01/05/2021
কিছু কিছু ব্যাপারে খুব সাবধান থাকি, এগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত সিক্রেসি। যেমন আমি নিজের নামে ফোন ব্যবহার করিনা, সব বেগমের নিয়ন্ত্রনে। এতে একটা সুবিধা আছে। আমার পিছে যারা গোয়েন্দাগিরি করে ফোন টেপ এর মাধ্যমে তারা বেগমকে ধরে ফেলতে পারবে, আমি মুক্ত। আমার বিরুদ্ধে কোন রেকর্ড থাকলোনা আর। পরে শুনলাম গোয়েন্দারা ভয়েস শুনে ধরে ফেলে। আবার ইজরাইল না কানাডা থেকে কি যেন একটা অ্যাপ আনা হয়েছে যেটা দিয়ে ভয়েজ ক্লোন করা যায়। সত্যমিথ্যা জানিনা, জার্নালে পড়েছি। আজকাল আবার সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বাস করেনা পাবলিক। এরা যে কি চায় সেটা নিজেরাই বোঝেনা। তবে মানুষ বুঝে ফেলেছে সমস্ত গণমাধ্যমের মালিকরা প্রচূর সম্পদের মালিক। তারা নিজেদের প্রাচূর্য্য সমুন্নত রাখতে নিজস্ব মিডিয়া উইং তৈরী করেছে। পাবলিক তাদের উপর এখন আর মিনিমাম ভরসাই রাখেনা। স্যাটেলাইটের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে দেশের মূল মিডিয়া ফিউজ, সোশ্যাল মিডিয়া কানাগলি হাতড়ে এখন চালকের আসনে। এই জোনে যে যার যার মত দর্শন অ্যাপ্লাই করার স্বার্বভৌম ক্ষমতা রাখে। সরকারের ডিজিটাল আইনটা ধাতস্ত করতে পারলে কিছুটা সুবিধা হয়। কাউন্টার পার্টকে বুদ্ধি করে বাঁশ না দিতে পারলে ঝাঁকি খাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
টিভি পত্রিকা মালিকরা খুব সংগঠিত, নিজেদের প্রয়োজনে তারা খুবই ঐক্যবদ্ধ। বিজ্ঞাপন সন্ত্রাসের কাছে পরাজিত জাতির বিবেক বলে পরিচিত আমাদের মিডিয়া। তাদের আবার আভ্যন্তরীন বানিজ্য আছে, যে কারনে পাবলিক এখানে শুধুই কনজ্যুমার। ফালতু নিউজ ছেপে যাওয়া আর গূরুত্বপূর্ণ নিউজ চেপে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত সত্য। প্রশাসনের কাছে মিডিয়ার গূরুত্ব ব্যাপক। ক্যামেরার সামনে আসলে যে কোন মানুষের ভিতরে হালকা নিম্নচাপ কাজ করে। প্রফেশনালরা নিজেদের এখতিয়ারভূক্ত জায়গার বাইরে গিয়ে মিডিয়ায় কথা বলেন, কারন এটাই এখন নিয়ম। বেসিক যোদ্ধারা এখন ভাল বক্তা, মানুষেরও আস্থাভাজন হয়ে উঠছেন ধীরে ধীরে !
আমার হাতে কাজ খুব কম। সময় কাটাতে ডেইলী অন্তত দশটা পত্রিকা কিনে পড়ি, বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে রিমোট আটকে যায়। খবরাখবর রাখতে হয় কারন মিডিয়ার কলিজায় বাংলাদেশ আর মস্তিষ্কে বানিজ্য। তাদের কোন ভাবেই বিশ্বাস করার কারন নেই, অসম্ভব। চ্যানেল ২৪ এর মত পেশাদারিত্বের নামে মানবতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জনতার আদালতে প্রমানিত। সবাই যার যার এজেন্ডায় অটল থেকে পাবলিকের জন্য মনোপলি গেম এর পিকাডেলী সার্কাস চালু করেছে, আমজনতা জামজনতা এবার ঘুরতে থাকো। গাঁটের পয়সায় এমবি ঢুকিয়ে খবরের সত্যতা খুঁজতে থাকো। এই চক্করের শেষ নেই। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পরে আমাদের মিডিয়া মালিকদের বানিজ্যই নতুন রুপে সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে। টাকা আছে তো মিডিয়া নামের দোকান খোলো। যখন তখন সাংবাদিক ছাটাই করো, নিজেদের মাংস নিজেরাই খাও। আমি মাঝে মাঝে অনলাইনে চ্যাট করি, মেয়েদের সাথেই বেশী আলোচনা হয়। খুব সতর্ক থাকি কখন কি ফাঁস হয়ে যায় ! শুনেছি হোয়াটসঅ্যাপ নাকি গোপনীয়তার জন্য খুব নিরাপদ। বিশ্বাস উঠে গেছে টেলিফোনের উপর, আর কোন গোপনীয়তা নেই ব্যক্তিজীবনে। বড় সমস্যা হচ্ছে মোবাইল থাকলে নেট থাকবে, নেটের ভিতরে গুগল ভালাবুরা ঢুকিয়ে রেখেছে। নিজে ক্রাইম করে ধরা পড়লে মনকে স্বান্তনা দিতে পারবো, তবে কেউ ধরে নিয়ে গিয়ে বানোয়াট কাহিনী বানালে মহাবিপদ। প্রমানের আগেই চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ফেলবে পাবলিক। কসম ডিজিটাল আইনের, আমি রাষ্ট্রের একান্ত অনুগত নাগরিক। ভালবাসা ছাড়া আর কোন দোষ নাই আমার।
ভালবাসা অবিরাম...
লেখা- আসিফ আকবর