10/05/2026
একটা দেশের ভবিষ্যৎ কোথায় তৈরি হয় জানেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না।
বুয়েটে না।
মেডিকেল কলেজেও না।
একটা দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি হয়—
স্কুলের বেঞ্চে।
মাদ্রাসার ছোট্ট ক্লাসরুমে।
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির সেই বয়সটাতে,
যখন একটা শিশু ঠিক করে সে স্বপ্ন দেখতে শিখবে, নাকি শুধু পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করবে।
ভাবুন তো একটা দৃশ্য—
রাফি স্যার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন।
CGPA অসাধারণ।
বন্ধুরা কেউ বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউ ব্যাংকে, কেউ কর্পোরেটে।
অনেকে বিদেশে স্কলারশিপের চেষ্টা করছে।
কিন্তু রাফি স্যার অন্যরকম একটা সিদ্ধান্ত নিলেন।
তিনি চাকরি নিলেন গ্রামের একটা স্কুলে।
বা একটা মাদ্রাসায়।
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্রদের পড়াবেন।
চারপাশে হাসাহাসি শুরু হলো—
“এত ভালো ছাত্র হয়ে স্কুলে পড়ায়?”
“কোথাও চাকরি পায় নাই?”
“এত পড়াশোনা করে শেষে মাস্টারি?”
কিন্তু রাফি স্যার জানতেন—
দেশ বদলাতে হলে শুরুটা নিচ থেকে করতে হয়।
তিনি ক্লাসে গিয়ে শুধু Grammar পড়ান না।
শুধু অঙ্কের সূত্র মুখস্থ করান না।
শুধু পরীক্ষার জন্য সাজেশন দেন না।
তিনি ছাত্রদের চিন্তা করতে শেখান।
প্রশ্ন করতে শেখান।
স্বপ্ন দেখতে শেখান।
তিনি ইংরেজি শেখান সিনেমা আর গল্প এবং বাস্তবতা (Real Life Example) দিয়ে।
বাংলা শেখান বই পড়ার আনন্দ দিয়ে।
বিজ্ঞান শেখান বাস্তব উদাহরণ দিয়ে।
ধর্ম শেখান মানবতা, সততা আর দায়িত্ববোধ দিয়ে।
স্কুলে একটা লাইব্রেরি বানানো হলো।
প্রতি সপ্তাহে বই পড়া প্রতিযোগিতা হয়।
প্রজেক্টর এনে ছাত্রদের documentary দেখানো হয়।
ইংরেজিতে কথা বলার ক্লাব খোলা হলো।
বিতর্ক হয়।
গল্প লেখা হয়।
ছাত্ররা প্রথমবার বুঝতে শুরু করল—
পড়াশোনা মানে শুধু GPA না।
পড়াশোনা মানে পৃথিবীকে বোঝা।
ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে লাগল।
যে ছেলেটা ক্লাসে চুপচাপ বসে থাকত,
সে এখন সবার সামনে ইংরেজিতে Presentation দেয়।
যে মেয়েটা ভাবত গ্রামের বাইরে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই,
সে এখন মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন দেখে।
যে ছাত্র আগে শুধু পরীক্ষার আগের রাতে বই খুলত,
সে এখন লাইব্রেরিতে বসে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে।
১০ বছর পর—
এই স্কুল/মাদ্রাসা থেকে
কেউ বুয়েটে,
কেউ ঢাবিতে,
কেউ মেডিকেলে,
কেউ বিদেশের স্কলারশিপে সুযোগ পেল।
কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা রেজাল্টে না।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—
তারা ভালো মানুষ হয়েছে।
তারা আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।
তারা নিজের গ্রামের জন্য কিছু করতে চায়।
আরও ১০ বছর পর—
কেউ শিক্ষক হয়েছে।
কেউ ডাক্তার।
কেউ উদ্যোক্তা।
কেউ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
কেউ গবেষক।
কেউ সমাজকর্মী।
কেউ দেশের প্রশাসনে কাজ করছে।
তাদের প্রত্যেকের গল্পের পেছনে একটা নাম—
“আমাদের স্কুলের স্যার।”
আমরা এই দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনেক কথা বলি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ranking নিয়ে কথা বলি।
কিন্তু খুব কম মানুষই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত নিয়ে কথা বলে।
অথচ সত্যিটা খুব সহজ—
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষা যদি দুর্বল হয়,
তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দুর্বল foundation-এর ওপর certificate দেবে।
একজন অসাধারণ স্কুল শিক্ষক
শুধু একটা subject পড়ান না।
তিনি একটা প্রজন্ম তৈরি করেন।
আমি সেই দিনের অপেক্ষায় আছি—
যেদিন ঢাবি, বুয়েট, মেডিকেলের সেরা ছাত্ররা গর্ব করে বলবে—
“আমি স্কুলে পড়াই।”
“আমি মাদ্রাসায় পড়াই।”
“আমি দেশের foundation তৈরি করি।”
আর মানুষ তখন অবাক হয়ে বলবে না—
“অন্য চাকরি পায় নাই?”
বরং সম্মান নিয়ে বলবে—
“দেশ গড়ার কাজ করছে।”