প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নিজ স্থানে বসে থাকার ফজিলত!
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- "কোনো নামাজি যখন ফরজ নামাজ শেষ করে নিজের জায়গায় বসে থাকে এবং ওযু নষ্ট না করে! যতক্ষণ সে বসে থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকে।” ( সহীহ বুখারী : ৬৫৯)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনুল বাত্তাল (রহিমাহুল্লাহ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ শারহু সহীহিল বুখারী লি-ইবনু বাত্তাল-এ লিখেছেন:
"হে দুনিয়ার মানুষ! তোমাদের মধ্যে যার গুনাহ অনেক বেশি! সে যদি চায় কোনো কষ্ট ছাড়াই তার গুনাহগুলো মাফ হয়ে যাক! তবে সে যেন প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তার জায়গায় কিছুক্ষণ বসে থাকে। আল্লাহর কসম! যদি সে এমনটি করে, তবে তার গুনাহ বরফের মতো গলে যাবে।”
এই সময়টায় নামাজের পর যেসকল মাসনূন তাসবিহ আছে তা আদায় করতে পারেন।
~মুফতি ইউসুফ বিন ইকবাল হাফিজাহুল্লাহ
Light of Deen
"Guide us to the straight path!"
যতো বেশি গুনাহ করবেন ইবাদতে ততো অনাগ্রহী হবেন। বিপরীতে যতো বেশি গুনাহ ছাড়বেন ইবাদতে ততো মজা পাবেন।
ফরজ নামাজের পর পড়ুন...
03/12/2024
28/11/2024
পবিত্র কুরআন মাজিদ থেকে সংগৃহীত দোয়া। প্রয়োজনে সেভ করে রাখুন।।
ফজরের পর একান্ত না পারলে স্নিগ্ধ বাতাসে ১০ মিনিট হাঁটুন। দেখেন পৃথিবীটা আল্লাহ কতো সুন্দর করে সাজিয়েছেন।
22/11/2024
আজ #শুক্রবার।
একবার হলেও দোয়াটি পড়ুন। বলা তো যায় কিসের উছিলায় আল্লাহ কিয়ামতের সেই কঠিন মুহূর্তে ক্ষমা করে দেন।
20/11/2024
ধরুন, বাসের ভাড়া দিয়ে নেমে দেখলেন, ভাংতি হিশেবে হেল্পার আপনাকে যে বিশ টাকার নোটটা ধরিয়ে দিয়েছে সেটাতে তিনটা তালিজোড়া। আপনাকে নিতান্তই অসাবধান এবং সরল পেয়ে বেচারা হাসতে হাসতেই তার ‘চালাতে না পারা’ নোটখানা ধরিয়ে দিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে।
বাস থেকে নেমে আপনি রিক্সায় উঠলেন। রিক্সা ভাড়া চল্লিশ টাকা। মোক্ষম একটা সুযোগ এলো আপনার হাতে—হেল্পারের ধরিয়ে দিয়ে যাওয়া ছেঁড়া বিশ টাকার নোটটাকে অন্য একটা বিশ টাকার নোট, কিংবা দুটো দশ টাকার নোটের সাথে মিশিয়ে দিয়ে রিক্সাওয়ালার কাছে আপনি তা অনায়েশে চালিয়ে দিতে পারেন। বেচারা টের পেলে তো পেলোই, না পেলে নির্বিঘ্নে আপদটা অন্যের ঘাঁড়ে উঠিয়ে দেওয়া গেল!
কিন্তু, সেই ছেঁড়া বিশ টাকার নোট অন্য নোটের সাথে মিশিয়ে রিক্সাওয়ালাকে গছাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পারলেন না।
আপনি ভাবলেন—কেউ একজন আমার সাথে অন্যায় করেছে বলে সেই একই অন্যায় আমি অন্য একজনের সাথে করতে পারি? এমনও তো হতে পারে—এই ছেঁড়া নোট রিক্সাওয়ালাটা কোথাও চালাতে পারল না। এই নোট চলবে না বলে তাকে দোকানদার চাল না দিতে পারে, ওষুদের দোকানদার ওষুদ না দিতে পারে, এমনকি—নিজের মেয়ের জন্য একটা খেলনা কিনতে গেলেও এই ছেঁড়া নোটের কারণে তাকে ফেরত আসতে হতে পারে।
মানিব্যাগ থেকে নোটটা বের করতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বের করা হলো না আপনার। রিক্সাওয়ালাকে চকচকে দুটো বিশ টাকার নোট দিয়ে ছেঁড়া নোটটাকে মানিব্যাগের অবহেলিত কোণটায় গুঁজে রাখলেন।
এই যে শেষ মুহূর্তের এই বোধ—এটার নাম হলো তাকওয়া। এই কাজটার সাক্ষী কেবল আপনি আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। দুনিয়ার আর কেউ এই ব্যাপারে জানে না। না আপনাকে ধোঁকা দিয়ে যাওয়া সেই বাসের হেল্পার, না যে রিক্সাওয়ালাকে আপনি ধোঁকায় ফেলতে যাচ্ছিলেন সে—কেউ না।
হতে পারে, কেবল এমন একটা অতি-ক্ষুদ্র কাজের জন্য আখিরাতে আপনি জান্নাতে পৌঁছে যাবেন। হতে পারে আপনার সেদিনকার এই কাজটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এতো পছন্দ হয়ে যায় যে—তিনি আপনার পূর্বের আর পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।
কখনোই কোন ভালো কাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এড়িয়ে যাবেন না। হয়তো, ওই কাজটাই হয়ে উঠবে আখিরাতে আপনার নাজাতের চাবিকাঠি।
©আরিফ আজাদ
19/11/2024
★★★মিসওয়াক করার শুরুত্ব ও ফজিলত★★★
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম মেসওয়াক। নবিজি বলেন, ‘জিবরিল আলাইহিস সালাম অহি নিয়ে এসেছেন আর মেসওয়াকের কথা বলেননি- এমনটি কখনো হয়নি। তাই অবস্থা এমন মনে হতো যেন, মেসওয়াক করতে থাকার কারণে আমার মুখের অগ্রভাগ ছিলে যায়। (বুখারি, মুসনাদে আহমাদ, মিশকাত)
মানুষের প্রতিটি কাজে রয়েছে সুন্নাতে নববির দিক নির্দেশনা। নবিজি উল্লেখ করেছেন মেসওয়াকের নিয়ম-কানুন, পদ্ধতি, ফজিলত ও মর্যাদা। দুনিয়া ও পরকালের অগণিত কল্যাণ এবং উপকারিতাও রয়েছে মেসওয়াকে। মেসওয়াক কী? এর গুরুত্ব ইত্যাদি থেকে মেসওয়াকের উপকারিতা ফুটে ওঠে।
মেসওয়াক কী?
মেসওয়াক হলো গাছের ডাল বা শিকড়। যা দিয়ে দাঁত মাজা ও পরিষ্কার করা হয়। দাঁত মাজাকেও মেসওয়াক বলা হয়। হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক মেসওয়াক দ্বারা বুঝা যায়, মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা। গাছের ডালা বা শিকড় দিয়ে প্রত্যেক নামাজ ও ওজুর সময় দাঁত পরিষ্কার করাকে ইসলামে মেসওয়াক বলা হয়।
মেসওয়াকের গুরুত্ব
মেসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়। (বুখারি, নাসাঈ, মিশকাত) অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমনটি কখনো হয়নি যে, জিবরিল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছেন আর আমাকে মেসওয়াকের আদেশ দেননি। এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, মেসওয়াকের কারণে আমার মুখের অগ্রভাগ ছিলে না ফেলি। (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)
মেসওয়াক কী দিয়ে করতে হয়
যেসব গাছের স্বাদ তিতা সেসব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব। যায়তুনের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা উত্তম। মেসওয়াক হাতের আঙ্গুলের মতো মোটা ও নরম হওয়া ভালো। লম্বায় হবে আধা হাত বা এক বিঘত।
মেসওয়াক করার পদ্ধতি
মুখের ডানদিক থেকে দাঁতের প্রস্থের দিকে উপরে-নীচে মেসওয়াক শুরু করা। মুখের দৈর্ঘ্যেও দিকে নয়। হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুও এমনটিই বলেছেন। তাঁর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, ডান পাশ থেকে মেসওয়াক শুরু করা। দাঁতের প্রস্থের দিক তথা দাঁতের উপর থেকে নিচ এবং নিচ থেকে উপরের দিকে মেসওয়াক করা। লম্বা-লম্বি তথা ডান থেকে বামে বা বাম থেকে ডানের দিকে মেসওয়াক না করা।
মেসওয়াক ধরার পদ্ধতি
হাতের মধ্যমা ও তর্জনি আঙুল থাকবে মেসওয়াকের উপর। কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল থাকবে মেওয়াকের নিচে। বৃদ্ধাঙুল ও শাহাদাত আঙুল দিয়ে মেসওয়াকের উপর-নিচ থেকে চাপ দিয়ে শক্তভাবে ধরতে হবে।
মেসওয়াক করার সময়
অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে, অজুতে কুলি করার আগে; কোনো কোনো ইসলামিক স্কলার ওজুর আগে মেসওয়াক করার কথা বলেছেন। এছাড়াও মুস্তাহাব হচ্ছে-
১. নামাজের আগে মেসওয়াক করা,
২. ঘুম থেকে ওঠার পর মেসওয়াক করা,
৩. কোনো মজলিসে যাওয়ার আগে,
৪. কোরআন ও হাদিস তেলাওয়াতের আগে মেসওয়াক করা,
৫. মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের আগে মেওয়াক করা।
৬. ঘরের প্রবেশ করে মেসওয়াক করা।
৭. মুখে দুর্গন্ধ ছড়ালে মেসওয়াক করা।
৮. দাঁতে হলুদ আবরণ বা ময়লাযুক্ত হলে মেসওয়াক করা।
৯. ক্ষুধা লাগলে মেসওয়াক করা।
১০. জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মেসওয়াক করা।
মেসওয়াকের উপকারিতা
১. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেছেন, ‘মেসওয়াক করে যে নামাজ আদায় করা হয়, সে নামাজে মেসওয়াকবিহীন নামাজের তুলনায় সত্তরগুণ বেশি ফজিলত রয়েছে।’ (বায়হাকি)
২. মেসওয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়।
৩. মেসওয়াকে দারিদ্র্যতা দূর হয়ে সচ্ছলতা আসে এবং উপার্জন বাড়ে।
৪. পাকস্থলী ঠিক থাকে ও শরীর শক্তিশালী হয়।
৫. স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে, অন্তর পবিত্র হয় এবং সৌন্দর্য বাড়ে।
৬. ফেরেশতারা তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন, নামাজে বের হলে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া করেন।
৭. মেসওয়াক করলে শয়তান অসন্তুষ্ট হয়।
৮. মেসওয়াক ব্যবহারকারী এ আমলের কারণে ফুলসিরাত বিজলীর ন্যায় দ্রুত পার হবেন এবং ডান হাতে আমলনামা পাবেন, ইবাদতে শক্তি পাবেন।
৯. মেসওয়াকের আমলে মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হবে। পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে মেসওয়াককারী।
ঘন ঘন মেসওয়াক করার উপদেশ
১. নবিজি বলেছেন, মুমিন মুসলমানের প্রকৃতিগত কাজসমূহে একটি হলো- মেসওয়াক করে মুখ পরিষ্কার রাখা।’ (মুসলিম, মিশকাত)
২. নবিজি বলেছেন, ‘বিশেষ করে জুমআর দিন গোসল ও মেসওয়াক করা এবং আতর ব্যবহার করা একান্ত কর্তব্য। (মুসনাদে আহমাদ, বুখারি, আবু দাউদ, জামে)
৩. নবিজি বলেন, ‘জিবরিল (আ.) আমাকে এতবেশি দাঁতন বা মেসওয়াক করতে আদেশ করেছেন, যাতে আমি আমার দাঁত ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।’
৪. অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘এতে আমার ভয় হয় যে, দাঁতন বা মেসওয়াক করা আমার উপর ফরয করে দেওয়া হবে।’ (জামে)
৫. নবিজি বলেন, ‘বাড়িতে প্রবেশ করেই তিনি প্রথম যে কাজ করতেন, তা হল দাঁতন বা মেসওয়াক করা।’ (মুসলিম)
৬. নবিজি আরও বলেন, ‘তাহাজ্জুদ পড়তে উঠলেই তিনি দাঁতন বা মেসওয়াক করেই দাঁত মাজতেন।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)
৭. নবিজি বলেন, নামাজ ছাড়াও রাতের অন্যান্য সময়েও যখন তিনি জেগে উঠতেন; তখনও মেসওয়াক করতেন। আর এই কারণেই রাতে শোয়ার সময় তিনি শিথানে মাথার কাছে দাঁতন বা মেসওয়াক রেখে নিতেন।’ (জামে)
মেসওয়াক বেশি প্রিয় হওয়ার কারণ
১. একবার হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁতন বা মেসওয়াক আনতে আদেশ করে বললেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দা যখন নামাজ পড়তে দাঁড়ায়; তখন ফেরেশতারা তার পেছনে দাঁড়িয়ে কেরাত শুনতে থাকেন। ফেরেশতারা তার কাছাকাছি হতে থাকেন।
পরিশেষে ফেরেশতা নিজ মুখ তার (বান্দার) মুখে মিলিয়ে দেন! ফলে তার মুখ হতে কোরআনের যেটুকুই অংশ বের হয় সেটুকু অংশই ফেরেশতার পেটে প্রবেশ করে। সুতরাং কোরআনের জন্য তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র করো।’ (মুসনাদে বাযযার, তারগিব)
২. নবিজি বলেছেন, ‘মেসওয়াক করে তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র করো। কারণ, মুখ হল কোরআনের পথ।’ (সিলসিলাহ)
৩. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেসওয়াক করে আমাকে তা ধুতে দিতেন। কিন্তু ধোয়ার আগে আমি মেসওয়াক করে নিতাম। তারপর তা ধুয়ে তাঁকে দিতাম।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)
৪. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মেসওয়াক এত প্রিয় ছিল যে, তাঁর ইন্তেকালের আগ মুহূর্তেও তিনি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার দাঁতে চিবিয়ে নরম করে দেওয়া দাঁতন দিয়ে মেসওয়াক করেছেন।’ (বুখারি, মিশকাত)
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেসওয়াক করার ক্ষেত্রে তিনি আরাক (পিল্লু) গাছের (ডাল বা শিকড়ের) দাঁতন বা মেসওয়াক ব্যবহার করতেন। (মুসনাদে আহমাদ)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় মেসওয়াকের আমল করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত অনুযায়ী দুনিয়া ও পরকালের উপকারিতা পাওয়ার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
#মেসওয়াক
#ইসলামিকপোস্ট
#নবীরসুন্নত
*ইবলিশ আল্লাহকে যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলোঃ
--------------------
হযরত আদম আঃ এবং ইবলিশের কাহিনী আমরা সবাই কম বেশী জানি। ইবলিশ আদম আঃ কে সেজদা না করার কারণে সে কাফির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার পরের কিছু কাহিনী আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। ইবলিশ বা শয়তান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। আজকে আমরা সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানব ইং শা আল্লাহ।
ইবলিশ এবং হযরত আদম আঃ এর কাহিনী কোরআন মাজিদের বেশ কয়েকটি সূরায় উল্লেখ্য রয়েছে। তার মধ্যে সূরা বাকারার ৩০ থেকে ৪০ আয়াত, সূরা আরাফের ১১ থেকে ২৭ আয়াত, সূরা বণী ঈসরাইল ৬১ থেকে ৬৫ নং আয়াত, সূরা হিজর আয়াত ২৬ থেকে ৩৯ উল্লেখযোগ্য।
*ইবলিশ আল্লাহকে যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলঃ*
আদম আঃ কে সৃষ্টির পর আল্লাহ যখন সকলকে বললেন সেজদা করতে তখন ইবলিশ সেজদা করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হলো। আল্লাহ তাকে বললেন, "এখানে অহংকার করার তোর কোন অধিকার নেই।" ইবলিশ তার অবাধ্যতার জন্য ক্ষমা না চেয়ে বরং আল্লাহ তা আলার আদেশের বিরুদ্ধে যুক্তি দেখালো। শয়তান আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে কেয়ামত পর্য়ন্ত সময় চেয়ে নিল (দেখুন সূরা বনী ঈসরাইল আয়াত ৬২)। এরপর আল্লাহ তাকে সময় দিলেন (সূরা আরাফ আয়াত ১৫)।
সে বলল, "যে বনী আদমের জন্য আজকে আপনি আমাকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন আপনি আমাকে যদি কেয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দেন তাহলে তাদের বংশধরদের মধ্যে অল্প কিছু লোক ছাড়া বেশিরভাগ মানুষকেই আপনার অনুগত পাবেন না।"
সে আরো জানালো যে, সে তাদেরকে সামনে পিছনে ডানে বামে থেকে আক্রমণ করবে। তখন আল্লাহ ইবলিশের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। তিনি বললেন "আমার মোখলেছ বান্দাদের উপর তোর কোন প্রভাব চলবে না (সূরা হিজর আয়াত ৩৯)৷ তুই যত ইচ্ছা ষড়যন্ত্র কর"।
তারপর হযরত আদম আঃ, হাওয়া আঃ এবং ইবলিসকে একসাথে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বনি আদমদের কে ইবলিশের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশনা যাবে যারা তা অনুসরণ করবে তাদের কোন ভয় ও চিন্তা থাকবে না।
*আমাদের বর্তমান অবস্থাঃ*
এখন আসি আমাদের বাস্তব অবস্থায়। আমার আফিসের পাশেই একটি বড় এবং জাকজমকপূর্ণ মসজিদ রয়েছে। মসজিদে সাধারনত দুই কাতার (লাইন) মুসুল্লি হয় আর বেশীরভাগ অংশই ফাঁকা থাকে। তো একদিন মসজিদে গিয়ে দেখি সলাতে দাঁড়ানের মতো তেমন জায়না নেই, সম্পূর্ণ মসজিদ ভরে বারান্দাও ভরে গেছে। সালাতের পরে ইমাম সাহেব বললেন "এখন একজন মাইয়েতের জানাযা মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।" তখনই বুঝলাম মসজিদে এতো লোক সমাগমের কারণ। আমরা মৃত্যু সম্পর্কে এতটাই বেখবর হয়ে গেছি যে জানাযার নামাজ শেষেও কিছু লোক হাসাহাসি করে। আমি এগুলো দেখে এখন আর আশ্চর্য হই না। জানাযার সালাত তো ফরজে কেফায়া। সমাজের পক্ষ থেকে কয়েকজনে আদায় করলেই ফরজ আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ব্যক্তিগত ফরজ নামাজ তরক হয়ে তা সবাই মিলে চেষ্টা করলেও আদায় করতে পারবে না।
আমরা মৃত্যুর কথা ভুলে গিয়েছি।
শয়তান আমাদেরকে আখিরাতের চিন্তা থেকে ভুলিয়ে রেখেছে। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা মৃত্যুর কথাও স্বরণ করতে চান না, তাতে যদি আজরাইল তার কথা মনে করে ফেলে। একটি কাফনের কাপড়ের দোকানের নাম দেখলাম ”শেষ বিদায় স্টোর”! এই দোকানের নামে দেখলেই মৃত্যুর কথা স্বরণ হয়ে যায়। যেই মৃত্যু থেকে আমরা পালিয়ে বাঁচতে চাই, আমরা নিজেরাও হয়তো জানি না যে আমার বা আপনার কাফনের কাপড় ইতিমধ্যে কাফনের দোকানে চলে এসেছে কি না!!
শয়তান আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে ছিল এবং বর্তমান বিশ্বে সে এবং তার সহযোগিরা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আপনাকে আমাকে পথভ্রষ্ট করতে। কিন্তু আল্লাহর মুখলেছ বান্দার উপর তার কোন প্রভাব খাটবে না। তাই কোরআন মাজিদ অনুধাবন করুন এবং সহিহ হাদিস অনুযায়ী আমল করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাই কে সে তৌফিক এনায়েত করুন আমিন।
Post from উজ্জ্বল ভাই।।
যখন আল্লাহর ইবাদতে আপনার মন না বসে, তখন আশংকা করেন
"আল্লাহর রহমত কমে যওয়ার!!"
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka