31/03/2018
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধু,
আমরা জানি, যে মুহুর্তে এই লেখাটি তোমারা পড়ছো, সেই মুহূর্তে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তুমি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছো। সেই সাথে তুমি দাঁড়িয়ে আছ তোমার শিক্ষা জীবনের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বাঁকে। এই বাঁকটি তুমি কতটা সাফল্যের সাথে পার হলে, সেটিই হয়তো নির্ধারণ করে দেবে তোমার নিকট ভবিষৎ। এই লেখাটির উদ্দেশ্য হল আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতালব্ধ কিছু বিষয় তোমার সাথে শেয়ার করা, যা হয়তো এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তোমাকে সাহস যোগাবে বা সঠিক পথে চলার প্রেরণা যোগাবে।
পরীক্ষা চলাকালীন মূলত যে তিন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি তুমি হতে পার, তার মধ্যে এক নম্বর হলো পরীক্ষাভীতি। যতই সবাই বলবে, ‘ভয়ের কিছুই নেই’ ততই দেখবে যে তোমার ভয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। পরীক্ষাভীতির পর দ্বিতীয় যে সমস্যাটি তোমাকে পরাস্ত করতে চাইবে, সেটি হলো ‘অস্থিরতা’ আর তৃতীয় সমস্যার নাম হলো ‘অসুস্থতা’
এবার চলো জেনে নেয়া যাক কোন সম্যসার সাথে কিভাবে মোকাবেলা করা যায়।
পরীক্ষাভীতি:
“ভয়ের কিছু নেই” -এ কথা ঠিক না। অবশ্যই ভয়ের অনেক কিছুই আছে। তবে খুশির খবর হলো, এই ভয় তোমার আগেও লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীরা ভয় পেয়েছে, তোমার সাথে এবার যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারাও পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যতদিন পরীক্ষা থাকবে ততদিনই ছাত্র-ছাত্রীরা ভয় পেতে থাকবে। পরীক্ষাভীতি সার্বজনীন এবং সর্বকালীন। তুমি যে ভয় পাচ্ছ, সেটিই প্রমাণ করে তুমি একজন দায়িত্ববান মানুষ, তাই ভয় পাও সমস্যা নেই। কিন্তু ভয়ে কাবু হওয়ার কোন কারণ বা যুক্তি নেই। তারপরও ২/১ টা কথা-
১. প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর পুরো মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। ঐ সময়ে মনোবল না হারিয়ে প্রশ্নগুলো বার বার পড়তে থাকবে। দেখবে যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই কোন না কোন প্রশ্নের উত্তর মনে পড়ে যাবে।
২. উত্তর লিখতে গিয়ে মাঝখানে আটকে গেলে, আন্দাজমত জায়গা ফাঁকা রেখে অন্য প্রশ্নে চলে যাবে। সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়ে গেলে ফেলে রাখা প্রশ্ন আবার চেষ্টা করে দেখবে।
৩. অংকের ক্ষেত্রে প্রশ্ন খাতায় উঠানোর সাথে সাথে চেক করবে প্রশ্ন ঠিক উঠিয়েছ কিনা এবং প্রত্যেকটা অংক শেষ করার পর শেষ ৩ লাইন অন্তত রিভাইস করে পরের অংকে যাবে।
অস্থিরতা:
পরীক্ষা যত নিকটে আসে অনেকের অস্থিরতা তত বাড়তে থাকে। আর পরীক্ষার সময়তো এই অস্থিরতা অনেক সময় এমন পর্যায়ে যায় যে- প্রশ্নের উত্তর পারলেও অনেকে সঠিকভাবে পরীক্ষার খাতায় তা লিখেতে পারেনা; হাত কাঁপতে শুরু করে। তাই, পরীক্ষায় ভালো করতে অস্থিরতা দূর করাও খুব জরুরী। এই ক্ষেত্রে পরীক্ষার হলে অস্থিরতা কাটানোর জন্য নিচের কয়টি টিপস অনুসরন করা যেতে পারে-
১. বৃত্ত ভরাট আস্তে ধীরে করবে। আর ভুল যদি হয়েই যায় পরীক্ষা হলে কর্তব্যরত স্যারকে জানাবে, উনি ব্যবস্থা নেবেন। Tension -এর কোন কারণ নেই।
২. অ্যাডমিট কার্ড সহ যে সকল জিনিস নিয়ে হলে যেতে হয়, তার একটি চার্ট করবে। বাসা থেকে বের হওয়ার দরজায় সেটি সেঁটে রাখবে এবং বের হওয়ার সময় তা চেক করে বের হবে।
৩. লুজ শীটে নাম্বারিং করবে। ভুলে গেলেও সমস্যা নেই; সেলাই বা স্ট্যাপলিং ঠিক মত হয়ে থাকলেই যথেষ্ট। আবারও শুরুর কথা, কোন অবস্থাতেই অস্থির হওয়া যাবে না। “চিন্তা করা ভালো, দুশ্চিন্তা করা খারাপ”।
অসুস্থতা:
অসুস্থ হওয়া চলবে না। তুমি বলতে পার, অসুস্থ কেউ ইচ্ছে করে হয় নাকি? হ্যাঁ, ইচ্ছে করে হয়তো হয় না, তবে অসাবধানতায় হয়। তাই সাবধান থাকতে হবে। প্রস্তুতি কম হলেও অতিরিক্ত রাত জাগা যাবে না, বিশুদ্ধ/ফোটানো/বোতলজাত পানি পান করবে।
এই দেশের ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে একটি পরিবার। তোমার জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তোমাকে অফুরন্ত মানসিক সমর্থন এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে যাওয়াকে আমরা আমাদের নিখাঁদ পারিবারিক দায়িত্ব বলে মনে করেছি, আর তাই এই চিঠি। এই চিঠি যদি তোমার এতটুকু উপকারে এসে থাকে, তবে আমাদের দাবী থাকবে তোমার উজ্জীবিত মানসিক শক্তি ছড়িয়ে দাও অন্যদের মাঝেও।
আর অবশেষে বলতে চাই “আমাকে পারতেই হবে, আমি পারব”-এই কথাটি সব সময় মনে মনে বলবে এবং মন থেকে কথাটি বিশ্বাস করবে। দৃঢ় সংকল্প আর আত্মবিশ্বাসের সমন্বয় বজায় রেখে এগিয়ে যাও। জয় তোমারই হবে...