12/06/2026
শুক্রবারের সকাল—সারা সপ্তাহের ব্যস্ততার ফাঁকে নিজেকে প্রশ্ন করার সময়। আমরা যেসব মোটিভেশনাল লেকচার শুনি, যেসব আত্মোন্নয়নমূলক বই পড়ি—সেগুলো কি সত্যিই আমাদের জীবনে স্থায়ী সাফল্য এনে দেয়? নাকি ক্ষণিকের উৎসাহ দিয়ে আমাদের ঈমানের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়? জীবনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজতে গিয়ে অনেকেই ইহকালের সাফল্যকেই চূড়ান্ত মনে করে বসেন—অথচ পরকালই মূল গন্তব্য। সফলতার সংজ্ঞা যদি ভুল হয়, তাহলে সারা জীবনের পরিশ্রম একদিন অর্থহীন মনে হবে। তাই বই, লেকচার ও কনটেন্ট বাছাইয়ের সময় সাবধান থাকুন—যা ঈমান মজবুত করে, সেটাই গ্রহণ করুন।
📖 বইয়ের পাতা থেকে:
"আত্মোন্নয়নমূলক বইগুলোতে জীবনের সফলতার কৌশলসমূহ এমনভাবে বর্ণিত হয়, যেগুলো পাঠের পর মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। এই রচনাগুলোর মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলে এমন সূক্ষ্মভাবে কুঠারাঘাত করা হয়, যা আমাদের মতো সাধারণ মুসলিমদের পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। আমি অনেককে চিনি, যারা মোটিভেশনাল লেকচার শুনে এবং আত্মোন্নয়নমূলক বই পড়ে ইহকালীন জীবনে কিছুটা উন্নতি করলেও আল্লাহর ওপর ঈমান হারিয়ে ফেলেছে। তাই এমন মোটিভেশনমূলক বই ও বক্তব্য আমাদের বাছাই করা উচিত; যা ঈমানের ভিত্তিকে মজবুত করে, দুর্বল নয়।"
আজকের জুমার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—যা শুনছি, পড়ছি; সেটা কি দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের পথেও আমাকে এগিয়ে নিচ্ছে?
প্রকাশনী: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স | হার্ডকভার | ১৮৪ পৃষ্ঠা | ২৫০৳
এখনই অর্ডার করুন:
🔸 রকমারি: https://www.rokomari.com/book/509558/life-and-time-management
🔸 ওয়াফিলাইফ: https://www.wafilife.com/life-and-time-management/pd/69873
#লাইফম্যানেজমেন্ট #বই
11/06/2026
সপ্তাহান্ত প্রায় চলে এসেছে—আমরা অনেকেই ভাবছি, আগামী সপ্তাহে কী করব। ভালো ভালো পরিকল্পনা মাথায় ঘোরে, দুআও করি; কিন্তু কাজ শুরু করার সাহস হয় না। মনে রাখবেন—তাওয়াক্কুল মানে চুপ করে বসে থাকা নয়। তাওয়াক্কুল মানে—আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রথম পদক্ষেপটি ফেলা। যে চাওয়ার পেছনে উদ্যোগ নেই, প্রচেষ্টা নেই—সেটা প্রকৃত চাওয়া নয়, এক ধরনের দিবাস্বপ্ন মাত্র। টাইম ম্যানেজমেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী রহস্য এখানেই—দুআ + পরিকল্পনা + শুরু করা। যে কাজটি আপনি গত তিন মাস ধরে পিছিয়ে দিচ্ছেন, এই সপ্তাহান্তে আজই তার প্রথম ছোটো পদক্ষেপটি নিয়ে ফেলুন।
📖 বইয়ের পাতা থেকে:
"তাওয়াক্কুলের পর আপনাকে যথাযথ উপায়ে কাজ শুরু করতে হবে। এটা তাওয়াক্কুলেরই দাবি। আপনি মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে কিছু চাইলেন; কিন্তু সেটা পাওয়ার জন্য কোনো প্রচেষ্টা, উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই, শুরু করার সাহসও নেই; তাহলে বুঝতে হবে, আপনার চাওয়া বা আকাঙ্ক্ষা দুর্বল। আপনার চাওয়ার পেছনে মহৎ কোনো উদ্দেশ্য নেই। অর্থাৎ আপনার মূল্যবোধের ভিত্তিগুলো দুর্বল। সুতরাং এখন থেকেই আপনার মূল্যবোধের ভিত্তিগুলো মজবুত করতে কাজ করুন। শানিত মূল্যবোধের সাথে কিছু স্বপ্ন যোগ করে আপাত অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।"
দুআর পরে দরকার পদক্ষেপ—আজই শুরু করুন, যত ছোটোই হোক না কেন।
প্রকাশনী: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স | হার্ডকভার | ১৮৪ পৃষ্ঠা | ২৫০৳
এখনই অর্ডার করুন:
🔸 রকমারি: https://www.rokomari.com/book/509558/life-and-time-management
🔸 ওয়াফিলাইফ: https://www.wafilife.com/life-and-time-management/pd/69873
#বই
09/06/2026
প্রকৌশলী ভাই ও বোনদের অবগতির জন্য PEng এবং IntPE-এর আবেদন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন! 📢
আপনার প্রকৌশল ক্যারিয়ারকে আন্তর্জাতিক মানে (IPEA) উন্নীত করতে BPERB-এর মাধ্যমে Professional Engineer (PEng) অথবা International Professional Engineer (IntPE) সার্টিফিকেশনের আবেদন প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং সুসংগঠিত । ঘরে বসেই কীভাবে আপনার আবেদন সম্পন্ন করবেন, তার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
💻 ধাপ ১: অনলাইন পোর্টাল ও প্রোফাইল তৈরি (Online Application)
• আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি www.bperb.net পোর্টালে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে ।
• পোর্টালে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা নির্ভুলভাবে পূরণ করুন ।
• আপনি যদি IntPE-এর জন্য আবেদন করেন, তবে আপনার জীবনবৃত্তান্তের (CV) প্রথম পাতার একদম উপরে “Application for IntPE” কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে ।
📂 ধাপ ২: প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড (Required Documents) আবেদনটি চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার আগে পোর্টালে নিম্নোক্ত নথিপত্রগুলো (PDF ফরম্যাটে) আপলোড নিশ্চিত করুন:
• পুঙ্খানুপুঙ্খ জীবনবৃত্তান্ত (CV)
• শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসমূহ
• প্রফেশনাল মেম্বারশিপ বা অ্যাফিলিয়েশন সার্টিফিকেট
• বিগত ১২ মাসের সিপিডি (CPD) রেকর্ড ও রিপোর্ট
• নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত সেলফ-অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট (Self-Assessment Report)
• চাকরি ও বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজের অভিজ্ঞতার রেকর্ড
• নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধের ট্রানজেকশন রিসিট বা পেমেন্ট স্লিপ
👥 ধাপ ৩: স্পন্সর ভ্যালিডেশন (Validation by Sponsors)
• আবেদনের জন্য ২ জন স্পন্সরের সুপারিশ প্রয়োজন, যাঁরা আপনার কাজের যোগ্যতা ও নৈতিকতা সম্পর্কে অবগত ।
• স্পন্সরদের অবশ্যই IEB-এর ন্যূনতম ১০ বছর স্থায়ী ফেলো (Fellow) হতে হবে অথবা ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদী PEng হোল্ডার হতে হবে ।
• আপনি পোর্টালে স্পন্সরদের তথ্য সাবমিট করলে, BPERB সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের ইমেইলে একটি লিংক পাঠাবে, যার মাধ্যমে তাঁরা অনলাইনে সরাসরি তাঁদের 'স্টেটমেন্ট অফ সাপোর্ট' জমা দিতে পারবেন ।
⏱️ স্ক্রুটিনি ও পরবর্তী ধাপ: আপনার আবেদনটি সাবমিট হওয়ার পর BPERB রেজিষ্ট্রি আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গতা যাচাই করে আপনাকে প্রাপ্তি স্বীকার বার্তা পাঠাবে । কোনো কাগজপত্র বাদ পড়লে তা পোর্টালের মাধ্যমে পুনরায় চাওয়া হবে । সমস্ত নথিপত্র সঠিকভাবে জমা হওয়ার পরই কেবল আপনার আবেদনটি পরবর্তী ৩টি ধাপে (সেলফ-অ্যাসেসমেন্ট মার্কিং, ৩ ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা এবং প্রেজেন্টেশনসহ ওরাল ইন্টারভিউ) মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হবে ।
আপনার পেশাগত যোগ্যতার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জনের যাত্রা আজই শুরু করুন!
🌐 এখনই ভিজিট করুন: www.bperb.net
📧 যেকোনো সহযোগিতায় ইমেইল: [email protected]
04/06/2026
প্রবীণদের (পিতা-মাতা ও শ্বশুর-শাশুড়ি) বার্ধক্যজনিত আচরণকে যদি আমরা আমাদের সন্তানদের মতো করেই "অবুঝ" ও "অপরিপক্ব" হিসেবে বিবেচনা করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে পারি, তবে সমাজ থেকে পারিবারিক অশান্তির সিংহভাগই দূর হয়ে যাবে।
ইসলাম এই দৃষ্টিভঙ্গিকেই জোরালোভাবে সমর্থন করে। কুরআন এবং হাদিসের আলোকে এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বার্ধক্য ও শৈশবের সাদৃশ্য: কুরআনের বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মানুষের জীবনচক্রের একটি বিশেষ নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন—মানুষ বৃদ্ধ হলে তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা আবার শিশুর মতো হয়ে যায়।
• কুরআনের বাণী: আল্লাহ বলেন:
"আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ উপনীত হয় নিকৃষ্টতম বয়সে (বার্ধক্যে), যার ফলে সে যা জানত সে সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়ে।" (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৭০)
• শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া: পিতা-মাতার বার্ধক্যের আচরণকে কেন সন্তানের শৈশবের মতো দয়া ও ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে হবে, তা আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন:
"এবং অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বোলো, 'হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করেছিলেন।'" (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৪)
তাৎপর্য: এই আয়াতে আল্লাহ বলছেন, আমরা যখন শিশু ছিলাম, অবুঝ ছিলাম, তখন আমাদের মা-বাবা যেমন আমাদের মলমূত্র পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে সব অযৌক্তিক কান্না ও আবদার দয়া দিয়ে আগলে রেখেছিলেন; আজ তারা বৃদ্ধ বয়সে অবুঝ হয়ে গেলে আমাদেরও ঠিক সেই একই রকম দয়া (Mercy) ও সহনশীলতা দেখাতে হবে।
২. প্রত্যাশার পারদ কমানো এবং প্রজ্ঞার ভুল ধারণা
আমরা মনে করি তারা বড়, তাই তারা সবসময় "প্রাজ্ঞ" আচরণ করবেন। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায় যে, বয়স বাড়লে মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও সহ্যক্ষমতা কমে যায়।
• অবুঝ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা: একজন শিশু যখন ভুল করে, আমরা রাগ করি না কারণ আমরা জানি তার জ্ঞান অপরিপক্ব। একইভাবে, একজন ৭০-৮০ বছরের বৃদ্ধ যখন কোনো অযৌক্তিক জেদ করেন, তখন তাকে "জ্ঞানী গুরুজন" হিসেবে না দেখে যদি "একজন অবুঝ শিশু" হিসেবে মনে করা যায়, তবে মনের ভেতর ক্ষোভ বা অহংকার জন্ম নেয় না।
• রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাধারণ নীতি: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না।" (সহীহ বুখারী)
এই দয়া ও ক্ষমার দৃষ্টি সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য আমাদের ঘরের প্রবীণদের, তারা যৌক্তিক হোন বা অযৌক্তিক।
৩. শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন
ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ক কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, দুটি পরিবারের মিলন। শ্বশুর-শাশুড়ি হলেন নিজের পিতা-মাতার মতোই শ্রদ্ধেয়।
নিজের সন্তান ভুল করলে আমরা সমাজ বা লোকলজ্জার ভয়ে তাকে ত্যাজ্য করি না, বরং তার ভুল আড়াল করি। শ্বশুর-শাশুড়ির কোনো আচরণ অযৌক্তিক মনে হলে সেটিকেও যদি "বয়সের কারণে তারা অবুঝ হয়ে গেছেন" ভেবে ক্ষমা করে দেওয়া যায় এবং সন্তানদের মতো করেই তাদের দেখভাল করা যায়, তবে কোনো সংসারে শাশুড়ি-বউ বা শ্বশুর-জামাইয়ের দ্বন্দ্ব উগ্র রূপ নিতে পারে না।
৪. দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে পারিবারিক অশান্তি যেভাবে কমবে
যদি আমরা বড়দের "অবুঝ" বা "শিশু সুলভ" ভেবে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখি, তবে পরিবারে নিচের ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আসবে:
• অহংকার ও তর্কের অবসান: আমরা সমকক্ষ বা বড়দের সাথে তর্কে লিপ্ত হই। কিন্তু যখনই আমরা মা-বাবা বা শ্বশুর-শাশুড়িকে "মানসিকভাবে শিশু" মনে করব, তখন তাদের কথার পিঠে কথা বলার প্রবণতা বা অহংকার একদম ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
• মানসিক শান্তি: বড়দের প্রতি ক্ষোভ জমিয়ে রাখলে নিজের মনের শান্তি নষ্ট হয়। তাদের আচরণকে বয়সের দোষ বা অবুঝপনা ভাবলে নিজের মন হালকা থাকে।
• সন্তানদের জন্য জীবন্ত শিক্ষা: আমরা আমাদের মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়ির অবুঝ আচরণ যেভাবে সহ্য করব, আমাদের সন্তানরাও তা দেখবে। ফলে ভবিষ্যতে আমরা যখন বৃদ্ধ ও অবুঝ হব, আমাদের সন্তানরাও আমাদের প্রতি একই রকম দয়া প্রদর্শন করবে। এটিই প্রকৃতির ও ইসলামের নিয়ম।
একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ
আমরা সাধারণত যা করি ইসলামের আলোকে আপনার প্রস্তাবিত দৃষ্টিভঙ্গি
সন্তানের অন্যায়কে 'অবুঝ' ভেবে হেসে উড়িয়ে দিই বা সহজে ক্ষমা করি। সন্তানের মতোই পিতা-মাতা/শ্বশুর-শাশুড়ির অযৌক্তিক আচরণকে বার্ধক্যের 'অবুঝপনা' ভেবে ক্ষমা করা।
প্রবীণদের কাছ থেকে সবসময় নিখুঁত ও প্রাজ্ঞ আচরণ আশা করে আঘাত পাই। মেনে নেওয়া যে বার্ধক্য মানুষকে আবার শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, তাই তাদের আচরণ নিখুঁত নাও হতে পারে।
বড়দের অযৌক্তিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তর্কে জড়াই, যা কলহ সৃষ্টি করে। তাদের শিশুর মতো গণ্য করে ভালোবাসার সাথে জড়িয়ে ধরা এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখা।
পরিশেষ:
"পিতা-মাতা ও শ্বশুর-শাশুড়ির আচরণকে দয়া ও অবুঝের দৃষ্টিতে দেখা"—হলো ইসলামের 'ইহসান' (সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার)-এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতাকে পেয়েও যে জান্নাত লাভ করতে পারল না, সে ধ্বংস হোক।" (সহীহ মুসলিম)। জান্নাত লাভের এই সহজ উপায়টি তখনই অর্জিত হবে, যখন আমরা তাদের সমস্ত খিটখিটে মেজাজ ও অযৌক্তিক আচরণকে পরম মমতায় ও ক্ষমার দৃষ্টিতে গ্রহণ করতে পারব।
04/06/2026
বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। বার্ধক্যের কারণে অনেক সময় তাদের আচরণে শিশুসুলভ জেদ, খিটখিটে মেজাজ বা যৌক্তিকতা হারিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এই সময়ে তাদের প্রতি সর্বোচ্চ ধৈর্য, দয়া এবং সেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সন্তান হিসেবে অনেক সময় তাদের সাময়িক অনিচ্ছা বা জেদের বিরুদ্ধে গিয়েও তাদের প্রকৃত কল্যাণের (যেমন: চিকিৎসা করানো, ওষুধ খাওয়ানো বা ডাক্তার দেখানো) জন্য পদক্ষেপ নিতে হয়। এই বিষয়টি ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি তাদের প্রতি অবাধ্যতা নয়, বরং এক প্রকার 'এহসান' বা উত্তম আচরণ।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে এই বিষয়ের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা নিচে আলোচনা করা হলো:
# # ১. বার্ধক্যে বাবা-মায়ের আচরণ ও কুরআনের নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বার্ধক্যে উপনীত বাবা-মায়ের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং তাদের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। সূরা আল-ইসরা-তে ইরশাদ হয়েছে:
> "তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং বাবা-মায়ের সাথে উত্তম ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উফ' শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলো। আর অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনমিত করো এবং বলো— হে আমার পালনকর্তা! তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছিলেন।"
> — **সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৩-২৪**
>
**ব্যাখ্যা:** এই আয়াতে আল্লাহ বাবা-মায়ের বার্ধক্যকালকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। কারণ এই সময়ে তারা শারীরিকভাবে দুর্বল এবং মানসিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। সন্তান শৈশবে যেমন না বুঝে অবুঝ আচরণ করে, বাবা-মাও বৃদ্ধ বয়সে অনেক সময় তেমন আচরণ করতে পারেন। আল্লাহ সন্তানকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা কোনো অবস্থাতেই বিরক্ত প্রকাশ না করে ('উফ' না বলে) এবং পরম মমতায় তাদের আগলে রাখে।
# # ২. ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কল্যাণের কাজ করা: শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামে বাবা-মায়ের আনুগত্য করা ফরজ, তবে তা ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তা আল্লাহর আদেশের বিরোধী হয় অথবা তাদের নিজেদের জন্য ক্ষতিকর হয়। কোনো অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মা যদি অবুঝপনা বা রোগের তীব্রতার কারণে ডাক্তার দেখাতে বা ওষুধ খেতে না চান, তবে তাদের সেই 'অনিচ্ছা' মেনে নেওয়া সন্তানের জন্য জরুরি নয়।
* **হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ সন্তানের দায়িত্ব:** ইসলামি ফিকহের নীতি অনুযায়ী, বাবা-মা যখন নিজেদের ভালো-মন্দ বিচার করার শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, তখন তাদের জানমাল ও স্বাস্থ্যের হেফাজত করার দায়িত্ব সন্তানের ওপর বর্তায়।
* **ক্ষতি থেকে বাঁচানো অগ্রাধিকার পায়:** সন্তান যদি দেখে যে চিকিৎসা না করালে তার বাবা বা মায়ের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে কিংবা কষ্ট বাড়বে, তবে তাদের সাময়িক অসন্তুষ্টির চেয়ে তাদের জীবন রক্ষা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা বড় কর্তব্য। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত নীতিমালার আওতাভুক্ত: *"ইসলামে নিজের ক্ষতি করা যাবে না, অন্যের ক্ষতিও করা যাবে না (লা জারারা ওয়া লা জিরার)"*। তাই তাদের নিজেদের অবুঝ সিদ্ধান্ত থেকে তাদের রক্ষা করা সন্তানের দায়িত্ব।
# # ৩. সেবা ও চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনা
রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থতায় চিকিৎসা গ্রহণের জোর তাগিদ দিয়েছেন এবং বাবা-মায়ের সেবাকে জিহাদের চেয়েও উত্তম বলেছেন।
* **চিকিৎসা গ্রহণ সুন্নাত:** রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
> "হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার প্রতিষেধক তিনি তৈরি করেননি; কেবল একটি রোগ ছাড়া। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সেটি কী? তিনি বললেন— বার্ধক্য।"
> — **সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫**
> *(যেহেতু বার্ধক্যজনিত রোগের মূল নিরাময় নেই, তাই এই সময়ে তাদের কষ্ট লাঘব করার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সন্তানের দায়িত্ব।)*
>
* **জান্নাত লাভের মাধ্যম:** রাসুলুল্লাহ (সা.) সেই সন্তানের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যে বাবা-মায়ের বার্ধক্যে তাদের সেবা করে জান্নাত নিশ্চিত করতে পারল না। হাদিসে এসেছে:
> "তার নাক ধুলাধূসরিত হোক, তারপর তার নাক ধুলাধূসরিত হোক, তারপর তার নাক ধুলাধূসরিত হোক। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কার? তিনি বললেন— যে ব্যক্তি তার বাবা-মা উভয়কে অথবা যেকোনো একজনকে বার্ধক্যাবস্থায় পেল, অথচ (তাদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।"
> — **সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫১**
>
# # ৪. এই পরিস্থিতিতে সন্তানের করণীয় (কৌশল ও আচরণ)
যদিও কল্যাণের স্বার্থে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিকিৎসা করাতে হতে পারে, তবে তা করার পদ্ধতিটি অত্যন্ত মার্জিত ও কৌশলী হওয়া উচিত:
* **জোরজবরদস্তি না করে বুঝিয়ে বলা:** তাদের সাথে শাসকের মতো আচরণ না করে, সন্তান হিসেবে অত্যন্ত বিনয় ও ভালোবাসার সাথে বোঝাতে হবে। যেমন: "তুমি না থাকলে আমাদের কে দেখবে?" বা "তোমার কষ্ট হলে আমাদের খারাপ লাগে"— এই ধরনের আবেগীয় ও সম্মানসূচক কথা ব্যবহার করা।
* **কৌশল অবলম্বন করা:** অনেক সময় সরাসরি ডাক্তারের কাছে যেতে না চাইলে, ঘরোয়াভাবে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে অথবা অন্য কোনো প্রিয় আত্মীয়ের মাধ্যমে তাদের রাজি করানো যেতে পারে।
* **ধৈর্যের চরম পরীক্ষা:** মানসিক বা ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) জনিত রোগের কারণে তারা যদি সন্তানকে ভুল বোঝেন বা গালমন্দও করেন, তবে তা হাসিমুখে সয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শৈশবে আমাদের মলমূত্র পরিষ্কার করা বা অবুঝ কান্নার সময় তারা এই একই ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন।
**উপসংহার:**
অসুস্থ বাবা-মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের ডাক্তার দেখানো বা চিকিৎসা করানো কোনো অবাধ্যতা নয়, বরং এটি তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনেরই অংশ। তবে এই কাজটি করার সময় যেন আমাদের ভাষা, আচরণ বা অঙ্গভঙ্গিতে কোনো প্রকার অহংকার বা কর্কশতা প্রকাশ না পায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বাবা-মায়ের বার্ধক্যে তাদের উত্তমভাবে সেবা করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
03/06/2026
Apply for Registered Engineer (ECPS) online. pay online. Most convenient.
BPERB – Bangladesh Professional Engineers Registration Board
Official website of BPERB — Bangladesh's national authority for recognising professional engineering competence. Established under IEB.
01/06/2026
https://bperb.net/index.php
BPERB – Bangladesh Professional Engineers Registration Board
Official website of BPERB — Bangladesh's national authority for recognising professional engineering competence. Established under IEB.
31/05/2026
বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার যারা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশনে আছেন, তাদেরকে বলব, অতিদ্রুত PEng এর জন্য অনলাইনে এপ্লাই করতে। যারা ইতিমধ্যে RAJUK ECPS enlisted তারাও মিস করবেন না। এখন পরিক্ষা এবং ভাইভা নিচ্ছে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার ছাড়া বাকি PEng holder যারা আছেন তারা। পাশের হার ৪০% প্রায়। ভবিষ্যতে দিন দিন কড়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সহজ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
BPERB – Bangladesh Professional Engineers Registration Board
Official website of BPERB — Bangladesh's national authority for recognising professional engineering competence. Established under IEB.
30/05/2026
https://bperb.net/foreign-pe-to-intpe.php
BPERB – Bangladesh Professional Engineers Registration Board
Official website of BPERB — Bangladesh's national authority for recognising professional engineering competence. Established under IEB.