12/06/2025
আহ! এ যুগেও যদি এমন দু'একজন থাকতেন?
এক ব্যক্তি জুমুআর নামাজ পড়তে গেলো না। নামাজ শেষে আরেকজন তাকে দেখে বললো, "কী ব্যাপার, তুমি জুমুআর নামাজে যাওনি?"
লোকটি বললো, "জুমুআর নামাজের জন্য এসেছিলাম, কিন্তু দা'লাজকে দেখে আমার অজু নষ্ট হয়ে যায়!"
অন্য লোকটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, "অজু নষ্ট হয়ে যায়!? কীভাবে?"
নামাজ না পড়া লোকটি বললো, "দা'লাজ আমার কাছে ৫ হাজার দিরহাম পায়। আমি তার কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম। এখনো ফেরত দিতে পারিনি। আজ নামাজ পড়তে এসে রাস্তায় দা'লাজকে দেখামাত্র আমার অজু নষ্ট হয়ে যায়!"
নামাজ পড়া লোকটি দা'লাজের কাছে গেলো৷ দা'লাজ ছিলেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস, সম্পদশালী আলেম। বলা হয়ে থাকে, মুসলিম ইতিহাসে সবচেয়ে সম্পদশালী আলেম ছিলেন দা'লাজ।
দা'লাজ যখন জানতে পারলেন তার ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে একজন লোক জুমুআর নামাজ পড়তে পারেনি, তখন তাকে ডেকে আনলেন।
লোকটিকে বললেন, "আমি চাই না অর্থ ফেরত দিতে না পারার কারণে তুমি বিব্রত হও, নামাজ মিস করো।"
দা'লাজ তার ঋণ মাফ করে দিলেন। শুধু তাই না, লোকটি তাকে দেখে কষ্ট পাবার কারণে তিনি তাকে সমপরিমাণ অর্থ উপহার দেন।
অর্থাৎ, মোট ১০ হাজার দিরহাম।
সেই যুগের দশ হাজার দিরহাম বর্তমান সময়ের কয়েক লক্ষ টাকা!
তথ্যসূত্র:
শাইখ ড. মুহাম্মাদ মূসা আশ-শরীফ, মহৎ প্রাণের সান্নিধ্যে: ৪/২৯৬।
একজন আলেম ছিলেন অনেক সম্পদশালী। তিনি প্রতি সপ্তাহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষে একটি পশু জবাই করতেন এবং হাদীসের ছাত্রদেরকে দাওয়াত দিতেন। ছাত্ররা এসে তাঁর বাড়িতে দাওয়াত খেতো।
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষে ১২ হাজার পশু কুরবানি করেন।
প্রতি সপ্তাহে একটা করে করলে তো দুই হাজার কোরবানি করতেই ৪০ বছর লাগে। উনি কি একবারে একাধিক পশু কোরবানি করতেন?
হ্যাঁ, একাধিকও করতেন।
তাঁর নাম আস-সাররাজ। তিনি খুরাসানের মুহাদ্দিস, নির্ভরযোগ্য আলেম।
তার জীবনী পাবেন:
ইমাম আয-যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৪-৩৮৮-৩৯৮।
তথ্যসূত্র:
শাইখ ড. মুহাম্মাদ মূসা আশ-শরীফ, মহৎ প্রাণের সান্নিধ্যে: ৪/১৯৫।
শেষ বিচারের দিন একজন ধনী, একজন অসুস্থ ও একজন ক্রীতদাসকে সামনে নিয়ে আসা হবে।
ধনী ব্যক্তিকে আল্লাহ্ জিজ্ঞেস করবেন: "কী কারণে আমার ইবাদাত থেকে দূরে সরে ছিলে?"
সে বলবে: "আপনি আমার সম্পদে প্রাচুর্য দিয়েছিলেন ফলে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।"
তখন তার সামনে নবী সুলায়মানকে (আ.) তার রাজত্ব সহ নিয়ে আসা হবে। "তুমি কি এর চেয়েও বেশি ধনী ছিলে?" সে বলবে: "না, বরং তিনিই বেশি ধনী ছিলেন।"
আল্লাহ্ বলবেন: "অথচ তাকে তার সম্পদ আমার ইবাদাত থেকে দূরে সরাতে পারেনি।"
অসুস্থ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করবেন: "কী কারণে আমার ইবাদাত থেকে দূরে সরে ছিলে?"
সে বলবে: "আমাকে দৈহিক দিক থেকে আপনি ব্যস্ত রেখেছিলেন।"
তখন তার সামনে নবী আইউবকে (আ.) তার অসুস্থতা সহ সামনে নিয়ে আসা হবে - "তুমি কি এরচেয়েও বেশি অসুস্থ ছিলে?"
সে বলবে: "না, ইনিই বেশি অসুস্থ ছিলেন।" আল্লাহ্ বলবেন: "তবুও সে আমার ইবাদাতে ত্রুটি রাখেনি।"
ক্রীতদাসকে তিনি বলবেন: "কী কারণে আমার ইবাদাত থেকে দূরে সরে ছিলে?"
সে বলবে: "আমার ওপর আপনি মনিবদের কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন।"
তখন তার সামনে নবী ইউসুফকে (আ.) শৃঙ্খলবদ্ধ অবস্থায় দেখানো হবে - "তোমার দাসত্বের পরিমাণ কি এর চেয়েও বেশি ছিলো?"
সে বলবে: "না, বরং তার।" আল্লাহ্ বলবেন: "অথচ সে কখনও আমার ইবাদাতে কার্পণ্য করেনি।"
বিখ্যাত আলেম ও সাহাবী ইবন 'আব্বাসের (রা.) ছাত্র ইমাম মুজাহিদ বিন জাবর (রা.) এটি বর্ণনা করেন। [তাহযীব হিলইয়াতিল-আউলিয়া ২/১২]
21/07/2020
16/04/2020