09/08/2026
https://www.facebook.com/share/p/19EGtAXub8/
🌏 পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ভূপ্রকৃতি ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য:
পৃথিবীর পৃষ্ঠ একরকম নয়। কোথাও সুউচ্চ পর্বত ও বরফে ঢাকা হিমবাহ, কোথাও বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও ঘন বন, আবার কোথাও মরুভূমি, নদী, দ্বীপ ও মহাসাগর—প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এসব বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতিকে বিভিন্ন ভৌগোলিক নামে চিহ্নিত করা হয়। নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূপ্রকৃতি ও জলভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সংজ্ঞা, গঠন ও বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো।
১. 🏔️ পর্বত — Mountain
পর্বত হলো আশপাশের ভূমির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঁচু প্রাকৃতিক ভূভাগ, যার সাধারণত ঢাল ও একটি চূড়া থাকে। ভূত্বকের প্লেটের সংঘর্ষ, আগ্নেয় কার্যকলাপ ও অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় পর্বত সৃষ্টি হতে পারে।
উদাহরণ: হিমালয় — নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও চীন; আল্পস — ইউরোপ; রকি পর্বতমালা — উত্তর আমেরিকা।
২. 🌋 আগ্নেয়গিরি — Volcano
আগ্নেয়গিরি হলো ভূত্বকের এমন স্থান, যেখান দিয়ে পৃথিবীর অভ্যন্তরের ম্যাগমা, গ্যাস ও আগ্নেয় ছাই ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে। কিছু আগ্নেয়গিরি সক্রিয়, কিছু সুপ্ত এবং কিছু দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়।
উদাহরণ: মাউন্ট ফুজি — জাপান; মাউন্ট এটনা — ইতালি; মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো — তানজানিয়া; মাউন্ট মেরাপি — ইন্দোনেশিয়া।
৩. ❄️ হিমবাহ — Glacier
হিমবাহ হলো দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা বিশাল বরফের স্তর, যা নিজের ওজনের কারণে অত্যন্ত ধীরে ধীরে প্রবাহিত হয়। পাহাড় ও মেরু অঞ্চলে হিমবাহের আধিক্য দেখা যায়।
উদাহরণ: পেরিটো মোরেনো হিমবাহ — আর্জেন্টিনা; গাংগোত্রী হিমবাহ — ভারত; আলেটশ হিমবাহ — সুইজারল্যান্ড; গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফস্তর।
৪. 🧊 তুন্দ্রা — Tundra
তুন্দ্রা হলো অত্যন্ত ঠান্ডা, সাধারণত বৃক্ষহীন অঞ্চল যেখানে শীত দীর্ঘ এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি সীমিত। অনেক তুন্দ্রা অঞ্চলের মাটির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে জমাট অবস্থা থাকে।
উদাহরণ: আলাস্কার উত্তরাঞ্চল; উত্তর কানাডা; সাইবেরিয়া — রাশিয়া; গ্রিনল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চল।
৫. ⛰️ টিলা — Hill
টিলা হলো আশপাশের ভূমির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার উঁচু ভূভাগ। পাহাড়ের তুলনায় সাধারণত এর উচ্চতা ও আকার কম।
উদাহরণ: সিলেটের টিলা অঞ্চল — বাংলাদেশ; স্কটিশ হাইল্যান্ডসের বিভিন্ন নিম্ন পাহাড়; ইংল্যান্ডের Cotswolds।
৬. 🏞️ মালভূমি — Plateau
মালভূমি হলো আশপাশের ভূমির তুলনায় উঁচু কিন্তু উপরিভাগ তুলনামূলক সমতল বিস্তৃত ভূভাগ। ভূত্বকের উত্তোলন, লাভা জমা ও ক্ষয়প্রক্রিয়ায় মালভূমি তৈরি হতে পারে।
উদাহরণ: তিব্বত মালভূমি — চীন; দাক্ষিণাত্য মালভূমি — ভারত; ডেকান মালভূমি — ভারত; কলোরাডো মালভূমি — যুক্তরাষ্ট্র।
৭. 🪨 খাড়া পাথুরে প্রান্ত — Cliff
ক্লিফ হলো ভূমি বা শিলার অত্যন্ত খাড়া প্রান্ত, যা স্থলভাগ, নদী উপত্যকা বা সমুদ্রের পাশে তৈরি হতে পারে। ক্ষয়প্রক্রিয়া এর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ: মোহের ক্লিফস — আয়ারল্যান্ড; হোয়াইট ক্লিফস অব ডোভার — ইংল্যান্ড; গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইটের উপকূলীয় ক্লিফ — অস্ট্রেলিয়া।
৮. 🏜️ ক্যানিয়ন — Canyon
ক্যানিয়ন হলো গভীর ও দীর্ঘ উপত্যকা, যার দুই পাশ সাধারণত খাড়া পাথুরে দেয়ালের মতো। নদীর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়প্রক্রিয়ায় অনেক ক্যানিয়ন তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ: গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন — অ্যারিজোনা, যুক্তরাষ্ট্র; ফিশ রিভার ক্যানিয়ন — নামিবিয়া; কোলকা ক্যানিয়ন — পেরু।
৯. 🏜️ মেসা — Mesa
মেসা হলো চারপাশের ভূমির তুলনায় উঁচু, সমতল-শীর্ষবিশিষ্ট এবং সাধারণত খাড়া প্রান্তযুক্ত ভূভাগ। শুষ্ক অঞ্চলে ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে এগুলো বেশি দেখা যায়।
উদাহরণ: মেসা ভার্দে — কলোরাডো, যুক্তরাষ্ট্র; Monument Valley — অ্যারিজোনা ও উটাহ, যুক্তরাষ্ট্র।
১০. 🪨 বিউট — Butte
বিউট হলো মেসার মতো সমতল-শীর্ষবিশিষ্ট কিন্তু আকারে তুলনামূলক ছোট ও বিচ্ছিন্ন উঁচু ভূভাগ। দীর্ঘ ক্ষয়প্রক্রিয়ায় বড় মেসা আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিউটের মতো আকৃতি পেতে পারে।
উদাহরণ: Monument Valley ও Utah-এর মরুভূমি অঞ্চল; Bear Butte — South Dakota, যুক্তরাষ্ট্র।
১১. 🏞️ অববাহিকা — Basin
অববাহিকা হলো চারপাশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিচু বা নিচের দিকে ঢালু বিস্তৃত অঞ্চল, যেখানে পানি ও পলি জমতে পারে। অনেক বড় নদী ও হ্রদ একটি অববাহিকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
উদাহরণ: Amazon Basin — দক্ষিণ আমেরিকা; Congo Basin — মধ্য আফ্রিকা; Great Basin — যুক্তরাষ্ট্র।
১২. 🌾 সমতলভূমি — Plain
সমতলভূমি হলো বিস্তৃত ও অপেক্ষাকৃত সমতল ভূমি। নদীর পলি জমা, সমুদ্রের পলি ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের সমতলভূমি তৈরি হয়।
উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা সমভূমি — বাংলাদেশ ও ভারত; North European Plain — ইউরোপ; Great Plains — যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।
১৩. 🌾 প্রেইরি — Prairie
প্রেইরি হলো প্রধানত ঘাসে আবৃত বিস্তৃত নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি, যেখানে বড় গাছ তুলনামূলক কম। উর্বর মাটির কারণে এসব অঞ্চলে কৃষিকাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: কানাডার Prairie Provinces — আলবার্টা, সাসকাচোয়ান ও ম্যানিটোবা; যুক্তরাষ্ট্রের Great Plains-এর অংশ।
১৪. 🌳 বন — Forest
বন হলো এমন বিস্তৃত অঞ্চল যেখানে গাছ ও অন্যান্য উদ্ভিদ ঘনভাবে বৃদ্ধি পায়। জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে বনভূমি ক্রান্তীয়, নাতিশীতোষ্ণ, শঙ্কুবন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
উদাহরণ: সুন্দরবন — বাংলাদেশ ও ভারত; Black Forest — জার্মানি; Taiga বন — রাশিয়া ও কানাডা।
১৫. 🌴 বৃষ্টিবন — Rainforest
বৃষ্টিবন হলো প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন ঘন বনভূমি। ক্রান্তীয় বৃষ্টিবন পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল।
উদাহরণ: Amazon Rainforest — দক্ষিণ আমেরিকা; Congo Rainforest — আফ্রিকা; Daintree Rainforest — অস্ট্রেলিয়া।
১৬. 💧 জলাভূমি — Marsh
মার্শ হলো এমন নিচু ভূমি যেখানে মাটি নিয়মিত বা দীর্ঘ সময় পানিতে ভেজা থাকে এবং ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ প্রচুর জন্মায়।
উদাহরণ: Okavango Delta — বতসোয়ানা; Florida Everglades-এর বিভিন্ন জলাভূমি — যুক্তরাষ্ট্র; Camargue — ফ্রান্স।
১৭. 🌿 স্ব্যাম্প — Swamp
স্ব্যাম্প হলো জলাবদ্ধ জলাভূমি যেখানে গাছ ও অন্যান্য কাঠজাতীয় উদ্ভিদ বেশি জন্মায়। মিঠা পানি ও লোনা পানির উভয় পরিবেশেই স্ব্যাম্প থাকতে পারে।
উদাহরণ: Okefenokee Swamp — যুক্তরাষ্ট্র; Pantanal-এর কিছু জলাভূমি — ব্রাজিল ও প্রতিবেশী দেশ; Everglades — ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র।
১৮. 🏜️ মরুভূমি — Desert
মরুভূমি হলো অত্যন্ত শুষ্ক অঞ্চল যেখানে বৃষ্টিপাত খুব কম এবং উদ্ভিদ আচ্ছাদন সীমিত। সব মরুভূমি বালুময় নয়—কিছু পাথুরে বা কঙ্করময়ও হতে পারে।
উদাহরণ: সাহারা — উত্তর আফ্রিকা; গোবি — মঙ্গোলিয়া ও চীন; আরব মরুভূমি — মধ্যপ্রাচ্য; আটাকামা — চিলি।
১৯. 🏖️ বালিয়াড়ি — Dune
বাতাসের মাধ্যমে বালি জমে যে ঢিবি বা ঢেউখেলানো বালুর কাঠামো তৈরি হয় তাকে বালিয়াড়ি বলে। মরুভূমি ও উপকূলীয় অঞ্চলে এগুলো বেশি দেখা যায়।
উদাহরণ: Erg Chebbi — মরক্কো; Namib Desert-এর বালিয়াড়ি — নামিবিয়া; Great Sand Dunes — কলোরাডো, যুক্তরাষ্ট্র।
২০. 🌴 মরূদ্যান — Oasis
মরুভূমির মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানি, প্রস্রবণ বা অন্য কোনো পানির উৎসের কারণে উদ্ভিদসমৃদ্ধ যে স্থান তৈরি হয় তাকে মরূদ্যান বলে। মরুভূমিতে মানুষের বসতি ও যাতায়াতের জন্য এগুলো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: Siwa Oasis — মিশর; Al-Ahsa Oasis — সৌদি আরব; Huacachina — পেরু।
২১. 🌊 নদী — River
নদী হলো প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহিত জলধারা, যা সাধারণত উচ্চভূমি থেকে নিম্নভূমির দিকে প্রবাহিত হয়ে হ্রদ, সাগর বা মহাসাগরে মিশে যায়। নদী ভূমিক্ষয়, পলি পরিবহন ও নতুন ভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ: পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা — বাংলাদেশ; নীল নদ — আফ্রিকা; আমাজন — দক্ষিণ আমেরিকা; মিসিসিপি — যুক্তরাষ্ট্র।
২২. 💦 জলপ্রপাত — Waterfall
নদী বা জলধারা যখন অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থান থেকে খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে, তখন তাকে জলপ্রপাত বলে। কঠিন ও নরম শিলার অসম ক্ষয়ের কারণেও জলপ্রপাত সৃষ্টি হতে পারে।
উদাহরণ: নায়াগ্রা জলপ্রপাত — যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা; ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত — জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে; অ্যাঞ্জেল ফলস — ভেনেজুয়েলা।
২৩. 🌊 ফিয়র্ড — Fjord
ফিয়র্ড হলো হিমবাহের ক্ষয়ে তৈরি গভীর, সরু ও খাড়া-পার্শ্ববিশিষ্ট উপত্যকা, যা পরে সমুদ্রের পানিতে পূর্ণ হয়েছে।
উদাহরণ: Geirangerfjord — নরওয়ে; Milford Sound — নিউজিল্যান্ড; Ilulissat Icefjord — গ্রিনল্যান্ড।
২৪. 🌊 বদ্বীপ — Delta
নদী যখন সমুদ্র বা হ্রদের কাছে পৌঁছে প্রবাহের গতি হারায়, তখন নদীবাহিত পলি জমে বদ্বীপ তৈরি হতে পারে। নদী এখানে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ — বাংলাদেশ ও ভারত; নীল নদের বদ্বীপ — মিশর; Mississippi Delta — যুক্তরাষ্ট্র।
২৫. 🏖️ সৈকত — Beach
সৈকত হলো সমুদ্র, সাগর, হ্রদ বা নদীর তীরে বালি, নুড়ি বা অন্যান্য পলি জমে তৈরি অঞ্চল। ঢেউ, জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রস্রোত সৈকতের আকৃতি পরিবর্তন করে।
উদাহরণ: কক্সবাজার — বাংলাদেশ; Bondi Beach — অস্ট্রেলিয়া; Copacabana Beach — ব্রাজিল।
২৬. 🌊 উপসাগর — Bay
উপসাগর হলো সমুদ্র বা মহাসাগরের এমন অংশ যা স্থলভাগের মধ্যে কিছুটা প্রবেশ করেছে এবং সাধারণত তিন দিক থেকে স্থল দ্বারা ঘেরা থাকে।
উদাহরণ: বঙ্গোপসাগর — বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার; Hudson Bay — কানাডা; Bay of Biscay — ইউরোপ।
২৭. 🌊 গালফ — Gulf
Gulf সাধারণত সমুদ্র বা মহাসাগরের এমন বৃহৎ অংশকে বোঝায় যা স্থলভাগের গভীরে প্রবেশ করেছে। Bay ও Gulf-এর সংজ্ঞার মধ্যে কিছুটা মিল রয়েছে এবং নামকরণের ক্ষেত্রে সবসময় আকারের কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয় না।
উদাহরণ: Persian Gulf — মধ্যপ্রাচ্য; Gulf of Mexico — যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কিউবার মধ্যবর্তী জলভাগ; Gulf of Aden — ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চল।
২৮. 🚢 প্রণালী — Strait
প্রণালী হলো দুটি বৃহৎ জলভাগকে সংযুক্তকারী সরু প্রাকৃতিক জলপথ, যার দুই পাশে স্থলভাগ থাকে। আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্যে অনেক প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: Strait of Malacca — মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মধ্যবর্তী অঞ্চল; Strait of Gibraltar — স্পেন ও মরক্কোর মধ্যবর্তী; Bering Strait — রাশিয়া ও আলাস্কার মধ্যবর্তী।
২৯. 🌊 চ্যানেল — Channel
চ্যানেল হলো তুলনামূলকভাবে সরু জলপথ, যা দুটি জলভাগকে সংযুক্ত করতে পারে বা বৃহৎ জলভাগের মধ্যে নৌযাত্রার পথ তৈরি করতে পারে। এটি প্রাকৃতিক অথবা কৃত্রিম—দুই ধরনের হতে পারে।
উদাহরণ: English Channel — ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যবর্তী; Mozambique Channel — মাদাগাস্কার ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী; Panama Canal — একটি কৃত্রিম জলপথ।
৩০. 🏝️ উপদ্বীপ — Peninsula
উপদ্বীপ হলো এমন একটি স্থলভাগ যা তিন দিক থেকে পানি দ্বারা বেষ্টিত এবং এক দিক দিয়ে বৃহৎ স্থলভাগের সঙ্গে যুক্ত।
উদাহরণ: আরব উপদ্বীপ — মধ্যপ্রাচ্য; ভারতীয় উপদ্বীপ — দক্ষিণ এশিয়া; মালয় উপদ্বীপ — দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া; আইবেরীয় উপদ্বীপ — স্পেন ও পর্তুগাল।
৩১. 🗺️ স্থলসংকট — Isthmus
ইস্থমাস বা স্থলসংকট হলো সরু স্থলভাগ, যা দুটি বৃহৎ স্থলভাগকে সংযুক্ত করে এবং দুই পাশে জলভাগ থাকে।
উদাহরণ: Isthmus of Panama — উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সংযোগস্থল; Isthmus of Suez — আফ্রিকা ও এশিয়ার সংযোগকারী ঐতিহাসিক স্থলভাগ; Isthmus of Kra — থাইল্যান্ডে।
৩২. 🌊 অন্তরীপ — Cape
কেপ বা অন্তরীপ হলো স্থলভাগের এমন একটি অংশ যা সমুদ্র বা মহাসাগরের দিকে প্রসারিত হয়ে গেছে। অনেক অন্তরীপ নৌচলাচল ও সমুদ্রভিত্তিক ভূগোলে গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: Cape of Good Hope — দক্ষিণ আফ্রিকা; Cape Horn — চিলি; Cape Comorin বা Kanyakumari — ভারত।
৩৩. 🏝️ দ্বীপ — Island
দ্বীপ হলো চারদিকে পানি দ্বারা বেষ্টিত প্রাকৃতিক স্থলভাগ। আকারে ক্ষুদ্র দ্বীপ থেকে শুরু করে বিশাল ভূখণ্ড পর্যন্ত দ্বীপ হতে পারে।
উদাহরণ: বাংলাদেশে ভোলা দ্বীপ; শ্রীলঙ্কা; গ্রিনল্যান্ড; মাদাগাস্কার; বোর্নিও।
৩৪. 🏝️ দ্বীপপুঞ্জ — Archipelago
অনেকগুলো দ্বীপ কাছাকাছি একটি অঞ্চলে অবস্থান করলে তাদের সমষ্টিকে দ্বীপপুঞ্জ বলা হয়। এগুলো আগ্নেয়গিরি, ভূত্বকের পরিবর্তন, প্রবাল গঠনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হতে পারে।
উদাহরণ: ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ; ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ; জাপান দ্বীপপুঞ্জ; হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ।
৩৫. 🪸 অ্যাটল — Atoll
অ্যাটল হলো সাধারণত বৃত্তাকার বা ঘোড়ার নালের মতো প্রবালপ্রাচীর, যার মাঝখানে একটি অগভীর জলভাগ বা লেগুন থাকে। অনেক অ্যাটল প্রাচীন আগ্নেয় দ্বীপকে ঘিরে প্রবালপ্রাচীরের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ: মালদ্বীপের বহু দ্বীপ ও অ্যাটল; Bikini Atoll — মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ; Funafuti Atoll — টুভালু।
৩৬. 🩵 লেগুন — Lagoon
লেগুন হলো সমুদ্রের কাছাকাছি অপেক্ষাকৃত অগভীর জলভাগ, যা সাধারণত বালুর বাঁধ, দ্বীপ, প্রবালপ্রাচীর বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক বাধার মাধ্যমে খোলা সমুদ্র থেকে আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন।
উদাহরণ: Bora Bora Lagoon — ফরাসি পলিনেশিয়া; Venice Lagoon — ইতালি; Maldives-এর অ্যাটল লেগুনগুলো।
৩৭. 🌊 সমুদ্র — Sea
সমুদ্র হলো মহাসাগরের তুলনামূলকভাবে ছোট ও আংশিকভাবে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত লবণাক্ত জলভাগ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ, জলবায়ু ও মানুষের অর্থনীতিতে সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
উদাহরণ: আরব সাগর — ভারত মহাসাগরের অংশ; ভূমধ্যসাগর — ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মাঝে; ক্যারিবিয়ান সাগর — আটলান্টিক মহাসাগরের অংশ।
৩৮. 🌐 মহাসাগর — Ocean
মহাসাগর হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম লবণাক্ত জলভাগ। পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় ৭১% অংশ জল দ্বারা আবৃত এবং মহাসাগর পৃথিবীর জলবায়ু, তাপমাত্রা, জলচক্র ও সামুদ্রিক জীবনের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলে।
উদাহরণ: প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর এবং আর্কটিক মহাসাগর।
---
🌎 সহজে মনে রাখার একটি সম্পর্ক
পাহাড় → হিমবাহ/ঝরনা → নদী → সমতলভূমি → বদ্বীপ → সমুদ্র → মহাসাগর
আবার অন্যদিকে—
সমুদ্র → উপকূল → সৈকত → উপদ্বীপ/অন্তরীপ → দ্বীপ → দ্বীপপুঞ্জ → অ্যাটল → লেগুন
আর শুষ্ক অঞ্চলে—
মরুভূমি → বালিয়াড়ি → মরূদ্যান
এইভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন ভূপ্রকৃতি আসলে একে অপরের সঙ্গে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, পানি, জলবায়ু, ক্ষয় ও পলি সঞ্চয়ের মাধ্যমে গভীরভাবে সম্পর্কিত।