27/08/2016
বিবেকের দ্বার খোলা
লজ্জার বিষয়টি যখন এক, মানবতার বিষয়টা ভিন্ন কেন? মানবতা কি নির্ধারিত কোন নিয়মে বাধা? অন্যায়ের ধরনটা যদি এক হয় মানবতার ধরনটা এক নয় কেন? সাড়া দেশ যখন তনু হত্যার দাবীতে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে হাতে হাত ধরে ন্যায় পাবার আশায় সোচ্চার তখন ছেলের সামনে মায়ের বস্ত্র হরনের খেলায় মেতে ওঠে একদল নির্লজ্জ তরুন। তখনই কিছুদিন পর জনপ্রতিনিধির ধর্ষনের শিকার হতে হয় ১০ বছরের একটি শিশু কন্যাকে। কোথায়? একজন মা, একটি ছোট্র শিশুর জন্য তো কেউ মানব বন্ধন করেনি? কেউ বলেনি এদের বিচার না করে ঘরে ফিরবো না। এই ঘটনা গুলোর সময় আমাদের বিবেক আমাদের মানবতা কি ভোঁতা হয়ে গিয়েছিল? প্রতিদিন কোথাও না কোথাও কত মেয়ে নির্যাতিত হচ্ছে, লাঞ্চিত হচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে। আর অমরা লজ্জিত হচ্ছি, অপমানিত হচ্ছি।
আমরা যদি আমাদের মানবতাকে সবার জন্য সমান করতে পারি, আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলতে পারি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পথে- তবেই সৃষ্টি হবে একটি সুন্দর বাংলাদেশ। আমরা যদি সোচ্চার কন্ঠে পৃথিবী কাঁপিয়ে সমস্বরে উচ্চারণ করতে পারি- জেগে উঠো বিবেক, ঘুরে দাঁড়াও মানবতা। গর্জে উঠুক আমাদের কন্ঠ সত্য ও ন্যায়ের মন্ত্রে। ভেঙ্গে ফেল সব দ্বাসত্বের শৃঙ্খল। আমরা কোন দলমত গোষ্ঠির নই, আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের তরে। ঠিক এমনি যদি হয় আমাদের প্রত্যয় তাহলে নিশ্চয়ই সব অন্যায়ের, লজ্জার, অপমানের বিচার আমাদের স্বপ্নের দুয়ারে বন্দি হবে। আমরা নিরাপদে পথ চলব। জানবো আমার দোপাট্টায় কেউ টান দিবে না। সে চিন্তা করার সাহসই কারো থাকবে না। এমন একটি দিনের অপেক্ষায় প্রতিদিন আমি স্বপ্ন দেখি। আমার বিশ^াস আমার স্বপ্ন একদিন সত্যি হবে। প্রতিটা মানুষের মধ্যে ভালোর বোধটা প্রবল। এই বোধটাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তবেই আমদের স্বপ্ন পূরন হবে।
তনুর জন্য আমি কেঁদেছি বহুদিন বহুবার। তনুর মানব বন্ধনে আমি গিয়েছি বিবেকের দংশনে। তনুর বিষয়ে আমি লজ্জিত, আমি অপমানিত। বহুবার তনুর আসনে নিজেকে বসিয়ে দেখেছি এ লজ্জা বেঁচে থাকার নয়। আমার মনে হয়েছে তনু মরে গিয়ে বেঁচে গেছে। বেঁচে থাকলে তনুর লাঞ্চনা শুরু হত নিজ ঘর হতে। তারপর পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজ। সবার সহানুভূতিতে তনু বারবার লজ্জিত হতো। এক সময় মৃত্যুর পথ তাকে নিজ থেকেই বেছে নিতে হতো। আমি বলব তনু মরে বেঁচে গেছে। সে কখনো কারো চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারতো না। আমাদের সমাজ এ অধিকার তাকে কখনো দিতনা। অসহায় বাবা-মা হয়তো ঘরে বন্দি করে রাখতো। এমন একটি জীবনের চেয়ে মৃত্যুর স্বাধীনতা অবশ্যই ভাল। কিন্তু যে মার সন্তানের সামনে বস্ত্রহরন হয়েছে এবং তা নিয়ে বখাটে ছেলেরা আনন্দে মেতে উঠেছে, মায়ের মাথার চুল ফেলে দিয়েছে সেই মা তো বেঁচে আছেন। তার কি হবে? তার বেঁচে থাকাতো প্রতিটি মূহুর্তে মৃত্যুর সমান । তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন থাকে লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করে থাকতে হবে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এই মা। সন্তানের চোখে চোখ রাখার মতো নির্লজ্জ হতে পারবেন না এই মা। ১০বছরের শিশুটি কিছু বোঝার আগেই ঘটে গেছে তার জীবনের চরম দুর্ঘটনা। একজন মানুষরুপি দানব জনপ্রতিনিধি এই ১০ বছরের মেয়েটির সতিত্ব হরন করে। এই ঘৃন্য ঘটনা গুলোর প্রতিবাদ করতে কাউকে দেখিনি। এই সময় আমাদের মানবতা দীর্ঘ ঘুমে অচেতন। আমরা তো পারি আমাদের যার যার অবস্থান থেকে এই ঘটনা গুলোর তীব্র প্রতিবাদ করতে। হয়তো এই ১-২-৩-৪ জন থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেবে অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিশাল কোন প্লাটফর্ম।
সূচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়