Tasks of Friday
..........................................
উত্তমরূপে গোসল করবে।
এরপর ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে আসবে, আসার সময় হেঁটে আসবে, কোনো বাহনে চড়বে না,
ইমামের কাছাকাছি বসবে,
এরপর দুটি খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং (খুতবার সময়) কোনো অনর্থক কাজকর্ম করবে না, সে মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপে একবছর নফল রোজা ও একবছর নফল নামাজের সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)
Knowledge Of Al-Islam
Just to share the knowledge of Al Islam
To share the knowledge of true islam , so that Bidath and Shirk is removed from my online friend circle and from my society .
// লেখাটি আমার হৃদয় ছুঁয়েছে৷
বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা. এর পিতা আব্দুল্লাহ, একদিন মক্কার বাজারে গিয়েছিলেন কিছু কেনা-কাটা করার জন্য I এক জায়গায় তিনি দেখলেন, এক লোক কিছু দাস- দাসী নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে I
আব্দুল্লাহ দেখলেন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে, একটা ছোট নয় বছরের কালো আফ্রিকান আবিসিনিয়ার মেয়ে I মেয়েটাকে দেখে আব্দুল্লাহর অনেক মায়া হলো, একটু রুগ্ন হালকা-পাতলা কিন্তু কেমন মায়াবী ও অসহায় দৃষ্টি দিয়ে তাঁকিয়ে আছে I
তিনি ভাবলেন ঘরে আমেনা একা থাকেন, মেয়েটা পাশে থাকলে তার একজন সঙ্গী হবে I এই ভেবে তিনি মেয়েটাকে কিনে নিলেন I
মেয়েটিকে আব্দুল্লাহ ও আমেনা অনেক ভালোবাসতেন I স্নেহ করতেন I এবং তারা লক্ষ্য করলেন যে, তাদের সংসারে আগের চেয়েও বেশি রাহমাত ও বরকত চলে এসেছে I
এই কারণে আব্দুল্লাহ ও আমেনা মেয়েটিকে আদর করে নাম দিলেন "বারাকাহ"I
এই গল্প, বারাকার গল্প I
তারপর একদিন আব্দুল্লাহ, ব্যবসার কারণে সিরিয়া রওনা দিলেন I আমেনার সাথে সেটাই ছিল উনার শেষ বিদায় I
উনার যাত্রার দুই এক দিন পর আমেনা একরাতে স্বপ্নে দেখলেন, আকাশের একটা তারা যেন খুব আলো করে তার কোলে এসে পড়লো I
পরদিন ভোরে তিনি বারাকাকে এই স্বপ্নের কথা বললেন I
উত্তরে বারাকা মৃদু হেসে বললেন, "আমার মন বলছে আপনার একটা সুন্দর সন্তানের জন্ম হবে"
আমেনা তখনও জানতেন না তিনি গর্ভ ধারণ করেছেন কিন্তু কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন, বারাকার ধারণাই সত্যি I
আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেন নি, সিরিয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেছেন I
আমেনার সেই বিরহ ও কষ্টের সময়ে, বারাকা ছিলেন একমাত্র সবচেয়ে কাছের সঙ্গী I
একসময় আমেনার অপেক্ষা শেষ হয় এবং তিনি জন্ম দিলেন আমাদের প্রিয় নবীকে I
শেখ ওমর সুলাইমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বপ্রথম আমাদের নবীকে দেখার ও স্পর্শ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে মানুষটির, সে হলো এই আফ্রিকান ক্রিতদাসী ছোট কালো মেয়েটি I
আমাদের নবীকে নিজ হাতে আমেনার কোলে তুলে দিয়েছিলেন, আনন্দে ও খুশিতে বলেছিলেন,
"আমি কল্পনায় ভেবেছিলাম সে হবে চাঁদের মত কিন্তু এখন দেখছি, সে যে চাঁদের চেয়েও সুন্দর "
এই সেই বারাকা I নবীজির জন্মের সময় উনার বয়স ছিল তের বছর I ছোটবেলায় শিশু নবীকে আমেনার সাথে যত্ন নিয়েছেন, গোসল দিয়েছেন, খাওয়াতে সাহায্য করেছেন,আদর করে ঘুম পাড়িয়েছেন I
মৃত্যুর সময় আমেনা, বারাকার হাত ধরে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন তাঁর সন্তানকে দেখে শুনে রাখেন I
বারাকা তাই করেছিলেন Iবাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে, ইয়াতিম নবী চলে আসলেন দাদা আবদুল মোত্তালিবের ঘরে I
উত্তরাধিকার সূত্রে নবী হলেন বারাকার নতুন মনিব I
কিন্তু তিনি একদিন বারাকাকে মুক্ত করে দিলেন, বললেন,
-"আপনি যেখানে ইচ্ছে চলে যেতে পারেন , আপনি স্বাধীন ও মুক্ত I"
সেই শিশুকাল থেকেই নবী এই ক্রীতদাস প্রথাকে দূর করতে চেয়েছিলেন Iবারাকা নবীকে ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না I রয়ে গেলেন I মায়ের ছায়া হয়ে পাশে থেকে গেলেন I
এমনকি নবীজির দাদা উনাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না I উনার একই কথা, -"আমি আমেনাকে কথা দিয়েছি, আমি কোথাও যাবো না"
তারপর একদিন খাদিজা (রাঃ) এর সাথে নবীজির বিয়ে হলো I বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বারাকাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন I তিনি বললেন, "উনি হলেন আমার মায়ের পর আরেক মা "
বিয়ের পর রাসূল (সাঃ) একদিন বারাকাকে ডেকে বললেন,
-"উম্মি ! আমাকে দেখাশুনা করার জন্য এখন খাদিজা আছেন, আপনাকে এখন বিয়ে করতেই হবে I" (নবীজি উনাকে উম্মি ডাকতেন, নাম ধরে ডাকতেন না )
তারপর রাসূল (সাঃ) ও খাদিজা মিলে উনাকে উবাইদ ইবনে জায়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন I কিছুদিন পর বারাকার নিজের একটা ছেলে হলো, নাম আইমান I এরপর থেকে বারাকার নতুন নাম হয়ে গেলো "উম্মে আইমান"I
একদিন বারাকার স্বামী উবাইদ মৃত্যু বরণ করেন, নবীজি গিয়ে আইমান ও বারাকাকে সাথে করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন এবং সেখানেই থাকতে দিলেন I
কিছুদিন যাওয়ার পর নবীজি একদিন বেশ কয়েকজন সাহাবীকে ডেকে বললেন,
"আমি একজন নারীকে জানি, যার কোন সম্পদ নেই, বয়স্ক এবং সাথে একটা ইয়াতিম সন্তান আছে কিন্তু তিনি জান্নাতি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি একজন জান্নাতি নারীকে বিয়ে করতে চাও?"
এইকথা শুনে জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ) নবীজির কাছে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন I নবীজি উম্মে আইমানের সাথে কথা বলে বিয়ের আয়োজন করলেন I
বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) জায়েদকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে ও ভালোবাসায়, ভেজা চোখে, কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন,
"তুমি কাকে বিয়ে করেছো, জানো জায়েদ ?"
-হাঁ, উম্মে আইমানকে I জায়েদের উত্তর I নবীজি বললেন, -"না, তুমি বিয়ে করেছো, আমার মা কে "
সাহাবীরা বলতেন, রাসূল (সাঃ) কে খাওয়া নিয়ে কখনো জোর করা যেত না I উনি সেটা পছন্দ করতেন না I কিন্তু উম্মে আইমান একমাত্র নারী, যিনি রাসূল (সাঃ) কে খাবার দিয়ে "খাও".." খাও".. বলে তাড়া দিতেন I আর খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে বসে থাকতেন I নবীজি মৃদু হেসে, চুপ চাপ খেয়ে নিতেন I
রাসূল (সাঃ) উনার দুধ মাতা হালিমাকে দেখলে যেমন করে নিজের গায়ের চাদর খুলে বিছিয়ে তার উপর হালিমাকে বসতে দিতেন ঠিক তেমনি মদিনায় হিজরতের পর দীর্ঘ যাত্রা শেষে উম্মে আইমান যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন নবীজি উনার গায়ের চাদরের একটা অংশ পানিতে ভিজিয়ে, উম্মে আইমানের মুখের ঘাম ও ধুলোবালি নিজ হাতে মুছে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "উম্মি ! জান্নাতে আপনার এইরকম কোন কষ্ট হবে না"
নবীজি মৃত্যুর আগে সাহাবীদের অনেক কিছুই বলে গিয়েছিলেন I সেই সব কথার মধ্যে একটা ছিল, উম্মে আইমানের কথা Iবলেছেন, "তোমরা উম্মে আইমানের যত্ন নিবে, তিনি আমার মায়ের মত I তিনিই একমাত্র নারী, যিনি আমাকে জন্ম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন I আমার পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি সারাজীবন আমার পাশে ছিলেন I"
সাহাবীরা সেই কথা রেখেছিলেন I গায়ের রং নয়, এক সময়ের কোন ক্রিতদাসী নয়, তাঁর পরিচয় তিনি যে নবীর আরেক মা I মায়ের মতোই তাঁরা, এই বৃদ্ধা নারীকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিলেন I
সূত্র: ইবনে হিশাম ও শেখ ওমর সুলাইমান।
- cltd from Mukit Chowdhury
19/06/2023
▌যারা হাদীস অধ্যায়ন শুরু করতে চান তাদের
জন্য কিছু পরামর্শ...
০১. প্রথমেই বড় কিতাব যেমন সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম বা মিশকাত বা সুনানের অন্যান্য কিতাব (সুনান আবু দাঊদ, নাসাঈ ইত্যাদি) দিয়ে শুরু করবেন না।
০২. প্রথমে শুরু করবেন ছোট কিতাব দিয়ে। যেমন, ইমাম নবভীর চল্লিশ হাদীস (এর বাংলা, ইংলিশ অনুবাদ ও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়)।
০৩. চল্লিশ হাদীস পড়া হলে যদি হুকুম-আহকাম বিষয়ে আগ্রহ বেশি থাকে তাহলে হাফিয ইবনু হাজার আসকলানী রচিত "বুলুগুল মারাম" পড়া শুরু করতে পারেন। এটিরও আরবী, বাংলা, ইংলিশ ভার্শন বাজারে পাওয়া যায়। ব্যাখ্যাও রচিত হয়েছে একাধিক।
০৪. আর যদি চল্লিশ হাদীস পড়ার পর হুকুম-আহকাম-এর দিকে না গিয়ে আদব-আখলাক-এর দিকে আগ্রহ বোধ করেন তাহলে ইমাম নবভীর "রিয়াদসু সালিহীন" পড়া শুরু করতে পারেন। এটিরও আরবী, বাংলা, ইংলিশ ভার্শন বাজারে পাওয়া যায়। ব্যাখ্যাও রচিত হয়েছে একাধিক।
০৫. চল্লিশ হাদীসের পরে বুলুগুল মারাম ও রিয়াদুস সালিহীন; দুটিই পড়তে হবে। কোনটি আগে পড়বেন সেটি আপনার ইচ্ছা।
০৬. এই তিনটি কিতাব পড়ার পর যে হাদীসগুলো বুখারী ও মুসলিমে কমন হাদীস অর্থাৎ মুত্তাফাকুল আলাইহ হাদীসগুলো পড়ে ফেলতে পারেন। গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এই হাদীসগুলো সর্বোচ্চ মানের।
০৭. এই চারটি পড়ার পর মিশকাতের তাহকীক করা অনুবাদ পড়া শুরু করতে পারেন। হাদীস একাডেমী তাহকীক ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ অনুবাদ করেছে বলে জানি।
০৮. এর পরে বা আগে ইমাম বুখারীর লেখা "আল-আদাবুল মুফরাদ" পড়তে পারেন। এটিও বাংলায় অনুবাদ হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইসলামিক সেন্টার সহ অনেকেই বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে।
০৯. এর পরে সহীহ বুখারী তারপর সহীহ মুসলিম তারপর সুনান আবু দাঊদ, সুনান নাসাঈ, জামি তিরমিযী, সুনান ইবনু মাজাহ ইত্যাদি ধারবাহিকভাবে পড়তে পারেন।
১০. এগুলো পড়া হয়ে গেলে কী পড়তে হবে তা এগুলো পড়ার পথে পথেই জানতে পারবেন। ইনশা-আল্লাহ।
১১. বুখারী ও মুসলিম ছাড়া বাকীগুলো অবশ্যই তাহকীক (সহীহ-যঈফ-জাল নির্ণিত) অনুবাদ পড়তে হবে।
১২. আর সুযোগ থাকলে কোনো একজন যোগ্য উস্তাযের কাছে হাদীস পড়ুন, উসূলে হাদীস বুঝে হাদীস পড়ার চেষ্টা করুন। আর সব সময় আল্লাহর কাছে হাদীস বোঝার তাওফীক কামনা করুন।
১৩. তবে একখানা কথা সবার শেষে বললেও সবার আগেই মনে রাখবেন, তা হলো, যে কোনো হাদীস বুঝতে সমস্যা হলে যোগ্য আলিমের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে বুঝে নিবেন। নিজের বুঝকে অগ্রাধিকার না দিয়ে সালাফদের বুঝকে অগ্রাধিকার দিবেন এবং আমলযোগ্য হাদীস অনুযায়ী আমল করার নিয়াত নিয়ে হাদীস পড়ুন এবং আমল করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ তাওফীকদাতা।
© শাহাদাৎ খান ফয়সাল রাহিমাহুল্লাহ
আহালে কোরআন দাবিদার আবু সাঈদের সাথে আব্বাসী হুজুরের দুইটা স্টেপ বেশ মজা লাগছে।
(১) কথা বলার একটা পর্যায়ে হাদিস অস্বীকারকারী চলে যেতে চাইলে পোলাপান উত্তেজিত হয়ে উঠে। আব্বাসী হুজুর উঠে দাঁড়িয়ে এই দাঁড়াও বলে সবাইকে থামাইলো। এরপর বললেন, উনি আমার মেহমান। উনাকে আমি আপ্যায়ন করবো। আইটেম থাকবে ভাত, ডাল, সবজী আর কুকুরের গোশত। কোনো সমস্যা আছে? হাদিস অস্বীকারকারী ফ্যালফ্যাল করে অবাক বিস্ময়ে দেখি তাকিয়ে আছে। আব্বাসী সাহেব সেই তাকানি দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কি? কুকুরের গোশত যে হারাম সেইটা কোরআনে কোথায় লেখা আছে আমাকে দেখান। লেখা না থাকলে কুকুর দিয়া আজ ভাত খাইয়া যাবেন।
(২) আব্বাসী হুজুরের যুক্তি আর তথ্যের তোবের মুখে হাদিস অস্বীকারকারীর পানি পিপাসা পায়। উনি পানি চাইলে একজন একটি বোতল এগিয়ে দিলো। আব্বাসী সাহেব বলে উঠেন, পানি কিভাবে খাবেন সেইটা কোরআন থেকে দেখিয়ে তারপর খাবেন। পানি বসে খাবেন না দাঁড়িয়ে খাবেন, কোন হাত দিয়া খাবেন, কোন তরিকায় খাবেন এসব কোরআন থেকে দেখাবেন, এরপর সেই তরিকায় খাবেন। মনে হলো সেই লোকের পিপাসা ডাবল বেড়ে গেলো ... 🙂
বেকুব বেশ ধোলায় খেয়েছে। আব্বাসী সাহেব সেই লোকের বই থেকে যেসব কোট উল্লেখ করেছেন আমার কাছে খুবই ভয়াবহ মনে হলো। এই আহলে কোরআন নামের ফেতনা থেকে সাধারণ মুসল্লিকে রক্ষা করতে আমাদের আলেম উলামাদের সব যায়গায় যুক্তি ও তথ্য সহকারে আলোচনা করা জরুরী। মসজিদের খুৎবায় আলোচনা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হবে।
একজন জিজ্ঞেস করেছেন,
কোনো ইমাম যদি “আল্লাহকে সর্বত্র বিরাজমান” বিশ্বাস করে তার পিছনে সালাত পড়া যাবে কী না?
এর জবাব হচ্ছে,
প্রথমত, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নীতি এটি নয় যে, কারো পিছনে সালাত আদায়ের আগে তার আকীদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা।
দ্বিতীয়ত, যদি কেউ কারো আকীদা বিশ্বাস সম্পর্কে না জেনে তার পিছনে সালাত আদায় করে যায়, পরবর্তীতে জানতে পারে যে ইমামের আকীদা খারাপ ছিল তবে ইমামের সালাত শুদ্ধ না হলেও মুক্তাদীর সালাত শুদ্ধ হয়ে যাবে।
তৃতীয়ত, যখন কেউ আল্লাহকে সর্বত্র বিরাজমান বলবে, তখন জেনে নিতে হবে সর্বত্র বিরাজমান বলতে তার উদ্দেশ্য কী?
ক) যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নেয় যে, আল্লাহর জ্ঞানের পরিধি সর্বত্র বিরাজমান, আল্লাহর ক্ষমতা সর্বত্র কার্যকর, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত, তাহলে তারা সঠিক অর্থে কথাটি বলেছে, তবে শব্দ ব্যবহারে মারাত্মক ভুল করেছে, যা সংশোধন করা ফরয। তাদের পিছনে সালাত হবে, শব্দগত এ ভুল গুনাহগারের পিছনে সালাত পড়ার বিধানের মতই।
খ) আর যদি তারা আল্লাহকে সত্তাগতভাবে সর্বত্র বিরাজমান মনে করে, স্রষ্টার সত্তা বাজাতকে সৃষ্টির ভিতরে মনে করে, তবে তাদের পিছনে সালাত পড়া যাবে না।
সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে নিন্মোক্ত বিধানগুলো কার্যকর হবেঃ
১- তারা কাফির।
২- তাদের সালাত হয় না।
৩- তাদের পিছনে সালাত হবে না।
৪- তাদের উপর জানাযার সালাত পড়া যাবে না।
৫- মুসলিমদের সাথে তাদের পারিবারিক বন্ধন থাকবে না।
৬- তারা কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
৭- তাদের জন্য দোআ করা যাবে না।
এ হচ্ছে অনির্দিষ্ট বিধান।
ব্যক্তি পর্যায়ে এ বিধান কার্যকর করার আগে অবশ্যই দুটি কাজ করতে হবে,
১- ইকামাতুল হুজ্জাহ বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠা বা তাদেরকে তাদের বিশ্বাস ও কর্মের শারঈ বিধান দলীল সহকারে জানিয়ে দেয়া।
২- ইযালাতুশ শুবহাহ বা এদের সন্দেহগুলো দূর করার চেষ্টা করা (তবে দূর করতে পারা শর্ত নয়)।
আর কাফির বলার কিছু বাঁধা আছে সেগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্য থেকে দূরীভূত হতে হবেঃ
১- জোর করে কেউ তাকে তা করতে বাধ্য করা হচ্ছে কী না?
২- ভুলে করেছে কী না?
৩- অজ্ঞতার কারণে করেছে কী না?
৪- বিস্মৃতির কারণে করেছে কী না?
৫- অপব্যাখ্যার শিকার হয়ে করেছে কী না?
৬- তাকলীদ বা অন্ধ অনুসরণ করে করে যাচ্ছে কী না?
উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ ও বাঁধাগুলো দূরীকরণ হলেই কেবল কোনো মুসলিম নামধারী ব্যক্তিকে কাফির বলা যাবে।
বিষয়টি আশা করছি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
Muhammad Zakaria
জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, ‘যে লোক রামাদান মাস পেলো কিন্তু নিজের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারলো না, সে ধ্বংস হোক’।
তাঁর এই দুআ শুনে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আ-মীন’।
ভয়ঙ্কর!!
ঈদের আগের দিন খলিফা উমরের (রা.) স্ত্রী তার স্বামীকে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে’।
আরব জাহানের শাসক খলিফা উমর (রা) বললেন, ‘আমার তো নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই।'
পরে খলিফা উমর (রা) তার অর্থমন্ত্রী আবু উবাইদা (রা.) এর কাছে তাঁকে এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি লিখে পাঠালেন।
সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা যিনি, যিনি সেই সময় প্রায় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করছেন, তাঁর এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদার (রা) চোখে পানি এসে গেল। উম্মতে আমীন আবু উবাইদা (রা) চিঠির বাহককে টাকা না দিয়ে চিঠির উত্তরে লিখলেন-
‘আমীরুল মুমিনীন! রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
প্রথমত-আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না? দ্বিতীয়ত-বেঁচে থাকলেও দেশের জনসাধারণ আপনাকে সেই মেয়াদ পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা?
চিঠি পাঠ করে খলিফা উমর (রা) কোন প্রতি উত্তর তো করলেনই না, বরং এত কেঁদেছেন যে তাঁর চোখের পানিতে দাড়ি ভিজে গেলো। আর হাত তুলে আবু উবাইদার (রা) জন্য দোয়া করলেন- একজন যোগ্য অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পেরেছেন এই ভেবে।
কদরের রাতে নফল সালাতে সূরা কদর তিলাওয়াত করা!
প্রশ্ন: কদরের রাতে নফল সালাতের প্রত্যেক রাকআতে কি সূরা কদর তিলাওয়াত করতে হয়?
________________________________________
উত্তর:
এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, লাইলাতুল কদর বা শবে কদর বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এর মর্যাদা এক হাজার মাসের চেয়েও বেশি। (সূরা কদর: ৩)। এ মর্যাদাপূর্ণ রাতে ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে কিয়াম (নফল ইবাদত-বন্দেগি) করলে আল্লাহ তাআলা পেছনের সকল গুনাহ মোচন করে দিবেন যদি তিনি তা কবুল করেন।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের সিয়াম পালন করে তার পূর্বকৃত সমস্ত গুনাহ মোচন করে দেয়া হয় আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে কিয়াম করে তারও পূর্বের সকল গুনাহ মোচন করা হয়।" (বুখারি ও মুসলিম)
সুতরাং যথাসম্ভব নফল সালাত, দুআ, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদির মাধ্যমে এ মহিমান্বিত রাত জাগরণের চেষ্টা করতে হবে।
- হাদিসে এ রাতে নফল সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে (সূরা ফাতিহা ছাড়া) নির্দিষ্ট কোনও সূরা পড়ার নির্দেশনা আসে নি। সুতরাং 'কদরের রাতে নফল সালাতের প্রত্যেক রাকাতে সূরা কদর তিলাওয়াত হবে' এমন কোনও কথা হাদিস সম্মত নয়। বরং সঠিক কথা হল, সূরা ফাতিহার পর কুরআনের যেখান থেকে সুবিধা হয় সেখান থেকে পাঠ করা যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ
"কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ হয় ততটুকু তিলাওয়াত কর।" (সূরা মুযযাম্মিল: ২০)
তবে এ ক্ষেত্রে যথাসাধ্য অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কিয়ামকে দীর্ঘ করা, অধিক পরিমাণে দুআ-তাসবিহ পাঠ করার মাধ্যমে রুকু ও সেজদাকে লম্বা করা উত্তম।
- কেউ যদি এ রাতের সালাতে বিশেষ কোনও সূরা তিলাওয়াত করাকে সুন্নত মনে করে বা নির্দিষ্ট কোনও সূরা পড়াকে নিয়মে পরিণত করে তাহলে তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে। কারণ হাদিসে কোনও সূরা নির্ধারণ করা হয়নি। সুতরাং আমাদের জন্যও তা নির্ধারণ করা বৈধ নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
“যে ব্যক্তি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন নতুন জিনিষ চালু করল তা পরিত্যাজ্য।
[সহিহ বুখারি, অধ্যায়: সন্ধি-চুক্তি।] সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে:
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার ব্যাপারে আমার নির্দেশ নাই তা প্রত্যাখ্যাত।" [সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: বিচার-ফয়সালা]
আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে এবং বিদআত থেকে দূরে থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তওফিক দান করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
_____________________
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার সউদী আরব
রমাদানুল কারীমের শেষ দশদিনের ১০ টি মাসনুন আমল :-
১. রমাদানের সাধারণ আমলগুলো এই দশকে আরো বেশি গুরুত্বের সাথে সম্পাদন করা।
২. ইতিকাফ করা।
৩. ইবাদতের জন্য রাত্রিজাগরণ করা।
৪. পরিবারের সদস্যদের রাত্রিজাগরণে উদ্বুদ্ধ করা।
৫. কোমর বেঁধে ইবাদতে মশগুল হওয়া বা ইবাদতের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
৬. অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ইবাদতের জন্য অধিক পরিমাণ সাধনা করা।
৭. প্রতি রাতে; বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদরের আশায় ইবাদত করা।
৮. শবে কদরের দোয়া পড়া। আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী।
৯. ঈদের চাঁদ অনুসন্ধান করা ও চাঁদ দেখার দোয়া পড়া।
১০. সাদকাতুল ফিতর আদায় করা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Dhaka