26/03/2025
Eastern Bank PLC এর Trainee Assistant Officer নিয়োগ ডিটেইলস :
কিছুদিন পর পর ই EBL এর সার্কুলার হয়।
কারন হিউজ এমাউন্ট পিপল এখান থেকে এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে অন্য ব্যাংকে চলে যায়।
☞কয়েক ধরনের TAO নিয়োগ দিয়ে থাকে EBL:
1. Trainee Relationship Officer.TRO) (Retail & SME Banking Division (পোস্টিং ব্রাঞ্চে হয়।
কাজ: লোন দেওয়ার ক্লায়েন্ট খোজাই মেইন কাজ,ডিপোজিট আনার এবং অ্যাকাউন্টের টার্গেট থাকবে। তবে এই পোস্ট থেকে পার্মানেন্ট হওয়া একটু কঠিন ).
2. Collection Executive -Special Asset Management Department . ( এদের বেশিরভাগ নিয়োগ হয়ে থাকে ঢাকা গুলশান, ZN টাওয়ারে. কিছু কিছু ব্রাঞ্চে একজন বা দুজনের পোস্টিং হয়।
কাজ: ডিফল্ট লোন /ক্রেডিট কার্ড রিকোভার করা। সহজ কথা হল কাস্টমারের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় করা ).
3.Cash Area (পোস্টিং হয় ব্রাঞ্চ:
কাজ: ক্যাশ এর কাজ করতে হবে, গ্রাহকের লেনদেনের টাকা রিসিভ করা এবং টাকা প্রদান করাই কাজ। এবং এটিএম এ টাকা লোড এবং আনলোড করতে হয়। তবে অল্প কিছু বিজনেস টার্গেট থাকে, ব্রাঞ্চের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকলে খুবই সহজে টার্গেট পূরণ করা যায়। তবে ক্যাশ থেকে এক বছরের মধ্যেই পার্মানেন্ট হওয়া যায়। পার্মানেন্ট হওয়ার পর জেনারেল ব্যাংকিং এ পোস্টিং হয়)
4. Card Acquisition ( পোস্টিং : ঢাকা (SKS Towe, Mohakhali & Chattagram.
কাজ: ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার জন্য কাস্টমার খুজে খুজে বের করতে হবে। মোটকথা ক্রেডিট কার্ড সেল করাই হচ্ছে আপনার কাজ)
5. Contact Centre : ( অন্যান্য ব্যাংকএ কল সেন্টারের নামে পরিচিত। পোস্টিং হয় ঢাকা গুলশান, ZN টাওয়ার এ।
কাজ: গ্রাহকের কল রিসিভ করা। গ্রাহক সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং সমস্যা সমাধান করা।। এটা সম্পূর্ণ ডেস্ক জব। এখানে রোস্টার ডিউটি প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে ডিউটি, নাইট শিফটে মেয়েদের ডিউটি থাকে না। সপ্তাহে দুইদিন করে ছুটি। এখানে অল্প কিছু বিজনেস টার্গেট থাকবে। টার্গেট পূরণ করতে পারলে দুই এক বছর পর পার্মানেন্ট হতে পারবেন। পার্মানেন্ট হওয়ার পর পোস্টিং ব্রাঞ্চে হয়।)
6. Bank Representative (Agent Banking Department)
(বাংলাদেশের যেকোনো এজেন্টে আপনার পোস্টিং হবে।
কাজ: আপনার মূল কাজ হলো এজেন্ট মনিটরিং করা। এজেন্ট স্টাফ কে গাইডলাইন করা। এজেন্টের সকল কাজ আপনি ব্রাঞ্চে নিয়ে ব্রাঞ্চের মাধ্যমে করতে হবে। ব্যাপারটা এরকম হয় ৩ দিন এজেন্টে থাকতে হয় আর ২ দিন ব্রাঞ্চে থাকতে হয়। কারণ এজেন্টের অপারেশনের কোন কাজ করতে পারবেন না, সকল কাজ ব্রাঞ্চে নিয়ে এসে করতে হবে। তবে এই পোস্টে হিউজ পরিমাণ টার্গেট থাকে, খুব কঠিন পরিশ্রম না করলে টার্গেট ফিলাপ করা যায় না।। পার্মানেন্ট হতে দুই তিন বছর লাগতে পারে। পার্মানেন্ট হওয়ার পর আপনার পোস্টিং এজেন্ট ও থাকতে পারে অথবা ব্রাঞ্চে হতে পারে অথবা এজেন্ট ব্যাংকিং এর হেড অফিস আলাউদ্দিন টাওয়ার গুলশানেও হতে পারে)
অন্য ব্যাংকের TAO ( Trainee Assistant Officer) আর Ebl TAO সেইম না। অন্য ব্যাংকের টা পার্মানেন্ট পোস্ট, EBL এর HR কন্ট্রাকচুয়াল পোস্ট। তাই জব পাওয়াটা তুলনামূলক ইজি।
☞সিলেকশন প্রসেসে:
প্রথমে শর্টলিস্টেড হওয়াটাই টাফ। সহজে করতে চায় না। কেউ প্রথম বার এপ্লাই তে হয়, কেউ ২০/২৫ বার এপ্লাই করেও হয় না। কি দেখে শর্টলিস্ট করে এটা ব্যাংকের ইন্টারনাল ব্যাপার। এটার ব্যাপারে বলা যায় না। তারপরও আমার ধারনা থেকে বলি,
*আপনার অবশ্যই বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে অথবা ম্যাথমেটিক্স বা ফাইন্যান্স সাবজেক্ট থেকে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট থাকতে হবে।
*আপনার CGPA 3.00 এর উপরে থাকতে হবে।
*পাবলিক ইউনিভার্সিটি অথবা ভালো মানের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি কে অগ্রাধিকার বেশি দেয় তবে কিছু কিছু পোস্ট এ National University এর স্টুডেন্টদেরকেও শর্টলিস্টেড করে।
* শর্ট লিস্টেড করার ক্ষেত্রে আপনার এক্সপেরিয়েন্স এবং ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে।। যদিও ফ্রেশদের কে ই বেশি নেওয়া হয়।
লিস্টেড হলে ইনিশিয়াল ভাইভা মেসেজ পাবেন।
☞1st viva:
ইবিএল এর ড্রেস হল সাদা শার্ট, ডার্ক প্যান্ট, ব্ল্যাক মুজা। তাই শার্ট, প্যান্ট, টাই সহ পোশাকের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। জুতার কালার এবং বেল্ট এর কালার একই থাকতে হবে।
দুইজন HR এবং ডিপার্টমেন্টের একজন অথবা দুইজন থাকতে পারে ভাইভতে।
1.introduce yourself
2. বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, ব্যাংকের কাজ, অর্থমন্ত্রী, সচিব কে এসব নিয়েই কোশ্চেন করবে।
3.নিজের সম্পর্কে নিজের ফ্যামিলির সম্পর্কে প্রশ্ন করবে।
4.আপনার ইউনিভার্সিটি এবং সাবজেক্ট রিলেট এর প্রশ্ন করবে।
5.ইবিএল সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে যাবেন এবং আপনার যদি পূর্বের কোন এক্সপিরিয়েন্স থাকে ওই জব নিয়ে প্রশ্ন করবে।
6.আপনি যেই পোস্টে ভাইবা দিবেন ওই পোস্টের কাজ সম্পর্কে অবশ্যই জেনে যাবেন ।।
7. আপনার ড্রেস আপ এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা ভালো করে ফলো করবে।
8. ভাইভাতে কোন তথ্য মিথ্যা বলবেন না, আপনার সিভিতে যা যা উল্লেখ আছে শুধু তাই বলবেন। সিভিতে উল্লেখ নাই এমন কোন তথ্য বলবেন না, তাহলে ওইটা নিয়ে অনেক প্রশ্ন করবে।
প্রথম ইনিশিয়াল ভাইভা বাংলাতেই হবে।
আপনার ভাইবা ভালো হলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রিটেনের জন্য এসএমএস পাবেন।
☞2 Written :
1.আপনি যদি অন্যান্য ব্যাংকের প্রিপারেশন নেন তাইলে mcq গুলাকে একেবারে ইজি মনে হবে। সব Mcq পারবেন। ২৫ টা mcq থাকবে।
2. সাধারণ জ্ঞানের কিছু প্রশ্ন থাকবে।
3.৫ টা abbreviation থাকবে। যেমন WWW, LC, ATM,RTDM এই টাইপের।
4. দুইটা টা ফোকাস রাইটিং থাকবে ১০ মার্কের । একটা থাকবে ইংরেজিতে এবং একটা থাকবে বাংলাতে যেমন:
Tourism in Bangladesh, Banking as a career, পদ্মা সেতু, বাংলাদেশের উন্নয়ন, ব্যাংকিং এর হিস্টরি এই টাইপের দুইটা ফোকাস রাইটিং থাকবে।
5. জেনারেল গণিত থেকে কয়েকটা সাধারণ এমসিকিউ থাকবে।
6. বেসিক ইংলিশ গ্রামার থেকে কয়েকটা MCQ থাকবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রশ্ন অবশ্যই ইংলিশ ভার্সনা হবে
আপনার Written যদি ভাল হয় তাহলে ফাইনাল ভাইবার জন্য এসএমএস পাবেন।
☞ফাইনাল ভাইভা: এখানে হায়ার অথোরিটির কেউ থাকবে। ডিপার্টমেন্টের দু'একজন প্রধান থাকবে। জাস্ট আপনার কনফিডেন্স চেক করবে + বুঝবে আপনি জব পেলে কন্টিনিউ করে যাবেন কিনা। জবটা আপনার কতটুকু দরকার তারা সেটা চেক করবেন।
*একটা এক্সপিরেন্স শেয়ার করি, একজনকে জিজ্ঞেস করছিল আপনার বাবা কি করে, সে উত্তর দিল আমার বাবা একজন বিজনেসম্যান। কিন্তু সিভিতে লেখা ছিল তার বাবা চাকরিজীবী। যখন তারা দেখল সিভিতে একরকম আর আপনি বলেন আরেক রকম, তখন তারা এটাকে নেগেটিভ ভাবে নেয়।। তখন তাকে এটা নিয়ে অনেক প্রশ্ন করলো।। তখন সে উত্তর দিল স্যার আমার বাবা চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করে, এজন্য আমি ভুলে দুই জায়গায় দুইটা বলে ফেলছি। সুতরাং সাবধান কোন ইনফরমেশন ভুল বলবেন না।
☞ফাইনাল ভাইবা ভালো হলে অফার লেটার আনার জন্য এসএমএস দিবে।
তারপর আপনার মেডিকেল চেকআপ করতে হবে, মেডিকলে আপনার সিরিয়াস কিছু ধরা পড়লে আপনি সেখান থেকে বাদ যাবেন।। এছাড়াও পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।।
☞সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জয়েনিং এর জন্য এসএমএস দিবে। তবে জয়নিং এর সময় অবশ্যই আপনার অরজিনাল ভোটার আইডি কার্ড এবং সকল অরজিনাল সার্টিফিকেট দেখবে। তারা ভেরিফাই করে সাথে সাথে আপনেক দিয়ে দিবে। আপনার যদি পূর্বের কোন এক্সপেরিয়েন্স থাকে তাহলে অবশ্যই স্যালারি সার্টিফিকেট এবং ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাবেন।। কোন সার্টিফিকেট যদি অরিজিনাল না থাকে তাহলে তাদের কাছ থেকে সময় নিয়ে নিবেন।
☞জয়েনিং এর দিন থেকে সেলারি শুরু হবে। জুন ২০২৪ থেকে সকল পোস্টের এখন স্যালারি ৩১ হাজার টাকা।
☞জয়েনিং এর কিছুদিন পর পাঁচদিনের একটি ফাউন্ডেশন ট্রেনিং হয়. ট্রেনিং ঢাকা হেড অফিস এ হবে এবং সার্টিফিকেট দিবে
**** পার্মানেন্ট হতে মিনিমাম ৩/৪ বছর লাগতে পারে আবার ১০ বছরে নাও হতে পারেন। এটা ডিপেন্ড করে সম্পূর্ণ আপনার উপর।
☞পার্মানেন্ট হওয়ার জন্য আপনার বিজনেস টার্গেট অবশ্যই ১০০% এর উপরে করতে হবে.
☞বছরের দুইবার ই লার্নিং পরীক্ষা হয়, সেই পরীক্ষায় মিনিমাম পঞ্চাশের মধ্যে ৪৫ পেতে হবে.
☞বছরে দুইবার রেটিং হয় আপনার রেটিং মিনিমাম এক থেকে তিন এর ভিতরে হতে হবে।
☞সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম আপনার রিটেন পরীক্ষা হবে ঢাকাতে.
☞রিটেন পরীক্ষায় পাস করলে প্রথমে HR ভাইবা হবে. HR ভাইভাতে পাশ করলে তারপর MD ভাইবা হবে। সকল কিছুতে উত্তীর্ণ হলে আপনি পার্মানেন্ট হবেন।
☞প্রথম বছর পার্মানেন্ট হতে পারলে আপনাকে জুনিয়র অফিসার অফার করা হবে। এক বছরের বেশি সময় লাগলে আপনাকে এসিস্ট্যান্ট অফিসার দেওয়া হবে।
**লাস্ট কথা: জব ছাড়া খুভ ই ইজি। joining এর সময় কোন বন্ড নাই। তাই এক মাসের বেসিক সেলারি জমা দিয়ে ইন্সট্যান্ট জব ছাড়তে পারবেন।। নাহলে ১ মাস আগে রিজাইনের কথা জানালে কোন টাকা জরিমানা দেওয়া লাগবেনা।
☞এই পোস্টের মাধ্যমে আপনার বিন্দু পরিমাণ উপকার হলে আমার কষ্ট সফল হবে. আশা করি এতো সুন্দর ভাবে আপনি আর কোথাও পাবেন না।