08/02/2026
.
বিদ্যুৎ এমন এক অদৃশ্য বল বা শক্তি যা আলো, তাপ, শব্দ, গতি উৎপন্ন করে এবং অসংখ্য বাস্তব কাজ সমাধা করে।
'বিদ্যুৎ দু'ধরনের হয়, যথাঃ
১। স্থির বিদ্যুৎ বা Static Electricity
২। চলমান বিদ্যুৎ বা Current Electricity.
১। স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) : ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎকেই স্থির বিদ্যুৎ বলে।
২। চলমান বিদ্যুৎ (Current Electricity): এককথায় বলতে গেলে বলা যায়, যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন-স্থানে স্থির না থেকে আলো, চাপ, তাপ বা আবেশের কারণে পদার্থের মধ্য দিয়ে ধাবিত হয়, তা চলমান বিদ্যুৎ বা Current Electricity।
চলমান বিদ্যুৎ বা চল বিদ্যুৎ দুই প্রকার, যথা-
(ক) একমুখী প্রবাহ (Direct Current বা DC)
(খ) পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current বা AC)।
(ক) একমুখী প্রবাহ (Direct current): যে কারেন্টের মান ও দিক সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় না, তাকে একমুখী প্রবাহ বলে।
(খ) পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current)ঃ যে কারেন্টের মান ও দিক সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়, তাকে পরিবর্তী প্রবাহ বলে।
কারেন্ট:
পদার্থের (পরিবাহী) মধ্যেকার মুক্ত ইলেকট্রনসমূহ একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকেই (Rate) কারেন্ট বলে।
কারেন্টের প্রতীক(I)
ভোল্টেজ (Voltage):
এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বৈদ্যুতিক চাপকেই ভোল্টেজ বলে।
অন্যভাবে বলা যায় যে, পরিবাহীর পরমাণুগুলোর ঋণাত্মক কণিকা বা ইলেকট্রনসমূহকে স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়োজন, সে বল বা চাপকে বিদ্যুচ্চালক বল (Electromotive Force) বা ভোল্টেজ বলে। এর প্রতীক V.
বিদ্যুৎ বিভব:
চার্জিত বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে বিদ্যুৎ বিভব বা Electric Potential বলে।
বিভব পার্থক্য (Potential difference):
দু'টি চার্জিত বস্তুর বিভবের মধ্যে যে পার্থক্য, তাকেই বিভব পার্থক্য বলে।
Resistance:
পরিবাহীর মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার সময় পরিবাহী পদার্থের যে বৈশিষ্ট্য বা ধর্মের কারণে এটা বাধাগ্রস্ত হয়, উক্ত বৈশিষ্ট্য বা ধর্মকেই রেজিস্ট্যান্স বা রোধ বলে।
কোন পরিবাহী বা তারের যে-কোন একটি অংশের মধ্য দিয়ে যদি এক কুলম্ব চার্জ এক সেকেন্ড ধরে প্রবাহিত হয়, তবে উক্ত পরিমাণ চার্জকে এক অ্যাম্পিয়ার বলা হয়।
যদি কোন পরিবাহীর যে-কোন প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে এক সেকেন্ড ধরে এক অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তবে উক্ত সময়ের জন্যে যে পরিমাণ চার্জ প্রবাহিত হয়, একে এক কুলম্ব বলে।
যদি কোন পরিবাহীর এক স্থান হতে অন্য স্থানে এক কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জ স্থানান্তর করতে এক জুল কাজ সম্পন্ন হয়, তবে ঐ দু' স্থানের বিভব পার্থক্যকে বলা হয় এক ভোল্ট (Volt)।
যদি কোন পরিবাহীর দু'প্রান্তে 1 ভোল্ট বিভব পার্থক্যের কারণে উক্ত পরিবাহীর মধ্য দিয়ে 1 অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার সময় যে বাধার সম্মুখীন হয়, সে বাধাকে এক ওহম বলা হয়।