25/06/2025
⚠️ বড় লেখা, চাইলে এড়িয়ে যেতে পারেন, তবে পড়লে হয়তো কিছু জিনিস আপনার মন ও মস্তিষ্কে পরিবর্তন আনতে পারে...
✈️ ভারতের আহমেদাবাদের এয়ার ইন্ডিয়ার দূর্ঘটনায় যাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এটার কষ্ট হয়তো তারা ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারবেনা। তবে আমার মতে এই দূর্ঘটনা থেকে আমরা ৫টি মানবিক শিক্ষা নিতে পারি।
১/ দুনিয়ায় কোন কিছুই আসলে পার্ফেক্ট না:
বোয়িং এর এই ড্রিম লাইনার কে তাদের কোম্পানি পার্ফেক্ট এয়ারক্রাফট হিসেবে দাবি করে আসছিলো। এই ঘটনার আগ পর্যন্ত এর কোন এক্সিডেন্টাল কেইস ছিলোনা, তারা এটাকে নিয়ে গর্ব বোধ করতো এবং পার্ফেক্ট এয়ারক্রাফট ভাবতো। তাই হয়তো এটার প্রতি এয়ারলাইনস গুলোরও অতি আত্ববিশ্বাস ছিলো।
*এই ঘটনা আবারো প্রমান করলো যে এই দুনিয়ায় কোন বস্তুই পার্ফেক্ট না... তাই আমাদের সর্ব ক্ষেত্রেই বিনয়ী হওয়া প্রয়োজন। কোন কিছু নিয়েই আত্ব তুষ্টিতে ভোগা যাবেনা।
২/ সব পরিকল্পনাই বাস্তব রূপ পায়না:
দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এই প্লেনের একজন যাত্রী তার পুরো পরিবার সহ লন্ডনে পুরোপুরি শিফট হবার জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন। যেদিন তিনি তার পরিবার সহ যাত্রা করলেন সেই পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে, সেদিনই এই দূর্ঘটনায় তাদের সব শেষ হয়ে গেলো।
*আমরা আসলে যাই পরিকল্পনা করিনা কেন, স্রষ্টার প্ল্যানই বড় প্ল্যান। তাই আমাদের সব পরিকল্পনার জন্য কাজ করা শুরু করলেও, শেষ ভরসা তার উপরই করতে হবে...
৩/ সব আকাংক্ষিত বস্তুই আপনার জন্য কল্যানকর না:
ট্রাফিক জ্যামের কারনে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সেই প্লেনের একজন মহিলা যাত্রি ফ্লাইট টা মিস করে। যখন তিনি ফ্লাইটটা মিস করে, তখন নিশ্চয়ই তিনি তার ভাগ্যকে দোষারোপ করেছিলো, তার এতগুলো টাকা, সময়, আকাংক্ষিত এই ফ্লাইট মিস করে তিনি হয়তো উপর ওয়ালার কাছেও নিজের দুর্ভাগ্যের কথা বলছিলেন।
কিন্তু যখন তিনি জানলেন যে ফ্লাইটটি দূর্ঘটনার কবলে পরেছে, তখন নিশ্চয়ই মনে মনে সেই উপর ওয়ালাকেই ধন্যবাদ দিয়েছে তার এই ভাগ্যের জন্যই...
*তাই আমরা আমাদের জন্য যেটা আকাংক্ষিত মনে করি, যেটা না পেলে খুব দু:খ কষ্টে জর্জরিত হয়ে নিজ ভাগ্যকে দোষারোপ করি, এমন ও তো হতে পারে, সেই বস্তু আমাদের জন্য কল্যানকর না বলেই, আল্লাহ আমাদের কে তা দেয়না। তাই এমন কোন বস্তু না পেলে সেটাতে আপনার ভালো নিহিত আছে বলেই মেনে নেয়া উত্তম।
৪/ যাকে স্রষ্টা রক্ষা করে তার কিছুই হয়না:
ফ্লাইট টা ছিলো লন্ডনের, মাত্র টেক ওফ করেই তা মাটিতে লুটিয়ে পরে, ফুল লোডেড তেল ছিলো এবং জেট ফুয়েল অনেক বেশি ফ্লেইমেবল। যেখানে ক্র্যাশ করেছে, সেখানের অনেক জায়গা জুড়েও আগুন ছড়িয়েছে। প্লেনের যাত্রি সহ ক্র্যাশের জায়গায় প্রায় ৩০০ জন যাত্রি ও অন্যান্য মানুষ জাস্ট ভস্মীভূত হয়ে গেছে। অথচ তার মধ্যেই ১১ নাম্বার রো তে বসা এক পেসেঞ্জার দিব্যি বেঁচে আছে...
*তাই যেদিন আপনাকে স্রষ্টা বাঁচাবে, কেউই আপনার কিছু করতে পারবেনা।
৫/যাকে স্রষ্টা মারতে চাইবে, তাকে কেউ রক্ষা করতে পারবেনা:
প্লেনটি একটি মেডিকেল হোস্টেলে ক্র্যাশ করে। সেই প্লেনের যাত্রি না হয়েও, সেই প্লেনের যাত্রি দের সাথেই সেই হোস্টেলের মেডিকেলের অনেক শিক্ষার্থীদের মৃ*ত্যু হলো। তারা তখন নিশ্চিন্তে খাবার খাচ্ছিলেন। তারা কি ভুলেও ধারণা করেছিলেন, আকাশ থেকে একটি প্লেন ছিটকে পরবে? এবং এভাবেও তাদের মৃ*ত্যু হতে পারে!!
অথচ তাদের এভাবে মৃ*ত্যু কেউ ঠেকাতে পারেনি...
*তাই আমাদের সর্বাবস্থায় মৃ*ত্যুর কথা মাথায় রাখা উচিৎ। এবং যথা সম্ভব ভালো কাজের মধ্যেই থাকা উচিৎ...
*** মোরাল অফ দা স্টোরি, এই দুনিয়ায় মৃ*ত্যুই একমাত্র জিনিস যা অবধারিত... তাই যতক্ষন আমরা বেঁচে আছি, আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ, স্রষ্টার উপর ভরসা করে, বিনয়ী হয়ে চলা, এবং যথা সম্ভব নিজের ও অন্যের জন্য ভালো কাজ করা। যাতে আমাদের মৃ*ত্যু হয় সহজ ও সুন্দর। আর আমাদের মৃ*ত্যুতে অন্যরা আফসোস করে বলে, "মানুষটা অনেক ভালো ছিলো"... ❤️