02/09/2019
-“পড়তে বসতে ইচ্ছা করে না!
-“আরে, আমি তো প্রতিদিন বই নিয়ে বসি, কিন্তু কই যে হারায় যাই!🤯
আমাদের সবার সমস্যাগুলোকে যদি একসাথে করি তাহলে ইন্টারসেকশনে যেটা পড়বে বা সবচেয়ে কমন যেটা হবে সেটা হচ্ছে মনোযোগ না আসা। মনোযোগ না আসলে পড়া কি করে হবে! আর পরীক্ষার আগের দু’দিনের মনোযোগ দিয়ে পাশ করার মতো শর্টকাট ওয়ে দিয়ে পড়ালেখা কি চলে? চলো মনোযোগ ধরে রাখারও কিছু শর্টকাট ওয়ে দেখি...😉
✅পড়ার মত পরিবেশ: একটানা পড়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা। খেয়াল করলে দেখতে পারবে আমাদের পড়ায় সবচেয়ে ব্যাঘাত ঘটায় আমাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর নোটিফিকেশন দেখার অস্থিরতা, আশে পাশের গল্পের টুকরো বার্তা, আড্ডা ইত্যাদি। তাই সচেতনভাবে এই টুলসগুলো তোমার পাশে থেকে ২-৩ ঘণ্টার জন্য সরিয়ে তারপর একান্তে বসো। এতে পড়তে বসতে তোমার আগ্রহ না জাগালেও অন্তত মনোযোগ সরিয়ে নেবে না।
✅কয়েকজন মিলে গ্রুপ স্টাডি: নিয়মিত পড়া কন্টিনিউ করতে গ্রুপ স্টাডির বিকল্প নেই। একসাথে কয়েকজন বন্ধু মিলে সপ্তাহের তিন/চারদিন, আগে থেকে ঠিক করে রাখা সময়ে বসে অনুশীলন চর্চা করা যায়, নিজেদের ঝালাই করে নেয়া যায়, এবং পরবর্তী দিনের হোমওয়ার্কও নেয়া যায়। এতে যেমন একঘেয়েমি আসে না তেমনি বন্ধুদের সাথে তাল মেলাতে হলেও তোমাকে পড়তেই হচ্ছে।
✅বন্ধুরা মিলে কুইজ প্রতিযোগীতা: সপ্তাহের যে কোন একদিন কোন একটা খটমটে চ্যাপ্টার নিজেদের কুইজ কম্পিটিশনের জন্যে রাখতে পারো। কুইজের জন্য পড়তে হলে তোমাকে ঐ চ্যাপ্টার গভীরভাবে পড়তেই হবে, এতে তোমার ঐ চ্যাপ্টারের নৈর্ব্যক্তিক, সৃজনশীল দুটোরই প্রস্তুতি হয়ে যাবে। এভাবে প্রতি মাসে তুমি অনায়াসে চারটা চ্যাপ্টার আয়ত্ত করতে পারবে সেই সাথে এর আনন্দ বাড়াতে বন্ধুরা মিলে চাঁদা তুলে কুইজ বিজয়ীর জন্য পুরস্কার রাখতে পারো!
✅সবকিছুতেই অংশগ্রহণ: ধরো, তোমার ক্লাস টেস্ট আর বাংলাদেশের খেলা মিলে কনফ্লিক্টিং সিচুয়েশন। খেলা দেখতে বসলে কখন সময় চলে যায় বুঝতেই পারো না আবার এই সময়ে একটানা মনোযোগ দিয়ে পড়াও অসম্ভব।! তাহলে?
এ সময় তুমি নিজের জন্য সময় বেঁধে নাও বোলিং-ব্যাটিং এ কত ওভার করে তুমি দেখবে, এতে তুমি পড়ার জন্য কত সময় পাবে। এতে তোমার স্কোর দেখার জন্য বার বার ছুটে আসতে হবে না; “খেলা দেখতে পারছি না, খেলা দেখতে পারবো না” এই অস্থিরতাও তোমার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাবে না!
✅আনন্দের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া: মনোযোগ ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হচ্ছে আনন্দিত থাকা, তৃপ্ত থাকা। নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি তোমার আনন্দের বিষয়গুলোতে অংশগ্রহণ করো; সপ্তাহের একদিন ফুটবল কিংবা সাঁতার, আলোচিত কোন মুভি, বিষয়ভিত্তিক বই- তা করো যা তোমাকে আনন্দ দেয়। তোমার তৃপ্ত মন তোমাকে বিক্ষিপ্ত হতে দেবে না, আরো একাগ্র করবে।
✅নিয়মিত থাকা: নিয়মিত পড়াশুনা করা- শুনতে ক্লিশে হলেও মেধাবী শিক্ষার্থী আর সাধারণ শিক্ষার্থীর এটাই বড় পার্থক্য। গ্রীষ্মের ছুটি, ঈদের ছুটি, পূজার ছুটি, পরীক্ষা শেষের ছুটি যাই হোক না কেন, খুব অল্প হলেও প্রতিদিনই পড়া চালিয়ে যাও। পড়ালেখার মত লম্বা রেসে এই একটি অভ্যাসই তোমাকে ট্র্যাকে ধরে রাখবে।
Tag your friends | Share🙂