Campaign Education

Campaign Education

Share

"Excellent" is our destination.

23/04/2026

বিজ্ঞপ্তি - এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬
ফরম পূরণের সময় বর্ধিতকরণ

Photos from Campaign Education's post 22/04/2026

♦️♦️♦️HSC 2026 এর রুটিন♦️♦️♦️

14/04/2026

🌼 শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ 🌼
"ক্যাম্পেইন এডুকেশন" পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
নতুন বছর হোক নতুন শুরু, নতুন স্বপ্ন আর সুন্দর আগামীর প্রতিশ্রুতি সবার জীবনে আসুক সুখ, সাফল্য আর শান্তি।
শুভ নববর্ষ!

স্বাধীনতার ঘোষণা মুজিব নাকি মেজর জিয়া।
জিয়ার ঘোষণা ২৬ তারিখ নাকি ২৭ তারিখ।
একটা ভিডিও সকল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এখানে আপনি সফল এনসার পেয়ে যাবেন। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখুন ভিডিও। 

২৩শে মার্চ, ১৯৭১

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট আর্মি বন্দরে অবস্থানরত অস্ত্র বোঝায় পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজ সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য নতুন পাড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে যাতে বের হতে না পারে তারজন্য চট্টগ্রামের বিপ্লবী ছাত্ররা ষোলশহর দুই নম্বর রেলগেটে ব্যারিকেড দিয়েছে। এর আগে সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য পাকিস্তানি আর্মি সুযোগ খুঁজছিল কয়েকদিন ধরে, কিন্তু বাঙালি ছাত্র-জনতা, জেটি শ্রমিকদের প্রতিরোধের মুখে পেরে উঠছিল না। পাকিস্তানি আর্মি বেপরোয়া হয়ে আছে অস্ত্র খালাসের জন্য। বিগ্রেডিয়ার মজুমদার এম. আর সিদ্দিকীকে জানিয়েছেন, আর্মিদের আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। চট্টগ্রাম মার্শাল ল' এডমিনিস্ট্রেটরকে চরমপত্র দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোয়াতের অস্ত্র খালাস করার জন্য। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্র খালাস না হয় তাহলে স্বয়ং পাকিস্তান সরকার হস্তক্ষেপ করবে। 

২৩শে মার্চ, ১৯৭১, বিকেল! 

দশ-বারোজন সৈন্যসহ পাকিস্তানি মিলিটারির একটি জীপ নতুন পাড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসে ষোলশহর ছাত্র-জনতার ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। জিপ থেকে একজন অফিসার ক্রুদ্ধ হয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার বাংলায় বলছে, 'রাস্তা থেকে ওয়াগন সরাও। আমি বৈকালিক ভ্রমনে বের হইনি। গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরিয়েছি। পথ পরিষ্কার করো আর আমাকে যেতে দাও।'

ব্যারিকেড দেয়া ছাত্র-জনতার মাঝখান থেকে কন্ঠে দ্বিগুণ তেজ মিশিয়ে একজন বলল, 'আপনিও আমাদের মতো বাঙালি। সোয়াতের অস্ত্র খালাস করতে পাকিস্তানি মিলিটারির যাওয়া আটকাতে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। আপনি জানেন এত অস্ত্র পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে পৌঁছালে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। পরিস্থিতি বোঝার কথা আপনারও।'

অফিসার দ্বিগুণ ক্রোধান্বিত কন্ঠে বলল, 'কথা বাড়িও না। ওয়াগন সারাও আমাকে যেতে দাও।'

সাথে সাথে উপস্থিত প্রায় সবাই সমস্বরে চিৎকার দিয়ে বলল, 'ব্যারিকেড সরানো হবে না। জীবন গেলেও না।'

এবার অফিসার অনেকটা চিৎকার করে বলল, 'তোমরা আমাকে চেন না। আমি মেজর জিয়াউর রহমান। ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড আমি। জরুরি প্রয়োজনে আমাকে স্টেশন হেড কোয়ার্টারে যেতে হবে। ব্যারিকেট সরাও। আমাকে যেতে দাও।'

ছাত্র-জনতার কাতার থেকে একজন বলল, 'আপনার জরুরি প্রয়োজনটা কী, বাঙালিদের হত্যার করতে কীভাবে সোয়াতের অস্ত্র খালাস করে পাকিস্তানি মিলিটারি ও বিহারিদের হাতে তুলে দেয়া যায় বিগ্রেডিয়ার আনসারীর সাথে বসে সেই পরিকল্পনা করা তো! আপনি কি বাঙালি হয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন?'

অফিসার বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে ভিড়ের দিকে তাকিয়ে বলল, 'ইউ ব্লাডি সিভিলিয়ান! আর্মির বিষয়ে মাথা ঘামিও না। ব্যারিকেড হটাও। আমাকে আমার কাজ করতে দাও।'

জয় বাংলা বাহিনীর ছেলেরাও দৃঢ়তার সাথে বলল, 'আমাদের শরীরের একবিন্দু রক্ত অবশিষ্ট থাকতে ব্যারিকেড উঠবে না। দেখি আপনি কী করতে পারেন।'

'এর খেসারত তোমাদের দিতে হবে!' হুমকির সুরে কথাটি বলে অফিসার রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে জিপ নিয়ে সেনানিবাসের দিকে ফিরে গেল। জ্বি, ইনি মেজর জিয়াউর রহমান। 

২৫শে মার্চ, রাত ৯টা!

ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম রণাঙ্গনে ছোটাছুটি করছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ইপিআর, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী এবং ছাত্রজনতার সাথে সমন্বয় করে চলেছেন, মেজর জিয়াউর রহমান তখন ছাত্রলীগ নেতা তোহা গাজীর পূর্বে থেকে সৃষ্টি করা শত শত ব্যারিকেড সরিয়ে বন্দরের দিকে আগাচ্ছেন জানজুয়ার নির্দেশে সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য। অথচ সন্ধ্যায় ক্যাপ্টেন রফিক আওয়ামী লীগ নেতা ডা. জাফরকে বলেছেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে যেন ঢাকার গণহত্যা শুরু হওয়ার খবর পাঠান। যাতে করে মেজর জিয়াউর রহমানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা বাঙালিদের পক্ষে কাজ শুরু করতে পারে। ডা. জাফর সেই খবর জিয়াউর রহমানকে পৌঁছেছিলেনও। মেজর জিয়াউর রহমান একের পর এক ব্যারিকেড সরিয়ে বন্দরের পথে টাইগারপাস পর্যন্ত আসলে পথিমধ্যে দেখা হলো এসপি শামসুল হকের সাথে। দেখা হওয়ার সাথে সাথে মেজর জিয়া এসপি শামসুল হককে তার সৈন্যদের দিয়ে ব্যারিকেড সরানোয় সাহায্য চাইলেন। এসপি শামসুল হক বললেন, 'বন্দরের দিকে না যাওয়ায় ভালো। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আপনি আপনার অবস্থানে ফিরে যান।' মেজর জিয়া এসপি শামসুল হকের কথা না শুনে সৈন্যদের নিয়ে ব্যারিকেড সরানোয় মনোযোগ দিলেন।

ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান খবর পেলেন মেজর জিয়াউর রহমান জানজুয়ার নির্দেশে সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য বন্দর অভিমুখে রওয়ানা হয়েছেন। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান গাড়ি ছুটিয়ে গেলেন জিয়াকে থামাতে। আগ্রাবাদ পর্যন্ত এসে দেখলেন মেজর জিয়া সৈন্য সামন্ত নিয়ে ব্যারিকেড ভাঙছেন। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান সবিস্তারে বুঝিয়ে বললেন মেজর জিয়াকে। এরপর মেজর জিয়া রণে ভঙ্গ দিলেন। তিনি নৌবাহিনীর গাড়িতে কয়েকজন অবাঙালি সৈন্য এবং রক্ষী নিয়ে ষোলশহরে ফিরে গেলেন। 

২৫শে মার্চ, দিবাগত-রাত ২৬শে মার্চ, রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর! 

নতুন পাড়া সেনানিবাসের ভিতরে শত শত বাঙালি সৈনিক হত্যা করেছে পাকিস্তানি আর্মিরা।' জয় বাংলা বাহিনীর প্রধান মৌলভী সৈয়দ আহমদকে খুবই বিচলিত দেখাচ্ছে। সে আর বসে থাকতে পারছে না। অস্থিরভাবে পায়চারি শুরু করলো। কিছুক্ষণ পর সতীর্থদের অপেক্ষা করতে বলে ছুটলো রেলওয়ে হিলে ক্যাপ্টেন রফিকের সাথে দেখা করতে। রেলওয়ে হিলে পৌঁছে সৈয়দ আহমদ চৌধুরী দেখলো ক্যাপ্টেন রফিক অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন। সৈয়দ আহমদ অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে সেনানিবাসের পরিস্থিতি জানতে চাইলো। ক্যাপ্টেন রফিক বললেন, '৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান এবং ই বি আর সি এর নেতৃত্বে থাকা সেনানিবাসের লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম আর চৌধুরীর ওপর দায়িত্ব ছিল সেনানিবাসে আক্রমণ করে ২০-বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যদের কব্জায় নিয়ে আসা। কিন্তু ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ২০-বেলুচ রেজিমেন্টের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যাননি। লে. কর্নেল এম. আর. চৌধুরী সেনানিবাসে জিয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মেজর জিয়াউর রহমান বেলুচিদের বিরুদ্ধে অভিযানে না গিয়ে যাচ্ছিলেন সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য বন্দরে। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান তাকে ফিরিয়ে এনেছে। তিনি ষোলশহরে বসে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন। এদিকে বেলুচ সৈন্যরা ক্ষিপ্র গতিতে আক্রমণ করে বাঙালি সৈন্যদের হত্যা করেছে। সেখানে দুই হাজারের বেশি বাঙালি সৈন্য ছিল। বোধহয় প্রাণ নিয়ে কেউ বের হতে পারেনি।' ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম থামলেন। ঘরময় নেমে এলো বিষাদ ও নিরবতা। 

একই রাত, ষোলশহর, চট্টগ্রাম!

অবশেষে অরিন্দম কহিলা বিষাদে। এবং মেজর জিয়াউর রহমানও অবশেষে বললেন, "উই রিভোল্ট"! ইতোমধ্যে চলে গেছে অনেক সময়, চলে গেছে অনেক প্রাণ। পাঠক, জিয়াউর রহমান 'উই রিভোল্ট' বলার আগে বঙ্গবন্ধু তার রাজনীতিক জীবন পাকিস্তান শাসকের বিরুদ্ধে রিভোল্ট করেই দেড়-দশক জেল খেটেছেন। আগরতলা সত্য মামলায় বঙ্গবন্ধুকে জেলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গোটা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ যখন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে 'রিভোল্ট' করে উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল, মেজর জিয়াউর রহমান সেই বছরই পাকিস্তান শাসকের একনিষ্ঠ আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে মেজর পদবীতে জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের দায়িত্ব লাভ করেন। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে যখন বঙ্গবন্ধু ও সমবেত লক্ষ জনতার সাথে গলা মিলিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের কোটি মানুষ 'জয় বাংলা' বলতে শুরু করেছে সেটাই শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের 'রিভোল্ট', ৭ই মার্চ থেকে ইয়াহিয়ার সাথে বঙ্গবন্ধুর ব্যর্থ গোলটেবিল আলোচনার দিন পর্যন্ত রিভোল্ট করেই পাকিস্তানি মিলিটারির বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দিয়ে মারা গেছে কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষ। তখনও মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি মিলিটারির অনুগত সদস্য। সুতরাং জিয়াউর রহমানের 'উই রিভোল্ট' স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরুয় কতটা ভুমিকা ছিল সেই আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক। আমরা বরং পরবর্তী দৃশ্যপটে নজর দিই।

কালরাত্রি, ঢাকা, ধানমন্ডি বত্রিশ! 

ঢাকায় গোলাগুলি শুরু হতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার লিখিত ঘোষণা দেয়ার জন্য মনস্থির করেন। কিন্তু কী উপায়ে সেটা করবেন, তাঁর বাসার টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তার মনে পড়েছিল দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু ও বিশ্বস্ত সহচর জহুর আহমদ চৌধুরীর কথা। চট্টগ্রাম জহুর আহমদ চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনোভাবে তার কাছে পাঠিয়ে দিতে পারলে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের ব্যবস্থা করবেন। পাশের এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠালেন চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে। ওয়‍্যারলেসেও পাঠালেন। সরাসরি ঘোষণা না হলেও বিকল্প উপায়ে সেই ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। এর সাক্ষী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহযোগী হাজি গোলাম মোরশেদ। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'রাত বারোটা বাজে বাজে, এমন সময় একটি টেলিফোন আসলো আমার বাসায়। ও প্রান্ত থেকে বললেন 'আমি বলধা গার্ডেন থেকে বলছি। মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে। মেশিন নিয়ে কী করব?' আমি মুজিব ভাইয়ের কাছে দৌড়ে গেলাম। বললাম, মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে। উনি (বঙ্গবন্ধু) বললেন, 'মেশিনটা ভেঙে ফেলে পালিয়ে যেতে বল।' ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হাজি গোলাম মোরশেদও ৩২ নম্বর থেকে গ্রেপ্তার হন। বার্তাটি যিনি পাঠিয়েছিলেন, তিনি হলেন প্রকৌশলী নুরুল হক। ২৯ মার্চ মহাখালীর ওয়্যারলেস কলোনির বাসভবনে ঢুকে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ভিন্ন উপায়ে এই ঘোষণাটি প্রতিটি জেলায় পাঠানো হলো।

২৬শে মার্চ, সকাল।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পাথরঘাটস্থ বাসভবন জুপিটার হাউজে জহুর আহমদ চৌধুরী, এম, আর সিদ্দিকী, এম. এ. হান্নান এসে একত্রিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের বেলাল মোহাম্মদকে খবর দিয়ে আনানো হয়েছে। শুরুতে আলোচনা হয়েছে গত রাতের বিষয়াদির ওপর। রাত সাড়ে বারটার দিকে ঢাকার পিলখানা থেকে ওয়‍্যারলেসে বঙ্গবন্ধুর একটি বার্তা পান চট্টগ্রামের হালিশহর ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ৫ নম্বর সেক্টর সদর দফতরের সিগন্যালম্যান আবুল খায়ের। বার্তাটির শুরুতে লেখা ছিল-'মেসেজ ফ্রম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।' শেষ লেখা- 'দিস মেসেজ পাস টু বেঙ্গলি অফিসার।' ইপিআর এর সিগন্যালম্যান আবুল খায়ের সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এদিকে জহুর আহমদ চৌধুরীর বাসার টেলিফোনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে একটি মেসেজ এসেছে। এতে জহুর আহমদ চৌধুরীকে সম্বোধনপূর্বক সংগ্রাম পরিষদের বাকি সদস্যদের নাম উল্লেখ করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সংবলিত বার্তাটি পাঠানো হয়। জহুর আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী ডা. নুরুন্নাহার জহুর বার্তাটি লিখে নেন। জহুর আহমদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার অজস্র কপি সাইক্লোস্টাইল মেশিনে ছাপিয়ে জনসাধারণের মাঝে বিলির ব্যবস্থা করেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী, মৌলভী সৈয়দ আহমদ চৌধুরী এবং জয় বাংলা বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ করে আওয়ামী লীগ কর্মী নুরুল হক বিভীষিকাময় রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। চট্টগ্রামের মানুষ রাতেই জেনে গেছে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরা মনস্থির করলেন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি এবার একজন সামরিক লোকের মুখ দিয়ে রেডিওতে ঘোষণা করাবেন। সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা গেলেন ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাছে। প্রস্তাব শুনে ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম কিছুক্ষণের নীরবতার পর নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বললেন, 'সেটা করতে পারলে খুবই ভালো হবে। এম. এ. হান্নান বললেন, 'আপনি রেডিওতে আসুন। বাঙালি সৈনিক এবং সাধারণ মুক্তিকামী জনতা যে পাকিস্তানি আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সেটা আপনার মুখ দিয়ে দেশবাসীকে জানান।' ক্যাপ্টেন রফিক চুপ করে রইলেন কয়েক মুহূর্ত। তারপর বললেন, 'আপনারা বরং একটা কাজ করুন, কালুরঘাটের দিকে যান। সেখানে মেজর জিয়াউর রহমান অবস্থান করছেন। উনার সাথে আমার ইপিআর এর লোকজনও আছে। আপনারা মেজর জিয়াউর রহমানকে বুঝিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে আসুন। উনি সিনিয়র। উনাকে দিয়ে রেডিওতে ঘোষণার ব্যবস্থা করুন।'

পরামর্শ মতে এম. এ. হান্নান, আতাউর রহমান খান কায়সার, এম. এ. মান্নান কালুরঘাটের দিকে রওয়ানা হলেন। কালুরঘাট যাত্রাপথে এম. এ. হান্নান এবং তার সঙ্গীরা জানতে পারেন মেজর জিয়াউর রহমান কাপ্তাই থেকে আগত ক্যাপ্টেন হারুন ও কক্সবাজার থেকে আগত সুবেদার মফিজ এবং তাদের সৈন্যদের নিয়ে কালুরঘাট পার হয়ে গোমদন্ডি ফুলতলীর দিকে চলে গেছেন। সারা দিন খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে নেতৃবৃন্দ মেজর জিয়াউর রহমানকে বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ের পাশে বিশ্রামরত অবস্থায় খুঁজে পান। মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে সেখানে ছিলেন মেজর শওকত, ক্যাপ্টেন হারুন, ক্যাপ্টেন অলি, লে. মাহফুজ, লে. শমশের মুবিন এবং তাদের জোয়ানরা। এম. এ. হান্নান মেজর জিয়াউর রহমানকে শহরে আসার অনুরোধ জানালে জিয়াউর রহমান বললেন, 'রণকৌশল ঠিক করে আগামীকালের মধ্যে যোগাযোগ করব।'

২৭মার্চ, ১৯৭১, সন্ধ্যা!

মেজর জিয়াউর রহমান এলেন সামরিক সুরক্ষিত চট্টগ্রাম কালুরঘাট বিপ্লবী বেতারকেন্দ্রে। তারপর বললেন, আই এম মেজর জিয়া.... অন বিহ্যাব আওয়ার ন্যাশনাল লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।' জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে যা আজো বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত বাক্য।

ইতিহাসের পর্যালোচনাঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিশেষ দ্বন্দ্ব ছিল না। দ্বন্দ্ব থাকার জন্য দু'জন মানুষের যে মাপের সমতা সেটাও এই দুজন মানুষের ছিল না। পঁচাত্তর ট্র্যাজেডির পেছনে শোনা যায় জেনারেল জিয়াউর রহমানের পরোক্ষ ভুমিকা ছিল। সেটা সত্য হলেও বিষয়টি একাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট। কিন্তু জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ তো মনে করতেনই না, বরং বঙ্গবন্ধুকে আমৃত্যু নিজের নেতা মেনে চলেছেন।

জীবদ্দশায় জিয়াউর রহমান নিজেকে কখনোই স্বাধীনতার ঘোষকও দাবি করেননি। বরং একাত্তরের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করার বার্তাটি অর্থাৎ স্বাধীনতার ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পৌঁছালে চট্টগ্রামে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতারা ঘোষণাটিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে দিতে ইংরেজিতে ভাষান্তর করে দেয়ার পর এমএ হান্নান, বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাশেম সন্দ্বীপী, রাখাল চন্দ্র বণিকসহ চট্টগ্রাম বেতারের কয়েকজন সংবাদ পাঠক ২৬মার্চ দিনভর ঘোষণাটি পাঠের পর চট্টগ্রামের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের সিদ্ধান্তে জিয়াউর রহমান সাতাশ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করতে পারার জন্য আমৃত্যু নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধ কোনো সামরিক যুদ্ধ ছিল না, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী বাঙালি সেনাদের নিয়ে সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়। নবগঠিত বাহিনীর সেনারা জনযুদ্ধে সহায়কের ভুমিকা পালন করেছে। সুতরাং জিয়াউর রহমান তো দূর এমনকি প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী কেউ নন। এই সত্য জানতেন এবং মানতেন জিয়াউর রহমানও। তাই কেবল স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, 'জাতির জনক' ইস্যু থেকে শুরু করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর একচ্ছত্র নেতৃত্বদানকারী ভুমিকা সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে ন্যুনতম আপত্তি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় কখনোই করেননি। 

জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা। নিসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে আর আর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য। কিন্তু জিয়াউর রহমান যা বিশ্বাস করতেন না, যে ইতিহাস জিয়াউর রহমানের নয়, জিয়াউর রহমানের নামে সেই মিথ্যা ইতিহাস প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা মূলত জিয়াউর রহমানের আদর্শের পরিপন্থী। বিএনপিকে এটা অনুধাবন করতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করলে জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকে খাটো হতে দিলে জিয়াউর রহমানকে খাটো করতে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে তার প্রাপ্য সম্মান দিলে জিয়াউর রহমানের সম্মান একচুল কমে না, বরং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানেই নিহিত আছে জিয়াউর রহমানের সম্মান। 29/03/2026

স্বাধীনতার ঘোষণা মুজিব নাকি মেজর জিয়া। জিয়ার ঘোষণা ২৬ তারিখ নাকি ২৭ তারিখ। একটা ভিডিও সকল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এখানে আপনি সফল এনসার পেয়ে যাবেন। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখুন ভিডিও। ২৩শে মার্চ, ১৯৭১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট আর্মি বন্দরে অবস্থানরত অস্ত্র বোঝায় পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজ সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য নতুন পাড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে যাতে বের হতে না পারে তারজন্য চট্টগ্রামের বিপ্লবী ছাত্ররা ষোলশহর দুই নম্বর রেলগেটে ব্যারিকেড দিয়েছে। এর আগে সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য পাকিস্তানি আর্মি সুযোগ খুঁজছিল কয়েকদিন ধরে, কিন্তু বাঙালি ছাত্র-জনতা, জেটি শ্রমিকদের প্রতিরোধের মুখে পেরে উঠছিল না। পাকিস্তানি আর্মি বেপরোয়া হয়ে আছে অস্ত্র খালাসের জন্য। বিগ্রেডিয়ার মজুমদার এম. আর সিদ্দিকীকে জানিয়েছেন, আর্মিদের আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। চট্টগ্রাম মার্শাল ল' এডমিনিস্ট্রেটরকে চরমপত্র দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোয়াতের অস্ত্র খালাস করার জন্য। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্র খালাস না হয় তাহলে স্বয়ং পাকিস্তান সরকার হস্তক্ষেপ করবে। ২৩শে মার্চ, ১৯৭১, বিকেল! দশ-বারোজন সৈন্যসহ পাকিস্তানি মিলিটারির একটি জীপ নতুন পাড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসে ষোলশহর ছাত্র-জনতার ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। জিপ থেকে একজন অফিসার ক্রুদ্ধ হয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার বাংলায় বলছে, 'রাস্তা থেকে ওয়াগন সরাও। আমি বৈকালিক ভ্রমনে বের হইনি। গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরিয়েছি। পথ পরিষ্কার করো আর আমাকে যেতে দাও।' ব্যারিকেড দেয়া ছাত্র-জনতার মাঝখান থেকে কন্ঠে দ্বিগুণ তেজ মিশিয়ে একজন বলল, 'আপনিও আমাদের মতো বাঙালি। সোয়াতের অস্ত্র খালাস করতে পাকিস্তানি মিলিটারির যাওয়া আটকাতে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। আপনি জানেন এত অস্ত্র পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে পৌঁছালে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। পরিস্থিতি বোঝার কথা আপনারও।' অফিসার দ্বিগুণ ক্রোধান্বিত কন্ঠে বলল, 'কথা বাড়িও না। ওয়াগন সারাও আমাকে যেতে দাও।' সাথে সাথে উপস্থিত প্রায় সবাই সমস্বরে চিৎকার দিয়ে বলল, 'ব্যারিকেড সরানো হবে না। জীবন গেলেও না।' এবার অফিসার অনেকটা চিৎকার করে বলল, 'তোমরা আমাকে চেন না। আমি মেজর জিয়াউর রহমান। ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড আমি। জরুরি প্রয়োজনে আমাকে স্টেশন হেড কোয়ার্টারে যেতে হবে। ব্যারিকেট সরাও। আমাকে যেতে দাও।' ছাত্র-জনতার কাতার থেকে একজন বলল, 'আপনার জরুরি প্রয়োজনটা কী, বাঙালিদের হত্যার করতে কীভাবে সোয়াতের অস্ত্র খালাস করে পাকিস্তানি মিলিটারি ও বিহারিদের হাতে তুলে দেয়া যায় বিগ্রেডিয়ার আনসারীর সাথে বসে সেই পরিকল্পনা করা তো! আপনি কি বাঙালি হয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন?' অফিসার বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে ভিড়ের দিকে তাকিয়ে বলল, 'ইউ ব্লাডি সিভিলিয়ান! আর্মির বিষয়ে মাথা ঘামিও না। ব্যারিকেড হটাও। আমাকে আমার কাজ করতে দাও।' জয় বাংলা বাহিনীর ছেলেরাও দৃঢ়তার সাথে বলল, 'আমাদের শরীরের একবিন্দু রক্ত অবশিষ্ট থাকতে ব্যারিকেড উঠবে না। দেখি আপনি কী করতে পারেন।' 'এর খেসারত তোমাদের দিতে হবে!' হুমকির সুরে কথাটি বলে অফিসার রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে জিপ নিয়ে সেনানিবাসের দিকে ফিরে গেল। জ্বি, ইনি মেজর জিয়াউর রহমান। ২৫শে মার্চ, রাত ৯টা! ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম রণাঙ্গনে ছোটাছুটি করছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ইপিআর, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী এবং ছাত্রজনতার সাথে সমন্বয় করে চলেছেন, মেজর জিয়াউর রহমান তখন ছাত্রলীগ নেতা তোহা গাজীর পূর্বে থেকে সৃষ্টি করা শত শত ব্যারিকেড সরিয়ে বন্দরের দিকে আগাচ্ছেন জানজুয়ার নির্দেশে সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য। অথচ সন্ধ্যায় ক্যাপ্টেন রফিক আওয়ামী লীগ নেতা ডা. জাফরকে বলেছেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে যেন ঢাকার গণহত্যা শুরু হওয়ার খবর পাঠান। যাতে করে মেজর জিয়াউর রহমানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা বাঙালিদের পক্ষে কাজ শুরু করতে পারে। ডা. জাফর সেই খবর জিয়াউর রহমানকে পৌঁছেছিলেনও। মেজর জিয়াউর রহমান একের পর এক ব্যারিকেড সরিয়ে বন্দরের পথে টাইগারপাস পর্যন্ত আসলে পথিমধ্যে দেখা হলো এসপি শামসুল হকের সাথে। দেখা হওয়ার সাথে সাথে মেজর জিয়া এসপি শামসুল হককে তার সৈন্যদের দিয়ে ব্যারিকেড সরানোয় সাহায্য চাইলেন। এসপি শামসুল হক বললেন, 'বন্দরের দিকে না যাওয়ায় ভালো। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আপনি আপনার অবস্থানে ফিরে যান।' মেজর জিয়া এসপি শামসুল হকের কথা না শুনে সৈন্যদের নিয়ে ব্যারিকেড সরানোয় মনোযোগ দিলেন। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান খবর পেলেন মেজর জিয়াউর রহমান জানজুয়ার নির্দেশে সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য বন্দর অভিমুখে রওয়ানা হয়েছেন। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান গাড়ি ছুটিয়ে গেলেন জিয়াকে থামাতে। আগ্রাবাদ পর্যন্ত এসে দেখলেন মেজর জিয়া সৈন্য সামন্ত নিয়ে ব্যারিকেড ভাঙছেন। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান সবিস্তারে বুঝিয়ে বললেন মেজর জিয়াকে। এরপর মেজর জিয়া রণে ভঙ্গ দিলেন। তিনি নৌবাহিনীর গাড়িতে কয়েকজন অবাঙালি সৈন্য এবং রক্ষী নিয়ে ষোলশহরে ফিরে গেলেন। ২৫শে মার্চ, দিবাগত-রাত ২৬শে মার্চ, রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর! নতুন পাড়া সেনানিবাসের ভিতরে শত শত বাঙালি সৈনিক হত্যা করেছে পাকিস্তানি আর্মিরা।' জয় বাংলা বাহিনীর প্রধান মৌলভী সৈয়দ আহমদকে খুবই বিচলিত দেখাচ্ছে। সে আর বসে থাকতে পারছে না। অস্থিরভাবে পায়চারি শুরু করলো। কিছুক্ষণ পর সতীর্থদের অপেক্ষা করতে বলে ছুটলো রেলওয়ে হিলে ক্যাপ্টেন রফিকের সাথে দেখা করতে। রেলওয়ে হিলে পৌঁছে সৈয়দ আহমদ চৌধুরী দেখলো ক্যাপ্টেন রফিক অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন। সৈয়দ আহমদ অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে সেনানিবাসের পরিস্থিতি জানতে চাইলো। ক্যাপ্টেন রফিক বললেন, '৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান এবং ই বি আর সি এর নেতৃত্বে থাকা সেনানিবাসের লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম আর চৌধুরীর ওপর দায়িত্ব ছিল সেনানিবাসে আক্রমণ করে ২০-বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যদের কব্জায় নিয়ে আসা। কিন্তু ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ২০-বেলুচ রেজিমেন্টের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যাননি। লে. কর্নেল এম. আর. চৌধুরী সেনানিবাসে জিয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মেজর জিয়াউর রহমান বেলুচিদের বিরুদ্ধে অভিযানে না গিয়ে যাচ্ছিলেন সোয়াতের অস্ত্র খালাসের জন্য বন্দরে। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান তাকে ফিরিয়ে এনেছে। তিনি ষোলশহরে বসে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন। এদিকে বেলুচ সৈন্যরা ক্ষিপ্র গতিতে আক্রমণ করে বাঙালি সৈন্যদের হত্যা করেছে। সেখানে দুই হাজারের বেশি বাঙালি সৈন্য ছিল। বোধহয় প্রাণ নিয়ে কেউ বের হতে পারেনি।' ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম থামলেন। ঘরময় নেমে এলো বিষাদ ও নিরবতা। একই রাত, ষোলশহর, চট্টগ্রাম! অবশেষে অরিন্দম কহিলা বিষাদে। এবং মেজর জিয়াউর রহমানও অবশেষে বললেন, "উই রিভোল্ট"! ইতোমধ্যে চলে গেছে অনেক সময়, চলে গেছে অনেক প্রাণ। পাঠক, জিয়াউর রহমান 'উই রিভোল্ট' বলার আগে বঙ্গবন্ধু তার রাজনীতিক জীবন পাকিস্তান শাসকের বিরুদ্ধে রিভোল্ট করেই দেড়-দশক জেল খেটেছেন। আগরতলা সত্য মামলায় বঙ্গবন্ধুকে জেলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গোটা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ যখন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে 'রিভোল্ট' করে উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল, মেজর জিয়াউর রহমান সেই বছরই পাকিস্তান শাসকের একনিষ্ঠ আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে মেজর পদবীতে জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের দায়িত্ব লাভ করেন। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে যখন বঙ্গবন্ধু ও সমবেত লক্ষ জনতার সাথে গলা মিলিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের কোটি মানুষ 'জয় বাংলা' বলতে শুরু করেছে সেটাই শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের 'রিভোল্ট', ৭ই মার্চ থেকে ইয়াহিয়ার সাথে বঙ্গবন্ধুর ব্যর্থ গোলটেবিল আলোচনার দিন পর্যন্ত রিভোল্ট করেই পাকিস্তানি মিলিটারির বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দিয়ে মারা গেছে কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষ। তখনও মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি মিলিটারির অনুগত সদস্য। সুতরাং জিয়াউর রহমানের 'উই রিভোল্ট' স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরুয় কতটা ভুমিকা ছিল সেই আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক। আমরা বরং পরবর্তী দৃশ্যপটে নজর দিই। কালরাত্রি, ঢাকা, ধানমন্ডি বত্রিশ! ঢাকায় গোলাগুলি শুরু হতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার লিখিত ঘোষণা দেয়ার জন্য মনস্থির করেন। কিন্তু কী উপায়ে সেটা করবেন, তাঁর বাসার টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তার মনে পড়েছিল দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু ও বিশ্বস্ত সহচর জহুর আহমদ চৌধুরীর কথা। চট্টগ্রাম জহুর আহমদ চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনোভাবে তার কাছে পাঠিয়ে দিতে পারলে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের ব্যবস্থা করবেন। পাশের এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠালেন চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে। ওয়‍্যারলেসেও পাঠালেন। সরাসরি ঘোষণা না হলেও বিকল্প উপায়ে সেই ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। এর সাক্ষী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহযোগী হাজি গোলাম মোরশেদ। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'রাত বারোটা বাজে বাজে, এমন সময় একটি টেলিফোন আসলো আমার বাসায়। ও প্রান্ত থেকে বললেন 'আমি বলধা গার্ডেন থেকে বলছি। মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে। মেশিন নিয়ে কী করব?' আমি মুজিব ভাইয়ের কাছে দৌড়ে গেলাম। বললাম, মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে। উনি (বঙ্গবন্ধু) বললেন, 'মেশিনটা ভেঙে ফেলে পালিয়ে যেতে বল।' ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হাজি গোলাম মোরশেদও ৩২ নম্বর থেকে গ্রেপ্তার হন। বার্তাটি যিনি পাঠিয়েছিলেন, তিনি হলেন প্রকৌশলী নুরুল হক। ২৯ মার্চ মহাখালীর ওয়্যারলেস কলোনির বাসভবনে ঢুকে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ভিন্ন উপায়ে এই ঘোষণাটি প্রতিটি জেলায় পাঠানো হলো। ২৬শে মার্চ, সকাল। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পাথরঘাটস্থ বাসভবন জুপিটার হাউজে জহুর আহমদ চৌধুরী, এম, আর সিদ্দিকী, এম. এ. হান্নান এসে একত্রিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের বেলাল মোহাম্মদকে খবর দিয়ে আনানো হয়েছে। শুরুতে আলোচনা হয়েছে গত রাতের বিষয়াদির ওপর। রাত সাড়ে বারটার দিকে ঢাকার পিলখানা থেকে ওয়‍্যারলেসে বঙ্গবন্ধুর একটি বার্তা পান চট্টগ্রামের হালিশহর ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ৫ নম্বর সেক্টর সদর দফতরের সিগন্যালম্যান আবুল খায়ের। বার্তাটির শুরুতে লেখা ছিল-'মেসেজ ফ্রম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।' শেষ লেখা- 'দিস মেসেজ পাস টু বেঙ্গলি অফিসার।' ইপিআর এর সিগন্যালম্যান আবুল খায়ের সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এদিকে জহুর আহমদ চৌধুরীর বাসার টেলিফোনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে একটি মেসেজ এসেছে। এতে জহুর আহমদ চৌধুরীকে সম্বোধনপূর্বক সংগ্রাম পরিষদের বাকি সদস্যদের নাম উল্লেখ করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সংবলিত বার্তাটি পাঠানো হয়। জহুর আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী ডা. নুরুন্নাহার জহুর বার্তাটি লিখে নেন। জহুর আহমদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার অজস্র কপি সাইক্লোস্টাইল মেশিনে ছাপিয়ে জনসাধারণের মাঝে বিলির ব্যবস্থা করেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী, মৌলভী সৈয়দ আহমদ চৌধুরী এবং জয় বাংলা বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ করে আওয়ামী লীগ কর্মী নুরুল হক বিভীষিকাময় রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। চট্টগ্রামের মানুষ রাতেই জেনে গেছে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরা মনস্থির করলেন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি এবার একজন সামরিক লোকের মুখ দিয়ে রেডিওতে ঘোষণা করাবেন। সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা গেলেন ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাছে। প্রস্তাব শুনে ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম কিছুক্ষণের নীরবতার পর নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বললেন, 'সেটা করতে পারলে খুবই ভালো হবে। এম. এ. হান্নান বললেন, 'আপনি রেডিওতে আসুন। বাঙালি সৈনিক এবং সাধারণ মুক্তিকামী জনতা যে পাকিস্তানি আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সেটা আপনার মুখ দিয়ে দেশবাসীকে জানান।' ক্যাপ্টেন রফিক চুপ করে রইলেন কয়েক মুহূর্ত। তারপর বললেন, 'আপনারা বরং একটা কাজ করুন, কালুরঘাটের দিকে যান। সেখানে মেজর জিয়াউর রহমান অবস্থান করছেন। উনার সাথে আমার ইপিআর এর লোকজনও আছে। আপনারা মেজর জিয়াউর রহমানকে বুঝিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে আসুন। উনি সিনিয়র। উনাকে দিয়ে রেডিওতে ঘোষণার ব্যবস্থা করুন।' পরামর্শ মতে এম. এ. হান্নান, আতাউর রহমান খান কায়সার, এম. এ. মান্নান কালুরঘাটের দিকে রওয়ানা হলেন। কালুরঘাট যাত্রাপথে এম. এ. হান্নান এবং তার সঙ্গীরা জানতে পারেন মেজর জিয়াউর রহমান কাপ্তাই থেকে আগত ক্যাপ্টেন হারুন ও কক্সবাজার থেকে আগত সুবেদার মফিজ এবং তাদের সৈন্যদের নিয়ে কালুরঘাট পার হয়ে গোমদন্ডি ফুলতলীর দিকে চলে গেছেন। সারা দিন খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে নেতৃবৃন্দ মেজর জিয়াউর রহমানকে বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ের পাশে বিশ্রামরত অবস্থায় খুঁজে পান। মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে সেখানে ছিলেন মেজর শওকত, ক্যাপ্টেন হারুন, ক্যাপ্টেন অলি, লে. মাহফুজ, লে. শমশের মুবিন এবং তাদের জোয়ানরা। এম. এ. হান্নান মেজর জিয়াউর রহমানকে শহরে আসার অনুরোধ জানালে জিয়াউর রহমান বললেন, 'রণকৌশল ঠিক করে আগামীকালের মধ্যে যোগাযোগ করব।' ২৭মার্চ, ১৯৭১, সন্ধ্যা! মেজর জিয়াউর রহমান এলেন সামরিক সুরক্ষিত চট্টগ্রাম কালুরঘাট বিপ্লবী বেতারকেন্দ্রে। তারপর বললেন, আই এম মেজর জিয়া.... অন বিহ্যাব আওয়ার ন্যাশনাল লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।' জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে যা আজো বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত বাক্য। ইতিহাসের পর্যালোচনাঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিশেষ দ্বন্দ্ব ছিল না। দ্বন্দ্ব থাকার জন্য দু'জন মানুষের যে মাপের সমতা সেটাও এই দুজন মানুষের ছিল না। পঁচাত্তর ট্র্যাজেডির পেছনে শোনা যায় জেনারেল জিয়াউর রহমানের পরোক্ষ ভুমিকা ছিল। সেটা সত্য হলেও বিষয়টি একাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট। কিন্তু জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ তো মনে করতেনই না, বরং বঙ্গবন্ধুকে আমৃত্যু নিজের নেতা মেনে চলেছেন। জীবদ্দশায় জিয়াউর রহমান নিজেকে কখনোই স্বাধীনতার ঘোষকও দাবি করেননি। বরং একাত্তরের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করার বার্তাটি অর্থাৎ স্বাধীনতার ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পৌঁছালে চট্টগ্রামে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতারা ঘোষণাটিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে দিতে ইংরেজিতে ভাষান্তর করে দেয়ার পর এমএ হান্নান, বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাশেম সন্দ্বীপী, রাখাল চন্দ্র বণিকসহ চট্টগ্রাম বেতারের কয়েকজন সংবাদ পাঠক ২৬মার্চ দিনভর ঘোষণাটি পাঠের পর চট্টগ্রামের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের সিদ্ধান্তে জিয়াউর রহমান সাতাশ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করতে পারার জন্য আমৃত্যু নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধ কোনো সামরিক যুদ্ধ ছিল না, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী বাঙালি সেনাদের নিয়ে সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়। নবগঠিত বাহিনীর সেনারা জনযুদ্ধে সহায়কের ভুমিকা পালন করেছে। সুতরাং জিয়াউর রহমান তো দূর এমনকি প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী কেউ নন। এই সত্য জানতেন এবং মানতেন জিয়াউর রহমানও। তাই কেবল স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, 'জাতির জনক' ইস্যু থেকে শুরু করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর একচ্ছত্র নেতৃত্বদানকারী ভুমিকা সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে ন্যুনতম আপত্তি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় কখনোই করেননি। জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা। নিসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে আর আর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য। কিন্তু জিয়াউর রহমান যা বিশ্বাস করতেন না, যে ইতিহাস জিয়াউর রহমানের নয়, জিয়াউর রহমানের নামে সেই মিথ্যা ইতিহাস প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা মূলত জিয়াউর রহমানের আদর্শের পরিপন্থী। বিএনপিকে এটা অনুধাবন করতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করলে জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকে খাটো হতে দিলে জিয়াউর রহমানকে খাটো করতে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে তার প্রাপ্য সম্মান দিলে জিয়াউর রহমানের সম্মান একচুল কমে না, বরং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানেই নিহিত আছে জিয়াউর রহমানের সম্মান।

25/03/2026

এসএসসি-২০২৬ ফাইনাল মডেল টেস্ট

🌟 পরীক্ষা শুরু আগামীকাল ২৮/০৩/২০২৬ (শনিবার)।

🌟 আরম্ভ হওয়ার সময়
১ম ও ২য় ব্যাচ সকাল ১১টা।

#ক্যাম্পেইন এডুকেশন
🔸🔹🔸🔹🔸🔹🔸

24/03/2026

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর সময়সূচি প্রকাশ।
২৪মার্চ/২০২৬।

❤️🇧🇩❤️

24/03/2026

আগামী আড়াই মাস শনিবারও খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়!

Photos from Campaign Education's post 22/02/2026

📕📕📕 বিজ্ঞান বিভাগ 📕📕📕
প্রিয় HSC-2026 শিক্ষার্থী বন্ধুরা,
বোর্ড পরীক্ষার পূর্বে বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি অর্জন, পরীক্ষাভীতি দূরীকরণ এবং খুঁটিনাটি ভুলগুলো শুধরে নিয়ে বোর্ড পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ক্যাম্পেইন এডুকেশন এর আয়োজন “HSC 2026 মডেল টেস্ট"।

✍ মডেল টেস্ট শুরুর তারিখ: ০১ মার্চ, ২০২৬

📕📕 বিশেষ আকর্ষন " ফ্রি টেস্ট পেপার"📕📕
➡️ ২৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৩০০০ টাকা ছাড়!
➡️ অর্থ্যাৎ ৭০০০ টাকায় মডেল টেস্ট ও ফ্রি টেস্ট পেপার!
➡️ ২৫ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে ৫০% দিয়ে সিট কনর্ফাম করতে হবে।

যোগাযোগ: টি-৩৫, ইউ-১২, নুরজাহান রোড, মোহম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।
📲 01675-011147, 01680-043008, 01912-191268

Photos from Campaign Education's post 22/02/2026

📕📕 ব্যাবসায় শিক্ষা বিভাগ 📕📕📕
প্রিয় HSC-2026 শিক্ষার্থী বন্ধুরা,
বোর্ড পরীক্ষার পূর্বে বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি অর্জন, পরীক্ষাভীতি দূরীকরণ এবং খুঁটিনাটি ভুলগুলো শুধরে নিয়ে বোর্ড পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ক্যাম্পেইন এডুকেশন এর আয়োজন “HSC 2026 মডেল টেস্ট"।

✍ মডেল টেস্ট শুরুর তারিখ: ০১ মার্চ, ২০২৬

📕📕 বিশেষ আকর্ষন " ফ্রি টেস্ট পেপার"📕📕
➡️ ২৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৩০০০ টাকা ছাড়!
➡️ অর্থ্যাৎ ৭০০০ টাকায় মডেল টেস্ট ও ফ্রি টেস্ট পেপার!
➡️ ২৫ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে ৫০% দিয়ে সিট কনর্ফাম করতে হবে।

যোগাযোগ: টি-৩৫, ইউ-১২, নুরজাহান রোড, মোহম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।
📲 01675-011147, 01680-043008, 01912-191268

19/02/2026

♦️♦️♦️♦️♦️♦️♦️ HSC 2026 ♦️♦️♦️♦️♦️♦️
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ এর ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
আগামী ১ মার্চ থেকে এই পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে, চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত।

11/02/2026

কোনটা ঠিক?!🧐



10/02/2026

উত্তর কি?🤔



Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


W/2 & W/5, Noorjahan Road, Mohammadpur
Dhaka
1207