মিলনতত্ত্ব - Sisters Only

মিলনতত্ত্ব - Sisters Only

Share

This is the official page of the Bangladeshi Facebook community Group- "মিলনতত্ত্ব (Sex Education & Solution)"

05/06/2026

If you breastfed your baby for one year,

~your body used over 180000 calories making milk.

~you transferred antibodies, immune cells & hormones to your baby.

~you made over 260 litres of milk.

~you supported your baby’s gut health and micro biome development.

~you lowered your own lifetime risk of breast & ovarian cancer.

~breastfeeding for one year is estimated to take around 1800 hours almost equivalent of a full-time job.

so, congratulations mama! you did beyond amazing! you’re stronger than you know!❤️

©Chowdhury Saima

05/06/2026

আমি একজন মাকে চিনি। যেই মা তার একমাত্র পুত্র সন্তানকে বিয়ে করিয়ে, ছেলের বউকে শুধুমাত্র বাসার মেইড হিসেবে ট্রিট করতো।

নববিবাহিত দম্পতি মানে ছেলে এবং ছেলের বউ একসাথে হলেই,সে মুখ কালো করে ফেলতো এবং মাঝে মধ্যে বুকফাটা চিৎকার আর আহাজারি করতো যে, তার ছেলে পর হয়ে গেছে গা।

নিজের মেয়ের ঘরের সন্তানদের আদর কমে যাবে বলে, ছেলের প্রথম সন্তানের ভ্রুণ হত্যার মতো মহা পাপ করতেও তার বুক কাঁপে নাই। ছেলে ছেলের বউকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোর্স করে বউকে এবরশন করাতে বাধ্য করে।

কাজের লোক না রেখে ছেলের নতুন বউকেই বাধ্য করতো গৃহস্থালি ঘরের সব কাজ করতে।
এর আড়াই বছর পর ছেলের বউয়ের সন্তান জন্ম হলে, সন্তানসহ তাকে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং আলাদা থাকতে বলে।
এবং ওই মহিলা তার মেয়ের কাছে থাকতে শুরু করে, এবং মেয়ের সংসার দেখভালের দায়িত্বে থাকে। তার নিজের স্বামীর সাথেও সম্পর্ক শেষ করে দেয় শুধুমাত্র নিজের জেদের বশবর্তী হয়ে।

তো এরপর,এর অনেক কাল পর যখন মেয়ের সাথেও তার বনিবনা হয় না এবং ছেলের সাথে থাকতে আসে, তখন ছেলের বউ প্রথমে কিছুটা সহ্য করে নিলেও,পরের দিকে অতিষ্ঠ হয়ে যায় তার কথার অত্যাচারে।

মানে অবস্থা এমন পর্যায়ে যায় যে, ছেলের বউকে বাচ্চাসহ বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়।
এরপর আবার ছেলে তার বউকে ফিরিয়ে আনে এবং সংসার শুরু করে।ওই মা আবার তার মেয়ের সাথে থাকতে শুরু করে। ওই সংসারেও কিছু দিন পর পরই সে একটা করে অশান্তি সৃষ্টি করে।

তখন কেউ তার দায়িত্ব নিতে চায় না। অন্যদিকে " মা" নামের এক মহান আবেগের সামনে দাঁড়িয়ে সবাই দ্বিধা দ্বন্দ্বে আত্মগ্লানিতে ভুগে। মহিলার মেয়ে বড় চাকরি করে এবং তার বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে হবে বলেই, মেয়ে তার কাছে মাকে রাখে।
কিন্তু সেখানেও সে রোজ মেয়ে আর মেয়ে জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়ার উপাদান তৈরি করে।

অদ্ভুত বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে তারা কেউই ঐ মাকে মানসিক রোগী হিসেবে অন্যদের কাছে প্রকাশ না করে বরং গোপন করে গেছে। এতে করে ওই নারী তার রাগ ক্রোধ ইচ্ছে মতো প্রকাশ করতো সবার উপরে।

এই যে ঘটনা, ধরেন এরপর,এর অনেক গুলো বছর পরও,ওই মহিলা যদি সে না শোধরায়, কোনো রকম অপরাধবোধে আক্রান্ত না হয় বরং নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু করে, এবং সবাই তার দিক থেকে মুখ সরিয়ে নেয়, কেউ তার সাথে থাকতে না চায়,এবং মহিলাটি যদি একা হয়ে যায়, তাহলে আসলে দোষটা কার?
একা ঘরে যদি সে যদি মরে পরেও থাকে, তাহলে কার উপর দোষ চাপিয়ে দেয়া যায়, বলুন তো?

04/06/2026

গরমের তীব্রতায় প্রেগন্যান্ট মায়েদের একটু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। এই সময়ে সুস্থ ও সতেজ থাকতে যা করতে পারেন -

✅​দিনে অন্তত ২.৫ - ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

✅​ বডি হাইড্রেটেড রাখতে ডাবের পানি, লেবুর শরবত, বাসায় তৈরি ফলের রস এবং চিনি ছাড়া লাচ্ছি খেতে পারেন।

✅তরমুজ, শসা, লাউ, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও সবুজ শাকসবজির মতো পানিসমৃদ্ধ সহজে হজম হয় এমন সব খাবার খান।

✅​চা, কফি এবং সফট ড্রিংকস avoid করুন।

✅অতিরিক্ত তেল, মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিন।

✅​ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন। এতে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং গরম কম লাগে।

✅​দিনে অন্তত একবার বা প্রয়োজনে দুবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করুন। তবে দীর্ঘসময় পানিতে ভিজে থাকবেন না।

✅ঘামাচি বা ত্বকের র‍্যাশ এড়াতে শরীর সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।

✅ঘেমে যাওয়া পোশাক দ্রুত বদলে ফেলুন।

✅দিনের সবচেয়ে গরম সময়টাতে (দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা) ঘরের ভেতরে ফ্যান বা এসির ঠান্ডা বাতাসে থাকুন।

✅হুট করে এসি থেকে বের হবেন না। এসি অফ করে ঘরের টেম্পারেচার নরমাল করে এরপর বাহিরে বের হন।

✅​এসি না থাকলে ঘরের জানালা খুলে দিয়ে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, তবে সরাসরি রোদের তাপ যেন ঘরে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

✅খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

✅বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, সানগ্লাস এবং চওড়া হ্যাট ব্যবহার করুন।

✅বাইরে হাঁটার জন্য আরামদায়ক ও ফ্ল্যাট জুতো বা স্যান্ডেল পরুন।

✅গরমের অস্বস্তিতে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। তাই মন শান্ত রাখতে কুরআন ও হাদীসের বই পড়ুন এবং নিজের পছন্দের কাজ করুন।

✅​দুপুরে খাওয়ার পর অন্তত ১-২ ঘণ্টা এবং রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

✅ঘুমানোর সময় পায়ের নিচে একটি নরম বালিশ দিয়ে পা কিছুটা উঁচিয়ে রাখুন। এতে পায়ের ফোলা ভাব ও ক্লান্তি কমবে।

✅​গরমের এই সময়ে কোনো ধরনের শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অবহেলা না করে তাৎক্ষণিক নিজের গাইনী ডক্টরের পরামর্শ নিন।

ইশরাত জাহান তৃষা
প্রিনেটাল এসোসিয়েট
রৌদ্রময়ী স্কুল

04/06/2026

"প্রতি মাসে স্ত্রীকে কিছু হাত খরচ দিবে এবং পরে ঐ টাকার কোনো হিসাব নিবেনা।
জিজ্ঞাসাও করবে না কোথায় খরচ করেছে।
আল্লাহ তাআলা যার যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন সেই হিসাবে স্ত্রীর জন্য একটা মাসিক পরিমান নির্ধারণ করে নেবে। আর তাকে বলে দিবে তোমার যে কাজে ইচ্ছা খরচ কর।আমি এ ব্যাপারে কোনো হিসাব চাইব না। ”

(কথাগুলো মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. কামালাতে আশরাফিয়া কিতাবে লিখেছেন।)

এই মাসিক পকেট খরচ স্ত্রীর হক।
কারন সে ঘরে থাকে,উপার্জন করতে পারেনা।
যখন ভাই বোন আসে তাদেরকে কিছু হাদিয়া দিতে মন চাইতে পারে।
যদি স্ত্রীর নিকট কিছুই না থাকে তবে সে কোথা থেকে দেবে? তারও মন চাইতে পারে মাঝেমাঝে স্বামীকে কিছু দিতে বা গোপনে কিছু পরিমান সাদাকা করতে।

সে আপনার জীবনসঙ্গীনি।
আপনার দরজার বাইরে যেতে পারেনা।
সে জীবন ভরে আপনার সঙ্গ দিচ্ছে,তার সুখ শান্তি আবেগ অনুরাগের খেয়াল রাখা আপনার কর্তব্য।

- মাওলানা শাহ আবদুল মতীন বিন হুসাইন

©আত-তারতীল একাডেমী

▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁

পরিচিত অপরিচিত অনেক ভাইবোনই আমার হাজবেন্ড বা আমার সাথে নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্কের কথা, সমস্যা ও জটিলতার কথা শেয়ার করেন৷ কিছু ব্যাপার আমরা নিজেরাই আমাদের আশেপাশের পরিবারগুলোতেও ঘটতে দেখেছি। এবং এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে বুঝতে পেরেছি যে এমন কিছু আচরণ আছে যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়েজ নয়, কিন্তু কাজগুলো দৃষ্টিকটু বা কষ্টদায়ক, যার ফলে পরিবারের সুখশান্তি কমে যায়।

যেমন - এরকম একটি ব্যাপার হলো-- স্ত্রী কে প্রয়োজনীয় হাতখরচ না দেয়া। কিংবা স্ত্রীর হাতে কোনো টাকা না দেয়া। (এবং আমি সেইসব মুসলিম পরিবারের কথা বলছি, যেখানে স্ত্রীরা স্বামীর বাধ্য। যারা সাংসারিক দায়িত্বেই কমবেশি সারাদিন কাটিয়ে দেয়। বাইরে গিয়ে জব করে না, বা তাদের আলাদা কোনো ইনকাম সোর্স নেই।)

উক্ত সংসারে স্বামী হয়তো স্ত্রীর প্রয়োজন মাফিক সবকিছুই সামনে হাজির করছে। খাওয়াদাওয়া, বাসাভাড়া, কাপড়চোপড়, ওষুধপত্র সবই এনে দেবে; কিন্তু স্ত্রীর হাতে একটি টাকাও দিতে নারাজ। কোনো যুক্তি বা কারণ ছাড়াই তারা স্ত্রীকে এভাবে ট্রিট করে। অনেকে আছে -- হয়তোবা স্ত্রীর হাতে খরচাবাবদ কিছু টাকা দেবে ঠিকই, কিন্তু পরে আবার সেই টাকার হিসাব নেবে কড়ায়-গণ্ডায়৷ এই ধরণের বৈবাহিক সম্পর্ক একজন নারীকে যথেষ্ট চাপের মুখে রাখে। তার মন স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে ওঠে। এবং এ কথা মনে হওয়া তার জন্য মোটেও অস্বাভাবিক না যে -- স্বামী তাকে বিশ্বাস করে না, বা তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

আমাদেরকে একটা বিষয় বুঝতে হবে -- দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আস্থা। স্বামী সংসারের কর্তা, এই জন্য যদি সে মনে করে যে স্ত্রীর ওপর ইচ্ছামতো ছড়ি ঘোরাতে পারবে, বা "আমি তো সব দেখেশুনেই রাখছি, বউর হাতে টাকা দেয়ার কী দরকার!" কিংবা "মেয়েদের হাতে টাকা থাকলে তাদের বাইড় বাড়ে" ইত্যাদি... এই মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গী সংসারের জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহ তা'আলা পুরুষকেই ভরণপোষণের দায়িত্ব দিয়েছেন, ফলে সে পরিবারের জন্য টাকা কামাই করে৷ আর একইভাবে নারীরা যারা আল্লাহর বিধানের কদর করে, তারাও এই দায়িত্ব স্বামীর ওপর ছেড়ে দিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। এখনকার অনেক প্র‍্যাকটিসিং মুসলিম নারী আছে, যাদের নিজেদের উচ্চশিক্ষা বা কাজ করার দক্ষতা আছে, চাইলেই তারা ঘরের বাইরে গিয়ে টাকা উপার্জন করতে পারতো। কিন্তু আল্লাহর বিধানের কদর করে বিধায় স্বামীর পাশাপাশি নিজেরাও জব করতে নেমে যায় না। প্রয়োজন ছাড়া উপার্জনের কাজে জড়িত হয় না। সংসারের খেদমতে বিনামূল্যে শর্তহীনভাবে নিজেকে পুরোপুরি উজার করে দেয়। এই যে আল্লাহর কথা মেনে নিয়ে স্বামী-সংসারের প্রতি একজন স্ত্রীর নি:স্বার্থ ইনভেস্টমেন্ট -- এমন স্ত্রীকে কদর করতে পারাই বুদ্ধিমান স্বামীর বৈশিষ্ট্য। স্ত্রীর প্রতি মনোভাবটা যেন এমন না হয়, "সারাদিন ঘরে বসে কী করো" বা, "টাকা তো আমিই কষ্ট করে কামাই করি, তুমি তো কামাই করো না তাইলে তোমারে দিব কেন?"

অনেক পুরুষলোক আছে, যারা স্ত্রীর বেলায় টাকা খরচের ক্ষেত্রে এতটা হিসেবী যে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কটা ভালোবাসার সম্পর্কের বদলে যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়। স্বামীর কত ইনকাম স্ত্রী জানেও না বা স্ত্রীকে জানতে দেয়া হয় না, স্ত্রীর কাছে গোপন করে স্বামী তার সব টাকা অন্যান্য নানান খাতে খরচ করে, স্ত্রীকে তার প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে গড়িমসি করে -- এসব পরিস্থিতিতে দেখা যায়, একসময় স্ত্রীরাও স্বামীর থেকে টাকা হাসিল করার জন্য ডেসপারেট হয়ে ওঠে। মিথ্যা বলে, ঝগড়াঝাটি করে বা চাপ দিয়ে টাকা আদায় করে নেয়। দিনকে দিন সম্পর্কটা হয়ে যায় বিষের মতো। কড়ায়-গণ্ডায় স্ত্রীর থেকে হিসাব নেয়া আর যেকোনো উপায়ে স্বামীর থেকে আদায় করে চলতে হয় যে সংসারে, সেখানে আর যা-ই হোক সুখ থাকে না।

স্ত্রীর হাতে নিয়মিত টাকা দেয়া, সামর্থ্য অনুযায়ী তার পরিবারের দেখভাল করা, খরচাবাবদ দেয়া টাকার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ না করা -- এ কাজগুলোর মাধ্যমে সহজেই স্ত্রীর মনজয় করা যায়। এ কাজগুলো স্বামীর ওপর ফরয তা না, তবে উত্তম বৈশিষ্ট্য এবং অসামান্য সওয়াবের কাজ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

"তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম।" (তিরমিযী: ১১৬২)

"সাওয়াবের আশায় কোনো মুসলিম যখন তার পরিববার-পরিজনের জন্য খরচ করে, তা তার জন্য সাদাকা হিসেবে পরিগণিত হয়।" (বুখারী: ৪৯৬০/৫৩৫১)

"কোনো দিনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ, কোনো দিনার তুমি ব্যয় করেছ ক্রীতদাসকে মুক্ত করার জন্য, কোনো দিনার তুমি সাদাকা করেছ মিসকীনের জন্য এবং কোনো দিনার তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। সাওয়াবের দিক থেকে সর্বোত্তম হল যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করেছ।" (মুসলিম: ২২১০)

তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা ব্যয় করবে, আল্লাহ তাঁর প্রতিদান তোমাকে দেবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দিবে এর প্রতিদানও আল্লাহ তোমাকে দেবে।" (বুখারী: ২৫৯১)

চিন্তা করুন, স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়া এক লোকমার জন্যেও সওয়াব আছে। আর স্ত্রীর হাতে টাকা দেয়ার জন্য সওয়াব থাকবে না?

এমন অনেক ঘটনা দেখেছি, যেখানে স্ত্রী তাকে দেয়া হাতখরচার টাকা জমিয়ে উল্টো স্বামীর বিপদের সময় সাহায্য করেছে। মাসিক খরচের টাকা নিজের শখ পূরণের পিছে ব্যয় না করে উল্টো স্বামীর পরিবারের জন্য উপহার কিনে এনেছে। এর মানে অবশ্যি এই না যে, স্ত্রীকে টাকা দিয়ে স্বামীরা মনে মনে তার কাছ থেকে এগুলো প্রত্যাশা করা শুরু করবে৷ স্ত্রীর হাতে কিছু টাকা স্বামীর এমনিতেই রাখা দরকার, যেহেতু টাকার জরুরত পাগলেরও আছে৷ কেন দরকার, কোন কাজে দরকার -- সেটা পয়েন্ট বাই পয়েন্ট উল্লেখ করা এই আলোচনার উদ্দেশ্য না, এক এক জনের কাছে সেটা এক একরকম হতে পারে। তবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন যেকোনো মানুষই বারবার অন্যের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিতে লজ্জাবোধ করবে। সে বাইরে কাজ না করে ঘরে বিনামূল্যে শ্রম দিচ্ছে। এজন্য তাকে যেন লজ্জিত হতে না হয়৷ স্বামীর কাছ থেকে কটু কথা, অপমানজনক উক্তি শুনতে না হয়৷

স্বামী যখন স্ত্রীকে ভালোবেসে এই কাজটুকু করবে, অর্থাৎ তাকে নিয়মিত হাতখরচ, বা তার কাছে সামর্থ্য অনুযায়ী মাসিক একটা এমাউন্ট দিয়ে রাখবে, তখন স্ত্রী বাইরে কাজ না করেও স্বাধীনভাবে খরচ করার আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এবং খুটিনাটি খরচের জন্য অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে না বা সামান্য ব্যাপারে কৈফিয়ত দিয়ে স্বামীর থেকে চেয়ে নিতে হচ্ছে না বলে স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ বোধ করবে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তো এমনই হওয়া উচিত -- মধুর, ভালোবাসার। প্রতিযোগিতার নয়, সম্মান, মমতা ও সহযোগিতার। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবার সংসারকে সুন্দরভাবে হেফাজত করুক, আমীন।

- Anika Tuba

▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁

আপনি যদি চান আপনার স্ত্রীকে রাণীর মতো রাখতে, তাহলে আগে তো আপনাকে ‘রাজা’ হতে হবে।

আপনি যদি চান আপনার স্ত্রী অনেক পর্দানশীন হোক, মাহরাম-গায়রে মাহরাম মেনে চলুক, তাহলে আপনাকে অবশ্যই সেটা মানতে হবে; স্ত্রীর জন্য সেই পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।

আপনি যদি চান আপনার স্ত্রী আপনার সাথে সম্মান দিয়ে কথা বলুক, তাহলে অবশ্যই আপনাকেও তার সাথে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে।

আপনি যদি চান আপনার স্ত্রী আপনার মা-বাবাকে সম্মান দিক, তাহলে অবশ্যই আপনারও উচিত আপনার শ্বশুর-শাশুড়ির সম্মান করা।

আপনি চান না আপনার স্ত্রী বাইরে জব করুক; খুব ভালো চিন্তা। তাহলে অবশ্যই আপনার স্ত্রীকে সম্মানের সাথে হাতখরচ দিন।

— Need

25/05/2026

এই ছবিটা বেবি ডেলিভারির মাত্র ১৫ মিনিট পরে তোলা,ভাবা যায়? স্বপ্নের মত লাগে।

আমি এই ছবিটা আপলোড করছি শুধুমাত্র সেই সব বিবাহিত মেয়েদের জন্য, যারা বেবি প্ল্যানিং করছেন তাদের এনকারেজ করার উদ্দেশ্যে।

যদি আপনার সবকিছু নরমাল থাকে এবং শারীরিক কন্ডিশন ভালো থাকে, তাহলে অবশ্যই NVD বা নরমাল ডেলিভারির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।

তাই শুধুমাত্র নরমাল ডেলিভারিকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে থাকবেন না। আপনি নিজেও জানেন না, নরমাল ডেলিভারির পর আপনি কতটা ফ্লেক্সিবল এবং দ্রুত রিকভার করতে পারবেন।

নরমাল ডেলিভারির উপকারিতা তো আমরা কমবেশি সবাই জানি, তাই সেটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। আমি শুধু সবাইকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য এই বিষয়টা শেয়ার করলাম। ❤️

তবে অবশ্যই একটা ভালো কনসালট্যান্ট ও অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। যিনি নরমাল ডেলিভারিতে অভিজ্ঞ, তার পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু মেনে চললেই ভালো রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব।

দিদিভাইয়ের ডাক্তারও বলেছেন “তুমি তোমার আত্মীয়স্বজনসহ সবাইকে নরমাল ডেলিভারির জন্য এনকারেজ করবে।” 🌸

©সংগ্রহীত

যারা পপুলারে ডাক্তার দেখান সবাই জানেন, ছন্দা ম্যাডামের পেশেন্ট সবারই নরমালে হয় এবং উনি ভালো। পপুলার ধানমন্ডিতে ছন্দা ম্যাডাম বসেন উনি নরমাল ডেলিভারির জন্য নামকরা। পপুলারের ধানমন্ডি হাস্পাতালের রিসিপশন সেন্টারে কল করেই ডাক্তারের নাম বললেই উনারা সিরিয়াল দিয়ে দিবেন। কিন্তু পপুলারের সবচেয়ে বড় গাইনী ডাক্তার হলেন প্রফেসর সাঈবা আখতার উনি বেস্ট।

01/05/2026

(১) মিতু বরাবরই ঝামেলা এড়িয়ে চলা মানুষ। ওর হিসাবে, জীবন হতে হবে পানির মতো সোজা। কোনোকিছুতে বেশি প্যারা নিতে রাজি না মিতু। অবশ্য একটা ক্ষেত্রে মিতু নিজের এই সূত্র থেকে যোজন যোজন সরে এসেছে। নিজের ক্যারিয়ারের চিন্তায় মিতু বরাবরই রিস্ক টেকিং এবং অ্যাডভেঞ্চারাস। ভীষণ পরিশ্রমী মিতু নিজের জবের ক্ষেত্রে কখনোই অল্পে তুষ্ট নয়। ওর লক্ষ্য থাকে কীভাবে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা যাবে। সবাই যেখানে ফাঁকফোকর খোঁজে, মিতু সেখানে অফিস আওয়ারের আরও আধ ঘণ্টা আগে থেকেই নিজের ডেস্কে গিয়ে ফাইলপত্র গুছিয়ে নেয়। এত ডেডিকেশনের কারণে সমসাময়িক অনেককে টপকে মিতু খুব দ্রুতই উচ্চপদস্থ কর্মীদের দলে নিজের নাম লিখিয়ে নেয়।

অফিসে ওর প্রমোশন হয় ঠিক দু বছরের মাথায়, এবং সত্যিই ও এর যোগ্য হকদার। প্রচণ্ড খেটেছে মিতু। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতিটা ক্লায়েন্ট মিটিং এর প্রিপারেশন নিয়েছে। এমনকি গর্ভকালীন কোনো ছুটিও নেয় নি।

হ্যাঁ, মিতু প্রেগনেন্ট। বিয়ের পর প্রথম চার বছর ও এবং রাতুল, মানে মিতুর বর, দুজনের কেউই বাচ্চা নিতে চায় নি। ওরা চেয়েছিল দুজন মিলে কাপল লাইফটা এনজয় করবে। এর মাঝে মিতু খুব ভালো একটা জব পেয়ে যায়। আর সেদিকে ফোকাস করতে গিয়ে আরো ফ্যামিলি প্ল্যানিং এ আরো দু বছর দেরি হয়। তবে এখন মিতু প্রেগনেন্ট আর কিছুদিন পরেই ওর বেবি হওয়ার ডেইট।

ডক্টরের কাছে রুটিন চেক আপের সময় সব জেনে নেয় রাতুল আর মিতু। আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্ট নরমাল। বেবির কোনো কমপ্লিকেশন নেই। ডক্টর পারভীন একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক, গাইনী বিশেষজ্ঞ। দেশে তো বটেই, বাইরের দেশ থেকেও নানান সার্টিফিকেট আর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত। উনার আন্ডারে মিতু বেশ নির্ভার বোধ করে।

দেখতে দেখতে ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে আসে। পুরো গর্ভাবস্থায় মিতুর কোনো অসুস্থতা ছিল না। চাকরিও কন্টিনিউ করেছে মিতু। এবারের এপয়েন্টমেন্টে ডক্টর পারভীন বলেন, আর দেড় মাস পরেই ডেলিভারি ডেইট। যেহেতু কোনো কমপ্লিকেশন নেই, তাই নরমালেই ট্রাই করা যাবে। এ কথা শুনে মিতু বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। ও জানে বাচ্চা হওয়ার সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এত কষ্ট করতে চায় না মিতু। ও ডক্টর পারভীনের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি চাচ্ছি সিজারে ডেলিভারি করতে।

ডক্টর পারভীনের মতে, মায়েদের উচিত নরমাল ডেলিভারির ট্রাই করা। অন্যান্য ডাক্তারদের মত প্রয়োজন ছাড়া সিজার করার পক্ষপাতী নন তিনি। উনি মিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, মিতু, আপনি ভয় পাবেন না। সৃষ্টিকর্তা এভাবেই মায়ের বডিকে তৈরি করেছেন, যেন মায়েরা সহজে বাচ্চা ডেলিভারি করতে পারে। সাময়িক বিচারে নরমালে বেশি কষ্ট মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটাই বেশি উপকারী।

রাতুলও মিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করল, দেখো, প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই সিজার করব, কিন্তু ডাক্তার যেহেতু বলছেন, সব ঠিকঠাক আছে। তাহলে নরমালের ট্রাই করাই যায়, তাইনা?

কিন্তু মিতুর এক কথা সে সিজার-ই করবে। রাতুল একটু পীড়াপীড়ি করতেই ও বলে উঠল, আচ্ছা, তুমি কি টাকা খরচ করতে ভয় পাচ্ছো? ডোন্ট ওয়ারি, আমি নিজের টাকাতেই সিজার করাব। এ কথা শুনে রাতুলের মুখটা নিমিষেই কালো হয়ে যায়। ও খরচের কথা ভেবে না, বরং ডক্টর পারভীনের বক্তব্য শুনেই মিতুকে নরমাল করতে বলছিল। মিতু আবারও বলল, বাচ্চা জন্ম আমি দিব, আর আমি সিজারই করতে চাই।

এরপর আর কোনো কথা থাকে না। ডক্টর পারভীন মিতুর জন্য সিজারের এপয়েন্টমেন্ট ডেইট দেন, আর বলেন, সিজারের আগে যেন একবার এসে সব চেক করিয়ে নেয়।

মিতু বিজয়ীর বেশে হাঁটতে হাঁটতে চেম্বার থেকে বের হয়ে যায়।


(২) সোহেল কিছুদিন হলো নামাজ-কালাম শুরু করেছে। নার্গিস আগে থেকেই পর্দা করতো। বিয়ের পর সোহেলের অসহযোগিতার কারণে নিকাব করতে পারতো না, চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলতো সোহেল।

নার্গিস সবার অলক্ষে চোখের পানি ফেলত আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাতো। স্বামীর চেচামেচির সামনে ওর কিছু করার নেই। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে নার্গিস। তালাক নিলে বাপের বাড়িতেও জায়গা হবে না। তাই সোহেলের অন্যায় আচরণ আর রগচটা ব্যবহার মুখ বুজেই সহ্য করে ও।

বাচ্চা পেটে আসার পর অবশ্য নার্গিসের প্রতি সোহেলের আচরণে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগে ওষুধপত্রও আনতে চাইতো না, এখন দেরি করে হলেও অন্তত ওষুধপত্র কিনে আনে। কিন্তু তার এক কথা, মরে গেলেও সিজার করাব না।

নার্গিস সোহেলের এসব কথাবার্তা শুনে চুপ করে থাকে। ও নিজেও তো নরমালেই চেষ্টা করতে চায়। মা-খালাদের মুখে শুনেছে নরমালে বাচ্চা হলে শরীর ঝরঝরে থাকে। তাছাড়াও আল্লাহ চাইলে ওর আরো সন্তান নেয়ার ইচ্ছা।

শ্বশুরবাড়ির সব কাজ নার্গিস একা হাতেই করে। ননদ ছোট, স্কুলে পড়ে। শাশুড়ি অসুস্থ, উনাকেও দেখাশোনা করতে হয়। সব সামলে নার্গিসের খুব দুর্বল লাগে। মনে হয় যেন ওর শরীরে আর একটুও শক্তি নেই। সোহেল সকালে বের হয়, রাতে ফিরে। ঘরে ফিরেও এদিক থেকে সেদিক দেখলে কথা শোনাতে ছাড়ে না।

আস্তে আস্তে নার্গিসের শরীর ভারি হতে থাকে। চোখের নিচে কালি পড়ে। পুষ্টিকর খাবার-দাবারের অভাবে চামড়া ফ্যাকাশে হতে শুরু করে। একদিন মনে সাহস জড়ো করে বলেই ফেলে, আমার শরীরটা আজকাল অনেক কাহিল লাগে। পাশের বাসার ভাবির থেকে শুনলাম একটা ছুটা বুয়া আসে, যদি দুইটা মাসের বুয়া জন্য রাখা যায়, তাহলে খুব উপকার হয়।

সোহেলের টাকাপয়সার অভাব আছে তেমন না, ধনী না হলেও স্বচ্ছলতা আছে। একটা কাজের লোক রাখা তার জন্য কঠিন কিছু না। কিন্তু গর্ভবতী বউয়ের মুখে কাজের লোকের কথা শুনেই সে তেড়ে ওঠে, সারাদিন ঘরে বসে শুয়ে থেকে সিজার করাইতে চাও? আমাদের মা-খালারা বাচ্চা পেটে নিয়ে কামকাজ করে নাই?

সোহেলের মা পাশের ঘর থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। উনি নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। ছেলের মেজাজের সাথে তিনি পরিচিত। জোরে আওয়াজ করে বলেন, বউমা সারাদিন কামকাজই করে। তুই একটা ছুডা বুয়া রাখ। এই সময়ে এত ধকল শইল্লে সয় না।

সোহেলও কম যায় না। চিৎকার করে বলতে থাকে, আম্মা, আপনে যা জানেন না তা নিয়া কথা কয়েন না। আমি কোনো ছুটা বুয়া রাখব না। নার্গিসের এখন শরীর নাড়ানো দরকার। নাহলে পরে সিজার করানো লাগবে। গরুছাগল নরমালে বাচ্চা দেয় না? ওদের বাচ্চা পেটে আসলে কি গোয়ালে বসায় রাখা লাগে?

নার্গিস ফ্যালফ্যাল করে সোহেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর বলতে ইচ্ছা করে, ও কি গরুছাগল? কিন্তু সোহেলের নোংরা কথার ভয়ে ও কথাটা আবার গিলে নেয়। মনে মনে ভাবে, এই মানুষটার কারো প্রতি কোনো সম্মান নাই। না মায়ের সাথে, না বউয়ের সাথে।

একদিন প্রচণ্ড ব্যথা ওঠে নার্গিসের। সকাল থেকেই ও কাতরাতে থাকে। কোনোমতে সোহেলকে ফোন করে জানায়। সোহেলে অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে, ভীড় ঠেলে বাসায় পৌঁছাতে প্রায় বিকাল হয়ে যায়। এরপর নার্গিসকে নিয়ে হাসপাতাল যেতে যেতে সন্ধ্যা গড়ায়।

হাসপাতালে পৌঁছাতেই ডাক্তার চেক করে জানায়, নার্গিসের পানি অনেক আগেই ভেঙে গেছে। বাচ্চার অবস্থা শোচনীয়। এক্ষুণি সিজার করাতে হবে, তা নাহলে মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্য রিস্ক।

ডাক্তার নার্সকে ডেকে ওটি রেডি করতে বলবে, ঠিক তখনই সোহেল তেড়েমেড়ে বলে ওঠে, নরমালে পারলে করেন, নাহয় আমি অন্য হাসপাতালে যাব। আমার বউকে সিজার করাব না, ব্যস।

সোহেলের উগ্র মেজাজ গোণার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই। ডাক্তার-নার্স সবাই যার যার কাজে চলে যায়। সোহেল খিস্তিখেউড় দিতে দিতে আরেকটা সিএনজি খুঁজতে থাকে। নার্গিস সোহেলের হাত ধরে শেষ বারের মতো বলে, আপনে আমার সিজার করান। আমি আর সহ্য করতে পারতেসি না। কিন্তু সোহেল এক ধমক দিয়ে আবারও সিএনজি ডাকতে থাকে। ওদিকে নার্গিস এতক্ষণ কাতরানোর পর হঠাৎ করেই চুপ হয়ে যায়। মনে হয় বেহুঁশ হয়ে গেছে। সোহেল বেশি ভাড়াতে একটা ক্যাবে উঠে পড়ে।

নার্গিসের শরীর পুরোপুরি ছেড়ে দেয়। ক্যাবের ভাড়া মিটিয়ে কোনোরকমে হাঁচড়ে-পাচড়ে নার্গিসকে টেনে বের করে সোহেল। যে আশায় আরেক হাসপাতালে আসা, তা মাঠে মারা যায়। এখানকার ডাক্তার সাফ জানিয়ে দেয় পেশেন্ট শকে চলে গেছে, অবিলম্বে সিজার করাতে হবে। এদিকে সোহেলও দমার পাত্র নয়। সে নরমালেই বাচ্চা চায়। যা হয় হোক। এসব সিজারে সে বিশ্বাসী না। গরুছাগলের তো সিজার ছাড়াই বাচ্চা হয়। আজকালকার মেয়েদের যত নতুন ভঙ - সিজার করানো লাগবে। সব ষড়যন্ত্র। এইগুলা কানে দেয়ার কী আছে?

সোহেলের চোখের সামনে নার্গিস নিস্তেজ হতে থাকে। শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যায়। সোহেলের গোয়ার্তুমি তবু যায় না। গলার রগ ফুলিয়ে হাসপাতালের স্টাফদের সাথে রাগারাগি করতে থাকে সে। আরো একটা হাসপাতালে নিবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছে জানতে পারে নার্গিস আর বাচ্চা কেউই আর বেঁচে নেই। কষ্ট পেতে কখন যেন দুজনেরই রুহ পরপারে পাড়ি জমিয়েছে।

সোহেল এখনও গোঁয়ারের মতো ভাবে, বউ-বাচ্চার মৃত্যুতে তার কোনো দায় নেই। ওটি বয় আর পুরুষ ডাক্তারের সামনে শরীর খোলার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।


(৩) তিন্নি ভীষণ স্বাস্থ্য সচেতন। বাচ্চা পেটে আসার পর থেকেই ও নিয়মিত ব্যায়াম করে, পুষ্টিকর ফলমূল আর খাবার-দাবার খায়। এসব নিয়ে অনেক বইপত্র ঘেটেছে। পরিচিত সবার সাথে কথা বলেছে। ও জানে, নরমাল ডেলিভারির কোনো বিকল্প নেই। ওর হাজবেন্ড শিহাবও ওকে সবসময় সাপোর্ট করে। দুজনেরই ইচ্ছা নরমাল ট্রাই করার।

ওরা অনেক খোঁজ নিয়ে ডক্টর সালেহার কথা জানতে পারে। উনি একজন নামকরা গাইনী বিশেষজ্ঞ। সমসাময়িক অসৎ অনেক ডাক্তারদের ভিড়ে একজন খাঁটি মানুষ। তিনি ডাক্তারি পেশাকে শুধু ব্যবসার নজরে দেখেন না, বরং কী করলে পেশেন্টের ভালো হবে সেটাই উপদেশ দেয়ার চেষ্টা করেন। তিন্নির বেশ কিছু বান্ধবী ডক্টর সালেহার আন্ডারে থেকে নরমালে ডেলিভারি করেছে, তাদের সবার অভিজ্ঞতাই চমৎকার। সেই ভরসায় তিন্নিও উনার কাছেই নিয়মিত চেক-আপ করায়।

দেখতে দেখতে তিন্নির চল্লিশ সপ্তাহ পার হয়ে যায়, কিন্তু ওর ব্যথা ওঠার কোনো নামগন্ধও নেই। খালি মাঝেমধ্যে পেটটা হালকা শক্ত হয়ে ওঠে। ডক্টর সালেহা ওকে আশ্বস্ত করে বলেন, অনেক সময় নরমাল পেইন উঠতে আরো দুই-এক সপ্তাহ বেশি সময় লাগতে পারে। আপনি ভয় পাবেন না, আর সাবধানে থাকবেন।

ডক্টর সালেহার কথাই সত্যি হয়। এর পরের সপ্তাহেই তিন্নির পেইন ওঠে। তীব্র ব্যথায় ছটফট করতে করতে ওরা হাসপাতালে এসে শোনে, ডক্টর সালেহা ইমার্জেন্সি কাজে ছুটি নিয়েছেন। তিন্নির সাথে ডাক্তারের আন্তরিক সম্পর্ক থাকায় ও ব্যথায় ছটফট করতে করতেই ফোন দেয়। কিন্তু জানতে পারে, তিনি এখন ঢাকার বাইরে আছেন। ফিরতে কমপক্ষে আরো একদিন লাগবে। উনি তিন্নিকে সাহস যুগিয়ে বেশ কিছু কথা বলেন।

এদিকে ব্যথা বাড়তে থাকে। তিন্নি কষ্টের মধ্যেও ভাবে, নরমাল ডেলিভারির সাইন ওর মধ্যে পুরোপুরি আছে। খানিক পরে একটা কেবিনে শিফট করা হয় ওকে। ওর স্বামী শিহাব পুরোটা সময় ওর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। এরই মধ্যে দুইজন ডাক্তার চেক করে গেছে, তারা বলে রাস্তা মোটামুটি খুলেছে। আরেকটু খুলতে হবে। তিন্নির ব্যাথাও স্বাভাবিক নিয়মে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে।

কয়েক ঘণ্টা পর শিফট বদল হয়। রাতের শিফটে ডাক্তার চেক-আপ করতে এসে জানায়, বাচ্চা পায়খানা খেয়ে নিয়েছে, এখনই অপারেশন করতে হবে।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিন্নি আর শিহাব মেনে নেয়। প্রায় আঠারো ঘণ্টা লেবার পেইন সহ্য করার পর তিন্নির সিজার হয়। জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। মেয়েকে কোলে নিয়ে তিন্নি ওর সব কষ্ট ভুলে যায়।

এক এক করে তিন্নি আর শিহাবের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন বাচ্চা আর মাকে দেখতে আসে। ওদেরকে দেখাশোনা করার জন্য সবাই আছে দেখে শিহাবও নিশ্চিন্ত মনে কেবিন থেকে বের হয়। ফার্মেসি থেকে কিছু কেনাকাটা করতে হবে। ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিহাবের কানে আসে, দুজন নার্স হাসাহাসি করছে আর বলছে, আজকে স্যারের মন ভালো, দুইটা সিজার করাইসে। ওই শুকনা আপাটার তো আর আধা ঘণ্টা হইলে এমনেতেই বাচ্চা হয়ে যাইতো। শুনেই পাশেরজন টিপ্পনী কাটে, দেইখাই বুঝছিলাম এরা মালদার পার্টি। স্যার সিজার না কইরা ছাড়বে না। বাচ্চার পায়খানার কথা শুনেই ওটিতে চইলা গেসে।

আরো কী সব কথা বলে দুইজন হাসাহাসি করতে থাকে। কিন্তু বাকি কথা আর শিহাবের কানে ঢোকে না। ওর মাথাটা হঠাৎ চক্কর দিয়ে ওঠে। টাকার জন্য ও পরোয়া করে না, কিন্তু এতো বড় জুলুম!

এক দৌড়ে ঐ দুইজন নার্সের কাছে ছুটে যায় শিহাব। কিন্তু দুজনেই এক কথায় সব অস্বীকার করে। এমন কোনো কথাই নাকি ওরা বলে নাই। ওরা নাকি ওদের আত্মীয়ের কথা বলছিল, যে অন্য হাসপাতালে ভর্তি। ঝামেলা দেখে কিছুক্ষণের ভেতরই চারপাশে আরো কয়েকজন স্টাফ আর ডাক্তার জড়ো হয়ে যায়। ওরা সবাই একজোট হয়ে শিহাবের সাথে হম্বিতম্বি করতে থাকে। হুংকার দিয়ে বলে, আপনার সমস্যা হলে অন্য হাসপাতালে চলে যান। এইখানে সিনক্রিয়েট করবেন না। এর মধ্যে এক ডাক্তার রিপোর্ট হাতে এগিয়ে আসে, সবাইকে ঠান্ডা করে বলে, দেখেন খালি খালি হইচই না করাই ভালো। এই দেখেন আপনার বউয়ের রিপোর্ট, সিজার না করলে আপনার বউ আর মেয়ে কেউই বাঁচতে পারতো না।

শিহাব জানে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনে ও বড় অসহায়। ক্ষমতার জোর ছাড়া এদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না। ও নিজে সত্যিটা জেনেও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ। যে ডাক্তাররা মিথ্যা বলে সিজার করাতে পারে, সামান্য রিপোর্ট বদল করে দেয়াটা তাদের জন্য ডালভাত। এখানে ইনসাফের কোনো আশা নেই। ও আচ্ছা, বলে চুপচাপ সরে যায় শিহাব, কিন্তু ওর বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়ে রাখে ও। যারা তার স্ত্রী আর কন্যার উপর এই জুলুম করল, তাদেরকে ও কোনোদিনও মাফ করবে না।

এক শহরের তিনটি গল্প

~ আনিকা তুবা!

18/04/2026

সদ্য মা হবেন যারা তাদের উপকারে আসবে ভেবে পোস্ট দেওয়া। অনেক বোন ইনবক্সে কেনাকাটা বা বাবুর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লিস্ট চেয়েছিলেন, এটা তাদের জন্য।

আমি ডেলিভারির প্রায় দেড় দুইমাস আগেই এসব কিনে রেখেছিলাম—

ওয়েট টিস্যু
ইউরিন ম্যাট
নিমা বেশ কয়েকটা। কারণ গ্যাস প্রবলেমের জন্য ঘনঘন বমি করলে বা ঢেকুর তুললে হালকা দুধ বেরিয়ে জামা মেখে যেত।
নরম কটনের রুমাল
ডায়পার
নাভীর জন্য নেবানল পাউডার ও নাকের জন্য নরসল ড্রপ। আগেই মুখ খুলবেন না। বাবু হওয়ার পর যখন দরকার হবে তখন খুলবেন। নরসল ড্রপ মুখ খোলার পর ১ মাস ব্যবহার করা যায়।
নাভীর নেবানল পাউডার আমাকে বাবুর নাভী পরার পর ব্যবহার করার জন্য ডক্টর প্রেসক্রাইব করেছিলেন। তবে, বোন, ভাইজতাদের সূত্রে আমি আগে থেকেই জানতাম। এগুলো ওদের সময় ব্যবহার করতে দেখেছিলাম নাভী পরার পর। তাই, আগে থেকেই কিনে রেখেছিলাম। পরে ডক্টর আমার বাবুর জন্যও ব্যবহার করতে বলেন।

হেক্সোসল (হ্যান্ড রাবের জন্য ও সিজার হলে পরবর্তী ড্রেসিংয়ের জন্য)। দরকার না হলে এটারও মুখ আগে থেকে খুলবেন না।

অলিভ অয়েল, এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল, ভ্যাসলিন। (বাচ্চার হাত গলা রান ইত্যাদির ভাঁজে ভাঁজে দিতে হয় নাহলে ছিলে ফেঁড়ে যায়, ভ্যাসলিন আর তেল হাতে নিয়ে মিক্স করে দিলে বেশিক্ষণ কাজে দেয়।)

বাবুর প্রথম ৪-৫ দিনের কালচে হাগুর জন্য নরম কাপড়, যেগুলো ইউজ করার পর ফেলে দিয়েছিল। নেংটি ইউজ করি নি আমি, বাইরের কেনা নেংটিগুলো কোনো কাজের না। বাসায় বানিয়ে নিতে পারেন। আমি নেংটিও ইউজ করি না। কাপড় চারকোনা করে কেটে ইউজ করি। পুরো পা থেকে কোমড় পর্যন্ত ঢেকে থাকে। আর ভারী কাঁথা, শরীরের উপর ভার দেওয়ার জন্য। নাহলে বাচ্চা ঘুম থেকে কেঁপে কেঁপে আঁতকে ওঠে।

বেবি নেইল কাটার
গোসলের তোয়ালে
কোথাও যাওয়ার সময় ব্যবহারের জন্য ক্যাপ টাওয়েল

মিটেন সেট অর্থাৎ হাত পা মোজা মাথার টুপি। আল্লাহ না করুন বাচ্চার ঠান্ডা লাগলে অথবা শীতের সময় হলে, বৃষ্টির দিন ঠান্ডা পরিবেশ থাকলে এটা লাগবেই মাস্ট। নাহলে বাবুদের হাত পা ঠান্ডা হয়ে নীলচে আভা এসে যায়। তাই হাত পায়ের পাতা গরম রাখতে এটা দরকার হয়। কয়েকটা কিনে রাখতে পারেন। নাহলে অনেকসময় প্রসাব বা বমিতে ভিজে যায়, তখন আরেকটা পরিয়ে দেওয়া যায়। শীতের সিজনের সময় ৬-৭ সেট থাকলে ভালো হবে। কেননা তখন এগুলো ধুলে শুকাতে অনেক সময় লাগে। ১-২ দিনও লাগে। আর বাচ্চাদের গ্যারান্টি নেই, কোনোদিন একটাও নষ্ট হয় না, আবার কোনোদিন অনেকগুলো ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

সেট বিছানাগুলো তেমন ইউজফুল না। কারণ অনেকের বাবু এতে ঘুমায় আবার অনেকের বাবু ঘুমায় না। সেক্ষেত্রে বিছানা, বালিশ আলাদা কিনতে পারেন। মশারি অবশ্যই আলাদা কিনবেন। কারণ কিছুটা বড় হলে বাচ্চাকে বিছানা সেটের মধ্যে মশারি দিয়ে ঘুম পাড়ানো যায় না। অথবা বাবু বিছানায় না ঘুমালে এই মশারি আর ব্যবহার করা যায় না। তখন আবার মশারি কিনতে হয়। আব্বু বিছানার সেট কিনে দিয়েছিলো। কিন্তু, এসব সেটের সাথে যেই কোলবালিশ থাকে সেগুলো ফাইবারের হয়। অনেক পাতলা হালকা এবং ছোট। ফলে বাবু একটু নরলেই বালিশ সরে যায়। আর বাবু আঁতকে উঠে যায়। তাই, আবার ভারী করে শিমুল তুলোর কোলবালিশ বানাতে হয়েছে। এজন্য আমি বলবো বিছানা সেট কেনা একপ্রকার লস প্রজেক্ট। আলাদা করে মশারি, বালিশগুলো বানিয়ে বা দেখেশুনে কিনে নেওয়াই ভালো।

গোসলের বোল
ফিটার, দুধ না আসলে 'ব্রেস্ট পাম্পিং সেট'। আবার যাদের দুধের ফ্লো ভালো। বাবু খাচ্ছে না পেট ভরা বা ঘুমিয়ে আছে অথচ বুকে পেইন হচ্ছে, ভার হয়ে আছে তাদের জন্য এটা জরুরী। তখন ব্রেস্ট পাম্প করে দুধ বের করে রাখলে ব্যাথা কমে। এছাড়াও আমি দেখেছিলাম এভাবে ব্রেস্ট মিল্ক জমে থাকলে নাকি আস্তে আস্তে ফ্লো কমতে থাকে। এরফলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সূত্রপাত হয়। বাচ্চাকে মিল্ক বাথ দেওয়ার জন্যও ব্রেস্ট পাম্প করে ফিটারে রেখে দেওয়া যায়।

সিজারিয়ানদের জন্য নার্সিং পিলো মাস্ট। নাহলে ব্যাথা নিয়ে বাচ্চাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায় না, খাওয়াতে অনেক কষ্ট হয়।

বাবু কোন সিজনে হবে তার উপর ডিপেন্ড করে জামাকাপড়।
কটনবাড ও তুলো

বাবুর তাহনিক করার জন্য খেজুর। আমি আজওয়া খেজুর একটা ছোট বক্সে ভরে নিয়েছিলাম।

৬ মাসের আগে বাবুর শরীরে কোনো লোশন সাবান শ্যাম্পু ব্যবহার নিষেধ। এগুলো দিবেন না। আর বেবি পাউডার, বেবি অয়েল তো একদমই না। বেবি পাউডার স্কিনের রন্থ্রগুলোকে ব্লক করে দেয়। বাবুকে সম্ভব হলে, বুকে দুধের ফ্লো ভালো থাকলে মিল্ক বাথ দিবেন। এটা ডায়পার র‍্যাশ, ঘামাচি বিবিধ সমস্যা থেকে বেস্ট প্রটেকশন দেয়। স্কিন সফট, ময়েশ্চারাইজড, ক্লিয়ার রাখে। যদিও প্রথম মাসে বাবুদের শরীরে ছোট ছোট গোটা উঠবেই, যেহেতু বাইরের পরিবেশের সাথে ওদের মানিয়ে নিতে সময় লাগে। এটা নরমাল। বাচ্চার শরীরে তেল দিলেও মাথায় দিবেন না। নাহলে মাথায় ঘা হবে।
একটা ঝুড়ি বা ব্যাগ অথবা বাবুর জিনিসপত্র রাখার জন্য পরিস্কার আলাদা জায়গা রাখবেন।

বাবুর মায়ের জন্য:
_________________

স্যানিটারি ন্যাপকিন। আমি সেনোরা রেগুলার প্যাডগুলো কিনে রেখেছিলাম। আরও কিনেছিলাম তুলো-ফিতার প্যাডগুলো। ডেলিভারির পর বেল্ট বা রাবারের প্যাড পরা যায় না। এই সময়ে ফিতা দিয়ে নিজের সুবিধানুযায়ী বেঁধে নেওয়ার জন্য তুলোর প্যাড ব্যবহার করতে হয়। ফার্মেসীতে ডেলিভারির প্যাড বললেই পাওয়া যেতে পারে।

নার্সিং ব্রা

বাবু হওয়া বাকি যাদের তারা মাস্ট দিনে তিনবার নিপলে ভ্যাসলিন ইউজ করবেন। বাবু হওয়ার পর খাওয়ানোর কারণে ফেঁটে গিয়েছিলো। তবুও বাচ্চাকে খাওয়াতে হয়েছে। কী যে অসহ্য ভয়ংকর ব্যাথা! প্রথম মাসেই এটা হয় আর এক-দুই সপ্তাহ থাকে ব্যাথা। এটার সম্মুখীন না হতে চাইলে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে নিপল ফাঁটবে না অথবা ফাঁটলে তুলনামূলক পেইন কম হবে।

পেটে তেল মালিশ করার চেষ্টা করবেন।

চা পাতা কিনে রাখবেন, এটা ডক্টর সাজেস্ট করেছিলেন। ডেলিভারির পর তিন বেলা ডিম ও ৪ বেলা ঠান্ডা লিকার চা। দুধ চা খাওয়া নিষেধ। লিকার চা সিজারের সেলাই, জরায়ুমুখের সেলাই ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দ্রুত রিকভার করার জন্য খেতে বলা হয়। এবং স্যুপ।

©কাশফিয়া দিশা

07/04/2026

গতকাল এক রোগী এসেছেন চেম্বারে।এখন যেহেতু কমিউনিটি নিউট্রিশন নিয়ে ফিল্ড লেভেলে কাজ করি, চেম্বারে জনসাধারণকে কাউন্সেলিং করি এবং প্রায় প্রায় ট্রেইনার হিসেবে ট্রেনিং করাই, তাই প্রায় সর্বসাধারণের সাথে আমাকে কথা বলতে হয়। বিচিত্র ধরণের মানুষকে ম্যানেজ করতে হয়। নানান রঙ বেরঙের কথা আমাকে শুনতে হয়। সোজা কথায়, আমাকে ১২ রকমের মানুষকে বুঝে তাদের ম্যানেজ করতে হয়।

তো অদ্ভুত ব্যাপার হলো - গতকাল চেম্বারে এক দম্পতি এলেন। এসেই দম্পতিটির পুরুষ সঙ্গীটি ব্যস্ত হয়ে গেলেন মহিলা সঙ্গীটির পেট আমাকে দেখাবেন। মহিলা সঙ্গীটি একাধারে বিব্রত এবং লজ্জিত। আমি নিজেও কিছুটা বিব্রত বোধ করছি কারণ, আমার রোগীর শারিরীক কিছু পরীক্ষা করতে হলে, আমি এবং রোগী ছাড়া ঘরে আমি কাউকে রাখি না।

তো সেই পুরুষ ব্যক্তিটি জোড়াজুড়ি শুরু করলেন সকলের সামনেই নিজের স্ত্রীর পেট দেখাবেন। শেষ পর্যন্ত দেখলাম। বুঝলাম যে, প্রথম সন্তান জন্মদানের পর অতিরিক্ত চর্বি পেটে জমেছে যাতে করে তলপেট উচু হয়ে গেছে মহিলাটির। যেটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

তো পেট দেখিয়ে উঠে দাড়াতে না দাড়াতেই পুরুষ সঙ্গীটি বলা শুরু করলেন-" আমার বউ কে নিয়ে ম্যাডাম বড় বিপদে আছি,কোথাও যেতে পারি না। থ্রী পিস পড়লেও ওকে লাগে ১০ বাচ্চার মা, শাড়ি পড়লে পেট লাগে থলথলা। পেট হয়ে গেছে পানি ভরা বেলুনের মতো। এরকম দেখলে আর মন ভালো লাগে না (বলা বাহুল্য উনি বোধ হয় বলতে চাচ্ছিলেন এই ভদ্র মহিলাটিকে দেখে ওনার কোনো ফিলিংস হয় না)।

এই রকম বউ নিয়ে জনসম্মুখে যেতে পারি না ইত্যাদি আরো নানান ব্লা ব্লা ব্লা ব্লা। বলা সংগত, মহিলাটি ভীষণ বিব্রত হচ্ছিলেন। আমি দেখতে পেলাম ওনার চোখের কোনে অশ্রু জমে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে হয়তো লজ্জায় অপমানে কেদে ফেলতে পারেন।

তাই প্রসঙ্গ ঘোরানোর জন্য ওনার দৈনন্দিন রুটিন - খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলাম৷ তাতেও লোকটি বাগড়া দিয়ে নিজের স্ত্রীর দুর্নাম করতে থাকলেন। তো ওনার সব কথা শুনে আরো যাচাই করতে গিয়ে ধরা পড়লো এই মহিলাটি দ্বিতীয় বার প্রেগন্যান্ট। এখন আমার সাদা মনের কাদা প্রশ্ন- কোনো ফিলিংস বউ কে দেখে না উঠা সত্ত্বেও ওনার বউ দ্বিতীয় বার প্রেগন্যান্ট হলেন কিভাবে????!!!!

এছাড়াও উনি নানা ভাবে বকর বকর করে যাচ্ছিলেন যার সারমর্ম ওনার বউ দেখতে একদম ই বিশ্রী। তখন আমি তাকে বললাম- আপনি যখন ওনাকে বিয়ে করে এনেছিলেন তখন কি উনি এমন ছিলেন? তখন লোকটি বললেন- না তখন তো স্লিম ছিলো, সুন্দর ছিলো। তো আমি তখন বললাম - তাহলে তো আপনার আর আপনার পরিবেশের সমস্যা। এবার লোকটির বিব্রত হবার পালা।

কিছুক্ষণ ভ্যাবাচেকা খেয়ে তাকিয়ে থাকার পর উনি আমতা আমতা করে বললেন- মানে? তখন আমি বললাম- আপনি নিজেই তো বললেন আপনার সংসারে আসার আগে উনি স্লিম ফিগার, সুন্দর ছিলেন। আপনার সংসারের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে ওনার এ অবস্থা হয়েছে, তাই নয় কি??!! ।

তখন লোকটি বেশ বিরক্ত। তো আমি বললাম শেষে যে - দেখেন উনি একজন মা হয়েছেন। ওনার শরীরের উপর দিয়ে নানান হরমোনাল ইস্যু গেছে, হয়তো বিভিন্ন স্ট্রেসে ওনার হরমোনাল ইমব্যালেন্স ও থাকতে পারে। তার ফলে ওনার ওজন কমছে না।

কিন্তু তিনি তো আপনার সন্তান জন্ম দিতে গিয়েই এ অবস্থায় এসেছেন।..... ইত্যাদি অনেক কথা বলার পর লোকটি বললেন - তবুও এখন ডায়েট চার্ট করে দেন, যেনো একবারে আগের মতো পাতলা হয়ে যায়। যাতে আমার আবার ফিলিংস হয় ওকে দেখলে। সাতখন্ড রামায়ণ পড়ার পর উনি বলছেন সীতা কার পিতা। আর কি বলবো, তাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলাম।

বুঝলাম, ১২ বছর কোনো কুকুরের বাকা লেজ সোজা পাইপের কাঠামোতে রেখে, আবার কাঠামোটা সরিয়ে ফেললে বাকা লেজ বাকাই থাকে, তা কোনো দিন সোজা আর হয় না।

©Aysha Siddika Maria

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Bir Uttam Qazi Nuruzzaman Sarak West, Panthapath
Dhaka
1205