দেশে প্রথম ভ্যাকসিন প্লান্ট হতে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জে
BCS & Other Jobs Preparation
বিসিএস, ব্যাংকসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি চাকুরীর উৎকৃষ্ট প্রস্তুতির জন্য এক অন্যরকম পাঠশালা।
25/05/2025
৪৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
25/05/2025
১১ (এগারো) টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন
07/11/2024
পেট্রোবাংলা ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের ৯ম ও ১০ম গ্রেডে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার সময় ও আসন বিন্যাস।
আপনার পক্ষে কথা বলুক অথবা অন্য কারো পক্ষে,
শয়তা'ন সবসময়ই শয়তা'ন!
দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন ব্যাবিলন
েকে_শেখা
জর্জ এস ক্লাসন রচিত ‘দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন ব্যাবিলন’ একটি ক্লাসিক ব্যক্তিগত আর্থিক বই। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই বই প্রাচীন ব্যাবিলনের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে গল্প আকারে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পড়ে ১০টি শিক্ষা পাওয়া যায়, যা অনুসরণ করে মানুষ জীবনে সম্পদ নির্মাণ এবং আর্থিক সাফল্য পেতে পারে। বইটি পড়ে শিক্ষাগুলো লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
বইটির অন্যতম মৌলিক নীতি হলো নিজের জন্য সঞ্চয় করা। পাঠকদের অন্য কিছুতে ব্যয় করার আগে তাদের আয়ের কমপক্ষে ১০ শতাংশ নিজের জন্য সঞ্চয় করার পরামর্শ দিয়েছেন ক্লাসন। এতে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠে। যার ফলে ব্যক্তিরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পদ সঞ্চয় করতে পারেন।
আয় অনুযায়ী ব্যয় করুন
ক্লাসন নিজের আয় অনুযায়ী জীবনযাপন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। আয় অনুযায়ী খরচের তালিকা তৈরি করতে হবে। প্রয়োজন এবং চাহিদার মধ্যে পার্থক্য করে সে অনুযায়ী খরচ করতে হবে। যেন প্রতি মাসে সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের জন্য টাকা অবশিষ্ট থাকে।
টাকা যেন আপনার জন্য কাজ করে
বইটি শিক্ষা দেয় যে অতিরিক্ত আয় অর্জনের জন্য টাকা জমিয়ে না রেখে বিজ্ঞতার সঙ্গে বিনিয়োগ করা উচিত। পাঠকদের বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজার জন্য উৎসাহিত করেছেন। ফলে বিনিয়োগকারীর সম্পদ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এর মানে হলো, টাকা বসে না থেকে আপনার জন্য কাজ করবে।
জ্ঞান এবং পরামর্শের সন্ধান করুন
ক্লাসন আর্থিক শিক্ষা এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার মূল্যকে তুলে ধরেছেন। যারা সফলভাবে তাদের টাকা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করেছেন তাদের কাছ থেকে টাকা ব্যবস্থাপনার কৌশল শিখতে পারলে আরও ভালো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সহায়ক হবে।
পরিকল্পিত বাজেট তৈরি করুন
প্রতি মাসে বাজেট তৈরি করা বইয়ের একটি অন্যতম শিক্ষা। ক্লাসন পাঠকদের তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আয় এবং ব্যয়ের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে তারা ভবিষ্যতে প্রয়োজনের জন্য পরিকল্পনা করতে পারেন। কার্যকরভাবে সম্পদ সঞ্চয় করতে পারেন। একটি পরিকল্পিত বাজেট অতিরিক্ত খরচ কমানো ও সঞ্চয়ের জন্য সহায়ক হয়।
নিজের মধ্যে বিনিয়োগ করুন
ক্লাসন আত্ম-উন্নতি এবং শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। নিজের দক্ষতা এবং জ্ঞানে বিনিয়োগ করলে আরও ভালো কাজের সুযোগ এবং আয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে। আর্থিক সাফল্য অর্জনের জন্য ক্রমাগত শেখা অপরিহার্য।
ঋণ এড়িয়ে চলুন
ঋণ একটা মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। বইটি ঋণের বিপদ, বিশেষ করে উচ্চ সুদের ঋণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। ক্লাসন পাঠকদের অপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ঋণ নেওয়া এড়াতে এবং বিদ্যমান যেকোনো ঋণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিশোধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সম্পদ গড়ে তোলার জন্য ঋণমুক্ত জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যবসায় ও ধৈর্য
সৎভাবে সম্পদ বৃদ্ধি করা রাতারাতি সম্ভব নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যার জন্য প্রচুর অধ্যবসায় ও ধৈর্যের প্রয়োজন। ক্লাসন শিক্ষা দেন যে এর মধ্যে বিপত্তিও ঘটতে পারে। তবুও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে এ সাফল্যের জন্য কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে আর্থিক লক্ষ্যের প্রতি থাকতে হবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একাধিক আয়ের পথ তৈরি করুন
ক্লাসন পাঠকদের তাদের মূল পেশার পাশাপাশি ব্যবসা, বিনিয়োগ বা প্যাসিভ আয় করতে উৎসাহিত করেছেন। আয়ের বিভিন্ন রকম উৎস থাকলে একটা উৎসে কোনো সমস্যা হলে বাকি উৎস থেকে আয় আসতে থাকবে। ফলে একেবারে বিপদগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। তা ছাড়া এতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও সহজ হয়।
সম্পদ ভাগ করুন
পরিশেষে, ক্লাসন দান করা এবং নিজের সম্পদ ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। দাতব্য অবদানের মাধ্যমে হোক বা অন্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে হোক, তিনি সম্পদ ভাগাভাগি করতে উৎসাহিত করেছেন। এতে করে সবার মধ্যে মানবিকতাবোধ তৈরি হয় এবং দাতা ও প্রাপক উভয়কেই সমৃদ্ধ করে।
゚ #সংগৃহীত #অক্সিজেন
"কলেজ পালিয়ে যে বই পড়া হচ্ছে, বাসায় জানে?"
শুনে চমকে উঠলাম। হাতে তখন আবু ইসহাকের পদ্মার পলিদ্বীপ। এক রাশ আতঙ্ক নিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি, হাফিজুর ভাই।
আমার মুখে হাসি চলে আসে। হাফিজুর ভাই আর যাই হোক, বই পড়ার জন্য বাসায় বিচার দেবে না, আমি জানি।
লাইব্রেরিতে জোরে কথা বলা যায় না। ফিসফিস করে বললাম, চলো বাইরে যাই। পড়তে বিরক্ত লাগতেসে।
রাজশাহী সেন্ট্রাল লাইব্রেরি নিউ ডিগ্রী কলেজের পাশেই। বহু পোলাপাইন এখানে বসে ফোন টিপতে আসে, প্রেম করতে আসে। আমি সত্যিকার অর্থেই বই পড়তে আসতাম।
বই পাইলে আমার মাথা কোনকালেই ঠিক থাকতো না।
তবে হাফিজুর ভাই ছিলো বইয়ের চেয়েও ইন্টারেস্টিং। এলাকার বড় ভাই। কলেজের বড় ভাই। তবে রাজনীতি করতেন আমার উল্টোটা। আমি তখন অনিমেষ পড়ে বাংলাদেশে বা-ম বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি। আর হাফিজুর ভাই শি-বির করে দেশে ইরা★নি স্টাইলে ইস★লামি বি-প্লবের স্বপ্ন দেখেন।
কঠিন তর্ক করতাম সেই সময়। বেশিরভাগ সময়ই হাফিজুর ভাই আমার সাথে তর্কে হেরে যেতেন। তখন তো বুঝি নাই, এখন বুঝি উনি ইচ্ছা করে হারতেন আমাকে খুশি করার জন্য।
একবার কোন এক কারণে ইস্কুল থেকে বাসায় আসবো। রিকশা নাই। হাফিজুর ভাই দেখে বললেন, আমার সাইকেলে উঠো। দিয়ে আসি। আজকে ধর্মঘট। রিকশা পাবা না।
ছোটবেলা থেকেই আমি নাদুস নুদুস। সেই আমাকে নিয়ে গ্রীষ্মের দুপুরে ভাই হাপাতে শুরু করলেন। থামলেন দুইবার। আমার খটকা লাগলো। ভাইয়ের শক্তি এতো কম কেন?
বাসায় এসে দেখি আব্বুও আমাকে নিতে গেছে। আমি চলে এসেছি। আম্মু বললো, কীভাবে এলি? আমি বললাম হাফিজুর ভাই এর সাইকেলে।
আম্মু আতকে উঠলো। ওর সাইকেলে তুই উঠেছিস কেন? জানিস না ওর ক্যা-ন্সার?
আমি কিছু বলি না। এতো হাসিখুশি মানুষেরও ক্যান্সা-র থাকে? কই কোনদিন বলেনাই তো?
হাফিজুর ভাই মূলত ছিলেন লিউ-কোমিয়ার রোগী। তিনমাস পর পর রক্ত চেঞ্জ করতে হতো। অথচ এই লোকটা কত বড় অভিনেতা চিন্তা করেন, আমাদের কাউকে কখনও জানতে দেয় নাই।
এরপর ঐ লাইব্রেরির কাহিনী।
লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে মালোপাড়ার দিকে একটা একটা ঘর দেখালেন। বললেন, কোচিং দিচ্ছি। তুমি তো সায়েন্স এ থাকবা, আর্টসে গেলে পড়তে পারতা।
ভাই তখন পড়েন রাজশাহী ইউনিভার্সিটির পাবলিক এডমিনস্ট্রেশনে।
আমি ভাবলাম, যাক। আড্ডার আর ঝগড়ার আরেকটা জায়গা আমাদের হলো।
আমি যখনই বা-ম বিপ্লব নিয়ে কোন বই পড়তাম, ভাইকে বিপরীতে কল্পনা করতাম। কল্পনায় তাকে হারিয়ে দিয়ে বিরাট মজা পেতাম।
এমনই একদিন হুট করে আব্বু এসে বললো শালবাগানে রাবির এক টিচার খু★ন হয়েছে।
সারাদেশে হইচই পড়ে গেল। আমরা আগ্রহ নিয়ে ওয়েট করতে শুরু করলাম। আব্বু বাজার না করেই চলে এসেছে। পরদিন আম্মু বললো ডিম নিয়ে আয় দোকান থেকে।
আমি ডিম আনতে গেছি। দোকানে অনেক ভীড়। সম্ভবত বাংলাভিশনে বলা হলো, রাবির টিচার হ★ত্যা মামলায় হাফিজুর রহমান নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আমি বাসায় আসলাম দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে। আম্মুকে বললাম, হাফিজুর ভাইকে পুলিশ ধরেছে। আম্মু বললো ধুর, এইটা এই হাফিজুর না। অন্য হাফিজুর। যে ছেলে বড় গলায় একটা কথা বলতে পারে না, তারে পুলিশ কেন ধরবে?
অথচ আম্মুর জানা ছিলো না, একটা মাছি না মারতে পারা মানুষকে সাধারণ পুলিশ ধরতে না পারলেও হাসি-নার পুলিশ ধরতে পারে।
হাফিজুর ভাইয়ের বাবার ভাষ্য ছিলো, ফজরের নামাজ পড়ে ভাই ঘুমাইছিলো। বাসা থেকেই ডিবি তারে তুলে নিয়ে যায়। ইভেন প্যান্ট পরার সুযোগ তারে দেওয়া হয়নি। টি শার্ট আর লুঙ্গি পরা অবস্থাতেই তাকে তুলে নেওয়া হয়।
সবচে বড় কথা, একজন ক্যা-ন্সারের রোগীকে ওষুধ নেওয়ার সুযোগও পুলিশ তাকে দেয়নাই।
তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছিলো যতদূর মনে পড়ে।
দুইদিনের মাথায় অনেক চেষ্টা চরিত করে ভাইয়ের বড় ভাই ওষুধ নিয়ে সেলে যাইতে পারছিলেন।
বাট তার আর দরকার হয় নাই।
কারণ এর কিছুক্ষণ পরেই হাফিজুর ভাই পুলিশ হেফাজতে মারা যান। বড় ভাইয়ের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, তাকে ওষুধ দূরের কথা, পানিও খাইতে দেওয়া হয় নাই।
হাফিজুর ভাইয়ের লাশ আসার পর অদ্ভুতভাবে বৃষ্টি নামলো। এলাকার সমস্ত মানুষ হাউমাউ করে কানতে লাগলো। আমার দাদির মৃত্যুর পরেও আব্বুরে আমি কানতে দেখিনি। অথচ সেইদিন আব্বুও পারলো না, বললো, এই ছেলেটারেও এমনে মেরে ফেললো?
হাফিজুর ভাইয়ের বড় ভাই বললেন, ছোটবেলা থেকেই আমাকে খুব জ্বালাইসে। তিন মাস পর পর রক্ত দিতে হতো, কত ঝামেলা। আমার আর কোন ঝামেলা থাকলো না। বলে শিশুর মতো কানতে লাগলেন।
আমি দেখলাম, লাশ নিয়ে আসা পুলিশ সদস্যরা রুমাল দিয়ে চোখ মুছতেসে।
এই মৃত্যুর পর এই পরিবারটাই তছনছ হয়ে গেল। ভাইয়ের বাবা স্ট্রো-ক করলেন, মা প্যারা-লাইজ হলেন। এতো জুলুম সহ্য করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হয়নি, মানুষ কতই বা আর পারে?
রেজাউল করিম হ★ত্যা মামলা নিয়ে সবার আগ্রহ শেষ হলেও আমার হয়নি। আমি শেষদিন পর্যন্ত এই মামলার খোঁজ খবর রেখেছি।
চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের সেই লিস্টে সম্ভবত সাতজনের নাম ছিলো। না, সেখানে হাফিজুর রহমান নামে কোন নাম ছিলো না।
এর অর্থ হলো, ইভেন হাসি-নার বানানো করাপ্টেড কোর্টও এই মামলার সাথে তার নূন্যতম সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে পারেনি।
তাহলে আমার হাফিজুর ভাইকে ম-র-তে হলো কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দূরের কথা, এই প্রশ্ন করার স্বাধীনতাও আমরা পাইনি কোনদিন।
৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেকেরই অনেকের কথাই মনে পড়েছে। আমার মনে পড়েছে হাফিজুর ভাইয়ের কথা ।
কলেজ পালিয়ে যে বই পড়া হচ্ছে, বাসায় জানে?
আমি খুব শক্ত ছেলে। অথচ যতবার এই কথাটা মনে পড়ে, আমি আর চোখ খোলা রাখতে পারি না।
হাফিজুর ভাই হিরো নন। ছিলেন না কোনদিন। তিনি অনিমেষ ছিলেন না, ক্ষুদি★রাম ছিলেন না, ছিলেন একজন ক্যা-ন্সারের রোগী। সাধারণ রাজনীতি করা পাবলিক ইউনিভার্সিটির একজন সাধারণ ছাত্র।
সেই মানুষটাকেও শেখ হাসি-না খু★ন করিয়েছিলেন। তাকে ওষুধ তো দূরের কথা, পানিও খাইতে দেওয়া হয়নি।
আজকাল বিকেলে বৃষ্টি হলেই হাফিজুর ভাই এর কথা মনে পড়ে খুব। মনে পড়ে, ক্যান্সা-র আক্রান্ত একটা হাসিখুশি মানুষ নিজের অসুস্থতা ভুলে একটা রুম নিয়েছিলো কোচিং সেন্টার চালাবে বলে।
কিন্তু সেই কোচিংটা তিনি আর কখনও খুলতে পারেননি।
ভয়ঙ্কর খু★নি ড্রাকুলা হাসি-নার কাছে থেকে রক্তশূন্য একজন লিউকোমিয়ার রোগীও ছাড়া পায়নি।
লিখেছেন: সাদিকুর রহমান খান!
12/08/2024
বিদেশে থাকা ৫ নেতার নির্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা আ’লীগের
• ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
• আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৪, ০৫:৪৭
- অস্থিতিশীল করতে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা
- হাতিয়ার বানাতে চায় সংখ্যালঘুদের
- সংখ্যালঘুদের বাড়ি উপাসনালয়ে হামলার নির্দেশ
রাজধানীসহ সারা দেশ উত্তপ্ত করতে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ নেতার তত্ত্বাবধানে হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়েছে দলটি। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া পাঁচ নেতা হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়, সালমান এফ রহমান, হাসান মাহমুদ, বাহাউদ্দীন নাসিম ও মাহবুবুল আলম হানিফ। আওয়ামী লীগের এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধান টার্গেট করা হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে।
গোপনীয়তা রক্ষা করে ছদ্ম পরিচয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমীর হামজার সাথে কথা বলে জানা যায়, সারা দেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে গোপনীয়তা রক্ষা করে হামলার নির্দেশ আছে বিদেশে পলাতক নেতাদের কাছ থেকে। আশ্বাসও আসছে বড় পুরস্কারের।
ছাত্রলীগের ওই নেতা আরো জানান, আওয়ামী লীগ যেহেতু এখন মাঠে নামার কোনো ইস্যু ও সাহস পাচ্ছে না সেহেতু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পদ-পদবি বিহীন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তরুণ কর্মীদের। পুরাতন বিভিন্ন সময়ের বড় সমাগমের সাথে আওয়ামী লীগের স্লোগানজুড়ে দিয়ে চালানো হচ্ছে ভার্চুয়াল গুজব। এর জন্য খরচ করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।
আমীর হামজার কাছ থেকে আরো জানা যায়, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার পরিকল্পনা সফল হলে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের লোকদের দিয়ে সংখ্যালঘুদের রক্ষার ইস্যু দিয়ে মাঠে নামানো হবে। সেখানে আস্তে আস্তে যোগ দিবে পরিচয়হীন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। সমাগম কন্টিনিউ করতে পারলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আস্তে আস্তে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় ভিন্ন পরিচয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক নেতার কাছ থেকে জানা যায়, সংখ্যালঘুদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজ ও বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী। এ কাজের জন্য সংখ্যালঘু ও সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তির কাছে টাকা পৌঁছে দিতে জয়দেব নন্দীকে অর্থ দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: আব্দুর রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাক ২০১২ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জন নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত। তথ্য দাতা এ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী।
আওয়ামী লীগের এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর শাহবাগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহসভাপতি স্থপতি ইকবাল হাবিবের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ শাহবাগে জড়ো হয়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, স্থপতি ইকবাল হাবিব আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্ধারিত ছিলেন। এমনকি সারা দেশে সহিংসতা করতে যে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে তার অর্ধেকটাই বরাদ্দ পেয়েছে বাপা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাপার এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যখন গণহত্যা চলেছে তখন বাপা ও বাপার কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলেননি। অতীতেও কোনো গুম, খুন ও নির্যাতন নিয়ে বাপা কথা বলেনি। এটা বাপার কাজও না। এবারই প্রথম বাপাকে এসব নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, মোটা অঙ্কের অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে ইকবাল হাবিব এ কর্মকাণ্ডের বাপার অনেক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করেছেন।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র নয়া দিগন্তকে জানায়, এনএসআই -এর সদ্য সাবেক ডিজি ডিএম যোবায়েরের তত্ত্বাবধানে ও তার ভায়রা দুবাই প্রবাসী ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমের মাধ্যমে ঢাকার এসব সমন্বয়কারীদের কাছে বাজেটের এক তৃতীয় অংশ টাকা ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছানো হয়েছে। কিছু টাকা গত দু-তিন দিনের মধ্যেই সালমান এফ রহমানের এপিএস শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে স্থপতি ইকবাল হাবিবের কাছে পৌঁছায় বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। এরই মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতার কাছে এ প্রকল্পের অর্থ পৌঁছে দিয়েছে যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ মিরপুর বিআরটিএর নিয়ন্ত্রক ও শেওড়াপাড়া আওয়ামী লীগ নেতা শামীম। ৬ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জে অবস্থান করছে শামীম। এ টাকার সংস্থান করেছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও গাইবান্ধা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপন। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলে নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতেও টাকার মজুদ পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব রয়েছে এ নেতার ওপর।
এদিকে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরকে টার্গেট করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে মাঠে নামানোর চেষ্টা করছে দলটি। এসব সামাজিক সংগঠনকে জনবল দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ওপর। সম্্রাট অর্থের বিনিময়ে রাজধানী ও আশপাশ এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের এনে এসব কর্মসূচিতে দাঁড় করাচ্ছেন।
News Link :
বিদেশে থাকা ৫ নেতার নির্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা আ’লীগের - অস্থিতিশীল করতে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা- হাতিয়ার বানাতে চায় সংখ্যালঘুদের- সংখ্যালঘুদের বাড়ি উপাসনালয়ে হামল....
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka