ইলমে তাছাউফ

ইলমে তাছাউফ

Share

ilmetasawwuf

খানকা শরীফ নসিহত মুবারক - সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম 10/02/2025

https://www.youtube.com/watch?v=KrUQH-64TEU

খানকা শরীফ নসিহত মুবারক - সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম খানকা শরীফ নসিহত মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী, রা...

22/01/2025

রাগ বা গোসসা একটি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা
‘গদ্বাবুন’ অর্থ রাগ বা গোসসা। মানুষ যেই চারটি উপাদান দ্বারা সৃষ্ট- আগুন তার মধ্যে একটি। সুতরাং যখন কারো গোসসা পয়দা হয় তখন তার আপাদ-মস্তক এমনকি শিরা-উপশিরায় এমন এক তাপ সৃষ্টি হয়, যেনো তা একটি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। তখন তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না এবং সে তখন ন্যায়-নীতির সীমা লঙ্ঘন করে ফেলে। এ কারণে রাগকে একটি মন্দ স্বভাব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
ادفع بالتى هى احسن
অর্থ: “মন্দকে ভাল দ্বারা দমন করো।”
রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, উক্ত আয়াত শরীফ-এর মর্ম হলো-
الصبر عند الغضب والعفو عند الاساءة
অর্থাৎ “রাগের সময় ধৈর্যধারণ করা এবং মন্দ ব্যবহার ক্ষমা করা।” মানুষ যখন এই নীতির অবলম্বন করবে তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে বিপদাপদ হতে রক্ষা করবেন এবং শত্রুদেরকে এমনভাবে অনুগত করে দিবেন যেনো তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। (বুখারী শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষের নফসের মধ্যে রাগকে এইজন্য পয়দা করেছেন যে, তা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। মানুষের ক্ষতিকর কোন বস্তু সামনে আসলে রাগভরে তা দূর করবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি লোভকে পয়দা করেছেন এজন্য যে, মানুষের জন্য যা কল্যাণকর তা নিজের দিকে টেনে আনবে, আর যা অপকারী বা অপ্রিয় তা রাগভরে দূরে সরিয়ে দিবে। রাগ ও লোভের অভাব হলে জীবন ধারন কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এ দু’টি যখন শরীয়তের সীমা অতিক্রম করে তখন এদুয়ের পরিণাম বা কুফল অত্যন্ত ভীষণ ও মারাত্মক হয়ে যায়।
শরীয়তের সীমা অতিক্রমকারী রাগ অধিক মাত্রায় বেড়ে গেলে অন্তরে তা আগুনের মত জ্বলে উঠে এবং এর গরম মস্তিষ্কে প্রবেশ করে মস্তিষ্ককে অন্ধকারময় করে ফেলে। তখন সে ব্যক্তি বিচার-বিবেচনা শক্তি হারিয়ে বসে এবং তার বিষাক্ত উত্তেজনা উক্ত রাগান্বিত ব্যক্তির শিরায় শিরায় প্রবলবেগে প্রবাহিত হয়। সে ব্যক্তি তখন শয়তানের মুখে কথা বলে, শয়তানের চোখে দর্শন করে, শয়তানের কানে শ্রবণ করে এবং শয়তানের নির্দেশ অনুযায়ী তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করে। ফলে তখন সে ব্যক্তির সর্বপ্রকার কাজর্কম শয়তানের দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। রাগকে দমন করতে না পারলে মানুষ যে দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা বলে শেষ করার মতো নয়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, কোন প্রকার অন্যায় বা গুনাহর কাজের বিরুদ্ধে ক্রোধ (রাগ) প্রদর্শন করা একান্ত আবশ্যক। তিনি আরো ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি দেরীতে রাগান্বিত হয় এবং অতিশীঘ্র রাগ সম্বরণ করে, সে ব্যক্তি অতি উত্তম। আর যে ব্যক্তি অতিশীঘ্র রাগান্বিত হয় এবং দেরীতে রাগ সম্বরণ করে সে ব্যক্তি অত্যন্ত মন্দ।
মিশকাত শরীফ-এ বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে উপদেশ দান করুন। তিনি ইরশাদ করলেন, রাগ করিও না। উক্ত ব্যক্তি একই কথা কয়েকবার আবৃত্তি করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও একই উত্তর দিলেন, রাগ করিওনা।
তিনি আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুস্তিগিরীতে (মল্লযুদ্ধে) ক্ষমতাবান, সে বীরপুরুষ নয়। বরং যে ব্যক্তি রাগের সময় নিজকে সামলিয়ে নিতে পারে, সে ব্যক্তিই বীরপুরুষ।
তিনি আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রাগ সম্বরণ করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি কিয়ামতের দিন তাকে আযাব থেকে দূরে রাখবেন।
তিনি আরো ইরশাদ করেন, রাগ শয়তানের প্ররোচনা থেকে এবং শয়তান আগুন থেকে সৃষ্ট হয়েছে। আগুন পানি দ্বারা নির্বাপিত হয়। কাজেই যখন তোমাদের মধ্যে কেউ রাগান্বিত হয় তখন তার কর্তব্য হলো ওযূ করে নেয়া।
তিনি আরো ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হলে, তার বসে যাওয়া কর্তব্য। যদি তাতে রাগ দমন হয় তবে ভাল, অন্যথায় তার শুয়ে পড়া কর্তব্য।
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে- হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আরয করলেন, ইয়া বারে ইলাহী! আপনার বান্দাগণের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা কে? মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বে (অপরের দোষ) ক্ষমা করে দেয়।
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, তিনটি কাজ মুক্তি দান করে- প্রকাশ্যে ও গোপনে পরহিযগারী অবলম্বন করা, শান্ত ও রাগ উভয় সময়ে হক কথা বলা। ধনী ও দরিদ্র উভয় অবস্থায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা।

28/10/2024
18/10/2024

এ প্রসঙ্গে 'শরহে মাওয়াহিব' কিতাবে 'লাতায়িফুল মিনান' কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ আছে যে, কোন কামিল বান্দা বা হক্কানী ওলীআল্লাহগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কোন অদৃশ্য বিষয়ের ইলিম তথা ইলমে গইব লাভ করা আশ্চর্যের বিষয় নয়। এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَإِنَّهَ يَنْظُرُ بِنُورِ اللهِ

অর্থ: 'মু'মিনের অর্থাৎ প্রকৃত মু'মিন তথা ওলীআল্লাহ উনার অন্তরদৃষ্টিকে ভয় করো। কেননা তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক দ্বারা অবলোকন করেন।' (মিশকাত শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা'রিফাত অর্জনকারী ওলীআল্লাহ উনার শান মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-

كُنتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ كُنْتُ بَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بهِ كُنتُ لِسَانَهُ الَّذِي يَنْطِقُ بِهِ كُنتُ يَدَهُ الَّتِي يَبْطِسُ

ما كُنتُ رِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِ بِهَا

অর্থ: আমি উনার কান হই, তিনি আমার কুদরতী কান
মুবারক-এ শ্রবণ করেন। আমি উনার চক্ষু হই, তিনি আমার কুদরতী চোখ মুবারক-এ দেখেন। আমি উনার যবান হই, তিনি আমার কুদরতী যবান মুবারক-এ কথা বলেন। আমি উনার হাত হই, তিনি আমার কুদরতী হাত মুবারক-এ ধরেন। আমি উনার পা হই, তিনি আমার কুদরতী পা মুবারক-এ চলেন। (বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী শরীফ, উমদাতুল ক্বারী শরীফ)

অতএব, হযরত ওলী-আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ক্ষেত্রে যেখানে ইলমে গইব থাকাটা বাস্তবসম্মত সেখানে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইলমে গইব থাকাটা আরো কত বেশি বাস্তবসম্মত তা সহজেই অনুমেয়।

তাহলে যিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, সমস্ত জিন-ইনসান উনারাসহ সমস্ত মাখলুক্বাত উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে ইলমে গইব সম্পর্কে কি ফায়ছালা! বলার অপেক্ষা রাখে না, তিনি শুধু ইলমে গইব উনার অধিকারীই নন বরং তিনি হচ্ছেন ইলমে গইবসহ যাবতীয় ইলিম মুবারক উনার মালিক ও বণ্টনকারীও বটে। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে আলোকপাত করা হলো:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا

অর্থ: আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলেন দিন, হে মানুষেরা! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সুরা আ'রাফ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৮)

06/10/2024

সর্বোচ্চ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আমল সুন্নত ওনার আমল, সুন্নত উনার মধ্যে রয়েছে মানসিক শান্তি, সুন্নতি কাঠের বাটিতে পানি খাওয়া শান্তি অন্যরকম।

22/09/2024

খুব ইচ্ছে এমন একটি বাইতুল হিকমা তৈরি করার...

18/09/2024

হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার আযর ছিলো না, উনার পিতা ছিলো তারাহ বা তারিখ আলাইহিস সালাম।,
মুসলমানদের সবচাইতে বড় শত্রু হচ্ছে কাফির মুশরিকরা। তারা সবসময় চায় মুসলমান দের ঈমানহারা করে দেয়ার জন্য। এজন্য তারা বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে ।

আজ এমনই একটা ষড়যন্ত্রের কথা আমি উল্লেখ করবো।

বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা-২০১৩ কতৃক নির্ধারিত ৬ষ্ঠ শ্রেণীর " ইসলাম ও নৈতিকতা শিক্ষা" বইয়ের ২য় পৃষ্ঠায় তাওহীদে বিশ্বাসে উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তিনি এক মূর্তি পুজক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং উনার পিতা ছিলেন মন্দিরের পুরোহিত।"

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক !!

এবং বাংলাদেশের অনেক কুরআন শরীফ উনার অনুবাদে সূরা আনআম ৭৪ আয়াতের অর্থও ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতাকে মূর্তিপুজক বলা হয়েছে । মীনা প্রকাশনির অনুবাদ দ্রষ্টব্য।

এগুলো বিধর্মী দের সুক্ষ ষড়যন্ত্র, তারা কৌশলে পাঠ্যপুস্তকে এটা ঢুকিয়ে দিচ্ছে যাতে কোমলমতি একটা শিশু কুফরি আক্বীদা নিয়ে বড় হয় এবং সাধারণ মানুষ কুরআন শরীফের ভুল অনুবাদ পড়ে ঈমানহারা হয়ে যায়।

এ কুফরি মতবাদ প্রচার করার জন্য বিধর্মী দের পা চাটা কুত্তা দেওবন্দী/জামাতি/সালাফিরা কাজ করছে।

এবার আসুন আমরা অকাট্য দলীল প্রমানের মাধ্যমে দেখি সূরা আনআম ৭৪ আয়াতের তাফসীরে কি আছে এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা কে ছিলেন।

মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন--

واذ قال ابرهيم لابيه ازر اتتخذ اصناما الهة

অর্থ: আর যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার " আবীহি" ( চাচা) আযরকে বললেন, আপনি কি মূর্তিকে ইলাহ বা মা'বুদ হিসাবে গ্রহণ করেছেন?"

( সূরা আনআম ৭৪)

উক্ত আয়াত শরীফে ابيه এর اب (আবুন) শব্দ মুবারকের শাব্দিক অর্থ পিতা গ্রহণ করে ধর্মব্যবসায়ী দেওবন্দী খারেজীরা বলছে - আযর ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা । নাউযুবিল্লাহ !!

কিন্তু সকল ইমাম মুস্তাহিদ এবং মুফাসসিরানে কিরানহন উনারা একমত, উক্ত আয়াত শরীফে ابيه শব্দ মুবারকের অর্থ হচ্ছে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা ।

যেটা কিতাবে বর্নিত আছে--

والعرب يطلقون الاب علي العم

অর্থ: আরববাসীরা الاب (আল আবু) শব্দটি চাচার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন।"

দলীল-

√ তাফসীরে কবীর লিল ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৩ তম খন্ড ৩৮পৃষ্ঠা।

√ তাফসীরে মাযাহারী ৩য় খন্ড ২৫৬ পৃষ্ঠা ।

অর্থাৎ উক্ত আয়াত শরীফে "আবুন" শব্দ মুবারক উনার অর্থ পিতা না হয়ে চাচা হবে । কারন পবিত্র কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ উনার অনেক জায়গায় "আবুন" পিতা না হয়ে অন্য অর্থে যেমম - চাচা, দাদা ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার হয়েছে ।

এবার আসুন আমরা বিশুদ্ধ সনদ সহকারে একাধিক তাফসীর শরীফের মাধ্যমে সূরা আনআম ৭৪ নং আয়াত শরীফের তাফসীর বর্ননা উল্লেখ করি -

حدثنا محمد بن حميد و سفيان ابن وكيع قالا حدثنا جرير عن ليث عن مجاهد قال ليس ازر ابا ابراهيم

অর্থ : হযরত আবু জাফর মুহম্মদ বিন জারীর ত্বাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- আমাদের কাছে পবিত্র হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন হুমায়িদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সুফিয়ান বিন ওয়াকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি । উনারা দু'জন বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত লাইছ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে । তিনি বলেন- হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা আযর ছিলো না ।"

দলীল-

√ জামিউল বয়ান ফী তফসীরিল কুরআন ( তাফসীরুত ত্বাবারী) ৫ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা ।

ওফাত: ৩১০ হিজরী।

প্রকাশনা: দারুল মা'রিফা বইরুত লেবানন।

حدثنا محمد بن الحسين قال حدثنا احمد ابن المفضل قال حدثنا اسباط عن السدي قال واذ قال ابراهيم لابيه ازر قال اسم ابيه ويقال لا بل اسمه تارح واسما الصنم ازر يقول اتتخذ ازر اصناما الهة

অর্থ: হযরত ইমাম জারীর ত্ববারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন হুসাইন রহমাতুল্লাহি আলাইহি । তিনি বলেন আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আহমদ বিন মুফাদ্দাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেন হযরত আসবাত রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত সুদ্দি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে । তিনি واذ قال ابرهيم لابيه ازر এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলেন, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আব আযরকে বলা হয়েছে । কিন্তু ফয়সালা এটাই যে, বরং উনার পিতার নাম ছিলো " তারাহ" আলাইহিস সালাম। আর আযর ছিলো একটি মূর্তির নাম।"

দলীল-

√ তাফসীরুত ত্বাবারী ৫ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা।

وفي كتب التواربخ ان اسمه بالسريانية تارح

অর্থ: তাওয়ারীখ (ইতিহাস) গ্রন্থে বর্ননিত আছে যে, নিশ্চয়ই 'সুরইয়ানী' ভাষায় হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম মুবারক ছিলো 'তারাহ' ।"

দলীল-

√ আল কাশশাফ আন হাক্বায়িকিত তানযীল ওয়া উয়ূনীল আক্বাবীল ফী উজুহীত তা'বীল ২য় খন্ড ২৩ পৃষ্ঠা ।

( ৪৬৬ হিজরী- ৫৩৮ হিজরী)

প্রকাশনা- দারুল মা'রিফাহ বইরূত, লেবানন।

وفي كتب التواريخ ان اسمه تارح

অর্থ: তাওয়ারীখ তথা সকল ইতিহাসের গ্রন্থ সমূহে উল্লেখ আছে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম 'তারাহ' ছিলো।"

দলীল-

√ তাফসীরে বাইদ্বাবী ১ম খন্ড ৩০৭ পৃষ্ঠা ।

প্রকাশনা- দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বইরূত লেবানন।

قال ازجاج لا خلاف بين النسابين في ان اسمه تارح صح بالحاء المهملة سماعا

অর্থ: হযরত যুজাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- বংশতত্ববিদ ঐতিহাসিকগনের এ ব্যাপারে কোনই দ্বিমত নাই যে, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম ছিলো 'তারাহ' আলাইহিস সালাম। সিমায়ী ( শ্রুত) নিয়মে নুকতাবিহীন 'হা' হওয়াই সহীহ মত। যিনি মূর্তিপুজক ছিলেন না। "

দলীল-

√ হাশিয়াতুশ শায়েখ যাদাহ ২য় খন্ড ১৭৮ পৃষ্ঠা ।

প্রকাশনা- দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী বইরূত লেবানন।

আরো বর্নিত আছে--

اخرج ابن ابي شيبة و عبد الله بن حميد و ابن جرير و ابن المنذر و ابن ابي حاتم عن عن مجاهد قال ازر لم يكن بابيه لكنه اسم صنم

অর্থ : হযরত ইবনে আবী শয়বা রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনু জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত ইবনে মুনজির রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও ইবনে আবী হাতিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা সকলেই হযরত মুজাহিদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ননা করেছেন। তিনি বলেন, আযর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলো না। বরং আযর ছিলো একটি মূর্তির ( বা মূর্তিপুজকের ) নাম।"

দলীল-

√ আদ দুররুল মানছুর লিল জালাসুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩য় খন্ড ২৩ পৃষ্ঠা ।

قال الفراء و الزجاج اسم ابيه تارخ اجمع عليه النسابون

অর্থ: হযরত ফাররা ও জুজাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম মুবারক ছিলো হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম। এ বিষয়ে সকল বংশতত্ববিদ ঐতিহাসিক উনারা ইজমা করেছেন।"

দলীল-

√ তাফসীরুল কুরআন লিস সাময়ানী ২য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা ।

প্রকাশনা- দারুল ওয়াতান, রিয়াদ।

ان والد ابراهيم عليه السلا ما كان مشركا وثبت ان ازر كان مشركا فوجب الطع بان والد ابرهيم كان انسانا اخر غير ازر

অর্থ: নিশ্চয়ই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা মুশরিক ছিলেন না। বরং আযর (উনার চাচা) মুশরিক ছিলো। কেননা অকাট্যভাবে প্রমানিত যে, নিশ্চয়ই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা আযর নয়। বরং অন্য একজন অর্থাৎ তারাখ আলাইহিস সালাম।"

দলীল-

√ তাফসীরে কবীর ১৩ তম খন্ড ৩৯ পৃষ্ঠা ।

ليس ازر ابا لابراهيم انما هو ابراهيم بن تارخ

অর্থ: আযর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা নয়। বরং নিশ্চয়ই তিনি হলেন তারাখ আলাইহিস সালাম উনার সুযোগ্য সন্তান।"

দলীল-

√ তাফসীরে মাযহারী ৩য় খন্ড ২৫৬ পৃষ্ঠা ।

ان ابا ابراهيم عليه السلام لم يكن اسمه ازر وانما كان اسمه تارخ

অর্থ: নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম আযর নয়। বরং উনার পিতার নাম মুবারক হলো হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম।'

দলীল-

√ তাফসীরু ইবনে কাছীর ২য় খন্ড ২৪০ পৃষ্ঠা ।

প্রকাশনা- দারুল ফিকর, বইরুত লেবানন।

শুধু তাই নয়, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফ বর্ননা করা হয়েছে বিশুদ্ধ সনদে।

হদীস শরীফে বর্নিত আছে-

حدثنا ابو زرعة حدثنا منجاب اخبرنا بشر بن عمارة عن ابي روق عن الضحاك عن ابن عباس قال ان ابا ابراهيم لم يكن اسمه ازر انما كان اسمه تارح

অর্থ : হযরত আবী হাতিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আবু যুরয়াহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মিনজাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হযরত বিশর বিন আম্মারাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ রাওক্ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে খবর দিয়েছেন। তিনি বলেন, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম কখনোই আযর ছিলো না। নিশ্চয়ই উনার পিতার নাম ছিলো হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।"

দলীল-

√ তাফসীরু ইবনে আবী হাতিম ৪র্থ খন্ড ১৩২৫ পৃষ্ঠা ।

প্রকাশনা: মাকতাবাহ নাযার মুছতফা বায, মক্কাতুল মুকাররামা, রিয়াদ, সৌদি আরব।

কাজেই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ব পুরুষ যার ছিলেন বা তিনি যাঁদের মাধ্যমে যমীনে তাশরীফ এনেছেন অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত উনারা ছিলেন পূর্ন পরহেযগার,মুত্তাক্বী,এবং সর্বোচ্চ ধার্মিক ।

যেটা হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন-

لم ازل انقل من اصلاب الطاهرين الي ارحام الطاهرات

অর্থ: আমি সর্বদা পূত-পবিত্র নারী ও পুরুষ উনাদের মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছি।"

দলীল-

√ তাফসীরে কবীর ১৩ তম খন্ড ৩৯ পৃষ্ঠা।

এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ হয়-

ان جميع اباء محمد صلي الله عليه و سلم كانوا مسلمين و حيءذ يجب القطع بان والد ابراهيم عليه السلام كان مسلما

অর্থ: নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ উনারা সকলেই পরিপূর্ণ মুসলমান ছিলেন। এ থেকে অকাট্য ভাবে প্রমানিত হয় যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা মুসলমান ছিলেন। "

দলীল-

√ তাফসীরে কবীর ১৩/৩৮

এ প্রসঙ্গে স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন--

ان الله خلق الخلق فجعلني في خيرهم ثم جعلهم فرقتين فجعلني في خيرهم فرقة ثم جعلهم قباءل فجعلني في خيرهم قبيلة ثم جعلهم بيوتا فجعلني في خيرهم بيت فأنا خيركم بيتا و خيركم نفسا

অর্থ: আল্লাহ পাক তামাম মাখলুক সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরপর তাদের দুই ভাগে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ভাগে রেখেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে পাঠিয়েছেন। এবং সে গোত্রকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম পরিবারে প্রেরন করেছেন। সূতরাং আমি ব্যক্তি ও বংশের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ।"

দলীল-

√ তিরমীযি শরীফ ২য় খন্ড ২০১ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ ৩৬০৮ ।

√ মুসনাদে আহমদ ১ম খন্ড ২২০ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ ১৭৯১

এসকল হাদীস শরীফ উনার ব্যাখায় বলা হয়েছে--

فلا يمكن ان يكون كافرا في سلسلة ابءه صلي الله عليه و سلم

অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ব পুরুষ উনাদের সিলসিলার মধ্যে কেউই কাফির হওয়া সম্ভব নয়। "

দলীল-

√ তাফসীরে মাজাহারি ৪/৩০৮

সুতরাং অকাট্যভাবে প্রমানিত হলো হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমার পবিত্র নসব শরীফ যে সিলসিলা মুবারক রয়েছে সেখানে কারো অমুসলিম হওয়া কল্পনা করারও সুযোগ নাই। যদি কেউ কল্পনাও করে সে কাফির হয়ে যাবে । আর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সম্মানিত পূর্ব পুরুষ, আর উনার পিতা মুশরিক ছিলো এটা বলাতো দূরের কথা চিন্তা করলেও সে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে।

শুধু তাই নয়, কোন নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বংশের সিলসিলায় কারো ঈমামহীন হওয়া সম্ভব নয়।

সূতরাং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সকল কুরআন শরীফ এবং পুস্তক অনুবাদকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে এবং কুরআন শরীফ থেকে উক্ত ভুল ব্যাখ্যা প্রত্যাহার করুন। অন্যথায় এত মানুষকে ঈমান হারা করার অপরাধে কাল কিয়ামতের ময়দানে কঠিন পাকরাও হতে হবে ।

17/09/2024

“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার তারিখ ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ বিস্তারিত জানুন-----
সুওয়াল: বাতিল আক্বীদা ও ফিরক্বার লোকদের বক্তব্য হচ্ছে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার তারিখ নিয়ে মতভেদ; তাই মতভেদ সম্পর্কিত বিষয় পালন করা ঠিক নয়। আর ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ বিলাদত শরীফ উনার দিন এটা সবচেয়ে দুর্বল মত।” এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের ফায়সালা জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাওয়াব: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ নিয়ে মতভেদ, তাই মতভেদ সম্পর্কিত বিষয় পালন করা ঠিক নয়। আর ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার বিলাদত শরীফ উনার দিন এটা সবচেয়ে দুর্বল মত।” নাউযুবিল্লাহ! এরূপ বক্তব্য দানকারী ব্যক্তিদের বক্তব্যের সমর্থনে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের ছহীহ কোন দলীল-প্রমাণ নেই। বরং তা সম্পূর্ণ উদ্ভট ও মনগড়া বক্তব্য। কাজেই তা গ্রহণযোগ্য নয়।

কারণ, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

هاتوا برهانكم ان كنتم صدقين.

অর্থ: “তোমরা সত্যবাদী হলে দলীল পেশ কর।” (পবিত্র সূরা নমল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪)

আর, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দলীল সম্মত কথা হলো, মতভেদ সম্পর্কিত বিষয় পালন বা আমল করা অবশ্যই ঠিক। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يايها الذين امنوا اطيعوا الله واطيعوا الرسول واولى الامر منكم فان تنازعتم فى شىء فردوه الى الله والرسول.

অর্থ: “হে মু’মিনগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ইত্বায়াত করো এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইতায়াত করো এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর উনাদেরকে ইত্বায়াত করো। অতঃপর যখন কোন বিষয়ে উলিল-আমরগণ উনাদের মধ্যে ইখতিলাফ দেখতে পাবে তখন (সে বিষয়টি ফায়সালার জন্য) তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করো। অর্থাৎ যে উলিল আমর উনার স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দলীল বেশি হবে উনারটিই গ্রহণ করো।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)

উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি হক্ব-নাহক্ব দু’টি বিষয়ই মানুষের মাঝে বর্ণনা করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وهدينه النجدين.

অর্থ: “আমি দু’টি পথই জানিয়ে দিয়েছি।” (পবিত্র সূরা বালাদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০)

হক্বতালাশীগণ নাহক্বের বিরোধিতা করেন, আর নাহক্ব পন্থীরা হক্ব উনার বিরোধিতা করে। এমনিভাবে প্রায় প্রতিটি বিষয়, প্রতিটি আমলের ক্ষেত্রেই হক্ব ও নাহক্বপন্থীদের মধ্যে ইখতিলাফ বা মতবিরোধ রয়েছে। তবে ইখতিলাফ বা মতভেদ দু’ ধরণের হয়ে থাকে। (১) শুধু হক্ব উনার জন্যই হক্ব তালাশীগণের ইখতিলাফ।

যেমন, ঈমানের শর্ত হিসেবে কেউ উল্লেখ করেছেন-

تصديق بالجنان

অর্থাৎ- “অন্তরের সত্যায়ন।”

ও اقرار باللسان

অর্থাৎ- “মৌখিক স্বীকৃতি।” আবার কেউ উল্লিখিত দু’টি শর্তের সাথে তৃতীয় শর্ত হিসেবে عمل بالاركان অর্থাৎ- “ফরযসমূহ আমল করা” উল্লেখ করেছেন। অনুরূপ পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র হজ্জ্ব, পবিত্র যাকাত ইত্যাদি প্রায় প্রতিটি বিষয় বা আমলের ক্ষেত্রে উনাদের মাসয়ালা-মাসায়িল, হুকুম-আহকাম বর্ণনার ব্যাপারে ইখতিলাফ পরিলক্ষিত হয়।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

اختلاف العلماء رحمة.

অর্থাৎ- “হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ উনাদের ইখতিলাফ রহমতের কারণ।”

যেমন, হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ ইখতিলাফ করে সম্মানিত হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী, হাম্বলী ৪টি সম্মানিত মাযহাবকেই হক্ব বলে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এর উপরই উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

(২) হক্ব ও নাহক্বের মধ্যে হক্ব তালাশীগণের সাথে নাহক্বপন্থীদের ইখতিলাফ বা মতবিরোধ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি এক, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শেষ নবী, পবিত্র মীলাদ শরীফ-পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করা অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করা ফরয এবং তা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত, মা’রিফত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল হয় এসব হক্বতালাশীগণের আক্বীদা ও আমল।

কিন্তু নাহক্ব বা বাতিলপন্থীদের আক্বীদা ও আমল হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনজন (নাউযুবিল্লাহ) অর্থাৎ তারা ত্রিত্ববাদ বা তিন খোদায় বিশ্বাসী, তাদের কারো আক্বীদা হলো “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শেষ নবী বা রসূল নন।” নাউযুবিল্লাহ! আবার কারো কারো আক্বীদা ও আমল হচ্ছে, “পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ বিদআত, হারাম, শিরক ইত্যাদি।” নউযুবিল্লাহ!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মতভেদ সম্পর্কিত বিষয় যদি পালন করা ঠিক না হয় তাহলে কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ইত্যাদি সব বাদ দিতে হবে? নাউযুবিল্লাহ! কখনোই নয়।

বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ইখতিলাফ সম্পর্কে বলেছেন যে, “যেখানে ইখতিলাফ হবে সেখানে যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ সম্মত দলীল বেশী হবে উনারটিই গ্রহণ করতে হবে। কাজেই, যে ব্যক্তি বলবে মতভেদপূর্ণ বা ইখতিলাফি বিষয় পালন করা ঠিক নয়, সে ব্যক্তি চরম জাহিল ও কাট্টা কাফিরের অন্তর্ভুক্ত।”

হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের বর্ণনা মতে, কোন মুসলমান নামধারী আলিম ও জাহিল নামধারী ব্যক্তির প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রহমত উনার পরিবর্তে গযব ও লা’নত এটা বুঝার জন্য নিম্নোক্ত আলামত বা লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে তার মধ্যে প্রকাশ পায়। প্রথমতঃ সে ইবাদত-বন্দেগীতে অলস হয়ে যাবে। দ্বিতীয়তঃ কোন মেয়ে লোক অথবা আমরাদের (ক্বারীবুল বুলুগ) তথা অল্প বয়স্ক বালকদের প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে। তৃতীয়তঃ ওলী আল্লাহগণ উনাদের বিরোধিতা করবে। চতুর্থতঃ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ মন্তব্য করবে। পঞ্চমতঃ স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ্ পাক উনার শান মুবারক উনার খিলাফ আক্বীদা ও মত পোষণ করবে।

কাজেই, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বর্ণনা মতে, উক্ত ব্যক্তি লা’নতের তৃতীয় স্তর অতিক্রম করে চতুর্থ স্তরে উপনীত হয়েছে। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করা হয় এমন বিষয় ও আমল সম্পর্কে তার বিরূপ চিন্তা, বক্তব্য ও মন্তব্যই তা প্রমাণ করে; যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের সম্পূর্ণ বিপরীত।

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, “কোন বিষয়ে যখন একাধিক মত থাকবে তখন যেই মতটি অীধক ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য হবে তা আমল করতে হবে।” মতভেদ আছে বলে মূল বিষয়টির আমলই ছেড়ে দিতে হবে, এ বক্তব্য চরম শ্রেণীর জাহিল ও কাফিরের উক্তি বৈ কিছু নয়। এ বক্তব্য পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের সম্পূর্ণ বিপরীত তাই কুফরীর শামীল।

আর ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন এটাই সবচেয়ে ছহীহ ও মশহূর মত।

যেমন, এ প্রসঙ্গে হাফিয আবূ বকর ইবনে আবী শাইবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহীহ্ সনদ সহকারে বর্ণনা করেন-

عن حضرت عفان رحمة الله عليه عن حضرت سعيد بن مينا رحمة الله عليه عن حضرت جابر و حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما قالا ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل يوم الاثنين الثانى عشر من شهر ربيع الاول.

অর্থ: “হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনারা বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ ‘হস্তি বর্ষের ১২ই রবীউল আউওয়াল ইয়ামুল ইছনাইন (সোমবার শরীফ) হয়েছিল।” (বুলুগুল আমানী শরহিল ফাত্হির রব্বানী, মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার সনদের মধ্যে প্রথম বর্ণনাকারী হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে মুহাদ্দিছগণ বলেছেন, “হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন উচ্চ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য ইমাম, প্রবল স্মরণশক্তি ও দৃঢ়প্রত্যয় সম্পন্ন ব্যক্তি।” (খুলাসাতুত্ তাহযীব) “দ্বিতীয় বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।” (খুলাসাহ্,তাক্বরীব) আর তৃতীয় হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। এ দু’জন উচ্চ পর্যায়ের ফক্বীহ্ ছাহাবী উনাদের বিশুদ্ধ সনদ সহকারে বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, “১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস।” এ ছহীহ্ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনার উপরই ইমামগণ উনাদের ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (সীরাতে হালবিয়াহ, যুরক্বানী আলাল মাওয়াহিব, মাছাবাতা বিস্সুন্নাহ ইত্যাদি)

উপরোক্ত বিশুদ্ধ বর্ণনা মুতাবিক ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস। এটাই ছহীহ ও মশহূর মত। এ মতের বিপরীতে যেসব মত ঐতিহাসিকগণ থেকে বর্ণিত রয়েছে তা অনুমান ভিত্তিক ও দুর্বল। তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মূলত: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সঠিক তারিখ ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ সম্পর্কে যারা চু-চেরা করে থাকে তারা দু’ দিক থেকে কাফির।

প্রথমতঃ তারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ ও মশহূর বর্ণনা অস্বীকার করার কারণে কাফির। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

روى حضرت ابو بكر ابن ابى الشيبة بسند الصحيح عن حضرت عفان عن حضرت سعيد بن مينا عن حضرت جابر وابن عباس رضى الله تعالى عنهما قالا ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل يوم الاثنين الثانى عشر من شهر ربيع الاول .

অর্র্থ: “হযরত হাফিয আবূ বকর ইবনে আবী শাইবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছহীহ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন, হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ হস্তি বাহিনী বর্ষের ১২ই রবীউল আউওয়াল সোমবার শরীফ হয়েছিল। (বুলুগুল আমানী শরহিল ফাতহির রব্বানী)

এ ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনার উপরই ইমামগণ উনাদের ইজমা’ (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (সীরাত-ই-হালবিয়াহ, যুরক্বানী আলাল মাওয়াহিব, মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ ইত্যাদি)

দ্বিতীয়ত: পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ‘নাসী’কে স্বীকার করে নেয়ার কারণে তারা কাফির। যেমন এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-

انما النسىء زيادة فى الكفر يضل به الذين كفروا يحلونه عاما ويحرمونه عاما ليواطؤوا عدة ما حرم الله فيحلوا ما حرم الله .

অর্র্থ: “নিশ্চয়ই নাসী তথা মাসকে আগে পিছে করা কুফরীকে বৃদ্ধি করে থাকে। এর দ্বারা কাফিরেরা গুমরাহীতে নিপতিত হয়। তারা (ছফর মাসকে) এক বছর হালাল করে নেয় এবং আরেক বছর হারাম করে নেয়, যাতে মহান আল্লাহ পাক উনার হারামকৃত মাসগুলোর গণনা পূর্ণ করতে পারে।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৭)

অর্র্থাৎ, জাহিলিয়াতের যুগে কাফির, মুশরিকরা ছফর মাসকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করতো। তাই তারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মুতাবিক উক্ত মাসটিকে আগে-পিছে করতো। আরেকটি কারণ হলো, যখন তারা যুদ্ধ-বিগ্রহ করার প্রয়োজন মনে করতো বা যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো, তখন তারা ছফর মাসকে আগে পিছে করে হারাম মাসের সংখ্যা নিরূপণ করতো, যা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কুফরী। (তাফসীরে দুররে মানছূর)

এছাড়াও কাফির, মুশরিকরা তাদের নিজেদের স্বার্থে দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্য বছরকে বারো মাসে গণনা না করে কোন কোন বছর দশ মাস থেকে সতের মাস পর্যন্ত গণনা করতো, যা নাসী হিসেবে মশহূর। এর কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার তারিখ ও দিন নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ থেকে বিদায় হজ্জ পর্যন্ত প্রায় তেষট্টি (৬৩) বছর। এই তেষট্টি বছর যাবৎ কাফির, মুশরিকরা নাসী করেছে। আর এই জন্যই বিদায় হজ্জের সময় খুতবায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাস, তারিখ, দিন, স্থান সমস্ত কিছু নতুন করে ফায়সালা করেছেন, যা বিদায় হজ্জের খুতবায় বর্ণিত রয়েছে।

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى بكرة رضى الله تعالى عنه قال خطبنا النبى صلى الله عليه وسلم يوم النحر قال ان الزمان قد استدار كهيئته يوم خلق الله السموات والارض السنة انثى عشر شهرا منها اربعة حرم ثلث متواليات ذو القعدة وذوالحجة والمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان وقال اى شهر هذا قلنا الله ورسوله اعلم فسكت حتى ظننا انه سيسميه بغير اسمه قال اليس ذا الحجة قلنا بلى قال اى بلد هذا قلنا الله ورسوله اعلم فسكت حتى ظننا انه سيسميه بغير اسمه قال اليس البلدة قلنا بلى قال فاى يوم هذا قلنا الله ورسوله اعلم فسكت حتى ظننا انه سيسميه بغير اسمه قال اليس يوم النحر قلنا بلى قال فان دماءكم واموالكم واعراضكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا فى بلدكم هذا فى شهركم هذا وستلقون ربكم فيسئلكم عن اعمالكم الا فلا ترجعوا بعدى ضلالا يضرب بعضكم رقاب بعض الا هل بلغت قالوا نعم قال اللهم اشهد فليبلغ الشاهد الغائب فرب مبلغ اوعى من سامع .

অর্র্থ: “হযরত আবূ বাকরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কুরবানীর দিনে (দশই যিলহজ্জ শরীফ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দান করলেন এবং বললেন, বছর ঘুরে এসেছে তার গঠন অনুযায়ী, যেদিন মহান আল্লাহ তায়ালা আসমান ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন। বছর বার মাসে। তার মধ্যে চারটি মাস হারাম বা সম্মানিত। তিনটি পর পর এক সাথে- পবত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ এবং চতুর্থ মাস মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজবুল হারাম মাস, যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ উভয়ের মধ্যখানে অবস্থিত। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটি কোন মাস? আমরা বললাম, “মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই অধিক অবগত।” অতঃপর তিনি এতোক্ষণ চুপ রইলেন, যাতে আমরা ভাবলাম যে, সম্ভবতঃ তিনি উনার অন্য নাম করবেন। তৎপর বললেন, “এটি কি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ নয়?” আমরা বললাম, “হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” অতঃপর তিনি বললেন, “এটি কোন শহর?” আমরা বললাম, “মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই অধিক অবগত।” অতঃপর তিনি এতোক্ষণ চুপ রইলেন যাতে আমরা ভাবলাম যে, সম্ভবতঃ তিনি এর অন্য নাম করবেন। তৎপর বললেন, “এটি কি পবিত্র মক্কা শরীফ শহর নয়?” আমরা বললাম, “হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” অতঃপর তিনি বললেন, “এটি কোন দিন?” আমরা বললাম,

“মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই অধিক অবগত।” অতঃপর তিনি এতোক্ষণ চুপ রইলেন, যাতে আমরা ভাবলাম যে, সম্ভবতঃ তিনি এর অন্য নাম করবেন। তৎপর বললেন, “এটি কি পবিত্র কুরবানী উনার দিন নয়?” আমরা বললাম, “হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” তখন তিনি বললেন, “আপনাদের জীবন, সম্পদ ও সম্মান আপনাদের জন্য পবিত্র, যেমন আপনাদের এই মাস, এই শহর ও এই দিন পবিত্র। আপনারা শীঘ্রই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট পৌঁছবেন আর তিনি আপনাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সাবধান! আমার পর আপনারা পথভ্রষ্ট হয়ে একে অন্যের জীবননাশ করবেন না। আমি কি আপনাদেরকে (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বিধান) পৌঁছাইনি? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তখন তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর তিনি বললেন, আপনারা প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেনো অনুপস্থিত ব্যক্তিকে এটা পৌঁছিয়ে দেন। কেননা, অনেক এমন ব্যক্তি যাকে পরে পৌঁছানো হয়, সে আসল শ্রোতা অপেক্ষা অধিক উপলব্ধিকারী ও হিফাযতকারী হয়ে থাকে। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

অতএব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার বিলাদত শরীফ উনার সঠিক তারিখ ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ব্যতীত অন্য যেসব তারিখ ঐতিহাসিকগণ থেকে বর্ণিত রয়েছে, তা কাফিরদের নাসী তথা মাস, দিন, তারিখ পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বর্ণিত রয়েছে। ফলে তা মানা বা গ্রহণ করা বা স্বীকার করা প্রত্যেকটিই কুফরীর সামিল। নাউজুবিল্লাহ!

{দলীলসমূহ: (১) তাফসীরে রহুল মায়ানী, (২) তাফসীরে রুহুল বয়ান, (৩) তাফসীরে মাযহারী, (৪) তাফসীরে ইবনে কাছীর, (৫) তাফসীরে ইবনে আব্বাস, (৬) তাফসীরে খাযেন, (৭) বাগবী, (৮) কুরতুবী, (৯) কবীর, (১০) তাফসীরে তাবারী, (১১) তাফসীরে দুররে মনছুর, (১২) বুলুগুল আমানী শরহিল ফাত্হির রব্বানী, (১৩) আল বিদায়া ওয়ান্ নিহায়া, (১৪) খুলাসাতুত্ তাহযীব, (১৫) খুলাসাহ্, (১৬) তাক্বরীব, (১৭) সীরাত-ই-হালবিয়াহ, (১৮) যুরক্বানী আলাল মাওয়াহিব, (১৯) মাছাবাতা বিস্সুন্নাহ্, (২০) শামামাহ্-ই-আম্বরিয়াহ্, (২১) ফত্হুর রব্বানী, (২২) আল মাওরেদ আর রাবী, (২৩) হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামীন, (২৪) মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়াহ্, (২৫) মাদারিজুন নুবুওওয়াত, (২৬) তাওয়ারীখে হাবীবে ইলাহ্ ইত্যাদি)

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Dhaka
1317