা বুঝেই আমি ছেড়ে দিলাম আমার পরম
আরাধ্য জানালার পাশের সিট। মেয়েটা খুশি হল
না বিরক্ত হলো কে জানে। তবে ঠোট টা এবার
সোজা হয়েছে।
আমি কিন্তু কথা বলতে চাচ্ছিলাম না।
কানে বাজছে শিরোনামহীন এর গান আর
হাতে একটা প্রথম আলো পত্রিকা আমার
সঙ্গী হিসেবে আছে। কিন্তু এটা কেমন
কথা মেয়েটাকে আমি নিজ থেকে ছেড়ে দিলাম
সিট টা, তার পরও সে আমাকে একটা ধন্যবাদ দিল
না। কিসের এত ভাব?
বাস টা ছুটে চলছিল। পিচ ঢালা রাস্তা আর সবুজ
গাছগাছালি গুলো পিছনে চলে যাচ্ছে। উহু,
মেয়েটার কোন খেয়াল ও নাই। আমাকে কেয়ার
ই
করছে না। একটানা দুই ঘন্টা বাস চলছে আর আমার
এদিকে এলার্জী বেড়ে যাচ্ছে। সহ
যাত্রীকে জ্বালাতে পারবো না, এটা কি ঠিক?
ধ্যাত। দীর্ঘ সাতাস মিনিট অফলাইনে ছিলাম,আর
সম্ভব নয়। এই ভেবে ফেসবুকে ঢুকলাম। আর
সেটাই
মনে হয় টারনিং পয়েন্ট। মেয়েটা এবার
তাকালো। কিন্তু আমি অভাগা খেয়াল করিনি।
হটাঠ মেয়েটা তার চিকন সুরে কথা বলা শুরু করলো
-নামটা এত পিকুলিয়ার কেন?(মেয়ে)
-মানে?আপনি আমার নাম জানেন নাকি?
-হুম জানি
কিছুটা ভয়ার্ত গলায় আমার ভেতর টা বলে উঠে
-কিভাবে জানেন??কে আপনি?চিনেন
নাকি আমাকে?
-উফফ.... আপনার ফেসবুকেই তো দেখা
যাচ্ছে।
কি আলেক্সেন্ডার না কি??জীবনে প্রথম
শুনলাম।
এই শুরু আমার ভাব নেয়া। তীব্র কন্ঠে প্রতিবাদ
জানালাম।আমি বলে ঊঠলাম...
-দেখেন, এটা কিন্তু ঠিক না। আপনি আমার
অনুমতি ছাড়া আমার ফোন দেখবেন??
কিছুটা থতমত খেয়ে গেল মেয়েটি। এবার
চুপ্সে গেল। আমিও আর কথা বাড়ালাম না।
যাত্রা বিরতি জিনিসটা খুব উপভোগ করি আমি।
বিশেষ করে পরটা আর সবজি খাওয়ার পর এক কাপ
ধোয়া উঠা চা আর বেনসন সিগারেটে ফুক
দিয়ে আমি খুব মজা পাই।
হাইওয়েতে দাড়িয়ে সিগারেট খাওয়ার মজাই
আলাদা। তো,অনেক্ষণ পর আকাংখিত সেই
যাত্রা বিরতি দিল। আমার পছন্দের কাজ
গুলো সেরে বাসে উঠি। অতঃপর.....
-সিগারেট খান?(মেয়ে)
আমি চুপ।
-কি বলেন...
-বুঝতেই তো পারছেন। আবার আস্ক করার
কি আছে?
-হুম আমিও খাই।
-মানে?
-মানে আবার কি?আমিও খাই।
-জোকিং?
-না। আমি ব্ল্যাক আর মন্ডস খাই।
স্ট্রবেরি ফ্লেভারের মন্ডস ভাল্লাগে
-হুহ..আমার সাথে মজা করছেন ক্যান?
-না, না আমি মজা করবো কেন?
আচ্ছা আমি বলি,ব্ল্যাক খেলে লিপ
টা মিষ্টি লাগে।ঠিক না?
আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। এই মেয়ে সত্যিই
খায়?
খেতেও পারে। গেটাপেই বোঝা যায়
আপডেটেড
মেয়ে।
কিছুক্ষণ নীরবতা। অতঃপর আমিই কথা বলা শুরু
করলাম।
-আপনার বাসা কোথায়?
-পান্থপথ
-তো নোয়াখালি কেন গেলেন?
-বান্ধবীর কাছে।
-বাবা মা একাই ছেড়েছে?
-না, বাসা থেকে রাগ করে বের হয়ে গেছি।
-ও আচ্ছা, কেন?
-বাবা আমাকে বকা দিয়েছিল।
-ও, তা বাবা বকা দিলেই কি বাসা থেকে বের
হয়ে যেতে হবে?
-আমার বাবা সারাদিনই আমার ভাই কে আদর
করে। আমাকে না। আমার মা ও।
-আরে ধুর। ওটা কোন কথা নয়। আপনি কি বড়?
-হুম।
-তাই এ অবস্থা।
-না, তা নয়।
মেয়েটার মুখ এবার ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
আমি বুঝতে পারছিলাম না বিষয় টা কি?
-আমি কি আপনাকে হার্ট করেছি?
-না আসলে তা নয়।
-ব্যাপার টা ঘোলাটে লাগছে আমার কাছে।
-আমার মা নেই। ঘরে সৎ মা। আমি জন্মের সময়
আমার আম্মু মারা গেছে।
স্তব্ধ হয়ে গেলাম আমি। এবার আমার
কাছে কাচের মত পরিষ্কার মেয়েটার লাইফ
স্টোরি। সৎ মা আর সৎ ভাই এর
সাথে থাকে মেয়েটা । জীবন শেষ
মেয়েটার।
বাবা ও অতটা কেয়ার নেয় না।
আমার মনের কথা গুলো কাটায় কাটায়
মিলে গেল। মেয়েটা পরে কথা গুলো বলছিল।
জানালার আধ খোলা বাতাসে মেয়েটার চুল
গুলো উড়ছিল। খুব সুন্দর লাগছিল মেয়েটাকে।
কিন্তু, তার চোখের কোণে এটা কি?
এটা তো পানি। বোঝাই যাচ্ছিল না। সুর্যের
আলোতে চিকচিক করছিল, মনে হচ্ছিল
মুক্তো ঝরছিল।
কথা আর বাড়ালাম না। স্বান্তনা দেয়ার ভাষাও
খুজে পাচ্ছিলাম না আমি। হেডফোন
টা খুলে ফেলা উচিত আমার।
ছোট খাটো কথাতে শেষ হলো আমাদের
যাত্রা।
মেয়েটা চুপচাপ। বাস থেকে নেমেই
কি বুঝে আমি বলে ফেললাম,
-সিগারেট খাবেন?
-এখানে??
-না। কাউন্টারের পেছনে একটা যায়গা আছে।
-হুম খাব।
মেয়েটাকে দাড় করিয়ে রেখে আমি একটা
ব্ল্যাক
সিগারেট আর একটা বেনসন আনতে গেলাম।
দুজন
একসাথে নির্জনে সিগারেট খাচ্ছি। আশ্চর্য
কথা কেউ কারো নামই জানি না।
-আমরা তো কেউ কারো নামই জানিনা। বাই
দ্যা ওয়ে আমি আবির।
-আমি উরষা। আর আপনি আবির
সেটা আমি জানি।
সিগারেটের ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে মেয়েটা
উত্তর
দিল।আমি অবাক হলাম। মেয়েটার
ঠোটে সিগারেট খুব মানিয়েছে।
গোলাপি ঠোটে কালো সিগারেট। আহা।
আমি আরো অবাক হলাম মেয়েটা আমার নাম
জানলো কিভাবে।
-আপনি আমার নাম কিভাবে জানলেন?
-আপনি ফেসবুক ব্রাউজ করছিলেন যে
দেখেছি।
ও, আচ্ছা। সিগারেট শেষ করে পা চাপা দিতেও
জানে মেয়েটা। পাক্কা খোর। মেয়েটার
ফোন
রিং হলো। তার বাবা স্টান্ডে তাকে খুজছে।
আমাকে ধন্যবাদ দিল তাকে কিছু ভালো সময়
উপহার দেয়ার জন্যে। দ্রুত
পায়ে মেয়েটা চলে গেল। আগেই ঠিক করা ছিল
ওর বাবা এসে ওকে নিয়ে যাবে। আমি তাকিয়ে
আছি।
হটাঠ আমার মনে হলো, হায় হায় নাম্বার
টা তো নেয়া হলো না। ধুর।
দুই.
সত্যিই কিছু কিছু পরিচয় ক্ষণিকের হলেও
মনে রাখার মত।
ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম আমি।
বাসা না, মেস। মেসে ফিরেই
জুতো জোড়া খুলে দিলাম একটা অবসাদ ময় ঘুম।
কি এক আজগুবি স্বপ্নে ঘুমটা আরো গভীর
হতে যেয়েও পারলো না।
আমি মেয়েটা কে আবার স্বপ্নে দেখছি। ধুর
ছাই,কোথাকার এক মেয়ে, তার সাথে মাত্র
দেখা হল, তাও বাসে। ক্ষণিকের পরিচয়।
ওকে আমি আবার স্বপ্নে দেখার কি দরকার।
নিজেকে গুটিয়ে রাখি আমি। আমি শুধু
আমাকে ছাড়া আর কাউকে মনে রাখি না।
মনে রাখতে চাইও না। ওই যে একটা গান আছে না,
'আমাকে আমার মত
থাকতে দাও,আমি নিজেকে নিজের মত
গুছিয়ে নিয়েছি'-আমি তেমনই।
ভালো লাগে এভাবে থাকতে।
রাতটা কাটিয়ে দিলাম কোন রকম কাজ টাজ
ছাড়া। প্রতিদিনের মত আজো আমি ব্রাশ করে,
বিড়ি ফুকে পড়ার টেবিলে বসে ফেসবুকিং করছি।
কিন্তু মেয়েটার কথা পড়ছে।
আসলে এটা কে অনেকে ভালোবাসা বলবে,
কিন্তু
না। আমি নিজে খারাপ
হতে পারি,বিড়ি খোর,গাজা খোর
হতে পারি কিন্তু আমি তো এই বাংলার সন্তান।
ওয়েস্টার্ন কালচারের কোন মেয়েকে আমার
ভালো লাগবে কেন?যেই অনুভুতি টা হচ্ছে
আমার
ভেতর সেটা হলো সিম্প্যাথি।
ইসস....মা মারা গিয়ে সৎ মায়ের সাথে বসবাস
টা হয়তো বা খুব কষ্টের। আল্লাহর কাছে হাজার
শুকরিয়া আল্লাহ আমার
মাকে বাচিয়ে রেখেছে ।
আমাকে অভাগা করেনি।
দিন চলে যায় এভাবে। আমিও আমার কাজে ব্যাস্ত
হয়ে পড়ি। ভুলে যেতে থাকি মেয়েটার কথা।
এখন
আর মনে পড়েই না। কিন্তু হঠাৎ এক
সকালে আমি পেপার খুলে দেখি........
'রাজধানীর বেইলী রোডে ইয়াবা সহ ১৬ বছর
বয়সী কিশোরী গ্রেফতার। 'আমি পাত্তা দিলাম
না। আরে এসব ঘটনা তো হরহামেশাই ঘটে।
কেয়ামতের আলামত মনে হয় শুরু হয়ে
গেছে।
পেপার টা বালিশের পাশে রেখে দিই আমি। এসব
খবর পড়তে ইচ্ছা করে না। খবর টা যদি এমন হত
যুবক
বা কিশোর গ্রেফতার,তাহলে আমি পড়তাম। কারণ
সেখানে নিশ্চয় লিখা আছে,
ইয়াবা টা কোথা থেকে আনা হয়েছে।
সেটা জেনে আমার উপকার হতো, কারণ আমিও
জায়গাটার খোজ পেতাম। দু একটা R-7
(ইয়াবা ট্যাবলেট) কিনে রাখতাম। কিন্তু এই
মেয়ের খবরে তো আর সে রকম কিছু
লিখা থাকবে না। হয়তো লিখা থাকবে, 'বয়
ফ্রেন্ড বা কোন বান্ধবী দিয়েছে ',তাই আর
পড়ছি না।
দু দিন পর, বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ। আমার দু
চোখ টিভির পর্দা থেকে কোথাও যায় না। ডিস
লাইন অফ থাকায় আমাদের এখন একমাত্র মাধ্যম
বিটিভি। যেখানে সংবাদে ভরপুর থাকে।
সংবাদ শিরোনাম দিচ্ছিল টিভির একদম নিচের
অংশে।
সেখানে একটা লিখা দেখে আমি চমকে গেলাম।
'উরষা নামে এক কিশোরী পাচ
টা ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার। হ্যা??কি?এ
কোন উরষা?আমার সেই সহযাত্রী নয় তো?
এসব
প্রশ্ন গুলি আমার মাথার মগজে ঘুরপাক খাচ্ছিল।
দৌড় দিয়ে রূমে গেলাম। পেপার
টা নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়া শুরু করলাম।
হুম,মেয়েটার বাসা পান্থপথ। বাবা মার অবহেলায়
তার এ অবস্থা হয়েছে। সবই তো মিলে যাচ্ছে।
মেয়েটা এখন রমনা থানায় বন্দী আছে। আমার
ভেতরের সত্ত্বাটা আমাকে বলছে -'আবির ইউ
হ্যাভ টু গো '
কিন্তু আমি যাব না। ভয়ে।
ওখানে গেলে তো আমাকে পুরে দিবে চৌদ্দ
শিকে। আমিও তো একই গোয়ালের গরু।
খোর।
না,তাও যাবে। দেখি বের করা যায় কিনা।
ওখানে গিয়ে তো আমার আরো বিপদ। ঢুকতেই
দিচ্ছিল না। পরে অনেক কষ্টে ঢুকলাম। কিন্তু
উরষার আর কোন বায়োডাটা তো আমার
জানা নাই।
তাও কন্সটেবল কে বললাম, মেয়েটা ইয়াবা খায়।
কিছু ঘুষ টুশ দিয়ে আমি মেয়েটার
সাথে দেখা করতে পারলাম। হ্যা, এ তো আমার
সেই সহযাত্রী।
তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম,সেই একই
কথা। সে বাচতে চায় না। সে পারছে না এ
যন্ত্রণা ময় জীবন কাটাতে।
নিজের জমানো কিছু টাকা আর বন্ধু বান্ধবের
থেকে ধার করা কিছু
টাকা নিয়ে আমি তাকে ছাড়িয়ে আনি থানা
থেকে।
হুহু করে কেদে দেয় সে। সে বাসায় যাবে না।
আর
যাবেই বা কিভাবে.....পশু বাপ টা একটা বার
তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল না। আর আমিই
বা কে? আমি তাকে নিয়ে এত
চিন্তা করবো ক্যান.??তার পরও
মানবতা বলে কথা। অনেক
ভেবে চিন্তে আমি তাকে দিয়ে আসলাম
পুনর্বাসন কেন্দ্রে। তাও নিজ পকেটের টাকায়।
জানতে পারলাম মেয়েটা ইন্টারমেডিয়েট ফার্স্ট
ইয়ারের ছাত্রী।
এক মাস হলো মেয়েটা পুনর্বাসন কেন্দ্রে
আছে।
যতটুক জানি,মেয়েটা ভালো হবার পথে আছে।
আমি গেলেই মেয়েটা কেদে দেয়। কিছু
বলতে চায়
আমাকে কিন্তু বলে না। আমিও তাকে কি যেন
একটা বলতে চাই। বলা হয় না।
দীর্ঘ ছয় মাস পর মেয়েটা কে রিলিজ
দেয়া হলো সেখান থেকে। আশ্চর্য কথা, তার
বাবা একটি বারের জন্যও তার খোজ নেয় নি।
আমি যতটুক জানি,মেয়ের বাবা মা সবাই দেশের
বাইরে চলে গেছে। বাবা,সেতো বাবা নয়। আর
মা তো সৎ মা।
এই
মুহূর্তে আমি মেয়েটাকে নিয়ে কি করতে পারি?
আমি উদ্দেশ্যহীন। মেয়েটার সাথে নিজের
জীবন
জড়িয়ে
আমি দিধাগ্রস্থ।এই মুহুর্তে আমার অবশ্য অত ভয়
করছে না। কারণ মেয়েটা আমার পাশেই
বসে আছে। কোন এক অজানা কারণে সে
আমার
হয়ে গেছে। হাতে হাত
জড়িয়ে বসে আছি আমি আর ও। কিন্তু
ভালোবাসা বাসি হয়ে উঠেনি এখনো।
মেয়েটা স্বপ্নাহত, আশাহত। এই সময়ে
মেয়েটার
পাশে আমি ছাড়া কেউ নেই। নেই তার কোন
বন্ধুবান্ধব। হয়তো দূর আকাশের
তারা হয়ে তাকে দেখছে তার মা।
এই মেয়েটার চেহারা খারাপ হয়ে গেছে।
কালো হয়ে গেছে। এলোমেলো হয়ে
আছে চুল।
ভীষণ খারাপ লাগছিল তাকে। আমার সহ্য হচ্ছিল
না। আমি যে তার প্রেমে নিংড়ে গেছি।
নিংড়ে নিংড়ে প্রেম খাচ্ছি। চুপচাপ
বসে ছিলাম।মেয়েটা কথা বলা শুরু করলো......
-আবির....
-হুম বলো
-আমি এখন কি করবো?
-আমি বুঝতে পারছি না ।
-আমাকে বিয়ে করবে?
-এই মুহুর্তে সম্ভব না উরষা । আমি এখনো
স্টুডেন্ট।
-তাহলে আমার মরণ ছাড়া কোন উপায় নেই।
-কেন??আমি তোমাকে বাচাবো।
-দরকার নেই তো।
-না দরকার আছে।
আমি যে ভালোবাসি তোমাকে।
ছয় মাসের না বলা কথাটা আমি বলেই দিলাম
উরষাকে। তার চোখ মুখে আলোর
আভা দেখতে পাচ্ছি আমি।
আমাকে জড়িয়ে ধরে হুহু
করে কেদে ফেলে মেয়েটা। তার প্রথম
কথা,
'সে আর খারাপ পথে যাবে না। '
আমার ও আজ চরম খুশির দিন। আমার মত অসভ্যের
দ্বারা একটা মেয়ে ফিরে আসলো সুস্থ
জীবনে। খুব
স্বপ্ন ছিল আমার,আগে প্রেম করবো,তার পর
বিয়ে।
কিন্তু এ মেয়েটার স্পর্শ আমাকে বদলে দিল।
মেয়েটাকে বিয়ে করে তবেই তার সাথে
প্রেমম
করতে হবে। নইলে যে মেয়েটা কষ্ট পাবে।
পরিবারের সবাইকে অনেক বুঝিয়ে রাজী করালাম
আমি।মেয়েটাকে বিয়েও করে ফেললাম
সাদামাটা ভাবে। এখন মেয়েটা থাকে আমার
গ্রামের বাড়িতে, আর আমিও রবিঠাকুরের মত
বিয়ের পর সম্মান পাস করার পরম
ইচ্ছা নিয়ে শহরে চলে আসি। প্রতি পনের
দিনে একবার বাড়ি যাওয়া হয় আর ইয়াবার
বদলে আমাদের
উঠোনে চাদনী রাতে বসে চা বিস্কিট খাই
আমরা।চাদের আলো গায়ে মেখে মেয়েটার
রূপ
সোণালী হয়ে যায়। আমার আঙুল দিয়ে তার
চুলে বিলি কেটে দিই। সে আমার
কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে,সে ঘুমে
হয়তো
বা রাত ও পার হয়ে যায়।
ভালবাসা অপরাধ নয়, ভালবাসা থেকে
পালিয়ে বেড়ানো অপরাধ।
ভালবেসে হেরে যাওয়াও দুঃখের না।
বরং ভালবেসে নিজেকে হারিয়ে
ফেলা দুঃখের-কষ্টের।
ভালবাসুন, ভাল থাকুন, ভাল রাখুন।
ঝরঝর বরিষে বারিধারা।
হায় পথবাসী, হায় গতিহীন, হায় গৃহহারা ।।
ফিরে বায়ু হাহাস্বরে,ডাকে কারে জনহীন অসীম
প্রান্তরে -----
রজনী আঁধারা।।
রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না..
কেন মেঘ আসে হৃদয়-আকাশে, তোমারে
দেখিতে দেয় না?।
ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে
পাই দেখিতে
হারাই-হারাই সদা হয় ভয়, হারাইয়া ফেলি
চকিতে ॥
কী করিলে বলো পাইব তোমারে, রাখিব
আঁখিতে আঁখিতে।
এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ, তোমারে
হৃদয়ে রাখিতে?
আর কারো পানে চাহিব না আর, করিব হে
আমি প্রাণপণ--
তুমি যদি বল এখনি করিব বিষয়বাসনা বিসর্জন ॥
আমি ময়নামতীর শাড়ি দেব, চল আমার বাড়ি
তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেবো, চুড়ি বেলোয়ারী
তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেবো, কল্মিলতার বালা
গলায় দেবো টাট্কা তোলা ভাঁট ফুলেরই মালা
রক্ত-শালুক দিব পায়ে, পরবে আল্তা তারি।
হলুদ-চাঁপার বরণ কন্যা এস আমার নায়
সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাব ওই গায়
ঠোঁটে দিব রাঙা পলাশ, মহুয়া ফুলের মউ
বকুল ডালে দাকবে পাখি, বউ গো কথা কও
আমি সব দিব গো, যা পারি আর যা না দিতে পারি।।
কাজী নজরুল ইসলাম
শুনেছি সুখেই বেশ আছো, কিছু ভাঙচুর আর
তোলপাড় নিয়ে আজ আমিও সচ্ছল, টলমল
অনেক কষ্টের দামে জীবন গিয়েছে জেনে
মূলতই ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্জ্বল
--------------হেলাল হাফিজ
আমার যাবার সময় হল দাও বিদায়
মোছ আঁখি দুয়ার খোল দাও বিদায়।।
ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে
ঝরে ধুলায় ভোর বেলাতে
আমায় তারা ডাকে সাথী আয়রে আয়
সজল করুণ নয়ন তোলো দাও বিদায়।।
অন্ধকারে এসেছিলাম থাকতে আঁধার যাই চলে
ক্ষণেক ভালবেসেছিলে চিরকালের নাই হলে
হল চেনা হল দেখানয়ন জলে রইল লেখা
দর বিরহী ডাকে কেকা বরষায়
ফাগুন স্বপন ভোলো ভোলো দাও বিদায়।।
কাজী নজরুল ইসলাম
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Savar
Dhaka
1344