22/07/2026
একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর উচিত ছিল নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁর ‘সুন্দর উপস্থাপনা’ ও ‘শ্রুতিমধুর বক্তব্য’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ বা কোর্স করার প্রয়োজন ছিল।
আমি তাঁকে এখনই ইংরেজিতে সাবলীল হওয়ার কথা বলছি না; কারণ তাঁর বাংলা উচ্চারণ, বাক্যগঠন ও বক্তব্য উপস্থাপনাতেও যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়।
কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি যখন বক্তব্য প্রদান করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সামনে বা পাশে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে পদমর্যাদাবলে প্রদত্ত বক্তব্য যদি শ্রোতার কাছে অগোছালো, অসংলগ্ন বা শ্রুতিকটু মনে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষকের ভিড়ে কি কারও মনে হয়নি যে বিষয়টি চিহ্নিত করে এ বিষয়ে গঠনমূলকভাবে কথা বলা প্রয়োজন? অন্তত প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই এ বিষয়ে দায়িত্বশীলদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন, তা আমার জানা নেই। তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পরেই কোষাধ্যক্ষের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ একই প্রতিষ্ঠানে এ পদের জন্য যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলে মনে হয় না। যদি কোষাধ্যক্ষের যোগ্যতার মান এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য যোগ্য অধ্যাপকদের যোগ্যতা যেন আড়ালেই থেকে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত প্রতিষ্ঠানের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার্থে, প্রয়োজনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হলেও তাঁকে বক্তব্য প্রদানে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
যখন জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক বা বাইরের অতিথিরা এমন বক্তব্য শুনে হাস্যরসের অবকাশ পান, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী হিসেবে লজ্জা পাওয়া কি অস্বাভাবিক?
তাই আমার পরামর্শ থাকবে—হয় তিনি নিজেকে এই পদের জন্য যথাযথভাবে যোগ্য করে তুলুন, নয়তো পদটির মর্যাদা রক্ষার্থে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করুন।
(অনুপম মল্লিক আদিত্য)