দুনিয়া এবং আখেরাতে সফলতা পেতে চান?
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
وَأۡمُرۡ أَهۡلَكَ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱصۡطَبِرۡ عَلَيۡهَاۖ لَا نَسَۡٔلُكَ رِزۡقٗاۖ نَّحۡنُ نَرۡزُقُكَۗ وَٱلۡعَٰقِبَةُ لِلتَّقۡوَىٰ ١٣٢
“আর আপনার পবিরার-পরিজনকে নামাযের জন্য নির্দেশ দিন এবং আপনি নিজেও নামাযের উপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে রিযিক্ব চাই না, বরং আমিই আপনাকে রিযক দিয়ে থাকি। আর উত্তম পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য নির্দিষ্ট।” সুরা ত্বোয়া হাঃ ১৩২।
আয়াতের তাফসীরঃ
ইমাম ইবনে কাসীর রহি’মাহুল্লাহ এই আয়াতের তাফসীরে লিখেছেন,
মহান আল্লাহ বলেন, (হে নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দিন, যাতে তারা আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচতে পারে। আপনি নিজেও নামাযের উপর অবিচল থাকুন। নিজেকে এবং নিজের পরিবারবর্গকে জাহান্নাম হতে বাঁচান।
(১) উমর ফারুক্ব রাদিয়াল্লাহু আ’নহুর অভ্যাস ছিল রাত্রে যখন তিনি তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠতেন তখন তিনি তাঁর পরিবারবর্গকেও ঘুম থেকে জাগাতেন আর এই আয়াতটি পাঠ করতেনঃ
وَأۡمُرۡ أَهۡلَكَ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱصۡطَبِرۡ عَلَيۡهَاۖ لَا نَسَۡٔلُكَ رِزۡقٗاۖ نَّحۡنُ نَرۡزُقُكَۗ وَٱلۡعَٰقِبَةُ لِلتَّقۡوَىٰ ١٣٢
আয়াতের ভাবার্থঃ আমি আপনার কাছে কোন জীবনোপকরণ চাই না। আপনি নামাযের পাবন্দী হন, আল্লাহ আপনাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক্ব দিবেন যে, আপনি কল্পনাও করতে পারবে না। আল্লাহ তাআ’লা মুত্তাক্বীদেরকে মুক্তিদান করে থাকেন এবং তাদেরকে কল্পনাতীত জায়গা হতে রিযিক্ব দান করেন।
সমস্ত দানব ও মানবকে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। রিযিক্বদাতা ও ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ। এজন্যেই মহান আল্লাহ বলেন, “আমি আপনার কাছে রিযিক্ব চাই না, বরং আমিই আপনাকে রিযিক্ব দান করে থাকি।”
(২) বর্ণিত আছে যে, হিশাম রহি’মাহুল্লাহর পিতা যখন আমীর-উমারার নিকট গমন করতেন এবং তাদের শান-শওকত দেখতেন তখন তিনি নিজের বাড়ীতে ফিরে এসে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন আর বলতেন, “হে আমার পরিবারবর্গ! তোমরা নামাযের হিফাযত করো, নামাযের পাবন্দী হও, তাহলে আল্লাহ তাআ’লা তোমাদের উপর দয়া করবেন।” এটা মুসনাদে ইবনু আবি হাতিমে বর্ণিত হয়েছে।
(৩) সাবিত রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন সংকীর্ণতার সম্মুখীন হতেন তখন তিনি বলতেন, “হে আমার পরিবারবর্গ! তোমরা না
তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও
আল্লাহ বলেন,
قَدۡ أَفۡلَحَ مَن تَزَكَّىٰ
নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি সফলতা অর্জন করবে, যে নিজেকে পবিত্র করে।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَ نَبۡلُوۡکُمۡ بِالشَّرِّ وَ الۡخَیۡرِ فِتۡنَۃً
“আমি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দ (উভয়টি দিয়ে এবং উভয় অবস্থায় ফেলে এর) দ্বারা পরীক্ষা করি।” [সুরা আল-আম্বিয়াঃ ৩৫]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আ’নহুমা এই আয়াতের তাফসীরে বলেন,
“অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করিঃ
- সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং দুঃখ-কষ্ট দিয়ে
- সুস্থতা এবং রোগ-ব্যাধি দিয়ে,
- ধন-সম্পদ এবং দারিদ্র দিয়ে,
- হালাল এবং হারাম দিয়ে,
- হেদায়েত এবং পথভ্রষ্টতা দিয়ে।”
উৎসঃ তাফসীর আত-তাবারীঃ ১৬/২৬৯।
যে দুইটি আমলের বিনিময়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ জান্নাতে যাবে
___________________
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَا أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: تَقْوَى اللهِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ، قَالَ: وَمَا أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ النَّارَ؟ قَالَ: الأَجْوَفَانِ: الْفَمُ وَالْفَرْجُ
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে প্রশ্ন করা হল, “কোন আমল সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?” তিনি বলেন, “তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি এবং উত্তম চরিত্র।” তাঁকে আবার প্রশ্ন করা হল, “কোন আমল সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে?” তিনি বললেন, “দুইটি ছিদ্র অর্থাৎ মুখ এবং যৌনাঙ্গ (দ্বারা কৃত অপরাধ)।” [তিরমিযীঃ ২০০৪, ইবনু মাজাহঃ ৪২৪৬, আহমাদঃ ৭৮৪৭, আদাবুল মুফরাদঃ ২৯৪। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহি’মাহুল্লাহ হাদীসটি সহীহ গারীব এবং শায়খ আলবানী রহি’মাহুল্লাহ হাদীসটি হাসান বলেছেন]
__________________
অন্তরে তাক্বওয়া বৃদ্ধি করা এবং কোন ব্যক্তির চরিত্র সুন্দর করার জন্য হাদীসে বর্ণিত ২টি দুআ বর্ণনা করা হল।
(১) যায়েদ বিন আরক্বাম রাদ্বিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর দুআর মাঝে বলতেনঃ
اَللهم آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّها أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا،
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা, ওয়া জাক্কিহা আনতা খয়রু মান যাক্কা-হা, আনতা ওয়ালিয়্যুহা ওয়া মাউলা-হা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে তোমার ভীতি দান কর এবং তুমি তাকে পবিত্র কর, তুমিই তো শ্রেষ্ঠ পবিত্রকারী। [সহীহ মুসলিমঃ ২৭২২, তিরমিযীঃ ৩৫৭২, নাসায়ীঃ ৫৪৫৮]
(২) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ এই দুআ করতেনঃ
اَللهم إنِّي أَسألُكَ الهُدَى، وَالتُّقَى، وَالعَفَافَ، وَالغِنَى
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নী আস-আলুকাল হুদা ওয়াত-তুক্বা, ওয়াল আ’ফা-ফা ওয়াল গিনা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সৎপথ, তাক্বওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা ও প্রাচুর্য প্রার্থনা করছি। [সহীহ মুসলিমঃ ২৭২১, তিরমিযীঃ ৩৪৮৯, ইবনে মাজাহঃ ৩৮৩২]
আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ تَوۡبَۃً نَّصُوۡحًا ؕ
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা।" [সূরা আত-তাওবাহ: ৮]
***আন্তরিক বা খাটি তাওবাহ হচ্ছে, বান্দা তার কৃত গুনাহর জন্য অনুতপ্ত এবং লজ্জিত হয়। শুধু এতোটুকুই নয়, বরং আল্লাহর শাস্তির ভয়ে সে গুনাহর কাজ ছেড়ে দেয় এবং গুনাহর কাজ পুনরায় না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআ'লা বলেন:
وَ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ رِزۡقُهَا
"আর যমীনে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই।" [সূরা হূদ: ৬]
_______________________________
মানুষের রিযিক্ব নির্ধারিত, এ কারণে রিযিক নিয়ে টেনশান করবেন না। বান্দার দায়িত্ব রিযিক অনুসন্ধান করা, চেষ্টা পরিশ্রম বা মেহনত করা এবং রিযিক্বের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা। আল্লাহ যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তার উপরে সন্তুষ্ট থাকা।
আল্লাহর নিয়ামত বা অনুগ্রহ, দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানের কল্যাণের জন্য বেশি বেশি ইস্তিগফার, দুয়া ও আল্লাহর যিকির করা।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং খুব ছোট। ক্ষণস্থায়ী এই ছোট্ট জীবনের প্রাপ্তিগুলো নিয়ে উচ্ছসিত হওয়া কিংবা অপ্রাপ্তিগুলোর জন্য ব্যাথিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং আপনি আখিরাতের জীবনে চূড়ান্ত এবং স্থায়ী সফলতা পাওয়ার জন্য নেক আমল করতে পারছেন কিনা, এটাই আপনার মূল ফোকাস হওয়া উচিত। আপনার সবচেয়ে বড় কনসার্ন হওয়া উচিত, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতে যাওয়া এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেচে থেকে জাহান্নাম থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেন,
كُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَكُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕ وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ
"প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর ক্বিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে (তোমাদের আমলের) প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা হল এবং জান্নাতে দাখিল করা হল, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফলকাম হল। কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।" [ সূরা আলে ইমরান: আয়াত নং-১৮৫]
***আপনারা যারা জীবনকে পরিবর্তন ও উন্নত করতে চান, তারা ফেইসবুক ইউটিউবে সময় নষ্ট না করে আরবীতে শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হা'ফিযাহুমাল্লাহ এবং বাংলাতে উস্তাদ নাসীল শাহরুখ হা'ফিযাহুল্লাহর ওয়াজ-নসীহত খুব মনোযোগ সহকারে বারবার শুনবেন। আল্লাহর অনুগ্রহে এই দুইজন দুই ভাষাতে অসাধারণ কাজ করছেন। উনাদের কথা শোনা এবং তাদের উপদেশ জীবনে কাজে লাগাতে পারা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেন,
فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ ابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَ اذۡكُرُوا اللّٰهَ كَثِیۡرًا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ
"অতঃপর যখন নামায শেষ হয়, তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (অর্থাৎ রিযিক বা জীবিকা) অনুসন্ধান কর। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে থাক, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।" [সূরা আল-জুমুআহঃ ১০]
_______________________________
আয়াত থেকে শিক্ষাঃ
(১) নামায বা আল্লাহর ইবাদত শেষে প্রয়োজনীয় রিযিক বা জীবনোপকরণ সংগ্রহের জন্য দুনিয়ার বুকে ছড়িয়ে পড়তে হবে। আল্লাহ কোথায় রিযিক রেখেছেন, তা খুজে বের করতে হবে।
(২) বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা, সর্বদা আল্লাহকে স্মরণে রাখা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম হওয়ার একটি মাধ্যম।
(৩) অত্র আয়াতে নামায দ্বারা উদ্দেশ্য জুমআর নামায। সুতরাং ইহুদীরা যেমন শনি বার এবং খ্রীস্টানরা যেমন রবি বারকে পবিত্র দিন মনে করে সেইদিনে সকল কাজ-কর্ম বন্ধ রাখে, তাদের অনুকরণ করে মুসলিমদেরকে জুমুআহর দিন কাজ বন্ধ রাখতে হবে, ইসলামে এ ধরণের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। সপ্তাহে ৭ দিনের এক দিন বা দুই দিন বিশ্রামের জন্য ছুটি দিতে চাইলে সপ্তাহের যে কোন দিনকে বাছাই করা যাবে। জুমুআহর দিনে শুধুমাত্র দ্বিতীয় আযান দেওয়ার পর থেকে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত যাদের জন্য জুমুআহর নামায পড়া আবশ্যক, তাদের জন্য যাবতীয় বেচা-কেনা বা ব্যবসা বাণিজ্য নিষিদ্ধ। উক্ত সময়ে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। তবে জুমুআহর দিনে ঐ সময়ের আগে ও পরে যে কোন কাজ করা জায়েজ।
একটি মাদ্রাসার জন্য সাহায্যের আবেদন
________________________________
মানুষ মারা গেলে তার সমস্ত নেক আমল বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র তিনটি নেক আমলের সওয়াব বাকী থাকে।
(১) সদকায়ে জারিয়া,
(২) এমন ইলম, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং
(৩) নেক সন্তান, যে তার জন্য দুয়া করে।
________________________________
উপরের দুইটি ক্রাইটেরিয়াকে ফুলফিল করে এমন একটি খাত হচ্ছে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা নির্মাণ করা।
আপনারা যারা মৃত্যুর পরেও অবিরত দানের সওয়াব আশা করেন, তাদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ ও পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
নতুন একটি মাদ্রাসার জন্য ক্রয়কৃত জমিতে মাটি কেটে ভরাট করে মাদ্রাসা নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন।
মাদ্রাসার নাম রাখা হয়েছে, "উসওয়াতুন হাসানাহ মাদ্রাসা"।
________________________________
আনুমানিক খরচ
(১) বালু ও মাটি দিয়ে ভিটা প্রস্তুত করা
প্রায় ৭০,০০০ টাকা
(২) মাদ্রাসার জন্য ঘর নির্মাণ করা বাবদ অন্তত এক লক্ষ টাকা প্রয়োজন।
(৩) উল্লেখ্য, মাদ্রাসার নিজস্ব ঘর না থাকার কারণে বর্তমানে অস্থায়ীভাবে পার্শ্ববর্তী মসজিদে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৩৫ জন্য ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।
আমরা আশা করি, কাজ শেষ করতে পারলে এ বছরের মধ্যে নিজ ক্যাম্পাসে পূর্ণাঙ্গভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে ইন শা আল্লাহ। ওয়ামা তাওফিক্বি ইল্লা বিল্লাহ।
________________________________
আপনারা যারা সাহায্য করতে ইচ্ছুক, তারা আমাদের ইনবক্সে যোগাযোগ করবেন।
আর মাদ্রাসা সম্পর্কে ইতিপূর্বের একটি পোস্টের লিংক কমেন্টে শেয়ার করা হল।
আল্লাহ সুবহা'নাহু তাআ'লার বাণীঃ
وَ قَلِیۡلٌ مِّنۡ عِبَادِیَ الشَّکُوۡرُ
"আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক লোকই (আমার প্রতি) কৃতজ্ঞশীল।" সূরা সাবাঃ ১৩।
(১) ফযর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সময় থেকে সূর্য উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এবং,
(২) আসরের নামাযের পরে এবং মাগরিবের পূর্বে
এই দুইটি সময়ে ফরয নামায আদায় করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হচ্ছে, আল্লাহর যিকির। এই সময়ের যিকিরগুলোকে সকাল ও সন্ধ্যার যিকির বলা হয়।
আপনারা যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব এই যিকিরগুলো শুদ্ধ উচ্চারণে শিখে নিবেন।
এ সম্পর্কিত সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য একটি কিতাব হচ্ছে "হিসনুল মুসলিম"। এই বইটির লেখকের নাম হচ্ছে, শায়খ সাইদ আল-কাহতানী রহি'মাহুল্লাহ। আল্লাহ তাআ'লা এই লেখককে জান্নাতুল ফিরদাউসে উঁচু মর্যাদা দান করুন, এই বইয়ের উসীলায় লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মুসলিম সহীহ দুয়া দুরুদ ও যিকির শিখতে পারছে।
কোন অনুবাদ কিনবো?
বাংলা ইংরেজী অনেক ভাষাতেই আসমানী কালারের কভারে পকেট সাইজ বইটা সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে ভালো। বাংলায় অনুবাদ করেছেন শায়খ এনামুল হক মাদানী রহি'মাহুল্লাহ। এছাড়া বছর দুই ধরে সবুজ পত্র প্রকাশনী থেকে সবুজ কালারের কাভারে দুয়ার অধ্যায় অতিরিক্তসহ আরেকটা প্রিন্ট বেড়িয়েছে। এই দুইটা বইয়ের ছবি কমেন্টে দেওয়া হল। আপনারা অবশ্যই এই বইটা কিনবেন এবং বারবার পড়ে প্রতিদিন আমল করার চেষ্টা করবেন ইন শা আল্লাহ।
আপনার বাড়িতে বারাকাহ লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আমল:
(১) পরিবারের সকল সদস্যের উচিত, গৃহে প্রবেশ করার সময় "বিসমিল্লাহ" বলে প্রবেশ করা। সবাই যদি বিসমিল্লাহ বলে ঘরে প্রবেশ করে, তাহলে সেইদিন কোন জিন শয়তান ঐ বাড়িতে আশ্রয় নিতে পারবে না।
(২) ঘরে প্রবেশ করার পর পরিবারের লোকদেরকে সালাম দিতে হবে। এতে সালাম দাতা ও সালাম গ্রহীতা সকলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত লাভ করবে।
(৩) খাবার ও পানীয় গ্রহণের পূর্বে বিসমিল্লাহ বলতে হবে। এতে কোন জিন শয়তান ঐ বাড়ি থেকে কোন খাবার খেতে পারবে না।
এই তিনটি আমল পরিবারের ছোট বড় সকল সকলকে শিখাতে হবে এবং সবাই যেন এই আমলগুলোর ব্যাপারে যত্নবান হয় সেইদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
© শায়খ আব্দুর রাজ্জাক্ব আল-বদর হা'ফিযাহুল্লাহর দার্স থেকে সংগৃহীত।
(i) এক দল আলেমের মত হচ্ছে, আল্লাহ একটি "বিশেষ্য" (noun) বা নামবাচক শব্দ। বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নাম হচ্ছে আল্লাহ।
(ii) আলেমদের অপর একটি দল বলেন, আল্লাহ নামটি আল-ইলাহ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হচ্ছে মা'বূদ বা উপাস্য (god, diety)।
________________________________
আল্লামাহ ইবনু মালিক রহি’মাহুল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ’ নামটি মহান আল্লাহ সুবহা’নাহু ওয়া তাআ’লার স্বত্ত্বাগত নাম, এটা গুণবাচক কোন নাম নয়। ‘আল্লাহ’ নামটি ব্যতীত অন্য যত নাম রয়েছে সবগুলো নামকে ‘আল্লাহ’ নামের দিকে সম্পর্কিত করা হয়। যেমন বলা হয়, ‘আল-কারীম’ আল্লাহর একটা নাম, ‘আর-রহীম’ আল্লাহর একটা নাম। কিন্তু এই কথা বলা হয় না যে, ‘আল্লাহ’ আর-রহীম এর বা আল কারীম এর নাম। ইমাম ইবনু জারীর আত-ত্ববারী ও ইমাম ইমাম আন-নাবাবী রহি’মাহুল্লাহও এমন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
________________________________
শায়খ আব্দুর রাজ্জাক্ব আল-বদর হা'ফিযাহুল্লাহ বলেন,
"আল্লাহর মূল (অর্থাৎ সবচেয়ে বড় এবং মহান) নাম হচ্ছে তিনটি:
(১) আল্লাহ
(২) আর-রহমান
(৩) আর-রব্ব।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Dhaka