01/05/2024
আমি কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি যে ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম?
এর উত্তর খুব সহজ। একটু বিশদাকারে আমি জবাবটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দেখুন, মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা স্বাধীন চিন্তাশক্তি দিয়েছেন। ভালো-মন্দ, সত্য-অসত্যের বিভেদ বোঝার যোগ্যতা দিয়েছেন। আর তাকে সঠিক পথে চলার জন্য পথপ্রদর্শন করেছেন। জন্মের আগেই তার মধ্যে একত্ববাদের স্বভাবজাত বিশ্বাস বপন করেছেন। সুতরাং মানুষ মাত্রই স্বভাবজাত একত্ববাদী ও একমাত্র আল্লাহর দেওয়া বিধানাবলীর অনুসারী। মানুষ ও সৃষ্টিকর্তার মধ্যকার এ সম্পর্ককে বিকশিত করার লক্ষ্যে ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূল প্রেরণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ রাসূল হলেন হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি যে ধর্মের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন তারই নাম ইসলাম। ইসলাম সেই সত্য-সঠিক ও স্বভাবজাত বিশ্বাসের কথাই বলে, যা আপনি-আমি সৃষ্টিলগ্ন থেকেই লালন করে আসছি। ইসলাম এক আল্লাহ অভিমুখী হতে বলে, যা আমরা প্রবলভাবে অনুভব করি। কারণ স্বভাবগতই আমরা এমন সত্তার উপাসনা করতে চাই, যার ভালোবাসা, প্রতিপালন ও পরিচর্যা আমাদের পরিবেষ্টন করে রাখে। যার স্নেহের চাদর আমাদের চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল। যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, মহা পরাক্রমশালী, সর্বতোভাবে অমুখাপেক্ষী, নিষ্কলুষ ও ন্যায়বিচারক স্রষ্টা। যিনি বান্দার ডাকে সাড়া দেন এবং মাখলুকের যেকোনও প্রয়োজন পূরণে সক্ষমতা রাখেন। যিনি নিখুঁত, অনন্ত, অসীম, সর্বজ্ঞানী এবং অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্যক অবগত। ইসলামই কেবল আমাদের এমন পরিপূর্ণ সত্তা আল্লাহ তা‘আলার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাঁর সৃষ্টি ও কার্যপদ্ধতির মাঝে অনুপম নিপুণতা ও কল্পনাতীত শৃঙ্খলা এই দাবি করে যে, তিনি অবশ্যই আমাদের জন্য এমন বিধান প্রস্তুত করেছেন, যা সর্বাঙ্গীনভাবে আমাদের কল্যাণ নিশ্চিত করে। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজ ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রনীতিসহ জীবনের প্রয়োজনীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের রয়েছে যথাযথ দিকনির্দেশনা। ইসলামই একমাত্র জীবনবিধান, যা মানবজীবনের যাবতীয় কল্যাণকর নির্দেশনা প্রদান করে, যা আমরা প্রত্যেকেই তীব্রভাবে কামনা করি। সর্বযুগের সকল মানুষের জন্যই ইসলাম যথোপযুক্ত, যা মানুষের স্বাভাবিক যুক্তিবোধের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যশীল। অপরাপর ধর্মচিন্তা ও আদর্শ থেকে ইসলামের এই বিশেষত্বই কি একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে না যে, ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম?
তাছাড়া প্রকৃতার্থে ধর্ম তো সেটাই, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। বর্তমানে যে কয়টা ধর্ম প্রচলিত আছে, তন্মধ্যে ইসলাম ছাড়া খ্রিস্টধর্ম আর ইহুদিধর্মকেই শাব্দিক অর্থে আসমানী বলা চলে। আর সে দুটোর অনুসারীরা সেগুলোকে এমনভাবে বিকৃত করে ফেলেছে যে, সেগুলোর আদীরূপের সঙ্গে বর্তমানরূপ পুরোপুরি বিপরীত। খ্রিস্টধর্মে একত্ববাদের বিপরীতে জায়গা করে নিয়েছে ত্রিত্ববাদ। আর ইহুদিধর্মে সন্তানগ্রহণের অপবাদ দিয়ে স্রষ্টার এমন চিত্র আঁকা হয়েছে, যার সঙ্গে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কোনও সম্পর্কই নেই। সুতরাং সেদুটিকে আর সত্যধর্ম বলার কোনও অবকাশ নেই।
পবিত্র কুরআন ছাড়া বর্তমানে আর কোনও গ্রন্থই আসমানী বা আল্লাহপ্রেরিত নয়। বর্তমানের তাওরাত ও ইঞ্জিল তো মানবহাতে সম্পাদিত, বর্ধিত ও পরিবর্তিত। এক কথায় বিকৃত। কাজেই সেগুলোকে আর ধর্মগ্রন্থ বলারই সুযোগ নেই। একমাত্র কুরআনই অবিকৃত আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। বর্তমানের কুরআনই যে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন, তার বহু প্রকৃষ্ট প্রমাণাদি বিদ্যমান।
মোটকথা সুস্থ চিন্তার নিরীখে দেখলে কিংবা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলে একথা স্বীকার না করে উপায় নেই যে, ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম।
দেখুন আমরা সালাতে প্রতি রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়ি। সেখানে আল্লাহ তা‘আলাই আমাদের শিখিয়েছেন দু‘আ করতে। আমরা রবের কাছে মিনতি জানাই
اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
অনুবাদ : আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন।
আমাদের সঠিক পথে অবিচল রাখুন। চূড়ান্ত সাফল্যের গন্তব্যে পৌঁছে দিন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন যে আমরা যখন সূরা ফাতিহা পড়ি তখন আল্লাহ জাল্লা শানুহু উত্তর দেন। যখন এর তিলাওয়াত শেষ হয় তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, আমার বান্দা যা চায় তাই পাবে। সুতরাং যে সত্যিই হেদায়েত চায়, তাকে তিনি সিরাতে মুস্তকীম দেখাবেন না তা হতেই পারে না। আপনি দু‘আ করতে থাকুন এবং নিশ্চিত থাকুন যে, তিনি এই ইতমিনান, এই বিশ্বাস আপনার দিলে গেঁথে দিবেন যেন সত্য আপনার সকাশে উদ্ভাসিত হয়। তবে দু‘আর পাশাপাশি কিছু পড়াশোনা অবশ্যই করতে হবে। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত দিয়ে শুরু করুন। যখন নবী-জীবনের চিত্রগুলো আপনার সামনে চলে আসবে তখন অবশ্যই আপনি উপলব্ধি করবেন যে এই মানুষটির দ্বারা সত্য বৈ মিথ্যা প্রচারণা সম্ভব না। আর মনে রাখবেন যে, তাঁর জীবন অন্য কোনও মানুষের জীবনের মতো না। তাঁর হাদীছ ও সুন্নাহকে আল্লাহ তা‘আলা সেভাবেই হেফাজত করেছেন যেভাবে তার কিতাব কুরআনকে সকল বিকৃতি থেকে নিরাপদ রেখেছেন। কারণ নবীজি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনটাই কুরআনের তাফসীর বা ব্যাখ্যা। কুরআনের ভিতরের প্রজ্ঞা ও হেকমত তো আমরা নবীজির কথা ও জীবনাচার থেকেই শিখেছি। ইসলামকে চিনতে হলে এই দীনের নবীকে জানতে হবে। আর কুরআনকে পড়তে হবে কোনও প্রাজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধানে। কুরআনের সংক্ষিপ্ত কোনও তাফসীর পড়বেন। বাংলায় এটির সুন্দর অনুবাদ আছে। তাফসীরে উসমানী অথবা সংক্ষিপ্ত মা‘আরিফুল কুরআন পড়তে পারেন। যেখানে প্রশ্ন আসে সেখানে কোনও প্রকৃত জাননেওয়ালা থেকে জেনে নিবেন।
#এঞ্জেলবট