14/06/2020
আলহামদুলিল্লাহ৷ আমাদের জামেয়ায় সকল জামাতে ভর্তি কোটা শেষের পথে৷ ফোনে দরস শুরু হয়ে গিয়েছে৷ যারা ভর্তি হননি তারা ভর্তি যোগ্যতা যাচাই করত: দরসে অংশগ্রহণ করার এখনো সুযোগ রয়েছে৷
একটি উন্নত ও উচ্চমান সম্পন্ন দীনি শিক?
14/06/2020
আলহামদুলিল্লাহ৷ আমাদের জামেয়ায় সকল জামাতে ভর্তি কোটা শেষের পথে৷ ফোনে দরস শুরু হয়ে গিয়েছে৷ যারা ভর্তি হননি তারা ভর্তি যোগ্যতা যাচাই করত: দরসে অংশগ্রহণ করার এখনো সুযোগ রয়েছে৷
09/06/2020
√ জামিয়াতুল ইহসান আল আরাবিয়া ঢাকা। একটি উচ্চমানসম্পন্ন বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধান ও তরুণ একঝাঁক মেধাবী আন্তরিক ঐকান্তিক আসাতিযায়ে কেরামের মেহনতে পরিচালিত৷ বয়সে নবীন হলেও তাঁরা ইলম আমলে পরিপক্ক৷
√ জামেয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, বাইতুল উলুম ঢালকানগর, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া ও বাইতুন নূরের ফুজালা সহ দেশর নামকরা প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সিরিয়ালের ফুযালাগণ নিরলসভাবে তাদরীস দিয়ে যাচ্ছেন(আলহামদুলিল্লাহ)৷
√ আলহামদুলিল্লাহ, গত বছরই এর শুভ যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম বছরেই শরহে বেকায়া পর্যন্ত খোলা হয়েছে। আল্লাহর মেহেরবানীতে, ভালো ও মেধাবী ছাত্রদের শুভাগমন এবং আসাতিযায়ে কেরামের দরদমাখা পরিশ্রমের ফলে বছর শেষে আশানুরূপ সাফল্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
√ নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশের এই ইলমী কাননে এ বছর জালালাইন জামাতও খোলা হয়েছে। আশা করি, আল্লাহ তায়ালা গত বছরের ন্যায় এবারও আশাতীত সাফল্য দান করবেন।
অভিভাবকগন সন্তানের ভবিষ্যৎ বিনির্মানে এ প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করতে পারেন চোখ বুঝেই৷
👉যোগাযোগ__
ভর্তি : 01745873596/+8801625141488/01856964743
👉আমাদের বিভাগসমূহ__
#কুরআন_শিক্ষা_বিভাগ
১. হিফজুল কুরআন
২. নাজেরা
#নৃূরানী
#কিতাব_বিভাগ
ইবতেদায়ী-জালালাইন
👉ফি__
▶️ ভর্তি ও আনুষাঙ্গিক
☑️ফরম : ৫০৳
☑️ভর্তি : ১০০০৳
☑️এক কালীন: ১০০০
√ ছাত্রকল্যান ফান্ড: ২০০
মোট: ২২৫০ টাকা মাত্র
👉যাতায়াত__
☑️ঢাকার যে কোনো স্থান থেকে ডেমরা রোড দিয়ে মেরাদিয়ার পর ত্রিমোহনি প্রথম ব্রিজ নেমে হাজিবাড়ি মোড় কবরস্থান সংলগ্ন৷
#সীমিত #কোটায় #ভর্তি #চলছে
জামিয়াতুল ইহসান আল আরাবিয়া ঢাকা
---------------------------------------------
[দ্বীনি স্বার্থে পোষ্টটি ছড়িয়ে যাক সবার কাছে]
জামি'আতুল ইহসান । ইলমে কাননের এক নতুন পুষ্পোদ্যানের কথা বলছি । প্রিয়দের হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠান দেখে কিছুটা হলেও তৃপ্তির ঢেকুর গিলছি। সর্বদা হৃদয়ে এরকম এক ইলমী বাগানেকে অনুভব করতাম যাতে আসবে নতুন নতুন মালী। আর তাতে ফুটবে অনেক ফুল । ফুটবে লাল গোলাপ । যেখানের প্রতিজন মালী নিজের সবটুকু আবেগ, ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে সর্বদা যুগোপযোগী আলেম গড়ার জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করবেন। হৃদয়ের সেই তড়প কিছুটা হলেও কমেছে । শুকরিয়া আল্লাহর ।
নূরানী, মক্তব ও হিফজ বিভাগে অভাবনীয় সাফল্য লাভের পর মুহাক্কিক, যোগ্য এবং আলেমে হক্কানী, রব্বানী গড়ার ও গতানুগতিক পাঠদান ধারার পরিবর্তে ফন্নী ইস্তি'দাদ(যোগ্যতা) ওয়ালা আলেম তৈরির এক দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এক ঝাঁক প্রবীণ ও মেধাবী তরুণদের নিয়ে গড়া এই ইলমী ইদারা। যাতে ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাতের সাথে নিজেদের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে মেহনত ও মুজাহাদার সাথে সর্বদা নেগরানী করা হবে ইনশাআল্লাহ। দোআ করি রাব্বেকারীম এই প্রতিষ্ঠানকে কবুল করেন। এবং তার প্রত্যেক ওস্তাদকেও কবুল করেন।
যুগের বাতিলের মুকাবিলায় তার এক একজন হকের ধারক বাহক দাঁড় করিয়ে দেন। এবং এই ইদারাকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যান।
যেসব বিভাগে ভর্তি চলছে-
১- কিতাব (তাইসির জামাত থেকে জালালাইন পর্যন্ত)
২- হিফজ, নাজেরা
৩- নূরানী বিভাগ
যোগাযোগ ঃ-01745873596/01797246486
#করোনা #আমল
শায়খ #মুফতী_হাফীজুদ্দীন সাহেবের পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য ‘করোনা’ ভাইরাস ও অন্যান্য বালা-মুসীবত থেকে হেফাযত ও মুক্তির আমল:
আল্লাহ তাআলা এই ভাইরাস থেকে আমাদেরকে, সকল আপনজন-প্রিয়জনকে এবং সমস্ত মুসলমানকে হেফাযত করুন। সারা জাহান থেকে এ বালা-মুসীবত দূর করে দিন। আমীন।
১. বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করা।
২. لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ (লা ইলাহা ইল্লা আন্তা ছুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাযযা-লিমীন) বেশি বেশি পড়তে থাকা।
৩. يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، بِرَحْمَتِكَ أسْتَغِيثُ (ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূম্ বি রাহমাতিকা আস্তাগীছ) বেশি বেশি পড়তে থাকা।
৪. চলতে ফিরতে মাঝে মাঝে يَا سَلَامُ يَا سَلَامُ (ইয়া সালামু ইয়া সালামু) পড়তে থাকা।
৫. حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ (হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল) বেশি বেশি পড়তে থাকা।
৬. لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ (লা হাওলা ওয়ালা কুও ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) বেশি বেশি পড়তে থাকা।
৭. أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ বেশি বেশি পড়তে থাকা।
৮. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَسَيِّئِ الْأَسْقَامِ (আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল বারাচি ওয়াল-জুনূনি ওয়াল-জুযামি ওয়া ছায়্যিইল আছকামি) বেশি বেশি পড়তে থাকা।
৯. فسهل يا إلهي كل صعب بحرمة سيد الأبرار سهل (ফাছাহ্হিল ইয়া ইলাহি কুল্লা চা’-বিন্ বি হুরমাতি সায়্যিদিল্ আবরারি ছাহ্হিল) পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর ৭ বার করে পড়া।
১০. দরূদ শরীফ বেশি বেশি পড়তে থাকা। বিশেষ করে নিম্নোক্ত দরূদে তুনাজ্জীনা’ প্রতিদিন সকাল সন্ধায় সাতবার করে পড়া।
اللهم صل على سيدنا محمد وعلى آل سيدنا محمد وسلم صلاة تنجينا بها من جميع الأهوال والآفات. وتقضى لنا بها جميع الحاجات. وتطهرنا بها من جميع السيئات. وترفعنا بها عندك أعلى الدرجات. وتبلغنا بها أقصى الغايات من جميع الخيرات فى الحياة وبعد الممات.
১১. আল্লাহ তাআলার নিকট বেশি বেশি দুআ করতে থাকা। দুআ হলো সবচেয়ে বড় তদবীর।
১২. বেশি বেশি আল্লাহ পাকের যিকির করতে থাকা।
১৩. নশরুত-তীব’ কিতাবটি প্রতিদিন অল্প অল্প করে সকলে পড়ার চেষ্টা করা। এটাও হতে পারে যে, একজন পড়বে, কয়েকজন মিলে শোনবে। চাই পরিমাণে অল্প হোক।
১৪. সবর করা ও আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হতে থাকা।
১৫. দান-সাদকা করতে থাকা। প্রতিদিনই কিছু কিছু দান করা।
১৬. গুনাহের কাজ, গুনাহের আড্ডা ও গুনাহের পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। খুব লক্ষণীয় যে, এই সঙ্কটের সবচেয়ে বড় সমাধান হলো তাকওয়া ও তাওবা। তাকওয়া ও তাওবাকে মজবুতভাবে ধরা। তাই সকল পাপ থেকে বিশেষ করে কুদৃষ্টি, বেহায়াপনা, জিনা-ব্যভিচার, মদপান, গান বাজনা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত হওয়া ও তাওবা করা। বস্তুত আল্লাহর ভয় অর্জন এবং তাঁর নাফরমানি থেকে বিরত থাকাই মূল সমাধান।
এ ছাড়া নিম্নোক্ত আমলগুলো করা যেতে পারে।
ক. ৩ বার সূরা ফাতেহা, ৩ বার ফালাক, ৩ বার সূরা নাস পড়া।
খ. ৩ বার সূলা ইখলাস পড়া।
গ. ৩১৩ বার حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ (হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল) পড়া।
সৌজন্যে: পীরে কামেল, শায়খে তরীকত হযরত মাওলানা মুফতী হাফীজুদ্দীন দা.বা.
খলিফা, ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আস'আদ মাদানী রহ.
23/03/2020
16/12/2019
সূরা আন নসর তথা স্বর্গীয় সাহায্য বা বিজয়। আল কোরআনের ১১০ তম এই মাদানী সূরায় দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সাহায্যের ফলস্বরূপ বিজয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আল ফুরকানের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ ভাবে নাজিল হওয়া সূরা বলা হয় সূরা নসরকে। এই সূরার প্রেক্ষাপটে কিছু হাদীস পাওয়া যায় তন্মধ্যে দুইটি কথা সুস্পষ্ট (ক) রাসুলুল্লাহ সাঃ যে মিশন নিয়ে দুনিয়ায় এসেছিলেন তার পূর্ণতায় দুনিয়াবি পাঠ চুকানোর ইঙ্গিত (খ) আল্লাহর অনুগ্রহ। সুতারাং এই দুইয়ের কম্বিনেশন হলো বিজয়।
হযরত উমর (রঃ) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন সূরা নসর সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী? জবাবে সাহাবীদের অনেকে বলেন, "এ সূরায় আমাদের প্রতি হুকুম হলো যখন আল্লাহর সাহায্য আসে এবং আমরা বিজয় লাভ করি তখন আমাদের আল্লাহর হামদ ও এস্তেগফার পাঠ করা উচিৎ।" কেউ কেউ বললেন, " শহর ও দূর্গসমূহ জয়ের কথা বলা হয়েছে।" ঐ বৈঠকে উপস্থিত থাকা হযরত ইবনে আব্বাস (রঃ) বললেন, " রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর ওফাতের কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।"
এই সূরার প্রেক্ষাপটে সর্বজনবিদিত মতামত হলো, যখন দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ তথা সাহায্য আসে এবং আমরা বিজয় লাভ করি তখন সেই রাহমানুর রাহীমের কাছে শোকরিয়া জ্ঞাপন করা তথা হামদ ও এস্তেগফার পাঠ করা উচিৎ।
আলহামদুলিল্লাহ, ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বহু আকাঙ্ক্ষিত বিজয় পেয়েছি। ২৪ বছরের যাতনা থেকে মুক্ত হওয়ার তাড়না ঘোষিত হয়েছিলো ৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠে। বঙ্গবন্ধুর ১৮ মিনিটের অগ্নি ঝরা বক্তব্যে ছিলো "ইনশাআল্লাহ" কথাটি অর্থাৎ আল্লাহ যদি চান আমরা বিজয়ী হবো। দয়াময় আল্লাহ আমাদেরকে অনুগ্রহ করে বিজয় দান করেছেন এখন আমাদের উপর গুরু দায়িত্ব সেই বিজয়কে সমুন্নত রাখা; তাঁর প্রশংসা করা, তাঁর মুখাপেক্ষী থাকা, কাজে কর্মে চিন্তা-চেতনায় তাঁকে ভয় করা তবে আমাদেরকে তিঁনি আরও বরকতময় নেয়ামত দিয়ে ভরপুর করে দিবেন।
যাঁদের মহান আত্মত্যাগ ও বিসর্জনের মাধ্যমে আজকের এই মহিমান্বিত বিজয়; জন্ম নিলো একটি স্বাধীন দেশ, পৃথিবীর মানচিত্রে আঁকা হলো লাল-সবুজের সমুজ্জল পতাকা, পেয়েছি মুক্ত নিঃশ্বাসের চেতনা দীপ্ত সার্বভৌম ভূখণ্ড; সেই সকল মহান শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, সালাম, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। দয়াময় আল্লাহ আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোক। অশেষ কৃতজ্ঞতা তোঁমাদের প্রতি যাঁরা গাজী হয়ে স্বাধীন স্বপ্নের পতাকা উড়িয়েছিলে মুক্ত আকাশে।
ছবি: সংগৃহীত
কেমন ছিল সমগ্র দুনিয়ার নবী, সর্বকালের শ্রেষ্ঠতর মানব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর দৈনন্দিন রুটিন?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগার পর সাহাবীদের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করতেন। নামাজের স্থানে বসেই সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত আল্লাহর স্মরণ ও দোয়া করতে থাকতেন। (মুসলিম ৬৭০)
সাহাবিরাও তাঁর সঙ্গে অবস্থান করতেন। কখনো কখনো তারা জাহিলিয়াতের ঘটনা বলাবলি করে হাসাহাসি করতেন, রাসুলও তাদের কথায় মুচকি হাসতেন। নিজে রাতে স্বপ্ন দেখে থাকলে তা সাহাবিদের বলতেন কিম্বা কোনও সাহাবি নিজের স্বপ্ন বললে তিনি এর ব্যাখ্যা করতেন।
রাতে কোরআনের কোনও অংশ নাজিল হলে তাও শোনাতেন। সাহাবিদের কারো প্রশ্ন থাকলে এর উত্তর প্রদান শেষে ঘরে ফিরে যেতেন। ঘরে ফিরে চার রাকাত কিম্বা এরচে' বেশি পরিমাণে দোহার সালাত আদায় করতেন। (মুসলিম ৭১৯)
তিনি নিজের ঘরকন্নার সব কাজেই শামিল হতেন। অন্য সব পুরুষেরা নিজের সংসারের জন্য যা করে তিনি এর সবই করতেন। এমনকি নিজের তুচ্ছাতিতুচ্ছ কাজও নিজেই সম্পন্ন করতে কখনোই দ্বিধা করেন নি।
যেমন তিনি দুধ দোহাতেন, ছিঁড়ে যাওয়া জামায় তালি দিতেন, ছেঁড়া জুতো সেলাই করতেন। নিজের পরিধেয় জামা নিজেই কাঁচতেন। (আহমাদ ২৬১৯৪)
এরপর জোহরের নামাজের সময় এলে মসজিদের দিকে বেরুতেন৷ নামাজের শেষে সাহাবিদের সঙ্গে বসতেন, আলাপ করতেন, নসিহত করতেন। অভিযোগ শুনতেন, বিচারকার্য সম্পাদনা করতেন। পুনরায় ঘরে ফিরে যেতেন।
তিনি ছিলেন নবী এবং দায়ী৷ একইসঙ্গে ছিলেন দায়িত্ববান স্বামী, পিতা এবং নেতা। পরিবার প্রধান হিসেবে পরিবারের জন্য যা প্রয়োজন তিনি এর সবই আঞ্জাম দিতেন। ( বুখারী ৬৭৬)
খাবারের ব্যাপারে তাঁর অভ্যেস ছিল কোনও খাবারের দোষ ধরতেন না। ইচ্ছে হলে খেতেন। নতুবা রেখে দিতেন। এমনও সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন মাস পেরিয়ে গেছে অথচ ঘরে খাবার বলতে শুধু খেজুর আর পানি৷
একবার তো এই অবস্থা টানা তিন চন্দ্রমাস অবধি ছিল৷ তবুও অসন্তোষের, দুশ্চিন্তার সামান্যতম কিছুই তাঁরমধ্যে পরিলক্ষিত হয় নি কখনো। (বুখারী ৩৫৬৩, মুসলিম ২০৬৪)
সেকালে সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যাতেই আহার করা হতো। আমাদের মত তিনিবেলা খাওয়ার রীতি ছিল না। সকালে ও সব্ধ্যায় তিনি নবীয পান করতেন। সাধারণত দুপুরে অল্প সময়ের জন্য ঘুমোতেন। মানে ভাতঘুম আরকি। যেন রাতে অধিক ইবাদাত করতে পারেন। (আল-আওসাত, ২৮)
তিনি প্রায়শই বিকেলে লোকেদের দৈনন্দিন জীবনের খোঁজখবর নিতে বেরুতেন। বাজার পরিদর্শনে যেতেন। অসুস্থদের খোঁজখবর নিতে স্বশরীরে উপস্থিত হতেন। লোকেদের দাওয়াত থাকলে কবুল করতেন। (বায়হাক্বী ২০৮৫১, মুসলিম, ১০২)
তাঁর দিনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হয়েছে লোকেদের দ্বীনের দিকে আহ্বান করে। মানুষের অধিকারের পক্ষে কাজ করে, প্রয়োজন সম্পন্ন করে। ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের মধ্য দিয়ে।
তিনি কথা বলতেন অল্প, আল্লাহর জিকির করতেন বেশি। নামাজ দীর্ঘায়িত করতেন। অসহায় ও দূর্বলের কোনও প্রয়োজন পূরণ করার চেয়ে অধিক তৃপ্ত হতে তাঁকে আর কিছুতেই দেখা যায় নি। (নাসাঈ, ১৪১৪)
ঈশার নামাজের পর মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনও বিষয় থাকলে প্রবীণ, প্রাজ্ঞ ও বিজ্ঞ সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। নতুবা পরিবারকে কিছুটা সময় দিতেন। (তিরনিযী, ১৬৯; আহমাদ ১৭৮)
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল মেজাজের মানুষ। লোকেদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার ছিল কোমলতর। তিনি খরচের ব্যাপারে ছিলেন মুক্তহস্ত।
যে স্ত্রীর কামরায় রাত যাপন করবেন, ইশার পর সেখানে তাঁর বাকি স্ত্রীগণও জড়ো হতেন। রাসুল তাঁদের সঙ্গে খুনসুটি করতেন, আড্ডা হত। কখনো কখনো একত্রে সন্ধ্যার নাশতা করতেন। এরপর আম্মাজানদের প্রত্যেকে তাঁর স্ব স্ব কামরায় ফিরে যেতেন।
তিনি এক চাদরের নিচেই স্বস্ত্রীক রাত্রীযাপন করতেন। শোবার সময় সাধারণত উপরের জামা খুলে নিতেন। লুঙ্গি পরিধান করে ঘুমোতেন। (তাফসিরে ইবনে কাসীর, ২/২৪২)
রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে জাগ্রত হতেন। মিসওয়াক, ওযু শেষে রাতের বাকি অংশ ইবাদাত করতেন। বিলাল রা. আজান দিলে আরও দুই রাকাত সালাত আদায় শেষে মসজিদে যেতেন। (আবু দাউদ ৫৬, বুখারী ৪৫৬৯, মুসলিম ৭৬৩)
তাঁর অভ্যেস ছিল তিনি ছোটবড়ো সকলকেই সালাম দিতেন। লোকেদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। তিনি ছিলেন বিনয়ের সর্বোচ্চ স্তরে। ধৈর্যের মূর্ত প্রতিক। ক্ষমার উজ্জ্বলতর দৃষ্টান্ত। এমন কখনো হয় নি যে, কেউ কখনো তাঁর কাছে কোনও সাহায্য চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা এই পবিত্র চরিত্রের চারিত্রিক সনদ দিয়ে কোরআনে বলছেন,
وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ
"এবং নিশ্চয় আপনি সু-মহান চরিত্রের অধিকারী।" (৬৮ঃ৪)
আমাদের যাপিত জীবন পরিচালিত হোক সেই আদর্শে। প্রতিটি কাজ হোক সেই মরু-পুরুষের পদাঙ্ক অনুসরণ করে৷ শান্তির জন্য এর বাইরে আদতে আমাদের জন্য আর কোনও পথ নেই। আমাদের আইকন, আমাদের আইডল হচ্ছেন আমাদের নবী। তাঁর জীবনী হচ্ছে আমাদের শ্রেষ্ঠ স্কুল।
💚 সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ❤
প্রিয় ইমরান রাইহান ভাই!! আপনাকে আমরণ ভালোবাসার মতো একটি কবিতা এটি। আমার বিশ্বাস এটি আপনাকে বহুকাল বাঁচিয়ে রাখবে সবার অন্তরে।
:
:
আমি দিওয়ান-ই-আমে বেজে উঠা গালিবের সেই অমর সুর,
আমি হেরাত থেকে গজনীর পথে হেটেছি বহুদূর।
আমি খোরাসান থেকে খারিজম, বিশাল উপত্যকা,
আমি ফারগানা থেকে দিল্লীর পথে বাবরের পতাকা।
আমি পলাশী থেকে মহীশুর, পরাধীনতার কাহিনী,
আমি আফগান থেকে পানিপথ, শাহ আবদালীর বাহিনী।
আমি গৌড় থেকে সোনারগাঁ, বারো ভুইঁয়ার শাসন,
আমি লালদিঘী থেকে শাপলা চত্বর, আহমদ শফীর ভাষন।
আমি রায় থেকে নিশাপুরের পথে থেমেছি সরাইখানায়,
আমি রেশম পথের দুই ধারে বসেছি গাছের ছায়ায়।
সমরকন্দের সোনালী গম্বুজে, দেখেছি রোদের ঝলক,
আল হামরার প্রাসাদ দেখে পড়েনি চোখের পলক।
আমি দামেশকের বাজারে ঘুরেছি, হাজারো মানুষের ভীড়ে,
অবশেষে ক্লান্ত পাখির ন্যায়, ফিরে গেছি নিজ নীড়ে।
আমি গজনী থেকে মুলতান, সুলতান মাহমুদের বাহিনী,
আমি কুতাইবা বিন মুসলিমের সমরকন্দ বিজয়ের কাহিনী।
আমি আটলান্টিকের তীরে দাঁড়িয়ে উকবা বিন নাফের পাশে,
হারানো ঐতিহ্যের কথা ভাবলে এখন, দু চোখে জল আসে।
আমি কর্ডোভা, বাগদাদ আর গ্রানাডার কুতুবখানা,
আমি আগ্রা থেকে লাহোরের পথে আজো হই দিওয়ানা।
আমি ইমাম বুখারীর দরসে বসেছি নব্বই হাজারের সাথে,
আমি ইলমের সন্ধানে ছুটে চলেছি মধ্য এশিয়ার পথে।
আমি হাজারো মুহাদ্দিসের দেশ 'মা ওয়ারাউন্নাহার'
চলার পথে বাধা হয়নি সাগর কিংবা পাহাড়।
আমি ইবনে খালদুনের 'মুকাদ্দিমা', সুয়ুতির 'আল ইতকান',
আমি ইয়ামানের পথে মহান তাবেয়ী ত্বউস ইবনে কায়সান।
আমি 'বায়তুল হিকমাহ'র নীরব কক্ষে বসেছি জ্ঞান সাধনায়,
আমি কায়রোর মসজিদে জায়নামাজ বিছিয়ে প্রভুর আরাধনায়।
আমি দিল্লির 'রহিমিয়া', বাগদাদের 'নিজামিয়া',
আমি ভারতমনীষা আবুল হাসান আলী মিয়া।
আমি দিল্লির কুতুবমিনারে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে দেই আজান,
আমি হেমস থেকে হিত্তিনের পথে উড়িয়ে যাই বিজয় নিশান।
আমি আবুল ফজলের তোষামোদ নই, আমি সিরহিন্দীর সাহসী উচ্চারণ,
আমি গোয়ালিয়র, আন্দামান, মাল্টা আর রেঙ্গুনে বীর মুজাহিদের কারাবরণ।
আমি আইয়ুবির 'সৈন্যবাহিনী', বলবনের 'ন্যায়পরায়ণতা '
আমি পরাধীনতার কালো আকাশে এক চিলতে স্বাধীনতা।
আমি সাদির 'গুলিস্তা', রুমির 'মসনবি' আর ফেরদৌসির 'শাহনামা',
আমি আব্দুল আজিজের সাহসী খুতবা, মাথায় বাধা আমামা।
আমি ইবনে তাইমিয়ার 'জিহাদি ফতোয়া', ইসমাইল শহীদের 'বালাকোটি চেতনা',
চে, লেনিন, মাও কিংবা ফিদেল নয়, সাইয়েদ আহমদ আমায় দেয় প্রেরণা।
আমি দজলা থেকে আমু দরিয়া, সেনাবাহিনী আগুয়ান,
আমি গাদ্দার 'আলকামা' নই, গোয়েন্দা 'আলী বিন সুফিয়ান'।
আমি নিজামুদ্দিনের খানকাহে যাই তাসাউফের সন্ধানে,
গৌড় গোবিন্দের প্রাসাদ ধ্বসে পড়ে, শাহ জালালের আজানে।
আমি তুঘলকের দরবারে কুতুবুদ্দিন মুনাওয়ারের কন্ঠ , 'আল আযমাতু লিল্লাহ',
আমি উবাইদুল্লাহ আহরারের সামনে বসা মহান সাধক 'খাজা বাকী বিল্লাহ'।
আমি আরব থেকে সিন্ধু এসেছি, মুসলিম বোনের আর্তনাদে,
রাজা দাহিরের প্রাসাদ কাপিয়েছি, 'আল্লাহু আকবার' নিনাদে।
আমি শিহাবুদ্দিন ঘুরির বাহিনী, পৃথ্বিরাজের সাথে লড়াই,
আল্লাহর উপর ভরসা করেছি, কখনো করিনি বড়াই।
আমি গজনী থেকে সোমনাথ, সুলতান মাহমুদের বাহিনী,
আমি ইখতিয়ারউদ্দিনের হাতে, নদীয়া বিজয়ের কাহিনী।
আমি জ্ঞানের মশাল জ্বালি, দূর করি অজ্ঞতার আঁধার,
আমি 'রুহবানুন ফিল লাইল, ওয়া ফুরসানুন ফিন নাহার'।
আমি ওয়ালিউল্লাহর হাদিসের সনদ,শাহ জাফরের কবিতা,
ষড়যন্ত্র কিংবা গাদ্দারী নয়, আমার অস্ত্র সরলতা ।
আমি ফজলে হক খয়রাবাদী, কাফনের কাপড়ে লিখি আজাদির ইতিহাস,
আমি দেওবন্দ, নদওয়া আর সাহারানপুরে হাদিস পড়ি বারোমাস।
আমি 'ঝড়োকা বারান্দা'য় দাঁড়িয়ে স্বাধীন সূর্য দেখি,
আমি 'রেশমি রুমালে' হাজারো গোপন বার্তা লেখি।
আমি ইলিয়াসের 'তাবলিগি মেহনত', থানভির 'তাজকিয়া',
আমি মাদানির 'জিহাদ', গাংগুহির 'ফতোয়ায়ে রশিদিয়া'।
আমি ইলমের পাহারাদার, নজর রাখি সবার উপর,
বিদাত কিংবা ইলহাদ, ঢুকতে দিই না দ্বীনের ভেতর।
ঈদুল আযহার ছুটি শেষে
আগামী শুক্রবার ২৩ আগস্ট জামিয়া খুলছে
-------------------------------
জামিয়ার সকল শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি ২৩ আগস্ট, ২০১৯ সমাপ্ত হবে। এবং ২৪ আগস্ট শনিবার হতে জামিয়ার সকল বিভাগের ক্লাস যথারীতি চলবে।
অতএব আগামী ২৩ আগস্ট, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার পূর্বে সকল শিক্ষার্থীদেরকে জামিয়ায় উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ
01/07/2019
আলহামদুলিল্লাহ্, বিগত ১৭ জুন (সোমবার) ২০১৯ ইং-এ ইফতিহাহি দরস(সবক উদ্বোধন) এর মাধ্যমে জামিয়ার শিক্ষা কার্যকম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়।
সবক প্রদান করেন জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসার উস্তাদুল বুখারী, আল্লামা আবু সাবের আবদুল্লাহ সাহেব দা.বা.
আরো উপস্থিত ছিলেনঃ
মাওলানা আহমদ মায়মুন সাহেব দা.বা.
সিনিয়র মুহাদ্দিস, মালিবাগ মাদরাসা।
মাওলানা আবু সাঈদ সাহেব দা.বা.
সিনিয়র মুহাদ্দিস, মালিবাগ মাদরাসা।
মুফতী হাফীজুদ্দীন সাহেব দা.বা.
মুহাদ্দিস, মালিবাগ মাদরাসা।
মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ সাদেকী সাহেব দা.বা.
শাইখুল হাদীস, জামিয়া ইসহাকিয়া মানিকনগর।
মাওলানা নজরুল ইসলাম সাহেব দা.বা.
মুহাদ্দিস, মালিবাগ মাদরাসা
মাওলানা সাঈদ আহমদ সাহেব দা.বা.
উস্তাদ,মালিবাগ মাদরাসা।
এবং ১৯ জুন (বুধবার) এ জামিয়ায় উপস্থিত হয়ে ছাত্রদেরকে তালীমী রাহনুমায়ী করেন ঢালকানগর মাদরাসার উলূমুল হাদীসের মুশরিফ (বিভাগীয় প্রধান) মাওলানা ইমদাদুল হক সাহেব দা.বা.
অত্যন্ত সুচারুভাবে সার্বক্ষণিক আসাতিযায়ে কেরামের নেগরানীতে মনোরম পরিবেশে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আল্লাহ তায়ালা এই ইদারাকে কবুল করুন। আমীন।