11/07/2026
#যে ছোট্ট শিক্ষার্থী একসময় স্কুলে আসতে চাইত না, আজ সে-ই সবার আগে নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হয়। ভালোবাসা, উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।" 🌸📚
নাম মো: বাকী বিল্লাহ। সে বর্তমানে নীহারিকা বিদ্যাপীঠে ১ম শ্রেণিতে পড়ে। এর পূর্বে তাকে আরেকটি প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিল। যথারীতি স্কুলের ইউনিফর্মও বানিয়ে দিয়েছিল। ২ দিন স্কুলে যাওয়ার পর আর সে স্কুলে যেতে চাইতো না। তার বাবা সাথে করে স্কুলে নিয়ে গেলে কোনোমতে ক্লাসে বসতো। যখন তার বাবা বাড়িতে আসার জন্য মোটরসাইকেলে উঠতো, ক্লাস থেকে বের হয়ে দৌড়ে তার বাবার গাড়ীতে উঠে যেত। কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলো। একসময় বাবা বিরক্ত হয়ে ছেলেকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিল।
কয়েকদিন পর, অন্য একটি মাদ্রাসায় পূনরায় ভর্তি করে দিল। সেখানে তার দাদা সাথে করে নিয়ে যেত। কিন্তু সে ঐ মাদ্রাসায়ও যেতে চাইতো না। তার বাবা একদিন, মা একদিন, দাদা একদিন এভাবে নিয়ে যেত। যতক্ষণ তার মা বাবা থাকতো ততোক্ষণই সে থাকতো। তারা চলে আসতে চাইলে সেও সাথে সাথে চলে আসতো। এখানেও তার বাবা অতিষ্ঠ হয়ে গেল। পড়ে বাকী বিল্লাহ বলে বসল ও আর পড়ালেখাই করবে না। এ কথা শুনে ওর বাবা ভিষণ মন খারাপ করল। সে ভাবতে লাগলো আমার ছেলেকে হয়তো আর পড়ালেখাই করাতে পারবে না।
একদিন নীহারিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক খোকন রানা ছেলেকে বাড়িতে দেখে বলল, ভাই আপনার ছেলেকে দেখছি বাড়িতেই বসে থাকে। বাড়িতে না রেখে আমাদের স্কুলে ভর্তি করে দেন। ভর্তির কথা শুনে ওর বাবা পূর্বের সব কথা খুলে বলল। তারপরও প্রধান শিক্ষক সাহেব বলল, একবার আমাদের স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে দেখেন আমরা কিছু করতে পারি কিনা। বাকী বিল্লাহ এসব কথা শুনে সরাসরি না করে দিল যে,সে এ স্কুলে পড়বে না। ওর বাবা ওকে জোর করে নীহারিকায় ভর্তি করতে নিয়ে আসল। ভর্তিও করে দিল। আগের মতোই বাবা সাথে করে নিয়ে আসতে লাগলো।
হঠাৎ কয়েকদিন পর সকালে ঘুম থেকে উঠে তার বাবাকে ডেকে বলে, বাবা ওঠো স্কুলে যাব। বাবা একরকম অবাক হয়ে গেল। যাকে স্কুলের কথা বললে চোখ মেলে তাকায় না আর এই ছেলেই আজকে আমাকে ডাকতেছে স্কুলে যাওয়ার জন্য। বাবা যতটা না অবাক তার থেকে বেশি খুশি।
একদিন আকাশ খুব খারাপ, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে, ছেলে বলছে বাবা চল স্কুলে যাব। শুনে বাবা বলল, আজকে থাক বৃষ্টি পড়ছে, কালকে যেও। ছেলে বলল, না আমি স্কুলে যাব, স্কুলে না গেলে পুরুষ্কার পাব না।
উপরের ঘটনাগুলো বাকী বিল্লাহ এর বাবা নীহারিকা বিদ্যাপীঠ এর পরিচালক জনাব মো: সাইফুল ইসলাম স্যারের কাছে বলতেছিলো। আরেকটি অবাক করা কথা শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি, বাকী বিল্লাহ প্রতিদিন ওর বাবা মাকে ডেকে তোলে। শুধু কি তাই! ও নাকি প্রতিদিন সকাল ৬ টায় গোসল করে স্কুলের জন্য রেডি হয়ে বসে থাকে। ও এখন একাই বিদ্যাপীঠে আসে ইভেন সবার আগে। কথাগুলো ওর বাবা যখন বলছিল, তখন আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। ওর বাবার চেহারায় প্রশান্তি আর মুখে হাসি।
দোয়া করি বাকী বিল্লাহ তুমি জীবনে অনেক বড় হও।
আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি,ভালোবাসা, উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।" 🌸📚