Sumon Din shared ⌠ অনুপ্রেরণা ۞ Inspiration ⌡'s photo.
দাদা আর নাতিনের গল্পঃ দাদী মারা যাওয়ার পর গ্রামের বাড়ি থেকে দাদা শহরে ছেলের বাড়িতে একেবারে চলে এসেছেন। গ্রামে কেউ না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে চলে আসতে হয়েছে। শহরের বাসায় তার ছেলে, ছেলের বউ আর পাঁচ বছরের নাতনী থাকে। সুখী পরিবার। দাদার ...অনেক বয়স হয়েছে। হাতে তেমন শক্তি পাননা ফলে হাত সবসময় কাপতে থাকে। চোখেও ঠিক মত দেখতে পাননা। কিন্তু দাদার কাছে গল্প শুনতে নাতিনের খুব ভালো লাগে। প্রতিদিন রাতে দাদার গল্প না শুনে নাতিন ঘুমাতে যেতে চায় না। রাতে যখন তারা একসাথে খাবার খায় তখন কিছু সমস্যা হতে থাকে। দাদার হাত থেকে প্রায়ই খাবার পড়ে যেতে থাকে, গ্লাস পড়ে গিয়ে পুরো ডাইনিং টাই হয়ত ভিজে যায় কিংবা চোখে কম দেখে বলে হয়ত প্রায়ই এক খাবারের সাথে অন্য খাবার মিশিয়ে ফেলেন। দিনের পর দিন এমন সমস্যা বাড়তে থাকে আর পুরো ডাইনিং নোংরা হচ্ছে বিধায় দাদাকে এখন আলাদা টেবিলে খাবার দেয়া হয়। এখানেই সমস্যার শেষ নয়। প্রায়ই দাদার হাত থেকে কাঁচের জিনিস পড়ে ভাঙতে থাকে। তাই অবশেষে সিন্ধান্ত হল দাদাকে এখন থেকে ঘরে রাখা পুরোন একটা থেতলা স্টিলের প্লেটে আর গ্লাসে খাবার দেয়া হবে। ... পরিবারের সকলের সাথে খাবার টেবিলে আনন্দের সাথে খেতে না পারার কারনে দাদা প্রায়ই নিরবে চোখের পানি ফেলতে লাগলেন। নিজের অক্ষমতা আস্তে আস্তে তার বয়সকে যেন আরও দিগুন করে ফেলল- শরীর আরও দুর্বল হতে লাগলো। এভাবে বেশ কিছুদিন চলে যাওয়ার পর একদিন উপর থেকে ভারী বাক্স পড়ে গিয়ে দাদার জন্য নির্ধারিত থেতলে যাওয়া প্লেটটা আরও থেতলে যায় এবং একদিক দিয়ে ফেটে যায়। নাতিন দ্রুত দাদার কাছে থেকে প্লেটটা নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে প্লেটটা ঠিক করতে লাগলো। আর ফেটে যাওয়া জায়গার পেছনে টেপ লাগাতে লাগলো। ছেলের এই কাণ্ড দেখে বাবা নরম স্বরে জানতে চায়- “আমার ছোট্ট জাদু মণি, তুমি কি করছ?” ছেলে বাবার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে- “ বাবা, আমি প্লেটটা ঠিক করার চেষ্টা করছি”। বাবা ছেলের হাত থেকে হাতুড়ি নিয়ে, হেসে দিয়ে বলে- “ তোমার হাত কেটে যেতে পারে, আমি কাল আরেকটা কিনে নিয়ে আসব”। ছেলে উত্তর দেয়- “ বাবা, শক্ত দেখে কিনে নিয়ে আসবে”। বাবা জানতে চায়- “ এত শক্ত দিয়ে কি হবে?” ছেলে বলে- “আমি বড় হলে তোমাকেত এই ধরনের প্লেটেই খেতে দিব, কারন তখন তুমিও বুড়ো হয়ে যাবে”। বাবার মনে এই কথাটা একটা প্রচণ্ড ধাক্কা দিল। মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করল তার বাবা খুব ছোটবেলা যেমন তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিত প্রয়োজন হলে সে তাই করবে। (গল্পটি পেজের ওয়ালে লিখে পাঠিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল মারুফ ভাই )
দাদা আর নাতিনের গল্পঃ
দাদী মারা যাওয়ার পর গ্রামের বাড়ি থেকে দাদা শহরে ছেলের বাড়িতে একেবারে চলে এসেছেন। গ্রামে কেউ না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে চলে আসতে হয়েছে। শহরের বাসায় তার ছেলে, ছেলের বউ আর পাঁচ বছরের নাতনী থাকে। সুখী পরিবার।
দাদার ...অনেক বয়স হয়েছে। হাতে তেমন শক্তি পাননা ফলে হাত সবসময় কাপতে থাকে। চোখেও ঠিক মত দেখতে পাননা। কিন্তু দাদার কাছে গল্প শুনতে নাতিনের খুব ভালো লাগে। প্রতিদিন রাতে দাদার গল্প না শুনে নাতিন ঘুমাতে যেতে চায় না।
রাতে যখন তারা একসাথে খাবার খায় তখন কিছু সমস্যা হতে থাকে। দাদার হাত থেকে প্রায়ই খাবার পড়ে যেতে থাকে, গ্লাস পড়ে গিয়ে পুরো ডাইনিং টাই হয়ত ভিজে যায় কিংবা চোখে কম দেখে বলে হয়ত প্রায়ই এক খাবারের সাথে অন্য খাবার মিশিয়ে ফেলেন। দিনের পর দিন এমন সমস্যা বাড়তে থাকে আর পুরো ডাইনিং নোংরা হচ্ছে বিধায় দাদাকে এখন আলাদা টেবিলে খাবার দেয়া হয়।
এখানেই সমস্যার শেষ নয়। প্রায়ই দাদার হাত থেকে কাঁচের জিনিস পড়ে ভাঙতে থাকে। তাই অবশেষে সিন্ধান্ত হল দাদাকে এখন থেকে ঘরে রাখা পুরোন একটা থেতলা স্টিলের প্লেটে আর গ্লাসে খাবার দেয়া হবে।
..
পরিবারের সকলের সাথে খাবার টেবিলে আনন্দের সাথে খেতে না পারার কারনে দাদা প্রায়ই নিরবে চোখের পানি ফেলতে লাগলেন। নিজের অক্ষমতা আস্তে আস্তে তার বয়সকে যেন আরও দিগুন করে ফেলল- শরীর আরও দুর্বল হতে লাগলো।
এভাবে বেশ কিছুদিন চলে যাওয়ার পর একদিন উপর থেকে ভারী বাক্স পড়ে গিয়ে দাদার জন্য নির্ধারিত থেতলে যাওয়া প্লেটটা আরও থেতলে যায় এবং একদিক দিয়ে ফেটে যায়।
নাতিন দ্রুত দাদার কাছে থেকে প্লেটটা নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে প্লেটটা ঠিক করতে লাগলো। আর ফেটে যাওয়া জায়গার পেছনে টেপ লাগাতে লাগলো।
ছেলের এই কাণ্ড দেখে বাবা নরম স্বরে জানতে চায়-
“আমার ছোট্ট জাদু মণি, তুমি কি করছ?”
ছেলে বাবার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে-
“ বাবা, আমি প্লেটটা ঠিক করার চেষ্টা করছি”।
বাবা ছেলের হাত থেকে হাতুড়ি নিয়ে, হেসে দিয়ে বলে-
“ তোমার হাত কেটে যেতে পারে, আমি কাল আরেকটা কিনে নিয়ে আসব”।
ছেলে উত্তর দেয়-
“ বাবা, শক্ত দেখে কিনে নিয়ে আসবে”।
বাবা জানতে চায়-
“ এত শক্ত দিয়ে কি হবে?”
ছেলে বলে-
“আমি বড় হলে তোমাকেত এই ধরনের প্লেটেই খেতে দিব, কারন তখন তুমিও বুড়ো হয়ে যাবে”।
বাবার মনে এই কথাটা একটা প্রচণ্ড ধাক্কা দিল। মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করল তার বাবা খুব ছোটবেলা যেমন তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিত প্রয়োজন হলে সে তাই করবে।
(গল্পটি পেজের ওয়ালে লিখে পাঠিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল মারুফ ভাই )
শহীদ আসাদ স্মৃতি পাঠাগার
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট পরিচালিত শহীদ আসাদ স্মৃতি পাঠাগার
Shaheed Asad Smriti Pathagar was established in 2002 in reminiscence of martyer Asad of mass uprising of 1969. This library is strongly dedicated to promote book reading and also to observe various national and international events, life of noble people, arrange different sports and cultural events. The library was established and maintained by Socialist Students Front
১৯৬৯ এর গণ অভূত্থানে শহীদ
aj pathagarer protishtha barshikite milon mela o asader upor alochono shova
পাঠাগােরর পক্ষ েথেক স্কােল শ্রদধাঞ্জলী অপ্রন ক্রা হে্য়েছ শহীদ আসাদ েব্দীেত
আমানুল্লাহ মোহামদ আসাদুজ্জামান
২০ জানুয়ারি ছিল শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ এর এই দিনে 'পূর্ব পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি' আইয়ুব সরকার আরোপিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আনুমানিক ১০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মিছিলে বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে। মিছিলের সামনেই ছিলেন আসাদ। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পৌছলে পুলিশ ও ইপিআর বাহিনী মিছিলে বাঁধা দেয় ও হামলা চালায়। এসময়ে আসাদ আধা ছত্রভঙ্গ মিছিলটি আবার সংগঠিত করে এগুতে শুরু করলে পুলিশ প্রথমে আসাদের ওপর বেওনেট চার্জ করে। এতে আহত হয়ে আসাদ মাটিতে পড়ে গেলে জনৈক বাঙালী পুলিশ কর্মকর্তা রিভলভার দিয়ে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক-রেঞ্জ থেকে আসাদেরর বুকে গুলি করেন। এভাবেই শহীদ হন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) নেতা আমানুল্লাহ মোহামদ আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ। প্রায় নিরবে নিভৃতেই চলে গেল দিনটা। যেমন যাওয়ার কথা! অথচ আসাদের মৃত্যুই ছিল আইয়ুবশাহীর মসনদের কফিনে শেষ পেরেক। আসাদ-হত্যার প্রতিক্রিয়াতেই গণআন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ যার চুড়ান্ত পরিণতি।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ সারাদেশে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অফিস আদালত ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত মানুষ, মায় পিওন চাপরাসি কেরানির সহ সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন এবং প্রতিবাদ মিছিলে যোগদেন। ঢাকা পরিণত হয় প্রতিবাদ ও মিছিলের নগরীতে। ‘আসাদ-এর মন্ত্র : জনগণতন্ত্র’ হয় সে সময়ের সব থেকে জনপ্রিয় শ্লোগান।
পরদিন আসাদকে তাঁর গ্রামের বাড়ী ধানুয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। ঐ একই দিনে ঢাকার পল্টনে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আসাদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজা শেষে আসাদের রক্তমাখা শার্টকে পতাকা করে বের হওয়া মিছিলে লক্ষাধিক মানুষ শরীক হয়েছিলেন। এই মিছিলকে স্মরণ করে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত স্বাক্ষরফলক কবিতা আসাদের শার্ট। আসাদ-হত্যার প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও একটি অমর কবতা লিখেছিলেন এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়? হেলাল হাফিজ লিখেছিলেন তাঁর অন্যতম বা সব থেকে জনপ্রিয় কবিতা নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় – ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়’।
২১ জানুয়ারি '৬৯-এ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট নিয়ে মিছিল
২১ জানুয়ারি ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি' ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি শোক পালন ও হরতাল’র কর্মসূচী ঘোষণা করে। এ কর্মসূচীর শেষ দিনে আবার ২৪ জানুয়ারি আবার পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতার উপর গুলি চালায়। কিন্তু এর পর পরিস্থিতি সরকারের এতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে স্বৈরাচারি শামরিক শাসক আইয়ুব সরকার তার বাকি দুই মাস আয়ুষ্কালে আর ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ১৫ ফেব্রুরারি ’৬৯ সকালে ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে বন্দি অবস্থায় এক সৈনিকের গুলিতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যু হলে অবস্থা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবং সেই দিন বিকেলেই পল্টনে ন্যাপ-এর বিশাল জনসভায় মওলানা ভাসানী জ্বালাময়ি বক্তৃতার মধ্যে দিয়ে “অবিলম্বে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিব কে মুক্তি না দিলে জনতাকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে হামলা চালিয়ে প্রয়োজনে ফরাসি বপ্লবের মত জেল ভেঙে মুজিবর কে মুক্ত করে নিয়ে আসব’ ঘোষণা দিলে সভা শেষে মন্ত্রমুগ্ধ বিক্ষুব্ধজনতা সরকারি স্থাপনায় হামলা ভাঙচুর চালায়, ইপিআরটিসির খাদ্যবাহী ট্রাক লুট করে। সে সন্ধ্যায়ই উন্মত্ত জনতা আগরতলা ষড়যন্ত্রের প্রধান বিচারক বিচারপতি এসএ রহমান এর আবাসস্থলে হামলা চালায় ও অগ্নি সংযোগ করে। সৌভাগ্যক্রমে বিচারপতি সাহেব পালিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করতে পেরেছিলেন। এদিনের ঘটনাপঞ্জি এতই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক ও ব্রডকাস্টার তারিক আলি যে তিনি তাঁর প্রথম প্রকাশিত (১৯৭০) বই পাকিস্তানঃ মিলিটারি রুল অর পিপলস পাওয়ার-এ বিশদ ভাবে লিখেছেন (পৃ-২০৫-২০৭)। কথিত আছে জেল থেকে শেখ মুজিবুর রহমান এক চিরকুট পাঠিয়ে তাঁর মুক্তির ব্যাপারে ভাসানীর সাহায্য চেয়েছিলেন।
যাই হোক ১৫ ফেব্রুয়ারির ঘঠনাবলির পর আবার সেনাবাহিনী তলব করে কার্ফ্যু জারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অন্তিম চেষ্টা চলায় আইয়ুব-মোনায়েম সরকার। কিন্তু ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিক্ষক শামসুজ্জোহা সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হলে সারা দেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগে থেকেই বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিতে রাজনীতির সঙ্গে তেমন সংশ্রবহীন একজন নিরীহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিহত হাওয়ার সংবাদ যেন বারুদের স্তুপে ক্ষুদ্র একটি স্ফুলিঙ্গ। জনতা কার্ফ্যু ভেঙে সারা দেশের রাজপথ দখল করে নেয়। নিরুপায় আইয়ুব খান ২১ ফেব্রুয়ারি ’৬৯ শেখ মুজিবুর রহমান সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তিদেন। সেই সঙ্গে মনি সিং, নগেন সরকার ও রবি নিয়োগী সহ আরও ৩৪ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। পর দিন ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। এর সঙ্গে আইয়ুব খান তার গদি রক্ষার শেষ উদ্দ্যোগ হিসেবে আপোষ আলচনার মাধম্যে অচলবস্থা নিরসনের উদ্দেশে ‘গোলটেবিল বৈঠক’ আহ্বান করেন।
জেল থেকে বের হয়ে এসে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি শুধুমাত্র নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং তার দলীয় কর্মীদের ‘রাজপথ’ সহ সর্বপ্রকার ‘অনিয়মতান্ত্রিক’ আন্দোলন বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। এর পর ভাসানী সহ আন্দোলনে শরীক সব বামপন্থী দলের বিরোধীতার মুখে শেখ মুজিবুর রহমান আইয়ুবের ‘গোলটেবিল বৈঠক’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’ সহ আন্দোলনরত সংগঠনসমূহের ঐক্যে ভাঙন অবসম্ভাবী হয়ে ওঠে। ভাসানী জানান আন্দোলনের এপর্যায়ে জুলুমবাজ শাসকদের সঙ্গে ‘গোলটেবিল বৈঠক’-এ মজলুমের কিছুই পাওর সম্ভবনা নেই। অন্যদিকে ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) সহ অন্যান্য বাম দল ‘‘গোলটেবিল না রাজপথ? রাজপথ, রাজপথ” এমনকি “‘গোলটেবিলে যাবে যারা, আইয়ুবের দালাল তারা” শ্লোগান দিয়ে রাজপথে টিকে থাকার চেষ্টা চালান।
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেখ মুজিব সদবলে রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে নূরুল আমীন, জুলফিকার আলি ভুট্টো, আসগর খান সহযোগে আইয়ুবের ‘গোলটেবিল বৈঠক’-এ অংশ নেন। বিশাল আয়জনের ‘গোলটেবিল বৈঠক’ যথারীতি মুসিক প্রসব করে এবং ২৪ মার্চ রাতে আইয়ুব খান এক বেতার ভাষণের মধ্যদিয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। যদিও আইয়ুব খানের ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে তখনকার তথ্য সচিব আলতাফ গওহর তার আইয়ুব খানঃ পাকিস্তান’স ফার্স্ট মিলিটারি রুলার বইয়ে মজার কথা জানিয়েছেন। তার মতে সংকটাপন্ন আইয়ুব খান শেষ রক্ষার আশায় ‘ডিল্যুশন’গ্রস্ত হয়ে সেনাপ্রধান ইয়াহিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন যে তিন মাসের জন্য ইয়াহিয়া ক্ষমতা নিয়ে কঠিন হাতে সব কিছু দমন করে আইন্-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এনে আইয়ুব খানকে আবার নিরুপদ্রব গদি ফিরিয়ে দেবেন! তার মতে “এটা সুস্পষ্ট যে ইয়াহিয়াও কৌশলে তাকে এটা বিশ্বাস করিয়েছিল যে সেনাবাহিনী আন্দোলন দমন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে তাকে আবার তিন মাস পরে গদি ফিরিয়ে দেবে। আইয়ুবও এই চাল গ্রহণ করেছিল কারণ এটাই তার ব্যার্থতার চরম অন্ধকার ও নৈরাশ্যের মধ্যে একমাত্র ক্ষীণ আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছিল ছিল। চতুর ও নির্দয় ‘লৌহমানব’ আইয়ুব খান তখন সম্পূর্ণ বিকারগ্রস্ত এবং আতঙ্কের কাছে জিম্মি হয়ে পড়া এক মানুষ।”
যাক ফিরে আসি আসাদ প্রসঙ্গে। নরসিংদী’র এক গ্রামে জন্ম নেওয়া স্কুল শিক্ষক পিতা-মাতার সন্তান তরুন আসাদের বুকের রক্ত সেই দিনই মুছে দিয়েছিল সারা দেশে আইয়ুবের নামের সব নিশানা। সারা দেশে আইয়ুবের নামের সব স্থাপনা চলে যায় 'আসাদ' নামের দখলে। বড় সাধ করে আইয়ুব ঢাকার মোহাম্মদপুরে নির্মান করেছিলেন ‘আইয়ুব গেট’, সতঃস্ফুর্ত জনতা তার নামকরণ করেন ‘আসাদ গেট’। একই ভাবে ‘আইয়ুব এভিন্যু’ হয় ‘আসাদ এভিন্যু’ এবং ‘আইয়ুব পার্ক’ হয়ে যায় ‘আসাদ পার্ক’।
সব থেকে দুঃখজনক বিষয় এই যে, আসাদকে যে পুলিশ অফিসার ডিএসপি বাহাউদ্দীন হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করেছিল সেই পুলিশ অফিসার দেশর স্বাধীনতার পরও কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন মহলের দাবি সত্বেও তদানীন্তন সরকার তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা বা আসাদ হত্যার বিচারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি!
মাত্র ২৮ বছর বয়েসে নিহত হওয়া আসাদ বেঁচে থাকলে এখন তার বয়েস হত ৬৯ বছর। রাজনৈতিক হত্যাকান্ড আমাদের দেশে কোন নতুন বিষয় নয়। উনসত্তুরের গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সরকারি বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা ৯৪ থেকে ৯৯ জন। কিন্তু আমাদের দেশের ইতিহাসে আসাদ হত্যাকান্ডই একক (single) হত্যাকান্ড যা সব থেকে বেশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যবাহী হয়ে উঠেছিল। আর কোন একক হত্যা আমাদের ইতিহাসে এতটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি।
এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়?: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসাদের মৃতদেহ
এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়?
শামসুর রাহমান
এ লাশ আমরা রাখবো কোথায় ?
তেমন যোগ্য সমাধি কই ?
মৃত্তিকা বলো, পর্বত বলো
অথবা সুনীল-সাগর-জল-
সব কিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই !
তাইতো রাখি না এ লাশ আজ
মাটিতে পাহাড়ে কিম্বা সাগরে,
হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।
pathagar er uddoge ayojit munshigonj tour onnek mojar hoyese. jar jar kase pic ase page a upload kore dio. plz
06/11/2012
শহীদ আসাদ স্মৃতি পাঠাগার এর উদ্যোগে এবং প্রতিধ্বনি (Protitdhoni) এর সহযোগিতায় ডিসেম্বর মাসে চে গুয়েভারা আর্নেস্টো এর স্মরণে আলোচনাসভা ও ভিডিও চিত্র দেখানো হবে।
উক্ক অনুষ্ঠানের T Shirt এবং অন্যান্য খরচের এর জন্য sponsor প্রয়োজন। তাই আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
যোগাযোগ এর জন্নঃ
রাসেল ভাই (০১৬৭১৮০৬৯৮৯)
ময়েন ভাই (০১৬৮০৫৪৯৯০৩)
মেহেদী (০১৬৭০১১৮৬০৬)
15/10/2012
15/10/2012
12/10/2012
12/10/2012
12/10/2012
09/10/2012
বন্ধু অজয় দাশগুপ্তের ওয়াল থেকে - আজ বিপ্লবী চে গুয়েভারার মৃত্যুবার্ষিকী - এ সমাজ ভাঙবেই ।
-----------------------------------------------
চে ' কে নিয়ে কত ধরণের মশকরা করা যায় পঁজিবাদের দেশে বাস না করলে জানতাম না. টুপি , সার্ট, গেঞ্জী , মগ , চুলের ফিতা সর্বত্র তাঁকে নিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে কখন যে চে'র অসামান্য অসাধারণ ইমেজের ফাঁদে ধরা খেয়ে গেছে এরা তা বোঝেই নি. চে' কি গর্বাচভ যে
তাঁকে দিয়ে পিজ্জা 'বা পিৎসা বিকানো যাবে?
চে" পূবের অনুন্নত বা পিছিয়ে পড়া দেশ বা সমাজের তো বটেই এখন পশ্চিমের অনিয়ন্ত্রিত সুখ ও ভোগের কবলে পড়া তারুণ্যের ও উজ্জ্বল উদ্ধ্বার.
চে' বলতেন AGAINST ALL INJUSTICE THE PEOPLE WILL HAVE THE LAST WORD THAT OF VICTORY.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
2/23, Tajmoholroad, Mohammadpur
Dhaka
1207