“আইটি গার্লস হাউজ” অনলাইন মার্কেট নির্ভর কম্পিউটার ট্রেইনিং সেন্টার । এই ব্র্যান্ড সব থেকে বড় যে লক্ষ্য সেটা হল বাংলাদেশের মেয়েদের সাবলম্বি করা। মেয়েরা যাতে আর অবহেলিত না থাকে , তারা যাতে মাথা উঁচু করে সমাজে দাঁড়াতে পারে, সেটাই তাদের মূল উদ্দেশ ।
এখনও আমাদের দেশে অনেক মেয়ে আসে যারা অনেক দূর শিক্ষা লাভ করেও নিরজাতিত, নিপীড়িত। পরিবার তাদের মূল্যায়ন করতে পারে না।
মেয়েরা আজো ঘরে থেকেই তাদের সর্বময়
জীবন পাড় করে দিচ্ছে । পরিবার, রান্না- বান্না, আর সন্তানদের নিয়েই পার হচ্ছে তার পুরা জীবন । নিজের বলে কিছুই নেই তাদের। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রজুক্তির আই যুগে মেয়েরা চাইলেই শোব শাম্লে নিয়ে নিজের জন্য কিছু করতে পারে ।
আমি মারিয়া , পড়ালেখা শেষ করে যখন চাকুরী করব, তখন দেখলাম চাকুরীর বাজারের এক বিভীষিকাময় অধ্যায় । বিএস ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেও ঠিক মতো নিজের যোগ্যতা সম্পন্ন কোনও চাকুরী পাচ্ছিলাম না । পাচ্ছিলাম না , ঠিক তা নয়,
যে বেতন আমাকে অফার করা হয়, তা আমার রেজাল্ট আর আমার প্রত্যাশার ৫০% পূর্ণ করে না ।
যাহোক, ততদিনে আমার চারপাশে আউটসোসিং করে মোটামোটি কিছু মেয়ে উপার্জন করছে । পড়ালেখা শেষ, নিজেকে পথে দাঁড় করানোর প্রবল চেষ্টা, কিন্তু
প্রত্যাশা অনুজায়ে কিছুই যেন পূর্ণ হচ্ছে না , তখন মাথাতে আসলো আউটসোসিং
এর কথা ।
২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে upwork.com এ অ্যাকাউন্ট খুলে রাখি । কিন্তু কাজ করা হইনি । আসলে নিজের জীবন নিয়ে ঠিক ওইভাবে ভাবা হয়ই নি ।
পড়া শেষ , কিন্তু এতও পড়ালেখা করেও যখন কিছু করতে পারছিলাম না, নিজের লাইফ টা একরকম বোঝা হয়ে যাচ্ছিল , তখন আউটসোসিং এর লক্ষ্যটা বাস্তবায়ন করার জন্য একরকম জেদ করে বসলাম ।
শুরু হল আমার যাত্রা । টানা ৭ দিন প্রবল চেষ্টা করলাম । আল্লাহর রহমতে, ১ম কাজটা পেয়ে গেলাম। আমার ১ম জব ছিল “ Telemarketing “ . ৬ মাসের উপর ছিল কাজটা । তারপর আর পিছনে তাকাতে হইনি ।
এইসব কাজগুলো করতে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড যার যেটাই থাকুক, অনেক সময় তা আর কাজে লাগে না । আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে কোন সেক্টরে
আপনার দক্ষতা আছে, কোন কাজে আপনার প্রবল ইচ্ছা আসে, কারন আপনি সেই সেক্টরে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে পারবেন ।
কেউ লিখতে ভালবাসেন , কেউ মার্কেটিং এ খুব ভাল, আবার কেউ আঁকতে পছন্দ করেন, আবার অনেকে আসেন যারা অনেক অর্থ ব্যয় করে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা আইটি সেক্টরে এ পড়ালেখা করেছেন, তারা এখনও কোন চাকুরী পাচ্ছেন না, অথবা পরিবারের চাপে বাহিরে কাজ করতে পারছেন না, তারাও খুব সহজে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করে ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করতে পারেন।
তবে এমনটা নয় যে , ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট করতে আইটি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতেই হবে। এমন অনেক উদাহরণ আসে , যারা বিজনেস সেক্টর , মেডিকেল বা মানবিক বিভাগ থেকে এসে এই কাজ
করে সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করছেন।
আবার অনেকে নিজের ওয়েব সাইট খুলে নিজেই বিজনেস শুরু করতে পারেন। এক কথায় আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সব পথই এখানে খোলা আসে।
আমার কথাগুলো গল্প মনে হলেও সত্যি । আমি নিজে তার জলন্ত প্রমান। আমি চাই আমার মত যারা আত্মনির্ভরশীল হতে চায়, তাদের জন্য কিছু করতে। এই ভাবনা থেকেই আমার “ আইটি গার্লস হাউস “ ।
আমি নিজে কাজ করে স্বাবলম্বী , যারা সাবলম্বি হতে চান তাদের সঠিক গাইড করার জন্যই আমার এই ট্রেইনিং সেণ্টার । অল্প কিছু দিনেই আমি অনেক সাড়া পেয়েছি। নারীরা এখন নিজেদের জীবনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য এত চেষ্টা
করছেন, সেটা আমি একজন নারী হয়ে আমার জন্য সত্যি অনেক গর্বের ।
“আইটি গার্লস হাউজ” অল্প কিছু দিনেই অনেক মেয়ের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে , যারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ “সফল নারী ফ্রিল্যাঞ্ছার” । তাদের নিয়েই এই ট্রেনিং সেণ্টার এর সফল যাত্রা শুরু।
আমি জানি, “আইটি গার্লস হাউজ” একা সবার কষ্ট , সবার যন্ত্রণা দূর করতে পারবে না, তবে আইটি গার্লস হাউজ এ যারা ট্রেইনিং নিতে এসে নিজের এবং নিজের দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে, সবশেষে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ খুজে পাবে, তাহলেই আমাদের সার্থকতা।
আমাদের সাহায্য করার জন্য আমাদের পাশে আছে, নারী ফ্রিল্যাঞ্ছারদের উজ্জ্বল পথিকৃৎ “ আজন্তা রেজওয়ানা “ যিনি গত বছর “ BASIS OUTSOURCING AWARD 2015” পাওয়া ৩ জন নারীদের একজন।
তিনি সবসময় আমাকে সব বিষয়ে সাহায্য করেছেন। এমনকি তিনি বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে আই মহান উদ্যোগে সব সময় “ আইটি গার্লস হাউজ “ এর পাশে আসেন।