২১ জুন ২০১৫ প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে 'যোগালয়'র যাত্রা শুরু। যোগ ব্যায়ামের প্রয়োজনীয় অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের মন ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নয়ন 'যোগালয়' এর একমাত্র উদ্দেশ্য। 'যোগালয়', যোগ ব্যায়াম শিক্ষার একটি প্রস্তাবিত টোল। ইউরোপীয় বণিকদের ফেলে যাওয়া পুস্তকী স্কুল মাত্র না, আমাদের প্রাচীন শিক্ষা পদ্ধতির অনুগামী আদর্শ একটি আধুনিক টোল। প্রাচীন টোলের ধর্মীয় গুরুগিরি কিম্বা গুর
ুসেবার আধ্যাত্মিকতা এখানে অবান্তর, তবে প্রাচীন টোলের মতো এখানেও বক্তা ও শ্রোতার সমৃদ্ধ ও সংলাপ এবং মার্জিত আচরণ-ই হবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাদান পদ্ধতি। যোগ সাধনা, প্রাচীন ভারতে উদ্ভুত এক বিশেষ ধরনের শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা। যোগ সাধনা করে সেকালে কতো ভোগীও যোগীতে রূপান্তরিত হয়েছেন, কিন্তু সেই গভীর সাধনায় আমারা যাবো না। শারিরিক সুস্থতার প্রশ্নে আমরা খুঁজে দেখবো তাদের শারিরিক সুস্থতার মূল চাবিগুলি। যোগ সাধনার এই অমূল্য দর্শন ঘেঁটে সু-স্বাস্থ্যের চাবিকাঁঠি সেই সব যোগ ব্যায়ামগুলি নিয়ে কাজ করবো, যা হবে শরীর রক্ষার প্রধানতম হাতিয়ার। কারণ 'যোগালয়'-এর প্রধানতম উদ্দেশ্য মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাবিধান।
সহজ কথা কোন আধ্যাত্মিক সাধনা এখানে গৌণ কথা না, শরীরের সুস্থতাই হবে 'যোগালয়'-এর একমাত্র প্রণোদনা। প্রাচীন ভারতীয় আর্য সাধকদের যোগ সাধনা-যোগাসন-পূজা-আরাধনা কিম্বা সাধন পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উদ্ভুত হলেও, যোগ ব্যায়াম আজ সকল প্রকার ধর্মীয় খোলস ছিন্ন করে সমগ্র বিশ্বের সুপথগামী মানুষের কাঙ্ক্ষিত শরীররক্ষা কবচ রূপে উদ্ভাসিত। ফলে জঙ্গলাকীর্ণ বিজন বনভূমির স্থান-কাল-পাত্র ছাপিয়ে যোগ ব্যায়াম আজ আপনার ঘরের জানালায় সারা ফেলেছে। হাজার হাজার বছরের গ্রহণ-বর্জনের ইতিহাসে এই সত্য-ই প্রতিষ্ঠিত যে, "কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস"। সত্য সুন্দর জেনেও তা থেকে দূরে থাকা অকল্পনীয় অন্যায়। মাশুল গুনেও যা থেকে পরিত্রান পাওয়া শক্ত।
প্রাচীনকালের অখণ্ড ভারতভূমির নানা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিমার্জিত কত রূপ-ই আজকের বাঙালী সংস্কৃতির প্রধানতম সূতিকাগার। তাই ২১ জুন 'বিশ্ব যোগ দিবসে'র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তীর গৌরবের দাবীদার বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের মাটি ও মানুষের। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, আমাদের ভূমিজ সম্পদে আজ বিশ্বের নানা জাতি-ধর্ম-বর্ণের যখন দারুণভাবে সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে- আমরা তখন চোখ থাকতেও অন্ধের আচরণ করছি! অনেকের মধ্যে এই ভুল ধারণাও দেখা যায় যে, যোগ ব্যায়াম হিন্দু সংস্কৃতি থেকে উদ্ভুত বলে তা কেবল তাদেরই অনুশীলনীয় বিষয়। শারিরিক সুস্থতার প্রতিকূলে থাকা এই অনাকাঙ্ক্ষিত অন্ধত্ব দূর করতে-ই বছরের যে কোন সময় 'যোগালয়'-এ যে কোন বয়সী যোগ্য মানসিকতার শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
পূর্ণ অনুশীলনের মাধ্যমে নৈতিক ও শারিরিক শিক্ষা গ্রহণ সমাপ্ত করে শিক্ষার্থীগণ স্ব-স্ব পরিবারের পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় যোগ ব্যায়ামের অনুশীলন গড়ে তুলতে পারেন। অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা আছে যে, যোগ ব্যায়ামের সব আসন সবাইকে পারতেই হবে। বিষয়টা কিন্তু এমন না, এতো কঠিনও না। আপনার শারিরিক লক্ষণ-ই নির্ধারণ করবে, আপনি ঠিক কোন কোন আসনগুলি অনুশীলন করবেন। অর্থাৎ প্রত্যেকেই তাদের শারিরিক সুস্থতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আসনগুলি অনুশীলন করতে হবে। তবে, যোগ ব্যায়াম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে এর সঙ্গে আপনার প্রেমটা ঠিক জমবে না। এর ভালোবাসা আপনাকে অর্জন করতেই হবে। এবং খুব দ্রুতই আপনি সে পাঠ শিখেও ফেলবেন।
নির্ভয়ে নির্ভার থাকুন। আপনি চাইলেই 'যোগালয়'-এ প্রবেশ করতে পারেন। চাওয়ার মতো চাইতে হবে। প্রাণ দিয়ে চাইলেই কেবল পাবেন। প্রথমত আপনার অদম্য আগ্রহ- দ্বিতীয়ত আপনার গভীর নিষ্ঠা এবং শেষ পর্যন্ত আপনার আর্থিক সঙ্গতি। তিনটির সবক'টি গুণে গুণান্বিত যে কেউ 'যোগালয়'-এ প্রবেশ করতে পারেন।
বিঃ দ্রঃ বিস্তারিত জানতে ইনবক্সে লিখুন। উত্তর পাবেন। ধন্যবাদ।