Institute of Professional Learning IPL

Institute of Professional Learning IPL

Share

Trained yourself.....Success will after you.......

03/04/2026

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে PMP (Project Management Professional)এর গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাঃ

বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতি, মেগা প্রকল্পের বিস্তার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এই তিনটি বিষয় আজকের কর্মবাজারকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে Project Management Professional (PMP) সার্টিফিকেশন ধীরে ধীরে একটি “প্রিমিয়াম দক্ষতা” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

PMP কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণঃ PMP হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেশন, যা Project Management Institute (PMI) প্রদান করে থাকে। এটি একজন পেশাজীবীর প্রজেক্ট পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং টিম পরিচালনার করার দক্ষতার প্রমাণ দেয়। অর্থাৎ, PMP শুধু একটি সার্টিফিকেট নয়—এটি “প্রজেক্ট পরিচালনার আন্তর্জাতিক মান”।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে PMP-এর গুরুত্ব-
১. দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতি ও মেগা প্রকল্পঃ বাংলাদেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ প্রকল্প, আইটি পার্কসহ অসংখ্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এইসব প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করতে দক্ষ প্রজেক্ট ম্যানেজার অপরিহার্য। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় প্রকল্পের সংখ্যা বাড়াচ্ছে, ফলে PMP তে দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদাও বাড়ছে।

২. বহুমুখী খাতে চাহিদাঃ বাংলাদেশে PMP-এর চাহিদা শুধু একটি সেক্টরে সীমাবদ্ধ নয়: IT ও সফটওয়্যার, টেলিকম, গার্মেন্টস ও ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ ও অবকাঠামো, NGO ও ডেভেলপমেন্ট সেক্টর সহ বড় প্রকল্প পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি দরকার—যা PMP নিশ্চিত করে।

৩. চাকরি ও বেতন সুবিধাঃ বাংলাদেশের বাস্তব চাকরির বাজারেও PMP-এর প্রভাব স্পষ্ট; PMP সার্টিফিকেট অনেক জব সার্কুলারে “Mandatory” বা “Preferred” হিসাবে উল্লেখ থাকে। উচ্চ বেতনের পদে PMP সার্টিফিকেট অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। উদাহরণ সরুপ- AI Project Manager পদের জন্য PMP বাধ্যতামূলক এবং বেতন ২–২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, PMP থাকলে আপনি “সাধারণ প্রার্থী” থেকে “প্রিমিয়াম প্রার্থী”-তে পরিণত হতে পারেন।

৪. আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সুযোগঃ PMP একটি গ্লোবাল সার্টিফিকেশন। PMP সার্টিফিকেটধারিদের বিদেশে চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। রিমোট জব (freelance/remote PM) সহজ হয়, আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে বসে গ্লোবাল ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম শক্তিশালী টুল হলো PMP।

৫. প্রজেক্ট ব্যর্থতা কমানোঃ বাংলাদেশে অনেক প্রকল্প সময়মতো শেষ হয় না বা বাজেট ছাড়িয়ে যায়।এ ক্ষেত্রে PMP শেখায়-সঠিক পরিকল্পনা, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও স্টেকহোল্ডার হ্যান্ডলিং। ফলে প্রকল্প সম্পাদনে সফলতার হার বাড়ে—যা সরকার ও বেসরকারি উভয় খাতেই গুরুত্বপূর্ণ।

যোগ্যতাঃ PMP (Project Management Professional) সার্টিফিকেশন নিতে হলে কিছু নির্দিষ্ট একাডেমিক যোগ্যতা + প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতা + প্রশিক্ষণ (training hours) দরকার। এগুলো Project Management Institute (PMI) নির্ধারণ করে।
১. একাডেমিক যোগ্যতা (Educational Requirement)ঃ PMP করার জন্য মূলত দুই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে eligibility নির্ধারণ করা হয়:
✔ অপশন–১: ৪ বছরের (Bachelor’s) ডিগ্রি যদি আপনার থাকে সে ক্ষেত্রে-আপনার লাগবে কমপক্ষে ৩ বছর (৩৬ মাস) প্রজেক্টে কাজের অভিজ্ঞতা অথবা ৪,৫০০ ঘণ্টা প্রজেক্ট লিড/ম্যানেজ করার অভিজ্ঞতা।
✔ অপশন–২: ডিপ্লোমা (HSC / Diploma) ডিগ্রি যদি আপনার থাকে সে ক্ষেত্রে-আপনার লাগবে কমপক্ষে ৫ বছর (৬০ মাস) প্রজেক্ট অভিজ্ঞতা অথবা ৭,৫০০ ঘণ্টা প্রজেক্ট লিড করার অভিজ্ঞতা
এখানে “প্রজেক্ট অভিজ্ঞতা” বলতে বুঝায়: কোনো কাজ পরিকল্পনা করা (Planning), টিম পরিচালনা করা (Leading team), কাজ বাস্তবায়ন (Ex*****on), সময় ও বাজেট ম্যানেজ করা।

✔ PMP পরীক্ষায় বসার আগে বাধ্যতামূলক ৩৫ ঘণ্টা Project Management training/course করতে হবে। বাংলাদেশে Institute of Professional Learning (IPL) প্রথম PMP preparatory cource শুরু করে।

পরিশেষে, বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করলে PMP আর বিলাসিতা নয়—এটি একটি স্ট্র্যাটেজিক ক্যারিয়ার ইনভেস্টমেন্ট।
✔ চাহিদা বাড়ছে
✔ প্রতিযোগীতা কম
✔ বেতন বেশি
✔ আন্তর্জাতিক সুযোগ আছে
তাই বলা যায়: বাংলাদেশে আগামী ৫–১০ বছরে PMP হবে টপ-লেভেল প্রফেশনালদের অন্যতম প্রধান যোগ্যতা।

ধন্যবাদান্তে,

মাসুদুর রহমান জুয়েল
প্রধান নির্বাহী
ইন্সটিটিউট অব প্রফেশনাল লার্নিং (আই,পি,এল)

31/08/2025

আমি দীর্ঘ সতের বছর আই,টি ও আই,টি প্রশিক্ষন ব্যবসার সাথে জরিত। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আমাদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রায় ১৫০০০ শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে এন্ট্রি লেভেল ও মিড লেভেল চাকরিজীবীদের একটা বৃহৎ অংশ তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আমাদের এখান থেকে শর্ট কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স এবং ভেন্ডরশিপ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছে। গত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে করে আমাদের ট্রেনিং এর সুযোগ অনেকাংশে কমে যায়। ফলে আমরাও মন্ত্রণালয় মুখী ট্রেনিং এর দিকে নজর দেই। এ ক্ষেত্রে সরকার অনলাইন আউটসোর্সিং কোর্সটিকে প্রাধান্য দেয় যার ফলে স্বল্প শিক্ষিত ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অনলাইন আউটসোর্সিং কোর্স অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অনেকে শর্টকাট আর্নিং এর জন্য Facebook, Youtube সহ বিভিন্ন social media তে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কেউতো লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সারাদিন ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকে।

একজন ফেসবুক থেকে উপার্জন করছে বলে অন্যজন উপার্জন করতে পারবে এটি একদম ঠিক না। লেখাপড়া করে চাকরি পাওয়া বা যে কোন ক্ষেত্রে সাফলতা পাওয়া যতটা কঠিন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করে সফলতা পাওয়া তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। আমাদের সাথে প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচ ভাগ শিক্ষার্থী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে (তাদের মধ্যে যারা ভালো কনটেন্ট ক্রিয়েটর কেবলমাত্র তারাই) বাকিদের মধ্যে অনেকেই টেকনিক্যাল কাজ (গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন) করে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আবার অনেকেই ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসে (Upwork, Fiverr, Freelancer, Guru) সফলতার সঙ্গে কাজ করে চলছে।

ফেসবুকে আপনি যা ইচ্ছা তাই কাজ করে সফল হতে পারবেন, এটা একদম মিথ্যা কথা। আপনাকে সাসটেনেবল ইনকাম করতে গেলে অবশ্যই প্রথমতঃ আপনাকে পড়াশোনা করতে হবে, কোন একটি বিষয়ের উপর পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ একটা সরকারি কিংবা বেসরকারী চাকরি করার জন্য যেভাবে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান অর্জন করা দরকার, ঠিক তেমনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাই দরকার।

এটা মনে রাখা প্রয়োজন, উপার্জনের কোন শর্টকাট রাস্তা নেই। উপার্জন করতে হলে, আপনাকে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং লাইন অনুযায়ী পরিশ্রম করতে হবে। উল্লেখ্য, অনেক সুযোগ থাকা সত্তেও আমি কখনো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উপার্জনের চেষ্টা করিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে আমার পরিচিত অনেককেই ফেসবুকে উপার্জন করার জন্য মরিয়া হয়ে যেতে দেখেছি, কিন্তু তাদের কার্যকলাপ আমি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। এভাবে হয়তো প্রশান্তির আশা থাকবে, কিন্তু আর্থিক সফলতা কিংবা উপার্জন করা এতটাও সহজ হবে না।

১৭ বছরের ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে তাদের জন্য একটি গাইডলাইন তুলে ধরার জন্য মনস্থির করছি। আশা করি এতে তাদের কিছুটা উপকার হবে।

01/04/2025

"পহেলা এপ্রিল" (১ এপ্রিল) একটি বিশেষ দিন, যা *বিশ্বজুড়ে মজা ও রসিকতার দিন হিসেবে পরিচিত। এই দিনে মানুষ একে অপরকে *মিথ্যা খবর, মজার কথা এবং ধোঁকা দেয়ার মাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি করে। পহেলা এপ্রিলের গুরুত্ব মূলত *হাস্যরস এবং মজা তৈরিতে থাকে, কিন্তু এর পেছনে কিছু ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দিকও রয়েছে।

ঐতিহাসিক উৎস:
পহেলা এপ্রিলের উৎস সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব রয়েছে, তবে এর সঠিক উৎপত্তি সঠিকভাবে জানা যায়নি। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী ১৬ শতক থেকে পহেলা এপ্রিলের আগমন। এই সময়ে ফরাসি রাজা চার্লস, নতুন বছরের তারিখ পরিবর্তন করেছিলেন যা ১ জানুয়ারি ছিল। তবে, যারা পুরনো ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতেন, তারা ১ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন বছর উদযাপন করতেন। পরে, যারা নতুন বছর ১ জানুয়ারি পালন করতেন তারা পুরনো ক্যালেন্ডারের অনুসারীদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য তাদেরকে বিভিন্নভাবে হাস্যকর পরিস্থিতিতে ফেলতে শুরু করেন*।

ভারতীয় উপমহাদেশে পহেলা এপ্রিল:
ভারতে ও বাংলাদেশের মতো দেশে, পহেলা এপ্রিলের উদযাপন বেশ জনপ্রিয় হলেও এখানে সাধারণত মজা এবং রসিকতার মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে, এটির গুরুত্ব পশ্চিমা দেশগুলির মতো তেমন একাগ্র নয়। তবে, এটি এখন স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে যেখানে মানুষের মধ্যে হাস্যরসের উদযাপন হয়ে থাকে।

পহেলা এপ্রিলের সামাজিক গুরুত্ব:
পহেলা এপ্রিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি একটি মজার দিন। মানুষ একে অপরকে নানা ধরনের ধোঁকা দেয়, মিথ্যা গল্প বলে এবং বিভিন্ন ধরনের রসিকতা করে থাকে। এটি বন্ধুত্ব এবং সম্পর্কগুলিকে মজাদার এবং হালকা রাখার একটি উপায়।

বন্ধুত্ব এবং সম্পর্কের মজাদার দিক:
এই দিনটি মানুষের মধ্যে আনন্দ এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। হালকা মজার মাধ্যমে, এটি সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে হাস্যরসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাচ্চাদের জন্য মজার দিন:
বিশেষ করে শিশুদের জন্য পহেলা এপ্রিলের দিনটি খুবই মজাদার। তারা মজার ধোঁকা দেয়, একে অপরকে হাস্যকর গল্প শোনায় এবং ছোট ছোট শাস্তির মাধ্যমে মজা করে।

*পহেলা এপ্রিলের কিছু মজার ব্যাপার:*

ধোঁকা দেয়ার প্রথা:
পহেলা এপ্রিলের দিন, সাধারণত এমন কিছু মিথ্যা বা অদ্ভুত খবর দেওয়া হয় যা একে অপরকে অপ্রত্যাশিতভাবে হতবাক করে তোলে।

ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব:
এই দিনটি সারা বিশ্বে এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও মজা করার দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। অফিস, স্কুল এবং পরিবারে একে অপরকে মজার ধোঁকা দিয়ে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি করা হয়।

পহেলা এপ্রিলের সতর্কতা:
যদিও পহেলা এপ্রিলের মজা অনেকের জন্য আনন্দদায়ক, তবে কিছু সময় মজা খুব বেশি হতে গিয়ে মানুষের অনুভূতিতে আঘাতও দিতে পারে। তাই, মজা করার সময় অন্যের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত এবং সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।

12/03/2025

অণুকথা
"জ্ঞানের স্তর দিয়ে আপনার পরিকল্পনায় অন্তর্গত সকল ঝুঁকির স্তর নির্ণয় করুন। কারণ আপনার জ্ঞান ও ঝুঁকি বিপরীতানুপাত।"
গ্রন্থ:- সফলতা ও মূল্যবোধের কিছু মৌলিক ভাবনা
.মোহাম্মদ আলম কাউছার..

জ্ঞানের স্তর ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: সফলতার মূলনীতি
বিশ্লেষণ :
জীবনে কোনো কাজে সফল হতে হলে কেবল কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়; সে বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জ্ঞানের স্তর যত গভীর হবে, পরিকল্পনা তত সুসংগঠিত হবে এবং ঝুঁকির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। আপনি সঠিকভাবে ঝুঁকি নির্ণয় করতে পারলেই সেই ঝুঁকি মোকাবেলা কিংবা এড়ানোর উপায় খুঁজে পাবেন। উল্লেখিত অণুকথার মূল বার্তা—"জ্ঞানের স্তর দিয়ে আপনার পরিকল্পনায় অন্তর্গত সকল ঝুঁকির স্তর নির্ণয় করুন। কারণ আপনার জ্ঞান ও ঝুঁকি বিপরীতানুপাত।"—এটি বাস্তব জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র। কোনো ক্ষেত্রেই ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব নয়, তবে যথাযথ জ্ঞান থাকলে ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনা যায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে সফলতার পথকে সহজেই লক্ষ্যাভিমুখে রাখা যায়।

সফল ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সর্বদা নিজেদের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়েছেন, তথ্য সংগ্রহ করেছেন, এবং জ্ঞানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিচে কয়েকজন সফল ব্যক্তির উদাহরণ তুলে ধরা হলো, যারা জ্ঞানের মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন।
১. ওয়ারেন বাফেট –
ওয়ারেন বাফেটের সফলতার মূলে ছিলো বিনিয়োগ ঝুঁকি ও জ্ঞানের শক্তি। ওয়ারেন বাফেট বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী। তবে তার এই সফলতা রাতারাতি আসেনি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হলো বাজারের ওঠানামা ও অনিশ্চয়তা। কিন্তু বাফেট সবসময় বলতেন—"ঝুঁকি আসে তখনই, যখন আপনি জানেন না আপনি কী করছেন।" তিনি প্রতিটি বিনিয়োগের আগে গভীর গবেষণা করেছেন, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, বাজার বিশ্লেষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিচার করেছেন। তার এই জ্ঞান তাকে বড় বড় অর্থনৈতিক সংকটেও সুরক্ষিত রেখেছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যদি কেউ পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ঝুঁকি বেড়ে যাবে। কিন্তু যদি যথেষ্ট গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা হয়, তবে ঝুঁকি কমে আসবে এবং সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে।

২. স্টিভ জবস – প্রযুক্তিতে ঝুঁকির বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতির গুরুত্ব ছিলো স্টিভ জবের সফলতার একটি উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার। অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস প্রযুক্তির জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তবে তিনি কখনোই অন্ধভাবে ঝুঁকি নেননি। নতুন একটি পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে তিনি প্রচুর গবেষণা করতেন, ব্যবহারকারীর চাহিদা বিশ্লেষণ করতেন এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা খুঁজে বের করতেন। যখন তিনি আইফোন তৈরি করেন, তখন মোবাইল প্রযুক্তি নিয়ে তার গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি জানতেন কীভাবে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া যায়। সেই কারণেই আইফোন বাজারে আসার পর বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। যদি স্টিভ জবস প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন না করতেন এবং সঠিক বিশ্লেষণ ছাড়া সিদ্ধান্ত নিতেন, তবে হয়তো অ্যাপল আজকের জায়গায় থাকত না।

৩. ইলন মাস্ক – মহাকাশ গবেষণায় জ্ঞানের শক্তি।
ইলন মাস্ক যখন স্পেসএক্স শুরু করেন, তখন তিনি ছিলেন মূলত একজন সফটওয়্যার ও অর্থনীতিবিদ। কিন্তু তিনি মহাকাশ গবেষণায় সফল হতে চেয়েছিলেন। প্রথমদিকে তার রকেট উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নিজেই রকেট বিজ্ঞান নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে তার জ্ঞান এতটাই গভীর হয়েছিল যে, তিনি নিজেই ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ দিতে পারতেন। তার এই জ্ঞানের শক্তিই তাকে স্পেসএক্স-এর সফলতা এনে দেয়। মাস্ক যদি মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে না শিখতেন, তবে তার প্রকল্পগুলো বারবার ব্যর্থ হতো এবং তার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকত। কিন্তু তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন।

কিভাবে জ্ঞান দিয়ে ঝুঁকি কমানো সম্ভব?
১. ঝুঁকি চিহ্নিত করুন – কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তাগুলো চিহ্নিত করুন।
২. তথ্য সংগ্রহ করুন – সফল সিদ্ধান্তের জন্য সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা জরুরি।
৩. অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন – পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হলে ঝুঁকি কমে যায়।
৪. পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করুন – সরাসরি ঝুঁকি নেওয়ার আগে ছোট পরিসরে পরীক্ষা করুন।
৫. সতর্ক পরিকল্পনা তৈরি করুন – পরিকল্পনাহীন ঝুঁকি সর্বদা ক্ষতিকর।

সফল ব্যক্তিরা কখনোই কেবল সাহসের ওপর ভরসা করে ঝুঁকি নেন না; তারা জ্ঞানের মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যান। আপনার জ্ঞানের স্তর যত বাড়বে, ঝুঁকির স্তর তত কমবে—এই সত্যকে কাজে লাগিয়েই জীবনে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
তাই, যেকোনো কাজে নামার আগে সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন, ঝুঁকি বিশ্লেষণ করুন এবং পরিকল্পিত উপায়ে এগিয়ে যান। কারণ, “আপনার জ্ঞান ও ঝুঁকি বিপরীতানুপাত”—এটি কেবল একটি তত্ত্ব নয়, বরং বাস্তব জীবনের সাফল্যের মূলনীতি।
প্রকাশকাল: ১২ মার্চ ২০২৫।

-লেখক
মোহাম্মদ আলম কাউছার
"সফলতা ও মূল্যবোধের কিছু মৌলিক ভাবনা"
( একটি জীবনোপকরণ সমৃদ্ধ আত্ম-উন্নয়ন ও অনুপ্রেরণামূলক গ্রন্থ)
"My English Teacher"
( An unique research for non English speakers, professionals, learners)
গবেষক,
বাস্তবতা ও কল্পরূপ ব্যবস্থাপনা
(Incorporated with the frameworks - 4Rs & 4As)
সি ই ও,
রডল গ্লোবাল কর্পোরেশন
পরিচালক,
ইন্সটিটিউট অব প্রফেশনাল লার্নিং
সদস্য নির্বাহী কমিটি,
প্রফেশনাল পাবলিক স্পিকারস ফোরাম।

12/03/2025

রমজানের ১১তম তারাবীহ-তে পঠিতব্য কুরআনের ১৪ নম্বর পারায় রয়েছে সূরা হিজর ও সূরা নাহল। প্রিয় নবী (সা.) স্বজাতিকে কল্যাণের পথে আহ্বান জানাতে গিয়ে যখন বিরামহীন বাধা-বিদ্রুপ ও জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, তখনই সান্ত্বনা হিসেবে মহান আল্লাহ আগেকার নবী-রাসূলদের বেদনাহত জীবনের ইতিহাস তুলে ধরে সূরা হিজর নাযিল করেন। হিজর মক্কা ও তাবুকের মাঝে অবস্থিত একটি জায়গার নাম। এই সূরায় হিজরবাসীর অবাধ্যতার ইতিহাস আলোচিত হয়েছে বিধায় এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে হিজর। অন্যদিকে নাহল অর্থ মৌমাছি। সূরা নাহলে মৌমাছি ও মধুর উপকারিতা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, মধুর মধ্যে শেফা ও আরোগ্য লাভের উপাদান রয়েছে।

মানুষ ও জ্বীন জাতির সৃষ্টিতত্ত্বের ইতিহাস আলোচিত হয়েছে আজকের পঠিতব্য অংশে। ‌মহান আল্লাহ মানুষকে কৃষ্ণবর্ণের কাদার ঠনঠনে মাটি থেকে এবং জ্বীনদেরকে উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে সবাইকে নির্দেশ করলেন- তারা যেন সম্মানসূচক সিজদা করে, কিন্তু সবাই সেজদা করলেও ইবলিশ অহংকারবশত সিজদা করতে অশ্বিকৃতি জানায়। আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অভিপ্রায়ে ইবলিশ আদম সন্তানকে বিপথগামী করার সংকল্প করে।

মহান আল্লাহ সকল নবী-রাসূলকে মৌলিকভাবে দুটি বার্তা দিয়ে প্রেরণ করেছেন- ১. আল্লাহ'র ইবাদত করা, ২. তাগুত বর্জন করা (১৬:৩৬)।

পবিত্র কুরআনের এই অংশে আল্লাহকে ভয় করা, মুমিনদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, আল্লাহর ইবাদত করা, তাগুত বর্জন করা, পৃথিবী ভ্রমণ করে মিথ্যারোপকারীদের শেষ পরিণতি দেখে শিক্ষাগ্রহণ করা, অজানা বিষয়ে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা, কুরআন পাঠের শুরুতে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা, ইনসাফ করা, অনুগ্রহ করা, আত্মীয়-স্বজনকে দান করা, আল্লাহর অঙ্গীকার পূরণ করা, রিজিক হিসেবে আল্লাহ যে হালাল পবিত্র বস্তু দান করেছেন- তা ভক্ষণ করা, আল্লাহর নিয়ামতে শুকরিয়া আদায় করা এবং ধৈর্যধারণ করা ইত্যাদি আদেশ রয়েছে। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়- তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া, দুই উপাস্য গ্রহণ না করা, অশ্লীল ও অসঙ্গত কাজে বিরত থাকা এবং জুলুম না করা, শপথভঙ্গ না করা, আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার তুচ্ছমূল্যে বিক্রি না করা, কাফেরদের চক্রান্তের কারণে মন ছোট না করা ইত্যাদি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আল্লাহ মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকর এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা প্রাণী ভক্ষণ করাকে হারাম করেছেন। আবার ধারণাপ্রসূত কোনোকিছুকে হালাল বা হারাম মন্তব্য করতেও নিষেধ করা হয়েছে। তিনি (আল্লাহ) অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

আল্লাহর সীমাহীন নিয়ামতরাজির কয়েকটি ঈমান জাগানিয়া বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর নিয়ামতসমূহ যদি তোমরা গণনা করো, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। তিনি কুরআন নাজিল করেছেন এবং নিজেই কুরআন সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে কুরআন সব ধরনের বিকৃতি থেকে মুক্ত থাকবে।

সূরা নাহলের একটি আয়াতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- ১. ন্যায়বিচার, ২. দয়া, ৩. আত্মীয়তার হক আদায়, ৪. অশ্লীলতা পরিহার, ৫. মন্দ কাজ পরিহার, ৬. জুলুম থেকে বিরত থাকা।

আজকের তেলাওয়াতে বিভিন্ন নিয়ামত অনুগ্রহের কথা বারবার আলোচিত হয়েছে। ‌যারা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন, আল্লাহ:র পথে স্থির থাকবেন, শয়তান তাদেরকে বিপথগামী করার চেষ্টা করলেও আল্লাহ'র দয়া ও সাহায্যে তাঁরা শয়তানের কবল থেকে মুক্ত থাকবে।

মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রত্যেককে পবিত্র কুরআনের মর্মোপলব্ধি করে সেই মোতাবেক জীবনকে পরিচালিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
Collected:

10/03/2025

রোবেন শর্মা-
জীবনের লক্ষ্য ও মানসিক শান্তির পথপ্রদর্শক। তিনি একজন বিশ্ববিখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার, লেখক এবং উদ্যোক্তা, যিনি তার জীবনের সংগ্রাম এবং সাফল্যের কাহিনির মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবন পরিবর্তন করেছেন। তার গ্রন্থ "দ্য মোন্ক হু সোল্ড হিজ ফেরারি" তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে এবং আজও এটি জীবনের লক্ষ্য ও মানসিক শান্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে পড়া হয়। তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি শূন্য থেকে শুরু করে নিজের চিন্তাভাবনা, অধ্যাবসায়, এবং সঠিক মনোভাবের মাধ্যমে জীবনে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছেন। রোবেন শর্মার জীবনের গল্প এক কথায় অনুপ্রেরণার। শুরুর দিকে তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে নিজের আসল উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়ে তিনি জীবনে নতুন পথ খুঁজে পান। তিনি বুঝতে পারেন যে, জীবনের প্রকৃত অর্থ সফলতা বা পুঁজি অর্জনে নয়, বরং শান্তি, আত্মবিশ্বাস, এবং আত্মতৃপ্তির মধ্যে রয়েছে। এই উপলব্ধি তাকে প্রচুর লেখালেখি এবং বক্তৃতা দেওয়ার দিকে পরিচালিত করে, যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। রোবেন শর্মা তার বই ও বক্তৃতার মাধ্যমে শিখিয়েছেন যে, কঠিন সময় এবং সংগ্রাম শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিকাশের পথ, এবং জীবনে প্রকৃত সুখ অর্জন করা সম্ভব যখন আমরা আত্মবিশ্বাসী, উদার ও নিজের প্রতি সত্য থাকি। তার জীবনটা তার নিজস্ব সংগ্রামের একটি চিত্র, এবং তা আমাদের শেখায় যে, সংকট বা ব্যর্থতা আমাদের শেষ কথা নয়, বরং তা আমাদের সাফল্যের দিকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। রোবেন শর্মার জীবন এবং দর্শন হলো এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যে ব্যক্তি তার সংগ্রাম এবং ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে, বিশ্বের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করেছেন। তার জীবনযাত্রা আমাদের শেখায় যে, যখন আমরা নিজের পথ খুঁজে পাই এবং তা অনুসরণ করি, তখন আমরা যে কোন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পারি।
রোবেন শর্মা ১৯৬৪ সালে কানাডার পোর্ট হোপ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব এবং কৈশোর ছিল সাধারণ, কিন্তু তিনি সবসময় বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিলেন—এমন কিছু যা তাকে শুধুমাত্র নিজেকে নয়, বরং পৃথিবীকে প্রভাবিত করতে সক্ষম করবে। রোবেন শর্মার শৈশবের অনেকটাই ছিল সাধারণ। তিনি ছোটবেলা থেকেই একজন পরিশ্রমী ছাত্র ছিলেন এবং স্কুলে ভাল ফলাফল করতেন। রোবেন শর্মার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল সুদৃঢ় ও সহায়ক। তিনি বিবাহিত এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। তার পরিবার সর্বদা তাঁর পাশে ছিলেন এবং তার পেশাগত যাত্রায় সহযোগিতা করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা তার পরিবার এবং তাদের ভালোবাসা। যদিও রোবেন শর্মা পেশাগত জীবনে সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছেন তার পরিবারের কাছ থেকে, তবুও তার পথটি সহজ ছিল না। তিনি প্রথমদিকে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে। তবে তিনি কখনও হার মানেননি। তার পরিবারও জানত, তিনি একটি উচ্চ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগ্রাম করছেন, এবং তাদের সহায়তা তাকে সফল হতে সাহায্য করেছে। পরিবার তার জন্য শুধু সমর্থন এবং ভালোবাসার উৎস নয়, বরং তার সংগ্রামের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে তিনি একদমই জানতেন না যে, ভবিষ্যতে তিনি মোটিভেশনাল স্পিকার বা লেখক হয়ে উঠবেন। শৈশবে তার জীবনে কোনো বড় ধরনের প্রভাবক ছিল না, তবে তার মধ্যে ছিল এক অদম্য ইচ্ছা এবং আত্মবিশ্বাস, যা তাকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের পথে নিয়ে যায়। তিনি স্কুলে পড়াশোনায় ভালো ছিলেন, তবে অন্যদের মতন তিনি এক পেশায় সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলেন না। তিনি নিজের পথ খুঁজতে চেয়েছিলেন এবং সেই পথটি তাকে একটি সফল জীবনের দিকে নিয়ে যাবে। রোবেন শর্মা উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডার একজন মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি স্নাতক পড়াশোনা করেন এবং তারপর আইন পড়তে শুরু করেন। তবে, শৈশব থেকেই তার মধ্যে এমন এক অদ্ভুত আকর্ষণ ছিল যা তাকে মানুষের মনোভাব এবং ব্যক্তিগত উন্নয়ন বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। তাই আইন পেশায় শুরুর পরও তিনি বুঝতে পারেন, তার আসল উদ্দেশ্য অন্যত্র—মানুষের জীবন বদলে দেয়ার মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন আনা। রোবেন শর্মা প্রথমে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু তার মনে ছিল অন্য কিছু। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার আসল লক্ষ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের জীবনে পরিবর্তন আনা। সেই সময় তিনি মানবিক উন্নয়ন এবং মোটিভেশনাল স্পিচের দিকে মনোযোগ দেন। শুরুতে, তিনি একটি ছোটো অফিসে কাজ শুরু করেন এবং সেই সময়ে তিনি বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে নিজের ধারণা এবং দর্শন মানুষদের সামনে তুলে ধরতে শুরু করেন। রোবেন শর্মা মনে করতেন, "কোনো একজন মানুষ যদি নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে সচেতন না থাকে, তবে সে কখনোই সাফল্য পেতে সক্ষম হবে না।" তার এই বিশ্বাস তাকে সাফল্য এনে দেয়।
রোবেন শর্মা একজন প্রফেশনাল পাবলিক স্পিকার হিসেবে তার যাত্রার গল্প আত্মবিশ্বাসের তলানীতে থাকা মানুষদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস। তার জীবনযাত্রা কেবলমাত্র সফলতা এবং জনপ্রিয়তার গল্প নয়, বরং এক কঠিন সংগ্রামের এবং আত্মবিশ্বাসের গল্প। তার প্রফেশনাল স্পিকার হিসেবে যাত্রার মূল দিকগুলো তুলে ধরলে এটি এমন একটি চমৎকার উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে, যেখানে শ্রম, অধ্যাবসায়, এবং লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তাঁর জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর শুরুটা ছিল খুবই অনিশ্চিত। রোবেন শর্মা তার যাত্রা শুরু করেছিলেন একজন আইনজীবী হিসেবে। তিনি ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্টার্ন অন্টারিও থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বেশ কিছু বছর কানাডার আইন ক্ষেত্রে কাজ করেন। তবে তিনি সবসময়ই অনুভব করতেন যে, তার জীবনে কিছু একটা বড় এবং আলাদা করার প্রয়োজন। আইনজীবী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করার পরও, তাঁর মনে ছিল একটা গভীর আশা—নিজের মধ্যে আরো কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে, যা মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে।
এমন তাড়না হতে তাঁর সিদ্ধান্তে আসে এক বিশাল পরিবর্তন। রোবেন শর্মা একটি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি নিজের আসল লক্ষ্য অনুসরণ করবেন। যদিও তিনি আইনজীবী হিসেবে সচ্ছলতা এবং সাফল্য অর্জন করেছিলেন, তবুও তিনি মনে করতেন যে, তাঁর লক্ষ্য শুধু অর্থ এবং খ্যাতির পেছনে নয়, বরং মানুষের জীবন পরিবর্তনের জন্য কাজ করা। সে সময় তিনি পড়াশোনা শুরু করেন, আত্ম-উন্নয়ন বিষয়ক বই পড়েন, এবং শেষমেশ তিনি ঠিক করেন, তিনি পাবলিক স্পিকার হিসেবে নিজের জীবনের লক্ষ্য পরিবর্তন করবেন। প্রথম পদক্ষেপে
রোবেন শর্মা তার পরিচিতদের সামনে কথা বলা শুরু করেন এবং ছোট ছোট সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতে থাকেন। তবে প্রথম দিকে খুব একটা জনপ্রিয়তা ছিল না। দর্শকদের আগ্রহ অর্জন করা তার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং। তিনি বুঝতে পারলেন, কেবলমাত্র একটি শক্তিশালী বক্তব্য দিয়ে কাজ হবে না, তাকে নিজেকে আরও উন্নত করতে হবে—বক্তৃতার কৌশল শিখতে হবে, শ্রোতাদের মনোযোগ কিভাবে আকর্ষণ করতে হয়, এবং কিভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা যায়।
তবে, রোবেন শর্মার জন্য এই পথে আরও অনেক কঠিন সময় এসেছিল। প্রথমদিকে, তার বক্তৃতায় ছোট দর্শক দলের উপস্থিতি ছিল, এবং কখনও কখনও তার কাজের জন্য যথেষ্ট পারিশ্রমিকও পাওয়া যেত না। কিন্তু তার মধ্যে ছিল এক দৃঢ় বিশ্বাস—“একদিন আমি বিশ্বমানের স্পিকার হব।” সে সময় তিনি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করতে থাকেন, নিজের দক্ষতা এবং কৌশলগুলো উন্নত করেন, এবং শিখতে থাকেন। রোবেন শর্মার জীবন সেদিন বদলে যায় যখন তার বই "The Monk Who Sold His Ferrari" প্রকাশিত হয়। বইটি দ্রুতই আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই বইটি শুধু তার জীবনের দর্শন নয়, একটি নয়া দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, যেখানে জীবনের মানে খোঁজা হয় এবং আত্ম-উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বইটি প্রকাশের পর, রোবেন শর্মার পাবলিক স্পিকিং ক্যারিয়ারও গতি পায়। তিনি পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন সেমিনার, কনফারেন্স, এবং ইভেন্টে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। রোবেন শর্মা আরও বড় পরিসরে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্পোরেট সেক্টরে দাওয়াত পান। তাঁর বক্তৃতায় ছিল সাফল্যের মন্ত্র, আত্মবিশ্বাসী জীবনযাপন, এবং মানসিকতা পরিবর্তন করে জীবনকে নতুনভাবে শুরু করার প্রেরণা। তাঁর বক্তব্যের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, তিনি অল্প সময়ের মধ্যে একটি বিশ্বমানের বক্তা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি শুধুমাত্র একটি ক্যারিয়ার তৈরি করেননি, বরং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে অবদান রেখেছেন।
একজন প্রফেশনাল স্পিকার হিসেবে আজ রোবেন শর্মা একজন অত্যন্ত সফল এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিত পাবলিক স্পিকার। তাঁর বক্তৃতাগুলি এখন শুধু কর্পোরেট শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর আলোচনায় প্রতিটি শব্দের মধ্যে থাকে এক গভীর দৃষ্টি, যা শ্রোতাদের জীবনের মান উন্নত করার জন্য কার্যকরী কৌশল প্রদান করে। তাঁর বক্তৃতাগুলিতে থাকে আত্মবিশ্বাস, কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম, এবং জীবনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করার চ্যালেঞ্জ।
রোবেন শর্মার যাত্রা প্রমাণ করে যে, কখনো কখনো জীবনের প্রথম ধাপগুলো অনিশ্চিত ও কঠিন হতে পারে, তবে যদি আপনার কাছে দৃঢ় ইচ্ছা, লক্ষ্যের প্রতি ইতিবাচক আবেগ এবং অধ্যাবসায় থাকে, তবে আপনি যে কোন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন। তার জীবন এবং যাত্রা সব সময় আমাদের অনুপ্রাণিত করে, যে সংগ্রাম এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

প্রকাশকাল
.১০ মার্চ ২০২৫....
সংকলনে
মোহাম্মদ আলম কাউছার
লেখক,
"সফলতা ও মূল্যবোধের কিছু মৌলিক ভাবনা"
( একটি জীবনোপকরণ সমৃদ্ধ আত্ম-উন্নয়ন ও অনুপ্রেরণামূলক গ্রন্থ)
"My English Teacher"
( An unique research for non English speakers, professionals, learners)
গবেষক,
বাস্তবতা ও কল্পরূপ ব্যবস্থাপনা
(Incorporated with the frameworks - 4Rs & 4As)
সি ই ও,
রডল গ্লোবাল কর্পোরেশন
পরিচালক,
ইন্সটিটিউট অব প্রফেশনাল লার্নিং
সদস্য নির্বাহী কমিটি,
প্রফেশনাল পাবলিক স্পিকারস ফোরাম।

09/03/2025

জিগ জিগলার – আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও সফলতার প্রতিচ্ছবি

জীবনে অনেকেই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সবাই সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে না। কারণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বাধা আসে, কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়, এবং অনেক সময় ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু কিছু মানুষ এই সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজেদের সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যান। তেমনই একজন সংগ্রামী ও সফল ব্যক্তিত্ব হলেন জিগ জিগলার (Zig Ziglar)—একজন কিংবদন্তি মোটিভেশনাল স্পিকার, লেখক এবং সেলসম্যান, যিনি আত্মোন্নয়ন এবং সাফল্যের দর্শন দিয়ে সারা বিশ্বের লাখো মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন।

জিগ জিগলারের জীবন কোনো সহজ গল্প ছিল না। দারিদ্র্য, প্রতিকূলতা ও ব্যর্থতার দীর্ঘ ছায়া তাকে ঘিরে রেখেছিল, কিন্তু তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। বরং নিজের স্বপ্ন, অধ্যবসায়, এবং ইতিবাচক মানসিকতার শক্তিতে তিনি তার জীবনকে বদলে দেন এবং অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে ওঠেন। তার বিখ্যাত উক্তি—
“You don’t have to be great to start, but you have to start to be great.”
(“তোমাকে অসাধারণ হতে হবে না শুরু করার জন্য, কিন্তু শুরু করতে হবে অসাধারণ হওয়ার জন্য।”)

জিগ জিগলার বিশ্বাস করতেন, সফলতা শুধু অর্থ-সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত উন্নয়ন, সততা, পরিশ্রম, ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি তার বক্তৃতা, বই এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে আশার আলো জ্বেলেছেন, তাদের নতুনভাবে জীবন গড়ার দীক্ষা দিয়েছেন।

এই অধ্যায়ে আমরা জিগ জিগলারের সংগ্রামী জীবন, তার শিক্ষা, পেশাগত যাত্রা এবং তার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে অনুপ্রেরণার গল্প তুলে ধরবো—যা প্রতিটি পাঠকের মনে আত্মবিশ্বাস ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। চলুন জেনে নেয়া যাক, জিগ জিগলারের একজন প্রফেশনাল পাবলিক স্পিকার হিসেবে গড়ে ওঠার এক অসাধারণ গল্প।

জিগ জিগলারের জীবন শুরু হয়েছিল এক সাধারণ পরিবারে, কিন্তু তার যাত্রা তাকে বিশ্বখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকারের আসনে পৌঁছে দেয়। এটি কেবল প্রতিভা বা ভাগ্যের ব্যাপার ছিল না—বরং কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অদম্য ইচ্ছাই তাকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসে।
জিগ জিগলারের জন্ম ৬ নভেম্বর ১৯২৬ সালে আলাবামায়, কিন্তু তার শৈশব কেটেছে মিসিসিপির ইয়াজু সিটিতে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই তিনি তার বাবাকে হারান, যা তার পরিবারের জন্য এক বিশাল আঘাত ছিল। তার মা ছিলেন একমাত্র অভিভাবক, এবং তাদের পরিবারকে টিকে থাকতে কঠিন পরিশ্রম করতে হতো। এই কঠিন বাস্তবতা শিখিয়েছে "সংগ্রামই সাফল্যের চাবিকাঠি"—এমন শিক্ষা যা পরবর্তী জীবনে তার বক্তৃতাগুলোর অন্যতম মূল বার্তা হয়ে ওঠে। যাত্রার শুরুতে জিগলার কোনো প্রফেশনাল স্পিকার ছিলেন না। তিনি ছিলেন এক সাধারণ সেলসম্যান, যিনি পাত্র ও রান্নার সরঞ্জাম বিক্রি করতেন। বিক্রির জন্য তিনি গ্রাহকদের সামনে পণ্যের উপকারিতা তুলে ধরতেন, আর সেখান থেকেই তার বক্তৃতার দক্ষতা গড়ে ওঠে। তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন যে "মানুষের মন জয় করতে পারলে, যেকোনো কিছু সম্ভব"—এবং এটি কেবল সেলস নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। তার অসাধারণ যোগাযোগ দক্ষতা ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরির ক্ষমতা তাকে সেলস ইন্ডাস্ট্রিতে সেরা পারফর্মারদের একজন হিসেবে তুলে ধরে। এরপর তিনি টপ-লেভেল সেলস ট্রেইনার হয়ে ওঠেন। এখান থেকেই তিনি বক্তৃতার প্রতি আগ্রহী হন এবং বুঝতে পারেন, তিনি শুধু পণ্য বিক্রি করতে চান না, বরং মানুষের জীবনকে বদলে দিতে চান।
জিগলার যখন প্রথমবার একটি বড় মঞ্চে কথা বলতে উঠলেন, তখনই তিনি বুঝলেন—এটি তার স্বপ্নের কাজ। তবে শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। প্রথম দিকে তিনি মঞ্চে গেলে নার্ভাস হয়ে যেতেন, ভুল করতেন, এবং অনেক সময় শ্রোতারা তার কথায় তেমন আগ্রহ দেখাত না। কিন্তু তিনি হার মানেননি। প্রতিটি বক্তৃতার পর নিজেকে বিশ্লেষণ করতেন, কী ভুল হলো তা খুঁজে বের করতেন, এবং ধাপে ধাপে উন্নতি করতেন। এক সময়, তিনি তার প্রথম সফল বক্তৃতা দেন, যেখানে তার কথাগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার প্রকৃত যাত্রা। জিগলার ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন এবং কর্পোরেট ট্রেনিং, মোটিভেশনাল সেমিনার এবং জনসাধারণের জন্য অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা দেওয়া শুরু করলেন। তিনি "See You at the Top" বইটি লেখেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে। এরপর তিনি আরও বহু বই লেখেন, যার মধ্যে "Born to Win", "Over the Top", "Success for Dummies" ইত্যাদি যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। তিনি Ziglar Inc. নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা প্রফেশনাল ট্রেনিং ও মোটিভেশনাল স্পিকিংয়ের জন্য একটি আইকনিক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। তার সেমিনারগুলোতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করত, এবং অনেকেই বলেন, "জিগলারের একটি বক্তব্য আমার জীবন বদলে দিয়েছে।"
জিগ জিলার নিজেকে গড়ে তোলার জন্য যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
১. আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিলেন: প্রথম দিকে তিনি ভুল করতেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তার ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠে নিজের উন্নতি সাধনে মনোযোগ দেন এভাবে তিনি তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেন।
২. প্রতিদিন শিখতেন: তিনি নিজের বক্তৃতাগুলো রেকর্ড করতেন, শুনতেন, এবং ভুলগুলো সংশোধন করতেন। ফলে তিনি তাঁর ভুল হতে প্রতিদিন শিখতেন।
৩. মানুষের জীবন বদলানোর মিশনে ছিলেন: তার বক্তৃতা কেবল অনুপ্রেরণার জন্য দিতেন না, বরং তিনি বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য পরামর্শ দিতেন যা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়তে সাহায্য করতো। এই ধরণের পরিবর্তন মানুষের জীবন বদলাতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
৪. ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে গেছেন: শুরুতে ব্যর্থ হলেও, তিনি কখনও থেমে যাননি। নিরলসভাবে পরিশ্রম ও লক্ষ্যের প্রতি অটুট থেকে তিনি ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পরম সফলতা অর্জন করেছিলেন।
৫. শ্রোতাদের মন বুঝতেন: তিনি জানতেন কীভাবে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে হয় এবং তাঁর বক্তব্যের মূলভাব, বক্তব্য গঠন কৌশল ও উপস্থাপন শৈলী তাঁর শ্রোতাদের প্রয়োজনীয় বার্তা দিতো।
একজন সেলসম্যান থেকে বিশ্বখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার হয়ে ওঠার গল্প শুধু জিগ জিগলারের নয়, বরং এটি প্রতিটি সংগ্রামী মানুষের জন্য একটি শিক্ষা।
তার জীবন আমাদের শেখায়—যদি আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। ব্যর্থতা একটি শিক্ষা মাত্র, যা সাফল্যের দিকে এগিয়ে নেয়।অন্যদের জীবন পরিবর্তন করতে পারলে, সেটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।
আজও তার বক্তব্য, বই, এবং দর্শন লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন "Born to Win" ব্যক্তি ছিলেন!
০৯ মার্চ ২০২৫
সংকলন
মোহাম্মদ আলম কাউছার
লেখক
সফলতা ও মূল্যবোধের কিছু মৌলিক ভাবনা
...........
গবেষক
বাস্তবতা ও কল্পরূপ ব্যবস্থাপনা
.........
ভাইস প্রেসিডেন্ট
প্রফেশনাল পাবলিক স্পিকারস ফোরাম
.........
সি ই ও
রডল গ্লোবাল কর্পোরেশন

08/03/2025

ডেল কার্ণিগী সম্পর্কে আমরা কে না জানি? এমন খুব কম পেশাদারই আছেন যাদের সংগ্রহে তাঁর গ্রন্থ সমগ্র নেই। ডেল কার্নেগী পাবলিক স্পিকিং জগতে এক মহান ব্যক্তিত্ব। এমন এক সংগ্রামী পথিকের অসাধারণ বক্তা হয়ে ওঠার গল্প তাঁর পেশাগত দর্শন আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বদলাতে সহায়তা করে। আজ এমনই একজন মহান ব্যক্তির সংগ্রামী শৈশব হতে বিশ্বসেরা পাবলিক স্পিকার হয়ে ওঠার এক অসাধারণ গল্প জানবো।

ডেল কার্নেগীর জীবন কেবল সাফল্যের গল্প নয়, এটি অধ্যবসায়, আত্ম-উন্নয়ন ও সীমাহীন প্রচেষ্টার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান থেকে তাঁর বিশ্ববিখ্যাত পাবলিক স্পিকার হয়ে ওঠার যাত্রা ছিল এক অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপে ছিল চ্যালেঞ্জ, ব্যর্থতা এবং শেষ পর্যন্ত এক অদম্য সাফল্যের স্বাক্ষর।

তাঁর সংগ্রামী শৈশবের শুরু যেমন আমাদের ব্যথিত করে তেমনই আমাদের কঠিন ও রূঢ় বাস্তবতাকে জয় করে অবিশ্বাস্য সফলতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করে। ১৮৮৮ সালের ২৪ নভেম্বর আমেরিকার মেরিভিল, মিসৌরিতে ডেল কার্নেগীর জন্ম। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সাধারণ কৃষক, আর পরিবার ছিল দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াইরত। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো, সকালবেলায় উঠেই গরুর দুধ দোহানো এবং ফসলের মাঠে কাজ করাই ছিল তাঁর দৈনন্দিন রুটিন। কৃষকের ছেলে হওয়ায় ডেল কার্নেগী খুব একটা সামাজিক জীবন উপভোগ করতে পারেননি। তাঁর পরিবার এতটাই গরিব ছিল যে, তাঁকে প্রায় প্রতিদিনই পুরোনো জামা পরে স্কুলে যেতে হতো। এসব কারণে ছোটবেলায় তিনি খুবই লাজুক ও অন্তর্মুখী ছিলেন। তাঁর আত্মবিশ্বাসের বড়ই অভাব ছিল বলে তিনি জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পেতেন।
তবে তাঁর মা সবসময় তাঁকে শেখাতেন, "তুমি যে অবস্থাতেই থাকো না কেন, যদি তুমি নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারো, তবে তুমি যেকোনো পরিস্থিতি জয় করতে পারবে।" মায়ের এই কথা তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল। ডেল কার্ণেগীর শিক্ষাজীবন ও প্রথম ব্যর্থতা তাঁর সাফল্যে সংযোগ স্থাপনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ডেল কার্নেগী উচ্চশিক্ষার জন্য ওয়ারেনবার্গ স্টেট টিচার্স কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে তিনি নিজেকে অন্যদের তুলনায় খুবই কম মেধাবী মনে করতেন। তাঁর পোশাক ভালো ছিল না, পরিবার থেকে তেমন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে তিনি খুবই সংকোচবোধ করতেন। তবে এখানেই প্রথমবারের মতো পাবলিক স্পিকিং ক্লাসে অংশ নেন। প্রথম দিন তিনি এত ভয় পেয়েছিলেন যে তাঁর হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। শ্রোতারা হাসাহাসি করলে তিনি নিজেকে আরও বেশি অযোগ্য মনে করতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি থেমে থাকলেন না। প্রতিদিন রাতের বেলা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলন করতেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ভয় কাটানোর একমাত্র উপায় হলো প্রচুর অনুশীলন। কলেজ শেষ করার পর তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একজন বক্তা হওয়ার, কিন্তু এই পেশায় প্রবেশ করার কোনো উপায় তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে একজন সেলসম্যান হিসেবে চাকরি শুরু করেন। প্রথমে তিনি আর্মর অ্যান্ড কোম্পানি-তে কাজ করেন, যেখানে তাঁকে গবাদিপশুর খাদ্য বিক্রি করতে হতো। এই চাকরির প্রথম কয়েক মাস ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। তিনি যখনই কোনো দোকানে যেতেন, কেউ তাঁর কথা শুনতে চাইত না। কিন্তু তিনি ধৈর্য হারালেন না। তিনি উপলব্ধি করলেন, যদি তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারেন, তবে মানুষ তাঁর কথা শুনবে। ফলে এই দক্ষতা তাঁর পেশাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি নিজেকে বোঝালেন, "আমি যদি অন্যদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে কথা বলতে না পারি, তাহলে তারা কেন আমার পণ্য কিনবে?" এরপর তিনি তাঁর বিক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তন করলেন। তিনি সরাসরি পণ্য বিক্রির চেষ্টা না করে প্রথমে দোকানদারদের সাথে আন্তরিকতাভাবে গল্প বলা শুরু করলেন। ধীরে ধীরে তিনি তাঁর কথার জাদুতে সবাইকে আকৃষ্ট করতে লাগলেন এবং কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর বিক্রয় রেকর্ড অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেল। তাঁর জীবনের প্রথম বক্তৃতা তাঁর জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছিলো। কয়েক বছর পর, তিনি চাকরি ছেড়ে নিউ ইয়র্কে চলে আসেন এবং সেখানে "Patterson School of Business"-এ বক্তৃতা দেওয়ার কাজ শুরু করেন। এখান থেকেই তিনি প্রথমবারের মতো একজন প্রশিক্ষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু তাঁর প্রথম ক্লাসেই চরম বিপর্যয় ঘটে! তিনি এতটাই নার্ভাস ছিলেন যে, তাঁর মুখ দিয়ে শব্দ বেরোতে চাইছিল না। তাঁর কণ্ঠ কাঁপছিল, আর শ্রোতারা হতাশ হচ্ছিলেন। তিনি আবারও ব্যর্থ হলেন! কিন্তু এই ব্যর্থতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি বুঝতে পারলেন যে, কোনো বক্তার মূল শক্তি শুধু তথ্য দেওয়া নয়, বরং মানুষকে অনুভূতি ও বাস্তব গল্পের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা। তাই তিনি তাঁর বক্তৃতার ধরন পরিবর্তন করলেন—তিনি বইয়ের ভাষায় কথা না বলে নিজের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বক্তব্য দিতে লাগলেন। এই পরিবর্তন তাঁর জীবন বদলে দিল! শুধু কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর বক্তৃতা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি ১৯১২ সালে "Dale Carnegie Training" প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে মানুষ জনসমক্ষে কথা বলার ও আত্মোন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে। শুরুতে এই ক্লাসে মাত্র ১০-১২ জন ছাত্র ছিল, কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, আমেরিকার বড় বড় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং নেতারা তাঁর প্রশিক্ষণে অংশ নিতে শুরু করেন।১৯৩৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত বই "How to Win Friends and Influence People" প্রকাশ করেন, যা তাঁকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে। এই বইয়ের মূল বিষয় ছিল—কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করা যায়। কীভাবে দক্ষ বক্তা হওয়া যায়। কীভাবে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা যায়। এই বই আজও বিশ্বের অন্যতম সেরা মোটিভেশনাল বই হিসেবে গণ্য হয়। ডেল কার্নেগীর শিক্ষা এবং তাঁর সংগ্রামী জীবন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ডেল কার্নেগীর জীবন আমাদের শেখায়—পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় ব্যর্থতাকে জয় করতে পারে। ভয় কাটানোর একমাত্র উপায় হলো বারবার অনুশীলন করা। সফলতা আসে তখনই, যখন আমরা অন্যদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করি। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। তিনি বলতেন—"If you want to conquer fear, don’t sit home and think about it. Go out and get busy." (যদি তুমি ভয় জয় করতে চাও, তবে ঘরে বসে এ নিয়ে চিন্তা করো না। বাইরে বেরিয়ে কাজে লেগে যাও।

প্রতিটি মানুষের সাফল্য পিছনে অনেকেরই ভুমিকা থাকে ডেল কার্নেগীর ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও ব্যতিক্রম ছিলো না। ডেল কার্নেগী যেভাবে একজন সাধারণ কৃষকের সন্তান থেকে বিশ্বখ্যাত মোটিভেশনাল বক্তা হয়ে ওঠেন, তার পেছনে বেশ কিছু ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাঁর সাফল্যের রাস্তায় এরা বিভিন্নভাবে তাঁকে প্রভাবিত করেছেন—কেউ তাঁকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, কেউ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন, আবার কেউ তাঁকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ডেল কার্নেগীর মা এলিজা কার্নেগী নিকট থেকে তিনি আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতার শিক্ষা লাভ করেছিলেন। ডেল কার্নেগীর মা এলিজা কার্নেগী ছিলেন তাঁর জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস। তিনি সবসময় ডেলকে আত্মবিশ্বাসী হতে উৎসাহিত করতেন। তিনি তাঁকে শেখাতেন, “তুমি যদি নিজের চিন্তাগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারো, তবে তুমি যেকোনো বাধা জয় করতে পারবে।” তিনি তাঁকে দারিদ্র্যের কারণে হতাশ না হয়ে নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। ডেল কার্নেগী পরবর্তী জীবনে তাঁর বই এবং বক্তৃতায় মায়ের এই শিক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে, তাঁর আত্মোন্নয়নের ভিত্তি মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া। জন হেনরি (ডেল কার্নেগীর বাবা) কাছ থেকে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছিলেন। ডেল কার্নেগীর বাবা জন হেনরি ছিলেন একজন গরিব কৃষক, কিন্তু তিনি ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী এবং সৎ মানুষ। তিনি শিখিয়েছিলেন, “সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই, কঠোর পরিশ্রমই একমাত্র পথ।" তিনি পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতেন, যা ডেল কার্নেগীকে অধ্যবসায়ের শিক্ষা দিয়েছিলো। ডেল কার্নেগী তাঁর বাবার কাছ থেকে শেখেন যে, সাফল্য কেবল মেধার ওপর নির্ভর করে না—এর জন্য পরিশ্রম, ধৈর্য ও সংকল্প দরকার। রালফ ওয়াল্ডো এমারসন ছিলেন ডেল কার্ণিগীর আত্মোন্নয়ন ও দার্শনিক চিন্তার অনুপ্রেরণা উৎস। ডেল কার্নেগী তাঁর বক্তৃতা ও লেখালেখিতে বিখ্যাত দার্শনিক রালফ ওয়াল্ডো এমারসনের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এমারসনের “Self-Reliance” (স্বনির্ভরতা) থেকে ডেল আত্মবিশ্বাসের শক্তি সম্পর্কে শিখেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, “নিজেকে জানো, নিজের শক্তি আবিষ্কার করো, এবং সেই শক্তি কাজে লাগাও।”
এমারসনের দার্শনিক চিন্তাধারা ডেল কার্নেগীর আত্মউন্নয়নমূলক শিক্ষার ভিত্তি তৈরিতে সাহায্য করেছিল। আব্রাহাম লিংকনের রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্ব ও জনসংযোগের আদর্শ তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিলো। ডেল কার্নেগী তাঁর বক্তৃতায় প্রায়ই আব্রাহাম লিংকনের উদাহরণ দিতেন এবং লিংকনের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
লিংকনের ধৈর্য, নম্রতা ও সংকল্পের গুণাবলি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি লিংকনের আত্ম-শিক্ষার পথ অনুসরণ করে নিজেকে একক প্রচেষ্টায় উন্নত করেছিলেন। লিংকনের জনসংযোগ ও কৌশলগত নেতৃত্ব তাঁকে তাঁর বই “How to Win Friends and Influence People”-এ মানুষকে প্রভাবিত করার উপায় শেখাতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ডেল কার্নেগী বিশ্বাস করতেন, লিংকনের মতো নেতা হওয়ার জন্য জনসংযোগ ও মানুষের মন বোঝার দক্ষতা প্রয়োজন, যা তিনি তাঁর বক্তৃতা প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করেন। অ্যান্ড্রু কার্নেগী ছিলেন তাঁর সফলতার দৃষ্টিভঙ্গির অনুপ্রেরণা। ডেল কার্নেগী তাঁর বক্তৃতায় প্রায়ই ধনকুবের ও দাতব্যকর্মী অ্যান্ড্রু কার্নেগীর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। অ্যান্ড্রু কার্নেগীর আত্ম-উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে উৎসাহিত করেছিল। তিনি শিখেছিলেন, “সফলতা কেবল সম্পদ অর্জন নয়, বরং অন্যদের উন্নতির জন্য কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি অ্যান্ড্রু কার্নেগীর সাফল্য ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। উইলিয়াম জেমস এর মনোবিজ্ঞান ও মানব আচরণের প্রভাব ডেল কার্নেগীর জীবনে পরিলক্ষিত হয়। ডেল কার্নেগীর বক্তৃতা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস-এর তত্ত্বগুলোর ব্যাপক প্রভাব ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। উইলিয়াম জেমস বিশ্বাস করতেন যে, মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি তাদের জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। ডেল কার্নেগী এই ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শেখান যে, “মানুষ নিজের অনুভূতি ও আচরণ পরিবর্তন করতে পারে, যদি তারা সচেতনভাবে ইতিবাচক চিন্তার চর্চা করে।” ডেল কার্নেগী তাঁর বই এবং প্রশিক্ষণে এই মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করেছেন, যা মানুষের আচরণ ও আত্মবিশ্বাস উন্নত করতে সাহায্য করেছে। জর্জ বার্নার্ড শ ছিলেন তাঁর বক্তৃতা ও জনসম্পৃক্ততার অনুপ্রেরণা। ডেল কার্নেগী বিখ্যাত নাট্যকার ও বক্তা জর্জ বার্নার্ড শ’র বক্তৃতার ধরন ও বক্তব্য তৈরির কৌশল শিখেছিলেন। বার্নার্ড শ’র নাটকীয় ও প্রভাবশালী বক্তৃতা দেওয়ার কৌশল তাঁকে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার কৌশল শিখিয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, “মানুষ তথ্যের চেয়ে গল্প শুনতে বেশি ভালোবাসে।” এ কারণে তিনি তাঁর বক্তৃতায় গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করতেন, যা তাঁকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সানিধ্য ডেল কার্নেগীর সাফল্যের পথচলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। ডেল কার্নেগী তাঁর জীবনে এই সকল জ্ঞান ও শিক্ষাগুলো একত্রিত করে এমন একটি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তৈরি করেন, যা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং তাদের জীবনে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সাহায্য করে।

পরিশেষে বলবো, এক লাজুক কৃষকের ছেলে থেকে বিশ্বখ্যাত বক্তা হয়ে ওঠা ডেল কার্নেগী প্রমাণ করেছেন যে, একজন সাধারণ কৃষকের সন্তানও যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে, অধ্যবসায় করে এবং নিরন্তর অনুশীলন চালিয়ে যায়, তবে সে একদিন বিশ্ব জয় করতে পারে। তিনি আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক, যিনি নিজের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন।
এমন এক মহান ব্যক্তিকে আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই।

....০৮ মার্চ ২০২৫....

সংকলন
মোহাম্মদ আলম কাউছার
লেখক,
"সফলতা ও মূল্যবোধের কিছু মৌলিক ভাবনা"
( একটি জীবনোপকরণ সমৃদ্ধ আত্ম-উন্নয়ন ও অনুপ্রেরণামূলক গ্রন্থ)
"My English Teacher"
( An unique research for non English speakers, professionals, learners)
গবেষক,
বাস্তবতা ও কল্পরূপ ব্যবস্থাপনা
Incorporated with the frameworks - 4Rs & 4As
সি ই ও,
রডল গ্লোবাল কর্পোরেশন
ভাইস প্রেসিডেন্ট,
প্রফেশনাল পাবলিক স্পিকারস ফোরাম

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Dhaka
1229