Principal Dr. Muhammad Abu Yusuf Khan

Principal Dr. Muhammad Abu Yusuf Khan Welcome to Principal Dr. Muhammad Abu Yusuf Khan

20/09/2026
রিজিকের মালিক আল্লাহ: মানুষ কেবল রিজিকের সন্ধানী ও গ্রহণকারী********************************************১. একমাত্র আল্লা...
19/09/2026

রিজিকের মালিক আল্লাহ: মানুষ কেবল রিজিকের সন্ধানী ও গ্রহণকারী
********************************************
১. একমাত্র আল্লাহই প্রকৃত রিজিকদাতা
————
আল্লাহ তায়ালা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
“নিশ্চয়ই আল্লাহই মহারিজিকদাতা, শক্তির অধিকারী, পরাক্রমশালী।”
—সূরা আয-যারিয়াত: ৫৮

অতএব রিজিকের মূল উৎস কোনো মানুষ, প্রতিষ্ঠান বা সম্পদ নয়; আল্লাহ তায়ালা।

২. পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর রিজিক আল্লাহর দায়িত্বে
—————
আল্লাহ বলেন—

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا
“পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।”
—সূরা হূদ: ৬

মানুষের মতো ক্ষুদ্র একটি পিঁপড়া থেকে শুরু করে বিশাল প্রাণী—সবার রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহ করে থাকেন।

৩. মানুষ রিজিক সৃষ্টি করে না; রিজিকের জন্য চেষ্টা করে
————-
মানুষের কর্তব্য হলো হালাল পথে পরিশ্রম করা। কৃষক জমি চাষ করেন, ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন, শিক্ষক শিক্ষা দেন, শ্রমিক শ্রম দেন—কিন্তু ফলাফল ও রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

আল্লাহ বলেন—

فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ
“তোমরা পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করো।”
—সূরা আল-মুলক: ১৫

অর্থাৎ চেষ্টা মানুষের, রিজিক আল্লাহর।

৪. মানুষ রিজিকের মালিক নয়, মাধ্যম হতে পারে
————
কোনো ব্যক্তি চাকরি দেন, বেতন দেন, ব্যবসায় লাভের সুযোগ তৈরি করেন—তখন আমরা বলতে পারি তিনি রিজিক পৌঁছানোর মাধ্যম। কিন্তু প্রকৃত অর্থে রিজিকদাতা তিনি নন।

তাই বলা উত্তম—
“আল্লাহ অমুক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাকে রিজিক দিয়েছেন।”

৫. কারো হাতে আপনার রিজিকের চূড়ান্ত ক্ষমতা নেই
—————-
কেউ আপনার চাকরি দিতে পারে, আবার চাকরি থেকে বাদও দিতে পারে; কেউ ব্যবসার সুযোগ দিতে পারে, আবার তা বন্ধও করতে পারে। কিন্তু আপনার জন্য আল্লাহ যে রিজিক নির্ধারণ করেছেন, তা তাঁর হুকুম ছাড়া কেউ বন্ধ করতে পারে না।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ
“জেনে রাখো, সমগ্র মানুষ যদি তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা তোমার উপকার করতে পারবে না, তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন।”
—জামে‘ আত-তিরমিজি: ২৫১৬

৬. রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মুমিনের কাজ নয়
—————
রিজিকের চিন্তায় মানুষ কখনো হারাম পথে চলে যায়। অথচ মুমিন বিশ্বাস করবে—আমার রিজিক আমার রবের কাছে নির্ধারিত।

তাই রিজিকের জন্য চেষ্টা করব, কিন্তু রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখব।

৭. তাওয়াক্কুল মানে বসে থাকা নয়
—————-
পাখি বাসায় বসে থেকে খাবারের অপেক্ষা করে না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرُزِقْتُمْ كَمَا تُرْزَقُ الطَّيْرُ
“তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তাহলে তোমাদের এমনভাবে রিজিক দেওয়া হতো, যেমন পাখিদের রিজিক দেওয়া হয়।”
—জামে‘ আত-তিরমিজি: ২৩৪৪

পাখি সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরে ফিরে আসে। তাওয়াক্কুলের সঙ্গে চেষ্টা থাকতে হবে।

৮. রিজিকের জন্য হারাম পথ বেছে নেওয়া যাবে না
—————
যিনি হালাল রিজিকের মালিক, তাঁর অবাধ্য হয়ে হারাম পথে রিজিক খোঁজা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

আল্লাহ বলেন—

وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا
“আল্লাহ তোমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার করো।”
—সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৮

রিজিক কম হলেও হালাল হওয়া চাই; বেশি হলেও হারাম হওয়া চলবে না।

৯. রিজিক পেলে শুকরিয়া, না পেলে সবর
—————
আল্লাহ কখনো রিজিক বাড়িয়ে দেন, কখনো কমিয়ে দেন—এটি তাঁর হিকমত ও পরীক্ষা।

اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقَدِرُ
“আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন।”
—সূরা আর-রা‘দ: ২৬

তাই প্রাচুর্যে শুকরিয়া, সংকটে সবর ও দোয়া—এটাই মুমিনের পথ।

১০. রিজিক শুধু টাকা-পয়সার নাম নয়
———-
সুস্থতা, ঈমান, জ্ঞান, নেক সন্তান, ভালো জীবনসঙ্গী, নিরাপত্তা, শান্তি, সম্মান—সবই আল্লাহর রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।

কাজেই যার ব্যাংক-ব্যালেন্স বেশি সে-ই কেবল ধনী নয়; আল্লাহ যার জীবনে বরকত দিয়েছেন, প্রকৃত অর্থে সে-ই সফল।

১১. অন্যের রিজিক দেখে হিংসা করা উচিত নয়
————-
কারো বাড়ি বড়, কারো ব্যবসা বড়, কারো বেতন বেশি—এসব দেখে হিংসা করার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্নভাবে দিয়েছেন।

وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ
“আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো ওপর যে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, তা তোমরা কামনা করো না।”
—সূরা আন-নিসা: ৩২

১২. রিজিকের নিশ্চয়তা মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি আনে
————-
যখন বান্দা বুঝতে পারে—
“আমার রিজিক মানুষের হাতে নয়, আল্লাহর হাতে”,
তখন মানুষের কাছে অযথা মাথা নত করার প্রবণতা কমে যায়। সে সম্মানের সঙ্গে হালাল চেষ্টা করে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে।

মূল শিক্ষা

রিজিক আল্লাহর—চেষ্টা মানুষের।
রিজিকের ভাণ্ডার আল্লাহর—মানুষ কেবল মাধ্যম।
রিজিক নির্ধারণ করেন আল্লাহ—মানুষ তা গ্রহণ করে।
তাই রিজিকের জন্য মানুষের ওপর নির্ভর নয়, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল; আর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের সঙ্গে হালাল পথে সর্বোচ্চ চেষ্টা।

একটি হৃদয়স্পর্শী উপসংহার
————————————-
“যে রিজিক আল্লাহ আপনার জন্য লিখেছেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি তা আপনার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না; আর যে রিজিক আপনার জন্য লেখা হয়নি, পৃথিবীর সব মানুষ একত্র হলেও তা আপনাকে দিতে পারবে না।”
সুতরাং রিজিকের চিন্তায় নয়—রিজিকদাতার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করাই মুমিনের প্রধান চিন্তা।

16/09/2026

শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়—আল্লাহভীতি ,জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা, প্রযুক্তি-সচেতনতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি করাই আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

মৃত্যু—জীবনের চরম সত্য: কুরআন-হাদিসের আলোকে পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি ও সফল পরিণতির পথ***********************************...
15/09/2026

মৃত্যু—জীবনের চরম সত্য: কুরআন-হাদিসের আলোকে পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি ও সফল পরিণতির পথ
******************************************
মানুষের জীবনের সবচেয়ে অবধারিত ও অনিবার্য সত্য হলো মৃত্যু। পৃথিবীতে আগমনের মতোই একদিন প্রত্যেক মানুষকে এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। পদমর্যাদা, সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি কিংবা পার্থিব কোনো অর্জনই মৃত্যুর হাত থেকে কাউকে রক্ষা করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ
“প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)

মৃত্যু তাই জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং এটি অনন্ত আখিরাতের জীবনে প্রবেশের দ্বার। দুনিয়ার জীবন হলো পরীক্ষার ক্ষেত্র, আর আখিরাত হলো সেই পরীক্ষার ফলাফল লাভের স্থান। এ কারণে একজন মুমিনের বুদ্ধিমত্তা হলো মৃত্যুকে ভুলে না গিয়ে তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ»
“তোমরা স্বাদ-আনন্দ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।” (সুনান আত-তিরমিজি)

অতএব, মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে হতাশ করার জন্য নয়; বরং জীবনকে সৎ, সুন্দর ও অর্থবহ করার জন্য। মৃত্যুর পূর্বেই তওবা করা, ঈমান ও আমলকে পরিশুদ্ধ করা, মানুষের অধিকার আদায় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পরকালীন জীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়াই একজন মুমিনের প্রকৃত কর্তব্য।

@ যে বিষয়সমূহ সবসময় স্বরণ রাখতে হবে:-
=========================
১. মৃত্যু—প্রত্যেক প্রাণীর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি
২. দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আখিরাত চিরস্থায়ী
৩. মৃত্যুর সময় অজ্ঞাত—তাই প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই
৪. মৃত্যুর স্মরণ কেন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
৫. তওবা ও আত্মশুদ্ধি—মৃত্যুর প্রস্তুতির প্রথম ধাপ
৬. নামাজ ও ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা
৭. মানুষের হক, ঋণ ও আমানত পরিশোধ করা
৮. সৎকর্ম ও নেক আমলকে জীবনের সঙ্গী করা
৯. সদকায়ে জারিয়া ও উপকারী জ্ঞান রেখে যাওয়া
১০. নেক সন্তান ও পরিবারের জন্য ঈমানি পরিবেশ তৈরি করা
১১. গুনাহ ও অন্যায় থেকে নিজেকে মুক্ত করা
১২. মৃত্যুর পর কবর ও হাশরের জবাবদিহি স্মরণ করা
১৩. হুসনুল খাতিমার জন্য দোয়া ও আমল করা
১৪. মৃত্যুকে ভয়ের নয়, প্রস্তুতির বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা
১৫. আজকের জীবনকে আখিরাতের সফলতার জন্য কাজে লাগানো।

মৃত্যু আমাদের জীবনের এমন এক সত্য, যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু মৃত্যুর পরিণতি কেমন হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে মৃত্যুর পূর্বের জীবন আমরা কীভাবে কাটিয়েছি তার ওপর। তাই মৃত্যু আসার অপেক্ষায় নয়, মৃত্যুর আগেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া বুদ্ধিমান মুমিনের পরিচয়। আমাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতির অংশ হয়—এটাই হওয়া উচিত জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

Address

Dhaka
1204

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Principal Dr. Muhammad Abu Yusuf Khan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share