পরিক্রমা

পরিক্রমা কষ্টের জন্য দুনিয়ায় আসা।কষ্টই যদি না পেলাম, আসলাম কেনো? মুসলিম সকলকে বন্ধুত্ব ভালবাসা দিয়ে কাছে টানে

আমারা কী এক হতে পারবো?      :একজন বাদশাহ তার উজিরের সাথে কোথাও সফরের উদ্দেশ্যে বের হলেন। চলতে চলতে বাদশাহ উজিরকে জিজ্ঞেস...
08/08/2026

আমারা কী এক হতে পারবো?

:
একজন বাদশাহ তার উজিরের সাথে কোথাও সফরের উদ্দেশ্যে বের হলেন। চলতে চলতে বাদশাহ উজিরকে জিজ্ঞেস করলেন, উজির সাহেব!! মানুষ যে বলে “মনের সাথে মনের মিল হয়ে থাকে” এই কথাটার মর্ম কী? উজির ছিলেন অত্যন্ত চালাক ও বুদ্ধিমান। বললেন, মহামান্য!! এই কথাটা আমি বাস্তবতার আলোকে আপনাকে বোঝাতে চাই। যদি আপনি রাজী থাকেন।
:
বাদশাহ রাজী হলেন। এবার উজির বললেন, তাহলে আপনি কিছু সময়ের জন্য আমার সাথে সাধারণ পোষাকে বের হোন। বাদশাহ উজিরের কথামতো শাহী পোষাক ও রাজ মুকুট খুলে সাধারণ বেশে উজিরের সাথে মহলের বাইরে বেরিয়ে এলেন।
:
পথে চলতে চলতে উজির একজন লোককে আসতে দেখে বাদশাহকে জিজ্ঞেস করলেন, মহাশয়!! লোকটি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? জবাবে বাদশাহ বললেন, মনে হচ্ছে সে একজন নির্বোধ ও মূর্খ। তার কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই। উজির বললো, ঠিক আছে তাহলে একটু যাচাই করে নেই।
:
উজির এবার লোকটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, দোস্তো!! বলতো দেখি আমাদের বর্তমান বাদশাহ সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? তিনি কেমন লোক??? সে বলতে লাগলো, বুঝতে পারছি না কোথাকার কোন বেয়াকুফ দেশের বাদশা হয়ে বসে আছে। তার তো কাণ্ডজ্ঞান বলতে একেবারেই নেই। সে কোনো ভাবেই বাদশা হবার যোগ্য নয়। বাদশার মতোই ছিলো তার জবাব।
:
এবার উজির বাদশাহকে নিয়ে আরো কিছু পথ হেঁটে গেলেন। পথে আরেকজন যুবককে দেখতে পেলেন তারা। উজির পূর্বের ন্যায় তার ব্যাপারেও বাদশাহকে জিজ্ঞেস করলেন। এবার বাদশাহ বললেন, তাকে দেখে খুব ভদ্র মনে হচ্ছে। চলার মাঝে কেমন একটা অার্ট আছে। মনে হচ্ছে বেশ ভালো ঘরের সন্তান।
:
উজির বললেন, চলুন মহামান্য তাকেও একটু যাচাই করে নেই। উজির সামনে গিয়ে যুবককে জিজ্ঞেস করলো, বলো তো ভাই, আমাদের বাদশাহ কেমন? যুবক বললো, দোস্তো!! আমাদের বাদশাহ তো অনেক বুদ্ধিমান। প্রজারা সবাই তার প্রতি সন্তুষ্ট। আমরা ভাগ্যগুণেই এমন একজন বাদশার প্রজা হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। তিনি সাক্ষাত ফেরেশতা।
:
এবার উজির বাদশাহকে বললেন, মহামান্য!!! দেখুন!! অন্যের সম্পর্কে আপনার ধারণা যেমন ছিলো, তার ধারণাটাও আপনার ব্যাপারে ছিলো অভিন্ন। এটাই হলো “মনের সাথে মনের মিল হওয়ার” তাৎপর্য।
:
দৃশ্যপট-[দুই]
:
ইদানিং আমরা বেশ নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিতে শুরু করেছি। যার তার ব্যাপারে যাচ্ছেতাই ধারণা পোষণ করেও যাচ্ছি অহরহ। আর মনে মনে খেয়ালি পোলাউ পাকিয়ে যাচ্ছি যে, আমার পোলাউটাই সবচে‘ সুস্বাদু। বাকি সবারগুলোই পঁচা। ফলে বাকিরাও আমার ব্যাপারে অভিন্ন ধারণা নিয়েই বসে আছে।
:
আমি একজনের বাবাকে গালি দিলে সেতো আমার বাবাকে গালি দিবেই। মৌচাকে ঢিল ছুঁড়লেও কামড় খেতেই হবে এটাই স্বাভাবিক। ইটের বিনিময়েও পাটকেল। তিলকা বিতিলকা। সমানে সমান।
:
আমি অপরের ব্যাপারে যেমন ধারণা করবো হুবহু ধারণাই সে আমার ব্যাপারে করবে। আমি বন্ধু মনে করলে সেও বন্ধু মনে করবে। আর আমি শত্রু মনে করলে সেও শত্রু মনে করবে। ফলে বাড়বে দূরত্ব। বিভেদ। ভাঙন।
:
বন্ধু!!!! আমরা সকলেই ঐক্য প্রত্যাশি। ঐক্যের গান গাই। কিন্তু ঐক্য হচ্ছে না। হবেও না। কারণ, আমরা মনের দিক থেকে যোজন যোজন দূরে। একে অপরের ছায়াটা পর্যন্ত মাড়াতে চাই না। আমরা যে পথে চলছি তা ঐক্যের পথ নয়। এপথ ভাঙনের। এপথ বিভেদের। দূরত্বের।
:
সকলকে এক ছাতার নিচে দেখার প্রত্যাশায়। এক হতভাগ্য দরদী!!
:
হবে কি কোনো দিন?

লেখনীতে
ফুয়াদ মাকসুদ
১২এপ্রিল১৬ইং

পাওয়া খবর
08/08/2026

পাওয়া খবর

কোয়ান্টাম মেথড : একটি শয়তানী ফাঁদমানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকেফিরিয়ে কথিত অন্তর্গুরুর ইবাদতে লিপ্তকরার অভিনব প্রতারণার নাম ...
07/08/2026

কোয়ান্টাম মেথড : একটি শয়তানী ফাঁদ
মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে
ফিরিয়ে কথিত অন্তর্গুরুর ইবাদতে লিপ্ত
করার অভিনব প্রতারণার নাম হ’ল কোয়ান্টাম
মেথড। হাযার বছর পূর্বে ফেলে আসা
হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান পাদ্রী ও যোগী-
সন্ন্যাসীদের যোগ-সাধনার আধুনিক
কলা-কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছে
‘মেডিটেশন’। হতাশাগ্রস্ত মানুষকে
সাময়িক প্রশান্তির সাগরে ভাসিয়ে এক
কল্পিত দেহভ্রমণের নাম দেওয়া
হয়েছে Science of Living বা জীবন-
যাপনের বিজ্ঞান। আকর্ষণীয় কথার
ফুলঝুরিতে ভুলে টাকাওয়ালা সাধারণ শিক্ষিত
মানুষেরা এদের প্রতারণার ফাঁদে
নিজেদেরকে সঁপে দিচ্ছেন
অবলীলাক্রমে। ব্যয় করছেন কথিত
ধ্যানের পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঢেলে
দিচ্ছেন হাযার হাযার টাকা। অথচ একটা রঙিন
স্বপ্ন ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে
না। অন্যদিকে মুসলমান যারা এদের দলে
ভিড়ছে, তারা শিরকের মহাপাতকে লিপ্ত
হয়ে দুনিয়া ও আখেরাত দু’টিই হারাচ্ছে।
নিম্নে আমরা এদের আক্বীদা-বিশ্বাস ও
কর্মনীতি যাচাই করব।-
কোয়ান্টামের পঞ্চসূত্র হ’ল, প্রশান্তি,
সুস্বাস্থ্য, প্রাচুর্য, সুখী পরিবার ও ধ্যান।
বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম প্রত্যেকের
ধর্মবিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে। সুখী
মানুষের সবটুকু প্রয়োজন পূরণের
প্রক্রিয়াই রয়েছে কোয়ান্টামে। তাই
কোয়ান্টামই হচ্ছে নতুন সহস্রাব্দে
আধুনিক মানুষের জীবন যাপনের
বিজ্ঞান’। অন্যান্য ডিগ্রীর ন্যায় এখানকার
ধ্যান সাধনায় যারা উত্তীর্ণ হয়,
তাদেরকে ‘কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট’
বলে শ্রুতিমধুর একটা ডিগ্রী দেওয়া হয়।
তাদের প্রচার অনুযায়ী বাংলাদেশে ফলিত
মনোবিজ্ঞানের পথিকৃৎ এবং
আত্মউন্নয়নে ধ্যান পদ্ধতির প্রবর্তক
প্রফেসর এম.ইউ. আহমাদ নাকি ক্লিনিক্যালি
ডেড হওয়ার পরেও পুনরায় জীবন লাভ
করেন শুধু ‘তাঁকে বাঁচতে হবে, তিনি ছাড়া
দেশে নির্ভরযোগ্য মনোচিকিৎসক
নেই’ তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাসের জোরে’
(মহাজাতক, কোয়ান্টাম টেক্সট বুক, জানু.
২০০০, পৃঃ ২২-২৪) । অর্থাৎ হায়াত-মউতের
মালিক তিনি নিজেই।
প্রথমে বলে রাখি, মানবরচিত প্রত্যেক
ধর্মেই স্ব স্ব নিয়মে ধ্যান পদ্ধতি
আছে। হিন্দু-বৌদ্ধ যোগী-
সন্ন্যাসীদের সাধন-ভজন সম্বন্ধে
আমরা কিছুটা জানি। আল্লাহ প্রেরিত ঈসায়ী
ধর্মে সর্বপ্রথম সন্ন্যাসবাদের উদ্ভব
হয়। যে বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আর
সন্ন্যাসবাদ, সেটাতো তারা নিজেরাই
প্রবর্তন করেছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি
লাভের উদ্দেশ্যে। আমরা তাদেরকে
এ বিধান দেইনি। অথচ এটাও তারা
যথাযথভাবে পালন করেনি। তাদের মধ্যে
যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে আমরা
পুরস্কার দিয়েছিলাম। আর তাদের অধিকাংশ
ছিল পাপাচারী’ (হাদীদ ৫৭/২৭) । এখানে
আল্লাহ তাদেরকে দুইভাবে নিন্দা
করেছেন। ১. তারা আল্লাহর দ্বীনের
মধ্যে বিদ‘আত অর্থাৎ নতুন রীতির
উদ্ভাবন করেছিল। ২. তারা নিজেরা
যেটাকে আল্লাহর নৈকট্য মনে করে
আবিষ্কার করেছিল, সেটার উপরেও তারা
টিকে থাকতে পারেনি। ইসলামের
স্বর্ণযুগের পরে ভ্রষ্টতার যুগে
মা‘রেফতের নামে বিদ‘আতী পীর-
ফকীররা নানাবিধ ধ্যান পদ্ধতি আবিষ্কার
করে। অতঃপর কথিত ইশক্বের উচ্চ
মার্গে পৌঁছে হুয়া হু করতে করতে যখন
চক্ষু ছানাবড়া হয়ে ‘কাশফ’ বা ‘হাল’ হয়, তখন
নাকি তাদের আত্মা পরমাত্মার মধ্যে লীন
হয়ে যায়। একে তাদের পরিভাষায় ফানা
ফিল্লাহ বা বাক্বা বিল্লাহ বলে। এরাই ছূফী
ও পীর-মাশায়েখ নামে এদেশে
পরিচিত। অথচ এইসব মা‘রেফতী
তরীকার কোন অনুমোদন ইসলামে
নেই। ধ্যানকে কোয়ান্টামের পরিভাষায়
বলা হয় ‘মেডিটেশন’ (Medetation)। যার
প্রথম ধাপ হ’ল ‘শিথিলায়ন’ যা মনের মধ্যে
ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি করে। আর শেষ ধাপ হ’ল
মহা চৈতন্য (Super Consciousness)। যখন
তারা বস্ত্তগত সীমা অতিক্রম করে মহা
প্রশান্তির মধ্যে লীন হয়ে যায়। যদিও
এর কোন সংজ্ঞা তাদের বইতে
সুস্পষ্টভাবে নেই।
এক্ষণে কোয়ান্টামের সাথে
অন্যদের পার্থক্য এই যে, অন্যেরা স্ব
স্ব ধর্মের মধ্যে বিদ‘আত সৃষ্টি
করেছে ও স্ব স্ব ধর্মের নামেই
পরিচিতি পেয়েছে। পক্ষান্তরে
কোয়ান্টাম মেথড সকল ধর্ম ও বর্ণের
লোকদের নতুন ধ্যানরীতিতে জমা
করেছে। খানিকটা সম্রাট আকবরের
দ্বীনে এলাহীর মত। তখন আবুল ফযল
ও ফৈযীর মত সেকালের সেরা
পন্ডিতবর্গের মাধ্যমে সেটা চালু
হয়েছিল মূলতঃ রাজনৈতিক কারণে। আর এ
যুগে কিছু উচ্চ শিক্ষিত সুচতুর
লোকদের মাধ্যমে এটা চালু হয়েছে
ইসলাম থেকে মানুষকে সরিয়ে নেবার
জন্যে এবং শিক্ষিত শ্রেণীকে
বিশ্বাসে ও কর্মে পুরোপুরি
ধর্মনিরপেক্ষ বানাবার জন্যে। যাতে
ভবিষ্যতে এদেশ তার ইসলামী পরিচিতি
হারিয়ে সেক্যুলার দেশে পরিণত হয়।
মুনি-ঋষিরা ধ্যান করে তাদের ঈশ্বরের
নৈকট্য লাভের জন্য। পক্ষান্তরে
কোয়ান্টামে ধ্যান করা হয় স্ব স্ব
‘অন্তর্গুরু’কে পাওয়ার জন্য। যেমন বলা
হচ্ছে, ‘অন্তর্গুরুকে পাওয়ার আকাংখা যত
তীব্র হবে, তত সহজে আপনি তার
দর্শন লাভ করবেন। এ ব্যাপারে বিচিত্র
সব অভিজ্ঞতা হয়েছে কোয়ান্টাম
গ্রাজুয়েটদের' (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪৭) ।
যেমন একটি ঘটনা বলা হয়েছে,
‘ছেলে কোলকাতায় গিয়েছে। দু’দিন
কোন খবর নেই। বাবা কোয়ান্টাম
গ্রাজুয়েট। মাগরিবের নামাজ পড়ে
মেডিটেশন কমান্ড সেন্টারে গিয়ে
ছেলের বর্তমান অবস্থা দেখার চেষ্টা
করতেই কোলকাতার একটি সিনেমা
হলের গেট ভেসে এল। ছেলে
সিনেমা হলের গেটে ঢুকছে। বাবা
ছেলেকে তার উদ্বেগের কথা
জানালেন। বললেন শিগগীর ফোন
করতে’ (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪১) ।
এমনিতরো উদ্ভট বহু গল্প তারা প্রচার
করেছেন।
এক্ষণে আমরা দেখব ইসলামের
সাথে এর সম্পর্ক :
১. এটি তাওহীদ বিশ্বাসের সাথে সরাসরি
সাংঘর্ষিক এবং পরিষ্কারভাবে শিরক। তাওহীদ
বিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ কেন্দ্রিক।
ইসলামের সকল ইবাদতের লক্ষ্য হ’ল
আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (ছাঃ)-এর
আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি
অর্জন করা ও পরকালে মুক্তি লাভ করা।
পক্ষান্তরে কোয়ান্টামের ধ্যান সাধনার
লক্ষ্য হ’ল অন্তর্গুরুকে পাওয়া। যা আল্লাহ
থেকে সরিয়ে মানুষকে তার প্রবৃত্তির
দাসত্বে আবদ্ধ করে। এদেরকে
লক্ষ্য করেই আল্লাহ বলেন, ‘আপনি কি
দেখেছেন ঐ ব্যক্তিকে, যে তার
প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়েছে? আপনি কি
তার যিম্মাদার হবেন’? ‘আপনি কি
ভেবেছেন ওদের অধিকাংশ শুনে বা
বুঝে? ওরা তো পশুর মত বা তার চাইতে
পথভ্রষ্ট’ (ফুরক্বান ২৫/৪৩-৪৪) । মূলতঃ ঐ
অন্তর্গুরুটা হ’ল শয়তান। সে সর্বদা তাকে
রঙিন স্বপ্নের মাধ্যমে তার দিকে
প্রলুব্ধ করে।
২. তারা বলেন, মনকে প্রশান্ত করার
মতো নামাজ যাতে আপনি পড়তে পারেন
সেজন্যই মেডিটেশন দরকার। কেননা
নামাজের জন্য সবচেয়ে বড়
প্রয়োজন হুযুরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা।
এটা কিভাবে অর্জিত হয়, তা এখানে এলে
শেখা যায়’ (প্রশ্নোত্তর ১৪২৭) ।
জবাব : এটার জন্য সর্বোত্তম পন্থা হ’ল
ছালাত। এর বাইরে কোন কিছুর
অনুমোদন ইসলামে নেই। আল্লাহ
বলেন, তুমি ছালাত কায়েম কর আমাকে
স্মরণ করার জন্য’ (ত্বোয়াহা ১৪) ।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন সংকটে পড়তেন তখন
ছালাতে রত হ’তেন (আবুদাঊদ হা/১৩১৯) ।
তিনি বলেছেন, তোমরা ছালাত আদায় কর,
যেভাবে আমাকে দেখছ’ (বুখারী
হা/৬৩১) । যারা খুশু-খুযুর সাথে ফরয, নফল ও
তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে আদায় করে,
তাদেরকেই আল্লাহ সফলকাম মুমিন
বলেছেন (মুমিনূন ১-২) । আর ছালাতে
ধ্যান করা হয় না। বরং একমনে বান্দা তার
সৃষ্টিকর্তার সাথে একান্তে আলাপ করে
(বুখারী হা/৫৩১) । সর্বোচ্চ শক্তির
কাছে নিজের দুর্বলতা ও নিজের কামনা-
বাসনা পেশ করে সে হৃদয়ে সর্বোচ্চ
প্রশান্তি লাভ করে এবং নিশ্চিত আশাবাদী
হয়। অথচ মেডিটেশনের কথিত
অন্তর্গুরুর কোন ক্ষমতা নেই। তার
সাধনায় নিশ্চিত আশাবাদের কোন প্রশ্নই
ওঠে না। কেননা ওটা তো স্রেফ
কল্পনা মাত্র। ছালাতে আল্লাহর ইবাদত করা
হয়। পক্ষান্তরে মেডিটেশনে
অন্তর্গুরুর ইবাদত করা হয়। একটি তাওহীদ,
অপরটি শিরক। দু’টিকে এক বলা দিন ও
রাতকে এক বলার সমান। যা চরম ধৃষ্টতার
নামান্তর।
৩. তারা বলেন, কোয়ান্টাম
মেডিটেশনের জন্য ধর্ম বিশ্বাস কোন
যরূরী বিষয় নয়। ইসলাম বা অন্য
কোনো ধর্মের সাথে এর কোন
বিরোধ নেই। তাদের কার্যাবলীতে
এর প্রমাণ রয়েছে। যেমন, ‘এখন
কোয়ান্টাম শিশু কাননে রয়েছে ১৫টি
জাতিগোষ্ঠীর চার শতাধিক শিশু। মুসলিম,
হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রিষ্টান, প্রকৃতিপূজারী
সকল ধর্মের শিশুরাই যার যার ধর্ম পালন
করছে। আর এক সাথে গড়ে উঠছে
আলোকিত মানুষ হিসাবে’ (শিশু কানন) ।
জবাব : মানুষকে সকল ধর্ম থেকে
বের করে এনে কোয়ান্টামের নতুন
ধর্মে দীক্ষা নেবার ও কোয়ান্টাম
নেতাদের গোলাম বানানোর চমৎকার
যুক্তি এগুলি। কেননা অন্তর্গুরুর ব্যাখ্যায়
তারা বলেছেন, আধ্যাত্মিকতার পথে
অগ্রসর হতে গেলে একজন
আলোকিত গুরুর কাছে বায়াত বা দীক্ষা
নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া আধ্যাত্মিকতার
সাধনা এক পিচ্ছিল পথ। যেকোন সময়ই পা
পিছলে পাহাড় থেকে একেবারে
গিরিখাদে পড়ে যেতে পারেন’
(টেক্সটবুক, পৃঃ ২৪৭) । অর্থাৎ এরা
‘আলোকিত মানুষ’ বানাচ্ছে না। বরং
ইসলামের আলো থেকে বের করে
এক অজানা অন্ধকারে বন্দী করছে। যার
পরিণাম জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা
আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম
ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন তালাশ
করবে, তা কবুল করা হবে না। ঐ ব্যক্তি
আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের
অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে ইমরান ৮৫) ।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি তোমাদের কাছে
একটি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে
এসেছি’ (আহমাদ, মিশকাত হা/১৭৭) । অতএব
ইসলামের প্রকৃত অনুসারীরাই কেবল
আলোকিত মানুষ। বাকী সবাই অন্ধকারের
অধিবাসী।
৪. তারা বলেন, বহু আলেম আমাদের
মেডিটেশন কোর্সে অংশগ্রহণ
করেন এবং তারা এর সাথে ইসলামের
কোন বিরোধ নেই বলেছেন।
জবাব : অল্প জ্ঞানী অথবা কপট
বিশ্বাসী ও দুনিয়াপূজারী লোকেরাই
চিরকাল ইসলামের ক্ষতি করেছে। আজও
করছে। ওমর (রাঃ) বলেন, ইসলামকে
ধ্বংস করে তিনটি বস্ত্ত : (১)
আলেমদের পদস্খলন (২) আল্লাহর
কিতাবে মুনাফিকদের ঝগড়া এবং (৩)
পথভ্রষ্ট নেতাদের শাসন’ (দারেমী) ।
মনে রাখা আবশ্যক যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-
এর জীবদ্দশায় ইসলাম পূর্ণতা লাভ
করেছে। অতএব যা তাঁর ও তাঁর
ছাহাবীগণের আমলে দ্বীন হিসাবে
গৃহীত ছিল, কেবলমাত্র সেটাই দ্বীন
হিসাবে গৃহীত হবে। তার বাইরে কোন
কিছুই দ্বীন নয়।
৫. মেডিটেশন পদ্ধতি নিজের উপরে
তাওয়াক্কুল করতে বলে এবং শিখানো হয়
যে, ‘তুমি চাইলেই সব করতে পার’। এরা
হাতে মূল্যবান ‘কোয়ান্টাম বালা’ পরে ও
তার উপরে ভরসা করে।
জবাব : ইসলাম মানুষকে মহাশক্তিধর
আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে শিখায়
এবং আল্লাহ যা চান তাই হয়। এর মাধ্যমে
মুমিন নিশ্চিন্ত জীবন লাভ করে ও পূর্ণ
আত্মশক্তি ফিরে পায়। আর ইসলামে এ
ধরনের ‘বালা’ পরা ও তাবীয ঝুলানো
শিরক (ছহীহাহ হা/৪৯২) ।
৬. তারা বলেন, শিথিলায়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের
মধ্যে এমন এক ক্ষমতা তৈরী হয়, যার
দ্বারা সে নিজেই নিজের চাওয়া-পাওয়া পূরণ
করতে পারে। এজন্য একটা গল্প বর্ণনা
করা হয়েছে যে, এক ইঞ্জিনিয়ার
সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করার মনছবি
দেখতে লাগল। ফলে সে ডিভি ভিসা
পেয়ে গেল। তারপর সেখানে ভাল
একটা চাকুরীর জন্য মনছবি দেখতে
লাগল। ফলে সেখানে যাওয়ার দেড়
মাসের মধ্যেই উন্নতমানের একটা
চাকুরী পেয়ে গেল’ (টেক্সট বুক পৃঃ
১১৫) । জবাব : ইসলাম মানুষকে
তাকদীরে বিশ্বাস রেখে বৈধভাবে
সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বলে। অথচ
কোয়ান্টাম সেখানে আল্লাহ থেকে
মুখ ফিরিয়ে কথিত মনছবির পূজা করতে
বলে।
৭. কোয়ান্টামের মতে রোগের মূল
কারণ হ’ল মানসিক। তাই সেখানে মনছবি বা
ইমেজ থেরাপি ছাড়াও ‘দেহের ভিতরে
ভ্রমণ’ নামক পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের
নানা অঙ্গের মধ্য দিয়ে কাল্পনিক ভ্রমণ
করতে বলা হয়। এতে সে তার সমস্যার
স্বরূপ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে
এবং নিজেই কম্যান্ড সেন্টারের
মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। যেমন,
একজন ক্যান্সার রোগী তার ক্যান্সারের
কোষগুলিকে সরিষার দানা রূপে কল্পনা
করে। আর দেখে যে অসংখ্য ছোট
ছোট পাখি ঐ সরিষাদানাগুলো খেয়ে
নিচ্ছে। এভাবে আস্তে আস্তে
সর্ষে দানাও শেষ, তার ক্যান্সারও শেষ’
(টেক্সট বুক পৃঃ ১৯৪) ।
৮. এদের শোষণের একটি হাতিয়ার হ’ল
‘মাটির ব্যাংক’। যে নিয়তে এখানে টাকা
রাখবেন, সে নিয়ত পূরণ হবে।
প্রথমবারে পূরণ না হ’লে বুঝতে হবে
মাটির ব্যাংক এখনো সন্তুষ্ট হয়নি। এভাবে
টাকা ফেলতেই থাকবেন। কোন মানত
করলে মাটির ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ
দিতে হবে। পূরণ না হলে অর্থের
পরিমাণ বাড়াতে হবে। এখানে খাঁটি সোনার
চেইন বা হীরার আংটি দিতে পারেন।
ইমিটেশন দিলে মানত পূরণ হবে না
(প্রশ্নোত্তর) । এর জন্য একটা গল্প ফাঁদা
হয়েছে। যেমন, ‘মধ্যরাতে উঠে মাটির
ব্যাংকে পাঁচশত টাকা রাখার সাথে সাথে
মুমূর্ষু ছেলে সুস্থ হয়ে গেল’
(দুঃসময়ের বন্ধু..) ।
প্রিয় পাঠক! বুঝতে পারছেন, কত
সুচতুরভাবে মানুষকে আল্লাহ থেকে
সরিয়ে নিয়ে তাদের কম্যান্ড সেন্টারে
আবদ্ধ করা হচ্ছে এবং সেই সাথে মাটির
ব্যাংকে টাকা ও গহনা রাখার ও তা কুড়িয়ে
নেবার চমৎকার ফাঁদ পাতা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে রোগ ও তা
আরোগ্য দানের মালিক আল্লাহ।
আল্লাহর হুকুম আছে বলেই মুমিন ঔষধ
খায়। ঔষধ আরোগ্যদাতা নয়। বরং আল্লাহ
মূল আরোগ্যদাতা। এই বিশ্বাস তাকে
প্রবল মানসিক শক্তিতে শক্তিমান করে
তোলে। এজন্য তাকে মেডিটেশন বা
কম্যান্ড সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন
পড়ে না। মাটির ব্যাংকে টাকা রাখারও দরকার
হয় না। বরং গরীবকে ছাদাক্বা দিলে তার
গোনাহ মাফ হয় (মিশকাত হা/২৯) ।
৯. অন্যান্য বিদ‘আতীদের ন্যায় এরাও
কুরআন-হাদীছের অপব্যাখ্যা করেছে
মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে দলে
ভিড়ানোর জন্য। যেমন-
(ক) ‘সকল ধর্মই সত্য’ তাদের এই
মতবাদের পক্ষে সূরা কাফেরূনের
‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন’ শেষ
আয়াতটি ব্যবহার করেছে। যেন আবু
জাহলের দ্বীনও ঠিক, মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর
দ্বীনও ঠিক। এই অপব্যাখ্যা
ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকরা ও তাদের
পদলেহীরা করে থাকে।
কোয়ান্টামের লোকেরাও করছে।
অথচ ইসলামের সারকথা একটি বাক্যেই বলা
হয়েছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আল্লাহ ছাড়া
কোন মা‘বূদ নেই। একথার মধ্যে সকল
ধর্ম ও মতাদর্শকে অস্বীকার করা
হয়েছে। কোয়ান্টামের অন্তর্গুরু
নামক ইলাহটিকেও বাতিল করা হয়েছে।
(খ) তারা বলেন মেডিটেশন একটি ইবাদাত।
যা রাসূল (ছাঃ) হেরা গুহায় করেছেন’। অথচ
এটি স্রেফ তোহমত বৈ কিছু নয়।
নিঃসঙ্গপ্রিয়তা আর মেডিটেশন এক নয়।
তাছাড়া নবী হওয়ার পরে তিনি কখনো
হেরা গুহায় যাননি। ছাহাবায়ে কেরামও
কখনো এটি করেননি।
(গ) তারা সূরা জিন-এর ২৬ ও ২৭ আয়াতের
অপব্যাখ্যা করে বলেছেন, আল্লাহ
যাকে ইচ্ছা গায়েবের খবর জানাতে
পারেন। অতএব যে যা জানতে চায়
আল্লাহ তাকে সেই জ্ঞান দিয়ে দেন’
(প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩) । অথচ উক্ত
আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর
মনোনীত রাসূল ছাড়া তাঁর অদৃশ্যের
জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না। এ সময়
তিনি সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত
করেন’। অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর রাসূলের
নিকট ‘অহি’ প্রেরণ করেন এবং তাকে
শয়তান থেকে নিরাপদ রাখেন। এই ‘অহি’-
টাই হ’ল গায়েবের খবর, যা কুরআন ও
হাদীছ আকারে আমাদের কাছে মওজুদ
রয়েছে। রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘অহি’-র
আগমন বন্ধ হয়ে গেছে। অতএব
কোয়ান্টামের গুরুরা চাইলেও গায়েবের
খবর জানতে পারবেন না।
(ঘ) তারা সূরা বুরূজ-এর বুরূজ অর্থ করেন
‘রাশিচক্র’। যাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে
রাশিচক্র অনুযায়ী মানুষের ভাল-মন্দ ও
শুভাশুভ নির্ধারণের বিষয়টি তাদের
শিষ্যদের মনে গেঁথে যায়। অথচ এটি
হিন্দু ও তারকা পূজারীদের শিরকী
আক্বীদা মাত্র।
(ঙ) তারা সূরা আলে ইমরানের ১৯১ আয়াতটি
তাদের আবিষ্কৃত মেডিটেশনের
পক্ষে প্রমাণ হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন
(প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩) । ঐ সাথে একটি
জাল হাদীছকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার
করেছেন যে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
সৃষ্টি সম্পর্কে এক ঘণ্টার ধ্যান ৭০
বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম’
(প্রশ্নোত্তর ১৭২৪) । অথচ উক্ত
আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর
সৃষ্টি বিষয়ে গভীর গবেষণা তাকে
আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও জাহান্নাম
থেকে মুক্তি প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ করে’।
কোয়ান্টামের কথিত অন্তর্গুরুর কাছে
যেতে বলে না। আর হাদীছটি হ’ল জাল।
যা আদৌ রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী নয়। কোন
কোন বর্ণনায় ৬০ বছর ও ১০০০ বছর বলা
হয়েছে’ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৭১) ।
পরিশেষে বলব, কোয়ান্টাম মেথডের
পূরা চিন্তাধারাটাই হ’ল তাওহীদ বিরোধী
এবং শিরক প্রসূত। যা মানুষের মাথা থেকে
বেরিয়ে এলেও এর মূল উদ্গাতা হ’ল
শয়তান। মানুষকে জাহান্নামে নেবার জন্য
মানুষের নিকট বিভিন্ন পাপকর্ম
শোভনীয় করে পেশ করার ক্ষমতা
আল্লাহ তাকে দিয়েছেন (হিজর ৩৯) ।
তবে সে আল্লাহর কোন মুখলেছ
বান্দাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না (হিজর
৪০) । শয়তান নিজে অথবা কোন মানুষের
মাধ্যমে প্রতারণা করে থাকে। যেমন
হঠাৎ করে শোনা যায়, অমুক স্থানে
অমুকের স্বপ্নে পাওয়া শিকড়ে বা
তাবীযে মানুষের সব রোগ ভাল হয়ে
যাচ্ছে। ফলে দু’পাঁচ মাস যাবত দৈনিক
লাখো মানুষের ভিড় জমিয়ে হাযারো
মুসলমানের ঈমান হরণ করে হঠাৎ একদিন
ঐ অলৌকিক চিকিৎসক উধাও হয়ে যায়।
এদের এই ধোঁকার জালে আবদ্ধ
হয়েছিল সর্বপ্রথম নূহ (আঃ)-এর কওম।
যারা পরে আল্লাহর গযবে ধ্বংস হয়ে
যায়। আমরাও যদি শিরকের মহাপাপ থেকে
দ্রুত তওবা না করি, তাহ’লে আমরাও তাঁর
গযবে ধ্বংস হয়ে যাব। অতএব হে মানুষ!
সাবধান হও!!

সকাল বেলা নুসরাত তার রুমে বসে কাপড়চোপড় গুছাচ্ছে। আর নুসরাতের ছোট ভাই শুভ চুপিচুপি নুসরাতের পিছনে গিয়ে দাড়ালো।- আপু ১০টা...
06/08/2026

সকাল বেলা নুসরাত তার রুমে বসে কাপড়চোপড় গুছাচ্ছে। আর নুসরাতের ছোট ভাই শুভ চুপিচুপি নুসরাতের পিছনে গিয়ে দাড়ালো।
- আপু ১০টা টাকা দে তো।
- কেন?
- স্কুল যামু।
- টাকা নাই এখন যা।
- এমন করস কেন আপু দে না প্লিজ।
- বলছি না, নাই এখন ঘ্যানর ঘ্যানর করিস না তো।
- আপু দিবি কিনা?
( ঠাস)
- এই নে দিলাম, হইছে এখন?
- উহুঁ উহুঁ।
কাদতেঁ কাদতেঁ বেরিয়ে গেল ঘর থেকে শুভ। এই হলো নুসরাত আর ওর ভাই। নুসরাত পরে ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে আর শুভ পরে ক্লাস ফাইভে। শুভ সবসময় ওর আপুর সাথে মেলামেশার চেষ্টা করে কিন্তু ওর আপু ওর সাথে এমন ব্যবহার করে। দুজনে সাপ বেজির মতো,, শুভ ওর আপুর কাছে থাকতে চাইলেও ওর আপু ওকে ঝামেলা মনে করে দূরে রাখে।
স্কুলে যাওয়ার সময়, শুভ ভাবলো আপু তো আমার স্কুলের সামনে দিয়েই কলেজে যায়। আমার স্কুলের সামনে দিয়েই কলেজে যাওয়ার রাস্তা, তাই আমি আপুর সাথে যাব।
শুভ ওর আপুর ঘরে গিয়ে দেখে ওর আপু রেডি হয়ে গেছে কলেজে যাবার জন্য।
- আপু আপু আমাকে সঙ্গে নিয়ে যা।
- একা যেতে পারিস না।
- এতো গাড়ির মধ্যে একা যেতে ভয় লাগে তোর সাথে যাব।
- আচ্ছা নিয়ে যাব, রাস্তায় বেরিয়ে এটা ওটা বাহানা ধরবি তো, সকালের মতো আরেক টা দিব।
- আচ্ছা চুপ করে থাকবো।
তারপর শুভ আর নুসরাত বেরিয়ে পড়ে। দুজনে চুপচাপ রাস্তা দিয়ে হাটছে। তবুও ওদের মাঝে প্রায় ১ হাত ফাকা জায়গা বিরাজ করছে। শুভর অনেক ইচ্ছে করছে আপুর হাত টা ধরে রাস্তায় চলতে কিন্তু শুভ ১ হাত ফাক দিয়ে যাচ্ছে। আর আপুর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে, যদি মাইর দেয়।
ওর আপু তো ওকে একটুও ভালবাসে না। সবসময় মারধোর করে। তাই এখন শুভর মনে সবসময় এক ভয় কাজ করে,,, সেটা হলো আপুর কাছে যাওয়া যাবে না, নয়তো মার খেতে হবে।
তখন শুভ বলে,,,
- আপু একটু কোলে নে না।
- কিইইইই?? ( চোখ বড় বড় করে রাগি লুক নিয়ে তাকালো শুভর দিকে)
- না,,, কিছু বলি নাই।
শুভ ভয় পেয়ে আরও একটু দূরে সড়ে যায়।
তারপর শুভ ওর স্কুলে চলে যায় আর ওর আপু একটু শান্তি পায়। মনে মনে বলতে থাকে আপদ গেছে।
এরপর সারাদিন শুভ স্কুলে আর নুসরাত কলেজে কাটায়। এভাবেই দিন চলছে দুজনের। শুভ পাচ্ছে শুধু ওর আপুর অবহেলা। কোনো সময় একটু ভালবেসে আদর করেনি ওকে। সবসময় বকাঝকা আর মেরেই সময় কাটায় বাড়িতে ওর আপু।
বিকেল ৪ টার ছুটি হয় শুভর স্কুল। ওর বাসার আশেপাশে ওর কোনো বন্ধু নেই। তাই স্কুল ছুটি হওয়ার পর শুভ একা একা মেইন রোডের ধার দিয়ে ধীরে ধীরে হাটতে হাটতে বাসার দিকে অগ্রসর হয়।
রাস্তায় দিয়ে যাওয়ার সময় শুভ দেখে একটা মেয়ে একটা ছেলেকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। ছেলেটি মেয়েটার কোলে ছিলো, বিশেষ করে মেয়েটার ছোট ভাই হবে হয়তো।
রাস্তা পাড় হওয়ার পরই দুজনে আবার একসাথে চলতে লাগলো।
শুভ তখন ভাবে, ইসসসস এমন করে যদি আমার আপু আমাকে আদর করতো ভালবাসতো তাহলে ও অনেক সুখী হতো। আর কিছু চাইতো না ওর আপুর কাছে।
এটুকুই যথেষ্ট ছিলো শুভর কাছে। কিন্তু এটা নুসরাত বুঝতো না, যে ওর ভাই কি চায়। শুভ শুধু ওর কাছে একটু আদর চায় কিন্তু নুসরাত শুভকে অবহেলা ছাড়া কোনো দিন কিছু দেয়নি।
এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসে শুভ। আর ওর আপু তো আগেই এসেছে,, কারণ স্কুল থেকে কলেজ আগে ছুটি হয়।
এসে ফ্রেস হয়ে দেখে আম্মু বাসায় নেই।
-আপু আম্মু কই গেছে?
- পাশের বাসায়।
- খেতে দে।
- আমার কাজ আছে, ভাত বেড়ে খা।
- ধ্যাত, ভাল্লাগেনা,, কোনো কিছু করতেই বললেই সবসময় বলস তুই নিজে কর। এমন করস কেন আপু?
- উফফফ, কি করি এটাকে নিয়ে!! আচ্ছা বস দিচ্ছি।
-( শুভ খুশি মনে তাড়াতাড়ি বসে পড়লো)
- এই নে খা।
- আপু তুই খেয়েছিস?
- তোর সেটা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না,, চুপচাপ খা।
- ( শুভ মুখ কালো করে খাওয়া শুরু করলো)
কিছুক্ষণ পর নুসরাত ওর ঘরে চলে গেল। আর শুভ ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে আবার নুসরাতের পেছন পেছন চললো।
ঘরে গিয়ে,,
- আপু তুই মনে হয় খাসনি,, এই ধর হা কর আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
( এ কান্ড দেখে নুসরাত খুব রেগে গেল)
-ওই হারামজাদা তোরে কে এতো দরদ দেখাতে বলছে হ্যাঁ, যা ভাগ এখান থেকে।
এরকম ভাবে বলার জন্য শুভর চোখটা ছলছল করে উঠলো জলে,,, শুভ মন খারাপ করে চলে গেল ঘর থেকে। অর্ধেক প্লেট ভাত খেয়ে আর বাকিটুকু না খেয়েই নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লো শুভ।
বাচ্চা পোলাপাইন। এখনো ভালবাসা শব্দের অর্থ জানে না। তবুও আজ খুব কষ্ট হচ্ছে ওর, কেন ওর আপু ওকে একটুও আদর করে না। একটুও ভালবাসে না? খুব কান্না পাচ্ছে শুভর। তাই আজ শুভ শুয়ে শুয়ে নীরবে কেদে যাচ্ছে। সে কান্না ওর আপুর কানে যাচ্ছে না। নুসরাত শুনতে পাচ্ছে না ওর ছোট্ট ভাইয়ের কষ্ট মাখা কান্না। হয়তো কোনো দিন শুনতেও পাবে না।
তারপরের দিন বিকেলে শুভ স্কুল থেকে এসে তাড়াহুড়ো করে ওর আপুর কাছে গেল,
- আপু আপু বড়ই খাবি? দ্যাখ কি মিষ্টি!!!!
- কই পাইছস?
- আমাদের স্কুলের সামনে মেইন রোডের ধারে যে বড় বড়ই গাছ ওটা থেকে পারছি।
- গাছে উঠতে পারিস?
- হ্যাঁ, পারি।
- আচ্ছা রেখে যা।
তারপর শুভ বড় বড় কয়েক টা বড়ই ওর আপুর বিছানায় রেখে খুশি মনে ফুটবল নিয়ে বাইরে খেলতে গেল।
খুশি হওয়ার কারণ টা হলো : আজ ওর আপু ওর উপর না রাগ করে ও যেগুলো দিছে সেগুলো রেখে দিছে তাই শুভ আজ অনেক খুশি।
শুভ কতখন ফুটবল নিয়ে গড়াগড়ি করে আবার মন খারাপ করে বাসায় চলে আসলো। এবার মন খারাপ হলো গিয়ে,,, ওর এখানে কোনো খেলার সাথী নেই। শুভ একা একদম একা। কেউ নেই এখন শুভর পাশে।
কিছুক্ষণ পর ভাবলো,, আমি তো আজ আপুকে খুশি দেখেছি,, বড়ই দিছি বলে আপু খুব খুশি হইছে তাই আপুকে বলি আমার সাথে খেলতে।
ঘরে গিয়ে শুভ দেখে ওর আপু রিমোট নিয়ে টিভি দেখছে,
- আপু শোন।
- কি?
- আমার সাথে বাইরে চল না একটু।
- ক্যা?
-ফুটবল খেলবো।
- তো খেল। আমি কি করবো?
- তুই তো জানিস এখানে তুই ছাড়া আমার খেলার সাথী আর কেউ নেই,, চল না আপু একটু খেলি।
- চুপ করে ঘরে গিয়ে বসে থাক যা এখান থেকে। যত্তোসব।
শুভ চলে গেল সেখান থেকে। আর নুসরাত টিভি দেখতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর শুভ দেখে ওর আপু বাথরুমে গেল। তাই দৌড়ে আপুর ঘরে গিয়ে আপুর গোপাল ভাঁড়ের হাসির বইটা নিয়ে নিজের ঘরে চলে এলো শুভ।
তার কিছুক্ষণ পরেই শুভ ওর আপুর চিল্লাচিল্লি শুনতে পেল।
- শুভ এই শুভ।
- কি হইছে আপু? ( অনেক ভয় নিয়ে বললো)
- আমার ঘরে ঢুকেছিলি?
- হ্যাঁ, আপু।
- বই কে নিছে?
- আমি।
- নিছস কেন?
- একা ভালো লাগছে না, তাই পড়ার জন্য নিএছি।
- ( ঠাস)
- আরেক বার যদি তুই আমার ঘরে আমার অনুমতি ছাড়া ঢুকেছিস তো তোর পা কেটে ফেলবো।
- আচ্ছা আপু আর যাব না কোনো দিন ( কেদে দিয়ে বললো শুভ)
- যা এখন। আর ভুলেও কোনো দিন আমার জিনিসের ভেতর হাত দিবি না। নইলে ফল খারাপ হইবো।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
এই বলে দৌড়ে চলে গিয়ে নিজের ঘরে এসে খুব জোরে জোরে কাদতেঁ লাগলো শুভ। এ কান্না শুনেও ওর প্রতি একটুও মায়া জন্মালো না ওর আপুর।
কাছে এসে একবারের জন্যও নুসরাত আদর করে বললো না, কাঁদিস না ভাই, আর মারবো না।
শুভর মা বাবা এগুলো সব দেখে, শুধু শুভর মা ওর আপুকে মাঝেমধ্যে একটু এ বিষয় নিয়ে বকতো, কেন ও এমন করে শুভর সাথে কিন্তু এর বেশী কিছু বলতো না।
কি দোষ করেছিল শুভ। কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছে আজ ওর আপু। কেন ওকে এতো কষ্ট দেয়। কোন অপরাধের জন্য নুসরাত শুভ কে একটুও ভালবাসে না। একটুও আদর করে না। কিসের জন্য ছোট ভাইকে একটু কাছে টেনে নেয় না। সবসময় কেন এতো অবহেলা করে??
এভাবে চলছে দিন। কয়েক মাস পর ....
নুসরাত কলেজে গেছে আর শুভ স্কুলে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার। হাফ টাইম। তাই শুভ ভাবছে আজ আসার সময় আপুর সাথে আসবে।
কলেজে প্রায় নুসরাতের সব বান্ধবীরা জানে নুসরাত কেমন। ও ওর ভাইয়ের সাথে কেমন ব্যবহার করে।
কলেজ ক্যান্টিনে বসে আছে নুসরাত, নীলা আর মায়া।
- নুসরাত তুই তোর ভাইকে আমার কাছে দিয়ে দে। (মায়া)
- কেন?
- তোর ভাইটা অনেক কিউট,, খুব আদর করতে ইচ্ছে করে ওকে,, কিন্তু তোর তো শুভ দু চোখের বিষ,, তাই বলছি ওকে আমার কাছে দিয়ে দে। (মায়া)
- ঠিকই বলছিস, নুসরাত তুই আর কষ্ট দিস না ওকে,, নাহয় আমাদের কাছে দিয়ে দে। অনেক হ্যাপি রাখবো। ( নীলা)
- তুই তো তোর ভাইকে একটুও ভালোবাসিস না। তোর ভাইকে ভালবাসার ভার টা না হয় আমাদের দে ( মায়া)
- কি বলছিস এসব ( নুসরাত)
- ভুল কি বললাম রে? ( নীলা)
নুসরাত এখন বসে বসে একটা কথাই ভাবছে,,, চোখের বিষ। শুভ কি আমার সত্যিই চোখের বিষ? যার জন্য ওকে একটুও ভালবাসি না। সবসময় আমার পিছনে তো শুধু আমার কাছ থেকে একটু সময় পাওয়ার জন্য ঘুরঘুর করে। কিন্তু আমি মাইর দেই। এটা কি ঠিক হচ্ছে। আমি কি করছি এসব ওর সাথে??
এখন শুধু নুসরাতের বিবেক থেকে এই সব কথা আসছে। এতদিন যদি আমার শুভ কে না বকে না মেরে আদর করতাম, ভালবাসতাম , তাহলে তো ওর জীবনটাই পাল্টে যেত। আর একা থাকতে হতো না। ভালো একটা সঙ্গী পেতো ও। কিন্তু এ আমি কি করছি? ছিঃ। কোনো বোন তার ভাইয়ের সাথে এমন করতে পারে? আমি কি করে করলাম?
এসব ভাবতে ভাবতে কলেজে ছুটি হয়ে গেল। আজ নুসরাত একা একা হেটে বাড়ি আসছে। আর ভাবছে, ভাইটাকে আজ সাথে করে দুজন একসাথে বাসায় যাব।
কলেজ গেটের বাইরে বেরুতেই এক ১০ বছরের বাচ্চা মেয়ে নুসরাতের হাত ধরলো,, মেয়েটার কাপড়চোপড় দেখে বোঝা গেল কোনো বস্তির হবে হয়তো।
- আফা আফা দশটা ট্যাহা দিবেন?
- কি করবি?
- আমার দু বছরের ছোট ভাইটা না কাল সন্ধ্যা বেলা থিকা কিছু খাইয়া পারে নাই,, ঘরে কিচ্ছু নাই।
- তুই খাইছস?
- আফা আমার খাওয়ার দরকার নাই,, আমার ভাইয়ে খাইলেই আমার খাওয়া হইয়া যাইবো।
এই পিচ্চি মেয়েটার এ কথা শুনে আজ নুসরাতের চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। ব্যাগ থেকে ১শ টাকার নোট বের করে সেই মেয়েটার হাতে দিল নুসরাত।
- আফা এতো ট্যাহা নাগবো না, মাত্র দশ ট্যাহা হইলেই ভাইয়ের লিগা একটা রুটি কিনা পারুম।
- এতগুলোই নে, সমস্যা নাই, তুই আর তোর ভাই হোটেলে গিয়ে আজ পেট ভরে খাবি।
- আচ্ছা আফা ঠিক আছে, যাই এহন।
এই বলে মেয়েটা খুশি হয়ে চলে গেল। আর নুসরাত এক পা দু পা করে সামনে এগোচ্ছে। নুসরাতের পা চলতে চায় না এখন। খুব কান্না পাচ্ছে এখন নুসরাতের।
যে ভাই ওর পিছনে দশটা টাকার জন্য হাত পাচ্ছে ওর কাছে, সেই ভাইকে ও মেরে তাড়িয়ে দিছে। কিন্তু এই মেয়েটাকে দেখো, এতো পিচ্চি একটা মেয়ে, নিজে খাক বা না খাক, তা নিয়ে ওর কোনো খেয়াল নেই, ওর ছোট্ট ভাইটা যেন শুধু একটু খেতে পায় সেজন্য অন্যের কাছে হাত পাতছে।
আর আমি, আমার নিজের রক্তের ভাই, ওর সাথে কি ব্যবহারটাই না করছি। সবসময় খারাপ ব্যবহার আর অবহেলা করছি। জানি না ও কোনো দিন আমাকে ক্ষমা করবো কিনা তবুও আজ আমি প্রতিজ্ঞা করছি এরপর আর কোনো দিন আমার ভাইয়ের সাথে এমন করব না, খুব আদর করবো ওকে। অনেক ভালবাসবো।
এসব ভাবতে ভাবতে প্রাইমারী স্কুলের সামনে এসে পরে নুসরাত। এসেই দেখে স্কুলের সামনে মেইন রোডের পাশে বড়ই গাছের নিচে অনেক মানুষের ভীড়।
আর ভেতর থেকে কার যেন কান্নার আওয়াজ আসছে। কি হলো আবার ওখানে। কত্তো ভীড়।
নুসরাত একজনকে ডাক দিল,,
- এইযে ভাই শুনুন।
- কি হইছে?
- ওখানে এতো ভীড় কিসের?
- আর বলবেন না, একটা বাচ্চা ছেলে স্কুল ছুটির পর বড়ই গাছে উঠছিল বড়ই পারতে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত ছেলেটা গাছ থেকে পরে যায়, পরছে তো পরছে একেবারে পিচ ঢালা রোডের মাঝে। বাচ্চা ছেলে, আঘাত সয্য করবার পারে নাই। ওখানেই মারা গেছে। আর কোথা থেকে যেন ওর মা আসে তারপর নিজের ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্না কাটি করতেছে।
- ওহ্,, আচ্ছা আপনি যান।
লোকটা চলে গেল। নুসরাত ভাবছে, আবার কোন মার কপাল পুড়লো? এখনই মার কোল খালি হয়ে গেল। ইসসসস, দেখতে হচ্ছে, বিষয় টা।
আস্তে আস্তে ভীড় ঠেলে ভেতরে যেতে লাগলো নুসরাত।
একটু ভেতরে যেতেই দেখতে পেল, এক মহিলা বিপরীত মুখী হয়ে সেই ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদছে।
লাল রক্তে ভিজে গেছে রাস্তার সাইড। রক্তের ঢল বয়ে গেছে ছেলেটার মাথা থেকে।
সেই অভাগা মা কে দেখার জন্য নুসরাত আরও সামনে যেতে থাকে। এতো অল্প বয়সে যে মার কোল খালি হয় তাকে তো একটু দেখতেই হবে তাই না!!!!
অনেক কষ্টে ভীড় ঠেলে মহিলার সামনে যায় নুসরাত।
নুসরাত মাথা তুলে মহিলার দিকে তাকাতেই নুসরাতের মাথায় আকাশ ভেঙে পরে। এটা কাকে দেখছে নুসরাত?? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।
যে মহিলাটা চিৎকার করে কাঁদছে সেটা আর কেউ না,,, স্বয়ং নুসরাতের মা।
তবে কি ওনার কোলে ওই রক্ত মাখা ছেলেটা আমার ভাই??
না। আর ভাবতে পারছে না নুসরাত। চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে নুসরাতের। সেখানেই মাথা ঘুরে পরে যায় নুসরাত।
এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল।
৬ ঘন্টা পর নুসরাতের জ্ঞান ফিরে। জ্ঞান ফিরে নুসরাত দেখে সে তার বাড়ির সামনে পরে আছে, আশেপাশে অনেক মানুষ। নুসরাতের পাশে বসে আছে ওর মা, তিনি এক ভাবে কেদে চলছেন। আর নুসরাতের সামনে কাফনের কাপড় জড়ানো এক ছেলেকে শুইয়ে রাখা হইছে।
সামনে রাখা নাকে তুলো গুঁজে দেওয়া লাশটাকে জড়িয়ে ধরে এক বিসাদ আত্ম চিৎকারে ভেঙে পরে নুসরাত।
আর নানা আবোলতাবোল বকতে থাকে নুসরাত।
ওই ভাই উঠ, উঠ না ভাই। দ্যাখ তোর আপু এসেছে তোর কাছে। ওই ভাই আপু বলে ডাক না। প্লিজ ভাই।
তোকে আর মারবো না রে ভাই, খুব আদর করবো এরপর। উঠ ভাই।
এসব বলে আরও জোরে জোরে কাদতেঁ থাকে নুসরাত।
তবুও আর শুভ উঠে না।
আজ শুভ শুনতে পাচ্ছে না ওর আপুর কান্নার আওয়াজ। কি করে শুনবে? ওর দেহে যে আর প্রাণটা নেই।
একদিন শুভ ওর আপুর জন্য কাঁদছে কিন্তু ওর আপু শুনতে পায়নি। তবে আজ কেন শুভ ওর আপুর কান্না শুনতে পাবে? না ফেরার দেশ থেকে।
শুভ মরে গেছে আজ অনেক দিন হলো,,, এখন শুধু নুসরাত প্রতিদিন ওর ভাইয়ের স্কুল ব্যাগ টা জড়িয়ে ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলে। আর ভাবে,, ভাই রে তুই আমাকে ক্ষমা না করেই দূরে চলে গেলি। আমি যে সারাজীবন তোর কাছে অপরাধী হয়ে থাকবো রে ভাই। কবে ফিরবি তুই আমার কাছে??
নুসরাত এখন প্রতিদিন বিকেলে অপেক্ষা করে ওর ভাইয়ের জন্য,, ওর ভাই কখন স্কুল থেকে ফিরে এসে বলবো, আপু খেতে দে।
তারপর কখন শুভ ওর মুখের কাছে প্লেট নিয়ে বলবো _ আপু নে হা কর, আমি খাইয়ে দেই।
কিন্তু শুভ আর আসে না। নুসরাত গভীর আগ্রহ নিয়ে শুভর পথ চেয়ে বসে থাকে তবুও শুভ আসে না।
এখন কেউ নুসরাত কে বলে না - আপু চল না ফুটবল খেলি, তুই ছাড়া যে আমার কোনো সঙ্গী নেই।
এখন কেউ বলে না - আপু তোর জন্য বড়ই আনছি, খাবি? দ্যাখ কি মিষ্টি!!
এসব ভাবতেই নুসরাত ঢুকরে কেদে উঠে। তবুও আজ ওর কান্না শুভর কানে পৌঁছায় না।
পৌছাবে কি করে? এখন যে শুভ, মাটির নিচে অনেক আরামে ঘুম পারছে। নুসরাতের কান্নার আওয়াজে তো আর এ ঘুম ভাঙবে না।

🎶অপরাধী 🎶একটা সময় Facebook রে আমার সবি ভাবিতাম★😍😁আমার মনের যত আবেগ FB তে পোস্ট করিতাম★😰😊কারো হাসি মুখের ছবি দেইখা কমেন্ট...
06/08/2026

🎶অপরাধী 🎶

একটা সময় Facebook রে আমার সবি ভাবিতাম★
😍😁
আমার মনের যত আবেগ FB তে পোস্ট করিতাম★
😰😊
কারো হাসি মুখের ছবি দেইখা কমেন্ট করিতাম★
😆👌
কারো দুঃখের পোস্ট দেখলে Sad. emoji দিতাম★
😭😖আরে রাত জেগে অনেক চিঠি, গান কবিতা Fb তে পোস্ট করিতাম🎶
👎
ও Facebook ও Facebook রে তুই অপরাধী রে★
😖😁
আমার এমবি কেনার টাকাগুলো দে ফিরাইয়া দে★
😫😜
আমার friendship নষ্ট করার অধিকার দিলো কে★
🙊😡
Facebook তুই বড় অপরাধী তর ক্ষমা নাই রে★
😖😂
আমি কাজের ফাকে বন্ধুদের সাথে Photo উঠিতাম★
📱😎
আমার হাত খরচ এর টাকা জমাই এমবি কিনিতামম★
💵📱
আরে রাইতের পর রাত জাগিয়া FB চালাইতাম★
😎🙊
আবার মাঝে মাঝে Messenger এ চ্যাটিং করিতাম★
😍💃
ও Facebook ও Facebook রে তুই অপরাধী রে★
😖😁
আমার এমবি কেনার টাকাগুলো দে ফিরাইয়া দে★💵😞😜
#অভদ্র_পোলা

তিন শূন্য তিন চার কোনটি?ক.৩০৩৪খ.০০০৩৪গ.০০০৪৪৪ঘ.৩০৪৪৪অনেকে ভুল উত্তর দিবে
06/08/2026

তিন শূন্য তিন চার কোনটি?
ক.৩০৩৪
খ.০০০৩৪
গ.০০০৪৪৪
ঘ.৩০৪৪৪
অনেকে ভুল উত্তর দিবে

একজন স্বামী তার স্ত্রীকে পাগলের মত কখন ভালবাসে?এক বৃদ্ধার সাক্ষাৎকার।যিনি তাঁর স্বামীর সাথে সফলতার সাথে কাটিয়ে দিলেন দীর...
06/08/2026

একজন স্বামী তার স্ত্রীকে পাগলের মত কখন ভালবাসে?
এক বৃদ্ধার সাক্ষাৎকার।
যিনি তাঁর স্বামীর সাথে সফলতার সাথে কাটিয়ে দিলেন দীর্ঘ পঞ্চাশটি বছর।
তাদের জীবন শান্তিতে ভরপুর ছিল। ঝগড়া তো দুরের কথা, দাম্পত্য জীবনে কখনো কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি।
একজন সাংবাদিক এই বৃদ্ধার কাছে তার পঞ্চাশ বছরের স্থায়ী সফলতা রহস্যের ব্যপারে জানতে চাইলেন।
কি ছিল সে রহস্য?
মজার মজার খাবার বানানো?
দৈহিক সৌন্দর্য?
বেশী সন্তান জন্ম দেয়া?
নাকি অন্যকিছু?
বৃদ্ধা বললেন, দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তি প্রথমত আল্লাহর ইচ্ছা অতপর স্ত্রীর হাতেই। একজন স্ত্রী চাইলে তার ঘরটাকে জান্নাতের টুকরো বানাতে পারেন আবার চাইলে এটাকে জাহান্নামেও পরিনত করতে পারেন।কিভাবে?
অর্থ দিয়ে?
তা তো হতে পারে না। কেননা অনেক অর্থশালী মহিলা আছেন, যাদের জিবনে দুঃখ দুর্দশার শেষ নেই, যাদের স্বামী তাদের কাছেই ভিড়তে চাননা।
সন্তান জন্ম দান?
না, তাও নয়। কারন, অনেক মহিলা আছেন, যাদের অনেক সন্তান আছে, অথচ স্বামী পছন্দ করেননা। এমনকি এ অবস্থায় তালাক দেওয়ার নজির কম নয়।
ভাল খাবার বানানো?
এটাও না, কারণ অনেক মহিলা আছেন, যারা রান্না বান্নায় বেশ দক্ষ, সারা দিন রান্না ঘরে কাজ করে, অথচ স্বামীর দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হন।
তার কথায় সাংবাদিক বিস্মিত হয়ে গেলেন, বললেন,
তাহলে আসল রহস্যটা কি?
বৃদ্ধা বললেন, যখনই আমার স্বামী রেগে গিয়ে আমাকে বকাবকি করতেন, আমি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে নিরবতা অবলম্বন করতাম এবং অনুতপ্ত হয়ে মাথা দুলিয়ে তার প্রতি টি কথায় সায় দিতাম।
সাবধান! বিদ্রুপের দৃষ্টিতে কখনো চুপ হয়ে থেকোনা, কেননা পুরুষ মানুষ বিচক্ষণ হয়ে থাকে, এটা সহজেই বুঝতে পারে।
সাংবাদিক: ঐ সময় আপনি ঘর থেকে বের হয়ে যান না কেন?
বৃদ্ধা: সাবধান! সেটা কখনো করবেননা। তখন তিনি মনে করবেন, আপনি তাঁর কথায় বিরক্ত হয়ে পালাতে চাচ্ছেন।
আপনার উচিত, চুপ থেকে ওর প্রতিটি কথায় হা সুচক সায় দেওয়া, যতক্ষণ না তিনি শান্ত হন।
অতপর আমি তাকে বলি, আপনার শেষ হয়েছে? এবার আমি যেতে পারি?
তারপর আমি চলে যাই, আর আপন কাজে লেগে যাই। কারন চিৎকার করে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তার বিশ্রাম প্রয়োজন।
সাংবাদিক: এরপর কি করেন? এক সপ্তাহ খানেক তার থেকে দূরে থাকেন, এবং কথা বলা বন্ধ রাখেন নিশ্চয়?
বৃদ্ধা: সাবধান! এধরনের বদভ্যাস থেকে দূরে থাকুন। যা দুধারা তরবারির চেয়েও মারাত্মক। স্বামী যখন আপনার সাথে আপোষ করতে চান তখন যদি আপনি তার কাছে না যান, তখন তিনি একা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।কখনো কখনো এ অবস্থা তাকে প্রচন্ড জিদের দিকে ঠেলে দেবে।
সাংবাদিক: তাহলে কি করবেন তখন?
বৃদ্ধা: দুই ঘন্টা পর এক গ্লাস দুধ বা এক কাপ গরম চা নিয়ে তার কাছে যাই, আর বলি, নিন, এগুলো খেয়ে নিন, আপনি খুব ক্লান্ত। এসময় তার সাথে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলি?
তারপর তিনি বলেন, রাগ করেছো? আমি বলি, না।
তারপর, তার দূর্ব্যবহারে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্নেহ ও ভালবাসার কথা বলেন।
সাংবাদিক: আপনি কি তার কথা তখন বিশ্বাস করেন?
বৃদ্ধা: অবশ্যই। কেন নয়? শান্ত থাকা অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস না করে, রাগান্বিত অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস করব?
সাংবাদিক: তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব?
বৃদ্ধা: আমার স্বামীর সন্তুষ্টিই আমার ব্যক্তিত্ব। আমাদের স্বচ্ছ সম্পর্কই আমাদের ব্যক্তিত্ব। আর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন ব্যক্তিত্ব থাকেনা। যার সামনে তুমি পুরোপুরি ভাবে বস্ত্রমুক্ত হয়েছ, তার কাছে কিসের ব্যক্তিত্ব?
ধন্য তুমি হে নারী!
যদি তোমাকে পাখি বানানো হতো,
তুমি হতে ময়ূর।
যদি তোমাকে জন্তু বানানো হতো,
তুমি হতে হরিন।
যদি তোমাকে পতঙ্গ বানানো হতো,
তুমি হতে প্রজাপতি।
যদি তোমাকে ফুল বানানো হতো,
তুমি হতে গোলাপ।
কিন্ত তোমাকে বানানো হলো মানুষ,
তাই হয়েছো প্রিয়তমা স্ত্রী,
মমতাময়ী মা,
ধরনীর বুকে পুরুষের সর্বোত্তম নেয়ামত।
তুমি যদি মহান রবের অতি মহত সৃষ্টি না হতে,
তাহলে তোমাকে জান্নাতের হুর বানানো হতো না,
যা আল্লাহ তার অতি প্রিয় বান্দাদের দান করবেন পুরস্কার হিসেবে।
ধন্য তুমি হে নারী!
শৈশবে পিতার জান্নাতের প্রবেশ দ্বার,
তারুণ্যে স্বামীর দ্বীনের পরিপূরক,
মাতৃত্বে জান্নাত হবে তোমার পায়ের নীচে।
সংগৃহীত

Address

Dhaka
5420

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পরিক্রমা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share