"একদিন আমি সূরা আর-রহমান তিলাওয়াত করছিলাম। তখন এক বুযুর্গ আমার তিলাওয়াত শুনছিলেন। তিনি আমাকে এমন একটি তথ্য দিলেন যা শোনার পর আমার মনে হলো, আমি যেন জীবনে প্রথমবার সূরা আর-রহমান পড়ছি!
সেই বুযুর্গ আমাকে একটি প্রশ্ন করলেন। আল্লাহ তা‘আলা এই সূরায় বলেছেন,
আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি বাগান (জান্নাত)।" (আয়াত: ৪৬)
কিছু আয়াত পর আল্লাহ বলেন,
"আর এই দুটি ছাড়াও আরও দুটি বাগান (জান্নাত) রয়েছে।" ( আয়াত: ৬২)
এর মানে হলো, সেখানে মোট চারটি জান্নাত রয়েছে, যা জোড়ায় জোড়ায় (দুটি দুটি করে) বিভক্ত। তো এই দুই জোড়া জান্নাতের মধ্যে পার্থক্যটা কী?
আমি বললাম, "জানি না।"
তিনি বললেন, "আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলছি।"
এরপর তিনি যখন পার্থক্যগুলো বলছিলেন, আমি এতটাই বিস্মিত হলাম যে, মনে হলো এই দুই জান্নাতের মধ্যে যেন আকাশ-পাতাল ব্যবধান!
১. গাছপালা ও বাগানের পার্থক্য
প্রথম জোড়ার উচ্চমর্যাদার জান্নাত যা আল্লাহকে ভয়কারী মুত্তাকিদের জন্য। এ জোড়ার জান্নাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
ذَوَاتَا أَفْنَانٍ
"উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট।"
অর্থাৎ, এগুলোতে রয়েছে সুদীর্ঘ ও ঘন ডালপালাযুক্ত সবুজ গাছপালা, যার ভেতর থেকে আলো ছিটকে আসে। এটি এমন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যা দেখামাত্রই মন ও প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
পরের জোড়ার জান্নাত সম্পর্কে বলা হয়েছে,
"مُدْهَامَّتَانِ
"কালোমতো ঘন সবুজ"
অর্থাৎ, এগুলোর গাছপালা ঘন ও কালচে সবুজ হবে। সৌন্দর্যের দিক থেকে এটি প্রথম জান্নাতের চেয়ে কিছুটা কম।
২. ঝরনার পার্থক্য
প্রথম জোড়ার উচ্চমর্যাদার জান্নাত:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ
“উভয় জান্নাতে রয়েছে দুটি প্রবাহমান ঝরনা।"
অর্থাৎ, বয়ে চলা ঝরনার পানি সবসময় স্বচ্ছ ও পবিত্র থাকে, তা কখনো জমে থেকে নষ্ট হয় না।
পরের জোড়ার জান্নাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ
"উভয় জান্নাতে রয়েছে দুটি উথলে ওঠা ঝরনা।"
অর্থাৎ, পানি উপচে উঠছে কিন্তু প্রবাহিত হচ্ছে না। স্বভাবতই, প্রবাহমান ঝরনা উথলে উঠতে পারে, কিন্তু উথলে ওঠা ঝরনা মাত্রই যে প্রবাহিত হবে—এমনটা নয়। (তাই প্রবাহমান ঝরনাই শ্রেষ্ঠ)।
৩. ফলমূলের পার্থক্য
প্রথম জোড়ার উচ্চমর্যাদার জান্নাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ
"উভয় জান্নাতে প্রত্যেকটি ফলের দুটি করে প্রকার থাকবে।"
অর্থাৎ, একই ফলের দুটি রূপ হবে। স্বাদে ও সুগুণে দুটিই হবে অতুলনীয়।
পরের জোড়ার জান্নাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ
"সেখানে রয়েছে ফলমূল, খেজুর ও আনার।"
অর্থাৎ, এখানে সাধারণ নিয়মে ফল থাকবে (কোনো জোড়া বা প্রকারের উল্লেখ নেই), যা প্রথম জান্নাতের তুলনায় কিছুটা সাধারণ মানের।
৪. বিছানার পার্থক্য
প্রথম জোড়ার উচ্চমর্যাদার জান্নাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
مُتَّكِئِينَ عَلَىٰ فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ
"তারা এমন বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে যার আস্তর (ভেতরের অংশ) হবে খাঁটি রেশমের, আর দুই জান্নাতের ফলসমূহ থাকবে একদম হাতের নাগালে।"
একটু ভাবুন! বিছানার ভেতরের অংশ (আস্তর) যদি রেশমের হয়, তবে তার ওপরের দৃশ্যমান অংশটি কত চমৎকার হবে?
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "এর ওপরের অংশটি হবে উজ্জ্বল নূর।"
তাছাড়া, জান্নাতি ব্যক্তি যখন শুয়ে বা বসে থাকবে, গাছগুলো নিজে থেকেই তার দিকে ঝুঁকে আসবে যাতে সে অনায়াসে ফল ছিঁড়তে পারে।
কল্পনা করুন, ফল তোলার জন্য আপনাকে কষ্ট করতে হবে না, গাছ নিজেই আপনার কাছে হেঁটে আসবে!
পরের জোড়ার জান্নাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
مُتَّكِئِينَ عَلَىٰ رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِيٍّ حِسَانٍ
"তারা সবুজ মসনদ ও চমৎকার কারুকার্যখচিত গালিচায় হেলান দিয়ে বসবে।"
এখানে শুধু বাইরের সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ভেতরের হাকিকত বা আস্তরের কথা গোপন রাখা হয়েছে। তাই এটি প্রথম জান্নাতের বর্ণনার চেয়ে কিছুটা কম মর্যাদার।
এই তুলনামূলকভাবে কম মর্যাদার জান্নাত দুটির মালিক হবেন সেই ব্যক্তি, যিনি দুনিয়াতে নেক আমল তো করতেন, কিন্তু নির্জনে বা একাকী অবস্থায় মাঝেমধ্যে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যেতেন। যদিও পরবর্তীতে তাওবা করতেন।
একবার কল্পনা করে দেখুন, এই "নির্জনের গুনাহ" জান্নাতে মানুষের মর্যাদার মধ্যে কত বিশাল ব্যবধান তৈরি করে দিল!
আল্লাহওয়ালাগণ একটি বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত,
"নির্জনে বা গোপনে করা গুনাহই মানুষের ঈমান ধ্বংসের মূল কারণ, আর লোকচক্ষুর অন্তরালে করা গোপন ইবাদতই ঈমানের ওপর অবিচল থাকার আসল চাবিকাঠি।"
তাই আসুন, আমরা প্রকৃত মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি এবং আমাদের একাকীত্ব ও নির্জন মুহূর্তগুলোকে গুনাহ থেকে রক্ষা করি।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন
© Salman Farsi
--- মিশরের প্রখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ, ইসলামি চিন্তাবিদ ডক্টর জাগলুল আন-নাজ্জার এর লেখা থেকে অনূদিত
আয়েশা বিনতে আবী বকর রা: বাড্ডা মহিলা মাদ্রাসা
Ayesha Binte Abi Bakar (R:) Badda Girls Madrasah
📌জিলহজের প্রথম ১০ দিন: সন্তানের জন্য দুআ
একজন মায়ের নীরব শক্তি!!
( শুধু জিলহজের সময় নয়,দোয়া গুলো সব সময় পড়া ভালো)
আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আবারও এমন এক সময়ের সাক্ষী হচ্ছি, যা আল্লাহর কাছে বছরের সবচেয়ে প্রিয় সময়গুলোর একটি পবিত্র জিলহজের প্রথম ১০ দিন। এই দিনগুলো আমাদের জন্য শুধু কিছু আমল বাড়ানোর সুযোগ নয়, বরং আমাদের হৃদয়ের গভীর চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরার এক অপূর্ব সময়। বিশেষ করে আমরা যারা মা-বাবা, আমাদের জন্য এই সময়ের সবচেয়ে সুন্দর আমলগুলোর একটি হলো আমাদের সন্তানদের জন্য দুআ করা।
আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য অনেক কিছু করি।তাদের ভালো খাবার দেই, ভালো পরিবেশে রাখার চেষ্টা করি, তাদের শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু এর সবকিছুর মাঝেও একটি জিনিস আছে, যা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে সেটা হলো আমাদের দুআ। কারণ আমরা হয়তো সবসময় তাদের সাথে থাকতে পারবো না, কিন্তু আমাদের দুআ সবসময় তাদেরকে ঘিরে রাখতে পারে, তাদেরকে হেফাজত করতে পারে, তাদের জীবনের পথকে আলোকিত করতে পারে।
এই বরকতময় দিনগুলোতে আমার হৃদয়ের দুআ
ইয়া আল্লাহ, আমার সন্তানদের অন্তরকে পবিত্র করুন, তাদের ঈমানকে দৃঢ় করুন এবং তাদের জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন। তারা যেন এমন মানুষ হয়, যারা সত্যকে ভালোবাসে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে এবং সবসময় আপনার ভয় ও ভালোবাসাকে নিজেদের জীবনের কেন্দ্রস্থলে রাখে। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যেন তারা শক্ত হয় কিন্তু অহংকারী না হয়, নম্র হয় কিন্তু দুর্বল না হয়, সাহসী হয় কিন্তু সীমা লঙ্ঘন না করে।
আমার ছেলেদের জন্য দুআ
ইয়া আল্লাহ, তাদেরকে দায়িত্বশীল, সৎ ও তাকওয়াবান পুরুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। তাদের চোখ, অন্তর ও চরিত্রকে সব ধরনের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। তাদেরকে এমন শক্তি দিন, যাতে তারা নিজেদের প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে এবং সবসময় হালালকে বেছে নিতে পারে। তাদের জীবনে নেক বন্ধু, ভালো পরিবেশ এবং পবিত্র সম্পর্ক দান করুন।
আমার কন্যাদের জন্য দুআ
ইয়া আল্লাহ, তাদের বড় হওয়ার প্রতিটি ধাপকে সহজ করুন, তাদের অন্তরে হায়া, প্রজ্ঞা ও আত্মসম্মান দান করুন। তারা যেন নিজেদের মর্যাদা বুঝে, নিজেদের সুরক্ষিত রাখে এবং দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকে। তাদেরকে এমন নারী হিসেবে গড়ে তুলুন, যারা নিজেরা আলো হয়ে অন্যদের পথ দেখায়, যারা তাদের চরিত্র ও আচরণ দিয়ে দীনকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে।
একজন মা হিসেবে নিজের জন্যও দুআ
ইয়া আল্লাহ, আমাকে ধৈর্য দিন যখন আমি ক্লান্ত হয়ে যাই, আমাকে হিকমত দিন যখন আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, এবং আমাকে কোমলতা দিন যখন আমার আচরণ কঠিন হয়ে যায়। আমাকে এমন একজন মা হিসেবে কবুল করুন, যিনি সন্তানদের শুধু দুনিয়ার জন্য নয়, আখিরাতের জন্যও গড়ে তোলেন। আমার ছোট ছোট চেষ্টাগুলো কবুল করুন এবং আমার ভুলগুলো ক্ষমা করুন।
আমাদের ঘরের জন্য দুআ
ইয়া আল্লাহ, আমাদের ঘরকে ঈমান, ভালোবাসা ও শান্তিতে ভরিয়ে দিন। আমাদের ঘরকে এমন একটি জায়গা বানান, যেখানে কুরআনের শব্দ শোনা যায়, যেখানে প্রতিটি কোণে দুআ করা হয়, যেখানে ভালোবাসা ও দয়া একসাথে বাস করে। আমাদের পরিবারকে ঐক্যবদ্ধ রাখুন এবং আমাদের মধ্যে রহমত ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করুন।
এই দুআগুলো শুধু কিছু কথা নয়।এগুলো একজন মায়ের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা, ভয়, আশা এবং স্বপ্নের প্রকাশ। আমরা হয়তো সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, কিন্তু আমরা দুআ করতে পারি। আর সেই দুআই হতে পারে আমাদের সন্তানদের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা, সবচেয়ে সুন্দর পথনির্দেশ।
তাই আসুন, এই জিলহজের ১০ দিনে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য বেশি বেশি দুআ করি। কারণ একজন নেক সন্তানই হতে পারে আমাদের জন্য সদাকায়ে জারিয়া, যা আমাদের মৃত্যুর পরও আমাদের উপকারে আসবে।
আল্লাহ আমাদের সন্তানদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফল করুন এবং তাদেরকে আমাদের জন্য নেক আমলের উৎস বানিয়ে দিন।
আমীন। 🤍
সংগৃহীত
#জিলহজে_বিয়ে_সন্তান_চাওয়ার_ওয়াছিলা____💙
যেসকল বোনেরা বিয়ে নিয়ে,সন্তান নিয়ে এবং উত্তম রিজিকের জন্য পেরেশানিতে রয়েছেন।এবং খুব করে চাচ্ছেন রব কল্যাণের সাথে আপনাদের দুআ কবুল করে নিক।তাদের জন্য জিলহজ্বের এই ১০টা দিন রহমানের এক মস্ত বড় নিয়ামত বটে।
সুতরাং দুইটা আমল খুব বেশি থেকে বেশি করার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ।
১) #সালাতুল_হাজতের_নামাজ:এই ১০দিন সম্ভব হলে ৫ ওয়াক্ত সালাতের আগে পরে যখনই সুযোগ পাবেন তখনই দুই রাকাত করে কমপক্ষে দিনে ৫ বার সালাতুত হাজতের নামাজ পড়বেন ইনশাআল্লাহ।মুনাজাতে হামদ+দুরুদে ইব্রাহীম পড়ে এমন ভাবে আকুতি মিনতি করে চাইবেন যেনো আপনি সাঁতার জানেন না কিন্তু সমুদ্রের মধ্যখানে পরে গেছেন।বাঁচার জন্য যতখানি ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা করতেন, ঠিক ততখানি মরিয়া হয়ে চাইবেন রবের কাছে ইনশাআল্লাহ।বারবার চাইবেন!
চাইতে চাইতে যখন ক্লান্ত লাগবে তখন আল্লাহকে মায়া লাগিয়ে বলবেন ,"ইয়া রব!আপনার(নিজের নাম) ফাতিমার অনেক কষ্ট হয় আল্লাহ। আপনার বান্দি ভীষণ ক্লান্ত!আর পরিক্ষা নিয়েন না রব্বি, কল্যাণের সাথে কবুলিয়াত দিয়ে দিন না আল্লাহ! আপনার তাওহীদের ওয়াছিলায়।আপনার সেসব পবিত্র নামের ওয়াছিলায় যেসব নামে ডাকলে আপনি খালি হাতে ফিরাতে লজ্জাবোধ করেন।এবং সাথে সাথে দুআ কবুল করেন।ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরম!ইয়া হাইয়্যু ইয়া কইয়্যুম বি রহমাতিকা আস্তাগিছ!!
২) #দুরুদের_খামে_দুআ:দুআর শুরু শেষে দুরুদে ইব্রাহীম পড়বেন ইনশাআল্লাহ।আর দুআর মধ্যে বারবার 'আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আ'লা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ (ﷺ) বা ছোট কোন দুরুদ ﷺ পাঠ করবেন।দুআতে বারবার বলবেন,রব!আমি গুনাহগার, কোনো ভালো কাজের ওয়াছিলায় চাইবো যে তেমন কোন ভাল কাজ নেই আমার।তবে আপনার দয়া এবং আপনার হাবিব (ﷺ)এর উপর মুফাব্বাতের দুরুদ ﷺ পাঠের বরকতে ,আপনার হাবিবুল্লাহ(ﷺ)কে ভালোবাসার ওয়াছিলায় আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে আমার দুআ কল্যাণের সাথে কবুল করে নিন রব।আপনার সবচেয়ে পছন্দের এই জিলহজের দিনকে করুন আমার দুআ কবুলের ওয়াছিলা।
মোট কথা, দুরুদকে দুআর সাথে এমন ভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে দিবেন যে,দুরুদের বরকতে যেনো রহমান আপনার দুআ কবুলের ফয়সালা করে ফেলেন ইনশাআল্লাহ।
বিঃদ্রঃ(আফওয়ান!আগের একটা লেখাতে বলেছিলাম, সালাতুল হাজতের নফল নামাজের সেজদায় দুরুদ পাঠ করতে কিন্তু সেজদাতে দুরুদ পড়া যাবে না।মুনাজাতে হামদের পর বেশি থেকে বেশি দুরুদ ﷺ পড়ে দুআ করবেন ইনশাআল্লাহ।)
প্রিয় বোন!এই দশদিন সালাতুল হাজতের নামাজ যত বেশি সম্ভব পড়ার চেষ্টা করবেন কারণ যে আল্লাহকে একবার ডাকে আর যে ব্যাকুলতা নিয়ে বারবার ডাকতেই থাকে।উভয়ে কি সমান? কখনোই নয়।আপনার বারবার আকুতি মিনতি করে আল্লাহকে ডাকা ই আপনাকে নিয়ে যাবে রবের নিকট থেকে আরো বেশি নিকটবর্তী ইনশাআল্লাহ।
দুরুদ(ﷺ)পড়ুন!
আপনি আজকে দুরুদ(ﷺ)পড়েছেন কি?
আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আ'লা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ(ﷺ)🖤
#দুরুদ_নিয়ে_দুই_কথা_______
✍️ফাতিমাহ.....
যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের আমল লিস্ট‼️
যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। এই দিনগুলোতে করা নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তাই আসুন, আমরা আগে থেকেই কিছু আমল ঠিক করে নেই, যেন এই দিনগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে চলে না যায়।
সুন্দরভাবে গুছিয়ে আমল লিস্ট শেয়ার করছি যেন রেডি হয়ে যেতে পারেন--
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাসময়ে আদায় করা:
সব আমলের ভিত্তি হলো ফরয ইবাদত। চেষ্টা করি সময়মতো, মনোযোগের সাথে সালাত আদায় করতে।
২. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা: বারবার বলি: *আস্তাগফিরুল্লাহ*
নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হই, আল্লাহর কাছে ফিরে যাই।
৩. তাকবীর, তাহমীদ, তাহলীল ও তাসবীহ বেশি পড়া:
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পড়ি:
আল্লাহু আকবার*
আলহামদুলিল্লাহ*
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ*
সুবহান-আল্লাহ*
এভাবেও পড়তে পারি:
--আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
৪. কুরআন তিলাওয়াত করা
প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন পড়ার লক্ষ্য ঠিক করি। অল্প হলেও নিয়মিত পড়ি। এখন থেকেই পড়া শুরু করুন, যিলহজ্জের ১০ দিনের মধ্যে একটা কুরআন খতিমা কমপ্লিট করতে পারেন।
৫. ফরজ নামাজের যত্ন নেয়ার পরে নফল সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া:
বিশেষ করে:
* তাহাজ্জুদ
* সালাতুদ দুহা
৬. রোযা রাখা
সম্ভব হলে যিলহজ্জের প্রথম ৯ দিন রোযা রাখি। বিশেষভাবে *আরাফার দিনের রোযা* অনেক ফযীলতপূর্ণ তাদের জন্য যারা হজে নেই। ঐ দিনের রোজার মাধ্যমে আগের এবং পরের ২ বছরের গুনাহ মাফ হয় সুবহানআল্লাহ!
৭. বেশি বেশি দোয়া করা:
নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, উম্মাহর জন্য, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি।
৮. যিকিরে জিহ্বা সজীব রাখা:
কাজ করতে করতে, হাঁটতে হাঁটতে, রান্না করতে করতে, ফাঁকে ফাঁকে যিকির করি। ছোট ছোট যিকিরও অনেক ভারী হয়ে যায় মীযানে।
৯. সদকা করা:
সামর্থ্য অনুযায়ী দান করি। অল্প হলেও আন্তরিকতা নিয়ে দিই।
১০. কুরবানির নিয়ত থাকলে চুল-নখ না কাটা:
যিনি কুরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন, তিনি যিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি দেওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার চেষ্টা করবেন।
১১. ভালো কাজের পরিকল্পনা করে রাখা:
যেমন:
* একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য করা
* আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক করা
* কাউকে ক্ষমা করে দেওয়া
* ইসলামি কিছু শেখা বা শেখানো
১২. অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা কর
হিংসা, অহংকার, রাগ, শত্রুতা ইত্যাদি এসব থেকে হৃদয়কে পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। শুধু বাহ্যিক আমল নয়, অন্তরের আমলও জরুরি।
কুরবানীর এই মহান দিনগুলোতে কেবল পশু কুরবানীতে সীমাবদ্ধ না থাকি। বরং নিজেদের গুনাহ, নফসের খেয়াল, অহংকার, রাগ, খারাপ ভাষা —এসবকেও কুরবানী করার চেষ্টা করি।
এ সময় self-purification বা আত্মশুদ্ধির আমলও খুব জরুরি। যেমন:
* নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
* মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা
* অন্যের হক সম্পর্কে সচেতন হওয়া
* কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে সংশোধন করা
* অন্তরকে নরম করা
এই ১০ দিন যেন আমাদের ভেতরের মানুষটাকেও বদলে দেয়।
১৩. পরিবারের মাঝেও নিজ ঘরে ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করা:
আমাদের মা-বাবা, সন্তান, ভাইবোনদের, স্বামী/স্ত্রীরা সবাই সবাইকে উৎসাহ দিই—যেন ঘরেও যিলহজ্জের সৌন্দর্য অনুভব করা যায়।
১৪. হজ্জের মৌসুমকে অন্তরে জীবন্ত রাখা:
যারা হজ্জ করতে যাচ্ছেন, তারা তো আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে হজ্জ করবেন। আর যারা হজ্জে যাচ্ছেন না, তারাও যেন এই দিনগুলোতে এমন মানসিকতা রাখি—আমরাও আল্লাহর জন্যই সাড়া দিচ্ছি, আমরাও ইবাদাতে, যিকিরে, তাওবায়, দোয়ায় নিজেদের হাজির করছি।
এই কথার সাথে মিলে আমরাও বলি:
"লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক"
অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আমি সাড়া দিচ্ছি। হয়তো শারীরিকভাবে হজ্জে যাওয়া হয়নি, কিন্তু অন্তর যেন আল্লাহর দরবারে হাজির হয়।
১৫. আরাফার দিনটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া:
এই দিনে বেশি বেশি দোয়া, যিকির, তাওবা, কুরআন তিলাওয়াত ও রোযার প্রতি গুরুত্ব দিই।
১৬. ঈদের দিন আল্লাহর শোকর আদায় করা:
ঈদের আনন্দের মাঝেও যেন আল্লাহকে ভুলে না যাই। কুরবানি, সালাত, যিকির— সবকিছুই ইবাদত।
এক নজরে আমল চেকলিস্ট:
☐ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত
☐ কুরআন তিলাওয়াত
☐ ১০ দিনের বিশেষ যিকির
☐ ইস্তিগফার
☐ আরাফার দিনের জন্য বিশেষ দুয়া লিস্ট রেডি করা, দোয়া করা
☐ আরাফার দিনে রোজা রাখা
☐ সম্ভব হলে প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা
☐ সদকা দেয়া
☐ নফল সালাত
☐ আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করা, নিজের বদঅভ্যাস কুরবানী করা
☐ রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
☐ ভালো ব্যবহার করা
☐ অন্যের হকের ব্যাপারে সচেতন হওয়া
☐ কুরবানী করা, কুরবানীর গোশত শেয়ার করা হকদারদের সাথে
নিজের জন্য এই নিয়তটি ঠিক করে ফেলুন আজকেই --
“আমি এই ১০ দিনে আল্লাহর আরও প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ, আমার আমলে, আমার অন্তরে, আমার চেষ্টা দিয়ে!"
আল্লাহ আমাদের যিলহজ্জের এই বরকতময় দিনগুলোকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানোর তাওফীক দিন। আমিন।
—শারিন সফি আদ্রিতা
চেহারায় বয়সের ছাপসহ শারীরিক নানাবিধ সমস্যায় যে সকল ভাই বেহেন কেয়ার প্রোডাক্টের পেছনে প্রচুর টাকা খরচ করেন তারা নিয়মিত কিছু টাকা খরচ করে তীন আর যয়তুন কিনে খাবেন।
কুরআনের একটি সূরার তাফসীরে মানুষের বয়সকে নীচ অবস্থান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও আয়াতগুলোর ভিন্ন ব্যাখ্যাও আছে। তো, সেই সুরাতেই বয়সের কারণে যে সব অসুখ হয় তা জীবন থেকে সরানোর জন্য পাওয়া গেছে এক ঔষধ।
৬০ বছর বয়সের পর শরীর একটি বিশেষ প্রোটিন তৈরি করা বন্ধ করে দেয়। ১৫–৩৫ বছর বয়সে এর নিঃসরণ বেশি। তো একদল জাপানি বিজ্ঞানী এমন একটি বিশেষ প্রোটিন খুঁজছিলেন যাতে ফসফরাস, জিঙ্ক, আয়রন ইত্যাদি আছে। যা রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে ইত্যাদি।
প্রোটিনের উৎস খুঁজতে গিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর তারা দেখলেন এই প্রোটিনটি মাত্র দুটি উদ্ভিদে পাওয়া যায়। সেটা হলো তীন আর অলিভ। কিন্তু তীন কতটুকু হবে বা অলিভ কতটুকু?
এই গবেষণা প্রকাশের পর মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ড. তাহা ইব্রাহিম জাপানি গবেষক দলকে চিঠি লিখে জানান— কুরআনে তীনের উল্লেখ একবার, আর অলিভের উল্লেখ সাতবার এসেছে। চিঠি পাওয়ার পর জাপানি দল বিস্মিত হয়ে দেখে— ১:৭ অনুপাত কুরআনের উল্লেখিত সংখ্যার সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে।
শুনেছি এরপর তারা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে।
মাজিদা রিফা
09/05/2026
হিফজ ছাত্রদের মেহনতের পদ্ধতি,,,
১/ হাফেজ ছাত্ররা প্রতিদিন এক / আধা পাড়া উস্তাদকে পড়া শুনাবে। (বিনা লোকমায় এবং বিনা টোকায়)
সবকী ছাত্ররা সবক, সাতসবক, আমুখতা শুনাবে।(বিনা লোকমায় এবং বিনা টোকায়)।
২/ইয়াদ করার সময় প্রত্যেকটি শব্দ বাক্যকে কমপক্ষে ৩০/৪০/৫০ বার করে বার বার পড়বে, উদাহরণস্বরূপঃ
الحمد لله. الحمد لله. الحمد لله. الحمد لله.الحمد لله.....
رب العالمين. رب العالمين. رب العالمين. رب العالمين. رب العالمين....
الحمد لله رب العالمين. الحمد لله رب العالمين. الحمد لله رب العالمين.....
এভাবে বার বার পড়ার পর ১ বার না দেখে পরবে,,,, যদি প্রত্যেকটি হরফ, হরকত, নুকতা, শব্দ, বাক্য, চোখে ভাসে তাহলে ইয়াদ হয়েছে আর না হয় আবার নতুন করে প্রত্যেকটি শব্দ বাক্যকে ১০/২০ বার পড়বে। এভাবে ১ পারা ইয়াদ করতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময় লাগবে।
৩/ হাফেজ ছাত্ররা নিয়মিত কমপক্ষে ১০ পারা এবং সবকী ছাত্ররা কমপক্ষে ৭ পারা তিলাওয়াত দেখে দেখে করবে।
৪/এশার নামাজের পর নিয়মিত ১ পারা নামাজে তিলাওয়াত করবে।
৫/আসরের পর ১৫ মিনিট দুইজন ছাত্র পরষ্পর প্রশ্ন পরবে।
৬/ খাবার সময়,অবসর সময়গুলোতে, বিশ্ববিখ্যাত হাফেজ ক্বারী যারা আছেন যেমনঃ( শায়খ মাহমূদ খালিল আল হুসারী রহঃ, শায়খ মুহাম্মাদ সিদ্দিক আল মিনশাবি রহঃ, শায়খ মুহাম্মাদ আইয়ূব রহঃ, শায়খ রাশেদ মাশারী আল আফাসী, শায়খ আব্দুর রহমান আস সুদাইস , শায়খ আলী আল হুজাইফী, শায়খ সাউদ বিন ইব্রাহীম আশ শুরাইম, শায়খ আলী জাবের, শায়খ বান্দার বিন আব্দুল আজিজ আল বালিলাহ, শায়খ মাহের আল মুয়াইকিলি, শায়খ আব্দুল ওয়ালী আল আরাকানী, শায়খ সালেহ আল আনসারী, শায়খ ইসমাতুল্লাহ , শায়খ মুহাম্মাদ জিবরাঈল, শায়খ আব্দুল্লাহ বাসফার হাফিজাহুমুল্লাহ ) সহ এধরনের আরো যারা রয়েছেন উনাদের তিলাওয়াত খুব বেশি শুনবে। সম্ভব হলে ভিডিও তিলাওয়াত দেখবে। এবং বাংলাদেশের যারা বিশ্বজয় করেছে তাদের প্রতিযোগিতার তিলাওয়াত শুনবে অথবা দেখবে। যেমন: বাহরাইন, দুবাই , কুয়েত,সৌদি আরব ,কাতার, জর্ডান ,মিশর সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীতার তিলাওয়াত।
৭/ ইজতিমায়ী মাশক্বের ইহতিমাম করবে।
৮/ ইনফিরাদী বা একাকী আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ ক্বারী উস্তাদের কাছে দৈনন্দিন এক পৃষ্ঠা করে মাশক্বের তিলাওয়াত শুনাবে।
৯/ফজরের রয়েছে ২ রাকাত সুন্নাহ নামাজ,যোহরের ৬ রাকাত, মাগরিবের ২ রাকাত, এশার ২ রাকাত সুন্নাহ নামাজ এবং ৩ রাকাত বিতর নামাজ। এই নামাজগুলোর প্রত্যেক রাকাতে এক পৃষ্ঠা করে মোট ১৫ পৃষ্ঠা সুন্নাহ এবং বিতর নামাজে তিলাওয়াত করবে।এবং ঘুমানোর সময় সিটে বসে ৫ পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করবে, এভাবে ১ পারা তিলাওয়াত পূর্ণ হলো।
১০/ হাটতে, চলতে, উঠতে, বসতে,মনে মনে দিনে রাতে ১ পারা তিলাওয়াত করবে।
১১/ সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে না হয় অন্তত প্রতি মাসে একবার বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজ পরে নফল নামাজে দাড়াবে এবং শুক্রবার ফজর পর্যন্ত ১৫ পারা অথবা সম্ভব হলে এক খতম নামাজে তিলাওয়াত করবে।
১২/ যেকোনো একজন বিশ্ববিখ্যাত হাফেজ ক্বারীর তিলাওয়াতের সুর হুবহু তাকলিদ অথবা অনুসরণ করবে। অতঃপর নিজস্ব কিছু সুর সংযোজন করবে ।
১৩/ মাখারিজ,সিফাতসমূহ আয়ত্ত করবে।
১৪/ যথাসম্ভব একজন উস্তাদের কাছেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করবে।
১৫/ অবশ্যই তাহাজ্জুদের নামাজ পরবে।
১৬/বিশুদ্ধ নিয়ত করবে।
একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই মহাগ্রন্থ আল কুরআন শিখবে।
১৭/প্রতিদিন অল্প সময় হলেও ওভার টাইম পরার অভ্যাস করবে।
১৮/ পড়া লেখার বিষয়ে উস্তাদের পরামর্শ মেনে চলবে।
১৯/ সর্বদা পাক পবিত্র এবং অজু অবস্থায় থাকবে।
২০/ বেশি বেশি رب زدني علما পড়বে এবং যেকোনো দুরুদ পাঠ করবে।
২১/ উত্তম আখলাক,আদব, ইজতিহাদ,এবং ইত্তেবায়ে সুন্নাহর ইহতিমাম করবে।
২২/ ধারাবাহিকভাবে একাগ্রচিত্তে মেহনত করবে।
২৩/ উস্তাদের খিদমত করবে।
২৪/ সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে ইলমের জন্য দোয়া করবে।
২৫/ মাদ্রাসার যেকোনো কাজকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের, সাওয়াবের এবং উপকারী মনে করে মুহাব্বাত নিয়ে করবে।
২৬/ সম্ভব হলে মাদ্রাসার টয়লেট সাফাই করবে এই নিয়তে যেনো আল্লাহ অন্তরের ময়লা দূর করে সিনায় কুরআন বসিয়ে দেন।
২৭/ যখনই পড়ায় অমনোযোগ আসবে সাথে সাথে দুই রাকাত সালাতুল হাজত আদায় করবে, এবং বেশি বেশি পরবে
أعوذ بالله من الشيطان الرجيم
২৮/ ইশরাকের নামাজ আদায় করবে।
২৯/ মিসওয়াক করবে এবং পাগড়ি পরিধান করবে।
৩০/ ছোট বড় যে কোনো গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলবে।🥀🥀🥀
Ctd
হিফয ছাত্রদের জন্য কিছু অমূল্য উপদেশ নিচে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলো—
📖 হিফয ছাত্রদের জন্য অমূল্য উপদেশ
১. নিয়ত ঠিক রাখো
হিফযের মূল উদ্দেশ্য যেন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়। মানুষকে দেখানোর জন্য নয়।
২. নিয়মিত আমল করো
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে কুরআন মুখস্থ ও দোর (পুনরাবৃত্তি) করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. নামাজে গুরুত্ব দাও
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে আদায় করো। নামাজ হিফযকে শক্তিশালী করে।
৪. গুনাহ থেকে বাঁচো
গুনাহ স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেয়। চোখ, কান ও জিহ্বাকে সংযত রাখো।
৫. উস্তাদের আদেশ মানো
শিক্ষকের প্রতি সম্মান ও আনুগত্য রাখলে হিফযে বরকত আসে।
৬. সময়কে মূল্য দাও
অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে কুরআনের সাথে সময় কাটাও।
৭. সৎ বন্ধু বেছে নাও
ভালো বন্ধু তোমাকে কুরআনের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
৮. দোয়া করো
সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করো—
“হে আল্লাহ! আমার হিফয সহজ করে দিন এবং তা হেফাজত করার তাওফিক দিন।”
৯. ধৈর্য ধরো
হিফয একটি দীর্ঘ পথ। কষ্ট হলেও ধৈর্য ধরে চালিয়ে যেতে হবে।
১০. আমল অনুযায়ী জীবন গড়ো
কুরআন শুধু মুখস্থ নয়, জীবনে বাস্তবায়ন করাই আসল সফলতা।
✨ শেষ কথা:
হিফয শুধু একটি অর্জন নয়, এটি একটি আমানত। এই আমানতের হক আদায় করতে পারলেই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ।
বিষয়টা এলার্মিং!!!সন্তানদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের সতর্কতা প্রয়োজন!
--------------------------------------------------------------------
১০ বছরের আগেই মেয়ের পিরিয়ড?
শরীর বড় হয়ে যাচ্ছে, আর আমরা ভাবছি—“বাচ্চা তো খাচ্ছে ভালোই!”
না, ভালো খাওয়া আর পেট ভরানো এক জিনিস না।
ইদানীং অনেক মা-বাবা অবাক হয়ে বলছেন—
“এত ছোট মেয়ের breast উঠছে কেন?”
“শরীরে গন্ধ হচ্ছে কেন?”
“এই বয়সে white discharge?”
“এত তাড়াতাড়ি period!”
অথচ অবাক হওয়ার আগে আয়নায় আমাদের parenting lifestyle-টা একবার দেখা দরকার।
কারণ শিশুর শরীর হুট করে বড় হয়ে যায় না—
আমরাই অজান্তে তাকে বয়সের আগেই বড় বানিয়ে দিচ্ছি।
সারাদিন বাচ্চা কী খাচ্ছে একটু হিসাব করেছেন?
খিদা লাগল = বিস্কুট
কান্না করল = চিপস
খেতে চাইল না = নাগেটস
বাইরে গেলে = ফ্রাইড চিকেন
রেস্টুরেন্টে গেলে = বার্গার
বাসায় চুপ করাতে = জুস + মোবাইল
শাকসবজি? না।
ডাল? না।
মাছ? মুখে তোলে না।
ফল? সময় নেই।
রোদে খেলা? ধুলো লাগবে।
দৌড়াবে? পড়ে যাবে।
কিন্তু আমরা শান্ত—
“যা হোক কিছু তো খাচ্ছে!”
এই “কিছু তো খাচ্ছে” নীতিটাই এখন অনেক শিশুর শরীরের সর্বনাশ করছে।
শিশুর পেট ভরছে, কিন্তু শরীর ভুল সিগন্যাল পাচ্ছে
প্রতিদিনের:
processed calorie
fried food
sugary snack
zero fiber
কম movement
মোবাইল হাতে বসে থাকা
late night sleep
এই lifestyle শরীরে fat জমায়।
আর fat শুধু মেদ না—
এটা hormonal organ-এর মতো কাজ করে।
শরীরে leptin বাড়ে, insulin imbalance হয়, estrogen signaling activate হয়।
Brain ভাবে—
“শরীর puberty-র জন্য ready.”
যদিও মেয়েটা এখনও পুতুল নিয়ে খেলার বয়সে।
সবচেয়ে ভয়ংকর irony জানেন?
শিশুর হাতে আমরা দুইটা জিনিস খুব উদারভাবে তুলে দিচ্ছি—
১. জাঙ্কফুড
২. স্ক্রিন
একটা তার metabolism নষ্ট করছে,
আরেকটা তার sleep hormone, activity level, nervous system সব এলোমেলো করছে।
তারপর যখন ৮–৯ বছরেই শরীর বদলাতে শুরু করে,
আমরা বলি—“আজকালকার বাচ্চাদের কী যে হচ্ছে!”
আজকালকার বাচ্চাদের কিছু হচ্ছে না—
আজকালকার জীবনযাত্রা তাদের শরীরকে তাড়া দিচ্ছে।
শৈশব এখন আর মাঠে কাটে না, metabolism-এর ল্যাবে কাটে
আগে বাচ্চারা:
রোদে খেলত
ঘামত
সাইকেল চালাত
মাটিতে গড়াগড়ি খেত
এখন?
AC রুম
অনলাইন ক্লাস
হোমওয়ার্ক
কার্টুন
ইউটিউব
গেম
ফোন
শরীরের ব্যবহার কম,
কিন্তু calorie ঢুকছে বেশি।
ফলাফল?
বয়স ৮,
শরীরের hormonal clock ১২।
আরেকটা কঠিন সত্য শুনবেন?
অনেক মা-বাবা healthy parenting বলতে বোঝেন—
“বাচ্চা না খেলে পছন্দের কিছু দিয়ে পেট ভরিয়ে দাও।”
এই পছন্দের কিছু সাধারণত হয়:
nuggets
sausage
fries
chicken popcorn
bakery food
মানে convenience feeding.
আজ না খেয়ে থাকলে কাল খাবে—এই ধৈর্য নেই।
তাই instant edible দিয়ে survive করানো হচ্ছে।
কিন্তু শরীর survive করছে না,
body chemistry silently বদলে যাচ্ছে।
Early puberty শুধু period না, এটা mental burden-ও
৮–৯ বছরের একটা মেয়ে যখন breast development, body odor, discharge, mood swing-এর মধ্যে যায়—
সে emotionally এর জন্য তৈরি থাকে না।
সে বুঝে না তার শরীরের সাথে কী হচ্ছে।
লজ্জা পায়।
ভয় পায়।
নিজেকে আলাদা ভাবে।
মানে আমরা শুধু তার শরীর না,
তার শৈশবের নির্ভারত্বও আগেভাগে কেড়ে নিচ্ছি।
দয়া করে একটা খাবারকে দোষ দিয়ে দায় শেষ করবেন না
না, বিষয়টা শুধু “একটা জিনিস খেলেই হরমোন” এত সস্তা না।
সমস্যা হলো পুরো modern child lifestyle:
ultra processed food
obesity
poor sleep
zero outdoor movement
screen addiction
chemical exposure
stress load
সব মিলে শিশুর endocrine system-কে আগেভাগে push করছে।
এখন কী করবেন?
শিশুকে diet করাবেন না।
শিশুকে বকাবকি করবেন না।
শিশুকে না খাইয়ে রাখবেন না।
কিন্তু lifestyle reset করবেন।
✔ প্রতিদিন real food
✔ প্রতিদিন outdoor sweat
✔ প্রতিদিন sunlight
✔ fixed bedtime
✔ screen limit
✔ junk occasional, daily না
৮ বছরের আগেই যদি দেখা যায়:
breast budding
body odor
p***c hair
rapid height gain
vaginal discharge
তাহলে “স্বাভাবিকই হবে” ভেবে বসে থাকবেন না।
Pediatric endocrinologist দেখান।
মনে রাখবেন—
আমরা বাচ্চাদের বড় করছি না,
অনেক সময় convenience-এর নামে তাদের শরীরকে আগেভাগে adult বানিয়ে ফেলছি।
পেট ভরানো parenting না।
শরীরকে সঠিক বয়স পর্যন্ত শিশু থাকতে সাহায্য করাও parenting।
শৈশবটাকে fast forward করে দেবেন না।
আরহামআমাইরারদিনলিপি
28/04/2026
এক গ্লাস পানিতে সূরা আল-ফাতিহার আমল-
এক গ্লাস পানিতে সূরা আল-ফাতিহা (পাঠ করে ফুঁ দেওয়া) সেই ব্যক্তির জন্য অভিনন্দন, যে এটিকে তার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করেছে। এটি আপনার জীবনে আপনার আত্মার মাঝে এক মহান ও অভাবনীয় প্রশান্তি যোগ করবে।
সূরা আল-ফাতিহা সকল কঠিন কাজকে সহজ করে দেয়। আল্লাহর ইচ্ছায় এটি প্রতিটি সমস্যার সমাধান; হোক সেটি স্বামীর সাথে কোনো সমস্যা কিংবা সন্তানদের নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা। এমনকি স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।
এই আমলটি কীভাবে করবেন?
এক গ্লাস পরিষ্কার পানযোগ্য পানি নিন। পূর্ণ মনোযোগ ও বিশ্বাসের সাথে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করুন (আপনি ১, ৩ বা ৭ বার পাঠ করতে পারেন)।
পানিতে হালকা ফুঁ দিন এবং সেটি পান করুন। আপনি চাইলে আপনার পরিবারের সদস্যদেরও এই পানি পান করাতে পারেন।
> Raqi Tarek Jamil
nurulquranacademy
এক মাদরাসার মুহতামিম সাহেব সহকারি এক শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলেন, বহু চেষ্টা করেও মাদরাসার পড়ালেখার মানোন্নয়ন করা যাচ্ছে না কেন? উত্তরে তিনি বললেন, আদবের অভাবে।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে?
বললেন, আদব অর্থ হল, وضع الشئ فى محله
অর্থাৎ বিষয়কে স্ব স্ব স্থানে ফিট করা, প্রত্যেককে স্ব স্ব মর্যাদা দান করা।
অর্থাৎ ক) এখন যদি অযোগ্য উস্তাদদের কে বেশি সম্মান দেওয়া হয় বা তাদের সাথে বেশি মাখামাখি করা হয় তাহলে وضع الشي في غير محله হলো।
খ ) আপনার মাদরাসায় যদি মেধাবী, মুয়াদ্দাব ও পরিশ্রমী ছাত্রদের মর্যাদা অপদার্থ ছাত্রদের সমান হয়, তাহলে এটা وضع الشئ فى غير محله হল!
বললেন, পরিত্রাণের উপায় কি? উত্তর তিনি বললেন, দুটি কাজ করুন:
১- ক) যোগ্য উস্তাদদের কে সম্মান করুন।
খ) তাদের কে যথাযথ স্থানে ফিট করুন।
২-ক) মাদরাসার ভবঘুরে ও দুশ্চরিত্র ছাত্রদেরকে নির্দিষ্ট মেয়াদে ভালো না হলে বহিস্কার করুন।
খ) মেধাবী, মুয়াদ্দাব ও পরিশ্রমী ছাত্রদের জন্য মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করুন।
মাশওয়ারা গ্রহণ করেছিলেন, তিন মাসের মধ্যেই পরিবর্তন এসেছিল আলহামদুলিল্লাহ।
বিষয়টি এ জন্যই বললাম, দেখেছি অনেক উস্তাদ নিজেদের দূর্বলতা থাকার কারণে তারা মুহতামিম সাহেবের সাথে বেশি মাখামাখি করে। আবার বহু ছাত্র দেখছি, মা-বাবার কাছ থেকে প্রয়োজনের চেয়েও বহু সুবিধা পায় কিন্তু পড়ালেখা ও শৃঙ্খলার ধারেকাছেও থাকেনা।
বরং এদের দ্বারা অন্য ছাত্ররাও নষ্ট হয়ে যায়।
পক্ষান্তরে এমন অনেক তালেবে ইলম আছে, ইলম, আদব ও পরিশ্রমে যারা অতুলনীয়; কিন্তু ঠিকমতো পড়ালেখার খরচ বহন করতে পারে না।
এমনকি খবর নিয়ে দেখেছি, সপ্তাহের পর সপ্তাহ নাস্তা করতে পারেনি; কেবল পান্তাভাত খেয়ে কাটিয়েছে।
পরীক্ষা বা কোন বড় খরচ আসলে পেরেশানীতে দগ্ধ হয়ে পড়ে কিন্তু মুখে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে রাখে।
يحسبهم الجاهل أغنياء من التعفف
এমন ছাত্রদের দ্বারাই তো মাদরাসা টিকে থাকে-
তাদের সন্ধান নিয়ে মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করলে সমস্যা কী?
বিষয়টি খেয়াল রাখা খুব জরুরী।
Copy
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
SHA-20, Middle Badda , Molla Para
Dhaka
1212