13/06/2025
---
স্কলারশিপ নিয়ে জীবনে সফল হলো যারা
আমরা প্রায়ই শুনি—"পড়াশোনা করেই যদি চাকরি না হয়, তবে এত কষ্ট করে লাভ কী?"
কিন্তু কেউ কেউ বিশ্বাস করেন—শিক্ষা মানে শুধু চাকরি নয়, এটা জীবন বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
তাদের হাতে টাকা ছিল না, কিন্তু ছিল অদম্য মেধা, একরোখা চেষ্টা আর স্বপ্ন দেখার সাহস।
আজ আমরা জানবো এমন পাঁচজন তরুণ-তরুণীর কথা, যারা গরিব পরিবারে জন্মেও পেয়েছেন বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্কলারশিপ। চেষ্টা করলে তোমরাও সে পথে সফল হতে পার।
---
১. সাবিহা হক (বাংলাদেশ → যুক্তরাষ্ট্র, Fulbright Scholar)
সাবিহা ঢাকার একটি বস্তিতে বড় হয়েছেন। বাবা ছিলেন রিকশাচালক, মা গৃহকর্মী।
দিনে স্কুল, রাতে টিউশনি—এই ছিল তার রুটিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার সময়ই তিনি জানতে পারেন Fulbright স্কলারশিপ সম্পর্কে।
সেটা ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত।
এক বছরের প্রস্তুতি, TOEFL আর GRE দিয়ে অবশেষে পেয়েই গেলেন পূর্ণ স্কলারশিপ!
আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যুক্ত, আর ঢাকায় একটা ফ্রি কোচিং চালাচ্ছেন Fulbright-এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া মেধাবীদের জন্য।
---
২. সাগর আলী (বাংলাদেশ → জার্মানি, DAAD Scholar)
কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম সাগরের।
স্কুলে ভালো রেজাল্ট করে পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি হন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।
সেখান থেকেই তিনি জানতে পারেন DAAD—জার্মান সরকারের বৃত্তি সম্পর্কে।
ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়িয়ে, একটা ভালো স্টেটমেন্ট লিখে, একাধিকবার রিজেকশন খেয়ে শেষমেশ নির্বাচিত হন।
আজ তিনি জার্মানির একটি গবেষণাগারে কাজ করছেন, পাশে গ্রামের শিক্ষার্থীদের অনলাইন গাইড করেন—“কিভাবে স্কলারশিপ পাওয়া যায়” বিষয়ক ওয়ার্কশপ।
---
৩. নাহিদা পারভীন (বাংলাদেশ → অস্ট্রেলিয়া, Australia Awards Scholar)
নাহিদা বেড়ে উঠেছেন দিনাজপুরের একটি কৃষক পরিবারে।
বইয়ের প্রতি অসম্ভব আগ্রহ ছিল তাঁর।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে তিনি আবেদন করেন Australia Awards Scholarship-এ।
বেছে নেন এমন একটি থিসিস, যা তাঁর নিজের সমাজকেই কাজে লাগাতে পারে।
আজ তিনি অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্স করছেন, পাশাপাশি কাজ করছেন একটি আন্তর্জাতিক এনজিওতে।
নিজের গ্রামে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে একটি "বইঘর" চালু করেছেন।
---
৪. আসিফুজ্জামান (বাংলাদেশ → জাপান, MEXT Scholar)
আসিফের বাবা দিনমজুর ছিলেন রাজবাড়িতে।
ছোটবেলা থেকেই পলিটেকনিকে পড়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু শেষমেশ ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে।
MEXT বৃত্তির কথা জানতেন না, জানার পর নিজে নিজে ইংরেজিতে ইমেইল করে জানতে থাকেন সাবজেক্ট সুপারভাইজরদের কাছে।
একসময় এক জাপানি অধ্যাপক তাঁর কাজ দেখে আগ্রহী হন।
MEXT স্কলারশিপ পেয়ে তিনি এখন জাপানে পিএইচডি করছেন।
ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, “ভালো থিসিস আর একটানা চেষ্টা থাকলে তুমি যেখানেই থাকো, জাপান পৌঁছানো সম্ভব।”
---
৫. জান্নাতুল মাওয়া (বাংলাদেশ → ইউরোপ, Erasmus Mundus Scholar)
নেত্রকোনার এক মেয়ে, যার বাবা ছিলেন ভ্যানচালক।
জান্নাতুল নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে সবসময় ভয় পেতেন, কিন্তু স্কলারশিপ পাওয়ার স্বপ্নটা ছাড়েননি।
IELTS ভালোভাবে দিয়ে পরে Erasmus Mundus-এর জন্য আবেদন করেন।
অ্যাপ্লিকেশনের একটাই উদ্দেশ্য ছিল—"আমি যদি সুযোগ পাই, আরও দশজন মেয়েকে পথ দেখাব"।
আজ তিনি ইউরোপের তিনটি দেশে মাস্টার্স করছেন (এই স্কলারশিপে ঘুরে ঘুরে পড়ার সুযোগ থাকে)।
প্রতি সপ্তাহে অনলাইনে সেশন নেন Erasmus-এর আবেদন প্রক্রিয়া শেখাতে।
---
📌 তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কী শিখি?
✅ ইংরেজি দুর্বল হলেও নিয়মিত চর্চায় উন্নতি সম্ভব
✅ স্কলারশিপের জন্য দরকার পরিকল্পনা, ধৈর্য, এবং চেষ্টা
✅ SOP (Statement of Purpose), রেফারেন্স, এবং ভালো একাডেমিক রেজাল্ট গুরুত্বপূর্ণ
✅ ফ্রি অনলাইন কোর্স (Coursera, edX) দিয়ে নিজের স্কিল বাড়ানো যায়
✅ YouTube বা Facebook গ্রুপে তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ
---
তুমি কী করতে পারো এখন থেকেই?
IELTS বা TOEFL-এর প্রস্তুতি শুরু করো
নিজের বিষয়ভিত্তিক একটা ভালো রিসার্চ টপিক নিয়ে ভাবো
নিজের অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন, আর সমাজে কী পরিবর্তন আনতে চাও—এসব নিয়ে লিখতে শুরু করো
নিচের স্কলারশিপগুলো গুগল করে রাখো
Fulbright | DAAD | Erasmus Mundus | MEXT | Australia Awards
---
তোমার ঘরে হয়তো এখনও কাঠের চেয়ার, আলনায় ঝোলানো জামা আর বইয়ের জন্য নেই আলাদা তাক।
কিন্তু তুমি যদি চেষ্টা না ছাড়ো, একদিন হয়তো সেই বই-ই তোমাকে পৌঁছে দেবে অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, বা টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সেই পথটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।
---
12/06/2025
12/06/2025
12/06/2025
01/12/2022
24/10/2022