28/09/2026
1. রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের অতি সম্পৃক্ততার কারণে একাডেমিক পর্যায়ে যতটুকু মনোনিবেশ করা দরকার ছিল সেটা পারা যায়নি। টারশিয়ারি পর্যায়ে দেশের একটা প্রধান শিক্ষালয় হিসেবে সে কাজটা কিন্তু আমরা করতে পারিনি। এ বিষয়টা জাতিকেও চিন্তা করতে হবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তারা কোন রূপে দেখতে চায়। যদি তারা বলে শিক্ষা, গবেষণা ও র্যাংকিংয়ে আরো বেশি মনোনিবেশ করা উচিত, তাহলে আমাদেরকে সার্বক্ষণিক রাজনীতির দায় থেকে মুক্তি দিতে হবে।
2. ক্যাম্পাসে অতি রাজনীতিকরণ একটা মৌলিক সমস্যা; ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই রাজনীতিতে যুক্ত। এ রাজনীতি যদি শুধু শিক্ষার জন্য, আমাদের ছাত্রদের জন্য, আমাদের শিক্ষকদের জন্য রাজনীতি হয়, সেটা নিয়ে আপত্তি নেই। আমি আরেকজনের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ব্যবহার করছি, এতে আপত্তি আছে। এবং সেটি করতে গিয়ে আমার মূল লক্ষ্য থেকে বারবার সরে যাচ্ছি, এটা একটা প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আমাদের জন্য।
3. এ কথাটি আমি বারবার বলি—‘আমরা সরকারি, কিন্তু সরকারের প্রতিষ্ঠান নই’। আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও মূলত জনতার প্রতিষ্ঠান। ফলে স্বচ্ছতা যত বাড়বে, আমার কোনো ভুল হলে জনগণই আমাকে সংশোধন করার সুযোগ পাবে। আমি যখন সমাজ ও জনগণের ওপর নির্ভর করব, তখন আমার মেরুদণ্ডও শক্ত হবে। আমাকে সবসময় ওপরের মহল কী বলছে, তা নিয়ে ভয়ে থাকতে হবে না।
4. আমরা যদি অনবরত বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে সমাজে পাঠাই, কিন্তু তাদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর মতো কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে না পারি, তাহলে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সাফল্য নেই। প্রতি বছর আমাদের দেশে প্রায় ২২-২৪ লাখ গ্র্যাজুয়েট শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু এ বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে আমরা সাকুল্যে চার লাখের মতো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারছি। ফলে একটি বড় অংশ শ্রমশক্তিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারছেন না।
5. আমি বহুবার বলেছি, ডাকসুর মতো বড় একটি নির্বাচন কোনো প্রশাসন শখ করে আয়োজন করে না। শিক্ষার্থীদের দাবি ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়েই আমরা নির্বাচনটি আয়োজন করেছিলাম। আমাদের বিরুদ্ধে যদি বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় ঘটত, তাহলে সাংবাদিক ও অন্যান্য অংশীজনের পক্ষে তা এতদিনে চিহ্নিত করা সম্ভব হতো। আমার পেছনে কোনো ছাত্রসংগঠন লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল না, কোনো পুলিশও আমাকে রক্ষা করার জন্য ছিল না। মূলত মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপরই আমাদের অবস্থান ছিল। বড় কোনো অনিয়ম হলে সেই আস্থা ধরে রাখা সম্ভব হতো না।
https://www.bonikbarta.com/bangladesh/eVw58mOwVoY4ElBg