09/04/2026
আসাতিযায়ে কিরামের প্রতি সাধারণ নির্দেশনা
- জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া মুহাম্মদপুর ঢাকা
> (তালীম-তরবিয়তের উন্নতির জন্য মানসম্মত দরসদানে সহায়ক কিছু পরামর্শ)
১. দরসদানের ক্ষেত্রে আন্তরিকভাবেই ইখলাস, আদব ও বিনয় অবলম্বন করা।
২. নিয়মিত দরসে যাওয়া, দরসের শুরুতে যাওয়া, সবক নেওয়া, পুরো সময় দরসে থাকা, যতটা সম্ভব দরসকে সহজভাবে উপস্থাপন করা।
৩. দরসকে প্রাণবন্ত রাখা, অর্থাৎ এমনভাবে পাঠদানের চেষ্টা করা, যাতে করে ছাত্রদের মধ্যে বিরক্তি, আলসেমী বা ঘুম না আসে। ছাত্রদের যোগ্যতা যাচাই করতে দরসে ছাত্রদের দিয়ে এবারত পড়ানো এবং ইলমী উসলূবের সাথে পরিচয়ের জন্য মাঝে মাঝে দরসেই গুরুত্বপূর্ণ হাশিয়াগুলো পড়ানো।
৪. দরসের ফাঁকে ফাঁকে ছাত্রদের যেহেনসাযী করা। তবে জামিয়ার ফিকিরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কোন বিষয়ে নিজস্ব ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী থাকলে জামিয়ার কোনো দরসে বা ব্যক্তিগতভাবে জামিয়ার কোনো ছাত্রকে সে বিষয়ে উদ্বুদ্ধ না করা।
৫. নিয়মিত মুতালাআহ করা, বিষয় জটিল হলে প্রয়োজনে অন্যদের সাথে মুযাকারা করা ও মুতালাআহ শেষ করে দরস উপস্থাপনের পদ্ধতি বিষয়ে সময় নিয়ে ফিকির করা।
৬. পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ফন্নের তামরীনের স্বার্থে মাঝে মাঝে ছাত্রদেরকে কিছু লেখার কাজ দেওয়া। বিষয়ভিত্তিক লেখার অনুশীলন করানো।
৭. যে কিতাবগুলো বুঝতে হয়, শুধু মুখস্থ না করিয়ে সেগুলোতে বুঝ পাকা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য বুঝেরও সবক নেওয়া (বিশেষত দুর্বলদের থেকে)। যেমন, কুদুরী, দুরুসুল বালাগাহ, উসুলুশ শাশী, মুখতাসার, শরহুল আকায়েদ ইত্যাদি।
৮. তরজমা প্রয়োজন এমন কিতাবগুলোতে নিয়মিত সাবলীল তরজমা করা। ছাত্ররা তরজমা করতে শিখছে কি না, তা দেখার জন্য মাঝে মাঝে তাদেরকে দিয়েও তরজমা করানো।
৯. কোন্ কিতাব কীভাবে পড়াবেন তা জেনে নেওয়া। মুরুব্বি উস্তাদ, নিজের উস্তাদ, আগে যিনি পড়িয়েছেন, দরসের পরামর্শ সংক্রান্ত কোনো কিতাব, মাহেরে ফন্ন থেকে বা অন্য যেকোনো উপায়ে জানতে চেষ্টা করা। সাথে কোন্ কিতাব থেকে আমাদের মাদ্রাসা বা নেসাবের কি মাকসাদ তাও জেনে নেওয়া।
১০. কোনো কিতাব পড়ানোর দায়িত্ব আসলে ওই কিতাবের ফন্নটি শাস্ত্রীয়ভাবে মুতালাআর চেষ্টা করা। অর্থাৎ এই ফন্নের ইমামদের কিতাব মুতাআলায় রাখা। প্রসিদ্ধ, প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য শরাহগুলো মুতালাআয় রাখা। শাস্ত্রজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ রাখা। দেশে বা বাইরে এ বিষয়ে নতুন কোনো কাজ হচ্ছে কি না খোঁজ রাখা। ছাত্রদেরকে নোটসদৃশ শরাহগুলো পড়তে বাধা দেওয়া।
১১. সকল স্তরের ছাত্রদের প্রতি লক্ষ্য রেখে দরস প্রদান করা। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে যে কোনো ফন্ন পড়ানোর সময় ওই ফন্নের একাধিক গ্রহণযোগ্য কিতাবের সাথে পরিচিত করা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা মাঝে মাঝে ওই কিতাবগুলো থেকে মুরাজাআতের পরামর্শ দেওয়া।
১২. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নতুন যে কোনো শাস্ত্রের কিতাব পড়ানোর পূর্বে, প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে ভূমিকাস্বরূপ, ওই শাস্ত্রের প্রাথমিক পরিচয় ছাত্রদের সামনে বাস্তবানুগ পদ্ধতিতে তুলে ধরা।
১৩. কোনো ছাত্রের মধ্যে কিতাব বুঝতে বিশেষ দুর্বলতা পরিলক্ষিত হলে তাকে বিশেষভাবে তারাক্কীর জন্য যথাযথ পরামর্শ দিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা।
১৪. ছাত্রদেরকে পরীক্ষার জন্য গুরুত্বের সাথে প্রস্তুত করা, তারগীব দেওয়া ও মাদ্রাসার পরীক্ষাগুলো যত্নের সাথে নেওয়া। প্রয়োজনে কিতাব বা নেসাব আগে শেষ করে আবার পিছন থেকে পড়ানো ও মাদ্রাসার বা বোর্ডের মূল পরীক্ষার আগে ক্লাসে আলাদা পরীক্ষা নেওয়া। সম্ভব হলে দুর্বলদেরকে আলাদা সময় দেওয়া বা অন্য কোনো সূরতে মেহনতে লাগানো। পাক্ষিক পরীক্ষাগুলো যত্নের সাথে নেওয়া।
১৫. বেশিরভাগ ছাত্রের সবক বুঝতে পারা, সবক শোনাতে পারা, পরীক্ষায় ভালো করার ওপর দরসের সফলতা নির্ভর করে। তাই বেশিরভাগ ছাত্র সারা বছর সমানভাবে সবক বুঝতে পারছে কি না বা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে কি না, তার প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা।
১৬. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হক আদায় করে ই'তিদালের সাথে নেসাব শেষ করা। সময় সংকট থাকলে তা তালীমাতে জানানো।
১৭. শিক্ষাদানগত যে কোনো সংকট নির্দ্বিঃধায় তালীমাতে জানানো।
মুহতামিম
জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া