07/10/2025
SSW ভিসায় জাপানের টপ টেন প্রিফেকচার যেখানে বিদেশি কর্মী সবচেয়ে বেশি।
SSW ভিসায় বিদেশিদের গমন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক দ্রুত বাড়ছে।
শুধু গত এক বছরে (২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত)
বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮৪ হাজার জন!
এক বছর আগে যেখানে মোট সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার (251,747 জন),
সেখানে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি (336,196 জন)।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই সংখ্যা ছিল ২,৮৪,৪৬৬ জন,
অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসেই প্রায় ৫০,০০০ জন নতুন কর্মী যুক্ত হয়েছে।
এখন চলুন দেখি— জাপানের কোন প্রিফেকচারে সবচেয়ে বেশি SSW বিদেশি কর্মী আছেন।
১. 愛知県 (Aichi)
আইচি প্রিফেকচারই এখন SSW বিদেশিদের নাম্বার ওয়ান কর্মস্থল।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এখানে মোট ২৬,২০৯ জন (৭.৮%) কাজ করছেন।
শুধু গত ছয় মাসে বেড়েছে ৩,৭২৬ জন,
আর এক বছরে প্রায় ৫,৫০০ জনেরও বেশি।
আইচির প্রধান শহর নাগোয়া (Nagoya) —
এখানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক শিক্ষার্থী ল্যাংগুয়েজ স্কুলে পড়ে।
কারণ পড়াশোনা শেষে এখানেই সহজে জব পাওয়া যায়।
বিশেষ করে Toyota, Nissan, Mitsubishi—সব গাড়ি কোম্পানির
ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট আইচিতেই অবস্থিত।
২. 東京都 (Tokyo)
রাজধানী টোকিও এখন বিদেশি কর্মীদের দ্বিতীয় বড় গন্তব্য।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত SSW কর্মী সংখ্যা ২২,৬০৫ জন (৬.৭%),
যা এক বছরে বেড়েছে ৪,০৪৭ জন।
টোকিওর শিন-ওকুবো (Shin-Ōkubo) ও হিগাশি জুজো (Higashi-Jūjō)
এলাকাগুলোতে প্রচুর বাংলাদেশি থাকে।
এখানে আপনি পাবেন বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি শপ, রেস্টুরেন্ট—
এক কথায় “মিনি ঢাকা” বলা যায়।
হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কনস্ট্রাকশন, ক্লিনিং—সব সেক্টরেই এখানে কাজের সুযোগ প্রচুর।
৩. 大阪府 (Osaka)
কানসাই অঞ্চলের কেন্দ্রীয় শহর ওসাকাতেও
বিদেশিদের সংখ্যা এখন ২২,৪৬৫ জন (৬.৭%)।
মাত্র এক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩,৪২০ জন।
উল্লেখ্য ওসাকা শহর জাপানের সবচেয়ে প্রাণবন্ত নগরীগুলোর একটি।
এখানে রয়েছে দোতোনবোরি (Dotonbori) আর ওসাকা ক্যাসল,
যা প্রতি বছর লাখো পর্যটককে টানে।
খাবার, ফ্যাক্টরি, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এখন বিদেশি কর্মীদের দারুণ চাহিদা।
২০২৫ সালের ওসাকা এক্সপো ঘিরে এই অঞ্চলে নিয়োগ আরও বাড়ছে।
৪. 千葉県 (Chiba)
এয়ারপোর্ট ও সমুদ্রবন্দর থাকার কারণে চিবা এখন কর্মসংস্থানের জনপ্রিয় কেন্দ্র।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ২০,৭৬৪ জন (৬.৪%) SSW কর্মী আছেন।
এক বছরে বেড়েছে ৩,১৩৭ জন।
চিবার নারিতা (Narita) শহরেই রয়েছে টোকিওর প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।এখানে যারা থাকে তাদের জন্য বাংলাদেশে ফেরা সবচেয়ে ইজি।
এখানে ফুড ফ্যাক্টরি, হোটেল, কৃষি ও লজিস্টিক সেক্টরে প্রচুর কাজের সুযোগ।
অনেক বিদেশি নারিতার আশপাশে বসবাস করেন, কারণ যাতায়াত সহজ ও ভাড়া তুলনামূলক কম।
৫. 埼玉県 (Saitama)
টোকিওর পাশের এই শহর অনেক বিদেশির বসবাসের এলাকা হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ২০,২২৬ জন (৬.০%),
এক বছরে নতুন যুক্ত হয়েছে ৩,২৬১ জন।
উল্লেখ্য আমার জানামতে সাইতামাতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি রা থাকে।
প্রায় প্রতি গলিতে গলিতে কোথাও না কোথাও বাঙালি পাবেনই আপনি!
এখানে অনেকেই ফ্যাক্টরি, গাইশোকু (রেস্টুরেন্ট), ও ফুড প্রোডাকশন সেক্টরে কাজ করেন।
বসবাসের জন্য সাইতামা এখন বাংলাদেশিদের অন্যতম নিরাপদ ও জনপ্রিয় স্থান।
৬. 神奈川県 (Kanagawa)
ইয়োকোহামা ও কাওয়াসাকি মিলিয়ে কানাগাওয়া এখন টোকিওর বিকল্প শিল্পাঞ্চল।
মোট কর্মী ২০,২২২ জন (৬.০%),
এক বছরে বেড়েছে ২,৭৮৮ জন।
উল্লেখ্য কানাগাওয়ার ইয়োকোহামা (Yokohama) শহরটি জাপানের অন্যতম আধুনিক বন্দরনগরী।
এখানে রয়েছে সুন্দর মিনাতোমিরাই (Minato Mirai) এলাকা ও ফেরিস হুইল,
যা পর্যটক এবং স্থানীয় উভয়ের কাছেই প্রিয়।
ইঞ্জিনিয়ারিং, মেশিনারি ও সার্ভিস সেক্টর এখানে মূল নিয়োগদাতা।
৭. 北海道 (Hokkaido)
বরফে ঢাকা উত্তরের দ্বীপ হলেও এখন কৃষি ও পর্যটনের কেন্দ্র।
মোট কর্মী ১৪,৬৯৭ জন (৪.৪%),
এক বছরে বেড়েছে ১,৮৯৬ জন।
উল্লেখ্য হোক্কাইডোর সাপ্পোরো (Sapporo) শহরটি জাপানের সবচেয়ে ঠান্ডা কিন্তু সুন্দর শহরগুলোর একটি।
এখানে স্নো ফেস্টিভ্যাল বিশ্বের বিখ্যাত অনুষ্ঠান।
ফার্ম, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয় শীতকালীন মৌসুমে।
৮. 兵庫県 (Hyogo)
কানসাই অঞ্চলের এই প্রিফেকচারে বর্তমানে ১৫,৩৮০ জন (৪.৬%) কাজ করছেন।
বছরে নতুন যোগ হয়েছে ১,৮৬৩ জন।
উল্লেখ্য হিয়োগো প্রিফেকচারের কোবে (Kobe) শহরটি তার বিখ্যাত
Kobe Beef ও সুন্দর সমুদ্রবন্দর দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
এখানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও শিল্প উৎপাদন সেক্টর খুবই শক্তিশালী।
৯. 福岡県 (Fukuoka)
কিউশু অঞ্চলের কেন্দ্র, যেখানে মোট ১২,০৩১ জন (৩.৫%) কর্মরত।
বছরে নতুন যোগ হয়েছে ১,৭৫৬ জন।
ফুকুওকার হাকাতা (Hakata) শহরটি দক্ষিণ জাপানের প্রধান গেটওয়ে।
এখানে বিখ্যাত Hakata Ramen খাবারের উৎপত্তি।
নির্মাণ, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেক্টরে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয় এখানে।
১০.宮城県 (Miyagi)
তোহোকু অঞ্চলের অন্যতম কর্মসংস্থান কেন্দ্র।
বর্তমানে ১১,৮৫৭ জন (৩.৫%) SSW কর্মী আছেন।
মিয়াগির সেনদাই (Sendai) শহরটি “তোহোকুর রাজধানী” নামে পরিচিত।
এখানে কৃষি, নির্মাণ ও ফুড প্রোসেসিং সেক্টরে বিদেশিদের চাহিদা বাড়ছে।
সেনদাই তার তানাবাতা উৎসব (Tanabata Matsuri) ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
その他 (অন্যান্য প্রিফেকচার)
“অন্যান্য” নামে উল্লেখ করা প্রিফেকচারগুলো মিলিয়ে
বিদেশি কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি — ১৪৭,৮৬২ জন (৪৪%)।
এগুলোর মধ্যে ছোট শহর, গ্রাম ও স্থানীয় ফ্যাক্টরি অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত।
সব কথার মূল সামারি হোলো-
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত জাপানে SSW ভিসায় কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে
সবচেয়ে বেশি আছেন Aichi, Tokyo ও Osaka প্রিফেকচারে।
এই তিন অঞ্চলেই শিল্প, কারখানা, রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও নির্মাণ কাজ সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া Chiba, Saitama, Kanagawa–তেও বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
অর্থাৎ, জাপানের “Greater Tokyo Area” এখন SSW বিদেশিদের প্রধান কর্মস্থল।
সুতরাং SSW ভিসাকে ছোট করে দেখার কোনো কারন ই নাই।
#জাপানে_কাজ #জাপান_তথ্য