18/03/2026
আবু লাহাবের দুই ছেলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই মেয়ের এঙ্গেইজমেন্ট হয়েছিলো!
নবুওয়াত লাভের আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই উতবা এবং উতাইবার সাথে তাঁর মেয়ে রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুমের বিয়ে হয়।
সেই যুগে এরকম বিয়ে খুব স্বাভাবিক ছিলো।
ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিয়ে হয় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার কে ছিলেন?
চাচা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচাতো ভাই আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
তেমনি তাঁর চাচা আবু তালিবের দুই ছেলে অর্থাৎ তাঁর চাচাতো ভাইদের সাথে মেয়ের বিয়ে 'ঠিক' হয়।
এখান থেকে বুঝা যায় নবুওয়াত লাভের আগে আবু লাহাবের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিলো।
কিন্তু, নবুওয়াত লাভের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পাবলিকলি দ্বীনের দাওয়াত দিলেন, তখন সবার আগে বিরোধিতা করে তার চাচা আবু লাহাব!
আমাদের সময় দেখা যায় ছোটোবেলা থেকে মা-বাবা ছেলে-মেয়ের বিয়ে ঠিক করে। বন্ধুর, আত্মীয়ের সন্তানের সাথে বিয়ে দিবে।
তৎকালীন আরবেও এই কালচার ছিলো। উপরের দুটো উদাহরণের পাশাপাশি ক্ল্যাসিক্যাল আরেকটি উদাহরণ দেখা যায়— আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উদাহরণ।
তাঁর প্রথমে এঙ্গেইজমেন্ট (বিয়ের কথাবার্তা) হয়েছিলো যুবাইর ইবনে মুতইমের সাথে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে (খাওলা বিনতে হাকিম রাদিয়াল্লাহু আনহার মাধ্যমে) যখন আবু বকর মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব পান, তখন তিনি ছুটে গেলেন মুতইম ইবনে আদির বাড়ি।
কারণ, তাদের সাথে বিয়ের কথা দেয়া।
গিয়ে শুনতে পান তারাই এই বিয়ে বাতিল করার জন্য আলোচনা করছে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু যে কারণে এসেছিলেন, সেটা সফল হয়ে যায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে রুকাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহার উদাহরণ থেকেও বুঝা যায়— তাদের এঙ্গেইজমেন্টের সময় বয়স ১০ এর নিচে ছিলো।
সূরা লাহাব নাযিলের পর আবু লাহাব তার ছেলেদেরকে চাপ প্রয়োগ করে, তারা যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়েদেরকে তালাক দেয়।
উতবা রুকাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তালাক দেয়।
উতাইবা উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তালাক দেয়।
উতাইবা শুধুমাত্র বিয়ে বাতিলই করেনি, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার চাচাতো ভাইকে কষ্ট দেয়ার জন্য তাকে গিয়ে বলে— আমি যেভাবে তোমার মেয়েকে তালাক দিলাম, তেমনি তোমার ধর্মকেও অস্বীকার করলাম।
এই বলে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে থুথু ফেললো! যদিও সেই থুথু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর পড়েনি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বিরুদ্ধে বদদুআ করেন।
উতাইবা কিছুদিন পর একটা বাণিজ্যিক সফরে যায়। যাত্রাপথে এক জায়গায় বিশ্রাম নেয়ার সময় একটা সিংহ আসে। কাফেলার সবাই ভয়ে কাপছে। কিন্তু, সেই সিংহ আর কাউকে টাচ না করে উতাইবা নিয়ে খেয়ে ফেলে!
এই হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বেয়াদবির শাস্তি।
রুকাইয়া আর উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহুন্নার কথা চিন্তা করুন।
তাদের জীবনে এটা কতো বড় ট্রাজেডি ছিলো। ইসলাম গ্রহণের কারণে, বাবা নবী হবার কারণে তাদের বিয়ে ভেঙ্গে যায়!
পরবর্তীতে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে রুকাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেন।
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহার খালা সা'দা বিনতে কুরাইজ তার বোনপোর বিয়ে উপলক্ষে একটি কবিতা লিখেন। বাংলাভাষী একজন কবি সেই কবিতার অনুবাদও করেন।
উসমান ও রুকাইয়া এই দম্পতি উম্মতে মুহাম্মদির মধ্যে এজ এ কাপল সর্বপ্রথম হিজরত করেন।
তারা মক্কা ছেড়ে চলে যান আবিসিনিয়ায়।
বদর যুদ্ধে মুসলিমরস জয়লাভ করে। মদীনার সবাই ইসলামের প্রথম বড় সামরিক বিজয় উদযাপন করছে, শুকরিয়া আদায় করছে।
সেইদিনই ঘটে এক ট্রাজিক ঘটনা।
রুকাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা এইদিন ইন্তেকাল করেন!
উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহা, যার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো উতাইবার সাথে। যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বেয়াদবি করে।
রুকাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহার ইন্তেকালের পর সেই উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
উতাইবার সাথে বিচ্ছেদের অন্তত ১২ বছর পর উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহার বিয়ে হয় সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে লজ্জাশীল উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে।
উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহার জায়গা থেকে চিন্তা করুন। তাঁর বোনেরও বিয়ে ভেঙ্গেছিলো, কিন্তু বোনের বিয়ে হয় সেরা মানুষের সাথে। আর তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১২ বছর।
১২ বছর অপেক্ষার পর জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীর সাথে তাঁর সংসারজীবন ছিলো মাত্র ৬ বছরের।
নবম হিজরিতে উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহা ইন্তেকাল করেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই মেয়েকে বিয়ে করে 'যুন-নুরাইন' উপাধি পাওয়া উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ৬ বছরের ব্যবধানে হারান এই দুই নূর!
আর এই দুজনকে বিয়ে করার সুযোগ পেয়েও নিজেদের ইগোর কারণে সুযোগ হাতছাড়া করেছিলো উতবা ও উতাইবা!
উতাইবা কাফির অবস্থায় মারা গেলেও উতবা মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করে।
লেখক - আরিফুল ইসলাম