আমি তাদের পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগান মালিকদেরকে। যখন তারা কসম করেছিল যে, অবশ্যই তারা সকালবেলা বাগানের ফল আহরণ করবে। তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি। অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক প্রদক্ষিণকারী (আগুন) বাগানের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে গেল, আর তারা ছিল ঘুমন্ত। ফলে তা (পুড়ে) কালো বর্ণের হয়ে গেল। তারপর সকালবেলা তারা একে অপরকে ডেকে বলল, ‘তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তাহলে সকাল সকাল তোমাদের বাগানে চলো’। তারপর তারা (বাগানের দিকে) চললো নিচু স্বরে (এই) কথা বলতে বলতে যে, ‘আজ সেখানে তোমাদের কাছে যেন কোন মিসকিন / অভাবী প্রবেশ করতে না পারে’। আর তারা ভোরে ভোরেই বাগানে রওনা করলো (মিসকিন) প্রতিরোধ করতে সক্ষম মনে করে। তারপর তারা যখন বাগানটি দেখল, তখন তারা বলল, ‘অবশ্যই আমরা পথভ্রষ্ট। বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি’।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিটি বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করছ না’?
তারা বলল, ‘আমরা আমাদের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম’। তারপর তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল। তারা বলল, ‘হায়, আমাদের ধ্বংস! নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম। হয়তো আমাদের প্রভু আমাদেরকে এরচে উত্তম বিনিময় দিবেন, আমরা আমাদের প্রভুর অভিমুখী হলাম।'
আযাব এরকমই হয়ে থাকে। আর পরকালের আযাব অবশ্যই এর চাইতে অনেক জঘন্যতর, যদি তারা জানতো!
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে 'জান্নাতুন নায়ীম'।
সুরা আল ক্বালাম : ১৭-৩৪।
বিশ্বাসীদের পাঠশালা
Islamic Book Centre
28/10/2024
মৌলিক প্রশ্ন এটাই যে : আমরা কি কুরআনে বর্ণিত গবাদি পশুর মতো জীবনযাপন করছি? নাকি এই সমাজ পরিবর্তনে আমাদের কোন ভূমিকা আছে?
25/10/2024
এই ভিডিওটা দেখতে দেখতে আমার মনে পড়লো রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি ঘটনা। রাসুল সাঃ একদিন পাহাড়ের উপর উঠে চিৎকার করে কুরাইশদের ডেকে জড়ো করলেন। তারপর বললেন : আমি যদি তোমাদের বলি পাহাড়ের অই পাশে একদল শত্রুবাহিনী অপেক্ষা করছে তোমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য। তোমার বিশ্বাস করবে? উপস্থিত কুরাইশরা জবাব দিলো : আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করবো...
আমার মনে হলো : আসিফ আদনানও বুঝি আমাদের সেভাবেই আগামীদিনের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করছে। আমরা বেখেয়াল, আমরা উদাসীন। কিন্তু আমাদের শত্রুরা বেখেয়াল নয়। তারা তাদের লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।
মুসলিমবঙ্গ: অস্তিত্ব, সংকট এবং সামাজিক শক্তি | আসিফ আদনান | সিলেট ইসলামিক কনফারেন্স ২০২৪ মুসলিমবঙ্গ : অস্তিত্ব, সংকট এবং সামাজিক শক্তি | আসিফ আদনান | সিলেট ইসলামিক কনফারেন্স ২০২৪ | Organized by Sylhet Dawah Circle - SDC
জাতীয় শিক্ষা সংস্কার মঞ্চের উদ্যোগে ঢাকার বনানীতে আয়োজিত সেমিনার। উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, শাইখ হারুন ইজহার, ডাঃ শামসুল আরেফিন শক্তি, ডাঃ মেহেদী হাসান, আবু ত্ব হা মুহাম্মদ আদনান, আসিফ আদনান, আহমেদ রফিক সহ আরো অনেক গুণীজন।
19/10/2024
আল্লাহপাক রাব্বুল আ'লামীন সুরা তাওবার ১১৯ নং আয়াতে আমাদের সাদেকীনদের সাথে চলতে বলেছেন। শুধু নির্দেশ দিয়েই তিনি বিষয়টি আমাদের বিবেচনাবোধের উপর ছেড়ে দেননি। পবিত্র কুরআন মাজীদের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সুরায় সাদেকীনদের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুরা বাকারার ১৭৭নং আয়াত, সুরা হুজরাতের ১৫নং আয়াত এবং সুরা হাশরের ৮নং আয়াত।
এখন লিটমাস পেপার টেস্ট হচ্ছে : আমরা যাদের আদর্শিক ভাবে অনুসরণ করছি, তাদের মধ্যে কি বর্ণিত ১০টি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়?
বই : নেদায়ে তাওহীদ। পৃঃ ৩৭-৪২।
লেখক : আবু উমার আল মুহাজির
মুফতি, মুহাদ্দিস, গবেষক, অনুবাদক।
15/10/2024
রেজিস্ট্রেশন লিংক কমেন্টে।
পূজা উপলক্ষ্যে একজন মুসলিমের করণীয় সম্পর্কে আলাপ করছেন প্রকৌশলী, শিক্ষক, লেখক ও দাঈ এস এম নাহিদ হাসান।
09/10/2024
চট্টগ্রাম ইসলামি বইমেলায় আস-সুন্নাহ বুকশপে শাইখ হারুন ইজহারের লেখা 'আল কুরআনের দারস ১' বইটার পরে সর্বাধিক বিক্রিত বই : আসিফ আদনানের লেখা 'চিন্তাপরাধ'। চিন্তাপরাধ সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। ২০২৪ সালে এসেও এই বইয়ের রেকর্ড পরিমান বিক্রি সত্যিই অবাক করার মতো। বইটির হার্ডকপি রকমারি ও ওয়াফিলাইফে পাওয়া যাচ্ছে ১৩০ টাকায়। বইটই এপে ইবুক (সফটকপি) পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮০ টাকায়।
পাঠক, আপনি কি বইটা পড়েছেন?
06/10/2024
বইয়ের যত্ন যেভাবে নিবেন :
১। বইতে যেন ধুলোবালি না পড়ে সেজন্য বুকশেলফে বই রাখলে সবচেয়ে ভালো হবে। এতে করে বইগুলো নজরেও পড়বে। ঘর দেখতে সুন্দর লাগবে। চোখের শান্তি, মনের শান্তি।
২। বুকশেলফ না থাকলে কোনো আলমারি বা ড্রয়ারে রাখুন। এতেও বই নিরাপদ থাকবে।
৩। তাও সম্ভব না হলে জিপ ব্যাগ বা সাদা পলিতে রাখুন। বইয়ের সৌন্দর্য মলিন হবে না।
৪। বই যেন তেলাপোকা, বিভিন্ন কীটপতঙ্গ না কাটে! সেজন্য বুকশেলফ বা ড্রয়ারে কর্ফুর বা শুকনো নিম পাতা দিয়ে রাখুন। এগুলোর গন্ধে এসব ধারে কাছে আসে না। ইঁদুরের জন্য ইঁদুরের ঔষধ আশপাশে ছিটিয়ে দিন। এটাই সবচেয়ে বেশি কাজের হয়ে থাকে।
৫। বই ঠিকমতো ধরতে শিখুন। পৃষ্ঠা উলটানো শিখুন। এগুলো না শিখলে বইয়ের ঢাল আর পৃষ্ঠা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন সুন্দর বইগুলো আর আগের মতো কাছে টানবে না।
৬। মাঝেমধ্যে হার্ডকভারের বই কড়া রোদে দিন। ১০ মিনিট রেখে নিয়ে আসুন। বেশি রোদে রাখলে কাভারের রঙ নষ্ট হয়ে যাবে। পৃষ্ঠা কুঁচকে যাবে। আর কখনও ভুলেও পেপারব্যাক বই রোদে দিবেন না। প্রচ্ছদ পুরো শেষ হয়ে যাবে। পেপারব্যাক বই হলো যেগুলোতে শক্ত ঢাল দেয় না।
৭। যারা বই ধারে পড়তে নিয়ে বহুদিন ফেলে রাখে, সেগুলো অনতিবিলম্বে নিয়ে আসুন। অযত্নে আপনার বই নষ্ট হবে।
৮। ঘরে বাচ্চা থাকলে নিরাপদ দূরত্বে বই রাখুন। বই ধরতে দিয়ে নিজের বিপদ নিজে ডাকবেন না। বাচ্চার কাজই হলো নষ্ট করা।
৯। বইতে কলমের কালি শেষ দিকে চলে আসলে দাগাবেন না। কালি ছড়িয়ে পড়বে। মার্কার দিয়ে দাগাইতে পারেন। কোনো সমস্যা নাই।
১০। মাঝেমধ্যে বইগুলো ধরে চেক করুন, কোনো সমস্যা আছে কিনা ভালোমতো দখুন। এই যেমন কোনো পোকা বা কিছু কাটলো কিনা। এতে আপনার বইয়ের নিরাপত্তা জোরদার হলো।
১১। যাদের বিশ্বাস করতে পারেন না, বা সন্দেহ হয়! তাদের বই পড়তে ধার দিবেন না। এরা বইতে তরকারির ঝোল, নেইলপালিশ, লিপস্টিক, আতর, বিভিন্ন কিছু ফেলে দিবে। জিগ্যেস করলে হাসি দিয়ে বলবে, মানুষেরই তো ভুল হয়। আপনার এই কষ্ট আপনি আর আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।
১২। বইয়ের পড়া যেখানে শেষ হবে, সেখানে কাগজের কাটা টুকরো দিয়ে রাখুন। কখনও পৃষ্ঠার কোণায় ভাজ দিবেন না। পৃষ্ঠার কোণা পরবর্তীতে ছিঁড়ে সরে আসবে। ভালো হয় কিছু বুকমার্ক কিনুন। এখন তো প্রকাশনীগুলো ফ্রী বুকমার্ক দিয়ে থাকে!
১৩৷ পানি, চা, কফি বিভিন্ন তরল খাবার থেকে বই নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। রান্নাঘরে আগুনের কাছাকাছি বই রাখবেন না। বইয়ের মলাট কুঁচকে যাবে। আগুনে পুড়েও যেতে পারে।
১৪। বইয়ের ছবি তোলার জন্য ছাদের কিনারায় নিয়ে রাখবেন না। অনেকের বই নীচে পড়ে মলাট পুরোপুরি ছিড়ে গেছে। আবার অনেকে পুকুর পাড়ে, বৃষ্টিতে ছবি তুলতে গিয়ে বইটার চেহারাই পরিবর্তন করে ফেলেছে।
১৫। ঠাসাঠাসি করে কোথাও বই রাখবেন না। হুট করে একটান দিলেন, এরপর দেখবেন মুডটাই খারাপ হয়ে গেছে। সো, আগে থেকেই সাবধান থাকুন।
04/10/2024
রাসুল সাঃ'এর পতাকার রঙ কী ছিলো?
১। আব্দুল্লাহ তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- রাসুল সাঃ এর ব্যানারের রঙ ছিলো কালো ও পতাকা ছিলো সাদা। [মুসনাদে আবু ইয়া'লা, তবারানি]
قال العيني: وروى أبو يعلى في (مسنده) والطبراني في (الكبير) من حديث عبد الله بن بريدة عن أبيه، قال: كانت راية رسول الله، صلى الله عليه وسلم سوداء ولواؤه أبيض
২। আয়েশা রাঃ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন - রাসুল সাঃ এর ব্যানারের রঙ ছিলো সাদা।
وروى أبو الشيخ بن حيان من حديث عائشة، رضي الله تعالى عنها، قالت: كان لواء رسول الله، صلى الله عليه وسلم أبيض
৩। আমি রাসুল সাঃ এর ব্যানার দেখলাম। আর তা হলুদ রং এর ছিলো।
وروى أبو داود من رواية سماك بن حرب عن رجل من قومه عن آخر منهم، قال: رأيت راية رسول الله، صلى الله عليه وسلم، صفراء،
৪। ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত- রাসুল সাঃ এর ব্যানারের রং ছিলো কালো আর পতাকা ছিলো সাদা যাতে লিখা ছিলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।"
وروى ابن عدي من حديث ابن عباس، قال: كانت راية رسول الله، صلى الله عليه وسلم سوداء ولواؤه أبيض مكتوب به: لا إلاه إلا الله محمد رسول الله، صلى الله عليه وسلم
৫। রাসুল সা: এর পতাকা/ব্যানার ছিলো কালো (তবারানি)।
وروى الطبراني في (الكبير) من حديث جابر: أن راية رسول الله، صلى الله عليه وسلم كانت سوداء.
৬। রাসুল সা: এর পতাকা/ব্যানার ছিলো লাল। আর আনসারদের ব্যানার ছিলো হলুদ। (কিতাবুল *হাদ)
وروى ابن أبي عاصم في (كتاب الجهاد) من حديث كرز بن أسامة عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه عقد راية بني سليم حمراء، وروى أيضا من حديث مزيدة، يقول: كنت جالسا عند رسول الله، صلى الله عليه وسلم، فعقد راية الأنصار وجعلها صفراء.
৭। ইবনে হাজার ইবনে আব্বাসের হাদিস অনুযায়ী বলেন, রাসুল সা: এর ব্যানারে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" লিখা থাকতো। আর তাঁর ব্যানার ছিলো কালো চতুর্ভুজ, যাকে "ইক্বাব" নামে ডাকা হতো। রাসুল সা: এর আরেকটি সাদা ব্যানার ছিলো যেখানে সম্ভবত কালো রঙ-এ কিছু (লিখা/আঁকা) থাকতো।
ولأبي الشيخ من حديث ابن عباس كان مكتوبا على رايته لا إله إلا الله محمد رسول الله. وسنده واه. وقيل كانت له راية تسمى العقاب سوداء مربعة، وراية تسمى الراية البيضاء وربما جعل فيها شيء أسود.
🟥 নোট :
১। সকল বর্ণনা অনুযায়ী রাসুল সাঃ এর পতাকা সাদা/ হলুদ/ কালো/ লাল -এই চার বর্ণের ছিলো।
২। ইবনে হাজারের উদ্ধৃতি ও ইবনে আব্বাস রাঃ এর বর্ণনা মতে, রাসুল সাঃ এর ব্যানারে/পতাকায় আরবিতে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" লিখা থাকতো। হয়তো এখন যেই ফন্টে লিখা হচ্ছে সেই ফন্টে লিখা হতো না।
৩। সুতরাং "সাদা/ কালোর উপর কালিমা লিখা পতকা রাসুল সাঃ এর পতাকা না" -মর্মে যেই দাবী করা হচ্ছে সেটা মূলত মিথ্যা। সেকুলার প্রোপাগান্ডা।
৪। আই/এস এর পতাকা কখনোই সাদা/ কালো ব্যানারের উপর এই ফন্টের "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" -লিখা পতাকা না। তাদের পতাকা কালো কাপড়ের উপর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ লিখা ও মুহাম্মাদ সাঃ এর আংটির সীলমোহর দেওয়া। যদিও এই পতাকাও তাদের না। তারা ভিন্ন গ্রুপ থেকে নিয়েছে।
৫। সাদা কালিমা লিখা পতাকা -এটা বর্তমান আফগান গভমেন্ট আর সৌদি গভমেন্টের পতাকার সাথে মিলে। এটা ৭০ দশক থেকে আদি অন্ত মুসলিমদের পতাকা হিসেবে পরিচিতি পায়। হিযবুত্তাহরির তাদের ব্যানার হিসেবে এটাকেই বেছে নেয়। সুতরাং এটা হিযুবতের পতাকা বলাও ভুল। এটা মূলত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত রাসুল সা: এর পতাকার প্রতিলিপি থেকে অনুপ্রানিত।
৬। তোমরা যারা সাদা কালিমার পতাকা নিয়ে আবেগে জেগে ওঠা সাধারন ছাত্র ও মুসলিমদের আনন্দ মিছিলকে ক্রিমিনালাইজ করছো, তোমরা মূলত উগ্র সেকুলারিজমের পাপেট। জেনে হোক বা অন্য কারো দ্বারা ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে হোক। আগের রেজিম উগ্র হিন্দুত্ববাদী বয়ান থেকে সবাইকে "শিবির" ট্যাগ দিয়ে মারতো আর তোমরা সবাইকে "জ/ঙগি" ট্যাগ দিয়ে মারার ন্যারেটিভ প্রস্তুত করছো। মানুষের মাঝে আবারো গুম খুন অন্যায় জেল জুলুমের সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনছো, হয়তো আদর্শিক দাসত্বের কারনে অথবা পশ্চিমকে খুশি করার অজুহাতে।
৭। সেকুলাররা, তোমরা এই পতাকার বিরোধীতা এইজন্য করছো না যে, এটা কোনো দলের পতাকা। বরং এই পতাকাগুলোকে তোমরা ভয় পাও কারন এগুলো মুসলিমের মনে সমাজে ইসলামের বিজয় নিয়ে স্বপ্ন দেখায়। যা পশ্চিমের সভ্যতা, অসভ্য সমকামি যৌনাচার সংস্কৃতি আর গনতন্ত্রের কবরের উপর দাঁড়াতে চায়।
কিন্তু তোমরা এটা প্রকাশ্যে বলো না। কারন বললে সাধারন মুসলিমরা তোমাদের হেইট করতে শুরু করবে। এইজন্য এইটা না বলে বরং দলীয় ট্যাগ দিয়ে দমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছো। সুতরাং মুসলিমদের চোখে ভালো সাজার আর দেশ রক্ষার নামে মিথ্যা কান্নাকাটি বন্ধ করো।
অহিংস আনন্দ মিছিলের বিপরীতে তোমাদের এরেস্টের এই হিংস্রতা শুধুমাত্র ইসলাম এবং ইসলামী চিন্তার বিরুদ্ধে, এখানে ভিন্ন কোনো এজেন্ডা নায়। অমুক দল তমুক দলের নাম দেওয়া মূলত আই ওয়াশ প্রথমত এই সত্য স্বীকার করার সৎসাহস দেখাও।
সেকুলারিজমের মুর্তি বানানোর ছাচে তোমরা ইসলামকে ফেলে "নিজেদের বয়ানে আরেকটি ইসলাম" বানাতে চাও আর ট্র্যাডিশনাল ইসলামিস্টদের কে "অপরপক্ষ" বানিয়ে দমনের ন্যারেটিভ বানাচ্ছো। এই সত্য আগে স্বীকার করে নাও, যদি কাপুরুষ না হও।
তোমরা একই সাথে ইসলামের স্টেকহোল্ডার আবার একই সাথে সেকুলারিজমের স্টেকহোল্ডার হতে পারবানা।
তোমরা রাস্তা থেকে যাদেরকে ধরছো, তারা আদৌ জানেনা এই পতাকার সাথে কালিমা ছাড়া অন্য কিছুর সম্পর্ক আছে নাকি। একদম সাধারন নিরীহ ছাত্র জনতা। আবু সাইদ যেমন গুলি খাওয়ার পরও বিশ্বাস করতে পারে নাই যে তারই স্বজাতি তার জীবন নেওয়ার জন্য ট্রিগার চেপেছে। এরাও হাতকড়া দেখে বিশ্বাস করতে পারছেনা যে তারই স্বজাতি শুধু কালিমা ওড়ানোর অপরাধে তাকে জিন্দানখানায় ভরে দিচ্ছে। তোমরা আর আগের রেজিমের এপ্রোচ একই। ফাউ বিপ্লবী ভং ধরা বন্ধ করো।
সুতরাং তোমরা যখন এরেস্ট করছো এবং যারা এই এরেস্টকে সমর্থন করছো -জাতির কাছে যাতে এটা ক্লিয়ার থাকে যে -এই আবেগী জনতা ও নিরপরাধ ছেলেগুলোকে কোনো দলের সম্পৃক্ততার জন্য এরেস্ট করা হয়নি। শুধুমাত্র, এবং শুধুমাত্র তাদের ব্যানারে সার্বজনীন ইসলামের কালিমাকে জায়গা দেওয়ার অপরাধে তাদেরকে এরেস্ট করা হয়েছে।
আগে কিবলা ছিলো হিন্দুত্ববাদী সেকুলারিজম, এখন কিবলা হয়েছে পশ্চিমা সেকুলারিজম।
তোমাদের দমন পীড়ন তোমরা করো। কিন্তু জাতি জানুক এই দমন পীড়নের মূল কারন বিশৃংখলা দমনের উদ্দেশ্যে ছিলো না। বরং সরল মুসলিমদের গলা টিপে ধরার প্রথম ধাপ ছিলো।
৮। যেসকল ছাত্র-জনতা ভাইয়েরা ইসলাম নিয়ে আনন্দ মিছিল করতে চাও তারা কালিমা ঠিক রেখে ব্যানারে হালকা পরিবর্তন আনতে পারো। যেমন সবুজ কাপড়ে লাল "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বা সাদা পতাকায় কালো হরফে কালিমা লিখা। আমি ছবিতে (এশ কালারের ব্লকে) কিছু ডেমো দিয়ে দিচ্ছি। এতে সেকুলারদের চুলকালেও ট্যাগ কিছুটা কম দিতে পারবে। চেষ্টা করো, নিজের ভার্সিটি/ স্কুল/ সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে আনন্দ মিছিল করতে। ট্যাগিং ক্রাইম শুরু হয়ে গিয়েছে, তোমরা নিরাপদ নও।
04/10/2024
খিলাফত ও ইসলামী শাসনব্যবস্থা মুসলিম উম্মাহর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও বরিত বিষয় ছিল, সেটা বুঝার জন্য ওরিয়েন্টেলিস্ট মার্কা লেখাঝোকার কোন প্রয়োজন নেই। আপনারা শুধু ইতিহাসের এই বাস্তবতাটা জানুন ও বুঝুন যে, উসমানি খেলাফতের পতনের পর সেকুলার ও মর্ডানিস্ট গোষ্ঠী ছাড়া মুসলিম বিশ্বের এমন কোন ঘরনা বা আলেম নেই, যারা খেলাফত ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম ও ফিকির করেননি।
উপমহাদেশে খেলাফত আন্দোলন নামে একটা মুভমেন্টই দাঁড়িয়ে গেছে। ইখওয়ানুল মুসলিমীন প্রতিষ্ঠাই হয়েছে খেলাফত ও ইসলামী শাসন ফিরিয়ে আনার জন্য। তাহরিকে জিহাদ থেকে নিয়ে রেশমি রুমাল, এমনকি দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পিছনেও উম্মাহর এই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রেরণা কাজ করেছে। জামাআতে ইসলামের জন্মও মিশে আছে এই প্রেরণার সাথে।
পশ্চিমা সিভিলাইজেশন ও প্রাচ্যবাদে প্রভাবিত শ্রেণী ছাড়া মুসলিম উম্মাহর বিদ্যমান প্রতিটি তাহরিক, সংগঠন, দল ঐতিহাসিকভাবে মূলত এই প্রেরণা নিয়েই অস্তিত্বে এসেছে। পরবর্তীতে হয়ত দীর্ঘ চলার পথে নানা ঝঞ্জাট এসে কাউকে কাউকে আক্রান্ত করেছে, কিন্তু তাদের জন্মের সাথে মিশে আছে খেলাফত ও ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রেরণা।
লিখেছেন : ইফতেখার সিফাত
লেখক, অনুবাদক, দাঈ ও আলেম।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Telephone
Website
Address
Panthapath
Dhaka
1000