02/02/2026
"আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রতি আমার দুটি নির্দেশনা আছে। এক— ভোট বর্জন করবেন না। অবশ্যই ভোট কেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন। এবং সেটা রাজাকারদের বিরুদ্ধে দেবেন। রাজাররা যে-পথে হাঁটবে, আপনি তার উল্টা পথে হাঁটলেই সেটা সঠিক রাস্তা। বাংলাদেশের রাস্তা। রাজাকার দাঁড়িপাল্লায় দিলে আপনি ধানের শীষে দেবেন, রাজাকার 'হ্যাঁ' দিলে আপনি 'না' দেবেন। সহজ কথা, এই মুহুর্তে রাজাকারদের যারা প্রধান প্রতিপক্ষ, তাদেরকে শক্তিশালী করতে হবে। আপনি ভোটকেন্দ্রে না গেলে কার লাভ? রাজাকারদের লাভ। রাজাকাররা নিজেই জালভোটের মাধ্যমে আপনার ভোট দিয়ে দেবে। বা আপনার অনুপস্থিতিকে ব্যবধান বাড়াতে কাজে লাগাবে। আপনার চাওয়ার সাথে রাজাকারের চাওয়া মিলবে কেন?
দুই— নিরপরাধ আওয়ামী লীগ কর্মীদের রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায় রাজাকারদের একটি আসনেও জিততে না দেওয়া। রাজাকাররা বাংলাদেশে ৫টা সিটও পাবে কেন? এটা একপ্রকার যুদ্ধ। ব্যালট যুদ্ধ। আমাদের পূর্বপুরুষরা একাত্তরে এদেরকে অস্ত্র দিয়ে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলো। আপনারা এবার ভোটের মাধ্যমে কমপ্লিট ভ্যাঙ্কুইশমেন্ট নিশ্চিত করবেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হলে সেটার চেয়ে সহজ কাজ আর নেই।
আওয়ামী লীগের যারা অপরাধ করেছে, লুটপাট করেছে, নাগরিকদের কন্ঠরোধ করেছে, তাদের বিচার হবে। কিন্তু বাংলাদেশকে রক্ষায়, টেকসই রাজনীতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে, আওয়ামী লীগকে নতুন কাঠামোতে নির্মাণ করতে হবে। এবং সেটা আপনারা যারা নিরপরাধ সমর্থক আছেন, তারাই করবেন। প্রয়োজনে আমি নির্বাচিত সরকারের সাথে দেনদরবার করবো, মধ্যস্থতা করবো।
কিছুদিন আগে সজিব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তা জানিয়েছিলেন। সেখানে শোকপ্রকাশ ছাড়াও অনেক বিষয় ছিলো। ওই বার্তা যদি আন্তরিক হয়ে থাকে, তাহলে আমি আহ্বান জানাই, জনাব সজিব ওয়াজেদ, আপনি প্রকাশ্যে আরেকটি বার্তা দিন যে, ভোট বর্জন নয়, বরং রাজাকারদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে হাজির হতে হবে।
জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে যে-খোলা চিঠি লিখেছিলাম, সেখানে পরামর্শ দিয়েছিলাম— এই মুহুর্তে সব ইগো ভুলে খালেদা জিয়ার কাছে যান, গিয়ে পদত্যাগ ও নির্বাচনের ঘোষণা দিন। কিন্তু তিনি শুনেন নি। শোনার কথাও নয়। শুনলে এই পরিণতি হতো না।
যদি বোধবুদ্ধি থাকে, তো আজকের পরামর্শ আমলে নিন। ভোট দিন। সংসদে রাজাকার পার্টিকে বিরোধী দল হিশেবে দেখতে না চাইলে চোখ বুজে ধানের শীষের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। মনে রাখবেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজাকার পার্টির একবার মেইনস্ট্রিমিং ঘটলে, আওয়ামী লীগের রাজনীতির পুংমাংসাং চিরদিনের জন্য সারা। জাতীয় নির্বাচন কিন্তু ডাকসু নির্বাচন না যে মানুষকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের ভোট শিবিরকে দেওয়াবেন, আর বলবেন, দেখো কেমন মজা? রাজাকাররা আওয়ামী লীগের মজাগিরি জীবনের মতো ছুটিয়ে দেবে, যদি 'হ্যাঁ' জিতে আর রাজাকাররা সংসদে ঢোকে। এখন তো তারেক রহমানকে 'খাম্বা তারেক' ডাকার জন্য জিহ্বাটা আছে, তখন সেটাও থাকবে না।"
— মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
12/10/2024
29/04/2018
29/04/2018
29/04/2018
29/04/2018
29/04/2018
29/04/2018
29/04/2018
29/04/2018