28/04/2025
সময় বদলায়, মানুষ বদলায়। কিন্তু কিছু সম্পর্ক যেন সময়ের বাইরেই রয়ে যায়। এমনই একটা ছোট্ট মুহূর্তে সেটা বুঝতে পারলাম।
যখন আমি ঢাকায় থাকতাম, প্রায়ই পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্টের গেইটের সামনে রাস্তার পাশের একটা টং দোকানে চা খেতাম। কিছুদিনের মধ্যে দোকানদারের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। হঠাৎ করে একদিন বরিশালে চলে আসলাম।
সময়ের স্রোতে কত কিছুই না বদলে যায়। ব্যস্ততার কারণে প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল, সেই ছোট্ট টং দোকানটায় যাওয়া হয়নি।
হঠাৎ করেই কাজের সুবাদে ঢাকা গেলাম। সেই টং দোকানের সামনেই একটা রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেলাম। ভাবলাম যে যাই, দেখি সেই টং দোকান আছে কিনা। দেখলাম টং দোকান সেই আগের মতই একই জায়গায় দাড়িয়ে আছে। পুরনো দিনের সেই চায়ের স্বাদটা পেতে নিঃশব্দ পায়ে গিয়ে দাঁড়ালাম দোকানটার সামনে। ভাবলাম, এতদিন পরে গেলে হয়তো দোকানদার আমাকে চিনতেই পারবে না।
কিন্তু না...
আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমাকে দেখেই সেই দোকানদার হাসিমুখে ছুটে এলো। বলল, "ভাই! আপনারে দেখলাম কতদিন পর। আমাগো রাইখা কই চইলা গেলেন। আপনাকে অনেক মিস করেছি। " এই কথা বলেই একটা টুল বের করে বসতে বলল। আমাকে বসিয়ে "ভাই একটু দাড়ান, আইতাছি" বলেই কোথায় যেন চলে গেল। মিনিট পাঁচেক পরে হাতে করে এক গ্লাস জুস নিয়ে হাজির। বলল, " ভাই আগে এক গ্লাস জুস খান। আপনারে কতদিন খুঁজছি। জানেন আমি প্রায়ই (আমি যে দিক থেকে আসতাম সেদিকে আঙুল দেখিয়ে) ওই রাস্তায় তাকাইয়া থাকতাম, যদি আপনে আসেন। কিন্তু আপনারে দেখি না।" জুস খাওয়ার পর এক কাপ চা বানিয়ে দিলো। এরপর কেমন আছি? বাসার সবাই কেমন আছেন? কোথায় থাকি? ইত্যাদি নানা ধরনের প্রশ্ন করলেন। নানা ধরনের কথাবার্তা হলো। এক পর্যায়ে আমাকে প্রান ভরে দোয়া করলো। আর বলল, "ভাই ঢাকা আসলে আমার দোকানে একটু আইসেন। আপনারে এক কাপ চা না খাওয়াইলে ভালো লাগে না।"
দেড় বছর পরে দেখা হওয়ার পরেও মনে রাখা, প্রাণভরে দোয়া করা; এত সহজ, এত নির্ভেজাল ভালোবাসা — আজকাল ক'জন দিতে পারে?
বুঝলাম, কিছু সম্পর্কের জন্য সময়ের কোনো মানে নেই। ভালোবাসা, একবার দিলে সেটা থেকে যায় — চুপচাপ, গভীরভাবে।
Md Abir Sikder