05/08/2024
কোরআনে ঘোষিত বিজয় দিবসের তিন কর্মসূচি (৩৬ জুলাই, ৫ আগস্ট):
১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় একটি দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে স্বাধীন-স্বকীয় জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে।
৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট), বাঙালি জাতির জীবনে আরেকটি বিজয়ের দিন। আওয়ামী বাকশালী দু:শাসনের দীর্ঘ ১৫ বছরে যখন আপামর জনতার নাভিশ্বাস উঠছে; দুর্নীতি, লুটপাট, জুলুম নির্যাতনের স্টীম রোলারে যখন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখন মহান আল্লাহ্ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই জালিমশাহীর পতন ঘটায়। মানুষের বহু দিনের কাঙ্খিত স্বপ্নটি অবশেষে বাস্তবে প্রতিফলিত হলো। আলহামদুলিল্লাহ্!
প্রায় পাঁচশ’রও অধিক প্রাণ (বীর শহীদ) আর হাজার হাজার হতাহতের (এত অল্প সময়ে বাংলাদেশ তো বটেই গোটা উপমহাদেশের ১০০ বছরের ইতিহাসেও যার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া বিরল) মাধ্যমে অর্জন আমাদের মহান বিজয়। গৌরবদীপ্ত ও দুর্বিনীত সাহসী জাতি হিসেবে আমাদের কাছে ৩৬ জুলােই (৫ আগস্ট) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে।
আজকের নিবন্ধে ইসলামের দৃষ্টিতে বিজয় দিবস উদযাপন নিয়ে আলোকপাত করা হল।
পবিত্র কোরআন কারিমে দু’টি সুরায় বিজয় দিবসের কর্মসূচি বর্ণনা করা হয়েছে। সূরাদ্বয়ের একটির নাম সুরা ফাতাহ, অপরটির নাম সুরা নাসর। ‘ফাতাহ’ অর্থ বিজয়, আর ‘নাছর’ অর্থ মুক্তি বা সাহায্য।
দেশ-স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে দেশ ও মাটির গাদ্দারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ দখলমুক্ত করার নাম বিজয়। আর বিজয় অর্জনের পেছনে অলৌকিক শক্তির নাম হচ্ছে নাসর বা সাহায্য। বিজয় অর্জন হলে কি করতে হবে তা সুরা নাসর থেকে বুঝার চেষ্টা করি।
মহান রাব্বুল আলামিন সুরা নাছরের প্রথম আয়াতে এরশাদ করেন,‘যখন তোমাদের বিজয় আসবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসবে, তখন দেখবে, দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্মে প্রবিষ্ট হচ্ছে’।
মহান রাব্বুল আলামিন তিনটি কর্মসুচি এই সুরায় ঘোষণা করেছেন। সেগুলো হল:
১.ফাসাব্বিহ, (আল্লাহর তাসবিহ পাঠ তথা পবিত্রতা বর্ণনা করা) পাঠ করা। ২. বিহামদী রাব্বিক, (আল্লাহর হামদ তথা শুকরিয়া) আদায় করা।
৩. ওয়াসতাগফীর, (যুদ্ধের সময় ভুলভ্রান্তি তথা সীমালংঘন থেকে রবের কাছে ক্ষমা চাওয়া) প্রার্থনা করা।
স্বাধীনতা এবং বিজয় একমাত্র মহান করুণাময় আল্লাহ তায়ালারই দান। আল্লাহ তায়াআলার অশেষ করুণার বদৌলতেই আমরা আজকের এই বিজয় অর্জন করতে পেরেছি। তাই শুকরিয়াও করতে হবে তারই।
অতএব তিনটি কর্মসুচি পালনের মাধ্যমেই আমাদেরকে বিজয়ের আনন্দ করতে হবে। বিজয়ের দিন মহান রবের কাছে সেজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে শুকরিয়া আদায় করা নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। বিজয়ের দিন শুকরিয়া নামাজ পড়া নবীজীর সুন্নাত।
ইতিহাস থেকে জানা যায় নবী (সা.) দশ বছর পর বিজয়েরবেশে সহস্র সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে যখন মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি চেহারা নিম্নগামী অবস্থায় একটি উটের ওপর বসা ছিলেন। প্রথমে হযরত উম্মে হানীন (রা.) ঘরে প্রবেশ করে আট রাকাত নামাজ আদায় করলেন। সেই নামাজকে সালাতুল ফাতহ বা বিজয়ের নামাজ বলা হয়। এ ছিলো নবীযুগের কথা।
বি. দ্র: অতি উৎসাহী যারা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও পরাজিতদের উপর হামলে পরছেন, প্লিজ আপনারা এসব হীন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন। আপনারাও জালেমদের অন্তর্ভু্ক্ত হইয়েন না, প্লিজ।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর